PIB Headquarters
azadi ka amrit mahotsav

আঞ্চলিক স্বাদ থেকে খাদ্য উদ্ভাবন : AAHAR ২০২৬-এ উদ্যোক্তাদের গল্প

প্রকাশিত: 12 MAR 2026 3:14PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ১২ মার্চ, ২০২৬

 

বস্তুত, ৪০-তম সংস্করণ AAHAR ২০২৬-এ দিল্লির ভারত মণ্ডপমে খাদ্য ও আতিথ্য শিল্পের বিভিন্ন অংশীদার একত্রিত হয়েছেন। ২০২৬-এর ১০ - ১৪ মার্চ পর্যন্ত চলা এই পাঁচদিনের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে উৎপাদক, রপ্তানিকারক, আতিথ্য শিল্পের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং প্রযুক্তি প্রদানকারীরা নতুন সুযোগ অনুসন্ধান ও পারস্পরিক সংযোগ স্থাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ পেয়েছেন। গত কয়েক বছরে AAHAR এশিয়ার খাদ্য ও আতিথ্য  অন্যতম প্রধান বাণিজ্য প্রদর্শনী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ভারত ও বিদেশ থেকে প্রায় ১,৮০০টি প্রদর্শক এই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। এখানে প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, পানীয়, দুগ্ধজাত পণ্য, বেকারি সামগ্রী এবং কৃষিজ পণ্যসহ নানা ধরনের পণ্য প্রদর্শিত হচ্ছে।

ভারত মণ্ডপমের একাধিক হলে বিস্তৃত এই প্রদর্শনীতে ঐতিহ্যবাহী স্বাদের পাশাপাশি, আধুনিক খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ প্রযুক্তির উদ্ভাবনও তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে উৎপাদক, রপ্তানিকারক, ক্রেতা এবং আতিথ্য শিল্পের ব্যবসাগুলির মধ্যে ব্যবসা-থেকে-ব্যবসা  সংযোগ স্থাপনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। পণ্য প্রদর্শনের পাশাপাশি, AAHAR এমন সব উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠানের গল্পও সামনে আনছে, যারা ভারতের বিকাশমান খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ক্ষেত্রকে নতুন দিশা দেখাচ্ছেন।

সিকিম থেকে জাতীয় মঞ্চে

ওয়ান ডিস্ট্রিক্ট ওয়ান প্রোডাক্ট উদ্যোগের প্রাণবন্ত স্টলগুলির মধ্যে সিকিম রাজ্যের প্যাভিলিয়নে হিমালয়ের বিশেষ স্বাদ প্রদর্শিত হচ্ছে, যা দর্শক ও ক্রেতাদের আকর্ষণ করছে।

অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে রয়েছেন সিকিমের গ্যাংটকের উদ্যোক্তা সাংগিডোমা ভূটিয়া, যার যাত্রা দেখায় কীভাবে সরকারি সহায়তা ক্ষুদ্র খাদ্য ব্যবসাগুলিকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করছে। প্রায় ১৬ বছর আগে তিনি ছোট পরিসরে ঐতিহ্যবাহী সিকিমি খাদ্যপণ্য তৈরি করে তার উদ্যোগ শুরু করেন। শুরুর সময় পুরো ব্যবসাই ব্যক্তিগত সঞ্চয়ের ওপর নির্ভরশীল ছিল।

বর্তমানে তিনি “টেস্ট অফ সিকিম” ব্র্যান্ড পরিচালনা করছেন, যা ঐতিহ্যবাহী আচার তৈরির জন্য পরিচিত। আচার উৎপাদনের পাশাপাশি, তিনি একজন মাস্টার ট্রেনার হিসাবে গ্রামীণ নারীদের খাদ্য প্রক্রিয়াকরণে প্রশিক্ষণ দেন, যাতে তারা আয় করতে পারেন এবং স্বনির্ভর হতে পারেন।

তার উদ্যোগের বড় পরিবর্তন আসে যখন তিনি প্রধানমন্ত্রী ফরমালাইজেশন অফ মাইক্রো ফুড প্রসেসিং এন্টারপ্রাইজে স্কীমের সুবিধা গ্রহণ করেন। এই কেন্দ্রীয় সরকারি উদ্যোগটি ক্ষুদ্র খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ব্যবসাকে সহায়তা করে। এই স্কীমের মাধ্যমে তিনি ১০ লাখ টাকার ঋণ পান, যার সাহায্যে আধুনিক যন্ত্রপাতি কেনা ও উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব হয়। পাশাপাশি, তিনি ৩.৫ লক্ষ টাকার ভর্তুকি পান, যা ঋণ পরিশোধে সহায়তা করে।

