শিল্পওবাণিজ্যমন্ত্রক
azadi ka amrit mahotsav

বিশ্বজুড়ে সংকটের সময়েও ভারতীয় অর্থনীতি তার সুস্থিতি বজায় রেখেছে : সিআইআই বার্ষিক বাণিজ্য সম্মেলনে কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী পীযুষ গোয়েল

প্রকাশিত: 12 MAY 2026 5:20PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ১২ মে, ২০২৬ 


বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নানাবিধ চ্যালেঞ্জের মধ্যেও ভারতীয় অর্থনীতি তার সুদৃঢ় ভিত্তি নিয়ে সুস্থিতি বজায় রেখেছে বলে কেন্দ্রীয় শিল্প বাণিজ্য মন্ত্রী পীযুষ গোয়েল মন্তব্য করেছেন। 

নতুন দিল্লিতে বণিক সংগঠন সিআইআই-এর বার্ষিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ভারত এখন বিশ্বের দ্রুততম বিকাশশীল বৃহৎ অর্থনীতি। দেশের কাছে ১১ মাস আমদানী করার মতো পর্যাপ্ত বিদেশী মুদ্রার সঞ্চয় রয়েছে। চলতি বছরে রপ্তানির পরিমাণ হতে চলেছে ৮৬৩ বিলিয়ন ডলার, যা এক সর্বকালীন রেকর্ড। পণ্য ও পরিষেবা ক্ষেত্রে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি দেশের বার্ষিক রেমিটেন্স-এর থেকে অনেক কম, যা সুদৃঢ় অর্থনৈতিক সাফল্যের ইঙ্গিত দেয়।

শ্রী গোয়েল বলেন, ভারত ধারাবাহিকভাবে সংকটকে সুযোগে রূপান্তরিত করেছে, প্রতিকূলতার সময়ই দেশ আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি ভারতকে আরও দক্ষ, উৎপাদনশীল ও আত্মনির্ভর হয়ে ওঠার বার্তা দিচ্ছে। 

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারত আত্মনির্ভরতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে বলে জানিয়ে শ্রী গোয়েল বলেন, ভারতের অগ্রগতির ধারাকে শক্তিশালী করতে হলে সরকার ও শিল্পক্ষেত্রকে একযোগে কাজ করতে হবে।

ভারতীয় শিল্পক্ষেত্রে একে অপরকে সাহায্য করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রী বলেন, শিল্পক্ষেত্রের সম্মিলিত বৃদ্ধি দেশের ভবিষ্যতকে শক্তিশালী করবে। আত্মনির্ভরতা, গুণমান, উৎপাদনশীলতা, উদ্ভাবন ও সম্মিলিত প্রয়াসের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে তিনি বলেন, সরকারের অর্থনৈতিক চিন্তাভাবনায় এই নীতিগুলি দিশা নির্দেশকের কাজ করেছে। 

দক্ষতা বৃদ্ধি ও অপচয় হ্রাসের প্রসঙ্গে তিনি ২০১৫ সালে শুরু হওয়া এলইডি লাইটিং কর্মসূচির উল্লেখ করে বলেন, এরফলে বার্ষিক প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার অর্থ সাশ্রয় হয়েছে। 

অপচয় হ্রাস, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং আমদানী নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে সম্ভাব্য সবরকমের প্রয়াস নিতে শিল্পমহলের প্রতি আবেদন জানান তিনি। শ্রী গোয়েল বলেন, মেট্রো ও ব়্যাপিড রেল সিস্টেম সহ গণ পরিবহণ ব্যবস্থায় বিনিয়োগ এবং শিল্পমহল ও নাগরিকদের সচেতন সম্মিলিত উদ্যোগ ভারতীয় অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে। 

ভারতের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি প্রসঙ্গে শ্রী গোয়েল বলেন, গত সাড়ে ৩ বছরে ৩৮টি উন্নত দেশের সঙ্গে ৯টি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এগুলি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে ও রপ্তানি বাড়াতে ভারতকে সাহায্য করবে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলি ভারতের প্রতিযোগী না হয়ে পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে এবং বৃহত্তর বিশ্ব বাজারে ভারতের প্রবেশের সুযোগ করে দেবে। 

তিনি বলেন, সুইজারল্যাণ্ড, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলির মাথাপিছু আয় অনেক বেশি, কিন্তু তারা ভারতের চেয়ে কম খরচে পণ্য উৎপাদন করতে পারে না। ওই অর্থনীতিগুলি প্রযুক্তি ও শিল্পগত সুবিধা ভোগ করলেও ভারতে প্রতিযোগিতামূলক উৎপাদন এবং প্রতিভার সুবিধা রয়েছে। ফলে ভারত ওই দেশগুলির বিশাল বাজারে প্রবেশাধিকার পাবে। 

মু্ক্ত বাণিজ্য চুক্তিগুলির মূল লক্ষ্য হল, ভারতের রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানো, বিনিয়োগ আকর্ষণ করা এবং বিশ্ব বাজারে ভারতীয় সংস্থাগুলির জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করা। শ্রী গোয়েল শিল্পক্ষেত্রকে এই চুক্তিগুলি কাজে লাগানোর আহ্বান জানান। 

বিশ্ব বাণিজ্যের পরিবর্তনশীল প্রকৃতির উল্লেখ করে শ্রী গোয়েল বলেন, দক্ষ পেশাদার ও পরিষেবার চলাচল ক্রমশই বাড়ছে, বর্তমানে উপসাগরীয় দেশগুলিতে ১ কোটিরও বেশি ভারতীয় কাজ করছেন। শুধুমাত্র সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতেই কর্মরত ভারতীয়ের সংখ্যা গত ১২-১৩ বছরে ১৮ লক্ষ থেকে বেড়ে ৪৫ লক্ষ হয়েছে।  

