প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর
azadi ka amrit mahotsav

৮০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে লাল কেল্লার প্রাকার থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ প্রধানমন্ত্রীর

प्रविष्टि तिथि: 15 AUG 2026 3:04PM by PIB Kolkata

নতুন দিল্লি, ১৫ অগাস্ট ২০২৬


প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আজ ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে লাল কেল্লার প্রাকার থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। 'বন্দে মাতরম'-এর ১৫০ বছর পূর্তি উদযাপনের পাশাপাশি তিনি বলেন যে, দেশের প্রতিটি হৃদস্পন্দন ও প্রতিটি ঘরে আজ তেরঙা পতাকার চেতনা ও নতুন সংকল্পের সুর ধ্বনিত হচ্ছে। শ্রী মোদী বলেন, "আমি সেই সব স্বাধীনতা সংগ্রামী ও মহান বিপ্লবীদের প্রতি শ্রদ্ধাবনত মস্তকে প্রণাম জানাই, যাঁরা আত্মত্যাগের মহান ঐতিহ্যকে জাগ্রত করেছিলেন।"

সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত নাগরিকদের প্রতি গভীর সংহতি প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী এই কঠিন সময়ে তাঁদের পাশে থাকার বিষয়ে জাতির অবিচল সমর্থনের আশ্বাস দেন। শ্রী মোদী জোর দিয়ে বলেন, "আমি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে আশ্বস্ত করছি যে, তাঁদের দুঃখ ও যন্ত্রণার মুহূর্তে আমরা এবং সমগ্র দেশ দৃঢ়ভাবে তাঁদের পাশে আছি।"

প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, প্রকৃত সাফল্য তখনই অর্জিত হয়, যখন কোনও জাতি তার নিজস্ব আকাঙ্ক্ষা ও বলিষ্ঠ সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে। শ্রী মোদী বলেন, "কোনও জাতি তখনই মহান হয়ে ওঠে এবং তার লক্ষ্য অর্জন করে, যখন সে তার স্বপ্ন ও সংকল্পের অকৃত্রিম শক্তির ওপর ভর করে এগিয়ে চলে।"

নাগরিকদের সংকীর্ণতা ত্যাগ করে সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দৃঢ় সংকল্প স্বাভাবিকভাবেই সঙ্কট উত্তরণের শক্তি জোগায়। শ্রী মোদী বলেন, "সংকল্প যখন দৃঢ় হয়, তখন বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠার পথ খুঁজে পাওয়ার সক্ষমতা আপনা-আপনিই তৈরি হয়।"

প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে, উচ্চাকাঙ্ক্ষী স্বপ্ন জাতীয় প্রচেষ্টার সামগ্রিক পরিধি ও চূড়ান্ত উচ্চতাকে স্বভাবতই বৃদ্ধি করে। শ্রী মোদী উল্লেখ করেন, "স্বপ্ন ও সংকল্প যখন উচ্চমানের হয়, তখন আমাদের সক্ষমতার চূড়ান্ত উচ্চতাও বৃদ্ধি পায়।"

প্রধানমন্ত্রী ২০৪৭ সালের মধ্যে দেশকে একটি পূর্ণাঙ্গ উন্নত রাষ্ট্রে রূপান্তরের দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেন, যা ভারতকে বিশ্বের কাছে তার অসীম সাহস ও সক্ষমতার স্বীকৃতি অর্জনে সহায়তা করবে। শ্রী মোদী জোর দিয়ে বলেন, "১৪০ কোটি দেশবাসীর কঠোর পরিশ্রমে স্বাধীনতার শতবর্ষের মধ্যে আমরা নিশ্চিতভাবেই একটি 'বিকশিত ভারত' গড়ে তুলব।"

প্রধানমন্ত্রী গত ১২ বছরে মানুষের ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক রূপান্তরের ওপর একটি সামগ্রিক প্রতিবেদন তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ২৫ কোটি নাগরিক দারিদ্র্যকে জয় করেছেন এবং ভারত ভঙ্গুর অর্থনীতির তালিকা থেকে বেরিয়ে এসে দ্রুততম বিকাশশীল প্রধান অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে।

অতীতের হাতছাড়া হওয়া সুযোগ এবং ধীরগতির কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক স্থবিরতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বর্তমানের গতিশীল পরিবর্তনের প্রশংসা করেন এবং জোর দিয়ে বলেন, মানুষের সম্মিলিত সংকল্প এখন আর কোনোভাবেই থামানো যাবে না। 

