PIB Headquarters
azadi ka amrit mahotsav

খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ক্ষেত্রে ভারতের পরিকাঠামো শক্তিশালীকরণ

খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের জন্য উৎপাদন-সংযুক্ত উৎসাহ প্রকল্প

প্রকাশিত: 21 APR 2026 11:06AM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ২১ এপ্রিল, ২০২৬

 

মূল বিষয়বস্তু 

খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের জন্য প্রোডাকশন লিঙ্কড ইনসেনটিভ স্কিম (PLISFPI) (মোট বরাদ্দ ১০,৯০০ কোটি টাকা; ২০২১-২২ থেকে ২০২৬-২৭) ক্রমবর্ধমান বিক্রয় ও ব্র্যান্ড প্রচারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের ভারতীয় খাদ্য প্রস্তুতকারী সংস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েছে।

ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত এই প্রকল্পের অগ্রগতি:

মোট ১৬৫টি আবেদন অনুমোদিত হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত ২৭৪টি প্রকল্প স্থল।
উপভোক্তারা মোট ২,১৬২.৫৫ কোটি টাকার প্রণোদনা পেয়েছেন।
প্রায় ৩.৩৯ লক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২.৫ লাখ।
খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও সংরক্ষণ ক্ষমতা বছরে ৩৪ লক্ষ মেট্রিক টন বেড়েছে।
কৃষিজাত প্রক্রিয়াজাত খাদ্য রপ্তানিতে ১৩.২৩ শতাংশ হারে বার্ষিক বৃদ্ধির হার দেখা গেছে (২০১৯-২০ তুলনায় ২০২৪-২৫)।

ভূমিকা

ভারতের খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ক্ষেত্র কৃষি ও উৎপাদন ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে উঠে এসেছে। এই ক্ষেত্র মূল্য সংযোজন বাড়াচ্ছে, বাজারের সংযোগ মজবুত করছে এবং প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের প্রাপ্যতা বাড়াচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরে এই ক্ষেত্রে স্থির অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে। প্রথম সংশোধিত হিসাব অনুযায়ী মোট মূল্য সংযোজন ২০১৪-১৫ সালে ১.৩৪ লক্ষ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২০২৩-২৪ সালে ২.২৪ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

 

আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও ভারতের উপস্থিতি বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষিজ রপ্তানিতে প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের অংশ ২০১৪-১৫ সালে ১৩.৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৪-২৫ সালে ২০.৪ শতাংশ হয়েছে।

বিশ্বে ফল ও সবজির উৎপাদনে দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ হিসেবে ভারতের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক কেন্দ্র হয়ে ওঠার সুযোগ রয়েছে। এই সম্ভাবনা বাস্তবায়নের জন্য উৎপাদনের পরিমাণ, উৎপাদনশীলতা, মূল্য সংযোজন এবং আন্তর্জাতিক মূল্য শৃঙ্খলের সঙ্গে সংযোগ বাড়ানো প্রয়োজন। এই প্রেক্ষিতে সরকার খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের জন্য প্রোডাকশন লিঙ্কড ইনসেনটিভ স্কিম চালু করেছে।

নীতি কাঠামো

খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের জন্য প্রোডাকশন লিঙ্কড ইনসেনটিভ স্কিম ৩১ মার্চ ২০২১ তারিখে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অনুমোদন পায়। এটি বৃহত্তর প্রোডাকশন লিঙ্কড ইনসেনটিভ (PLI) কাঠামোর অংশ।

PLI প্রকল্প ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে শুরু হয়। এর লক্ষ্য ছিল দেশীয় উৎপাদন শক্তিশালী করা। যোগ্য সংস্থাগুলিকে তাদের অতিরিক্ত বিক্রয়ের ভিত্তিতে আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হয়। উৎপাদন ক্ষেত্রে ভারসাম্যপূর্ণ ও স্থিতিশীল উন্নয়ন নিশ্চিত করা এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য।

আত্মনির্ভর ভারত ও মেক ইন ইন্ডিয়া কর্মসূচির সঙ্গে এই প্রকল্প সামঞ্জস্যপূর্ণ। প্রথমে মোবাইল উৎপাদন, নির্দিষ্ট বৈদ্যুতিন উপাদান, ওষুধের কাঁচামাল, চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রভৃতি ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য ছিল। পরে ১৪টি কৌশলগত ক্ষেত্রে এই প্রকল্প বিস্তৃত হয়। মোট বরাদ্দ ১.৯৭ লাখ কোটি টাকা। খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ এই ক্ষেত্রগুলির মধ্যে অন্যতম।