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স এবং কোয়ান্টাম কম্পিউটিং-কে কাজে লাগানোর জন্য শিল্পমহলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শ্রী গোয়েল বলেন, এআই-কে কেবল খরচ কমানোর উপায় হিসেবে না দেখে ব্যবসা সম্প্রসারণ, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বাজারের পরিসর বৃদ্ধির একটি মাধ্যম হিসেবে দেখা উচিত। সিআইআই-এর মতো বণিক সংগঠনগুলিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার রূপান্তরকারী সম্ভাবনা নিয়ে গভীরভাবে ভাবনাচিন্তা করার পরামর্শ দেন তিনি। শ্রী গোয়েল বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবসায়িক সংস্থাকে আরও স্মার্ট, উৎপাদনশীল এবং বিশ্বজুড়ে প্রতিযোগিতা-সক্ষম করে তুলতে পারে। 

কর্মীদের এআই-এর স্মার্ট ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দিতে শিল্পসংস্থাগুলির প্রতি অনুরোধ জানিয়ে শ্রী গোয়েল বলেন, ভারত কল সেন্টার থেকে বিপিও, সফটওয়্যার পরিষেবা এবং উন্নত ব্যবসায়িক সমাধানের দিকে অগ্রসর হয়ে পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছে। 

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগেও আতিথেয়তা, গহনা শিল্প এবং বিভিন্ন জনকেন্দ্রিক শিল্প মানুষের সৃজনশীলতা ও দক্ষতার ওপরেই নির্ভরশীল থাকবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। 

বিশ্বজনীন সক্ষমতা কেন্দ্র-জিসিসি-র দ্রুত বৃদ্ধির কথা তুলে ধরে শ্রী গোয়েল বলেন, ভারতে ইতিমধ্যেই ১,৮০০টি জিসিসি চালু হয়েছে। অদূর ভবিষ্যতে আরও ৫০০টি চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই জিসিসি গুলি থেকে রপ্তানি বার্ষিক প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ হারে বাড়ছে, বর্তমানে এর পরিমাণ প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার। এখানে প্রায় ২০ লক্ষ মানুষের সরাসরি কর্মসংস্থান হয়েছে। 

শ্রী গোয়েল পরীক্ষাগারে প্রস্তুত হিরে, পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তিভিত্তিক উৎপাদন এবং কৃত্রিম গহনার মতো উদীয়মান ক্ষেত্রের উল্লেখ করে বলেন, এই ক্ষেত্রগুলি ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নতুন রপ্তানির সুযোগ তৈরি করতে পারে। 

আগামী ৫ থেকে ৬ বছরের মধ্যে ২ ট্রিলিয়ন ডলার রপ্তানির লক্ষ্য অর্জন করার জন্য শিল্পক্ষেত্রকে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে শ্রী গোয়েল বলেন, বার্ষিক ১৫ শতাংশ হারে রপ্তানি বাড়লে এই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হবে। উদ্ভাবন, প্রতিযোগিতা-সক্ষমতা এবং বিশ্ব বাজারের পরিসর বৃদ্ধির মাধ্যমে অটো মোবাইল, ইস্পাত ও স্টার্টআপ সহ অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্র এই লক্ষ্যে এগিয়ে চলবে বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেন। 

শিল্পমহলের জন্য চারদফা কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে শ্রী গোয়েল বলেন, ভারতীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলিকে এখন “অ্যাসেম্বলড ইন ইন্ডিয়া” থেকে “ডিজাইনড, ইঞ্জিনিয়ার্ড অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচার্ড ইন ইন্ডিয়া”-তে পৌঁছোতে হবে। মূল্য শৃঙ্খলের আরও ওপরে ওঠার, মূল্য শৃঙ্খলের গভীরে প্রবেশ করার, উচ্চতর মূল্য সংযোজনের ওপর মনোযোগ দেওয়ার এবং গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলিতে আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠার আহ্বান জানান তিনি। 

গুণগত মানের সঙ্গে কোনওরকম আপোস না করার পরামর্শ দিয়ে শ্রী গোয়েল বলেন, উৎপাদন ব্যবস্থাকে “জিরো ডিফেক্ট জিরো এফেক্ট” হয়ে উঠতে হবে। সুস্থিতি এবং পরিবেশ সচেতনতাকে উৎপাদন ব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। 

গবেষণা ও উন্নয়ন এবং উদ্ভাবনে বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে শ্রী গোয়েল বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের চেষ্টা চালাতে হবে। ভারতীয় শিল্পমহল দেশীয় মানকে বিশ্বমানের সমতুল্য করে তুলতে পারলে, দেশীয় পণ্য বিশ্বজুড়ে প্রতিযোগিতার সামর্থ্য অর্জন করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। 

কৃত্রিম মেধা, মেশিন লার্নিং ও কোয়ান্টাম কম্পিউটিং-এর মতো উদীয়মান প্রযুক্তিগুলিতে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য শ্রী গোয়েল শিল্পজগতের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, তথ্য প্রযুক্তি বিপ্লবের সময় ভারত যেমন বিশ্বকে নেতৃত্ব দিয়েছিল, তেমনি নতুন প্রযুক্তির এই যুগেও বিশ্বকে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা ভারতীয় প্রতিভার রয়েছে।          


SC / SD /AG


(রিলিজ আইডি: 2260608) ভিজিটরের কাউন্টার : 2
এই রিলিজটি পড়তে পারেন: Gujarati , English , Urdu , Marathi , हिन्दी