শিল্পওবাণিজ্যমন্ত্রক
azadi ka amrit mahotsav

জয়পুরে ব্রিকস বাণিজ্য মন্ত্রীদের সফল বৈঠক

प्रविष्टि तिथि: 07 AUG 2026 8:41PM by PIB Kolkata

নতুন দিল্লি, ৭ অগাস্ট ২০২৬

 

 

ভারতের সভাপতিত্বে রাজস্থানের জয়পুরে আজ ব্রিকস বাণিজ্য মন্ত্রীদের ১৬তম বৈঠক আজ সম্পন্ন হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী শ্রী পীযূষ গোয়েল এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন; বৈঠকে কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্প প্রতিমন্ত্রী শ্রী জিতিন প্রসাদ এবং বাণিজ্য সচিব শ্রী রাজেশ আগরওয়ালও উপস্থিত ছিলেন। "সুস্থিতিশীলতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও সুস্থায়িত্বের লক্ষ্যে নির্মাণ" – এই মূল বিষয়কে সামনে রেখে আয়োজিত এই বৈঠকের প্রাক্কালে ৩ ও ৪ অগাস্ট ২০২৬ তারিখে নতুন দিল্লিতে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য বিষয়ক ব্রিকস কন্ট্যাক্ট গ্রুপের তৃতীয় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

 

এই বৈঠকে ব্রিকস সদস্যভুক্ত দেশগুলির বাণিজ্যমন্ত্রী, উপ-মন্ত্রী, প্রতিনিধি দলের প্রধান এবং আধিকারিকরা একত্রিত হয়েছিলেন। বিশিষ্ট অতিথিদের মধ্যে ছিলেন ব্রাজিলের উন্নয়ন, শিল্প, বাণিজ্য ও পরিষেবা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মাননীয় মার্সিও ফার্নান্দো এলিয়াস রোসা; চিনের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রতিনিধি ও বাণিজ্য উপ-মন্ত্রী মাননীয় লি চেংগাং; মিশরের বিনিয়োগ ও বৈদেশিক বাণিজ্যমন্ত্রী ডঃ মোহাম্মদ ফরিদ সালেহ; ইথিওপিয়ার রাষ্ট্রদূত মাননীয় মোলালিন আসফাও আয়ানা; ইন্দোনেশিয়ার বাণিজ্য মন্ত্রী ডঃ বুদি সান্তোসো; ইরানের বাণিজ্য ও শিল্প বিষয়ক প্রথম উপ-মন্ত্রী ডঃ মহম্মদ সাদেক মোফাত্তেহ; রাশিয়ার অর্থনৈতিক উন্নয়ন বিষয়ক উপ-মন্ত্রী মাননীয় ভ্লাদিমির ইভজেনিভিচ ইলিচেভ; দক্ষিণ আফ্রিকার বাণিজ্য, শিল্প ও প্রতিযোগিতা বিষয়ক মন্ত্রী মাননীয় পার্কস ফ্র্যাঙ্কলিন এমফো টাউ এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বৈদেশিক বাণিজ্যমন্ত্রী ডঃ থানি বিন আহমেদ আল জেইউদি।

 

এর আগে দিনের শুরুতে, আগত মন্ত্রী ও প্রতিনিধিরা জয়পুরের ঐতিহাসিক সিটি প্যালেস পরিদর্শন করেন এবং ভারতের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও রাজস্থানের প্রাণবন্ত কারুশিল্পের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

 

