কৃষিমন্ত্রক
প্রধানমন্ত্রী মোদীর ‘শক্তি কি সপ্তধারা’ কৃষি ও গ্রামোন্নয়নে নতুন দিশা দেখাবে: শ্রী শিবরাজ সিং চৌহান
प्रविष्टि तिथि:
18 AUG 2026 6:33PM by PIB Kolkata
নতুন দিল্লি, ১৮ অগাস্ট, ২০২৬
স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লার প্রাকার থেকে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ঘোষিত ‘শক্তি কি সপ্তধারা’-কে বাস্তব রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শ্রী শিবরাজ সিং চৌহানের উদ্যোগে আজ পুসার সি. সুব্রহ্মণিয়াম অডিটোরিয়ামে কৃষি ও কৃষক কল্যাণ এবং গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রকের অধীনস্থ বিভাগগুলির জন্য এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় কৃষি ও কৃষক কল্যাণ এবং গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী শ্রী শিবরাজ সিং চৌহান আধিকারিক, কর্মচারী, বিজ্ঞানী, কৃষক, লাখপতি দিদি, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণকারী, রপ্তানিকারক এবং কৃষক উৎপাদক সংগঠনের (এফপিও) প্রতিনিধিদের একটি উন্নত, সমৃদ্ধ, আত্মনির্ভরশীল ও সশক্ত ভারত গড়ার লক্ষ্যে সম্মিলিত শপথ বাক্য পাঠ করান। এই অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী শ্রী ভগীরথ চৌধুরী এবং ডঃ চন্দ্রশেখর পেম্মাসানি এবং চারটি বিভাগের সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় ভাষণ দিতে গিয়ে শ্রী চৌহান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী ‘শক্তি কি সপ্তধারা’-র মাধ্যমে উন্নত ভারত গড়ার একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা তৈরি করে দিয়েছেন। এই ভাবনার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হল, কৃষি এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ। তিনি বলেন, ভারতকে শুধু কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির দিকেই মনোযোগ দিলে চলবে না, সেইসঙ্গে পণ্যের গুণমান, নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে চলার দিকেও নজর দিতে হবে, যাতে ভারতীয় কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে একটি শক্তিশালী জায়গা তৈরি করে নিতে পারে। শ্রী চৌহান বলেন, এই কর্মসূচিটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়, বরং সমগ্র কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন ব্যবস্থার একটি সম্মিলিত অঙ্গীকার। কৃষক, বিজ্ঞানী, আধিকারিক, কর্মচারী, প্রক্রিয়াজাতকারী, রপ্তানিকারক, স্বনির্ভর গোষ্ঠী (এসএইচজি) এবং কৃষক উৎপাদনক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত নারীরা সকলেই এই প্রয়াসের সমান অংশীদার। প্রত্যেক ব্যক্তিরই একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রীর এই ভাবনা বাস্তবায়নের জন্য সকলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
দেশই সর্বাগ্রে
শ্রী চৌহান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী নাগরিকদের ব্যক্তি স্বার্থের ঊর্ধ্বে জাতীয় স্বার্থকে স্থান দিতে এবং কর্তব্যকে তাঁদের জীবনের মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সরকারি চাকরি হল, দেশ ও দেশবাসীর সেবা করার একটি অঙ্গীকার। কৃষক, দরিদ্র, মা ও বোন এবং গ্রামের মানুষের সেবা করা ভারত মাতার সেবা করারই সমান। সততা ও আন্তরিকতার সাথে নিজের দায়িত্ব পালন করাই প্রকৃত দেশপ্রেম। শ্রী চৌহান বলেন, লালকেল্লা থেকে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণের প্রথম দায়িত্ব মন্ত্রী, আধিকারিক এবং কর্মীদের উপর বর্তায়। তিনি সমস্ত আধিকারিক ও কর্মচারীকে তাঁদের নিজ নিজ বিভাগের জন্য সুস্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করতে, সুনির্দিষ্ট কর্ম পরিকল্পনা তৈরি করতে এবং নিষ্ঠা, সততা ও কঠোর পরিশ্রমের সঙ্গে তা বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি তখনই পূরণ করা সম্ভব, যখন আমরা সবাই সেগুলিকে নিজেদের বলে গ্রহণ করব এবং তা অর্জনের জন্য কাজ করব।
