স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক
জাতীয় সাইবার অপরাধ মোকাবিলা ব্যবস্থা
प्रविष्टि तिथि:
22 JUL 2026 3:56PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ২২ জুলাই, ২০২৬
দেশের সব ধরনের সাইবার অপরাধের মোকাবিলা সার্বিক ও সুসমন্বিতভাবে করার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ‘ইন্ডিয়ান সাইবার ক্রাইম কোঅর্ডিনেশন সেন্টার’ (I4C)-কে একটি সংযুক্ত কার্যালয় হিসেবে স্থাপন করেছে।
I4C-এর অংশ হিসেবে ‘ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টাল’ (NCRP) (https://cybercrime.gov.in) চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ সব ধরনের সাইবার অপরাধের ঘটনা রিপোর্ট করতে পারেন, নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত সাইবার অপরাধের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আর্থিক প্রতারণার ঘটনা অবিলম্বে নথিভুক্ত করা এবং অর্থ আত্মসাৎ বা সরিয়ে নেওয়া রোধ করার লক্ষ্যে ২০২১ সালে I4C-এর অধীনে ‘সিটিজেন ফিনান্সিয়াল সাইবার ফ্রড রিপোর্টিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ (CFCFRMS) চালু করা হয়। I4C পরিচালিত CFCFRMS-এর মাধ্যমে ৩০.০৬.২০২৬ পর্যন্ত ৩২.৮০ লক্ষেরও বেশি অভিযোগের ক্ষেত্রে ১১,১৫৮ কোটি টাকারও বেশি অর্থ রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। অনলাইনে সাইবার সংক্রান্ত অভিযোগ দায়েরের ক্ষেত্রে সহায়তা পাওয়ার জন্য 1930 নম্বরের একটি টোল-ফ্রি হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে। I4C পরিচালিত NCRP ও CFCFRMS-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের মধ্যে NCRP-তে সাইবার প্রতারণা সংক্রান্ত মোট অভিযোগের সংখ্যা ৫৩,৮৭,৯০৫-এর বেশি; দায়ের করা এফআইআর-এর সংখ্যা ১,৮১,২৭১-এর বেশি; রিপোর্ট করা মোট অর্থের পরিমাণ ৫৬,০৮৭ কোটি টাকার বেশি; ‘লিয়েন’ (Lien) বা সাময়িক স্থগিতাদেশের আওতায় চিহ্নিত অর্থের পরিমাণ ৯,০৭৯ কোটি টাকার বেশি এবং ফেরত দেওয়া অর্থের পরিমাণ ২০৬ কোটি টাকার বেশি।
ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টালে রিপোর্ট করা সাইবার অপরাধের ঘটনা, সেগুলিকে এফআইআর-এ রূপান্তর এবং পরবর্তী পদক্ষেপ—যেমন চার্জশিট দাখিল, গ্রেপ্তার ও অভিযোগের নিষ্পত্তি—আইনের বিধান অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলির মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়।
সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত অভিযোগ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে কর্মদক্ষতা আরও বৃদ্ধি এবং কাজের পদ্ধতিতে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে, মন্ত্রক NCRP-CFCFRMS-এর জন্য একটি বিস্তারিত ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর’ (SOP) বা কার্যপদ্ধতি নির্দেশিকা জারি করেছে। এই এসওপি (SOP)-তে এনসিআরপি (NCRP)-র মাধ্যমে প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযোগ প্রক্রিয়াকরণ, ব্যাঙ্কের সঙ্গে সমন্বয়, অভিযোগের নিষ্পত্তি, 'লিয়েন' (lien) বা অর্থের ওপর বিধিনিষেধের চিহ্ন অপসারণ এবং প্রতারণার শিকার ব্যক্তিদের ন্যায্য পাওনা বা অর্থ ফেরত দেওয়ার জন্য একটি আদর্শ কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতারণার শিকার ব্যক্তিদের অর্থ দ্রুত ফেরত দেওয়ার জন্য 'মানি রেস্টোরেশন মডিউল' এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা বা অর্থের ওপর 'লিয়েন' চিহ্ন বসানো সংক্রান্ত অভিযোগের যথাসময়ে নিষ্পত্তির জন্য 'গ্রিভেন্স রিড্রেসাল মডিউল' (অভিযোগ নিষ্পত্তি মডিউল)—এই দুটি ব্যবস্থাই এপ্রিল, ২০২৬ থেকে কার্যকর করা হয়েছে।