নিজের যাত্রা সম্পর্কে সাংগিডোমা বলেন,
“ঋণ পাওয়ার পর আমি যন্ত্রপাতিতে বিনিয়োগ করতে পেরেছি এবং উৎপাদন বাড়াতে সক্ষম হয়েছি। এই প্রকল্পটি বিশেষ করে সীমিত আর্থিক সামর্থ্যের নারী উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।”

তার উদ্যোগের প্রধান পণ্য তৈরি হয় সিকিমের বিখ্যাত জৈব ‘ডালে খুরসানি’ মরিচ থেকে, যার ভৌগোলিক নির্দেশক ট্যাগ রয়েছে। এই মরিচ সরাসরি স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে ফারমেন্টেড মরিচের আচার, মসলা মিশ্রণ এবং বিভিন্ন কনডিমেন্ট তৈরি করা হয়। এছাড়াও স্থানীয় ফল লাপসি (প্লাম) ব্যবহার করে বিশেষ আঞ্চলিক স্বাদের পণ্য তৈরি করা হয়। তিনি বলেন,
“আমাদের পণ্য সিকিমের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য বহন করে। বড় শহরের মানুষ এগুলি চেখে দেখতে আগ্রহী এবং আসল স্বাদকে খুবই প্রশংসা করেন।”

নীতিগত সহায়তার ফলে তিনি দিল্লি, হায়দরাবাদ, চেন্নাই, কলকাতা, মহারাষ্ট্র এবং অরুণাচল প্রদেশ-সহ দেশের বিভিন্ন শহরে তার পণ্য পৌঁছে দিতে পেরেছেন। AAHAR ২০২৬-এ তিনি প্রথমবার অংশ নিচ্ছেন এবং আগামী বছর আবার অংশ নেওয়ার আশা করছেন।

ভারতের চা মূল্যশৃঙ্খলে ট্রেসেবিলিটি ও গুণগত উদ্ভাবন

কর্ণাটকের চা ব্র্যান্ড আয়রন কেটলের প্রতিনিধি ধীরাজ অর্জুন কে. এস.-এর সঙ্গে কথোপকথনে জানা যায়, কোম্পানিটি চা সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, ট্রেসেবিলিটি এবং গুণগত মান নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়।

আইরন কেটল তিনটি প্রধান বিভাগে চা সরবরাহ করে :

অসমের উৎসের CTC চা,

বিভিন্ন ধরনের ফ্লেভার্ড ও গ্রিন টি,

বিশেষ সঞ্জীবনী গ্রিন টি।

কোম্পানির প্রধান কার্যালয় বেঙ্গালুরুতে হলেও প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র রয়েছে অসম এবং তামিলনাড়ুর নীলগিরি অঞ্চলে। প্রতিষ্ঠানটি রেইনফরেস্ট অ্যালায়েন্স, HACCP এবং ISO-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক মানের সার্টিফিকেশন অর্জন করেছে।

ধীরাজ অর্জুন বলেন,
“দুটি পাতা ও একটি কুঁড়ি হাতে তুলে নেওয়ার পদ্ধতি বেশি শ্রমসাধ্য এবং ফলন কম দেয়, কিন্তু এতে চায়ের গুণগত মান অনেক উন্নত হয়। তাই যারা এই মান বজায় রাখেন, সেই কৃষকদের আমরা প্রিমিয়াম মূল্য দিই।”

গুণগত মান নিশ্চিত করতে কোম্পানির কৃষি বিশেষজ্ঞরা আসাম ও নীলগিরিতে সরাসরি কৃষকদের সঙ্গে কাজ করেন এবং চাষাবাদ, কীটনাশক ব্যবহার ও পাতা তোলার পদ্ধতি নিয়ে প্রশিক্ষণ দেন।

কোম্পানিটি একটি QR কোড- ভিত্তিক ট্রেসেবিলিটি ব্যবস্থা চালু করেছে। প্রতিটি চা প্যাকেটে একটি অনন্য QR কোড থাকে, যা স্ক্যান করলে উপভোক্তারা জানতে পারেন - 

কৃষকের নাম

খামারের জিও-ট্যাগ করা অবস্থান

পাতা তোলার তারিখ ও সময়

কারখানায় পৌঁছানোর সময়

চাষাবাদের পদ্ধতি ও কীটনাশক ব্যবহারের তথ্য

এই ডিজিটাল ব্যবস্থা উপভোক্তাদের আস্থা বাড়াতে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সহায়তা করছে।

কানপুরের একটি মসলা উদ্যোগের বিস্তার

উত্তর প্রদেশের কানপুর-ভিত্তিক সুবাশ অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রি প্রাইভেট লিমিটেড ভারতের ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ উদ্যোগগুলির ধারাবাহিক বিকাশের একটি উদাহরণ।

১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি প্রথমে ভারতীয় রান্নাঘরের অপরিহার্য মসলাগুলি উৎপাদন শুরু করে। গত তিন দশকে এটি ধীরে ধীরে বিভিন্ন রাজ্যে বিতরণকারী ও খুচরা বিক্রেতাদের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।

