PIB Backgrounder
azadi ka amrit mahotsav

ভারতের ট্রাইব্যুনাল ব্যবস্থার সংস্কার

प्रविष्टि तिथि: 12 AUG 2026 2:29PM by PIB Kolkata

১২ আগস্ট, ২০২৬

 

ট্রাইব্যুনাল সংস্কার বিল, ২০২৬

 

ট্রাইব্যুনাল সংস্কার বিল, ২০২৬-এর প্রধান লক্ষ্য হল, আরও স্বাধীন, স্বচ্ছ এবং পেশাগতভাবে পরিচালিত একটি ট্রাইব্যুনাল ব্যবস্থা গড়ে তোলা। এই বিলে বিচার বিভাগের নেতৃত্বে একটি 'জাতীয় ট্রাইব্যুনাল কমিশন' গঠনের বিধান রয়েছে, যেটি ট্রাইব্যুনালের প্রার্থী নির্বাচন করবে এবং সেগুলির কাজকর্মের ওপর নজরদারি চালাবে। এর মূল উদ্দেশ্য জবাবদিহিতা বৃদ্ধি করা। ট্রাইব্যুনাল প্রশাসনের জন্য একটি সাধারণ প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরির মাধ্যমে নিয়োগ, মেয়াদের স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের উদ্বেগ কাটিয়ে উঠতে সাহায়তা করে। এটি মাদ্রাজ বার অ্যাসোসিয়েশন মামলায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিত নীতিসমূহ কার্যকর করে।

ভারতের ট্রাইব্যুনাল ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা

২০২৬ সালের আগস্টে সংসদ গৃহীত ট্রাইব্যুনাল সংস্কার বিল, ২০২৬-এর লক্ষ্য,  ট্রাইব্যুনাল ব্যবস্থাকে আরও দক্ষ, শাসনবিভাগ থেকে স্বাধীন এবং স্বচ্ছ করে তোলা।

বিলটি ট্রাইব্যুনালের স্বাধীনতা সম্পর্কিত সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন রায় অনুসরণ করে তৈরি করা হয়েছে। মাদ্রাজ বার অ্যাসোসিয়েশন বনাম ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া [(২০২৬) ২ এসসিসি ১] মামলায় সুপ্রিম কোর্ট ট্রাইব্যুনাল সংস্কার আইন, ২০২১-এর কিছু বিধান বাতিল ঘোষণা করে এবং একটি স্বাধীন জাতীয় ট্রাইব্যুনাল কমিশন গঠনের নির্দেশ দেয়। ২০২৬ সালের এই বিলে ২০২১ সালের আইনটি বাতিল করে একটি নতুন কাঠামো প্রবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে, যে ব্যবস্থা স্বাধীনতা ও জনগণের প্রতি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে।

আওতাভুক্ত ট্রাইব্যুনাল এবং পরিচালনা সংক্রান্ত আইন

এই বিলে প্রস্তাবিত পরিবর্তনসমূহ যে সকল ট্রাইব্যুনাল, আপিল ট্রাইব্যুনাল ও কর্তৃপক্ষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে, তাদের তালিকা ও সংশ্লিষ্ট আইনসমূহ নিচে উল্লেখ করা হলো:

 

ক্রমিক নং

ট্রাইব্যুনাল / আপিল ট্রাইব্যুনাল / কর্তৃপক্ষ

পরিচালনা সংক্রান্ত আইন

১.

শুল্ক, আবগারি ও পরিষেবা কর আপিল ট্রাইব্যুনাল

শুল্ক আইন, ১৯৬২ (১৯৬২-এর ৫২)

২.

আপিল ট্রাইব্যুনাল

চোরাচালানকারী ও বৈদেশিক মুদ্রা কারবারি (সম্পত্তি বাজেয়াপ্তকরণ) আইন, ১৯৭৬ (১৯৭৬-এর ১৩)

৩.

কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল

প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৮৫ (১৯৮৫-এর ১৩)

৪.

রাজ্য প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল

প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৮৫ (১৯৮৫-এর ১৩)

৫.

রেলওয়ে ক্লেইমস ট্রাইব্যুনাল

রেলওয়ে ক্লেইমস ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৮৭ (১৯৮৭-এর ৫৪)

৬.

সিকিউরিটিজ আপিল ট্রাইব্যুনাল

সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অব ইন্ডিয়া আইন, ১৯৯২ (১৯৯২-এর ১৫)

৭.

ঋণ পুনরুদ্ধার বিষয়ক ট্রাইব্যুনাল

ঋণ পুনরুদ্ধার এবং দেউলিয়া আইন, ১৯৯৩ (১৯৯৩-এর ৫১)

৮.

ঋণ পুনরুদ্ধার বিষয়ক আপিল ট্রাইব্যুনাল

ঋণ পুনরুদ্ধার এবং দেউলিয়া আইন, ১৯৯৩ (১৯৯৩-এর ৫১)

৯.

টেলিযোগাযোগ বিরোধ নিষ্পত্তি ও আপিল সংক্রান্ত ট্রাইব্যুনাল

ভারতের টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ আইন, ১৯৯৭ (১৯৯৭-এর ২৪)

১০.

ইলেকট্রিসিটি আপিল ট্রাইব্যুনাল

বিদ্যুৎ আইন, ২০০৩ (২০০৩-এর ৩৬)

১১.

সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক ট্রাইব্যুনাল

সশস্ত্র বাহিনী ট্রাইব্যুনাল আইন, ২০০৭ (২০০৭-এর ৫৫)

১২.

জাতীয় গ্রীন ট্রাইব্যুনাল

জাতীয় গ্রিন ট্রাইব্যুনাল আইন, ২০১০ (২০১০-এর ১৯)

১৩.

জাতীয় কোম্পানি আইন আপিল ট্রাইব্যুনাল

কোম্পানি আইন, ২০১৩ (২০১৩-এর ১৮)

১৪.

জাতীয় ভোক্তা বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন

ভোক্তা সুরক্ষা আইন, ২০১৯ (২০১৯-এর ৩৫)

১৫.

কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক গঠিত শিল্প ট্রাইব্যুনাল

শিল্প সম্পর্ক বিধিমালা, ২০২০ (২০২০-এর ৩৫)

১৬.

আয়কর আপিল ট্রাইব্যুনাল

আয়কর আইন, ২০২৫ (২০২৫-এর ৩০)

 

একটি নতুন জাতীয় ট্রাইব্যুনাল কমিশন

২০২৬ সালের বিলটির মূল লক্ষ্য, একটি নতুন 'জাতীয় ট্রাইব্যুনাল কমিশন' (NTC) গঠনের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনাল ব্যবস্থার স্বাধীনতা রক্ষা করা। বিচার বিভাগের উচ্চপদস্থ সদস্যদের প্রাধান্যযুক্ত এই কমিশনটি ২০২১ সালের ট্রাইব্যুনাল সংস্কার আইনের অধীনে থাকা কেন্দ্র সরকারের মূল নিয়োগ ও চাকরির শর্তাবলী নির্ধারণের ক্ষমতার স্থলাভিষিক্ত হবে।

কমিশনের গঠন

কমিশনটি নিম্নলিখিত সদস্যদের নিয়ে গঠিত হবে:

  • চেয়ারপার্সন: যিনি সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারক বা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ছিলেন।
  • চারজন সদস্য:
    • দুইজন বিচারবিভাগীয় সদস্য, যারা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি বা বিচারক ছিলেন।
    • দুইজন কারিগরি সদস্য, যাদের জনপ্রশাসন, অর্থ, আইন, হিসাবরক্ষণ, ব্যাংকিং, ব্যবস্থাপনা বা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে কমপক্ষে ২৫ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে।