প্রতারণামূলকভাবে স্থানান্তরিত অর্থ ফ্রিজ বা আটকে রাখার ক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির নেওয়া গড় সময় কেন্দ্রীয় সরকার প্রতিনিয়ত পর্যবেক্ষণ করে। প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া অর্থ অবিলম্বে আটকে দেওয়ার লক্ষ্যে সিএফসিএফআরএমএস (CFCFRMS) এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে এপিআই (API) সংযুক্তিকরণের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিশ্চিত করা হয়।
আন্তঃরাজ্য সমন্বয় এবং ডিজিটাল ফরেনসিক সক্ষমতা জোরদার করার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় সরকার নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলি গ্রহণ করেছে:
I4C-এর অধীনে একটি অত্যাধুনিক 'সাইবার ফ্রড মিটিগেশন সেন্টার' (CFMC) স্থাপন করা হয়েছে। এখানে প্রধান ব্যাংক, আর্থিক মধ্যস্থতাকারী সংস্থা, পেমেন্ট অ্যাগ্রিগেটর, টেলিকম পরিষেবা প্রদানকারী, আইটি মধ্যস্থতাকারী এবং বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতিনিধিরা সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ ও নিরবচ্ছিন্ন সহযোগিতার লক্ষ্যে একত্রে কাজ করছেন।
সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদান ও বিশ্লেষণের জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলির সুবিধার্থে 'সমন্বয়' প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়েছে। এটি একটি ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (MIS) প্ল্যাটফর্ম, ডেটা ভাণ্ডার এবং সমন্বয় কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। এর 'প্রতিবিম্ব' মডিউলটি মানচিত্রের ওপর অপরাধী ও অপরাধমূলক পরিকাঠামোর অবস্থান চিহ্নিত করে, যা সংশ্লিষ্ট এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পরিস্থিতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেয়। এই মডিউলটি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলিকে I4C এবং অন্যান্য বিশেষজ্ঞ সংস্থার (SMEs) কাছ থেকে প্রযুক্তিগত-আইনি সহায়তা চাওয়া ও পাওয়ার ক্ষেত্রেও সহায়তা করে। এর ফলে ২৯,৮৩৭ জনেরও বেশি অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে এবং সাইবার তদন্ত সংক্রান্ত ২,৩৩,৫৯৩টিরও বেশি সহায়তার অনুরোধ প্রক্রিয়াভুক্ত করা হয়েছে।
'সহযোগ' পোর্টাল চালু করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো তথ্যপ্রযুক্তি আইন, ২০০০-এর ধারা ৭৯-এর উপ-ধারা (৩)-এর দফা (খ)-এর অধীনে উপযুক্ত সরকার বা তার কোনো সংস্থার পক্ষ থেকে তথ্যপ্রযুক্তি মধ্যস্থতাকারী সংস্থাগুলিকে নোটিশ পাঠানোর প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা। কোনো বেআইনি কাজ সংঘটনের জন্য ব্যবহৃত তথ্য, ডেটা বা যোগাযোগ লিঙ্ক অপসারণ বা সেগুলিতে প্রবেশাধিকার নিষ্ক্রিয় করার ক্ষেত্রে এটি সহায়তা করে।
ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির সহযোগিতায় I4C ১০.০৯.২০২৪ তারিখে সাইবার সন্দেহভাজনদের তালিকাভুক্তির ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। ৩০.০৬.২০২৬ পর্যন্ত, ব্যাংকগুলির কাছ থেকে ৩০.৪৮ লক্ষেরও বেশি সন্দেহভাজন শনাক্তকারী তথ্য এবং ৩২.০৮ লক্ষ 'লেয়ার-১ মিউল অ্যাকাউন্ট'-এর তথ্য এই রেজিস্ট্রিভুক্ত সংস্থাগুলির সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হয়েছে এবং ২৫,৬৯৮ কোটি টাকার লেনদেন বাতিল করা হয়েছে।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলির মধ্যে সমন্বয় কাঠামো জোরদার করার লক্ষ্যে I4C-এর অধীনে সাতটি 'জয়েন্ট সাইবার কোঅর্ডিনেশন টিম' (JCCT) গঠন করা হয়েছে। মেওয়াত, জামতারা, আহমেদাবাদ, হায়দ্রাবাদ, চণ্ডীগড়, বিশাখাপত্তনম এবং গুয়াহাটির মতো সাইবার অপরাধের 'হটস্পট'-এ এই দলগুলি সারা দেশ জুড়ে কাজ করছে। I4C নিয়মিতভাবে ‘স্টেট কানেক্ট’, ‘থানা কানেক্ট’ এবং পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের আয়োজন করে থাকে।
রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের পুলিশ বাহিনীর তদন্তকারী আধিকারিকদের সাইবার ফরেনসিক সংক্রান্ত প্রাথমিক সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে I4C-এর অংশ হিসেবে অত্যাধুনিক ‘ন্যাশনাল-ডিজিটাল ইনভেস্টিগেশন সাপোর্ট সেন্টার’ (পূর্বনাম: ন্যাশনাল সাইবার ফরেনসিক ল্যাবরেটরি (ইনভেস্টিগেশন) বা NCFL(I)) স্থাপন করা হয়েছে। এই কেন্দ্রগুলি নতুন দিল্লি (১৮.০২.২০১৯ তারিখে) এবং অসমে (২৯.০৮.২০২৫ তারিখে) চালু করা হয়েছে। ৩০.০৬.২০২৬ তারিখ পর্যন্ত, নতুন দিল্লির ন্যাশনাল-ডিজিটাল ইনভেস্টিগেশন সাপোর্ট সেন্টারটি সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত ১৪,০৬৪-এরও বেশি মামলায় বিভিন্ন রাজ্যের ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলিকে (LEAs) পরিষেবা প্রদান করেছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ‘মহিলা ও শিশুদের বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ (CCPWC)’ প্রকল্পের আওতায় রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে ১৩২.৯৩ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে। সাইবার ফরেনসিক ও প্রশিক্ষণ গবেষণাগার স্থাপন, জুনিয়র সাইবার পরামর্শদাতা নিয়োগ এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মী, সরকারি কৌঁসুলি ও বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের প্রশিক্ষণ প্রদানের মতো সক্ষমতা বৃদ্ধির বিভিন্ন কাজে এই অর্থ ব্যবহৃত হচ্ছে। ৩৩টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে সাইবার ফরেনসিক ও প্রশিক্ষণ গবেষণাগার চালু করা হয়েছে এবং ২৪,৬০০-এরও বেশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মী, বিচার বিভাগীয় আধিকারিক ও সরকারি কৌঁসুলিকে সাইবার অপরাধ সচেতনতা, তদন্ত ও ফরেনসিক ইত্যাদি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে, সাইবার অপরাধের মামলার তদন্তে সহায়তা করার জন্য সারা দেশে ৭টি কেন্দ্রীয় ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি এবং ২৮টি রাজ্য ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি কার্যকর রয়েছে। ‘নির্ভয়া’ তহবিলের আওতায় রাজ্যস্তরের ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরিগুলিতে (FSLs) ডিএনএ বিশ্লেষণ ও সাইবার ফরেনসিক সক্ষমতা শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের অধীনে ২০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
রাজ্যসভায় এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শ্রী বান্দি সঞ্জয় কুমার এই তথ্য জানিয়েছেন।
SC/SD/SB
(रिलीज़ आईडी: 2287853)
आगंतुक पटल : 5