PIB Backgrounder
azadi ka amrit mahotsav

ঐতিহ্যের নতুন অধ্যায়

বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় সারনাথের অন্তর্ভুক্তি

প্রকাশিত: 26 AUG 2026 11:54AM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ২৬ আগস্ট, ২০২৬

 

ভারতের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আরও এক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেল। দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির ৪৮তম অধিবেশনে প্রাচীন বৌদ্ধ তীর্থক্ষেত্র সারনাথ ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ভগবান বুদ্ধ যেখানে প্রথম ধর্মোপদেশ দিয়েছিলেন, সেই সারনাথ তাঁর জীবনের সঙ্গে যুক্ত চারটি প্রধান বৌদ্ধ তীর্থক্ষেত্রের অন্যতম। সারনাথের অন্তর্ভুক্তির ফলে ইউনেস্কোর স্বীকৃত বিশ্ব ঐতিহ্য সম্পত্তির ক্ষেত্রে ভারতের সংখ্যা বেড়ে ৪৫ হয়েছে। এই সংখ্যার নিরিখে ভারত বিশ্বে ষষ্ঠ এবং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। এই স্বীকৃতি বৌদ্ধধর্মের জন্মভূমি হিসেবে ভারতের পরিচয়কে আরও শক্তিশালী করেছে। একই সঙ্গে অসামান্য সার্বজনীন মূল্যসম্পন্ন ঐতিহ্য সংরক্ষণে ভারতের অঙ্গীকারও স্পষ্ট হয়েছে।

ভারতের ঐতিহ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক

ঐতিহ্য শুধু অতীতের স্মৃতি নয়। এটি বর্তমানকে গড়ে তোলে এবং ভবিষ্যতেরও পথ দেখায়। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সংরক্ষিত ও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া গল্প, পরম্পরা এবং মূল্যবোধের প্রতিফলন হল ঐতিহ্য। সাংস্কৃতিক ও প্রাকৃতিক ঐতিহ্য মানুষের পরিচয়, জ্ঞান ও অনুপ্রেরণার অমূল্য উৎস।

এবছর ২৫ জুলাই সন্ধ্যায় দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির ৪৮তম অধিবেশনে প্রাচীন বৌদ্ধ তীর্থক্ষেত্র সারনাথ ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। এর ফলে ইউনেস্কোর স্বীকৃত বিশ্ব ঐতিহ্য সম্পত্তির ক্ষেত্রে ভারতের সংখ্যা বেড়ে ৪৫ হয়েছে।

এই স্বীকৃতি বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় নতুন একটি নাম যুক্ত হওয়ার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এটি ভারতের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সম্মান জানায়। ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বিভিন্ন পরম্পরা, অসাধারণ স্থাপত্য এবং দীর্ঘ ইতিহাসের মাধ্যমে গড়ে উঠেছে। একই সঙ্গে এই স্বীকৃতি বিশ্ব ঐতিহ্য সনদের মূল ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করেছে। বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে অসামান্য সার্বজনীন মূল্যসম্পন্ন স্থানগুলিকে সুরক্ষিত রাখাই এই সনদের লক্ষ্য। মোট ১৯৬টি দেশ এই সনদের সদস্য।

ইউনেস্কো নামে পরিচিত ইউনাইটেড নেশনস এডুকেশনাল, সায়েন্টিফিক অ্যান্ড কালচারাল অর্গানাইজেশন মানবতার জন্য অসাধারণ মূল্যসম্পন্ন সাংস্কৃতিক ও প্রাকৃতিক ঐতিহ্য চিহ্নিতকরণ, সুরক্ষা এবং সংরক্ষণে কাজ করে। ১৯৭২ সালে ইউনেস্কো গৃহীত সাংস্কৃতিক ও প্রাকৃতিক বিশ্ব ঐতিহ্য সংরক্ষণ সংক্রান্ত সনদের ভিত্তিতেই এই উদ্যোগ পরিচালিত হয়। ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় ১৭৩টি দেশের ১,২৭৩টি সম্পত্তি রয়েছে। এর মধ্যে ৯৯১টি সাংস্কৃতিক, ২৪০টি প্রাকৃতিক এবং ৪২টি মিশ্র সম্পত্তি। ২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ১৯৬টি দেশ বিশ্ব ঐতিহ্য সনদ অনুমোদন দিয়েছে। রাষ্ট্রসংঘের কোনও সংস্থার গৃহীত সনদগুলির মধ্যে এটি অন্যতম স্বীকৃত ও গুরুত্বপূর্ণ সনদ।

