PIB Backgrounder
উৎপাদন ক্ষেত্রে গতি : আত্মনির্ভরতার পথে ভারত
प्रविष्टि तिथि:
14 AUG 2026 7:51PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ১৪ আগস্ট, ২০২৬
ভূমিকা
ভারতের ৮০ তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের প্রাক্কালে দেশের উৎপাদন ক্ষেত্র আত্মনির্ভরতা ও অগ্রগতির অন্যতম স্তম্ভ হয়ে উঠেছে। বিগত ১২ বছরে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ভাবনার আওতায় বিভিন্ন সংস্কার দেশের শিল্পক্ষেত্রকে নতুন দিশা দিয়েছে। প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, বস্ত্র, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ভারী যন্ত্রপাতি এখন বিশ্বমানের পরিকাঠামোয় দেশে তৈরি হচ্ছে। এর ফলে, দেশীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও ভারতের উপস্থিতি বাড়ছে।
উৎপাদন ক্ষেত্রের এই গতি আরও বাড়াতে সরকার প্রোডাকশন লিঙ্কড ইনসেন্টিভ (PLI) বা উৎপাদন সংযুক্ত উৎসাহ ভাতামূলক প্রকল্প, পিএম গতিশক্তি, জাতীয় লজিস্টিক্স বা সরবরাহ নীতি, BHAVYA এবং বৈদ্যুতিন ও MSME ক্ষেত্রের বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
ভারতের উৎপাদন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা
উৎপাদন ক্ষেত্র বর্তমানে দেশের GDP-র প্রায় ১৬ থেকে ১৭ শতাংশে অবদান রাখছে। এই ক্ষেত্রে ২ কোটি ৭০ লক্ষেরও বেশি কর্মী যুক্ত রয়েছেন। সংশোধিত সিরিজ অনুযায়ী ২০২২-২৩ থেকে ২০২৫-২৬ সময়কালে স্থির মূল্যে Manufacturing GVA-র বার্ষিক চক্রবৃদ্ধি বৃদ্ধির হার (CAGR) ১০.৮৮%।
এবছর জুলাই-এ পণ্য রপ্তানির মূল্য দাঁড়িয়েছে ৪৪.২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এক বছর আগে এই পরিমাণ ছিল ৩৬.৯৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এবছর জুন মাসে উৎপাদন ৭.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিসংখ্যানগুলি ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে উৎপাদন ক্ষেত্রের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরে।
ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে রূপান্তর : আত্মনির্ভরতা থেকে রপ্তানির পথে
গত এক দশকে ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যে নীতি গ্রহণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং দেশীয় উৎপাদনে জোর দেওয়ায় ভারত প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদক ও রপ্তানিকারক হয়ে উঠেছে।
প্রধান তথ্য :
- ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন রেকর্ড ১.৭৮ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
- ২০১৩-১৪ সালে ৬৮৬ কোটি টাকা থেকে প্রতিরক্ষা রপ্তানি বেড়ে ২০২৫-২৬-এ ৩৮,৪২৪ কোটি টাকা হয়েছে।
- ভারতের প্রতিরক্ষা পণ্য ৮০টিরও বেশি দেশে রপ্তানি হচ্ছে।
- ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে প্রতিরক্ষা ও অন্যান্য রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা মোট উৎপাদনের প্রায় ৭৬ শতাংশ করেছে। বেসরকারি ক্ষেত্রের অংশ বেড়ে হয়েছে ২৪ শতাংশ।
- এ বছর মে পর্যন্ত প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে ১০টি Positive Indigenisation List প্রকাশ করা হয়েছে। তালিকাগুলিতে ৫,৫২১টি পণ্য রয়েছে।
- Srijan Defence Equipment Empowerment Platform (DEEP)-এ মে ২০২৬ পর্যন্ত ৪১,০০০-এর বেশি বিক্রেতা এবং ২.৭ লক্ষ পণ্য তালিকাভুক্ত হয়েছে। এর ফলে, দেশীয় সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হয়েছে।
ভারতের বৈদ্যুতিন পণ্যক্ষেত্রে অগ্রগতি
ভারত দ্রুত বৈদ্যুতিন পণ্যের উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। National Policy on Electronics, SPECS, EMC 2.0 এবং PLI-এর মতো উদ্যোগ বৈদ্যুতিন ক্ষেত্রের উৎপাদনকে নতুন গতি দিয়েছে। Electronics Components Manufacturing Scheme (ECMS) দেশের Electronics System Design and Manufacturing (ESDM) ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করেছে।