গত ১২ বছরে উৎপাদন, ডিজিটাল অগ্রগতি এবং নাগরিক পরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রে ভারতের অগ্রগতির বিস্তারিত পরিসংখ্যান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান যে, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন প্রায় ৪ গুণ, খাদি ও গ্রামীণ শিল্পের প্রসার ৫ গুণ, ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন প্রায় ৭ গুণ, রেলের কোচ উৎপাদন ২১ গুণ এবং মোবাইল ফোন উৎপাদন ৩৩ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ডিজিটাল উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৪ গুণ, পেটেন্ট প্রদানের হার ৪ গুণ এবং ডিজিটাল লেনদেনের পরিমাণ ১০০ গুণ বেড়েছে; পাশাপাশি মৌলিক সুযোগ-সুবিধা প্রদানের গতিও ত্বরান্বিত হয়েছে, যেমন, নলবাহিত জল সংযোগ প্রদানের গতি ১৫ গুণ, এলপিজি সংযোগ ৬ গুণ, শৌচাগার নির্মাণ ৪ গুণ এবং পাকা বাড়ি তৈরির গতি ৩ গুণ বেড়েছে, এবং সেই সঙ্গে শত শত সেকেলে আইন বাতিল করা হয়েছে। শ্রী মোদী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, "যখন এত বিশাল সব সাফল্য আমাদের সামনে রয়েছে, তখন 'বিকশিত ভারত' গড়ে তোলার সংকল্প কখনই অপূর্ণ থাকতে পারে না।"

দেশের দ্রুত প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও আত্মনির্ভরশীলতার লক্ষ্যে নেওয়া জোরালো পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী সেমিকন্ডাক্টরের আন্তর্জাতিক গুরুত্বের ওপর আলোকপাত করেন। তিনি অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন পেশ করে গর্বের সঙ্গে জানান যে, তিনটি দেশীয় কারখানা ইতিমধ্যেই চালু হয়েছে এবং বিশ্ববাজারে চিপ রপ্তানি করছে; পাশাপাশি তিনি ঘোষণা করেন যে, আগামী ১ থেকে ২ বছরের মধ্যে আরও ৭ থেকে ৮টি নতুন উৎপাদন কেন্দ্র চালু হবে। শ্রী মোদী দৃঢ়ভাবে বলেন, "এই আত্মনির্ভর ভারত আমাদের 'বিকশিত ভারত'-এর পথে দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার এক নিশ্চিত ও প্রশস্ত পথ তৈরি করে দিয়েছে।"

প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সঙ্গে ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদার যোগসূত্র স্থাপন করে প্রধানমন্ত্রী 'শান্তি' আইনের আওতায় জ্বালানি ক্ষেত্রের যুগান্তকারী সংস্কারের কথা তুলে ধরেন। তিনি ২০৪৭ সালের মধ্যে ১০০ গিগাওয়াট পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেন এবং জানান যে, 'ফাস্ট ব্রিডার নিউক্লিয়ার টেকনোলজি'-তে দক্ষতা অর্জনের সুবাদে আগামী ৬ থেকে ৭ বছরের মধ্যে ৫টি নতুন চুল্লি (রিঅ্যাক্টর) চালু করা হবে। শ্রী মোদী জোর দিয়ে বলেন, "গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক জ্বালানির ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ আত্মনির্ভর হওয়ার পথে আমরা সফলভাবে একটি অত্যন্ত বড় পদক্ষেপ নিয়েছি।"

অতীতে জাতীয় সম্পদ অনুসন্ধানের পথে বাধা সৃষ্টিকারী কঠোর নীতিগুলির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী দেশীয় তেল ও গ্যাস উন্নয়নের ক্ষেত্রে এক সাহসী ও মৌলিক পরিবর্তনের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, উপকূলরেখার ৯৯ শতাংশ এলাকাকে 'নো-গো এরিয়া' (নিষিদ্ধ এলাকা) থেকে 'গো-অ্যাহেড এরিয়া' (অনুমোদিত এলাকা)-য় রূপান্তরিত করা হয়েছে এবং নতুন জ্বালানি ভাণ্ডার উন্মোচনের লক্ষ্যে ৮৫,০০০ কোটি টাকার 'সমুদ্র মন্থন' উদ্যোগের আওতায় সমুদ্র-অভ্যন্তরে ব্যাপক কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। 

তিনি বলেন যে, শহরের গ্যাস বণ্টন ব্যবস্থা ৭০টি থেকে বেড়ে ৭০০টি শহরে বিস্তৃত হয়েছে, পাইপ-বাহিত রান্নার গ্যাস ১.৭৫ কোটি পরিবারের কাছে পৌঁছেছে এবং সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২ গিগাওয়াট থেকে বেড়ে ১৬০ গিগাওয়াটে পৌঁছেছে।

