PIB Backgrounder
সেমিকন্ডাক্টর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বিপ্লব
प्रविष्टि तिथि:
13 AUG 2026 1:47PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ১৩ আগস্ট, ২০২৬
ভবিষ্যতের শক্তি: চিপ থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা - প্রযুক্তি ক্ষেত্রে ভারতের নেতৃত্ব
আধুনিক প্রযুক্তির মূল ভিত্তি সেমিকন্ডাক্টর। স্মার্টফোন, যানবাহন, উপগ্রহ থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবস্থা, সব ক্ষেত্রেই এর ব্যবহার রয়েছে। উন্নত চিপ, বিশেষ প্রসেসর এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটিংয়ের চাহিদা বাড়াচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। ফলে এই দুই প্রযুক্তি ক্রমশ পরস্পরের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত হচ্ছে।
এই পরিবর্তনকে সামনে রেখে ভারত চিপের নকশা ও উৎপাদন থেকে কম্পিউটিং পরিকাঠামো এবং দেশীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল পর্যন্ত নিজস্ব সক্ষমতা গড়ে তুলছে। দুই ক্ষেত্রেই সরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে একটি সমন্বিত প্রযুক্তি ব্যবস্থা তৈরি হচ্ছে। এর ফলে, আত্মনির্ভরতা, সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিস্থাপকতা এবং উদ্ভাবন শক্তিশালী হচ্ছে।
উন্নত উৎপাদন, গবেষণা, উদ্যোগ এবং উচ্চমূল্যের কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগও তৈরি হচ্ছে। ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে এই সক্ষমতা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বিশ্বে নেতৃত্ব দেওয়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরতার ভিত্তি সেমিকন্ডাক্টর
চিপের নকশা ও উৎপাদন থেকে উন্নত প্যাকেজিং, যন্ত্রপাতি এবং উপকরণ পর্যন্ত সেমিকন্ডাক্টর মূল্য শৃঙ্খলের বিভিন্ন স্তরে দেশীয় সক্ষমতা গড়ে তুলছে ভারত।
আজ দেশীয় সক্ষমতা শক্তিশালী করার মাধ্যমে আগামী দিনের প্রযুক্তি গড়ে তোলার অবস্থান তৈরি করছে ভারত।
আত্মনির্ভরতার ভিত্তি গড়েছে বিশেষ মিশন
সেমিকন ১.০-এর মাধ্যমে ৭৬,০০০ কোটি টাকার বরাদ্দে ভারতের সেমিকন্ডাক্টর ব্যবস্থা গড়ে তোলার ভিত্তি তৈরি হয়েছে।
চিপের নকশা, উৎপাদন, প্যাকেজিং, পরীক্ষা, যন্ত্রপাতি, উপকরণ এবং দক্ষ মানবসম্পদ-সহ সম্পূর্ণ মূল্য শৃঙ্খলকে এই উদ্যোগের আওতায় আনা হয়েছে।
সেমিকন ২.০ এই ভিত্তিকে আরও বিস্তৃত করে বিশ্বমানের সেমিকন্ডাক্টর ব্যবস্থার নেতৃত্বের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। ২০২৬ সালের জুলাই মাসে ১,২৭,৫০০ কোটি টাকার বরাদ্দ অনুমোদিত হয়েছে।
সেমিকন ইন্ডিয়া ২.০-এর ছয়টি প্রধান স্তম্ভ হল চিপের নকশা, সেমিকন্ডাক্টর যন্ত্রপাতি ও উপকরণ, উৎপাদন কেন্দ্র, উন্নত প্যাকেজিং, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি।
এই সমন্বিত উদ্যোগ সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিস্থাপকতা বাড়াচ্ছে। দেশীয় মূল্য সংযোজন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভবিষ্যতের সেমিকন্ডাক্টর নেতৃত্বের জন্য ভারতের অবস্থানও শক্তিশালী হচ্ছে।
নীতি থেকে সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনে
ছয়টি রাজ্যে ১২টি সেমিকন্ডাক্টর প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। এই প্রকল্পগুলিতে বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি ১.৬৪ লাখ কোটি টাকার বেশি।
সিলিকন ও যৌগিক সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন কেন্দ্র, ডিসপ্লে উৎপাদন এবং উন্নত প্যাকেজিং কেন্দ্র এই প্রকল্পগুলির অন্তর্ভুক্ত।
ইতিমধ্যে তিনটি কেন্দ্র বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করেছে। সেমিকন্ডাক্টর নীতি থেকে উৎপাদনের পথে ভারতের অগ্রযাত্রার গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন এটি।
অটোমোবাইল, টেলিযোগাযোগ, মহাকাশ, বিদ্যুৎ-নির্ভর ইলেকট্রনিক্স এবং ভোক্তা ইলেকট্রনিক্সের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উপাদান সরবরাহ করবে এই কেন্দ্রগুলি।