২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ১১.৩২ লক্ষ কোটি টাকা থেকে বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম উৎপাদন ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে বেড়ে ১৩.১১ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এক বছরে উৎপাদন বেড়েছে ১৫.৮%।
সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন
বৈদ্যুতিন ক্ষেত্রে ধারাবাহিক সংস্কারের ফলে ভারত সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠছে। দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর ও ডিসপ্লে উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে ৭৬,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দে Semicon India Programme 1.0 অনুমোদিত হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের জুলাই মাসে মোট ১.২৭ লক্ষ ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দে Semicon 2.0 অনুমোদিত হয়েছে।
Semicon India Programme 1.0-এর অগ্রগতি
২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ১.৬৪ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগে ১২টি উৎপাদন ইউনিট অনুমোদিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে একটি সিলিকন ফ্যাব, একটি সিলিকন কার্বাইড ফ্যাব, একটি সমন্বিত Gallium Nitride Micro LED ডিসপ্লে ফ্যাব এবং নয়টি প্যাকেজিং ইউনিট।
এই ইউনিটগুলি ভোগ্যপণ্য, শিল্প ইলেকট্রনিক্স, গাড়ি, পাওয়ার ইলেকট্রনিক্স, টেলিযোগাযোগ ও মহাকাশ ক্ষেত্রের চিপের চাহিদা পূরণে সহায়তা করবে।
অনুমোদিত ১২টি প্রস্তাবের মধ্যে Micron, Kaynes ও CG Semi ইতিমধ্যে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করেছে। আরও একটি সংস্থা ২০২৬ সালে উৎপাদন শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভারতের মোবাইল ফোন উৎপাদনে অগ্রগতি
ভারতের মোবাইল ফোন উৎপাদন ক্ষেত্রে দ্রুত বৃদ্ধি দেশীয় উৎপাদন, রপ্তানি ও মূল্য সংযোজনকে শক্তিশালী করেছে।
- ভারতে ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের ৯৯.২% এখন দেশেই তৈরি হয়।
- উৎপাদনের পরিমাণের নিরিখে ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল ফোন উৎপাদক।
- ২০১৪ সাল থেকে ভারত মোবাইল ফোনের নিট আমদানিকারক থেকে নিট রপ্তানিকারকে পরিণত হয়েছে।
- Large Scale Electronic Manufacturing (LSEM)-এর PLI প্রকল্পে মোবাইল উৎপাদন ব্যবস্থায় প্রায় ৯৬,০০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ এসেছে।
- ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে দেশীয় মূল্য সংযোজন ২৩ শতাংশে পৌঁছেছে।
- ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে স্মার্টফোন ভারত থেকে রপ্তানির ক্ষেত্রে সর্বাধিক রপ্তানিকৃত পৃথক পণ্যে পরিণত হয়েছে। পেট্রোলিয়াম, রত্ন ও গয়নাকে পিছনে ফেলেছে স্মার্টফোন।
মোবাইল ফোন উৎপাদন প্রকল্প
এ বছর ১৫ জুলাই-এ ৬২,৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দে মোবাইল ফোন উৎপাদন প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। উৎপাদন বৃদ্ধি, দেশীয় মূল্য সংযোজন, সরবরাহ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো এই প্রকল্পের লক্ষ্য।
পাঁচ বছর মেয়াদী এই প্রকল্প ২০২৬-২৭ থেকে ২০৩০-৩১ অর্থবর্ষ পর্যন্ত চলবে। উৎসাহভাতা ২.২৫ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত। দেশীয় পণ্য সংগ্রহ, ভারতীয় ব্র্যান্ড, নকশা ও গবেষণা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সহায়তা দেওয়া হবে।
ভারতের ওষুধ শিল্প : উৎপাদন ও রপ্তানিতে অগ্রগতি
ভারত বিশ্বে ওষুধ উৎপাদনের পরিমাণের নিরিখে তৃতীয় এবং মূল্যের নিরিখে একাদশ স্থানে রয়েছে। বিশ্বের জেনেরিক ওষুধের প্রায় ২০ শতাংশ এবং বিপুল পরিমাণ টিকা সরবরাহ করে ভারত। উৎপাদন, রপ্তানি ও দেশীয় উদ্ভাবনের ধারাবাহিক বৃদ্ধিতে ভারত বিশ্বস্ত আন্তর্জাতিক সরবরাহকারী হিসাবে নিজের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে।
প্রধান তথ্য
- ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ওষুধ শিল্পের বার্ষিক ব্যবসার পরিমাণ ৪.৭২ লক্ষ কোটি টাকা।