নবীকরণযোগ্য শক্তির মাধ্যমে মধ্যবিত্তের জন্য প্রত্যক্ষ অর্থনৈতিক সুফলের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী 'পিএম সূর্য ঘর মুফত বিজলি যোজনা'-র দ্রুত সাফল্যের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন যে, এই সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের আওতায় ৫০ লক্ষেরও বেশি পরিবার উপকৃত হয়েছে; পরিবার প্রতি ৮০,০০০ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিল শূন্যে নামিয়ে আনা এবং উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ বিক্রির মাধ্যমে বাড়তি আয় করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। শ্রী মোদী বলেন, "আজ হাজার হাজার বাড়ি উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ বিক্রি করে আয় করছে এবং আমরা দ্রুতগতিতে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন করছি।"

রেল পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে অতীতের স্থবিরতা ও আধুনিক কর্মদক্ষতার মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, আগের নীতির ফলে ৯০ বছরে মাত্র ৩০ শতাংশ বিদ্যুতায়ন সম্ভব হয়েছিল, অথচ বর্তমান সরকার মাত্র এক দশকের মধ্যে পুরো নেটওয়ার্কে বিদ্যুতায়ন সম্পন্ন করে পরিবেশগত ক্ষেত্রে ব্যাপক সুফল নিশ্চিত করেছে। 

ভবিষ্যতের জ্বালানি ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এক বড় অগ্রগতির কথা ঘোষণা করে প্রধানমন্ত্রী জানান, ভারত তার প্রথম 'মেড-ইন-ইন্ডিয়া' বা দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হাইড্রোজেন ট্রেনের কাজ শুরু করেছে, যা বিশ্বের দীর্ঘতম ও শক্তিশালী হাইড্রোজেন ট্রেন হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। শ্রী মোদী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, "বিশ্বজুড়ে হাইড্রোজেন ট্রেনের ক্ষেত্রে ভারত গর্বের সঙ্গে ও দৃঢ়ভাবে নিজের অবস্থান প্রতিষ্ঠা করেছে।"

২০৪৭ সালের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার পথে নানা প্রতিকূলতা, যেমন কোভিড-১৯ মহামারী এবং ইউক্রেন ও পশ্চিম এশিয়ায় ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের মতো গুরুতর আন্তর্জাতিক সঙ্কটের মোকাবিলার বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী ভারতের পরীক্ষিত সহনশীলতার প্রশংসা করেন। তিনি বিদ্বেষপূর্ণ গুজব ছড়ানো সন্ত্রাসবাদীদের তীব্র সমালোচনা করেন এবং গর্বের সঙ্গে বলেন যে, দূরদর্শী পরিকল্পনা ও বলিষ্ঠ প্রস্তুতির ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা সম্পূর্ণভাবে বজায় ছিল। 

গুরুতর আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ধাক্কা থেকে দেশের কৃষকদের রক্ষা করার ক্ষেত্রে সরকারের অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী কৃষকদের কল্যাণে সরকারের অবিচল প্রতিশ্রুতির ওপর জোর দেন। তিনি বলেন যে, আন্তর্জাতিক বাজারে ৩,০০০ টাকা মূল্যের ইউরিয়া ৩০০ টাকারও কমে এবং ৫,০০০ টাকার বেশি মূল্যের ডিএপি মাত্র ১,৩৫০ টাকায় সরবরাহ করার জন্য সরকার বিশাল আর্থিক বোঝা নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে। শ্রী মোদী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, "এমনকি আজও আমরা দেশের কৃষকদের ওপর সেই বিশাল বোঝা চাপাইনি; সরকার নিজেই তা দৃঢ়ভাবে বহন করছে।" শ্রী মোদী বলেন, "আত্মনির্ভরশীলতার শক্তিশালী মন্ত্রকে পাথেয় করে আমরা যদি সঠিক পথে দৃঢ় পদক্ষেপ না নিতাম, তবে এত বড় বড় চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা আমরা কীভাবে করতাম?"

