PIB Backgrounder
পিএম বিদ্যালক্ষ্মী প্রকল্প
ভারতে উচ্চশিক্ষায় আর্থিক অন্তর্ভুক্তির নতুন উদ্যোগ
प्रविष्टि तिथि:
29 JUL 2026 1:34PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ২৯ জুলাই, ২০২৬
কেন্দ্রীয় সরকারের পিএম বিদ্যালক্ষ্মী প্রকল্প আর্থিক অসুবিধার কারণে উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য চালু হয়েছে। এই প্রকল্পে দেশের নির্ধারিত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মেধার ভিত্তিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা জামানত ও গ্যারান্টার ছাড়াই শিক্ষা ঋণ পাবেন। পারিবারিক আয়ের ভিত্তিতে সুদের ভর্তুকিও দেওয়া হবে।
উচ্চশিক্ষায় আর্থিক বাধা দূর করার উদ্যোগ
উচ্চশিক্ষায় ভর্তির হার বাড়লেও অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী আর্থিক কারণে আইআইটি, আইআইএম-সহ শীর্ষ প্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ পান না। ২০২৪ সালের ৬ নভেম্বর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা অনুমোদিত এই প্রকল্প সেই বাধা দূর করতে চালু হয়েছে। পুরো আবেদন প্রক্রিয়া অনলাইন, সহজ ও স্বচ্ছ।
প্রকল্পের প্রধান সুবিধা
জামানত ও গ্যারান্টার ছাড়া শিক্ষা ঋণ।
মোট ১,৪২৫টি সরকারি ও বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান এই প্রকল্পের আওতায়।
মোট ৭.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণে কেন্দ্রীয় সরকারের ৭৫ শতাংশ ঋণ গ্যারান্টি।
বার্ষিক পারিবারিক আয় ৮ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হলে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণে ৩ শতাংশ সুদের ভর্তুকি।
মোট ৪.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বার্ষিক আয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বিদ্যমান পূর্ণ সুদ ভর্তুকির সুবিধা বহাল থাকবে।
ম্যানেজমেন্ট কোটা ও এনআরআই কোটায় ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা এই সুবিধা পাবেন না।
এই প্রকল্পের লক্ষ্য, আর্থিক সংকট যেন কোনও মেধাবী শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার পথে বাধা না হয় এবং জাতীয় শিক্ষা নীতি ২০২০ ও সুস্থায়ী উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG-4)-এর উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করা।
জামানত ও গ্যারান্টার ছাড়া শিক্ষা ঋণ
পিএম বিদ্যালক্ষ্মী প্রকল্পে নির্ধারিত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (QHEI) মেধার ভিত্তিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা জামানত ও গ্যারান্টার ছাড়া শিক্ষা ঋণ পেতে পারেন। ঋণের সর্বোচ্চ সীমা নির্দিষ্ট নয়। কোর্স ফি, হোস্টেল, মেস, অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ, ল্যাপটপ এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের ভিত্তিতে ঋণের পরিমাণ নির্ধারিত হবে। সব আয়ের শ্রেণীর শিক্ষার্থীরাই আবেদন করতে পারবেন।
মোট ৭.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণে কেন্দ্র সরকার ৭৫ শতাংশ ঋণ গ্যারান্টি দিচ্ছে, ফলে ব্যাংকগুলির ঝুঁকি কমছে এবং ঋণ পাওয়া সহজ হচ্ছে।
এই প্রকল্পে শিক্ষা ঋণের সুদের হার সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ইবিএলআর (EBLR) + ০.৫ শতাংশের বেশি হবে না। ঋণ পরিশোধের সময়সীমা ১৫ বছর পর্যন্ত। এর সঙ্গে কোর্সের সময়কাল এবং অতিরিক্ত এক বছরের স্থগিত সময় যুক্ত থাকবে। দেশের সব ডিগ্রি ও ডিপ্লোমা কোর্সের জন্য এই ঋণ পাওয়া যাবে। তফসিলি ব্যাংক, আঞ্চলিক গ্রামীণ ব্যাংক এবং অংশগ্রহণকারী সমবায় ব্যাংক এই ঋণ দেবে।
সুদের ভর্তুকি