PLISFPI প্রকল্পে মোট বরাদ্দ ১০,৯০০ কোটি টাকা। কার্যকাল ২০২১-২২ থেকে ২০২৬-২৭। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ৩৩,৪৯৪ কোটি টাকার প্রক্রিয়াজাত খাদ্য উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রায় ২.৫ লাখ কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যমাত্রাও নির্ধারিত।

উৎপাদন থেকে ব্র্যান্ড নির্মাণ

এই প্রকল্প তিনটি প্রধান অংশে গঠিত। উৎপাদন বৃদ্ধি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগে উদ্ভাবন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠা এই কাঠামোর লক্ষ্য।

প্রথম অংশ (ক্যাটিগরি ১):
চারটি প্রধান খাদ্য ক্ষেত্রে উৎপাদন বৃদ্ধিতে উৎসাহ দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে রেডি-টু-কুক ও রেডি-টু-ইট খাদ্য, মিলেটভিত্তিক পণ্য, প্রক্রিয়াজাত ফল ও সবজি, সামুদ্রিক খাদ্য এবং মোজারেলা চিজ।

দ্বিতীয় অংশ (ক্যাটিগরি ২):
ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের উদ্ভাবনী ও জৈব পণ্যে উৎসাহ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ফ্রি-রেঞ্জ ডিম, মুরগির মাংস ও ডিমজাত পণ্য অন্তর্ভুক্ত।

তৃতীয় অংশ (ক্যাটিগরি ৩):
আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠায় সহায়তা দেওয়া হয়। দোকানে ব্র্যান্ড প্রদর্শন, তাক ভাড়া এবং বিপণনে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।

এছাড়া, এই প্রকল্পের সঞ্চিত অর্থ থেকে ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে মিলেটভিত্তিক পণ্যের জন্য পৃথক একটি উদ্যোগ শুরু হয়েছে। এর নাম প্রোডাকশন লিঙ্কড ইনসেনটিভ স্কিম ফর মিলেট-বেসড প্রোডাক্টস (PLISMBP)। মোট বরাদ্দ ৮০০ কোটি টাকা। রেডি-টু-কুক ও রেডি-টু-ইট পণ্যে মিলেট ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। উৎপাদন, মূল্য সংযোজন ও বিক্রয় বৃদ্ধি এই উদ্যোগের লক্ষ্য।

উন্নয়নকে পুরস্কৃত করা: PLISFPI-র উৎসাহমূলক কাঠামো

খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের জন্য প্রোডাকশন লিঙ্কড ইনসেনটিভ স্কিম (PLISFPI)-এর আওতায় উৎপাদনভিত্তিক অংশগুলি (ক্যাটিগরি ১ ও ২) নির্দিষ্ট খাদ্যপণ্যের অতিরিক্ত বিক্রয়ের উপর ভিত্তি করে যোগ্য সংস্থাগুলিকে উৎসাহ দেয়। এই অংশগুলিতে আবেদনকারীদের ২০১৯-২০ ভিত্তিবর্ষে নির্ধারিত ন্যূনতম বিক্রয় মাত্রা পূরণ করতে হয়। নির্দিষ্ট বিনিয়োগ করতে হয় প্ল্যান্ট ও যন্ত্রপাতি, প্রযুক্তিগত নির্মাণ কাজ এবং সংশ্লিষ্ট পরিকাঠামোয়। এই বিনিয়োগ রেডি-টু-ইট/রেডি-টু-কুক খাদ্য, প্রক্রিয়াজাত ফল ও সবজি, সামুদ্রিক পণ্য এবং মোজারেলা চিজ ক্ষেত্রে করা হয়।

ক্যাটিগরি ৩-এর অধীনে সরকার আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় ব্র্যান্ডের খাদ্যপণ্যের বিপণন ও ব্র্যান্ড গঠনে আর্থিক সহায়তা দেয়। বিদেশে ব্র্যান্ডিং ও বিপণন খরচের ৫০ শতাংশ ফেরত দেওয়া হয়। এই সহায়তার সর্বোচ্চ সীমা বার্ষিক বিক্রয়ের ৩ শতাংশ বা ৫০ কোটি টাকা। কম পরিমাণটি প্রযোজ্য হয়। সম্পূর্ণভাবে ভারতে প্রস্তুত খাদ্যপণ্য বিক্রি করে এমন ভারতীয় ব্র্যান্ডই এই সুবিধা পায়। যোগ্যতা অর্জনের জন্য পাঁচ বছরে ন্যূনতম ৫ কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়।