বিশ্ব ঐতিহ্যের ধারণার বিশেষত্ব হল, এর গুরুত্ব কোনও দেশের সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। স্থানগুলি নির্দিষ্ট দেশের ভূখণ্ডে থাকলেও তাদের গুরুত্ব সমগ্র মানবতার সঙ্গে যুক্ত। তাই এগুলিকে সকলের যৌথ ঐতিহ্য হিসেবে দেখা হয়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই ঐতিহ্য সংরক্ষণে সকলের সম্মিলিত দায়িত্ব রয়েছে।

সারনাথের ইতিহাস

বৌদ্ধ পরম্পরায় সারনাথের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। উত্তরপ্রদেশের বারাণসীতে অবস্থিত সারনাথ চারটি প্রধান বৌদ্ধ তীর্থক্ষেত্রের অন্যতম। ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতির আওতায় দুটি সংযুক্ত স্থান রয়েছে। এগুলি হল চৌখণ্ডী স্তূপ এবং সারনাথের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। এই প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকায় ধামেক স্তূপ, ধর্মরাজিকা স্তূপ, মূলগন্ধকুটি বিহার, অশোক স্তম্ভ এবং আরও বহু প্রাচীন নিদর্শন রয়েছে। এগুলি একসঙ্গে এই প্রাচীন তীর্থক্ষেত্রের ঐতিহাসিক পরিবেশকে সংরক্ষণ করে রেখেছে।

বৌদ্ধ পরম্পরায় ঋষিপত্তন, ইশিপত্তন এবং মৃগদাব নামে পরিচিত সারনাথেই খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে গৌতম বুদ্ধ তাঁর প্রথম ধর্মোপদেশ দিয়েছিলেন। এই ধর্মোপদেশ ধম্মচক্কপবত্তন বা ‘ধর্মচক্র প্রবর্তন’ নামে পরিচিত। এর মাধ্যমে বৌদ্ধ সংঘের সূচনা হয় এবং আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গের নীতিগুলি প্রতিষ্ঠিত হয়।

বহু শতাব্দী ধরে রাজা, বৌদ্ধ সংঘ এবং সাধারণ মানুষের সহায়তায় সারনাথের বিকাশ ঘটেছে। বুদ্ধের প্রথম ধর্মোপদেশ এবং তাঁর প্রথম পাঁচ শিষ্যের সঙ্গে সাক্ষাতের সঙ্গে যুক্ত স্থানটির চারপাশে বহু স্তূপ, মন্দির ও বিহার নির্মাণ করা হয়েছিল। প্রায় ১৬ শতাব্দী ধরে এই স্থানটির ধারাবাহিক বিকাশ ঘটেছে। এখানকার স্থাপত্য নিদর্শনগুলির মধ্যে খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ থেকে তৃতীয় শতকের মৌর্য-পূর্ব যুগের নিদর্শন থেকে শুরু করে খ্রিস্টীয় দ্বাদশ শতকের নিদর্শন রয়েছে। দ্বাদশ শতকে সারনাথের অবনতি ঘটে এবং স্থানটি ধ্বংস হয়। অষ্টাদশ শতকে পুনরাবিষ্কারের আগে পর্যন্ত সারনাথ দীর্ঘ সময় আড়ালে ছিল।

স্বীকৃতির পথে সারনাথ

বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পেতে সারনাথকে দীর্ঘ ও সুসংগঠিত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। ১৯৯৮ সালে প্রাচীন এই স্থানটি ভারতের বিশ্ব ঐতিহ্যের সম্ভাব্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির বিবেচনার জন্য সারনাথকে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়। এরপর প্রায় ১৮ মাস ধরে ইউনেস্কোর পরামর্শদাতা সংস্থাগুলির সঙ্গে কারিগরি বৈঠক এবং আইকমসের মূল্যায়ন অভিযান চলে। প্রস্তাবিত স্থানটির গুরুত্ব যাচাই করতেই এই মূল্যায়ন করা হয়।