সেমিকন্ডাক্টর ফ্যাব: কাঁচা সিলিকন ওয়েফারকে কার্যকর ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট ও মাইক্রোচিপে রূপান্তর করার উৎপাদন কেন্দ্র।
ডিসপ্লে উৎপাদন কেন্দ্র: ফোন, গাড়ি এবং বিভিন্ন বৈদ্যুতিন যন্ত্রের জন্য সমতল ও নমনীয় পর্দা তৈরি করার কেন্দ্র।
উন্নত প্যাকেজিং: সূক্ষ্ম চিপকে সুরক্ষিত রাখা, সংযোগ তৈরি এবং সুরক্ষা দেওয়ার প্রযুক্তি। এর ফলে চিপ দ্রুত কাজ করতে পারে এবং দীর্ঘদিন কার্যকর থাকে।
দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর নকশার সক্ষমতা গড়ে তোলা
ভবিষ্যতের সুদক্ষ মানবসম্পদের চাহিদা পূরণে সরকার সেমিকন্ডাক্টর প্রশিক্ষণে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।
চিপস টু স্টার্টআপ (C2S) উদ্যোগের আওতায়:
মোট ৩২০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইলেকট্রনিক ডিজাইন অটোমেশন (EDA) সরঞ্জাম দেওয়া হয়েছে।
মোট ৬৮,০০০-এরও বেশি শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
এর ফলে, উন্নত চিপ নকশার সুযোগ আরও বিস্তৃত হয়েছে।
ডিজাইন লিঙ্কড ইনসেনটিভ (DLI) স্কিমের আওতায় ২৪টি সেমিকন্ডাক্টর নকশা প্রকল্পকে আর্থিক সহায়তার জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ইডিএ সরঞ্জাম ব্যবহারের জন্য ১০৫টি স্টার্টআপ ও এমএসএমইকেও সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
ইলেকট্রনিক ডিজাইন অটোমেশন
ইডিএ সরঞ্জাম হল সেমিকন্ডাক্টর চিপের নকশা, অনুকরণ, যাচাই এবং উন্নয়নের জন্য ব্যবহৃত সফটওয়্যার ব্যবস্থা। জটিল চিপের নকশা পরিচালনা, উৎপাদনের আগে ত্রুটি শনাক্তকরণ এবং কর্মক্ষমতা, বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধিতে এই সরঞ্জাম গুরুত্বপূর্ণ। নকশার সময় ও ব্যয় কমানোর পাশাপাশি, উৎপাদনের ঝুঁকিও কমায় ইডিএ সরঞ্জাম। বিভিন্ন প্রয়োগের জন্য উন্নত চিপ দ্রুত তৈরি করা সম্ভব হয়। এ বছর এপ্রিল মাস পর্যন্ত ৭৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ২১১টি চিপের নকশা সম্পূর্ণ করেছে। দেশীয় চিপ নকশার সক্ষমতা বৃদ্ধির স্পষ্ট প্রতিফলন এই সাফল্যে। বিভিন্ন প্রযুক্তিগত স্তরে সাতটি চিপ সফলভাবে তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে ১২ ন্যানোমিটারের মতো উন্নত স্তরও রয়েছে। সেমিকন ২.০-এর মাধ্যমে সেমিকন্ডাক্টর আইপি, চিপ এবং সিস্টেমের নকশায় আরও সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশ্বে সেমিকন্ডাক্টর নকশার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসাবে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।
আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, সিঙ্গাপুর, নেদারল্যান্ডস, জার্মানি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে অংশীদারিত্ব প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং সেমিকন্ডাক্টর ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজকে আরও শক্তিশালী করছে।
সেমিকন ইন্ডিয়া ২০২৫-এ ৪৮টি দেশ ও অঞ্চল থেকে ৩৫০টিরও বেশি প্রদর্শক ও অংশগ্রহণকারী যোগ দিয়েছিলেন।
এই অনুষ্ঠানে ৩৫,০০০টি নিবন্ধন হয়েছে। প্রায় ৩০,০০০ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। অনলাইনে ২৫,০০০ দর্শক অনুষ্ঠানটি দেখেছেন।
ভারতের সেমিকন্ডাক্টর লক্ষ্যের প্রতি আন্তর্জাতিক আগ্রহের প্রতিফলন এই পরিসংখ্যানে রয়েছে।
পণ্য উন্নয়ন, পরিষেবা এবং সেমিকন্ডাক্টর দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ১২টি সমঝোতাপত্র স্বাক্ষরের ঘোষণা করা হয়েছে।
এই অংশীদারিত্ব ভারতীয় সংস্থাগুলিকে আন্তর্জাতিক সেমিকন্ডাক্টর মূল্য শৃঙ্খলের সঙ্গে যুক্ত করছে। দেশীয় সক্ষমতার বিকাশও দ্রুত হচ্ছে।
ইন্ডিয়াএআই মিশন: সার্বভৌম ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবস্থা গড়ে তোলা
