PIB Backgrounder
azadi ka amrit mahotsav

বাঁধ পুনর্বাসন: নীতি এবং প্রযুক্তির সাহায্যে পরিকাঠামোর মজবুতিকরণ

প্রকাশিত: 15 MAY 2026 1:32PM by PIB Kolkata

 ১৫ মে, ২০২৬

 

বিশ্বব্যাপী বৃহৎ বাঁধের সংখ্যার নিরিখে ভারত তৃতীয় স্থানে রয়েছে, যেখানে বর্তমানে ৬,৬২৮টি নির্দিষ্ট বাঁধ রয়েছে। ২৬%-এরও বেশি বাঁধ ৫০ বছরেরও বেশি পুরানো, যার কারণে এগুলির পদ্ধতিগত পুনর্বাসন এবং নিরাপত্তা বৃদ্ধির প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। বাঁধের নিরাপত্তা ও পরিচালনগত কর্মক্ষমতা উন্নত করতে পর্যায়ক্রমে 'ড্যাম রিহ্যাবিলিটেশন অ্যান্ড ইম্প্রুভমেন্ট প্রজেক্ট' (DRIP) বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বাঁধের ব্যর্থতা-সম্পর্কিত দুর্যোগ প্রতিরোধের জন্য নির্দিষ্ট বাঁধের নজরদারি, পরিদর্শন, পরিচালনা এবং রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করে 'ড্যাম সেফটি অ্যাক্ট, ২০২১'। এটি বাঁধগুলির নিরাপদ কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বা আনুষঙ্গিক বিষয়গুলির জন্য একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোও প্রদান করে। ইন্সট্রুমেন্টেশন এবং আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম (আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা)-এর পাশাপাশি 'DHARMA'-র মতো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলি রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণ এবং তথ্য-ভিত্তিক বাঁধ নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করছে।

ভূমিকা

ভারতের বাঁধগুলি সেচ, জলবিদ্যুৎ উৎপাদন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানীয় জল সরবরাহ এবং সামগ্রিক জল সুরক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কয়েক দশক ধরে, এই বাঁধগুলি দেশজুড়ে কৃষি প্রবৃদ্ধি, শিল্প উন্নয়ন এবং আর্থ-সামাজিক অগ্রগতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে। 

যেহেতু বিপুল সংখ্যক বাঁধের বয়স বাড়ছে এবং জলবায়ুর পরিবর্তনশীলতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাই সেগুলির পুনর্বাসন, পরিচালনগত নিরাপত্তা এবং দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিস্থাপকতার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভারত সরকার কাঠামোগত পুনর্বাসন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, ডিজিটাল পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং ঝুঁকি-ভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ে একটি ব্যাপক পদ্ধতির মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করছে। 