প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, দেশের  সুস্থিতিশীলতার কারণে ২০১৪ সালের পর থেকে প্রায় ৪০টি দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করা সম্ভব হয়েছে; যার ফলে কৃষি, মৎস্য চাষ, বস্ত্রশিল্প এবং এমএসএমই ক্ষেত্রে রপ্তানির বিশাল সুযোগ তৈরি হয়েছে। শ্রী মোদী বলেন, "আজ ভারত সমগ্র বিশ্বের কাছে অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য ও সম্মানিত একটি দেশ হিসেবে দ্রুত উঠে আসছে।" তাৎক্ষণিক অর্থনৈতিক কৌশলগুলিকে জাতীয় লক্ষ্যের মূল দর্শনের সঙ্গে যুক্ত করে প্রধানমন্ত্রী ব্যাখ্যা করেন যে, বিশ্ববাজারে আধিপত্য বিস্তারের এই জোরালো প্রচেষ্টা উন্নয়নের সেই বিশাল লক্ষ্যের শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। 

জাতীয় কর্মসংস্কৃতি, চিন্তাধারা এবং কাজের গতিতে আমূল পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী দেশের কঠোর পরিশ্রমী কর্মীবাহিনীর ওপর গভীর আস্থা প্রকাশ করেন।
শ্রী মোদী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, "আমি আমার দেশের যুবশক্তি, মা-বোন, কৃষক ও শ্রমিকদের ওপর গভীর আস্থা রাখি যে, আমরা সবাই মিলে নিশ্চিতভাবেই এই মহান স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে পারব।"

'সপ্তসিন্ধু'-র প্রাচীন সভ্যতার শক্তির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী একটি শক্তিশালী নতুন কৌশলগত কাঠামো ঘোষণা করেন এবং ভারতের পরবর্তী অগ্রগতির যাত্রার জন্য 'সপ্তধারা' বা 'সপ্তশক্তি'-র ধারণা তুলে ধরেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, শক্তির এই সাতটি গতিশীল ধারা - যা যুবসমাজের অসামান্য সক্ষমতাকে পূর্ণরূপে কাজে লাগাবে - দেশকে অভূতপূর্ব উচ্চতায় নিয়ে যাবে। শ্রী মোদী প্রতিশ্রুতি দেন, "সেই সাত-ধারা কৌশলের বিশাল সক্ষমতা ও শক্তিকে কাজে লাগিয়ে আমরা দেশকে এক নতুন উচ্চতা ও নতুন গতি প্রদান করব।" 'উৎপাদন ক্ষমতা'কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রথম ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করে প্রধানমন্ত্রী উৎপাদন ক্ষেত্রকে সম্প্রসারিত করার আহ্বান জানান। তিনি দেশের অভ্যন্তরীণ ভ্যালু চেইন বা মূল্য-শৃঙ্খল জুড়ে ছোট যন্ত্রাংশ থেকে শুরু করে বিশাল ও চূড়ান্ত পণ্য - সবকিছুর উৎপাদনে দক্ষতা অর্জনের ওপর জোর দেন। একইসঙ্গে তিনি ত্রুটিমুক্ত নিখুঁত উৎপাদন, ব্যয় সাশ্রয়ী  এবং বিশ্ব গুণমান ও পরিসর বজায় রাখার বিষয়ে আপসহীন অঙ্গীকারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। 

'কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ'কে দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী দেশজুড়ে রাসায়নিক-মুক্ত চাষাবাদ পদ্ধতির প্রচলনের পক্ষে মত দেন। তিনি 'খামার থেকে রপ্তানি' পর্যন্ত এক সমন্বিত সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দেন, যাতে ভারতের ঐতিহ্যবাহী খাদ্যপণ্যগুলি দ্রুত বিকাশশীল বিশ্ববাজারে সহজেই জায়গা করে নিতে পারে। শ্রী মোদী বলেন, "আমাদের কৃষিপণ্যগুলিকে অবশ্যই বিশ্বমানের প্রতিটি মানদণ্ড সফলভাবে পূরণ করতে হবে, যাতে আমরা সহজেই বিশ্ববাজারে প্রবেশ করতে এবং সেখানে আধিপত্য বিস্তার করতে পারি।"

'প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন'কে তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, ভারতকে কেবল একটি বিশ্ববাজার হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, মহাকাশ গবেষণা, উন্নত রোবোটিক্স, ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (ডিপিআই) এবং 'মেড-ইন-ইন্ডিয়া' ৬জি-র মতো অত্যাধুনিক ক্ষেত্রে উদ্ভাবনের প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হতে হবে। 

চতুর্থ গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে 'গতি শক্তি'-র কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী পরিকাঠামোগত আমূল পরিবর্তনের নির্দেশ দেন। এর লক্ষ্য হল, নিরবচ্ছিন্ন ও বহুমুখী লজিস্টিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকবে দ্রুতগতির রেল যোগাযোগ, আধুনিক মহাসড়ক, অভ্যন্তরীণ জলপথ এবং বন্দরগুলিকে বন্দর-কেন্দ্রিক উন্নয়নের প্রাণবন্ত কেন্দ্রে রূপান্তর করা।

