ভূ-বিজ্ঞানমন্ত্রক
সংসদে প্রশ্নোত্তর: মহাসাগরের পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনার সম্প্রসারণ
प्रविष्टि तिथि:
29 JUL 2026 11:47AM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ২৯ জুলাই ২০২৬
কেন্দ্রীয় সরকার জাতীয় স্তরে মহাসাগর সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনার সম্প্রসারণ করছে। এই ব্যবস্থাকে যথেষ্ঠ শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
১. মহাসাগর পর্যবেক্ষণের জন্য বিশেষ ধরনের ঘাট: মহাসাগরের জলের স্রোত জীববৈচিত্র্য সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের জন্য ভূমির ওপরে ১৯টি ঘাট তৈরি করে পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
২. সুনামি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাপনা- ভারতে সুনামি সংক্রান্ত দ্রুত সতর্কতা ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হচ্ছে। এক্ষেত্রে ১৭টি ব্রডব্যান্ড সিজমিক স্টেশন, ৭টি গভীর সমুদ্রে থাকা সুনামি সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনা এবং ৩৬টি উপকূল অঞ্চলের পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে।
৩. উপকূল অঞ্চলের পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনা- ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল সেন্টার ফর ওশন ইনফর্মেশন সার্ভিসেস বা ইনকয়েস ১৭টি ডিরেক্টনাল ওয়েভ রাইডার বয়, ২০টি অ্যাকুস্টিক ডপলার কারেন্ট প্রোফাইল, ৩২টি স্বয়ংক্রিয় আবহাওয়া কেন্দ্র, ২টি জলের গুণমান পরীক্ষা করার পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র এবং ৫০টি জোয়ার-ভাটা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তুলেছে।
৪. গভীর সমুদ্রে স্বয়ংক্রিয় পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাপনা- ইনকয়েস ২০১৪-২০২৫ সালে ৩০২টি অ্যাগ্রো প্রোফাইলিং ফ্লোট, ১২টি গভীর সমুদ্রে গ্লাইডার মিশন, ৪৫টি ড্রিফটিং বয়া, ৬৪টি ওয়েভ ড্রিফটার বসিয়েছে।
শক্তিশালী সমুদ্র সংক্রান্ত পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্কটি আবহাওয়া ও সমুদ্র মডেলের জন্য উচ্চ-মানের তাৎক্ষনিক পর্যবেক্ষণের তথ্য সরবরাহ করার মাধ্যমে বর্ষার পূর্বাভাস, ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস এবং সমুদ্রের অবস্থার পূর্বাভাস নির্ভুলভাবে প্রদান করছে। আর্গো প্রোফাইলিং ফ্লোট, নোঙর করা বয়া, জোয়ার-ভাটার পরিমাপ এবং সমুদ্রর অন্যান্য বিষয়গুলির পর্যবেক্ষণের জন্য প্রাপ্ত তথ্য গ্লোবাল টেলিকমিউনিকেশন সিস্টেম (জিটিএস)-এর মাধ্যমে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল সেন্টার ফর ওশান ইনফরমেশন সার্ভিসেস (ইনকোইস)-এ নেওয়া হয়। এর পর সেই তথ্যের গুণমান নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এই তথ্যগুলি যুক্ত করার ফলে পূর্বাভাস সংক্রান্ত নানা ধরণের ত্রুটি কমায় এবং বর্ষা ও ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাসের পাশাপাশি সমুদ্রের অবস্থার পূর্বাভাসের নির্ভরযোগ্যতা বাড়ায়। এই বয়াগুলি থেকে তরঙ্গ পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত তথ্য ইনকোইস যথাযথভাবে পূর্বাভাস দিয়ে থাকে । উপকূলবর্তী অঞ্চলের তথ্যগুলি আগাম সতর্কীকরণের পরিষেবার জন্য ব্যবহার করা হয়।