- ক্ষেত্রটির তিনটি PLI প্রকল্পে মোট ২৫,৩৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। এর মাধ্যমে ৫১,৯৯৭ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ এসেছে।
- প্রকল্পগুলির অধীনে মোট বিক্রির পরিমাণ ৩.৮৮ লক্ষ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২.৪৩ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি রপ্তানি রয়েছে।
- ২১৮টি API/KSM/ওষুধের মধ্যবর্তী উপাদান এবং CT, MRI, আল্ট্রাসাউন্ড ও গুরুত্বপূর্ণ ইমপ্ল্যান্ট-সহ ৫৭টি চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি হয়েছে।
- চিকিৎসা সরঞ্জাম রপ্তানি ২০১৯-২০ অর্থবর্ষে ২৬,৯১৫ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২০২৪-২৫-এ ৪২,৩৬০ কোটি টাকা হয়েছে। একই সময়ে দেশীয় উৎপাদন ২৮,০০০ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৪১,৫০০ কোটি টাকা হয়েছে।
বাল্ক ড্রাগ পার্ক উন্নয়ন প্রকল্প
২০২০ সালে বিশ্বমানের সাধারণ পরিকাঠামো-সহ তিনটি বাল্ক ড্রাগ পার্ক গড়ে তোলার জন্য এই প্রকল্প অনুমোদিত হয়। ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে অন্ধ্রপ্রদেশ, গুজরাট ও হিমাচল প্রদেশে তিনটি পার্ক অনুমোদিত হয়েছে।
Biopharma SHAKTI
২০২৬-২৭ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে Biopharma SHAKTI প্রকল্প ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে এই প্রকল্পে ১০,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হবে।
বস্ত্র ও পোশাক শিল্প : আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা ক্ষেত্রে সক্ষমতা বৃদ্ধি
ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন ক্ষেত্র হল বস্ত্র ও পোশাক শিল্প। কৃষির পর এটি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কর্মসংস্থান ক্ষেত্র। বস্তুত, ৪ কোটি ৫০ লক্ষেরও বেশি মানুষ এই ক্ষেত্রের মাধ্যমে জীবিকা অর্জন করেন। MSME-নির্ভর শিল্পোন্নয়নেও এই ক্ষেত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
শক্তিশালী কাঁচামাল সরবরাহ ব্যবস্থা, সম্পূর্ণ উৎপাদন শৃঙ্খলে দেশীয় সক্ষমতা এবং বড় দেশীয় বাজার ভারতের অন্যতম শক্তি। ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তুলা উৎপাদক এবং তুলোজাত সুতোর বৃহত্তম রপ্তানিকারক।
- বস্ত্র ও পোশাক শিল্প জাতীয় GDP বা মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনে-র প্রায় ২ শতাংশ, উৎপাদন GVA-র ১১ শতাংশ এবং পণ্য রপ্তানির ৯ শতাংশে অবদান রাখে।
- ২০২৫ অর্থবর্ষে ভারত ৩৭.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বস্ত্রপণ্য রপ্তানি করেছে।
- বিশ্বব্যাপী বস্ত্র ও পোশাক রপ্তানিতে ভারতের অংশ ৪.১ শতাংশ। ভারত বিশ্বে ষষ্ঠ বৃহত্তম বস্ত্র রপ্তানিকারক।
বস্ত্র ক্ষেত্রের PLI প্রকল্প, PM MITRA Parks, National Technical Textiles Mission, Textiles Export Promotion Mission, National Fibre Mission এবং সদ্য ঘোষিত Mission for Cotton Productivity উৎপাদন সক্ষমতা ও প্রতিযোগিতা আরও বাড়াবে।
ভারতে সমুদ্র ক্ষেত্রে অগ্রগতি : জাহাজ ও কনটেনার উৎপাদন
দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা বাড়াতে সামুদ্রিক ক্ষেত্রে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জাহাজ নির্মাণ, সমুদ্র ক্ষেত্রে অর্থায়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ৬৯,৭২৫ কোটি টাকার একটি সমন্বিত প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়।
Shipbuilding Development Scheme (SbDS) জাহাজনির্মাণ উন্নয়ন প্রকল্প
এই প্রকল্পে ১৯,৯৮৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। ভারতের বার্ষিক জাহাজ নির্মাণ সক্ষমতা ৪৫ লক্ষ Gross Tonnage (GT)-এ উন্নীত করা এর লক্ষ্য।
Greenfield shipbuilding cluster-গুলিতে সাধারণ সামুদ্রিক ও অভ্যন্তরীণ পরিকাঠামোর জন্য কেন্দ্র ও রাজ্যের ৫০:৫০ অংশীদারিত্বে ১০০% মূলধনী সহায়তা দেওয়া হবে।