পিএম বিদ্যালক্ষ্মী প্রকল্প পিএম-ইউএসপি সিএসআইএস (PM-USP CSIS)-এর পরিপূরক হিসাবে কাজ করে।
বার্ষিক পারিবারিক আয় ৪.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হলে নির্ধারিত প্রযুক্তিগত ও পেশাগত কোর্সে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত শিক্ষা ঋণে স্থগিত সময়ে ১০০ শতাংশ সুদের ভর্তুকি মিলবে।
বার্ষিক পারিবারিক আয় ৮ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হলে নির্ধারিত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণে স্থগিত সময়ে ৩ শতাংশ সুদের ভর্তুকি দেওয়া হবে।
ঋণের পরিমাণ ১০ লক্ষ টাকার বেশি হলে ভর্তুকি ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণের অংশেই প্রযোজ্য হবে।
কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের অন্য কোনও বৃত্তি, সুদের ভর্তুকি বা ফি ফেরত প্রকল্পের সুবিধাভোগীরা এই প্রকল্পে সুদের ভর্তুকি পাবেন না।
প্রতি বছর সর্বাধিক ১ লক্ষ শিক্ষার্থী ৩ শতাংশ সুদের ভর্তুকির সুবিধা পাবেন। তবে, সিএসআইএস-এর ক্ষেত্রে এমন কোনও সীমা নেই।
সাশ্রয়ী সুদে শিক্ষা ঋণ
পিএম বিদ্যালক্ষ্মী প্রকল্পে শিক্ষা ঋণের সুদের হার সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ইবিএলআর + ০.৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ। পড়াশোনা এবং স্থগিত সময়ে সুদ পরিশোধ করলে ব্যাংক অতিরিক্ত ১ শতাংশ পর্যন্ত সুদে ছাড় দিতে পারে। আয়কর আইনের ৮০ই অনুযায়ী সুদে কর ছাড়ের সুবিধাও রয়েছে।
সুদের ভর্তুকি ও ঋণ গ্যারান্টির সুবিধা একবারই পাওয়া যাবে। ২০২৪-২৫ থেকে ২০৩০-৩১ পর্যন্ত এই প্রকল্পের জন্য মোট ৩,৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। এই সময়ে ৭ লক্ষ নতুন শিক্ষার্থী সুদের ভর্তুকির সুবিধা পাবেন বলে অনুমান।
শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা
নির্ধারিত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মেধার ভিত্তিতে ভর্তি হতে হবে।
সব ডিগ্রি ও ডিপ্লোমা কোর্স এই প্রকল্পের আওতায়।
ঋণ পরিশোধের সময়সীমা ১৫ বছর (কোর্সের সময় ও অতিরিক্ত এক বছরের স্থগিত সময় বাদে)।
আধার দিয়ে নথিভুক্ত হতে হবে এবং পড়াশোনায় সন্তোষজনক ফল বজায় রাখতে হবে।
অতিরিক্ত শর্ত
মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দিলে বা শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে বহিষ্কৃত হলে সুবিধা মিলবে না।
দ্বিতীয় বছর থেকে সুদের ভর্তুকি পেতে সন্তোষজনক শিক্ষাগত ফল বজায় রাখতে হবে।
সুদের ভর্তুকি ও ঋণ গ্যারান্টির সুবিধা একবারই নেওয়া যাবে।
উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যোগ্যতা
এনআইআরএফ-এর সর্বশেষ তালিকার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে -
সামগ্রিক, বিভাগভিত্তিক বা বিষয়ভিত্তিক তালিকার শীর্ষ ১০০টি প্রতিষ্ঠান।
রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের শীর্ষ ২০০টি প্রতিষ্ঠান।
কেন্দ্র সরকারের অধীন সব উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
বিদেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভারতীয় ক্যাম্পাস বা বিদেশে অবস্থিত ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাস এই প্রকল্পের আওতায় নয়।
বর্তমানে ১,৪২৫টি প্রতিষ্ঠান এই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত।
সুবিধা পাওয়ার পদ্ধতি
পিএম বিদ্যালক্ষ্মী পোর্টালের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা -
শিক্ষা ঋণের আবেদন,
ব্যাংক নির্বাচন,
আবেদনের অগ্রগতি দেখা,
সুদের ভর্তুকির আবেদন,
অনলাইন প্রক্রিয়াকরণ ও অভিযোগ জানাতে পারবেন।
পিএম বিদ্যালক্ষ্মী ডিজিটাল রুপি অ্যাপ