প্রায় ১০,৩৭২ কোটি টাকা বরাদ্দে অনুমোদিত ইন্ডিয়াএআই মিশন গত এক বছরে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং ভারতীয় প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সক্ষমতা গড়ে তোলাই এই মিশনের লক্ষ্য। উদ্ভাবন, অর্থনৈতিক বৃদ্ধি এবং জনপরিষেবা প্রদানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে একটি কৌশলগত সক্ষমতা হিসাবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৃহৎ পরিসরে দেশীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কম্পিউটিং সক্ষমতা
এ বছর জুন পর্যন্ত ইন্ডিয়াএআই মিশনের আওতায় যৌথ কম্পিউটিং সক্ষমতা ৪৫,০০০-এর বেশি গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিটে (জিপিইউ) পৌঁছেছে। এ বছর আগস্ট পর্যন্ত ২৩৭টি প্রকল্প ভর্তুকিযুক্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কম্পিউটিং সুবিধা পেয়েছে। মোট ৯৩.১৮ লাখ জিপিইউ ঘণ্টার কম্পিউটিং সুবিধা দেওয়া হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল তৈরি, প্রশিক্ষণ, পরীক্ষা এবং গবেষণায় সাশ্রয়ী উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটিং-এর সুযোগ মিলছে। ভারতীয় গবেষক, স্টার্টআপ এবং উদ্ভাবকদের জন্য প্রবেশের বাধাও কমছে।
গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট
জিপিইউ হল বিশেষ ধরনের বৈদ্যুতিন প্রসেসর। গ্রাফিক্স, ছবি এবং বিপুল পরিমাণ তথ্যভিত্তিক কম্পিউটিং-এর কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে এটি ব্যবহৃত হয়।
কম্পিউটার, স্মার্টফোন, সার্ভার এবং বিভিন্ন ডিজিটাল যন্ত্রে জিপিইউ ব্যাপক ভাবে ব্যবহৃত হয়।
দেশীয় ভিত্তি মডেল
মোট ৫০৬টি আবেদন থেকে সরকার ২০টি দেশীয় ভিত্তি মডেল তৈরির প্রস্তাব বেছে নিয়েছে। এর মধ্যে ১২টি লার্জ মাল্টিমোডাল মডেল এবং আটটি ছোট ভাষা মডেল রয়েছে। ভারতীয় ভাষা, প্রয়োজন এবং প্রেক্ষাপটের উপযোগী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল তৈরির সক্ষমতা এতে আরও শক্তিশালী হচ্ছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ডিজিটাল ভিত্তি
এ বছর জুলাই মাস পর্যন্ত এআই কোশ-এ ১৪,০০০-এরও বেশি তথ্যভাণ্ডার এবং ৩৩১টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল রয়েছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমাধান তৈরি ও সম্প্রসারণের জন্য গবেষক, নির্মাতা এবং উদ্ভাবকরা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও উপকরণ ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছেন।
গবেষণাগার থেকে বাস্তব প্রশাসনে
২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত ইন্ডিয়াএআই উদ্যোগের মাধ্যমে ৬২টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নমুনা ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে।
সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলিতে ২০টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সমাধান কার্যকর হয়েছে।
ধারণা থেকে বাস্তবে ব্যবহারযোগ্য সমাধানের পথ আরও বিস্তৃত করতে ১১টি জাতীয় স্তরের হ্যাকাথন এবং উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।
উৎকর্ষ কেন্দ্রের মাধ্যমে উদ্ভাবন
২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে মোট ৫৮টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উৎকর্ষ কেন্দ্র অনুমোদিত হয়েছে।
মোট ১৩টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ইতিমধ্যে ২২টি উৎকর্ষ কেন্দ্র অনুমোদিত হয়েছে এবং কাজ শুরু করেছে।
নির্দিষ্ট ক্ষেত্রভিত্তিক গবেষণা, উদ্ভাবন এবং প্রয়োগের বিকাশে এই কেন্দ্রগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
দক্ষ মানবসম্পদ ও ডিপ-টেক ব্যবস্থা গড়ে তোলা
ন্যাশনাল মিশন অন ইন্টারডিসিপ্লিনারি সাইবার-ফিজিক্যাল সিস্টেমস (NM-ICPS)-এর আওতায় দেশের বিভিন্ন অগ্রণী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২৫টি প্রযুক্তি উদ্ভাবন কেন্দ্র গড়ে উঠেছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স, সাইবার নিরাপত্তা, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি এবং অন্যান্য নতুন প্রযুক্তির ক্ষেত্রে গবেষণা, দক্ষতা, স্টার্টআপ এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এই কেন্দ্রগুলি সহায়তা করছে।