চলতি shipyard বা জাহাজ নির্মাণ কারখানা-গুলির সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণের জন্য ২৫ শতাংশ মূলধনী সহায়তা দেওয়া হবে। অন্ধ্রপ্রদেশ, গুজরাট ও তামিলনাড়ুতে Greenfield shipbuilding cluster প্রস্তাব করা হয়েছে। তিনটি Brownfield সম্প্রসারণ প্রকল্প নীতিগত ভাবে অনুমোদিত হয়েছে।
Maritime Development Fund
সমুদ্র ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী অর্থায়নের জন্য Maritime Development Fund-এ ২৫,০০০ কোটি টাকার তহবিল থাকবে। এর মধ্যে ২০,০০০ কোটি টাকার Maritime Investment Fund-এ সরকারের ৪৯ শতাংশ অংশীদারিত্ব থাকবে। জাহাজ নির্মাণ সংস্থার ঋণের খরচ কমাতে ৫,০০০ কোটি টাকার Interest Incentivization Fund রাখা হয়েছে।
Shipbuilding Financial Assistance Scheme (SBFAS)
জাহাজ নির্মাণের খরচজনিত অসুবিধা দূর করা এবং অর্থায়ন, উৎপাদন সক্ষমতা ও পরিকাঠামো শক্তিশালী করতে SBFAS-এর অধীনে ২৪,৭৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। প্রকল্পটির নির্দেশিকা ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫-এ জারি করা হয়েছে।
কন্টেনার উৎপাদনে সহায়তা প্রকল্প (CMAS)
২০২৬-২৭ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে দেশীয় কন্টেনার উৎপাদনে সক্ষমতা বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক কন্টেনার সরবরাহ ব্যবস্থায় ভারতের অবস্থান শক্তিশালী করতে CMAS ঘোষণা করা হয়েছে।
- পাঁচ বছরে CMAS-এর অধীনে ১০,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ।
- বার্ষিক ৭.৫ লক্ষ TEU পর্যন্ত দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তোলার লক্ষ্য। বর্তমান সক্ষমতার প্রায় ১০ গুণ।
- জুলাই ২০২৬-এ A.P. Moller-Maersk-এর জন্য দেশে তৈরি প্রথম EXIM শিপিং কন্টেনার উৎপাদন করা হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের দাদরিতে Maersk–CONCOR Inland Container Depot-এ কন্টেনারটি প্রদর্শন করা হয়।
অটোমোবাইল বা যানবাহনকেন্দ্রিক শিল্প : উৎপাদন ক্ষেত্রে শক্তিশালী অবস্থান
বিস্তৃত উৎপাদন সক্ষমতা ও শক্তিশালী অটো-কম্পোনেন্ট ব্যবস্থার ফলে ভারতের অটোমোবাইল শিল্প শক্তিশালী হয়েছে। দুই চাকা ও তিন চাকার গাড়ির ক্ষেত্রে ভারত বিশ্বের বৃহত্তম বাজার। যাত্রীবাহী ও বাণিজ্যিক গাড়ির ক্ষেত্রেও ভারত বিশ্বে তৃতীয় বৃহত্তম বাজার। সরকারি উদ্যোগ ও বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে, বৈদ্যুতিক গতিশীলতাও এগিয়ে চলেছে।
- যানবাহন ক্ষেত্রের সাহায্যে দেশে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে ৩ কোটিরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।
- গাড়ির উৎপাদন ২০২০-২১ অর্থবর্ষে ২.২৬৫ কোটি থেকে বেড়ে ২০২৪-২৫-এ ৩.১০৩ কোটিতে পৌঁছেছে।
- ২০১৪-১৫ থেকে ২০২৪-২৫-এর মধ্যে মোট উৎপাদন প্রায় ৩৩ শতাংশ বেড়েছে।
অটোমোবাইল বা যানবাহন ও অটো-কম্পোনেন্ট বা যানবাহনের যন্ত্রাংশ শিল্পকেন্দ্রিক PLI প্রকল্প:
২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে ২৫,৯৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দে প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়। উন্নত অটোমোটিভ প্রযুক্তির উচ্চমূল্যের গাড়ি ও পণ্য উৎপাদনে উৎসাহ দেওয়া এর লক্ষ্য। মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত ৪৪,৩২৬ কোটি টাকার বিনিয়োগ এসেছে এবং ৬৭,৮২০টি কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে।
PM E-DRIVE প্রকল্প:
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ১০,৯০০ কোটি টাকা বরাদ্দে প্রকল্পটি শুরু হয়। বৈদ্যুতিক গতিশীলতা বাড়াতে প্রায় ২৮.৩০ লক্ষ বৈদ্যুতিক গাড়ির জন্য উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ই-২W, ই-৩W, ই-ট্রাক, ই-বাস ও ই-অ্যাম্বুল্যান্স।
ই-বাসের জন্য ৪,৩৯১ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ১৪,০২৮টি ই-বাসের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ইতিমধ্যে ১৪,০০০টি ই-বাস পরিষেবায় যুক্ত হয়েছে। সারা দেশে বৈদ্যুতিক গাড়ির গণ-চার্জিং কেন্দ্রের জন্য আরও ২,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
ভারতে সৌর PV উৎপাদন : দ্রুত বৃদ্ধি ও সম্প্রসারণ