ঋণ মঞ্জুর ও বিতরণের পর যোগ্য শিক্ষার্থীদের সুদের ভর্তুকির অর্থ পিএম বিদ্যালক্ষ্মী ডিজিটাল রুপি (CBDC) ওয়ালেটে জমা হয়। পরে সেই অর্থ শিক্ষা ঋণ হিসাবে সমন্বয় করা হয়।
২২ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত -
৩৫,৭৭৭টি সক্রিয় ওয়ালেটের মাধ্যমে ৫৭.৬৬ কোটি টাকা ভর্তুকি বিতরণ হয়েছে।
২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ২০২৪-২৫ সালের ৪,১৪,৮৪৪টি দাবির বিপরীতে ৮৯২.৮১ কোটি টাকা মঞ্জুর হয়েছে।
প্রকল্পের প্রভাব
পিএম বিদ্যালক্ষ্মী একটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও স্বচ্ছ শিক্ষা ঋণ ব্যবস্থা।
২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে
সব শিক্ষা ঋণ প্রকল্প মিলিয়ে ৬,৪৫,৫১৪টি আবেদন জমা পড়েছে।
এর মধ্যে ১,১০,৬৬৭টি আবেদন পিএম বিদ্যালক্ষ্মী প্রকল্পে। বস্তুত,৭০,৮৫২টি ঋণ মঞ্জুর হয়েছে, ৬৭,৭২৮টি ঋণের অর্থ ইতিমধ্যেই বিতরণ করা হয়েছে।
লিঙ্গভিত্তিক অন্তর্ভুক্তি
পিএম বিদ্যালক্ষ্মী প্রকল্পে যোগ্য সব মেধাবী শিক্ষার্থী, নারী, পুরুষ ও তৃতীয় লিঙ্গ নির্বিশেষে শিক্ষা ঋণের সুবিধা পান। এর ফলে, উচ্চশিক্ষায় সমান সুযোগ তৈরি হচ্ছে এবং কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাও বাড়ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ৩,৬৮,৭৪২ জন পুরুষ ও ২,৭৬,৭৬৪ জন মহিলা ঋণের আবেদন করেছেন। ২,০৩,৪৩৮ জন পুরুষ এবং ১,৫৮,৬২৯ জন মহিলা ঋণ পেয়েছেন।
আর্থিকভাবে দুর্বল ও পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের সহায়তা
অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় সুযোগ বাড়াতে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল শ্রেণী (EWS), ওবিসি, তফসিলি জাতি, তফসিলি জনজাতি, প্রতিবন্ধীসহ বিভিন্ন শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা এই প্রকল্পে আবেদন করেছেন। এর ফলে, উচ্চশিক্ষায় আর্থিক বাধা কমছে এবং সমান সুযোগ নিশ্চিত হচ্ছে।
উচ্চশিক্ষায় সমান সুযোগের পথে বড় পদক্ষেপ
পিএম বিদ্যালক্ষ্মী প্রকল্প জামানত ও গ্যারান্টার ছাড়া শিক্ষা ঋণ এবং সুদের ভর্তুকির মাধ্যমে মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার পথ সহজ করছে। এই উদ্যোগ জাতীয় শিক্ষা নীতি ২০২০, সুস্থায়ী উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্য পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
****
তথ্যসূত্র
- Ministry of Electronics and Information Technology (MeitY)
https://www.myscheme.gov.in/schemes/pmvs
- United Nations Department of Economic and Social Affairs
https://sdgs.un.org/goals/goal4#targets_and_indicators
- Press Information Bureau
https://www.pib.gov.in/PressNoteDetails.aspx?NoteId=154950&ModuleId=3®=48&lang=2
- NITI Aayog
https://www.niti.gov.in/sites/default/files/2025-08/india-voluntary-national-review.pdf
- Ministry of Educatio
https://cdnbbsr.s3waas.gov.in/s392049debbe566ca5782a3045cf300a3c/uploads/2025/06/202506041473712372.pdf
https://cdnbbsr.s3waas.gov.in/s392049debbe566ca5782a3045cf300a3c/uploads/2026/07/202607131602421770.pdf
https://aicte.gov.in/sites/default/files/nep2020.pdf
https://www.govtschemes.in/sites/default/files/2024-11/PM%20Vidyalaxmi%20Scheme%20Details.pdf?v=1
https://pmvidyalaxmi.co.in/Index.aspx
https://pmvidyalaxmi.co.in/img/UserManual-Student.pdf
https://www.education.gov.in/en/pradhan-mantri-vidyalaxmi-pm-vidyalaxmi-scheme-guidelines
Click to See PDF
SSS/AS.......
(रिलीज़ आईडी: 2291256)
आगंतुक पटल : 10