'প্রতিরক্ষা শক্তি'কে পঞ্চম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করে প্রধানমন্ত্রী পূর্ণাঙ্গ কৌশলগত স্বনির্ভরতাকে একটি অপরিহার্য জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেন। তিনি ড্রোন, কাউন্টার-ড্রোন সিস্টেম এবং হাইপারসনিক প্রযুক্তির মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তির উদ্ভাবন ও রপ্তানির মাধ্যমে ভারতকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যের ওপর জোর দেন। শ্রী মোদী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, "প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সরবরাহকারী হয়ে ওঠার লক্ষ্যে আমাদের অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে এগিয়ে যেতে হবে।"

সাইবার নিরাপত্তাকে জাতীয় প্রতিরক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী দেশের ডিজিটাল সীমানা এবং আন্তর্জাতিক সাইবার জগৎ – উভয়কেই সুরক্ষিত রাখতে ভারতীয় যুব সমাজের বিশাল ডিজিটাল সক্ষমতাকে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন। শ্রী মোদী বলেন, "দেশ ও বিশ্বের পূর্ণাঙ্গ সুরক্ষার জন্য আমরা সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আমাদের যুবসমাজের অসামান্য সক্ষমতাকে সক্রিয়ভাবে কাজে লাগাতে পারি।"

'সবুজ ও নীল অর্থনীতি'কে ষষ্ঠ সুস্থায়ী ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলায় ভারতকে বিশ্বের সক্রিয় সমস্যা-সমাধানকারী হিসেবে তুলেধরেন। তিনি গ্রিন হাইড্রোজেন, নবীকরণযোগ্য শক্তি, শক্তি সঞ্চয় ব্যবস্থা এবং সমুদ্র ও উপকূলীয় পর্যটনের ব্যাপক উন্নয়নের মাধ্যমে সুস্থিতিশীল সম্প্রসারণ ও প্রচুর 'সবুজ কর্মসংস্থান' সৃষ্টির ওপর জোর দেন। শ্রী মোদী দৃঢ়ভাবে বলেন, "যখন বিশ্বজুড়ে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন নিয়ে আলোচনা চলছে, তখন আমরা সক্রিয়ভাবে এর সমাধানের উপায় খুঁজছি এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছি।"

ভারতের 'সফট পাওয়ার' বা সাংস্কৃতিক ও ভাবমূর্তিজাত শক্তিকে সপ্তম ও চূড়ান্ত ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করে প্রধানমন্ত্রী যোগব্যায়ামকে বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধকারী শক্তি হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি ভারতের ঐতিহ্য, আয়ুর্বেদ ও পর্যটনকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ভিএফএক্স, অ্যানিমেশন, গেমিং এবং ওয়েভস সামিট-এর মতো সৃজনশীল অর্থনীতির ক্ষেত্রে জোরালো নেতৃত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। শ্রী মোদী জোর দিয়ে বলেন, "সৃজনশীল জগতে ভারত তার অসামান্য আধিপত্য সক্রিয়ভাবে তুলে ধরতে পারে এবং আমাদের অবশ্যই একে একটি বৈশ্বিক সক্ষমতা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।"

ভারতের বন্যপ্রাণ ও জাতীয় উদ্যানগুলির বিশাল অব্যবহৃত সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী এই 'সফট পাওয়ার'-কে কাজে লাগানোর জন্য জোরালো প্রচারের আহ্বান জানান। তিনি বিশ্বব্যাপী পর্যটকদের আকৃষ্ট করা এবং লাভজনক বৃহৎ কনসার্ট অর্থনীতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্টগুলিকে ব্যাপকভাবে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন। 

এই সাতটি শক্তিশালী ক্ষেত্রের কৌশলগত উদ্দেশ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে, জাতীয় লক্ষ্য অর্জন এবং বৈশ্বিক মানদণ্ড অতিক্রম করার জন্য বিচ্ছিন্নভাবে কোনও একটি ক্ষেত্রের উন্নয়নের পরিবর্তে বিভিন্ন ক্ষেত্রের মধ্যে সমন্বিত ও যৌথ প্রচেষ্টার প্রয়োজন। 

দেশের কর্পোরেট জগতের উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে এক বলিষ্ঠ আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বমঞ্চে ভারতের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেন। তিনি নীতিমালার দ্রুত আধুনিকীকরণের মাধ্যমে সাহসী সব লক্ষ্য অর্জনের ওপর জোর দেন, যার মধ্যে রয়েছে 'ফরচুন ৫০০' তালিকায় ৫০টি ভারতীয় কোম্পানির স্থান করে নেওয়া, একটি শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক ব্যাঙ্ক ও বিশ্বের সেরা পাঁচটি ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি ভারতীয় কোম্পানির উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং আইন, রেটিং, পরামর্শদাতা পরিষেবা, হিসাবরক্ষা ও প্রযুক্তির মতো ক্ষেত্রগুলিতে বিশ্বজুড়ে নেতৃত্ব প্রদান। শ্রী মোদী জোর দিয়ে বলেন, "কঠোর পরিশ্রমে বিন্দুমাত্র ঘাটতি না রেখে এই পথেই এগিয়ে গিয়ে আমরা 'বিকশিত ভারত'-এর সেই বিশাল স্বপ্নকে অবশ্যই পূরণ করব।"

