PIB Headquarters
ভারতের হরিৎ বিপ্লব
সংরক্ষণ থেকে জলবায়ু রূপান্তর
প্রকাশিত:
07 APR 2026 4:49PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ৭ এপ্রিল, ২০২৬
ভূমিকা
একবিংশ শতাব্দীতে উন্নয়ন ও পরিবেশের সম্পর্ক নীতিনির্ধারণের প্রান্তিক আলোচনার বিষয় থেকে উঠে এসে কেন্দ্রীয় গুরুত্ব অর্জন করেছে। ভারতের ক্ষেত্রে এই চ্যালেঞ্জ আরও জটিল—দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও জলবায়ু পদক্ষেপের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা অপরিহার্য।
ভারতের হরিৎ পথচলার মূল ভিত্তি হল এই উপলব্ধি যে পরিবেশ সংরক্ষণ এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরস্পর-সহায়ক। একইসঙ্গে, জলবায়ু পরিবর্তনের বর্তমান বাস্তবতাকেও এই দৃষ্টিভঙ্গির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিভিন্ন অঞ্চল ও ক্ষেত্রে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ক্রমশ স্পষ্ট হওয়ায়, এটিকে ভবিষ্যতের ঝুঁকি হিসাবে নয়, বর্তমান উন্নয়নগত বাস্তবতা হিসাবে দেখা হচ্ছে। সেই অনুযায়ী, দেশ এমন এক সমন্বিত কৌশল গ্রহণ করেছে, যা একযোগে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং সুস্থায়ী উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার
ভারত বিশ্বের ১৭টি মেগা-জীববৈচিত্র্যপূর্ণ দেশের অন্যতম। বিশ্বের মোট স্থলভাগের মাত্র ২.৪ শতাংশ জুড়ে থাকা সত্ত্বেও, এখানে প্রায় ৮ শতাংশ নথিভুক্ত প্রজাতির আবাস। দেশে ৯৬,০০০-র বেশি প্রাণী প্রজাতি এবং ৪৭,০০০ উদ্ভিদ প্রজাতি রয়েছে, যার মধ্যে বিশ্বের প্রায় অর্ধেক জলজ উদ্ভিদ প্রজাতি অন্তর্ভুক্ত। এই বিশাল প্রাকৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণকে শুধু পরিবেশগত নয়, জাতীয় অগ্রাধিকারের বিষয় করে তুলেছে।
দেশের জীববৈচিত্র্য শাসন কাঠামো বায়োলজিক্যাল ডাইভারসিটি এক্ট ২০০২-এর ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে, যা জাতীয় জীববৈচিত্র্য কর্মপরিকল্পনা দ্বারা সমর্থিত এবং Convention on Biological Diversity-এর সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।
সংরক্ষিত এলাকা ও বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ কর্মসূচি
ভারত বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে বন্যপ্রাণ সংরক্ষণকে শক্তিশালী করেছে।
সংরক্ষিত এলাকার সংখ্যা ২০১৪ সালে ৭৪৫ থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ১,১৩৪ হয়েছে। বন্যপ্রাণ চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে করিডর চিহ্নিত করা হয়েছে।
প্রজেক্ট টাইগার-এর আওতায় টাইগার রিজার্ভ ৪৬ থেকে বেড়ে ৫৮ হয়েছে, মোট প্রায় ৮৫,০০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে। সর্বশেষ সংযোজন মধ্যপ্রদেশের মাধব টাইগার রিজার্ভ। ২০২২ সালের হিসেব অনুযায়ী দেশে ৩,১৬৭টি বাঘ রয়েছে।
প্রজেক্ট এলিফ্যান্ট-এর অধীনে এলিফ্যান্ট রিজার্ভ ২৬ থেকে বেড়ে ৩৩ হয়েছে, অতিরিক্ত ৮,৬১০ বর্গকিলোমিটার এলাকা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। প্রসঙ্গত, ১৫টি রাজ্যে ১৫০টি হস্তি অলিন্দ রয়েছে।
প্রজেক্ট চিতা ২০২৫ সালে সম্প্রসারণ পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। গান্ধীসাগর অভয়ারণ্যে চিতা পুনঃপ্রবর্তন করা হয়েছে। ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত মোট চিতা সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০।
প্রজেক্ট স্নো লেপার্ড-এর অধীনে প্রথম জাতীয় সমীক্ষায় ৭১৮টি স্নো লেপার্ডের উপস্থিতি ধরা পড়েছে। এর মধ্যে লাদাখে ৪৭৭ এবং উত্তরাখণ্ডে ১২৪টি।
প্রজেক্ট ডলফিন-এর অধীনে ২০২১–২৩ সমীক্ষায় ৬,৩২৭টি নদী ডলফিন চিহ্নিত হয়েছে। ২০২৬ সালে দ্বিতীয় সমীক্ষা শুরু হয়েছে।
ভারত International Big Cat Alliance-এর নেতৃত্ব দিচ্ছে, যা সাতটি বড় বিড়াল প্রজাতি সংরক্ষণে কাজ করছে এবং ১৮টি দেশের অংশগ্রহণ রয়েছে।
বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার
জলবায়ু পরিবর্তন, বন আগুন, বাসস্থান ধ্বংস ও উপকূল ক্ষয়ের কারণে ভারতের বিভিন্ন বাস্তুতন্ত্র চাপের মুখে। এই প্রেক্ষিতে সরকার একটি বহুমাত্রিক কৌশল গ্রহণ করেছে, যেখানে সুরক্ষা, পুনরুদ্ধার এবং জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