ভারতে বাঁধগুলির বর্তমান অবস্থা
ভারত বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বাঁধ ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করছে। বিশ্বের মধ্যে ভারতের স্থান তৃতীয়। দেশে মোট ৬৬২৮টি নির্দিষ্ট বাঁধ রয়েছে, যার মধ্যে ৬৫৪৫টি চালু রয়েছে এবং ৮৩টি নির্মাণাধীন। এই বাঁধগুলির মোট জল সংরক্ষণ ক্ষমতা প্রায় ৩৩০ বিলিয়ন ঘনমিটার। দেশের খাদ্য, জ্বালানি এবং জল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই বাঁধগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই বাঁধগুলির মধ্যে প্রায় ২৬% (১,৬৮১টি বাঁধ) ৫০ বছরেরও বেশি পুরনো। এর মধ্যে ২৯১টি বাঁধ রয়েছে যা ১০০ বছরেরও বেশি পুরনো। প্রায় ৪২% বাঁধ ২৫ থেকে ৫০ বছর বয়সের মধ্যে পড়ে। ভারতের সবচেয়ে পুরানো বাঁধ তামিলনাড়ুর কাল্লানাই (গ্র্যান্ড অ্যানিকট) প্রায় ২,০০০ বছর ধরে সচল রয়েছে—যা দীর্ঘস্থায়ী প্রকৌশল এবং রক্ষণাবেক্ষণের এক অনন্য নিদর্শন।
এই বাঁধগুলির মধ্যে প্রায় ৯৮.৫%, অর্থাৎ ৬,৪৪৮টি বাঁধের মালিকানা রাজ্য সরকারগুলির অধীনে রয়েছে। কেন্দ্রীয় পাবলিক সেক্টর আন্ডারটেকিং বা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলির অধীনে রয়েছে ৪৯টি বাঁধ (০.৭%); বেসরকারি সংস্থাগুলির মালিকানায় রয়েছে ০.৬% বা ৩৬টি বাঁধ এবং কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে রয়েছে ০.২% বা ১২টি বাঁধ। নির্দিষ্ট বাঁধের সংখ্যার দিক থেকে মহারাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি বাঁধ রয়েছে; যার পরে যথাক্রমে মধ্যপ্রদেশ, গুজরাট, ছত্তিশগড়, রাজস্থান, কর্ণাটক এবং ওড়িশা অবস্থান করছে। 
পুরানো হয়ে যাওয়া পরিকাঠামো, পলি জমা, জলপ্রবাহের ধরনে পরিবর্তন এবং জলবায়ুর ক্রমবর্ধমান অনিশ্চয়তা বাঁধগুলির নিয়মিত সংস্কার ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তাকে আরও স্পষ্ট করেছে। ভারতে ৪৩৯টি জলাধারের বিশ্লেষণে (সিডব্লিউসি-র তথ্য অনুযায়ী) দেখা গেছে, গড় জলাধারের বয়স ৪২ বছর এবং মোট জল সংরক্ষণ ক্ষমতায় গড়ে ১৯ শতাংশ হ্রাস ঘটেছে। বছরে গড়ে জল সংরক্ষণ ক্ষমতার ক্ষতি প্রায় ০.৭৪ শতাংশ, যা প্রতি জলাধারে বছরে প্রায় ১.৮১ এমসিএমের সমান।
ড্যাম রিহ্যাবিলিটেশন অ্যান্ড ইম্প্রুভমেন্ট প্রোগ্রাম (DRIP) 
এই ফ্ল্যাগশিপ উদ্যোগ, 'ড্যাম রিহ্যাবিলিটেশন অ্যান্ড ইম্প্রুভমেন্ট প্রজেক্ট' (DRIP), বিদ্যমান বাঁধগুলির নিরাপত্তা এবং পরিচালনগত কর্মক্ষমতা উন্নত করতে তিনটি পর্যায়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে কাঠামোগত মেরামত, স্পিলওয়ে ও গেটগুলির আধুনিকীকরণ এবং উন্নত পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা স্থাপন। DRIP বিশ্বব্যাপী বৃহত্তম বাঁধ পুনর্বাসন কর্মসূচিগুলির মধ্যে অন্যতম, যা বাঁধ নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় ভারতের একটি পদ্ধতিগত এবং ঝুঁকি-ভিত্তিক পদ্ধতির দিকে রূপান্তরকে প্রতিফলিত করে। 
DRIP প্রথম পর্যায় (২০১২–২০২১)
বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ২০১২ সালের এপ্রিলে DRIP প্রথম পর্যায় শুরু হয়। এই কর্মসূচিটি সাতটি রাজ্য জুড়ে ২২৩টি বাঁধকে অন্তর্ভুক্ত করেছিল, রাজ্যগুলি হল—ঝাড়খণ্ড, কর্ণাটক, কেরলম, মধ্যপ্রদেশ, ওড়িশা, তামিলনাড়ু এবং উত্তরাখণ্ড। এই কর্মসূচি অংশগ্রহণকারী রাজ্য এবং সংস্থাগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও বাঁধের নিরাপত্তা সংক্রান্ত অনুশীলনীগুলিকে শক্তিশালী করতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছিল। প্রসঙ্গত, ২২৩টি বাঁধের ডিজাইন ফ্লাড রিভিউ, বাঁধের স্বাস্থ্য পরিদর্শন এবং পুনর্বাসন প্রস্তাব চূড়ান্তকরণ-সহ এর বাস্তবায়ন সম্পন্ন হয়েছে, যার মধ্যে ১৪৪টি বাঁধের পুনর্বাসন কাজ বরাদ্দ করা হয়েছে। এই কর্মসূচিটি মূলত যে বিষয়গুলির ওপর জোর দিয়েছিল তার মধ্যে রয়েছে:
বাঁধের কাঠামোগত পুনর্বাসন এবং আধুনিকীকরণ।
বাঁধের নিরাপত্তা পরিদর্শন এবং মূল্যায়ন।
জরুরি পদক্ষেপ পরিকল্পনা বা এমার্জেন্সি অ্যাকশন প্ল্যান (EAPs) তৈরি।
দক্ষতা বৃদ্ধি এবং প্রশিক্ষণ কর্মসূচি।
ড্যাম হেলথ অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন মনিটরিং অ্যাপ্লিকেশন (DHARMA)-এর প্রবর্তন।
DRIP দ্বিতীয় এবং তৃতীয় পর্যায় 
২০২১ সালের অক্টোবরে DRIP দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায় কার্যকর করা হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ের এই প্রকল্পটি বিশ্বব্যাংক এবং এআইআইবি (AIIB) দ্বারা যৌথভাবে অর্থায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১০,২১১ কোটি টাকা (দ্বিতীয় পর্যায়: ৫,১০৭ কোটি টাকা; তৃতীয় পর্যায়: ৫,১০৪ কোটি টাকা), যার মধ্যে ৭,০০০ কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ এবং ৩,২১১ কোটি টাকা অংশগ্রহণকারী রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি বহন করছে। দ্বিতীয় এবং তৃতীয় পর্যায় মিলিয়ে মোট ১০ বছর স্থায়ী হবে, যেখানে প্রতিটি পর্যায় ছয় বছর ধরে চলবে এবং দুই বছরের একটি ওভারল্যাপ (একটির ওপর অন্যটির আংশিক সময় ব্যাপ্তি) থাকবে। মোট ১৯১টি বাঁধের জন্য ৫,০৫৩ কোটি টাকার পুনর্বাসন প্রস্তাব (প্রজেক্ট স্ক্রিনিং টেমপ্লেটস – PSTs) অনুমোদিত হয়েছে। ২০২৫ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত DRIP-II এর অধীনে মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২,২২৫ কোটি টাকা, যার মধ্যে ৪৩টি বাঁধের প্রধান প্রধান পরিকাঠামোগত পুনর্বাসন কাজ সম্পন্ন হয়েছে। 
এই প্রকল্পটি ১৯টি রাজ্য এবং তিনটি কেন্দ্রীয় সংস্থা (CWC, ভাকরা বিয়াস ম্যানেজমেন্ট বোর্ড এবং দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন) জুড়ে ৭৩৬টি বাঁধকে অন্তর্ভুক্ত করে। DRIP দ্বিতীয় এবং তৃতীয় পর্যায়ের অধীনে নিরাপত্তা উন্নয়নের জন্য পরিকল্পিত প্রধান বাঁধগুলির মধ্যে রয়েছে: ভাকরা বাঁধ (হিমাচল প্রদেশ), রঞ্জিত সাগর বাঁধ (পাঞ্জাব), এনটিআর সাগর (তেলেঙ্গানা), নাগার্জুন সাগর বাঁধ (তেলেঙ্গানা), গান্ধীসাগর বাঁধ (মধ্যপ্রদেশ), কাদানা (গুজরাট), জিরগো বাঁধ (উত্তরপ্রদেশ), ইম্ফল ব্যারেজ (মণিপুর), মিন্তদু লেশকা বাঁধ (মেঘালয়), শিলাবতী ব্যারেজ (পশ্চিমবঙ্গ) এবং গায়ত্রী বাঁধ (পশ্চিমবঙ্গ)-সহ অন্যান্য বাঁধ। 
