প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর
কর্ণাটকের মান্ডিয়ার শ্রী ক্ষেত্র আদিচুঞ্চানগিরিতে শ্রী গুরু ভৈরবাক্য মন্দিরের উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর
প্রকাশিত:
15 APR 2026 2:25PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আজ কর্ণাটকের মান্ডিয়ায় শ্রী ক্ষেত্র আদিচুঞ্চানগিরিতে শ্রী গুরু ভৈরবাক্য মন্দির-এর উদ্বোধন করেছেন। এই অনুষ্ঠানের গভীর আধ্যাত্মিক তাৎপর্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শ্রী গুরু ভৈরবাক্য মন্দিরের এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সাক্ষী হওয়া এবং সাধু-সন্তদের সান্নিধ্যে আসার সুযোগ পেয়ে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ঐতিহাসিক জ্বালা পীঠ-এ সময় কাটানো এবং ভক্তদের বিশাল সমাবেশে ভাষণ দেওয়া তাঁর মনে যে আবেগের সঞ্চার করেছে, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। প্রধানমন্ত্রী মোদী মন্তব্য করেন, এই দিব্য অভিজ্ঞতাগুলি চিরকাল স্মৃতিতে অমলিন হয়ে থাকবে।
সমাবেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী কর্ণাটকের অনন্য বৈশিষ্ট্য তত্ত্বজ্ঞান (দর্শন) এবং তন্ত্রজ্ঞান (প্রযুক্তি)-এর অপূর্ব সংমিশ্রণের ওপর বিশেষ জোর দেন। একইসঙ্গে, তিনি মান্ডিয়ার সাক্কারে নগর (চিনির শহর)-এর অধিবাসীদের আতিথেয়তাপূর্ণ স্বভাবের প্রতিও বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি বলেন, শ্রী আদিচুঞ্চানগিরি মহাসংস্থান মঠ - এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলি এই অঞ্চলের মানুষের জন্য একটি নৈতিক ও আধ্যাত্মিক দিকনির্দেশক হিসেবে কাজ করে। শ্রী মোদী বলেন, কর্ণাটক এমন এক পুণ্যভূমি, যেখানে দর্শনের সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির শক্তির এক নিখুঁত মেলবন্ধন ঘটেছে।
ভারতের প্রাণবন্ত ও সহস্রাব্দ প্রাচীন সভ্যতার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী সেই বিরল ও নিরবচ্ছিন্ন ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন, যা শ্রী আদিঞ্চানগিরি মঠের ২০০০ বছরের ইতিহাসে মূর্ত হয়ে আছে। তিনি ডঃ বালা গঙ্গাধরনাথ মহাস্বামীজির মতো অতীতের বরেণ্য ব্যক্তিত্বদের গভীর আধ্যাত্মিক দিক-নির্দেশনার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং বর্তমান নেতৃত্বকে নতুন উদ্যমে এই ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সাধুবাদ জানান। শ্রী মোদী উল্লেখ করেন, এই পবিত্র প্রতিষ্ঠানটি প্রজন্মের পর প্রজন্ম তার সেবার ঐতিহ্যের মাধ্যমে এই পুণ্যভূমিকে সমৃদ্ধ করে চলেছে।
সমাজে মহান সাধু-সন্তদের যুগান্তকারী ভূমিকার বিস্তারিত বিবরণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডঃ বালা গঙ্গাধরনাথ মহাস্বামীজির আধ্যাত্মিক শক্তি সাধারণ মানুষ ও গ্রামীণ যুবসমাজের কল্যানের সাথে গভীরভাবে যুক্ত ছিল। তিনি বলেন, এই দিব্য ব্যক্তিত্ব ভক্তিকে কেবল এক ধরনের পলায়নপরতা হিসেবে দেখতেন না, বরং তিনি একে সাধারণ মানুষের উত্তরণের লক্ষ্যে এক সক্রিয় দায়িত্ব হিসেবে গণ্য করতেন। শ্রী মোদী বলেন, প্রকৃত ভক্তি সমাজের কল্যাণের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেওয়ার লক্ষ্যে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসা।
মহাস্বামীজির বহুমুখী জনহিতকর উদ্যোগগুলির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, তিনি অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন, যেখানে অবহেলিত শিশুদের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা থেকে শুরু করে পেশাগত ডিগ্রি পর্যন্ত সব ধরনের শিক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। তিনি আরও বলেন যে, স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে মঠের দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গি নিশ্চিত করেছে যে, বৈষম্য ছাড়াই গুণগত চিকিৎসা পরিষেবা সকলের কাছে পৌঁছে সম্ভব। শ্রী মোদী বলেন, গুণমানসম্মত স্বাস্থ্য পরিষেবা অবশ্যই প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি সহজলভ্য অধিকার হতে হবে, তা যেন কেবল গুটিকয়েক মানুষের বিশেষ সুবিধা হয়ে না দাঁড়ায়।
