কয়লা মন্ত্রক
৩৭,৫০০ কোটি টাকার আর্থিক বরাদ্দসহ ভূগর্ভস্থ কয়লা/লিগনাইট গ্যাসীকরণ প্রকল্পসমূহের প্রসারে একটি প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা
পোস্ট করার দিনক্ষণ:
13 MAY 2026 3:31PM by PIB Agartala
নয়াদিল্লি, ১৩ মে, ২০২৬: প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর পৌরহিত্যে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ৩৭,৫০০ কোটি টাকা আর্থিক বরাদ্দ করা সহ ‘ভূগর্ভস্থ কয়লা/লিগনাইট গ্যাসীকরণ প্রকল্প প্রচার’ বিষয়ের জন্য একটি প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে।
এই প্রকল্পটি ভারতের কয়লা/লিগনাইট গ্যাসীকরণ কর্মসূচিকে ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০ মিলিয়ন টন (এমটি) কয়লা গ্যাসীকরণের জাতীয় লক্ষ্য অর্জন, জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং এলএনজি (৫০%-এর বেশি আমদানিকৃত), ইউরিয়া (~২০% আমদানিকৃত), অ্যামোনিয়া (~১০০% আমদানিকৃত) ও মিথানল (~৮০–৯০% আমদানিকৃত)-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্য আমদানির ওপর নির্ভরতা হ্রাসের পথ সুগম করবে৷
এর পাশাপাশি একটি তাৎপর্যপূর্ণ সংস্কারমূলক পদক্ষেপ হিসেবে, সরকার ‘নন-রেগুলেটেড সেক্টর’ (এনআরএস)-এর লিঙ্কেজ নিলাম কাঠামোর আওতাধীন “কয়লা গ্যাসীকরণের মাধ্যমে সিনগ্যাস উৎপাদন” উপ-খাতে কয়লা লিঙ্কেজের মেয়াদ বাড়িয়ে ৩০ বছর পর্যন্ত করেছে। এর ফলে কয়লা গ্যাসীকরণ প্রকল্পগুলোতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী নীতিগত নিশ্চয়তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।
প্রকল্পটির প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:
- সিনগ্যাস এবং এর আনুষঙ্গিক পণ্য উৎপাদনের লক্ষ্যে নতুন ভূগর্ভস্থ কয়লা/লিগনাইট গ্যাসীকরণ প্রকল্পগুলোকে উৎসাহিত করার জন্য মোট ৩৭,৫০০ কোটি টাকার আর্থিক বরাদ্দ রাখা হয়েছে; যার লক্ষ্য হলো প্রায় ৭৫ মিলিয়ন টন কয়লা/লিগনাইট গ্যাসীকরণ করা।
- প্ল্যান্ট ও যন্ত্রপাতির জন্য মোট ব্যয়ের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত আর্থিক প্রণোদনা প্রদান করা হবে।
- একটি স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকল্পগুলোকে বাছাই করা হবে; এই মূল্যায়ন কাঠামোতে প্রকল্পের ব্যয়, ব্যবহৃত কয়লার পরিমাণ এবং উৎপাদিত সিনগ্যাসের পরিমাণকে মূল মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
- প্রকল্পের বিভিন্ন নির্দিষ্ট ধাপ বা মাইলফলক অর্জনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে, চারটি সমান কিস্তিতে এই প্রণোদনার অর্থ প্রদান করা হবে।
- কোনো একক প্রকল্পের জন্য আর্থিক প্রণোদনার সর্বোচ্চ সীমা ৫,০০০ কোটি টাকা; কোনো একক পণ্যের (সিন্থেটিক ন্যাচারাল গ্যাস এবং ইউরিয়া ব্যতীত) ক্ষেত্রে এই সীমা ৯,০০০ কোটি টাকা; এবং কোনো একক সংস্থা বা গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে তাদের আওতাধীন সমস্ত প্রকল্পের জন্য মোট প্রণোদনার সর্বোচ্চ সীমা ১২,০০০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
- এই প্রকল্পের আওতায় প্রদত্ত প্রণোদনা বাণিজ্যিক কয়লা খনন ব্যবস্থা কিংবা কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকারের অন্যান্য মন্ত্রকের বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় প্রাপ্য প্রণোদনার অতিরিক্ত হিসেবে গণ্য করা হবে; অর্থাৎ, এই প্রকল্পের প্রণোদনা গ্রহণ করলে অন্যান্য প্রকল্পের প্রণোদনা প্রাপ্তির অধিকার কোনোভাবেই খর্ব করা হবে না।
- এই প্রকল্পটি কোনো নির্দিষ্ট প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়৷ তবে এক্ষেত্রে দেশীয় প্রযুক্তির ব্যবহারকে বিশেষভাবে উৎসাহিত করা হবে।
কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সুবিধাসমূহ:
- প্রত্যাশিত বিনিয়োগ সংগ্রহ: ২.৫ থেকে ৩.০ লক্ষ কোটি টাকা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
- জ্বালানি নিরাপত্তা ও আমদানি প্রতিস্থাপন: কয়লা সম্পদের বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি এলএনজি, ইউরিয়া, অ্যামোনিয়া, অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট, মিথানল এবং কোকিং কয়লার আমদানি প্রতিস্থাপন করবে৷ এর ফলে ভারত বিশ্বব্যাপী মূল্যের অস্থিরতা এবং ভূ-রাজনৈতিক কারণে সৃষ্ট সরবরাহ শৃঙ্খলের বিঘ্ন থেকে সুরক্ষিত থাকবে এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’ ও ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র লক্ষ্যসমূহকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
- কর্মসংস্থান সৃষ্টি: এই প্রকল্পের আওতায় কয়লা-সমৃদ্ধ অঞ্চলসমূহে ২৫টি প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৫০,০০০ (প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ) কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে অনুমান করা হয়েছে।
- সরকারের রাজস্ব আয়: এই প্রকল্পের অধীনে পরিকল্পিত ৭৫ মিলিয়ন টন কয়লা গ্যাসীকরণের মাধ্যমে কয়লা/লিগনাইট ব্যবহার থেকে বার্ষিক ৬,৩০০ কোটি টাকা রাজস্ব আয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে৷ এর পাশাপাশি জিএসটি এবং অন্যান্য শুল্ক বাবদ আনুষঙ্গিক বা ‘ডাউনস্ট্রিম’ রাজস্বও অর্জিত হবে।
- প্রযুক্তিগত ইকোসিস্টেম: দেশীয় প্রযুক্তির বিকাশ ঘটিয়ে এবং বিদেশি ইপিসি ঠিকাদারদের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ ‘ভূর্গস্থ কয়লা গ্যাসীকরণ’ সক্ষমতাকে শক্তিশালী করে তুলবে৷
উল্লেখ্য, ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম কয়লা (~৪০১ বিলিয়ন টন) এবং লিগনাইট (~৪৭ বিলিয়ন টন) ভাণ্ডারের অধিকারী। দেশের সামগ্রিক জ্বালানি মিশ্রণে কয়লার অবদান ৫৫ শতাংশেরও বেশি। গ্যাসিফিকেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কয়লা বা লিগনাইটকে ‘সিন্থেসিস গ্যাস’ (সিঙ্গ্যাস)-এ রূপান্তরিত করা হয়৷ এটি জ্বালানি ও রাসায়নিক দ্রব্য উৎপাদনের একটি বহুমুখী কাঁচামাল, যা ভারতকে উচ্চমূল্যের আমদানিকৃত পণ্যের বিকল্প তৈরি করতে এবং বৈশ্বিক সরবরাহ বিঘ্ন ও মূল্যের অস্থিরতা থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে সক্ষম করে তুলবে।
২০২৫ অর্থবছরে এলএনজি, ইউরিয়া, অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট, অ্যামোনিয়া, কোকিং কয়লা, মিথানল, ডিএমই এবং অন্যান্য - এমন সব প্রধান পণ্যের আমদানিবিল প্রায় ২.৭৭ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে; পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ভারতের এই অর্থনৈতিক দুর্বলতা আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।
‘জাতীয় কয়লা গ্যাসফিকেশন মিশন’ (২০২১) এবং ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে অনুমোদিত ৮,৫০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই এই নতুন প্রকল্পটি প্রণীত হয়েছে, যার আওতায় ৬,২৩৩ কোটি টাকার ৮টি প্রকল্প বর্তমানে বাস্তবায়নাধীন রয়েছে৷ এটি পূর্ববর্তী উদ্যোগগুলোর গতিধারাকে কাজে লাগিয়ে আরও উল্লেখযোগ্য ও বর্ধিত সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে এই অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করবে।
*****
PS/DM/KMD
(প্রেস বিজ্ঞপ্তির আইডি: 2260766)
ভিজিটরদের কাউন্টার : 5