 ইউনেস্কোর অন্যতম পরামর্শদাতা সংস্থা আইকমস বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য প্রস্তাবিত সাংস্কৃতিক ও মিশ্র সম্পত্তির মূল্যায়ন করে। দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির ৪৮তম অধিবেশনে সারনাথকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া শেষ হয়।
বিশ্ব ঐতিহ্য সনদের আওতায় ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় সারনাথকে ৩ এবং ৬ নম্বর মানদণ্ডের ভিত্তিতে মনোনীত করা হয়।

৩ নম্বর মানদণ্ড সারনাথের দীর্ঘস্থায়ী আধ্যাত্মিক গুরুত্বকে স্বীকৃতি দেয়। চারটি প্রধান বৌদ্ধ তীর্থক্ষেত্রের অন্যতম হিসাবে সারনাথের গুরুত্ব বহু শতাব্দী ধরে নির্মিত ও পুনর্নির্মিত ধর্মীয় ভবন এবং স্থাপত্য নিদর্শনে প্রতিফলিত হয়েছে।

৬ নম্বর মানদণ্ড বুদ্ধের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলির সঙ্গে সারনাথের প্রত্যক্ষ ও দৃশ্যমান সম্পর্ককে স্বীকৃতি দেয়। এর মধ্যে রয়েছে বুদ্ধের প্রথম ধর্মোপদেশ এবং বোধগয়ায় বোধিলাভের পর প্রথম শিষ্যদের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে সারনাথে নির্মিত বিভিন্ন স্থাপত্য এই ঘটনাগুলির গুরুত্ব, বুদ্ধের শিক্ষা এবং ত্রিরত্নের ধারণার ধারাবাহিকতাকে তুলে ধরে। সারনাথের এই স্বীকৃতি বিশ্ব ঐতিহ্য সনদের বৃহত্তর লক্ষ্যকেও প্রতিফলিত করে। বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অসামান্য সর্বজনীন মূল্যসম্পন্ন ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও প্রচার করাই ইউনেস্কোর লক্ষ্য।

শান্তির বিশ্ব ঐতিহ্য সারনাথ

সারনাথ শুধু একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান নয়। জাপান, থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, মায়ানমার, ভিয়েতনাম, দক্ষিণ কোরিয়া, কম্বোডিয়া, মঙ্গোলিয়াসহ বহু দেশের বৌদ্ধদের কাছে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক তীর্থস্থান। বিশ্বের অন্যতম শ্রদ্ধেয় বৌদ্ধ তীর্থক্ষেত্র হিসাবে সারনাথ বৌদ্ধধর্মের জন্মভূমি হিসেবে ভারতের পরিচয়কে আরও শক্তিশালী করে। একই সঙ্গে বৌদ্ধপ্রধান দেশগুলির সঙ্গে ভারতের সাংস্কৃতিক সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ আরও দৃঢ় করার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সারনাথের অন্তর্ভুক্তির ফলে, বুদ্ধের জীবনের সঙ্গে যুক্ত চারটি প্রধান বৌদ্ধ তীর্থক্ষেত্রের মধ্যে তিনটি এখন ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় রয়েছে। এগুলি হল নেপালের লুম্বিনী, বিহারের বোধগয়ার মহাবোধি মন্দির এবং উত্তরপ্রদেশের সারনাথ। এর সঙ্গে ভারতের সাঁচী, নালন্দা ও অজন্তা, শ্রীলঙ্কার অনুরাধাপুর, বাংলাদেশের পাহাড়পুর এবং বর্তমান পাকিস্তানের তক্ষশিলা ও তখ্‌ত-ই-বাহি-সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বৌদ্ধ বিশ্ব ঐতিহ্য স্থানও রয়েছে।

এই স্বীকৃতি সারনাথের অসামান্য সর্বজনীন মূল্য রক্ষায় ভারতের অঙ্গীকারকে আরও স্পষ্ট করেছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সারনাথের স্বকীয়তা ও অখণ্ডতা বজায় রাখতে সরকার পর্যটন ব্যবস্থাকে সুসংগঠিতভাবে পরিচালনা করবে। একই সঙ্গে সংরক্ষিত এলাকার চারপাশে অপরিকল্পিত উন্নয়ন রোধ করা হবে।

ভারতের ঐতিহ্যের সাফল্যের ভিত্তি

প্রতিটি সফল মনোনয়নের পিছনে থাকে দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি। বিশ্ব ঐতিহ্যের স্থানগুলির ক্ষেত্রে ভারত কেন্দ্রীয় সংস্থা, রাজ্য সরকার এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করে।