DRIP দ্বিতীয় এবং তৃতীয় পর্যায়ের চারটি প্রধান অংশ রয়েছে:
নিরাপত্তা এবং কর্মক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাঁধ ও সংশ্লিষ্ট কাঠামোগুলির পুনর্বাসন।
রাজ্য ও কেন্দ্রীয় স্তরে বাঁধ নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে উন্নত করতে প্রাতিষ্ঠানিক শক্তিশালীকরণ।
দীর্ঘমেয়াদী পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের সহায়তার জন্য আয় বৃদ্ধির পদক্ষেপ।
কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্প ব্যবস্থাপনা।
প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো: ড্যাম সেফটি অ্যাক্ট, ২০২১ (বাঁধ নিরাপত্তা আইন, ২০২১) 
'ড্যাম সেফটি অ্যাক্ট, ২০২১' (বাঁধ নিরাপত্তা আইন, ২০২১) ৩০ ডিসেম্বর ২০২১ থেকে কার্যকর হয়েছে এবং এটি দেশজুড়ে নির্দিষ্ট বাঁধগুলির নজরদারি, পরিদর্শন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একটি ব্যাপক কাঠামো প্রদান করে। এই আইনের অধীনে একটি নির্দিষ্ট বাঁধ বলতে এমন একটি বাঁধকে বোঝায় যার উচ্চতা ১৫ মিটারের বেশি, অথবা যদি এটি নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড পূরণ করে তবে উচ্চতা ১০ থেকে ১৫ মিটারের মধ্যে হতে পারে। এই আইনের অধীনে বিভিন্ন নিয়মাবলী মেনে চলা এখন নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বাঁধের মালিকদের আইনি বাধ্যবাধকতায় পরিণত হয়েছে। 
এটি একটি চার-স্তর বিশিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো প্রতিষ্ঠা করে যার মধ্যে রয়েছে: সর্বোচ্চ সংস্থা হিসাবে ন্যাশনাল কমিটি অন ড্যাম সেফটি (NCDS), নিয়ন্ত্রক ও বাস্তবায়নকারী শাখা হিসাবে ন্যাশনাল ড্যাম সেফটি অথরিটি (NDSA), স্টেট কমিটি অন ড্যাম সেফটি (SCDS), এবং রাজ্য স্তরে নজরদারি, পরিদর্শন ও নিয়মপালন তদারকির জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত স্টেট ড্যাম সেফটি অর্গানাইজেশন (SDSO)। বাঁধের মালিকানা রয়েছে এমন ৩১টি রাজ্যের সবকটিই ইতোমধ্যে SDSO গঠন করেছে।
এই আইনটি আরও কিছু মূল নিরাপত্তা বিধানকে বাধ্যতামূলক করে, যার মধ্যে রয়েছে নিয়মিত পরিদর্শন, ইন্সট্রুমেন্টেশন সিস্টেম (পরিমাপক যন্ত্রপাতি) স্থাপন, ব্যাপক বাঁধ নিরাপত্তা মূল্যায়ন, ঝুঁকি মূল্যায়ন সমীক্ষা, জলের প্রবাহের পূর্বাভাস (ইনফ্লো ফোরকাস্টিং), আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম (আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা), জলাধারগুলির সমন্বিত পরিচালনা, বিপদের আশঙ্কা বা হ্যাজার্ড পোটেনশিয়াল নির্ধারণ এবং পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ নির্দেশিকা ও জরুরি পদক্ষেপ পরিকল্পনা (EAPs) প্রস্তুত করা। এটি রক্ষণাবেক্ষণ এবং মেরামতের জন্য পর্যাপ্ত তহবিল বরাদ্দ করার দায়িত্বও বাঁধের মালিকদের ওপর ন্যস্ত করে, যার ফলে নিরাপত্তা বিধি মেনে চলার বিষয়টিকে দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক বরাদ্দের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। 
