PIB Backgrounder
azadi ka amrit mahotsav

ভারত টেক্স ২০২৬: প্রতিটি সুতোয় নতুন সম্ভাবনার বুনন

प्रविष्टि तिथि: 17 JUL 2026 7:04PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ১৭ জুলাই, ২০২৬

 

ভারতীয় বস্ত্রশিল্পের অনন্য সর্বজনীন মঞ্চ

ভারত টেক্স ২০২৬-এ একই ছাদের নিচে ভারতের বস্ত্রশিল্পের বহুমাত্রিক সম্ভাবনা একত্রিত হয়েছে। এখানে উৎপাদনকারী সংস্থার পাশাপাশি, অংশ নিয়েছে হ্যান্ডলুম সমবায়, ঐতিহ্যবাহী শিল্পী এবং প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ। ভারতীয় সংস্থাগুলি বিশ্বের বাজারের নতুন সম্ভাবনা অন্বেষণ করছে, অন্যদিকে বিদেশি সংস্থাগুলি ভারতে বিনিয়োগ ও ব্যবসার সুযোগ মূল্যায়ন করছে।

৫এফ (Farm to Fibre to Factory to Fashion to Foreign) ভাবনার আলোকে এই আয়োজন কৃষিক্ষেত্র থেকে তন্তু, কারখানা, ফ্যাশন এবং আন্তর্জাতিক বাজার পর্যন্ত ভারতের বস্ত্র ঐতিহ্য, উৎপাদন ক্ষমতা এবং উদ্ভাবনকে একটি সমন্বিত বৈশ্বিক মঞ্চে তুলে ধরা হয়েছে।

ভারত টেক্সের তৃতীয় সংস্করণ ১৪ থেকে ১৭ জুলাই  অর্থাৎ, আজ পর্যন্ত নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে তন্তু, সুতো, কাপড়, পোশাক, গৃহসজ্জার বস্ত্র, টেকনিক্যাল টেক্সটাইল, হ্যান্ডলুম এবং হস্তশিল্প-সহ সমগ্র বস্ত্র মূল্যশৃঙ্খলকে অন্তর্ভুক্ত  করা হয়েছে।

এই প্রদর্শনীতে ১৩০টিরও বেশি দেশের ৬,০০০-এরও বেশি ক্রেতা এবং ১.৩ লক্ষেরও বেশি বাণিজ্যিক দর্শনার্থী অংশগ্রহণ করেছেন। ১৬ লক্ষ বর্গফুট জায়গাজুড়ে আয়োজিত প্রদর্শনীতে ২০,০০০-এরও বেশি বস্ত্রপণ্য প্রদর্শিত হচ্ছে।

প্রদর্শনীর বিশাল আয়োজনের বাইরেও ভারত টেক্সের গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে স্বীকৃতি, জীবিকা এবং স্থানীয় উদ্যোগকে নতুন বাজারের সঙ্গে যুক্ত করার আলোচনায়। ঐতিহ্য, উদ্যোগ, স্থায়িত্ব এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ মিলনস্থলে পরিণত হয়েছে এই বিপুল আয়োজন।

যেখানে তৈরির প্রক্রিয়াই হয়ে ওঠে প্রদর্শনী

Weaves-এর স্টলে দর্শনার্থীরা সরাসরি বস্ত্র তৈরির প্রক্রিয়া এবং ব্লক প্রিন্টিং চাক্ষুষ করতে পারছেন। এই লাইভ প্রদর্শনের মাধ্যমে একটি কাপড় তৈরির পেছনের সূক্ষ্ম কারুশিল্প সম্পর্কে প্রত্যক্ষ ধারণা মিলেছে।

উইভস-এর ম্যানেজার শ্রী কাশ্যপ কেদিয়া এমন এক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করছেন, যার বস্ত্রশিল্পে ছয় প্রজন্মের অভিজ্ঞতা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ২০০ জন কারিগর নিয়ে কাজ করে এবং বছরে প্রায় আড়াই লক্ষ মিটার ব্লক-প্রিন্টের কাপড় উৎপন্ন করে।

প্রতিষ্ঠানটি ডাবু, বাগরু এবং বাটিক-সহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী প্রিন্টিং পদ্ধতি প্রয়োগে কাজ করে।

তিনি বলেন,
“আমাদের ছয়টি প্রিন্টিং শৈলীর মধ্যে পাঁচটি কেবল ভারতেই তৈরি করা সম্ভব, বিশেষ করে রাজস্থানে, যেখানে আবহাওয়া এই প্রক্রিয়ার জন্য উপযোগী।”

আঞ্চলিক শিল্পকলাকে নতুন দর্শকের সামনে তুলে ধরা

ভারত টেক্স ঐতিহ্যবাহী শিল্পকলাকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরেছে। এর মধ্যে অন্যতম বিহারের টিকুলি শিল্প, যা উজ্জ্বল রঙ এবং সূক্ষ্ম এনামেল কাজের জন্য পরিচিত।