বর্তমানে কোম্পানিটি হলুদ, ধনে, লঙ্কা ও বিভিন্ন মিশ্র মসলা-সহ নানা ধরনের রান্নার উপকরণ তৈরি করে। প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি জিতেন্দ্র মোহন তিওয়ারি জানালেন, কোম্পানিটি স্ন্যাকস প্রস্তুতকারকদের জন্য বিশেষ সিজনিং মিশ্রণও সরবরাহ করে।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি পণ্যের পরিসর বাড়িয়ে পাপড়, আচার, আগরবাতি, ধূপ, হিং এবং সয়া বড়ি উৎপাদনও শুরু করেছে। তিনি জানালেন,
“আজ আমরা ১০০টিরও বেশি পণ্য তৈরি করছি এবং প্রতিটি পণ্যে সুবাস, বিশুদ্ধতা ও সতেজতার মান বজায় রাখছি।”

তাজা ফল থেকে ফ্রোজেন উদ্ভাবন

নাগপুরভিত্তিক গণপতি ফ্রোজেন ওয়ার্ল্ড এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যা ফল-ভিত্তিক মূল্যসংযোজিত উপকরণ তৈরি করে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও আতিথ্য ক্ষেত্রকে সহায়তা করছে।

প্রায় আট বছর আগে প্রতিষ্ঠিত এই উদ্যোগটি মৌসুমি ফল প্রক্রিয়াকরণ করে সহজে ব্যবহারযোগ্য উপকরণে রূপান্তর করার মাধ্যমে শুরু হয়েছিল।

বর্তমানে তাদের পণ্যের মধ্যে রয়েছে - 

ফ্রোজেন ফলের পাল্প

ফলের শট

কুলফি প্রিমিক্স

ফ্রোজেন বেরি

আলফনসো আম, আতা এবং জামুনের পাল্প বিভিন্ন মিল্কশেক, আইসক্রিম ও ডেজার্ট তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এসব পণ্য প্রায় মাইনাস ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সংরক্ষণ করা হয়, যাতে স্বাদ, সতেজতা ও সংরক্ষণক্ষমতা বজায় থাকে।

গুজরাটের ডিহাইড্রেটেড খাদ্য উদ্ভাবন

গুজরাটের ভাবনগর-ভিত্তিক আরম্ভ ফুড এক্সপোর্ট একটি উদীয়মান উদ্যোগ, যা ডিহাইড্রেটেড খাদ্যপণ্য তৈরি করছে। প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ধ্রুব ভালারিয়া AAHAR ২০২৬-এ তাদের পণ্য প্রদর্শন করছেন।

২০২১ সালের দিকে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি প্রস্তুত-ব্যবহারযোগ্য ডিহাইড্রেটেড ফল, সবজি ও ফ্লেভারিং পাউডার তৈরি করে। পণ্যের মধ্যে রয়েছে - 

টমেটো, লেবু, বিটরুট, আলু ও পেঁয়াজের ফ্লেক্স

আপেল ও লেবুর পাউডার

পুদিনা, কারিপাতা ও কাসুরি মেথির মতো ডিহাইড্রেটেড হার্ব

এই প্রযুক্তির মাধ্যমে তাজা কৃষিপণ্যকে দীর্ঘদিন সংরক্ষণযোগ্য পাউডার ও ফ্লেক্সে রূপান্তর করা সম্ভব হয়, যা কৃষিতে মূল্য সংযোজনের পাশাপাশি, ফসল-পরবর্তী ক্ষতি কমাতে সাহায্য করে।

ভারতের বিকাশমান খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ পরিবেশ

AAHAR ২০২৬ থেকে উঠে আসা এই বহুমাত্রিক গল্পগুলি ভারতের খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ক্ষেত্রের ক্রমবর্ধমান গতিশীলতাকে তুলে ধরে। আঞ্চলিক স্বাদকে তুলে ধরা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা থেকে শুরু করে প্রযুক্তিনির্ভর নতুন উদ্যোগ - সবাই নতুন সুযোগ অনুসন্ধান করছে।

এ ধরনের প্রদর্শনী উদ্যোক্তা, শিল্পক্ষেত্রের অংশীদার এবং ক্রেতাদের একত্রে এনে খাদ্য মূল্যশৃঙ্খলের বিভিন্ন স্তরের মধ্যে সংযোগ শক্তিশালী করে এবং ভারতের খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ক্ষেত্রের সমৃদ্ধি ও উদ্ভাবনকে সামনে নিয়ে আসে।

তথ্যসূত্র

Ministry of Commerce & Industry

https://www.itpo.gov.in/aahar-2026-delhi

Click here for pdf file. 

SSS/AS.....


(রিলিজ আইডি: 2239238) ভিজিটরের কাউন্টার : 5
এই রিলিজটি পড়তে পারেন: English , हिन्दी , Gujarati