কয়লামন্ত্রক
কয়লা ক্ষেত্রে সংস্কার
प्रविष्टि तिथि:
05 AUG 2026 1:58PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ৫ অগাস্ট ২০২৬
গত পাঁচ বছরে, সরকার কয়লা বরাদ্দ ও উত্তোলনের প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, দক্ষ এবং বিজ্ঞানসম্মত করে তোলার লক্ষ্যে ধারাবাহিক কাঠামোগত ও পদ্ধতিগত সংস্কার সাধন করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হল, সরাসরি বরাদ্দের পরিবর্তে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতামূলক নিলামের মাধ্যমে বরাদ্দ ব্যবস্থা চালু
করা এবং ২০২০ সালে বাণিজ্যিক কয়লা উত্তোলনের সুযোগ উন্মুক্ত করা (যেখানে কয়লা বিক্রি বা এর চূড়ান্ত ব্যবহারের ওপর কোনও বিধিনিষেধ রাখা হয়নি)।
১. স্বচ্ছতা ও বাজার-ভিত্তিক বরাদ্দের লক্ষ্যে প্রধান সংস্কারসমূহ:
ক) বাণিজ্যিক কয়লা উত্তোলন: কোনও কারিগরি বা আর্থিক যোগ্যতার শর্ত ছাড়াই বাণিজ্যিক কয়লা উত্তোলনের সুযোগ উন্মুক্ত করা হয়েছে এবং 'অটোমেটিক রুট'-এর আওতায় ১০০% প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
খ) রাজস্ব-অংশীদারিত্ব মডেল: নিলাম ব্যবস্থায় শতাংশ-ভিত্তিক রাজস্ব-অংশীদারিত্ব মডেল প্রবর্তন করা হয়েছে; এর পাশাপাশি স্বচ্ছ ও বাজার-সংশ্লিষ্ট মূল্য নির্ধারণের জন্য 'ন্যাশনাল কোল ইনডেক্স' বা জাতীয় কয়লা সূচক চালু করা হয়েছে।
গ)'সিঙ্গেল উইন্ডো মোড অ্যাগনোস্টিক' নিলাম: কোল ইন্ডিয়া লিমিটেডের 'নন-লিঙ্কেজ' কয়লা বিক্রির জন্য একটি একক বা 'সিঙ্গেল উইন্ডো' ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যা বাজারের অসামঞ্জস্য দূর করে এবং ক্রেতাদের মধ্যে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করে।
ঘ) SHAKTI নীতির সরলীকরণ: কয়লা সংযোগ বা 'লিঙ্কেজ' বরাদ্দ প্রক্রিয়াকে দুটি 'উইন্ডো' বা ভাগে করা হয়েছে। 'উইন্ডো ১'-এ নির্ধারিত মূল্যে এবং 'উইন্ডো ২'-এ নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি প্রিমিয়াম দরে কয়লা পাওয়া যাবে। এর ফলে গ্রাহকরা তাদের পিএলএফ বা প্ল্যান্ট লোড ফ্যাক্টরের প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী ১০০% পর্যন্ত কয়লা সংগ্রহ করতে পারবেন।
ঙ) CoalSETU উইন্ডো: 'নন-রেগুলেটেড সেক্টর' লিঙ্কেজ নিলাম নীতির অধীনে এই উইন্ডোটি চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে চূড়ান্ত ব্যবহারের কোনও বিধিনিষেধ ছাড়াই নিলাম-ভিত্তিক সংযোগ সুবিধা পাওয়া যায়, যা নিজস্ব ব্যবহার, কয়লা ধৌতকরণ বা রপ্তানির ক্ষেত্রে পূর্ণ নমনীয়তা প্রদান করে থাকে।
২. দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ব্যবসার সরলীকরণের জন্য সংস্কার:
ক) একক জানালা ছাড়পত্র ব্যবস্থা: খনি দ্রুত চালু করার জন্য পরিবেশ ২.০ পোর্টালের মাধ্যমে এটির সূচনা করা হয়েছে।
খ) অনুসন্ধান: ৪৪টি বেসরকারি সংস্থাকে স্বীকৃত অনুসন্ধানকারী সংস্থা (এপিএ) হিসেবে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে, যার ফলে অনুসন্ধান লাইসেন্সের প্রয়োজনীয়তা দূর হয়েছে। ভূতাত্ত্বিক প্রতিবেদন অনুমোদনের প্রক্রিয়াও সরল করা হয়েছে।
গ) বিধিবদ্ধ সংশোধনী: কয়লা কোম্পানির বোর্ডগুলিকে খনি খোলার অনুমতি দেওয়ার ক্ষমতা প্রদানের জন্য কয়লাখনি নিয়ন্ত্রণ বিধি সংশোধন করা হয়েছে। এছাড়াও, ১৯৫৭ সালের এমএমডিআর আইনের অধীনে কোকিং কয়লাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং কৌশলগত খনিজ হিসেবে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে, যার ফলে কোকিং কয়লা প্রকল্পের জন্য পরিবেশগত ছাড়পত্র এবং বন ছাড়পত্র প্রক্রিয়া দ্রুততর হয়েছে।
ঘ) খনি ডেভেলপার ও অপারেটর মোড (এমডিও) পদ্ধতি: সরকার কয়লা খনির জন্য খনি ডেভেলপার ও অপারেটর পদ্ধতি চালু করেছে এবং সম্পদ আহরণ সর্বাধিক করার জন্য একটি রাজস্ব-ভাগাভাগি মডেলের অধীনে বন্ধ/পরিত্যক্ত খনিগুলিও ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছে।