ভারতে বর্তমানে ১৮টি বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ রয়েছে, যার মধ্যে ১৩টি UNESCO-র বিশ্ব তালিকার অন্তর্ভুক্ত।
“এক পেড় মা কে নাম” বা Ek Ped Maa Ke Naam উদ্যোগ প্রত্যেক নাগরিককে পরিবেশ সংরক্ষণে যুক্ত করছে।
ম্যাংগ্রোভ সংরক্ষণের জন্য MISHTI উদ্যোগের মাধ্যমে ২০২৫ সালে ৪,৫৩৬ হেক্টর পুনরুদ্ধার হয়েছে এবং ২২,৫৬০ হেক্টর এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে।
মানুষ-বন্যপ্রাণ সংঘাত ব্যবস্থাপনা
Wildlife Protection Act, 1972-এর অধীনে কেন্দ্র রাজ্যগুলিকে নির্দেশিকা দিয়েছে। সংঘাতপূর্ণ এলাকা চিহ্নিতকরণ, দ্রুত প্রতিক্রিয়া দল গঠন এবং ক্ষতিপূরণ দ্রুত প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
জলবায়ু নীতি ও কৌশলগত কাঠামো
National Action Plan on Climate Change (NAPCC) ভারতের জলবায়ু কৌশলের মূল ভিত্তি, যার অধীনে একাধিক জাতীয় মিশন পরিচালিত হয়।
Paris Agreement-এর অধীনে ভারতের আপডেটেড NDC অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে জিডিপি নির্গমন তীব্রতা ৪৫% কমানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
পরিচ্ছন্ন শক্তি ও জ্বালানি রূপান্তর
ভারত জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবিকরণযোগ্য শক্তির দিকে এগোচ্ছে। United Nations Framework Convention on Climate Change-এর প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই রূপান্তর পরিচালিত হচ্ছে।
কার্বন ক্রেডিট ট্রেডিং স্কিম চালু করার মাধ্যমে দেশীয় কার্বন বাজার শক্তিশালী হয়েছে। ২০২৬ সালে ৪৯০টি শিল্প সংস্থা নির্গমন নিয়ন্ত্রণের আওতায় এসেছে।
দূষণ নিয়ন্ত্রণ থেকে সুস্থায়ী উন্নয়ন
Water (Prevention and Control of Pollution) Act, 1974 এবং Air (Prevention and Control of Pollution) Act, 1981 দূষণ নিয়ন্ত্রণের ভিত্তি তৈরি করেছে।
National Clean Air Programme-এর আওতায় ১৩০টি শহরে বায়ুদূষণ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৪–২৫ সালে ১০৩টি শহরে PM10 মাত্রা হ্রাস পেয়েছে।
বর্জ্য পুনর্ব্যবহার ক্ষেত্রেও অগ্রগতি হয়েছে—২০১৯–২০ সালে ৮২৯টি প্ল্যান্ট থেকে ২০২৪–২৫ সালে ৩,০৩৬টি প্ল্যান্টে।
সুস্থায়ী উন্নয়ন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি
নীতি আয়োগ সুস্থায়ী উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে সমন্বয় করছে। SDG ইন্ডিয়া সূচকে দেশের স্কোর বা সাফল্যাঙ্ক ২০১৮ সালে ৫৭ থেকে বেড়ে ২০২৩–২৪ সালে ৭১-এ এসেছে।
উপসংহার
ভারতের পরিবেশগত রূপান্তর একটি সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদী প্রচেষ্টার ফসল। নবায়নযোগ্য শক্তির সম্প্রসারণ, কার্বন বাজার, দূষণ নিয়ন্ত্রণ, সংরক্ষিত এলাকা বৃদ্ধি, প্রজাতি সংরক্ষণ কর্মসূচি, বন ও ম্যাংগ্রোভ বা গরানগাছ পুনরুদ্ধার এবং নাগরিক অংশগ্রহণ, সব মিলিয়ে একটি সমন্বিত পরিবেশ কৌশল গড়ে উঠেছে।
২০৫০ সালের মধ্যে প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ জীবনযাপনের লক্ষ্যে ভারত বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। দেশীয় উদ্যোগকে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সঙ্গে যুক্ত করে, ভারত বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য জলবায়ু স্থিতিশীলতা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং সুস্থায়ী উন্নয়নের পথে অগ্রসর হচ্ছে।
তথ্যসূত্র
Ministry of Environment, Forest and Climate Change (MoEFCC)
https://moef.gov.in/convention-on-biological-diversity-cbd
https://moef.gov.in/uploads/2022/01/National-Human-Wildlife-Conflict-Mitigation-Strategy-and-Action-Plan-of-India-2.pdf
National Tiger Conservation Authority (NTCA)
http://ntca.gov.in/corridor-management/
Forest Survey of India
India Code
Press Information Bureau (PIB)
Principal Scientific Adviser
Ministry of New & Renewable Energy (MNRE)
MyGov
Ministry of Statistics and Programme Implementation
NITI Aayog
Ozone Cell – Montreal Protocol
NewsOnAir
Click here to see PDF
*****
SSS/SS
(রিলিজ আইডি: 2249974)
ভিজিটরের কাউন্টার : 11