কেন্দ্রীয় সরকার জাতীয় মহাসাগর পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্ককে সম্প্রসারিত ও শক্তিশালী করছে। সাম্প্রতিক উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে সুনামি পর্যবেক্ষণ ও উপকূলীয় পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাকে উন্নত করার জন্য অতিরিক্ত ১৪টি জোয়ার-ভাটা পরিমাপক যন্ত্র এবং ১৫টি ‘গ্লোবাল নেভিগেশন স্যাটেলাইট সিস্টেম’ (জিএনএসএস) রিসিভার স্থাপন। ভারত মহাসাগরের উত্তরাঞ্চলে উপকূলীয় জলসীমাকে প্রভাবিত করে দক্ষিণ দিকের ঢেউ। এ সংক্রান্ত পূর্বাভাস উন্নত করার জন্য মরিশাসের কাছে একটি ‘ডাইরেকশনাল ওয়েভ রাইডার বয়’ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া, মহাসাগর পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাপনা স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বর্ষার আগে ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে গবেষণা পরিচালনার বিষয়টি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্কের নিরবচ্ছিন্ন কর্মসূচী ও সম্প্রসারণ নিশ্চিত করতে ‘কাউন্সিল অফ সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ – ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ওশেনোগ্রাফি’, ‘ন্যাশনাল সেন্টার ফর পোলার অ্যান্ড ওশেন রিসার্চ’ এবং অন্যান্য সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করা হয়েছে।
এই নেটওয়ার্ক থেকে তাৎক্ষণিক পর্যবেক্ষণের পর প্রাপ্ত তথ্য ব্যবহারের ফলে ২০১৪ সালের তুলনায় ঢেউ সংক্রান্ত পূর্বাভাস নির্ভুলভাবে প্রায় ৪৩% বৃদ্ধি পেয়েছে এবং পাঁচ দিন ধরে পূর্বাভাসের ক্ষেত্রেও ধারাবাহিক উন্নতি নজরে এসেছে। উন্নত পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত নেটওয়ার্ক উপকূলীয় অঞ্চলের পূর্বাভাস ব্যবস্থাপণাকে প্রায় ৭০% নির্ভুলভাবে প্রদানের জন্য উদ্যোগী হয়েছে। এছাড়া, সুনামির সতর্কতা প্রদানের জন্য ব্যবস্থাপনা, জোয়ার-ভাটা পরিমাপক যন্ত্র, জিএনএসএস রিসিভার এবং ‘স্ট্রং-মোশন অ্যাক্সেলেরোমিটার’ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ইনকোইস আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সুনামি সৃষ্টির মতো ভূমিকম্পের পর নির্ধারিত ১০ মিনিটের মধ্যে সুনামি সংক্রান্ত সতর্কবার্তা জারি করতে পারছে। ‘ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল সেন্টার ফর ওশেন ইনফরমেশন সার্ভিসেস’-এ প্রাপ্ত মহাসাগর পর্যবেক্ষণ প্ল্যাটফর্মের তথ্যগুলি ‘ইনকোয়েস গ্লোবাল ওশেন ডেটা অ্যাসিমিলেশন সিস্টেম’ -এ সমন্বিত করা হয়। এই সিস্টেমটি ‘কাপলড ফোরকাস্ট সিস্টেম’ -এর জন্য মহাসাগরের নানা তথ্য প্রদান করে, যেগুলি ঋতুভিত্তিক ও দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাসের কাজে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া এটি ‘হাইব্রিড কোঅর্ডিনেট ওশেন মডেল’ ( হাইকম)-এর জন্যও মহাসাগরের প্রাথমিক অবস্থা সরবরাহ করে; হাইকম মডেলটি ‘হারিকেন ওয়েদার রিসার্চ অ্যান্ড ফোরকাস্টিং’ মডেলের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য দেয়, যা ভারতের আবহাওয়া দপ্তর ঘূর্ণিঝড় পূর্বাভাসের কাজে ব্যবহার করে। এই ব্যবস্থাপনাগুলি দেশের মৌসুমি বায়ু ও ঘূর্ণিঝড় পূর্বাভাসের ক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করে।
লোকসভায় আজ এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে এই তথ্য জানিয়েছেন ভূবিজ্ঞান মন্ত্রকের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী ডাক্তার জীতেন্দ্র সিং।
SC/CB/NS…
(रिलीज़ आईडी: 2290989)
आगंतुक पटल : 10