জাতীয় রূপান্তরের কেন্দ্রবিন্দুতে তরুণদের স্থাপন করে প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে, ভারতের তরুণরাই এই দ্রুত অগ্রগতির প্রধান কারিগর এবং চূড়ান্ত সুবিধাপ্রাপক; একটি উন্নত জাতি গঠনের পুরো যাত্রাপথ তাদের ক্ষমতায়নের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত থাকা আবশ্যক। শ্রী মোদী দৃঢ়ভাবে বলেন, "তরুণদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে তাদের সঙ্গে 'বিকশিত ভারত'-এর লক্ষ্যকে নিবিড়ভাবে যুক্ত করে আমাদের তা এগিয়ে নিয়ে যেতেই হবে।"

গত এক দশকে দেশের স্টার্টআপ পরিমণ্ডলের অভাবনীয় প্রসারের (নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২.৫ লক্ষে পৌঁছনো) কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তরুণদের ক্ষমতায়নের এক নতুন যুগের ওপর আলোকপাত করেন। এই অগ্রগতির যাত্রার পিছনে রয়েছে ১ লক্ষ কোটি টাকার 'গবেষণা ও উদ্ভাবন তহবিল'-এর মতো বিশাল সম্পদ, সাশ্রয়ী ডিজিটাল ডেটার বৈপ্লবিক প্রভাব এবং 'স্কিল ইন্ডিয়া', 'খেলো ইন্ডিয়া', জাতীয় ড্রোন নীতি, মহাকাশ ক্ষেত্রে বেসরকারি অংশগ্রহণ ও ৩৫ বছর পর চালু করা ঐতিহাসিক 'জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০'-এর মতো সক্রিয় উদ্যোগসমূহ। শ্রী মোদী বলেন, "তোমরা তোমাদের বিশাল স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে এসো; আমরা আর্থিক সহায়তার এক শক্তিশালী ব্যবস্থা গড়ে তুলেছি এবং সম্পদের কোনও ঘাটতি হতে দেব না।"

শক্তিশালী শিক্ষাগত পরিকাঠামোর ব্যাপক সম্প্রসারণের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী অতীতের ধীরগতির সঙ্গে বর্তমানের দ্রুত অগ্রগতির তুলনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৩৫০-এর কম থেকে বেড়ে প্রায় ১,০০০ এবং মেডিক্যাল কলেজের সংখ্যা ৪০০-এর কম থেকে বেড়ে প্রায় ৮৫০-এ পৌঁছেছে। পাশাপাশি তিনি ১০,০০০-এরও বেশি 'অটল টিঙ্কারিং ল্যাব'-এর মাধ্যমে গড়ে ওঠা উদ্ভাবনী পরিবেশ এবং তরুণদের পরিচালিত স্টার্টআপগুলির অভাবনীয় সাফল্যের প্রশংসা করেন।
শ্রী মোদী বলেন, "আমরা এমনভাবে কাজ করছি যাতে দেশের তরুণরা ছেলেবেলা থেকেই প্রযুক্তির প্রতি গভীরভাবে আকৃষ্ট হয়।"

উদীয়মান প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বিশ্বজুড়ে একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি বিশাল উদ্যোগের ঘোষণা করে প্রধানমন্ত্রী লাল কেল্লা থেকে জানান যে, আগামী এক বছরের মধ্যে এক কোটি তরুণকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দক্ষতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। শ্রী মোদী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, "আমরা এক কোটি তরুণকে এআই বিষয়ক প্রশিক্ষণের জন্য জোরদার পদক্ষেপ নেব, যাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জগতে নেতৃত্ব দেওয়ার পূর্ণ সক্ষমতা আমাদের তরুণদের থাকে।"  তিনি বলেন যে, ২০১৪ সালে জৈব-অর্থনীতির আকার ছিল ৬০ হাজার কোটি টাকা, যা বর্তমানে বেড়ে প্রায় ২০ লক্ষ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে; পাশাপাশি বৈদ্যুতিক গাড়ির বার্ষিক বিক্রি ১.৫ লক্ষ থেকে বেড়ে ২৫ লক্ষে পৌঁছেছে। 