সংস্কৃতি মন্ত্রক

সংস্কৃতি মন্ত্রক সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে ইউনেস্কোর সঙ্গে ভারতের যোগাযোগের নেতৃত্ব দেয়। ইউনেস্কোর সাংস্কৃতিক সনদের অধীনে ভারতের দায়বদ্ধতা বাস্তবায়ন এবং বিশ্ব ঐতিহ্য স্থান ও অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের উপাদানগুলির মনোনয়নের সমন্বয় করে এই মন্ত্রক। সংস্কৃতি মন্ত্রক আন্তর্জাতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের মানদণ্ডের প্রচার করে। ইউনেস্কো এবং আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক সহযোগিতার মাধ্যমে সাংস্কৃতিক কূটনীতিকেও শক্তিশালী করে।

ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ

ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ বা এএসআই ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বিশ্ব ঐতিহ্য সংক্রান্ত বিষয়ের নোডাল সংস্থা। দেশের ৩,৬৮৮টি কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষিত স্মৃতিসৌধের সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব এএসআই-এর। এর মধ্যে ২৮টি বিশ্ব ঐতিহ্য সম্পত্তি রয়েছে। এএসআই প্রাচীন স্মৃতিসৌধ এবং প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান ও অবশেষ আইন, ১৯৫৮ এবং পুরাকীর্তি ও শিল্পধন আইন, ১৯৭২ কার্যকর করার কাজও করে। পাশাপাশি, দর্শনার্থীদের জন্য পানীয় জল, শৌচাগার, চলাচলের পথ এবং সৌন্দর্যায়নের মতো বিভিন্ন পরিষেবার ব্যবস্থা করা হয়। প্রতিটি স্মৃতিসৌধের প্রয়োজন এবং উপলব্ধ সম্পদের ভিত্তিতে নিয়মিতভাবে সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করা হয়।

ভারতের ক্রমবর্ধমান বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকা

ভারতের ঐতিহ্য শুধু পাথর, শিলালিপি বা ধ্বংসাবশেষে সীমাবদ্ধ নয়। মন্দিরের দেওয়ালের প্রতিটি কারুকাজ, প্রাচীন দুর্গের প্রতিটি ভাস্কর্য এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা লোকগানের মধ্যেও এই ঐতিহ্য বেঁচে রয়েছে। এগুলি ভারতের সভ্যতার ইতিহাস তুলে ধরে। একই সঙ্গে দেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ও প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের পরিচয় বহন করে।

বিভিন্ন দেশের বিশ্ব ঐতিহ্য স্থান

দেশ  |  বিশ্ব ঐতিহ্য স্থান (জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত)

ইতালি    | ৬২
চিন         | ৬১
ফ্রান্স      | ৫৬
জার্মানি   | ৫৫
স্পেন      | ৫০
ভারত      | ৪৫
মেক্সিকো | ৩৬
যুক্তরাজ্য | ৩৫
রাশিয়া     | ৩৩

ভারতে বর্তমানে ৪৫টি ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য সম্পত্তি রয়েছে। এর মধ্যে ৩৭টি সাংস্কৃতিক, সাতটি প্রাকৃতিক এবং একটি মিশ্র ঐতিহ্য স্থান। এই সংখ্যার নিরিখে ভারত বিশ্বে ষষ্ঠ এবং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।

১৯৮৩ সালে একসঙ্গে ভারতের প্রথম চারটি স্থান বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। এগুলি হল- আগ্রা দুর্গ, তাজমহল, ইলোরা গুহা এবং অজন্তা গুহা। সেই শুরু থেকে ভারতের তালিকায় দুর্গ, মন্দির, গুহা, রেলপথ, সোপানকূপ, পরিকল্পিত শহর এবং জাতীয় উদ্যান-সহ বিভিন্ন ধরনের ঐতিহ্য স্থান যুক্ত হয়েছে।

গত বছর প্যারিসে ইউনেস্কোর সদর দফতরে অনুষ্ঠিত বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির ৪৭তম অধিবেশনে ভারতের মারাঠা সামরিক ভূদৃশ্য বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। চলতি বছর বুসানে ৪৮তম অধিবেশনে সারনাথের অন্তর্ভুক্তিতে ভারতের বিশ্ব ঐতিহ্য সম্পত্তির সংখ্যা বেড়ে ৪৫ হয়েছে। এর ফলে, বিশ্বে ষষ্ঠ এবং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দ্বিতীয় স্থানে ভারতের অবস্থান বজায় রয়েছে।