ভারতে সৌর PV উৎপাদন ক্ষেত্রে দ্রুত অগ্রগতি হয়েছে। সৌর সেল ও মডিউলের দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে দেশীয় PV বাজারের মূল্য প্রায় ৩২,৪০০ কোটি টাকা। ২০৩০ সাল পর্যন্ত এই বাজারে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি প্রত্যাশিত।
- ২০২২-২৩ থেকে ২০২৯-৩০ অর্থবর্ষের মধ্যে দেশীয় PV বাজারের বার্ষিক চক্রবৃদ্ধি বৃদ্ধির হার ১৭ থেকে ২০ শতাংশ হতে পারে।
- Approved List of Models and Manufacturers (ALMM)-এ তালিকাভুক্ত সৌর মডিউল উৎপাদন সক্ষমতা ২০২৫ সালের অগস্টে ১০০ GW-এ পৌঁছেছে। ২০১৪ সালে এই সক্ষমতা ছিল প্রায় ২.৩ GW।
- সৌর সেল উৎপাদন সক্ষমতা ২০১৪ সালে ১.২ GW-এর কম থেকে বেড়ে ২০২৫ সালের মার্চে ২৫ GW হয়েছে।
- উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন সৌর PV মডিউল উৎপাদনে সরকার PLI প্রকল্প চালু করেছে।
- প্রকল্পটির দুটি ধাপে মোট ২৪,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। ৪৮ GW সমন্বিত PV উৎপাদন সক্ষমতার জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
- ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে PV রপ্তানি ২০১৭-১৮-এর তুলনায় আট গুণ বেড়েছে। PLI প্রকল্পের আওতায় সেল থেকে মডিউল পর্যন্ত উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এই অগ্রগতি আরও শক্তিশালী হয়েছে।
আগামী দিনের পথ
ভারতের উৎপাদন ক্ষেত্র বর্তমানে ধারাবাহিক অগ্রগতি, বাড়তে থাকা সক্ষমতা এবং শিল্পক্ষেত্রে দৃঢ় আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন। ধারাবাহিক সরকারি সহায়তা ও বেসরকারি ক্ষেত্রের বাড়তি অংশগ্রহণ এই ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করছে। নতুন উৎপাদন সক্ষমতা কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকা আরও বাড়বে। আগামী বছরগুলিতে নতুন সুযোগ, অধিক মূল্য সংযোজন এবং আরও শক্তিশালী আত্মনির্ভর অর্থনীতির সম্ভাবনা ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে।
তথ্যসূত্র
Ministry of Commerce & Industry:
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2230621®=3&lang=1
Ministry of Statistics & Programme Implementation:
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2298236®=48&lang=2
Ministry of Electronics & IT:
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2291171®=48&lang=2
Union Cabinet:
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2284789®=48&lang=1
Ministry of Chemicals and Fertilizers:Department of Pharmaceuticals:
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2244474®=3&lang=1
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2286949®=48&lang=1
Ministry of Ports, Shipping and Waterways:
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2294248®=48&lang=1
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2288924®=48&lang=2
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2209139®=3&lang=2
Ministry of Textiles:
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2286960®=48&lang=2
Ministry of Statistics & Programme Implementation:
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2290419®=48&lang=2
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2298236®=48&lang=2
Ministry of Heavy Industries:
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2298052®=48&lang=2
NITI Aayog:
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2298965®=48&lang=1
Press Information Bureau:
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2278107®=48&lang=2
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2234442®=3&lang=2
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2273854®=48&lang=2
Click to see pdf
*****
SSS/AS........
(रिलीज़ आईडी: 2299720)
आगंतुक पटल : 2
इस विज्ञप्ति को इन भाषाओं में पढ़ें:
English