PIB Backgrounder
azadi ka amrit mahotsav

ভারতের প্রথম হাইড্রোজেনচালিত ট্রেন: হরিৎ রেল পরিবহণের পথে অগ্রযাত্রা

प्रविष्टि तिथि: 16 JUL 2026 12:37PM by PIB Kolkata

১৬ জুলাই, ২০২৬

 

হাইড্রোজেন রেল ব্যবস্থার পথে উত্তরণ

ভারতীয় রেল পরিচ্ছন্ন ও সুস্থায়ী পরিবহণের এক নতুন যুগে প্রবেশ করছে। জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর ট্র্যাকশন ব্যবস্থার বিকল্প হিসাবে হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল প্রযুক্তি বিশ্বজুড়ে একটি সম্ভাবনাময় সমাধান হিসাবে উঠে এসেছে। ভারতের প্রথম অন্তর্দেশীয়  হাইড্রোজেনচালিত ট্রেন পরবর্তী প্রজন্মের প্রযুক্তি গ্রহণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এটি এমন একটি লোকোমোটিভ বা ইঞ্জিন, যেটি হাইড্রোজেন ব্যবহার করে নিজেই বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সমর্থ।

২০২৬ সালের ১৭ জুলাই  হাইড্রোজেন ফুয়েল সেলচালিত এই ট্রেনের পরিষেবা শুরু হওয়ার কথা। এটি উত্তর রেলের জিন্দ–সোনিপত রুটে চলবে। এই প্রকল্পে উন্নত প্রপালশন প্রযুক্তির সঙ্গে হাইড্রোজেন সংরক্ষণ, জ্বালানি ভরার ব্যবস্থা এবং পরিচালনাগত পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। এর ফলে, ভারতে পরিচ্ছন্ন দূষণবিহীন রেল পরিবহণের সম্ভাবনা সূচিত হবে। পরীক্ষামূলক উদ্যোগ হিসাবে গড়ে তোলা এই প্রকল্প ভারতীয় রেলের উদ্ভাবনের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতিফলন। একই সঙ্গে এটি জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব পরিবহণ ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
এর মাধ্যমে ভারত হাইড্রোজেনচালিত রেল পরিবহণ নিয়ে কাজ করা নির্বাচিত কয়েকটি দেশের সঙ্গে সামিল হলো। এই দেশগুলির মধ্যে রয়েছে জার্মানি, জাপান, চীন এবং যুক্তরাষ্ট্র। প্রযুক্তিটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে থাকায়, এই প্রকল্প থেকে গুরুত্বপূর্ণ পরিচালনাগত অভিজ্ঞতা অর্জিত হবে, যা ভবিষ্যতে রেল ক্ষেত্রে হাইড্রোজেনভিত্তিক পরিবহণ ব্যবস্থার বিস্তারে সহায়ক হবে।
ভারতের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেনের অন্দরে
হাইড্রোজেনচালিত ট্রেন প্রকল্পটি রিসার্চ, ডিজাইন অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অর্গানাইজেশন (RDSO)-এর প্রস্তুত করা নকশা অনুমোদন ও কারিগরী মানদণ্ড অনুসারে তৈরি করা হয়েছে। সম্পূর্ণভাবে ভারতে নকশা করা এই প্রকল্প আত্মনির্ভর ভারত-এর ভাবনার প্রতিফলন।

জিন্দ–সোনিপত রুটে হাইড্রোজেনচালিত ট্রেনের প্রধান বৈশিষ্ট্য
১০ কোচের হাইড্রোজেন ফুয়েল সেলভিত্তিক ট্রেনসেট। এটি
১২০০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল প্রপালশন ব্যবস্থা দ্বারা চালিত। সর্বোচ্চ ৭৫ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতিতে চলার অনুমোদন রয়েছে, যদিও এর নকশাগত সর্বোচ্চ গতি ১১০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা।
প্রায় ২,৬০০ জন যাত্রী বহনের ক্ষমতা রাখে এই ট্রেন।
নকশা প্রণয়ন থেকে প্রোটোটাইপ নির্মাণ পর্যন্ত সম্পূর্ণভাবে দেশে উৎপাদন করা হয়েছে এই ট্রেনটিকে।

এটি জিন্দ জংশন, গোহানা জংশন এবং সোনিপতকে সংযুক্ত করবে এবং মধ্যবর্তী বিভিন্ন স্টেশনে পরিষেবা দেবে।
প্রস্তাবিত স্টপেজগুলির মধ্যে রয়েছে জিন্দ সিটি, পান্ডু পিন্দারা জংশন, ললিত খেরা হল্ট, ভামভেওয়া, ইসাপুর খেরি হল্ট, বুটানা হল্ট, খান্দরাই হল্ট, রাবরাহ হল্ট, লাথ হল্ট, মোহানা, বারওয়াসনি হল্ট এবং সোনিপত নিউ।