দ্রুত প্রসারের পাশাপাশি, নির্ভরযোগ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
এবছর জুলাই মাস পর্যন্ত ইন্ডিয়াএআই মিশনের নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা স্তম্ভের আওতায় ১৩টি দায়িত্বশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে।
পক্ষপাত কমানো, মেশিন আনলার্নিং, ডিপফেক শনাক্তকরণ, ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রেখে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকি মূল্যায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এই প্রকল্পগুলির আওতায় রয়েছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরিকাঠামোর জন্য তথ্যকেন্দ্রের সক্ষমতা বৃদ্ধি
মুম্বই, নবি মুম্বই, চেন্নাই, হায়দরাবাদ, বেঙ্গালুরু, দিল্লি-এনসিআর এবং গুজরাট-সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় তথ্যকেন্দ্র রয়েছে।
২০২০ সালে তথ্যকেন্দ্রগুলির স্থাপিত সক্ষমতা ছিল ৩৭৫ মেগাওয়াট।
বর্তমানে এই সক্ষমতা বেড়ে প্রায় ১,৫৭৫ মেগাওয়াট হয়েছে।
অন্ধ্রপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তীসগড় এবং পশ্চিমবঙ্গেও নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে তথ্যকেন্দ্র শিল্পের সম্প্রসারণ হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি
স্ট্যানফোর্ড গ্লোবাল এআই ভাইব্র্যান্স রিপোর্ট ২০২৫-এ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রতিযোগিতা এবং প্রযুক্তিগত পরিবেশের নিরিখে ভারত বিশ্বে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। ২০২৫ সালে গিটহাবের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রকল্পে অবদানের নিরিখে ভারত ছিল বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অবদানকারী। দেশের নির্মাতা এবং উদ্ভাবনী সম্প্রদায়ের শক্তির প্রতিফলন এই পরিসংখ্যানে। এ বছর ফেব্রুয়ারিতে ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট অনুষ্ঠিত হয়েছে। মোট ১০০টিরও বেশি দেশ এবং ২০টি আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা এই সম্মেলনে অংশ নেন। প্রসঙ্গত, ৯২টি দেশ ও সংস্থা সম্মেলনের ঘোষণাপত্র গ্রহণ করেছে। ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬-এ ভারত প্যাক্স সিলিকা জোটে যোগ দিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য অংশীদারের সঙ্গে কাজ করে স্থিতিস্থাপক আন্তর্জাতিক সিলিকন সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালী করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য। দেশে আত্মনির্ভর, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং বিশ্বে প্রতিযোগিতামূলক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রচেষ্টার সঙ্গে এই উদ্যোগ সামঞ্জস্যপূর্ণ।
চিপ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় অগ্রগতির ধারা অব্যাহত
ভারতের সেমিকন্ডাক্টর কর্মসূচি এখন প্রকল্প অনুমোদন এবং নকশায় সহায়তার পর্যায় পেরিয়ে বাণিজ্যিক উৎপাদনের দিকে এগিয়েছে।
সেমিকন ২.০-তে যন্ত্রপাতি, উপকরণ, উন্নত প্যাকেজিং, গবেষণা, দেশীয় মেধাস্বত্ব এবং দক্ষ মানবসম্পদের উপর আরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ইন্ডিয়াএআই মিশনের মাধ্যমে যৌথ কম্পিউটিং সক্ষমতা তৈরি হচ্ছে। সরকার, শিল্প সংস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং স্টার্টআপের বিভিন্ন প্রয়োগে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
এই সমন্বিত উদ্যোগ ভারতের প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করছে। দায়িত্বশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রশাসনের পথকেও প্রশস্ত করছে। ধারাবাহিক উদ্ভাবনের ভিত্তি আরও মজবুত হচ্ছে।
তথ্যসূত্র
Ministry of Electronics & Information Technology
Ministry of Science and Technology
PIB Backgrounders
Click here to see PDF
****
SSS/SS.......
(रिलीज़ आईडी: 2299079)
आगंतुक पटल : 7