কিছু মূল অর্জনের মধ্যে রয়েছে:
'ড্যাম হেলথ অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন মনিটরিং অ্যাপ্লিকেশন' (DHARMA) প্ল্যাটফর্মে সমস্ত ৬,৬২৮টি নির্দিষ্ট বাঁধের নথিভুক্তি বা রেজিস্ট্রেশন।
উন্নত বাঁধ নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ এবং তথ্য ব্যবস্থাপনার জন্য DHARMA ওয়েব-ভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম এবং মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের সূচনা।
বার্ষিক প্রায় ১৩,০০০টি বাঁধ পরিদর্শন সম্পন্ন করা, যার রেকর্ড ডিজিটালি সংরক্ষণ করা হচ্ছে।
একটি ওয়েব-ভিত্তিক মূল্যায়ন সরঞ্জাম ব্যবহার করে দেশজুড়ে নির্দিষ্ট বাঁধগুলির 'র‍্যাপিড রিস্ক স্ক্রিনিং' (দ্রুত ঝুঁকি যাচাইকরণ) বাস্তবায়ন করা। এ পর্যন্ত ৫,৫৫৩টি নির্দিষ্ট বাঁধের জন্য এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছে।
'ড্যাম সেফটি অ্যাক্ট, ২০২১'-এর অধীনে অফিসিয়াল গেজেটে ২০টি নিয়মাবলী প্রকাশ।
এমএনআইটি (MNIT) জয়পুরে 'ন্যাশনাল সেন্টার ফর আর্থকোয়েক সেফটি অফ ড্যামস' (বাঁধের ভূমিকম্প নিরাপত্তা সংক্রান্ত জাতীয় কেন্দ্র) প্রতিষ্ঠা।
ন্যাশনাল কমিটি অন ড্যাম সেফটি (NCDS) 
ন্যাশনাল কমিটি অন ড্যাম সেফটি (NCDS) হল 'ড্যাম সেফটি অ্যাক্ট, ২০২১'-এর অধীনে সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারক সংস্থা, যা দেশজুড়ে অভিন্ন বাঁধ নিরাপত্তা মান নিশ্চিত করতে নীতি প্রণয়ন এবং নিয়মাবলী সুপারিশ করার জন্য দায়ী। বাঁধের ব্যর্থতা-সম্পর্কিত দুর্যোগ প্রতিরোধ করতে এবং বাঁধ নিরাপত্তার মান বজায় রাখতে প্রথম তফসিলে (First Schedule) উল্লিখিত প্রয়োজনীয় কার্যাবলী এটি সম্পাদন করে। এটি বাঁধ-সম্পর্কিত দুর্যোগ রোধে প্রযুক্তিগত ও নিয়ন্ত্রক মানদণ্ড নির্ধারণের মাধ্যমে জাতীয় বাঁধ নিরাপত্তা কাঠামোকে দিকনির্দেশনা প্রদান করে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে এটি গঠিত হওয়ার পর থেকে, NCDS ১১-টি সভা সম্পন্ন করেছে এবং বাঁধ নিরাপত্তার জন্য নিয়ন্ত্রক কাঠামো শক্তিশালী করতে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
ন্যাশনাল ড্যাম সেফটি অথরিটি (NDSA)
নির্দিষ্ট বাঁধগুলির যথাযথ নজরদারি, পরিদর্শন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য জাতীয় কমিটি যে নীতি, নির্দেশিকা ও মানদণ্ড তৈরি করেছে, সেগুলি কার্যকর করতে দ্বিতীয় তফসিলে উল্লেখিত দায়িত্বগুলি এনডিএসএ (NDSA) পালন করবে।
“বাঁধের মালিক” বলতে কেন্দ্রীয় সরকার বা কোনও রাজ্য সরকার, অথবা এক বা একাধিক সরকার যৌথভাবে, সরকারি সংস্থা, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা কোনও কোম্পানি এবং এদের মধ্যে যে কোনও ব্যক্তি বা সংস্থাকে বোঝায়, যারা কোনও নির্দিষ্ট বাঁধের মালিকানা রাখে, নিয়ন্ত্রণ করে, পরিচালনা করে বা রক্ষণাবেক্ষণ করে।
রাজ্য স্তরের প্রতিষ্ঠান এবং বাঁধের মালিকগণ 