ট্রেনের পিছনের প্রযুক্তি
হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল প্রযুক্তিতে হাইড্রোজেনের রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। এর প্রধান শক্তির উৎস প্রোটন এক্সচেঞ্জ মেমব্রেন ফুয়েল সেল (PEMFC)। এটি এমন একটি ফুয়েল সেল, যেটি প্রোটন পরিবাহী পারফ্লুরোসালফোনিক অ্যাসিড (Perfluorosulfonic Acid - PFSA) পলিমার মেমব্রেনের মাধ্যমে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের বিক্রিয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। এই প্রক্রিয়ায় উপজাত হিসাবে কেবল জলীয় বাষ্প এবং তাপ উৎপন্ন হয়। হাইড্রোজেন একটি উচ্চ-শক্তিসম্পন্ন জ্বালানি, যার শক্তিমান ১২০ মেগাজুল প্রতি কিলোগ্রাম (MJ/kg), যেখানে ডিজেলের শক্তিমান ৪৩ মেগাজুল প্রতি কিলোগ্রাম (MJ/kg)। এটি কম রক্ষণাবেক্ষণপ্রয়োজনীয় এবং এর কার্বন নিঃসরণও তুলনামূলকভাবে কম। ফলে, বর্তমানে রেল পরিবহণে উপলব্ধ সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন প্রপালশন প্রযুক্তি হিসাবে হাইড্রোজেনকে বিবেচনা করা হয়। এই প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে ভারতীয় রেল প্রয়োজনীয় বিশেষ পরিকাঠামোও গড়ে তুলেছে।
হাইড্রোজেন পরিকাঠামো
দেশের বৃহত্তম রেলওয়ে হাইড্রোজেন সংরক্ষণ ও জ্বালানি ভরার কেন্দ্র হরিয়ানার জিন্দে স্থাপন করা হয়েছে। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত এই কেন্দ্রে একসঙ্গে প্রায় ৩,০০০ কিলোগ্রাম হাইড্রোজেন সংরক্ষণ করা যায়। এটি হাইড্রোজেনচালিত ট্রেনের পরিচালনায় সহায়তা করবে। পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড এক্সপ্লোসিভস সেফটি অর্গানাইজেশন (PESO) এই কেন্দ্রের জন্য প্রয়োজনীয় লাইসেন্স প্রদান করেছে। এই লাইসেন্সের আওতায় কেন্দ্রে সংকুচিত হাইড্রোজেন গ্যাসের সংরক্ষণ ও সরবরাহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। হাইড্রোজেন পরিকাঠামোটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানদণ্ড অনুসারে নির্মিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে NFPA-2 (National Fire Protection Association) এবং ISO (International Organisation for Standardisation) 19880 Series। সমগ্র ব্যবস্থাটির একটি স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে নিরাপত্তা মূল্যায়ন করা হয়েছে। এই মূল্যায়ন করেছে জার্মানির TÜV SÜD, যা বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তিগত পরিদর্শন ও সার্টিফিকেশন সংস্থা।

ট্রেনটি দুটি হাইড্রোজেন ড্রাইভিং পাওয়ার কার (DPC) এবং আটটি ট্রেলার কোচ (TC) নিয়ে গঠিত। প্রতিটি DPC-তে রয়েছে ফুয়েল সেল, লিথিয়াম আয়রন ফসফেট (LFP) ব্যাটারি এবং হাইড্রোজেন সংরক্ষণের সিলিন্ডার। নিরবচ্ছিন্ন ও নির্ভরযোগ্য পরিচালনা নিশ্চিত করতে এই পরিকাঠামোতে রয়েছে—
জ্বালানি ভরার জন্য একটি হাইড্রোজেন কম্প্রেশন ব্যবস্থা।
নির্ভরযোগ্য পরিচালনার জন্য প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় খুচরো যন্ত্রাংশ।
নিরবচ্ছিন্নভাবে জ্বালানি ভরার সুবিধা নিশ্চিত করতে একটি স্ট্যান্ডবাই কম্প্রেসর।