শ্রী চৌহান বলেন, ভারতীয় কৃষিকে খামার থেকে বিশ্ব বাজারের সাথে যুক্ত করাই এখন সময়ের দাবি। ভারতীয় কৃষকরা মরিচ, মশলা, ফল, ফুল, ঐতিহ্যবাহী খাদ্যপণ্য এবং আরও বিভিন্ন কৃষি পণ্য সহ নানা ধরনের পণ্য উৎপাদন করেন। তিনি বলেন, এই পণ্যগুলির গুণগত মান উন্নত করা এবং বিশ্ব বাজারের চাহিদা অনুযায়ী সেগুলি প্রস্তুত করা গেলে কৃষকদের জন্য সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে প্রসারিত হতে পারে। খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, প্যাকেজিং, ব্র্যান্ডিং এবং রপ্তানির মাধ্যমে কৃষকদের আয় যথেষ্ট পরিমাণে বাড়ানো যেতে পারে। মন্ত্রী বলেন, কৃষক, প্রক্রিয়াকরণকারী এবং রপ্তানিকারকরা পরস্পর সংযুক্ত, এবং তাই সমস্ত অংশীদারদের একটি সাধারণ মঞ্চে এনে সুসমন্বিতভাবে কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে।
কৃষি রোডম্যাপের উপর গুরুত্ব
শ্রী চৌহান বলেন যে, জাতীয় স্তরের কৃষি রোডম্যাপের পাশাপাশি প্রতিটি রাজ্য ও জেলার জন্য পৃথক কৃষি রোডম্যাপ প্রস্তুত করা উচিত। তিনি বলেন, ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের জলবায়ু, মাটি, জলের প্রাপ্যতা এবং শস্য বিন্যাস ভিন্ন ভিন্ন। তাই, ফসল উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং বিপণনের পরিকল্পনা স্থানীয় পরিস্থিতি অনুযায়ী তৈরি করা উচিত। তিনি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে বিভিন্ন ফসলের চাহিদার বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন।
শ্রী চৌহান আরও বলেন যে, প্রযুক্তি, যান্ত্রিকীকরণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উন্নত বীজ এবং আধুনিক কৃষি পদ্ধতির বৃহত্তর ব্যবহার উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতা উভয়ই বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শ্রী শিবরাজ সিং চৌহান বলেন, কৃষি ক্ষেত্রের জন্য সরকারের অগ্রাধিকার হল উৎপাদন বৃদ্ধি, খরচ কমানো, গুণমান উন্নত করা এবং কৃষকদের জন্য লাভজনক মূল্য নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, কৃষকদের আবহাওয়া, বাজার এবং উৎপাদন সম্পর্কিত সময়োপযোগী ও সঠিক তথ্য অবশ্যই পেতে হবে। প্রাকৃতিক চাষ, জৈব চাষ, সেচ, জল সংরক্ষণ, শস্য বৈচিত্র্যকরণ এবং কৃষিভিত্তিক আয়ের অন্যান্য উৎসের উপর বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।
শ্রী চৌহান বলেন, কৃষি ক্ষেত্রের সাফল্যগুলিও গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু এগুলি মাইলফলক বা চূড়ান্ত গন্তব্য নয়। প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন এবং সেগুলি অর্জনের জন্য এখন সমস্ত বিভাগকে আরও দ্রুত এবং গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করতে হবে।
ছয় কোটি লাখপতি দিদি তৈরির লক্ষ্য
গ্রামীণ উন্নয়নে লাখপতি দিদি উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরে শ্রী চৌহান বলেন, তিন কোটি গ্রামীণ নারীকে লাখপতি দিদি তৈরির লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী এখন ছয় কোটি লাখপতি দিদি তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। তিনি বলেন, অতিরিক্ত তিন কোটি লাখপতি দিদি তৈরি হলে, গ্রামীণ অর্থনীতিতে একটি বড় পরিবর্তন আসবে। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন, আর্থিক সহায়তা, বাজারে প্রবেশাধিকার এবং উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। শ্রী চৌহান বলেন, গ্রামীণ নারীদের তৈরি পণ্যের জন্য আরও ভালো বাজার সুবিধা নিশ্চিত করতে ‘শি-মার্ট’ এবং ব্র্যান্ডিং-এর মতো উদ্যোগকে উৎসাহিত করা হবে। গ্রামীণ নারীদের তৈরি হস্তশিল্প, খাদ্যপণ্য, আয়ুর্বেদিক পণ্য, ঐতিহ্যবাহী সামগ্রী এবং অন্যান্য পণ্য ভারত ও বিদেশের বাজারে পৌঁছে দেওয়ার প্রচেষ্টা চালানো হবে। তিনি বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন শুধু মহিলাদের আয় বৃদ্ধির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি পরিবার, গ্রাম এবং সমগ্র গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে। উন্নত ভারত গড়ার জন্য গ্রামীণ নারীদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলা একটি গুরুত্বপূর্ণ পূর্বশর্ত।