ভবিষ্যতে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য ভারতের সম্ভাব্য ঐতিহ্য স্থানগুলির তালিকাও বেড়েছে। বর্তমানে এই সম্ভাব্য তালিকায় ৬৯টি স্থান রয়েছে। বিশ্ব ঐতিহ্যের জন্য যে কোনও মনোনয়নের ক্ষেত্রে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্তি প্রথম বাধ্যতামূলক ধাপ।

ভারতের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে সরকারি উদ্যোগ

ভারতের বিস্তৃত সাংস্কৃতিক ও প্রাকৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ, পুনরুদ্ধার এবং প্রচারের জন্য সরকার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছে। সংরক্ষণ, ডিজিটাল নথিভুক্তিকরণ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং জনসাধারণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় এই উদ্যোগগুলি নেওয়া হয়েছে।

প্রাচীন নিদর্শন দেশে ফিরিয়ে আনা

ভারত এখনও পর্যন্ত ৬৬৯টি প্রাচীন নিদর্শন দেশে ফিরিয়ে এনেছে। এর মধ্যে ২০১৪ সালের পর ফিরিয়ে আনা হয়েছে ৬৫৬টি। সংস্কৃতি মন্ত্রক, ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ, ভারতীয় দূতাবাস এবং বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এই কাজে যুক্ত রয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি ৬৫৭টি ভারতীয় শিল্পবস্তু ভারতীয় দূতাবাসের হাতে তুলে দিয়েছে। দেশে ফিরিয়ে আনা গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শনের মধ্যে রয়েছে চোল যুগের শিব নটরাজ, সন্ত সুন্দরর ও পারবাই এবং সোমস্কন্দ।

অ্যাডপ্ট আ হেরিটেজ

২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়া অ্যাডপ্ট আ হেরিটেজ কর্মসূচি ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে নতুনভাবে সাজানো হয়। অ্যাডপ্ট আ হেরিটেজ ২.০ কর্মসূচির মাধ্যমে বেসরকারি সংস্থা, সরকারি ক্ষেত্রের সংস্থা, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, ট্রাস্ট এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতার ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে।
জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সংরক্ষিত স্মৃতিসৌধগুলিতে দর্শনার্থীবান্ধব পরিষেবা তৈরি ও রক্ষণাবেক্ষণের উপর এই কর্মসূচিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়। কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সিএসআর এবং অন্যান্য অনুদানের মাধ্যমে সহায়তা দেওয়া হয়। দর্শনার্থীদের অভিজ্ঞতা আরও উন্নত করাই এর লক্ষ্য। কর্মসূচির ফলে বিভিন্ন ঐতিহ্যস্থলে পরিষেবা ও ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে এই কর্মসূচির আওতায় গৃহীত স্মৃতিসৌধগুলিতে মোট ১ কোটি ৩৫ লক্ষ ৯০ হাজার দর্শনার্থীর উপস্থিতি নথিভুক্ত হয়েছে। এই পরিসংখ্যান ঐতিহ্যস্থলগুলিতে মানুষের আগ্রহের পরিচয় দেয়। উন্নত পরিষেবা, সুযোগ-সুবিধা এবং দর্শনার্থীদের জন্য আরও ভালো ব্যবস্থাপনা তাঁদের অভিজ্ঞতা উন্নত করতে সাহায্য করছে।

জ্ঞান ভারতম মিশন

২০২৫ সালে শুরু হওয়া জ্ঞান ভারতম মিশন ভারতের বিশাল পাণ্ডুলিপি ঐতিহ্য সংরক্ষণ, ডিজিটাল নথিভুক্তিকরণ এবং সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য সরকারের গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। পাণ্ডুলিপিতে সংরক্ষিত প্রাচীন জ্ঞান ও জ্ঞানব্যবস্থা রক্ষা করাই এই মিশনের মূল লক্ষ্য।

ডিজিটাল সংগ্রহশালা এবং সংরক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে গবেষক ও সাধারণ মানুষের কাছে এই পাণ্ডুলিপিগুলি পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারেও পাণ্ডুলিপিগুলি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