মঠের জনহিতকর প্রচেষ্টা এবং সরকারের জনকল্যাণমূলক নীতির মধ্যে সাদৃশ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সাফল্যের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন; যার মাধ্যমে কোটি কোটি দরিদ্র নাগরিক বিনামূল্যে হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ পাচ্ছেন। তিনি আরও বিস্তারিতভাবে জানান যে, সম্প্রতি এই প্রকল্পের আওতা বৃদ্ধি করে ৭০ বছরের বেশি বয়সী সকল প্রবীণ নাগরিককে সামিল করা হয়েছে।
মহাস্বামীজির সকল জীবের প্রতি অসীম করুণার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী ময়ূর সংরক্ষণে তাঁর নিবেদিত সামাজিক আন্দোলনের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং এই প্রচেষ্টাকে পরিবেশ সংরক্ষণ ও ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সাথে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত বলে অভিহিত করেন। দিল্লিতে তাঁর সরকারি বাসভবনে নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি জাতীয় পাখির সঙ্গে সময় কাটানোর কথা স্মৃতিচারণ করেন। শ্রী মোদী মন্তব্য করেন, ময়ূর কেবল আমাদের জাতীয় গর্বই নয়, বরং এটি অত্যন্ত সুন্দর ও শান্ত প্রকৃতির একটি প্রাণী।
বর্তমান জগদ্গুরু ডঃ নির্মলানন্দনাথ মহাস্বামীজির প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী তাঁর গুরুর পদাঙ্ক নিষ্ঠার সাথে অনুসরণ করে মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে তাঁর অটল নিষ্ঠার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন যে, নবনির্মিত শ্রী গুরু ভৈরবাক্য মন্দির'টি কেবল একটি জড় স্থাপত্য বা ভবন নয়, বরং এটি গভীর আধ্যাত্মিক নিষ্ঠার এক মূর্ত প্রতীক। শ্রী মোদী বলেন, এই মন্দিরটি নিঃসন্দেহে সেবা ও অনুপ্রেরণার এক চিরন্তন আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করবে।
শ্রী আদিচুঞ্চানগিরি মঠের নয়টি মৌলিক নীতি, যেমন - অন্ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আধ্যাত্মিকতা এবং করুণা - এগুলির রূপরেখা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী একটি সম্মিলিত জাতীয় সংকল্প গ্রহণের প্রস্তাব দেন। তিনি নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তাঁরা যেন সমাজের হিতকর নয়টি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে এই মূল্যবোধগুলোকে নিজেদের জীবনে গ্রহণ করেন।
প্রথম পাঁচটি অনুরোধের বিস্তারিত বিবরণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মান্ডিয়ার জনসাধারণকে জল সংরক্ষণে অগ্রণী ভূমিকা পালনের কথা বলেন। 'এক পেড় মা কে নাম' অভিযানের আওতায় বৃক্ষরোপণ এবং সকল সরকারি ও ধর্মীয় স্থানে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, ভারতীয় পণ্য গ্রহণ এবং দেশের অপার সৌন্দর্য চাক্ষুষ করতে দেশের অভ্যন্তরে পর্যটনের প্রসারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া দরকার। শ্রী মোদী আরও বলেন, ধরিত্রী মাতাকে রক্ষা করা এবং দেশের শিল্পগুলিকে শক্তিশালী করে তুলতে হবে। স্বাস্থ্য ও কৃষির গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী কৃষকদের প্রাকৃতিক চাষাবাদে উৎসাহিত করেন। সেইসঙ্গে, তরুণ প্রজন্মকে বাজরা ও ‘রাগি মুদ্দে’কে (শ্রী এইচ.ডি. দেবে গৌড়া কর্তৃক বিশেষভাবে সমাদৃত একটি আঞ্চলিক প্রধান খাদ্য) আপন করে নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি শারীরিক স্থূলতা প্রতিরোধে রান্নার তেলের ব্যবহার ১০ শতাংশ কমিয়ে আনা, দৈনন্দিন জীবনে শরীরচর্চাকে এবং আজীবন সেবার মানসিকতা বজায় রাখার কথা বলেন। শ্রী মোদী বলেন, দৈনন্দিন জীবনে যোগব্যায়াম ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি।
পরিশেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দু:স্থদের সেবা জীবনের এক মহৎ উদ্দেশ্য, যা সামাজিক সংহতিকে সুদৃঢ় করে। তিনি বলেন, এই নয়টি অনুরোধ যথাযথভাবে মেনে চললে একটি উন্নত কর্ণাটক এবং একটি উন্নত ভারতের অভিমুখে আমাদের অগ্রগতি ত্বরান্বিত হবে। শ্রী মোদী বিকশিত ভারত-এর লক্ষ্যে আন্তরিকতার সঙ্গে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাওয়ার কথা বলেন।
SC/AB/SB
(রিলিজ আইডি: 2252322)
ভিজিটরের কাউন্টার : 7