গ্রামোন্নয়নে নজর
শ্রী চৌহান বলেন, উন্নত গ্রাম ছাড়া উন্নত ভারতের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হতে পারে না। গ্রামীণ এলাকায় পাকা বাড়ি, রাস্তাঘাট, জল সংরক্ষণ, কর্মসংস্থান, জীবিকা, নারী ক্ষমতায়ন এবং কৃষিভিত্তিক কার্যক্রমের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, সমস্ত গ্রামোন্নয়ন প্রকল্পের প্রভাব তৃণমূল স্তরে দৃশ্যমান হতে হবে। আধিকারিক ও কর্মচারীদের অবশ্যই তাঁদের দপ্তর ছাড়াও প্রকল্পগুলির প্রকৃত অবস্থা মূল্যায়ন করার জন্য মাঠে যেতে হবে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জল সুরক্ষা, নদীর পুনরুজ্জীবন, ভূমি সম্পদ সংরক্ষণ এবং গ্রামীণ জীবিকা সম্পর্কিত কর্মসূচিগুলির বাস্তবায়ন দ্রুত করার উপরও জোর দেন।
অংশীদারিত্বই সাফল্যের চাবিকাঠি
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শ্রী চৌহান বলেছেন, কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। কৃষক, বিজ্ঞানী, কর্মকর্তা, কর্মচারী, প্রক্রিয়াকরণকারী, রপ্তানিকারক, কৃষক উৎপাদনক সংগঠন এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠী সবাই এই প্রক্রিয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি বলেন, কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রগুলিকে কৃষকদের প্রকৃত চাহিদার উপর ভিত্তি করে গবেষণা ও প্রযুক্তিগত সমাধান প্রদান করতে হবে। তিনি আরও বলেন, খামার থেকে বাজার পর্যন্ত গোটা মূল্য শৃঙ্খলকে শক্তিশালী করা হলে কৃষকদের আয় বাড়বে এবং ভোক্তারা উন্নত মানের পণ্য পাবেন। শ্রী চৌহান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারত দ্রুত আত্মনির্ভরশীলতা এবং উন্নত ভারতের লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে চলেছে। এই যাত্রায় কৃষি ও গ্রামোন্নয়ন বিভাগগুলির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
সম্মিলিত সংকল্প নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান
অনুষ্ঠানের শেষে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শ্রী শিবরাজ সিং চৌহান উপস্থিত সকলকে একটি সম্মিলিত শপথবাক্য পাঠ করান এবং স্বাধীনতা দিবসে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ঘোষিত ‘শক্তি কি সপ্তধারা’ বাস্তবায়নের জন্য সম্পূর্ণ নিষ্ঠা, অঙ্গীকার ও সামর্থ্য নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। এই শপথের অংশ হিসেবে, অংশগ্রহণকারীরা কৃষিকে আরও সমৃদ্ধ করা, খাদ্য উৎপাদন শক্তিশালী করা, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ প্রসারিত করা, ভারতীয় কৃষি পণ্যকে বিশ্ব বাজারে নিয়ে যাওয়া, কৃষকদের আয় বৃদ্ধি করা এবং তাঁদের কঠোর পরিশ্রমের যথাযথ সম্মান সুনিশ্চিত করার সংকল্প গ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীরা তিন কোটি লাখপতি দিদি তৈরির লক্ষ্য অর্জনের পর ছয় কোটি লাখপতি দিদি তৈরির লক্ষ্যে কাজ করার, ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে জাতীয় স্বার্থকে স্থান দেওয়ার এবং কর্তব্যকে তাঁদের জীবনের মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করারও অঙ্গীকার করেন। শ্রী চৌহান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী একটি উন্নত ভারতের স্বপ্ন দেখেছেন এবং সেই স্বপ্নকে সংকল্প, সামর্থ্য ও সাফল্যে রূপান্তরিত করা সকলের সম্মিলিত দায়িত্ব।
SC/MP/SKD
(रिलीज़ आईडी: 2301087)
आगंतुक पटल : 2