পাটনার টিকুলি শিল্পী শ্রীমতী অরুন্ধতী মাহাতো প্রথমবার ভারত টেক্সে অংশ নিয়েছেন।

তিনি বলেন, “টিকুলি পাটনার একটি শিল্পধারা, যার ইতিহাস ৮০০ বছরেরও বেশি পুরোনো। অলংকার হিসাবে ব্যবহৃত টিকুলি থেকে এটি আজ কাঠ, কাপড় এবং দৈনন্দিন ব্যবহার্য নানা সামগ্রীর ওপর এনামেল চিত্রকলায় রূপান্তরিত হয়েছে।”

এই শিল্প নারীদের জন্য নমনীয় জীবিকার সুযোগও তৈরি করছে। তিনি বলেন, “আমি প্রায় ২৫ জন মহিলাকে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দিচ্ছি, যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আমার সঙ্গে যুক্ত। তাঁরা বাড়িতে বসেই নিজেদের সুবিধামতো এই পণ্য তৈরি করতে পারেন।”

সমসাময়িক ফ্যাশনে আদিবাসী বস্ত্রের নতুন পরিচয়

জোহারগ্রাম ঝাড়খণ্ডের আদিবাসী বস্ত্রকে সমসাময়িক ফ্যাশনের সঙ্গে যুক্ত করেছে। ঐতিহ্যবাহী হাতে বোনা শালকে রূপ দেওয়া হয়েছে শার্ট, জ্যাকেট এবং ট্রেঞ্চ কোটে।

ব্র্যান্ডটির ক্রিয়েটিভ ও অপারেশনস প্রধান শ্রী পবন কুমার জানান, নকশাগুলি ওরাঁও ও মুন্ডা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী বুননের অনুপ্রেরণায় তৈরি।

তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক চাহিদা বাড়ায় এখন প্রায় ৮০ জন তাঁতি এই কাজের সঙ্গে যুক্ত। ব্যবসা-থেকে-ব্যবসা সংযোগের অভিজ্ঞতা অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক। আমরা বহু ক্রেতা ও রপ্তানিকারকের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারছি।”

তৃতীয়বারের মতো অংশগ্রহণকারী এই ব্র্যান্ড ঝাড়খণ্ডের বস্ত্র ঐতিহ্যকে শুধু সিল্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সমসাময়িক নকশায় তার সম্ভাবনাও তুলে ধরছে।

বৃহত্তর বাজারে হ্যান্ডলুম সমবায়

নির্যাতক হ্যান্ডলুম কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড-এর জন্য এই প্রদর্শনী ঘরোয়া হ্যান্ডলুম উৎপাদনকে আরও বৃহত্তর ক্রেতা গোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।

কানপুর-ভিত্তিক এই সমবায়ের সভাপতি মহম্মদ ইমরান তুলো, উল এবং পুনর্ব্যবহৃত PET সুতো দিয়ে তৈরি কার্পেট, রাগ এবং অন্যান্য গৃহসজ্জার সামগ্রী প্রদর্শন করেছেন।

বস্ত্র পুনর্ব্যবহারের বৃহত্তর মঞ্চ

একটি স্টলে একটি পোশাকের প্রথম ব্যবহার শেষ হওয়ার পর থেকেই তার নতুন যাত্রা শুরু হচ্ছে।

ReFiber-এর প্রধান পরিচালন আধিকারিক শ্রী মনোজ ওয়ানভারি ব্যবহৃত বস্ত্র সংগ্রহের জন্য একটি প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা তুলে ধরছেন। সংগ্রহের পর পোশাকগুলি পুনর্ব্যবহারের জন্য সহযোগী স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলির কাছে পাঠানো হয়। পাশাপাশি, পুনর্ব্যবহৃত পণ্য বিক্রির জন্য একটি ডিজিটাল বাজারও তৈরি করেছে ReFiber।

ভারত টেক্স: বস্ত্রশিল্পের প্রতিটি সূত্রকে এক সুতোয় বেঁধেছে

ভারত টেক্স বস্ত্রশিল্পের বিভিন্ন স্তরকে একটি অভিন্ন মঞ্চে নিয়ে এসেছে। প্রদর্শনীজুড়ে বিভিন্ন অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। এই আয়োজন কারিগর, উদ্যোগ, প্রতিষ্ঠান এবং ক্রেতাদের সমগ্র বস্ত্র মূল্যশৃঙ্খলের বিভিন্ন পর্যায়ে একত্রিত করতে পেরেছে।

বৈচিত্র্যময় পণ্য, উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং নতুন সম্ভাবনাকে একই মঞ্চে এনে ভারত টেক্স ভারতের বস্ত্রশিল্পের সামগ্রিক বিস্তারকে তুলে ধরছে - বস্ত্রশিল্পের সবকিছু, এক জায়গায়।

তথ্যবিবরণী

Ministry of Textiles

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2284603&lang=1&reg=3

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2284286&lang=1&reg=3

 

Click to See In PDF


****

SSS/SS......


(रिलीज़ आईडी: 2286007) आगंतुक पटल : 3
इस विज्ञप्ति को इन भाषाओं में पढ़ें: English , Urdu , Tamil