বাণিজ্য সচিবের প্রারম্ভিক বক্তব্যের মধ্য দিয়ে মন্ত্রী পর্যায়ের এই বৈঠক শুরু হয়; এরপর বাণিজ্য ও শিল্প প্রতিমন্ত্রী স্বাগত ভাষণ এবং কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী মূল ভাষণ প্রদান করেন। ভারতের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর দূরদর্শী চিন্তাধারাকে পাথেয় করে, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী ভারতের কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা এবং খাদ্য ও জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে জোরালো অবস্থানের বার্তা দেন। তিনি বলেন যে, বিশ্ব অর্থনীতিতে ব্রিকস দেশগুলির অংশীদারিত্ব ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এই গোষ্ঠীটি নমনীয়তা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও সুস্থায়ী উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে। তিনি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থাকে কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে একটি সংস্কারমুখী, উন্নয়ন-কেন্দ্রিক, সদস্য-চালিত এবং সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত-ভিত্তিক বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থার বিষয়ে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি পুনর্ব্যক্ত করেন, যেখানে উন্নয়নশীল দেশগুলির জন্য বিশেষ ও পৃথক সুবিধা’ম বজায় রাখা এবং একটি পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর দ্বি-স্তরীয় বাধ্যতামূলক বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা পুনর্বহাল করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। মন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন যে, ‘মোস্ট-ফেভারড-নেশন’ বা ‘সর্বাধিক সুবিধাপ্রাপ্ত দেশ’ নীতি এবং ‘বিশেষ ও পৃথক সুবিধা’—এই দুটি বিষয়ই একটি সুষ্ঠু, অন্তর্ভুক্তিমূলক, বৈষম্যহীন ও নিয়ম-ভিত্তিক ব্যবস্থার মূল ভিত্তি; আর সংস্কার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করতে হবে, দুর্বল করা যাবে না। তিনি ব্রিকস-এর সভাপতিত্বকালে ভারতের অগ্রাধিকারের বিষয়গুলি তুলে ধরেন। এগুলি হল: বহুপক্ষীয় বাণিজ্য ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা; সুস্থিতিশীল ও বৈচিত্র্যময় আন্তর্জাতিক মূল্য-শৃঙ্খল গড়ে তোলা; এমএসএমই-গুলির আন্তর্জাতিকীকরণ ও সেগুলির বাণিজ্য-অর্থায়নের সুযোগ নিশ্চিত করা; এবং সীমান্ত পেরিয়ে ডিজিটাল পরিষেবার অবাধ প্রবাহ বজায় রাখা।

 

তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, ব্রিকস-ভুক্ত দেশগুলির পারস্পরিক বাণিজ্যের সম্ভাবনা মানবকল্যাণ, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ, নারী-নেতৃত্বাধীন ব্যবসা এবং উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশগুলির তরুণ প্রজন্মের প্রাণশক্তির মধ্যে নিহিত রয়েছে।

 

এই বৈঠক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য একটি বলিষ্ঠ পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করেছে। মন্ত্রীরা 'জয়পুর কনসেনশাস'-এর মাধ্যমে 'ব্রিকস ইনভয়েস ডিসকাউন্টিং মেকানিজম' পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নেন। এছাড়া, রপ্তানিমুখী এমএসএমই-গুলির ঋণযোগ্যতা মূল্যায়নের জন্য নির্দেশিকা গ্রহণ করা হয়, যাতে কোনও প্রতিষ্ঠানকে তার সম্পদ বা জামানতের পরিবর্তে নগদ প্রবাহের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা যায়। এই পদক্ষেপগুলি বিশ্ববাণিজ্যে প্রায় ২.৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থায়নের ঘাটতি মোকাবিলায় সরাসরি ভূমিকা নিয়ে থাকে। 

 

সদস্য দেশগুলির মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ ও ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য প্রসারের চেষ্টার পাশাপাশি, এই ফলাফলগুলি পরিষেবা ক্ষেত্র এবং মূল্য-শৃঙ্খলকে ব্রিকস সহযোগিতার আগামী দশকের কেন্দ্রবিন্দুতে স্থাপন করেছে।

 

আরেকটি উল্লেখযোগ্য ফলাফল হল, 'ব্রিকস অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব কৌশল ২০৩০' চূড়ান্ত করার পথে অগ্রগতি। এই কৌশলের আওতাভুক্ত বিষয়গুলির মধ্যে রয়েছে – বহুপক্ষীয় বাণিজ্য ব্যবস্থা, পরিষেবা বাণিজ্য, ডিজিটাল অর্থনীতি, শিল্প, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, আর্থিক সহযোগিতা এবং সুস্থায়ী উন্নয়ন। মন্ত্রীরা এই কৌশল এবং এর অগ্রাধিকারমূলক বিষয়গুল অনুমোদনের জন্য ব্রিকস নেতাদের কাছে পেশ করতে সম্মত হয়েছেন।

 

ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্বের অধীনে অনুষ্ঠিত ১৬তম ব্রিকস বাণিজ্য মন্ত্রীদের বৈঠকটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এটি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা বা ডব্লিউটিও-কে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি উন্মুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক, স্বচ্ছ, ন্যায়সঙ্গত এবং নিয়ম-ভিত্তিক বহুপক্ষীয় বাণিজ্য ব্যবস্থার প্রতি ভারতের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। কৃষক ও ক্ষুদ্র উদ্যোগের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে গৃহীত এই বৈঠকের ফলাফলগুলো ভারতের 'বিকশিত ভারত @ ২০৪৭' ভিশন এবং উদীয়মান অর্থনীতিগুলির মধ্যে যৌথ সমৃদ্ধির ভবিষ্যতে ভূমিকা পালন করবে।

 

 

 

SC/MP/AS


(रिलीज़ आईडी: 2296471) आगंतुक पटल : 2
इस विज्ञप्ति को इन भाषाओं में पढ़ें: English , हिन्दी , Malayalam