প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও বাস্তবায়নের পদ্ধতি

এই প্রকল্প একটি প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট এজেন্সির মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়। ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া লিমিটেড (IFCI) এই দায়িত্বে রয়েছে। খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প মন্ত্রক এই সংস্থাকে নিযুক্ত করেছে।

আগ্রহ প্রকাশের (EOI) মাধ্যমে আবেদন আহ্বান করা হয়। আবেদন অনলাইন পোর্টালে জমা দিতে হয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি আবেদনগুলি যাচাই করে। সফল আবেদনের পর একটি স্বতন্ত্র অ্যাপ্লিকেশন আইডি দেওয়া হয়। পরবর্তী সমস্ত যোগাযোগে এই আইডি ব্যবহার করা হয়।
একটি ওয়েবভিত্তিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়মিত নজরদারি করে। প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

রূপান্তরমূলক প্রভাব

এই প্রকল্প উন্নত প্রযুক্তি গ্রহণ এবং একাধিক উৎপাদন লাইন স্থাপনে সহায়তা করেছে। ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত বছরে ৩৪ লক্ষ মেট্রিক টন প্রক্রিয়াকরণ ও সংরক্ষণ ক্ষমতা তৈরি হয়েছে।

শিল্পক্ষেত্রে বিনিয়োগ ও অংশগ্রহণও বৃদ্ধি পেয়েছে:

মোট ১৬৫টি আবেদন অনুমোদিত হয়েছে।
এই অনুমোদন ২৭৪টি প্রকল্প স্থলের সঙ্গে যুক্ত।
মোট ৯,২০৭ কোটি টাকার বিনিয়োগ হয়েছে।
মোট ২,১৬২.৫৫ কোটি টাকার প্রণোদনা বিতরণ হয়েছে (ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত)।

এই ফলাফল উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি, বেসরকারি বিনিয়োগ সংগ্রহ এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রকল্পের কার্যকারিতা প্রমাণ করে।

MSME ক্ষেত্রে প্রভাব

এই প্রকল্প ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করেছে। অনুমোদিত ১৬৫টি আবেদনের মধ্যে ৬৯টি MSME সংস্থার। এছাড়া, ৪০টি চুক্তিভিত্তিক উৎপাদন ইউনিট MSME শ্রেণীতে পড়ে। এই সংস্থাগুলি মূল্য শৃঙ্খলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ পর্যন্ত ২০টি MSME সংস্থাকে মোট ১৩.২৬৬ কোটি টাকার উৎসাহভাতা দেওয়া হয়েছে।

কর্মসংস্থান

এই প্রকল্পের ফলে উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত প্রায় ৩.৩৯ লক্ষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। নির্ধারিত ২.৫ লক্ষ লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে অবস্থান

প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের অবস্থান শক্তিশালী হয়েছে:

২০১৯-২০ তুলনায় ২০২৪-২৫ সালে কৃষিজ প্রক্রিয়াজাত খাদ্য রপ্তানিতে বার্ষিক গড় বৃদ্ধির হার ১৩.২৩ শতাংশ।
২০২১ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট রপ্তানি বিক্রয় ৮৯,০৫৩.৪৪ কোটি টাকা।

উপসংহার

খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের জন্য প্রোডাকশন লিঙ্কড ইনসেনটিভ স্কিম (PLISFPI) বা উৎপাদন-সংযুক্ত উৎসাহমূলক প্রকল্প ভারতের খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির চালিকা শক্তি হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বিক্রয়ের সঙ্গে উৎসাহভাতার সংযোগ বিনিয়োগ বাড়িয়েছে, উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করেছে এবং ভারতীয় খাদ্যপণ্যের আন্তর্জাতিক উপস্থিতি মজবুত করেছে।

মূল্য সংযোজন, MSME অংশগ্রহণ এবং মিলেটভিত্তিক পণ্যে গুরুত্ব প্রদান অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়েছে। কৃষি ও শিল্পের সংযোগ আরও সুদৃঢ় হয়েছে। কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সমস্ত দিক একত্রে দেশের খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ক্ষেত্রে আরও প্রতিযোগিতামূলক, স্থিতিশীল এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিকাঠামো গড়ে তোলার ভিত্তি তৈরি করেছে।

তথ্যসূত্র

Ministry of Finance

Ministry of Commerce & Industry

Ministry of Food Processing Industries

PIB Backgrounders

See PDF

***
SSS/SS


(রিলিজ আইডি: 2254099) ভিজিটরের কাউন্টার : 12
এই রিলিজটি পড়তে পারেন: English , Urdu , हिन्दी , Gujarati