ঙ) কয়লা ব্লক উন্নয়ন ও উৎপাদন চুক্তিতে কার্যসম্পাদন জামানত প্রদানের একটি গ্রহণযোগ্য মাধ্যম হিসেবে বিমা জামানত বন্ড অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে ব্যাঙ্ক গ্যারান্টির উপর নির্ভরতা কমবে, আটকে থাকা কার্যকরী মূলধন মুক্ত হবে এবং অংশগ্রহণ প্রসারিত হবে।
প্রযুক্তি গ্রহণ এবং পরিচ্ছন্ন কয়লা সংক্রান্ত উদ্যোগের মাধ্যমে কয়লা-সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাকে আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে:
১. কয়লা ধৌতকরণ: 'মিশন কোকিং কোল'-এর আওতায়, সরকার ২০৩০ অর্থ বছরের মধ্যে দেশের কয়লা ধৌতকরণ সক্ষমতা ৫৮ মিলিয়ন টনে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
২. ডিজিটাল খনি পর্যবেক্ষণ: কয়লা উৎপাদন, সরবরাহ, মজুত এবং পরিবহনের রিয়েল-টাইম বা তাৎক্ষণিক পর্যবেক্ষণের জন্য কয়লা মন্ত্রক 'কয়লা শক্তি ড্যাশবোর্ড' চালু করেছে। এছাড়া, অননুমোদিত খনির কার্যকলাপ সম্পর্কে নাগরিকদের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের জন্য জাতীয় পর্যায়ে 'খনন প্রহরী' মোবাইল অ্যাপ এবং সিএমএসএমএস ওয়েব অ্যাপ চালু করা হয়েছে।
৩. কয়লা গ্যাসীকরণ ও ইউসিজি: ভূপৃষ্ঠস্থ কয়লা বা লিগনাইট গ্যাসীকরণকে উৎসাহিত করতে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০ মিলিয়ন টন গ্যাসীকরণ সক্ষমতার লক্ষ্য পূরণের জন্য সরকার দুটি বড় প্রকল্প অনুমোদন করেছে। এগুলোর জন্য যথাক্রমে ৮,৫০০ কোটি টাকা (যার আওতায় ইতিমধ্যে ৮টি প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে) এবং ৩৭,৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
৪. নবীকরণনযোগ্য শক্তি ও কার্বন ক্যাপচার: কোল ইন্ডিয়া নবীকরণযোগ্য শক্তির ক্ষেত্রে একটি পর্যায়ক্রমিক কর্ম পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর আওতায় ২০২৭-২৮ অর্থবছরের মধ্যে ৩ গিগাওয়াট এবং ২০২৯-৩০ অর্থ বছরের মধ্যে ৯.৫ গিগাওয়াট 'নেট-জিরো' নবীকরণযোগ্য শক্তি সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে এবং শিল্পক্ষেত্রের অগ্রগতিতে সহায়তা করার ক্ষেত্রে কয়লা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে।
এছাড়াও, সরকার কয়লা উত্তোলনের ক্ষেত্রে পরিবেশগত স্থায়িত্ব বজায় রাখতে বৃক্ষরোপণ বা জৈব-পুনরুদ্ধার, ইকোপার্ক তৈরি এবং খনির জল ব্যবহারের মতো বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রচলিত ড্রিলিং পদ্ধতির পরিবর্তে বিস্ফোরণ-মুক্ত খনন প্রযুক্তি (যেমন—সারফেস মাইনার) ব্যাপকভাবে গ্রহণ করা হচ্ছে।
ভারতে অভ্যন্তরীণ কয়লা উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে; ২০১৯-২০ সালে এই উৎপাদনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৭৩১ মিলিয়ন টন, যা পরবর্তীকালে টানা দুই বছর ১ বিলিয়ন টনের গণ্ডি অতিক্রম করেছে।২০২৪-২৫ অর্থ বছরে ১০৪৭.৫২ মিলিয়ন টন এবং ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে ১০৩৯ মিলিয়ন টন কয়লা উত্তোলিত হয়।
রেল, সড়ক, উপকূলীয় নৌ-পরিবহন এবং অভ্যন্তরীণ জলপথের সমন্বয়ে একটি প্রযুক্তি-চালিত ও সাশ্রয়ী 'মাল্টি-মোডাল লজিস্টিকস ইকোসিস্টেম' গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার একটি 'ইন্টিগ্রেটেড কোল লজিস্টিকস প্ল্যান' (সুসংহত কয়লা পরিবহন ও সরবরাহ পরিকল্পনা) চালু করেছে। মোট ১৩৯টি 'ফার্স্ট মাইল কানেক্টিভিটি' প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, যার সম্মিলিত সক্ষমতা প্রায় ১,৩১৯ মিলিয়ন টন; এর মধ্যে ৭২টি প্রকল্প (সক্ষমতা প্রায় ৫৮৯ মিলিয়ন টন) ইতিমধ্যেই চালু করা হয়েছে।
আজ লোকসভায় এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে কেন্দ্রীয় কয়লা ও খনি প্রতিমন্ত্রী শ্রী সতীশ চন্দ্র দুবে এই তথ্য জানিয়েছেন।
SC/MP/NS….
(रिलीज़ आईडी: 2294955)
आगंतुक पटल : 6