এই সমন্বিত পরিকাঠামো নিরাপদ ও দক্ষ হাইড্রোজেনচালিত রেল পরিচালনায় সহায়তা করে।
নিরাপদ পরিচালনা নিশ্চিতকরণ
হাইড্রোজেনচালিত ট্রেন পরিচালনার জন্য ভারতীয় রেল একটি বিস্তৃত পরিচালন ও নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তুলেছে। হাইড্রোজেন সংরক্ষণ, স্থানান্তর এবং ব্যবহারের প্রতিটি ধাপ একাধিক স্বাধীন নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ, যাচাই এবং সুরক্ষিত রাখা হবে।
পরিচালনাগত প্রস্তুতি
স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (SOP), নিয়মিত নিরাপত্তা নিরীক্ষা এবং নির্ধারিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে।

দিল্লির শাকুরবস্তি রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্রকে হাইড্রোজেনচালিত ট্রেনের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।
প্রশিক্ষিত ও প্রত্যয়িত কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ পরিচালনাগত দায়িত্ব পালন করবেন। প্রাথমিক পর্যায়ে ট্রেনের সঙ্গে প্রযুক্তিগত কর্মীরা উপস্থিত থাকবেন।
হাইড্রোজেন জ্বালানি ভরার ব্যবস্থা ২৪×৭ পর্যবেক্ষণের আওতায় থাকবে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা

হাইড্রোজেন উৎপাদন, সংরক্ষণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় হাইড্রোজেন লিক ডিটেক্টর বসানো হয়েছে।
সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের জন্য ফ্লেম ডিটেক্টর-ও স্থাপন করা হয়েছে।

নিরাপত্তা সেন্সরগুলির নিয়মিত পরিদর্শন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা হবে।
নিরবচ্ছিন্ন বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা ট্রেনের ভিতরে সবসময় বাতাসের প্রবাহ বজায় রাখে।
তাপ, আগুন বা ধোঁয়ার মতো কোনো অস্বাভাবিক পরিস্থিতি শনাক্ত হলে, ব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয়ভাবে হাইড্রোজেনের সরবরাহ বন্ধ করে দিতে সক্ষম।
লোকো পাইলটের কেবিনে একটি বিশেষ মোড রাখা হয়েছে, যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে ট্রেনটিকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া যায়।
একটি ডিসপ্লে স্ক্রিনে সর্বক্ষণের জন্য পুরো ব্যবস্থার রিয়েল-টাইম স্বাস্থ্যগত অবস্থা লোকো পাইলট দেখতে পারবেন।

নিরাপদ পরিচালনা নিশ্চিত করতে নির্ধারিত পরিদর্শন ও রক্ষণাবেক্ষণের সময়সূচি অনুসরণ করা হবে। সুস্থায়ী রেল পরিবহণের পথে 
হাইড্রোজেনচালিত ট্রেন কেবল একটি নতুন ট্রেনসেটের সূচনাই নয়। এটি ভবিষ্যতে হাইড্রোজেনচালিত রেল পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা, পরিকাঠামো এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা গড়ে তোলার নিদর্শন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রযুক্তি, পরিচালন পদ্ধতি এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে বৃহৎ পরিসরে হাইড্রোজেনভিত্তিক পরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সক্ষমতাও আরও শক্তিশালী হবে। এই উদ্যোগ জাতীয় হরিৎ হাইড্রোজেন মিশন (National Green Hydrogen Mission) এবং ভারতের নেট-জিরো কার্বন নির্গমন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়তা করবে।

ভারতীয় রেলের ধারাবাহিক আধুনিকীকরণের সঙ্গে এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে হাইড্রোজেনচালিত রেল ব্যবস্থার আরও বিস্তৃত প্রয়োগের ভিত্তি স্থাপন করবে। একটি আরও শক্তিশালী, টেকসই এবং ভবিষ্যৎ-প্রস্তুত পরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এই প্রকল্প একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

তথ্যবিবরণী

Ministry of Railways

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2201556&reg=48&lang=2

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2265781&reg=3&lang=1

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2285240&reg=48&lang=1

https://rdso.indianrailways.gov.in/railwayboard/uploads/directorate/stat_econ/2024/Indian%20Railways%20Annual%20Report%20%26%20Accounts%202022-23%20ENGLISH.pdf

Ministry of Information and Broadcasting

https://www.facebook.com/inbministry/videos/indias-first-hydrogen-powered-train-is-set-to-redefine-rail-travel-clean-green-a/813246554362679/

Click here to see pdf

 

SSS/RP......


(रिलीज़ आईडी: 2285615) आगंतुक पटल : 5
इस विज्ञप्ति को इन भाषाओं में पढ़ें: English , Urdu , हिन्दी , Gujarati , Malayalam