এ বছর মার্চে জাতীয় পাণ্ডুলিপি সমীক্ষাও শুরু হয়। এর লক্ষ্য দেশের পাণ্ডুলিপি চিহ্নিত করা, নথিভুক্ত করা এবং একটি পূর্ণাঙ্গ জাতীয় তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা।

এই সমীক্ষায় এখনও পর্যন্ত ১ কোটি ১৯ লক্ষের বেশি পাণ্ডুলিপির তথ্য পাওয়া গেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ৮ লক্ষের বেশি পাণ্ডুলিপি ডিজিটাল করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪ লক্ষ ৪০ হাজারের বেশি পাণ্ডুলিপি বর্তমানে জ্ঞান ভারতম পোর্টালে সাধারণ মানুষের জন্য দেখা যাচ্ছে। রাজ্যভিত্তিকভাবে এগুলি দেখার সুযোগ রয়েছে।

ভারতের জাতীয় মহাফেজখানাও ‘অভিলেখ পাটল’-এর মাধ্যমে পুরনো নথি ডিজিটাল করছে। এ বছর ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত এই পোর্টালে ১৮ কোটি ২৩ লক্ষ পৃষ্ঠা, ৭৩ লক্ষ রেফারেন্স মাধ্যম এবং ৩৮ লক্ষ ডিজিটাল নথি রয়েছে। জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও পুরাকীর্তি মিশন

ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণের অধীনে জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও পুরাকীর্তি মিশন কার্যকর রয়েছে। দেশের নির্মিত ঐতিহ্য এবং পুরাকীর্তির একটি নির্ভরযোগ্য জাতীয় তথ্যভাণ্ডার তৈরি করে সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা করে এই মিশন।

দেশের সমস্ত স্মৃতিসৌধ ও পুরাকীর্তির নথিভুক্তিকরণ এবং তালিকা তৈরিই এই মিশনের লক্ষ্য। সংরক্ষণ কাজের পরিকল্পনা, অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং নজরদারির ক্ষেত্রে এই তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

অতীত সংরক্ষণ, ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা

ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য একটি প্রাণবন্ত  উত্তরাধিকার। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এটি মানুষকে অনুপ্রেরণা ও শিক্ষা দিয়ে আসছে এবং মানুষের মধ্যে সংযোগ তৈরি করছে। 

সারনাথের বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্তি অসাধারণ মূল্যসম্পন্ন ঐতিহ্য সংরক্ষণে ভারতের ধারাবাহিক অঙ্গীকারকে তুলে ধরে। শিক্ষা, সাংস্কৃতিক আদানপ্রদান এবং সুস্থায়ী উন্নয়নের ক্ষেত্রেও ঐতিহ্যস্থলগুলির ভূমিকা আরও শক্তিশালী হচ্ছে। ভারত এগিয়ে চলার সঙ্গে সঙ্গে দেশের সভ্যতাগত ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং তা সমগ্র বিশ্বের কাছে তুলে ধরার কাজও অব্যাহত থাকবে।

তথ্যসূত্র

Ministry of Culture

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2260755&reg=48&lang=2

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2243788&reg=48&lang=2

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2289399&reg=48&lang=1

https://culture.gov.in/ministry/about-us

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2293807&reg=48&lang=1

https://www.pib.gov.in/PressNoteDetails.aspx?NoteId=158940&ModuleId=3&reg=48&lang=2

https://sansad.in/getFile/loksabhaquestions/annex/187/AU2704_e4BQSu.pdf?source=pqals

UNESCO

https://www.unesco.org/en/world-heritage

https://whc.unesco.org/en/statesparties/in

https://whc.unesco.org/en/list/stat#s2

https://whc.unesco.org/en/list/

Department of Culture, Uttar Pradesh

https://www.facebook.com/photo?fbid=1356550013329538&set=pcb.1356550116662861

https://www.facebook.com/photo/?fbid=1356550016662871&set=pcb.1356550116662861

https://www.facebook.com/photo/?fbid=1356550023329537&set=pcb.1356550116662861

Click here for pdf file

 


******

SSS/AS......


(রিলিজ আইডি: 2303697) ভিজিটরের কাউন্টার : 2
এই রিলিজটি পড়তে পারেন: English , हिन्दी , Gujarati , Tamil