'ড্যাম সেফটি অ্যাক্ট, ২০২১' (বাঁধ নিরাপত্তা আইন, ২০২১) রাজ্য স্তরে 'স্টেট কমিটি অন ড্যাম সেফটি' (SCDS) গঠন এবং 'স্টেট ড্যাম সেফটি অর্গানাইজেশন' (SDSO) প্রতিষ্ঠা করা বাধ্যতামূলক করে। নির্দিষ্ট বাঁধের মালিকানাধীন রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি এই আইন অনুযায়ী SCDS এবং SDSO স্থাপন করেছে। SDSO-গুলি তাদের এক্তিয়ারভুক্ত সমস্ত নির্দিষ্ট বাঁধের স্থায়ী নজরদারি, পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণের জন্য; বাঁধের ডেটাবেস বা তথ্যভাণ্ডার রক্ষণাবেক্ষণের জন্য; NDSA দ্বারা নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী বাঁধগুলির দুর্বলতা ও বিপদের মাত্রার শ্রেণীবিন্যাস করার জন্য এবং বাঁধের মালিকদের কাছে সংশোধনমূলক নিরাপত্তা ব্যবস্থার সুপারিশ করার জন্য দায়ী থাকে।
আইনের অধীনে বাঁধের মালিকদের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করতে হবে, যার মধ্যে রয়েছে:
প্রতিটি বাঁধে একটি ড্যাম সেফটি ইউনিট গঠন করা।
বর্ষার আগে ও পরে পরিদর্শন করা, পাশাপাশি, কোনও দুর্যোগ বা বিপদের লক্ষণ দেখা দিলে বা তার পরে পরিদর্শন করা।
রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতির জন্য অর্থ বরাদ্দ করা।
জরুরি পরিস্থিতির জন্য কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা।
নির্দিষ্ট সময় অন্তর ঝুঁকি মূল্যায়ন সমীক্ষা পরিচালনা করা।
কারিগরি নথিপত্র প্রস্তুত ও সংরক্ষণ করা।
বিশেষজ্ঞ প্যানেলের মাধ্যমে নিয়মিত বিস্তৃত ড্যাম সেফটি বা বাঁধ নিরাপত্তা মূল্যায়ন করা।
হাইড্রো-মেটিওরোলজিক্যাল ও ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা।
বাঁধের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি স্থাপন করা।
আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
বাধ্যতামূলক পরিদর্শনসমূহ 
২৪.০৪.২০২৪ তারিখে বিজ্ঞাপিত নিয়মাবলী অনুযায়ী, বাঁধের মালিকদের সমস্ত নির্দিষ্ট বাঁধের বর্ষা-পূর্ব এবং বর্ষা-পরবর্তী পরিদর্শন করা বাধ্যতামূলক। বর্ষা-পূর্ব এবং বর্ষা-পরবর্তী পরিদর্শনের ওপর ভিত্তি করে এগুলিকে তিনটি বিভাগে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়। 'ক্যাটিগরি ১' বা প্রথম বিভাগটি এমন জটিল ত্রুটিগুলিকে নির্দেশ করে যা সমাধান না করা হলে বাঁধের ব্যর্থতা বা ভাঙন ঘটতে পারে। 'ক্যাটিগরি ২' বা দ্বিতীয় বিভাগের মধ্যে এমন প্রধান ত্রুটিযুক্ত বাঁধগুলি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যেগুলির জন্য দ্রুত সংশোধনমূলক পদক্ষেপের প্রয়োজন। 'ক্যাটিগরি ৩' বা তৃতীয় বিভাগটি সামান্য ত্রুটিযুক্ত অথবা কোনো ত্রুটিহীন বাঁধগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করে। ২০২৫ সালের বর্ষা-পরবর্তী পরিদর্শনের ওপর ভিত্তি করে, ৩টি বাঁধ প্রথম বিভাগের (ক্যাটাগরি ১) অধীনে এবং ১৮৮টি বাঁধ দ্বিতীয় বিভাগের (ক্যাটিগরি ২) অধীনে পড়েছে। বাঁধের বিভাগের ওপর নির্ভর করে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বাঁধের মালিকদের পক্ষ থেকে উপযুক্ত সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। 
দক্ষতা বৃদ্ধি 