কেন্দ্রীয় সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে চেয়ারপার্সন ও সদস্যদের নিয়োগ করবে, তবে চেয়ারপার্সন এবং বিচারবিভাগীয় সদস্য নিয়োগের পূর্বে ভারতের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শ করা বাধ্যতামূলক।

কমিশনের কার্যাবলী

২০২৬ সালের বিলে জাতীয় ট্রাইব্যুনাল কমিশনের প্রধান কাজগুলি এরকম:

  • নির্বাচন : 'অনুসন্ধান-সহ-বাছাই কমিটি'র মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারপার্সন ও সদস্যদের শূন্যপদ পূরণের নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা।
  • কার্যকারিতা পর্যালোচনা: ট্রাইব্যুনালের কর্মক্ষমতা তদারকি করা এবং কেন্দ্র সরকারের কাছে জমা দেওয়ার জন্য বার্ষিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করা।
  • অভিযোগের তদন্ত পরিচালনা: ট্রাইব্যুনাল সদস্যদের বিরুদ্ধে আসা অভিযোগের তদন্তের তত্ত্বাবধান করা।
  • তথ্য রক্ষণাবেক্ষণ: মোট ১৬টি ট্রাইব্যুনালের মামলা সংক্রান্ত তথ্যের আধার হিসাবে 'জাতীয় ট্রাইব্যুনাল ডাটা গ্রিড' পোর্টাল তৈরি ও পরিচালনা করা।

চাকরির মেয়াদ

  • কমিশনের চেয়ারপার্সন এবং সদস্যরা পাঁচ বছর অথবা সর্বোচ্চ ৭০ বছর বয়স পর্যন্ত (যেটি আগে হবে) দায়িত্ব পালন করবেন।
  • ট্রাইব্যুনালের সদস্যগণ পাঁচ বছর অথবা সর্বোচ্চ ৬৭ বছর বয়স পর্যন্ত দায়িত্বে থাকবেন।
  • এই পরিকাঠামোয় পুনঃনিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে, যেখানে প্রার্থীর পূর্ববর্তী সেবা ও পারফরম্যান্স বিবেচনা করা হবে।

নতুন সচিবালয়

জাতীয় ট্রাইব্যুনাল কমিশনকে প্রশাসনিক সহায়তা দিতে ভারত সরকারের একজন সচিবের নেতৃত্বে একটি সচিবালয় গঠিত হবে। কমিশনের চেয়ারপার্সনের প্রশাসনিক তত্ত্বাবধানে এটি পরিচালিত হবে। এর দায়িত্বসমূহ হল:

  • প্রার্থীদের মূল্যায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের তালিকাভুক্ত করা।
  • নির্বাচন কমিটির সুপারিশ তিন দিনের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঠানো।
  • প্রশাসনিক সহায়তা প্রদান ও নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করা।
  • কমিশনের কর্মকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ সম্বলিত বার্ষিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করে কেন্দ্র সরকারের কাছে পেশ করা।

অনুসন্ধান-সহ-বাছাই কমিটি

বিভিন্ন ট্রাইব্যুনালের চেয়ারপার্সন এবং সদস্যদের নির্বাচন প্রক্রিয়া 'অনুসন্ধান-সহ-বাছাই কমিটি'র মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।

কমিটির গঠন (Section 13 অনুযায়ী):

  • ট্রাইব্যুনাল চেয়ারপার্সন নির্বাচনের ক্ষেত্রে: কমিশনের চেয়ারপার্সন, কমিশনের একজন কারিগরি সদস্য, কমিশনের চেয়ারপার্সন কর্তৃক মনোনীত হাইকোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি, কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক মনোনীত একজন সচিব (রাজ্য প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের মুখ্য সচিব), মূল্যায়নকারী দুইজন তালিকাভুক্ত বিশেষজ্ঞ এবং কমিশনের সচিব (সদস্য সচিব)।
  • ট্রাইব্যুনাল সদস্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে: কমিশনের একজন বিচারবিভাগীয় সদস্য (কমিটি চেয়ার), কমিশনের কারিগরি সদস্য, হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারক, কেন্দ্র সরকার কর্তৃক মনোনীত সচিব (রাজ্য ট্রাইব্যুনালের ক্ষেত্রে মুখ্য সচিব), দুইজন বিশেষজ্ঞ এবং কমিশনের সচিব (সদস্য সচিব)।