গ্রামীণ শাসনব্যবস্থার পাশাপাশি বিমান চলাচল ও মহাকাশ ক্ষেত্রের দ্রুত সম্প্রসারণের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী নতুন বিমান রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ভারতে তৈরি প্রতিরক্ষা পরিবহন বিমান 'সি-২৯৫'-এর সফল উড্ডয়নের বিষয়টি তুলে ধরেন। একইসঙ্গে তিনি ড্রোন-চালিত 'স্বামিত্ব' সম্পত্তি ম্যাপিং প্রকল্পের অভাবনীয় সাফল্যের প্রশংসা করেন, যা ৩.২৫ কোটি পরিবারের জন্য ১৪০ লক্ষ কোটি টাকার গ্রামীণ অর্থনৈতিক সম্ভাবনা উন্মোচন করেছে। শ্রী মোদী বলেন, "ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে গ্রামীণ সম্পত্তি বিষয়ক প্রকল্পটি ব্যাপক সাফল্য পাচ্ছে; এর মাধ্যমে সম্পত্তির প্রকৃত মূল্য কাজে লাগিয়ে প্রয়োজনীয় ঋণ ও ব্যবসার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।"

মধ্যবিত্ত পরিবারগুলির ওপর প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার কারণে সৃষ্ট তীব্র আর্থিক ও মানসিক চাপ লাঘবের লক্ষ্যে একটি বড় নতুন উদ্যোগের ঘোষণা করে প্রধানমন্ত্রী 'ফ্রি অনলাইন কোচিং' বা বিনামূল্যে অনলাইন প্রশিক্ষণের সূচনা করেন। শক্তিশালী 'ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার' (ডিপিআই) এবং সেরা শিক্ষকদের কাজে লাগিয়ে দেশব্যাপী প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে উচ্চমানের শিক্ষাগত সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

'টপস'  এবং 'খেলো ইন্ডিয়া'-র মতো অত্যন্ত কৌশলগত তৃণমূল-স্তরের উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে ভারতের ক্রমবর্ধমান আধিপত্য উদযাপন করে প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের ত্রিবর্ণরঞ্জিত পতাকার ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির কথা গর্বের সঙ্গে উল্লেখ করেন। একইসঙ্গে তিনি ২০৩০ সালের কমনওয়েলথ গেমস আয়োজন এবং ২০৩৬ সালের অলিম্পিক আয়োজনের জন্য ভারতের জোরালো দাবির বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেন। শ্রী মোদী জোর দিয়ে বলেন, "ক্রীড়াজগতে ভারতের পারফরম্যান্স ক্রমাগত উন্নত হচ্ছে এবং অলিম্পিক আয়োজনের শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে আমরা গর্বের সঙ্গে এগিয়ে চলেছি।"

মাদকাসক্তির মতো গুরুতর জাতীয় সঙ্কটের বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী 'মাদক-মুক্ত ভারত' গড়ে তোলার বিষয়টিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শক্তি সুনিশ্চিত করার জন্য এক বিশাল যৌথ দায়িত্ব হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি প্রতিটি পরিবার, এনজিও এবং আধ্যাত্মিক সংগঠনকে 'নেশা মুক্ত যুব অভিযান'-এর আওতায় একত্রিত হয়ে ১০০ সপ্তাহব্যাপী দেশজুড়ে মাদক-বিরোধী প্রচারাভিযানে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। 

চার দশক ধরে চলা হিংসাত্মক চরমপন্থার ধ্বংসাত্মক প্রভাবের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী ৩,৫০০-এরও বেশি নিরাপত্তা কর্মীর আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি গর্বের সঙ্গে ঘোষণা করেন যে, নকশালবাদকে চূড়ান্তভাবে নির্মূল করা হয়েছে এবং সেই সব অঞ্চলে এখন বিদ্রোহের পরিবর্তে ব্যাপক আঞ্চলিক উন্নয়ন ও পারস্পরিক আস্থার পরিবেশ গড়ে উঠেছে। 

দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে আদর্শগত অন্তর্ঘাত এবং সেই সব ধ্বংসাত্মক শক্তির বিরুদ্ধে অত্যন্ত সতর্ক থাকার আহ্বান জানান, যারা অতীতে জাতীয় নীতিকে ক্ষতিকরভাবে প্রভাবিত করার লক্ষ্যে ক্ষমতার অলিন্দে অনুপ্রবেশ করেছিল। 

দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্ব পরিস্থিতিতে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিতে আলোকপাত করে প্রধানমন্ত্রী একটি বিশাল, আধুনিক ও স্বেচ্ছাসেবী 'নাগরিক সুরক্ষা ব্যবস্থা' (সিভিল ডিফেন্স নেটওয়ার্ক) গড়ে তোলার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে প্রায় ১০০টি দেশে ভারতের প্রতিরক্ষা সামগ্রী রপ্তানি ৫০ গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

'লাখপতি দিদি' হিসেবে ৩ কোটি নারীর স্বাবলম্বী হওয়ার মাধ্যমে গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করার কথা উল্লেখ করে, তিনি অভূতপূর্ব আঞ্চলিক রূপান্তর সাধনের লক্ষ্যে ৬ কোটির এক নতুন ও সাহসী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেন। শ্রী মোদী বলেন, "আজ যারা চিপ তৈরির মতো জটিল কাজ করছেন, সেই কন্যাদের মধ্যে যে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস আমি দেখেছি, তা সত্যিই আমাকে মুগ্ধ করেছে।"

জনপ্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত কর্মঠ নারীদের অত্যন্ত দক্ষ নেতৃত্বের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী 'নারী শক্তি'-র জয়গান গেয়েছেন। তিনি সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, তারা যেন কয়েক দশকের বিলম্বের অবসান ঘটিয়ে সংসদ ও রাজ্য বিধানসভাগুলিতে নারীদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণের বিষয়টি দ্রুত কার্যকর করে। 

অতীতের সীমিত সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে গত এক দশকের রূপান্তরমূলক সময়ে অর্জিত ব্যাপক সম্প্রসারণের তুলনা করে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, অন্তর্ভুক্তিমূলক কল্যাণমূলক ব্যবস্থার আওতায় এখন প্রায় ১০০ কোটি নাগরিক সুরক্ষিত, যা ২০১৪ সালের আগে ছিল মাত্র ২৫ কোটি। শ্রী মোদী জোর দিয়ে বলেন, "একটি 'বিকশিত ভারত'-এর সংকল্প তখনই প্রকৃত অর্থে বাস্তবায়িত হবে, যখন ব্যাপক উন্নয়ন সফলভাবে সমাজের একেবারে শেষ প্রান্তে থাকা মানুষটির কাছে পৌঁছবে।"

প্রধানমন্ত্রী 'আয়ুষ্মান ভারত যোজনা'-র কথা তুলে ধরেন। এই যোজনার মাধ্যমে ৭০ বছরের বেশি বয়সী প্রবীণ নাগরিকদের ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসা সুবিধা দেওয়া হয়েছে এবং দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলির চিকিৎসার বিপুল খরচ বাবদ আনুমানিক ২ লক্ষ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে। শ্রী মোদী বলেন, "এই স্বাস্থ্য কার্ডের কারণে ওষুধ ও অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজনীয় বিপুল অর্থ আমার দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর সাশ্রয় হয়েছে।"

ভারতে বর্তমানে প্রথম ডিজিটাল আদমশুমারি চলছে - এ কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী পরিবার ও যুব সমাজকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ডিজিটাল স্ব-নিবন্ধনের সুবিধা কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।

তরুণ নাগরিকদের এই ডিজিটাল আদমশুমারি কার্যক্রমের নেতৃত্বে সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাদের পরামর্শ দেন,  তাঁরা যেন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বসে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ফর্ম পূরণ করেন - যাতে কোনও ভুল না থাকে - এবং সেই নির্ভুল তথ্য অনলাইনে সুষ্ঠুভাবে আপলোড করেন। 

স্বাধীনতা দিবসের ভাষণ শেষ করার সময় 'পঞ্চ প্রাণ'-এর কথা পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি নাগরিকের প্রতি এক বলিষ্ঠ আহ্বান জানান: ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে জাতীয় স্বার্থকে চিরস্থায়ীভাবে স্থান দেওয়া, ঔপনিবেশিক মানসিকতা দূর করা এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বড় স্বপ্নকে একটি উন্নত জাতির অনস্বীকার্য সাফল্যে দ্রুত রূপান্তর করা। "আসুন, আমরা প্রতিটি পদক্ষেপকে উন্নয়নের পদক্ষেপে পরিণত করি, একে অপরের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলি এবং সম্মিলিত ও জোরালো প্রচেষ্টায় একটি 'বিকশিত ভারত' গড়ে তুলি," দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন শ্রী মোদী।
 

 

SC/MP/AS/


(रिलीज़ आईडी: 2300091) आगंतुक पटल : 3
इस विज्ञप्ति को इन भाषाओं में पढ़ें: Gujarati , Kannada , Malayalam , Assamese , English , Urdu , Marathi , हिन्दी , Punjabi , Tamil