আইআইটি রুরকিতে (IIT Roorkee) সিসমিক হ্যাজার্ড ম্যাপিং (ভূমিকম্পের ঝুঁকি সংক্রান্ত মানচিত্রায়ন) এবং জলাধারে পলি জমা হওয়া—এই বিষয়গুলিকে মূল গুরুত্ব দিয়ে বাঁধ নিরাপত্তার ওপর ‘সেন্টার অফ এক্সিলেন্স’ (CoE) প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে; পাশাপাশি, আইআইএসসি ব্যাঙ্গালোরে (IISc Bangalore) বাঁধের ব্যাপক ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং বাঁধের জন্য উন্নত নির্মাণ, পুনর্বাসন ও উপাদান পরীক্ষার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে আরেকটি কেন্দ্র গড়ে তোলা হচ্ছে। এছাড়াও, এমএনআইটি জয়পুরে (MNIT Jaipur) ‘ন্যাশনাল সেন্টার ফর আর্থকোয়েক সেফটি অফ ড্যামস’ (বাঁধের ভূমিকম্প নিরাপত্তা সংক্রান্ত জাতীয় কেন্দ্র) স্থাপন করা হচ্ছে। ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষ থেকে আইআইটি রুরকি এবং আইআইএসসি বেঙ্গালুরুতে বাঁধ নিরাপত্তার ওপর এম.টেক (M. Tech) প্রোগ্রামও শুরু হয়েছে।
অপরাধ এবং দণ্ডসমূহ
এই আইনের 'অধ্যায় ১০' (Chapter X)-এর অধীনে কেন্দ্রীয় সরকার, রাজ্য সরকার, ন্যাশনাল কমিটি, অথরিটি (NDSA), স্টেট কমিটি বা স্টেট ড্যাম সেফটি অর্গানাইজেশন (SDSO)-এর পক্ষ থেকে প্রদত্ত যেকোনো নির্দেশ পালনে বাধা সৃষ্টি এবং অস্বীকৃতির জন্য অপরাধ ও দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এর শাস্তির মধ্যে রয়েছে কারাদণ্ড, যার মেয়াদ এক বছর পর্যন্ত বাড়তে পারে, অথবা জরিমানা, কিংবা উভয় দণ্ডই হতে পারে। আর যদি এই ধরণের বাধা সৃষ্টি বা নির্দেশ পালনে অস্বীকৃতির কারণে কোনো প্রাণহানি ঘটে বা তার আসন্ন বিপদ তৈরি হয়, তবে তা এমন কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হবে যার মেয়াদ দুই বছর পর্যন্ত বাড়তে পারে।
ভবিষ্যতের রূপরেখা 
কয়েক দশক ধরে গড়ে ওঠা ভারতের বিশাল বাঁধ নেটওয়ার্ক অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিকে সচল রাখছে। যেহেতু এহেন সম্পদের বয়স বাড়ছে এবং ক্রমশ পরিবর্তনশীল জলবায়ু পরিস্থিতির মধ্যে এগুলি পরিচালিত হচ্ছে, তাই এখন মূল মনোযোগ সম্প্রসারণ থেকে সরিয়ে নিরাপত্তা, স্থিতিস্থাপকতা এবং জীবনচক্র ব্যবস্থাপনার (lifecycle management) দিকে স্থানান্তরিত হয়েছে। 'DRIP'-এর মতো বৃহৎ আকারের কর্মসূচি, 'ড্যাম সেফটি অ্যাক্ট, ২০২১'-এর অধীনে সংবিধিবদ্ধ তদারকি এবং 'DHARMA'-র মতো ডিজিটাল সরঞ্জামগুলির ব্যবহার—ভারতে একটি পরিপক্ক বাঁধ নিরাপত্তা বাস্তুতন্ত্রের প্রতিফলন ঘটায়। একত্রে, এই উদ্যোগগুলি বাঁধের নিরাপত্তাকে শক্তিশালী করে, প্রাচীন হতে থাকা পরিকাঠামোর কর্মক্ষমতা উন্নত করে এবং উদীয়মান ঝুঁকিগুলির বিরুদ্ধে স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি করে। 

তথ্যসূত্র

Ministry of Jal Shakti

International Commission on Irrigation & Drainage

World Bank

Others

Click here to see pdf 

*******

 

SSS/RP..


(রিলিজ আইডি: 2261455) ভিজিটরের কাউন্টার : 9
এই রিলিজটি পড়তে পারেন: English , Urdu , हिन्दी , Bengali-TR , Tamil