কমিটির চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তমূলক ভোট (casting vote) থাকবে, তবে, সদস্য সচিব ও বিশেষজ্ঞদের কোনো ভোটাধিকার থাকবে না।

কমিটির কার্যক্রম:

  • প্রতিটি শূন্যপদের জন্য একজন উপযুক্ত প্রার্থী এবং ওয়েটিং লিস্টের জন্য একজন অতিরিক্ত প্রার্থীর নাম সুপারিশ করা।
  • পুনঃনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের পূর্ববর্তী কাজের মূল্যায়ন করা।
  • সচিবালয় তিন দিনের মধ্যে সুপারিশ পাঠাবে এবং সরকারকে তিন মাসের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
  • বিচার বিভাগের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নির্বাহী হস্তক্ষেপ হ্রাস পেয়ে বিচার বিভাগের প্রভাব বৃদ্ধি পাবে।

আর্থিক ও প্রশাসনিক স্বাধীনতা

এই বিলের সাহায্যে ট্রাইব্যুনালগুলিকে অধিক আর্থিক ও প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসন দেওয়া হয়েছে। ট্রাইব্যুনালগুলি তাদের প্রয়োজনীয় অর্থ, কর্মী ও পরিকাঠামোর চাহিদা নির্ধারণ করবে এবং সচিবালয় তা একত্র করে কমিশন দ্বারা মূল্যায়ন করাবে।

সংসদের অনুমোদনের পর কেন্দ্রীয় সরকার প্রয়োজনীয় অনুদান বরাদ্দ করবে। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ভারতের কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর-জেনারেল (CAG) কমিশনের হিসাব নিরীক্ষা করবেন এবং কেন্দ্র সরকার তা সংসদের উভয় কক্ষে পেশ করবে।

আরও স্বাধীন ট্রাইব্যুনাল ব্যবস্থার দিকে

ট্রাইব্যুনাল সংস্কার বিল, ২০২৬ ট্রাইব্যুনাল ব্যবস্থায় বিচার বিভাগীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংসদীয় তদারকির মাধ্যমে জনগণের কাছে জবাবদিহিতা স্থাপন করে।

এই বিলের অধীনে প্রস্তাবিত স্থায়ী কমিশন, বিচার বিভাগের নেতৃত্বাধীন নিয়োগ প্রক্রিয়া, বিশেষজ্ঞ দ্বারা মূল্যায়ন এবং পাঁচ বছরের সুনির্দিষ্ট মেয়াদ ট্রাইব্যুনালগুলির স্থায়িত্ব বাড়াবে। খণ্ডিত ও প্রশাসনিক নিয়মাবলী থেকে বেরিয়ে সুপ্রিম কোর্টের মাদ্রাজ বার অ্যাসোসিয়েশন রায়ের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এটি একটি স্বাধীন, স্বচ্ছ ও পেশাদার ট্রাইব্যুনাল পরিকাঠামো প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

তথ্যসূত্র:

 

https://sansad.in/ls

https://prsindia.org/billtrack/prs-products/the-tribunal-system-in-india

https://www.indiacode.nic.in/handle/123456789/16901?view_type=browse

Reforming India’s Tribunal System

 

********************

SSS/PK……


(रिलीज़ आईडी: 2298262) आगंतुक पटल : 16
इस विज्ञप्ति को इन भाषाओं में पढ़ें: English , हिन्दी , Bengali-TR , Gujarati , Tamil , Malayalam