PIB Headquarters
কর্মক্ষেত্রে নারীদের সুরক্ষা
এসএইচ আইন ২০১৩ এবং শি-বক্স পোর্টাল : একটি পর্যালোচনা
প্রকাশিত:
12 FEB 2026 4:03PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
মূল বক্তব্যসমূহ
কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের প্রতি যৌন হয়রানি প্রতিরোধ, নিষেধাজ্ঞা ও প্রতিকার আইন, ২০১৩ বা এসএইচ আইন মহিলাদের জন্য নিরাপদ ও সুরক্ষিত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রণীত।
এই আইন বয়স বা কর্মসংস্থানের ধরন নির্বিশেষে সকল নারীকে সুরক্ষা দেয়। সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্র, সংগঠিত ও অসংগঠিত ক্ষেত্র, এমনকি গৃহকর্মীরাও এর আওতাভুক্ত।
মোট ১০ বা তার বেশি কর্মী রয়েছে এমন প্রতিটি কর্মস্থলে অভ্যন্তরীণ কমিটি গঠন বাধ্যতামূলক।
২৯ আগস্ট ২০২৪ সালে চালু হওয়া শি-বক্স পোর্টাল অনলাইনে অভিযোগ জানানোর জন্য একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম প্রদান করে।
ভূমিকা
নিরাপদ কর্মস্থল কেবল আইনি বাধ্যবাধকতা নয়। এটি নারীদের সমতা, মর্যাদা ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের মৌলিক অধিকারের ভিত্তি। কর্মক্ষেত্রে নারীর প্রতি যৌন হয়রানি সংবিধানের ১৪ ও ১৫ অনুচ্ছেদের অধিকার, ১৯(১)(গ) অনুচ্ছেদে পেশা বা জীবিকা বেছে নেওয়ার অধিকার এবং ২১ অনুচ্ছেদের জীবন ও মর্যাদার অধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন। এটি অনিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরি করে। এর ফলে, শ্রমবাজারে নারীদের অংশগ্রহণ ব্যাহত হয়। অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বৃদ্ধির লক্ষ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
অতীতে শক্তিশালী সুরক্ষাব্যবস্থার অভাব নারীদের কর্মসংস্থানে প্রবেশ ও টিকে থাকার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করেছিল। ভারতীয় দণ্ডবিধির বিধান এবং ১৯৯৭ সালে সুপ্রিম কোর্ট প্রদত্ত বিশাখা নির্দেশিকা একটি প্রাথমিক কাঠামো তৈরি করেছিল। পরবর্তীতে আরও সমন্বিত আইনি কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে সরকার ২০১৩-র ৯ ডিসেম্বর কর্মক্ষেত্রে নারীর প্রতি যৌন হয়রানি প্রতিরোধ, নিষেধাজ্ঞা ও প্রতিকার আইন, ২০১৩ প্রণয়ন করে।
এই আইন প্রতিরোধ, নিষেধাজ্ঞা ও প্রতিকারের স্পষ্ট কাঠামো প্রদান করে। সমস্ত ক্ষেত্র ও কর্মসংস্থানের ধরন জুড়ে কর্মরত বা কাজের সূত্রে কর্মস্থলে আগত প্রতিটি নারী এই আইনের সুরক্ষা পান। আইনটি সম্মান, নিরাপত্তা ও মর্যাদার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সহায়তা করে। অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক বৃদ্ধিকেও এটি এগিয়ে নিয়ে যায়। শি-বক্স পোর্টাল এই কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করেছে। এটি সহজ, সুরক্ষিত ও স্বচ্ছ পদ্ধতিতে অভিযোগ জানানো ও তার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের সুযোগ দেয়।
এসএইচ আইনের প্রধান বিধান ও দায়িত্ব
কর্মক্ষেত্রে নারীর প্রতি যৌন হয়রানি প্রতিরোধ, নিষেধাজ্ঞা ও প্রতিকার আইন, ২০১৩, ৯ ডিসেম্বর ২০১৩ থেকে কার্যকর। এই আইন যৌন হয়রানি প্রতিরোধ এবং নিরাপদ, সুরক্ষিত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে প্রণীত। সরকারি ও বেসরকারি, সংগঠিত ও অসংগঠিত সমস্ত ক্ষেত্রেই এই আইন প্রযোজ্য। বয়স, কর্মসংস্থানের অবস্থা বা কাজের প্রকৃতি নির্বিশেষে প্রতিটি নারী এর আওতায় সুরক্ষা পান। গৃহকর্মীরাও অন্তর্ভুক্ত।
প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো
আইনটি অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য স্পষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে।
অভ্যন্তরীণ কমিটি: বস্তুত, ১০ বা তার বেশি কর্মী আছে এমন প্রতিটি কর্মস্থলে গঠন বাধ্যতামূলক।
স্থানীয় কমিটি: প্রতিটি জেলায় জেলা আধিকারিক এই কমিটি গঠন করেন। ১০ জনের কম কর্মী আছে এমন কর্মস্থল এবং নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগের ক্ষেত্রে এই কমিটি দায়িত্ব পালন করে।
প্রযোজ্য সরকার আইনের বাস্তবায়ন তদারকির সামগ্রিক দায়িত্ব পালন করে।
কেন্দ্র সরকার সরাসরি বা পরোক্ষভাবে প্রতিষ্ঠিত, নিয়ন্ত্রিত বা অর্থায়িত কর্মস্থলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সরকার হিসেবে কাজ করে।
রাজ্য সরকার তাদের অধিক্ষেত্রে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে অর্থায়িত কর্মস্থল এবং অন্যান্য সব কর্মস্থলের ক্ষেত্রে এই ভূমিকা পালন করে। কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় স্তরেই মামলার সংখ্যা ও নিষ্পত্তির তথ্য সংরক্ষণ করা হয়।
অভিযোগ দায়ের প্রক্রিয়া
অভিযোগ প্রক্রিয়া সময়সীমা নির্ধারিত। দ্রুত পদক্ষেপ নিশ্চিত করাই লক্ষ্য।
ঘটনার তারিখ থেকে ৩ মাসের মধ্যে অভিযোগ দায়ের করতে হবে। যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকলে অতিরিক্ত ৩ মাস সময় দেওয়া যেতে পারে।
তদন্ত ৯০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।
অভিযোগ প্রমাণিত হলে পরিষেবা বিধি বা সংশ্লিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
বিদ্বেষপ্রসূত মিথ্যা অভিযোগ প্রমাণিত হলে তদন্তের পর শাস্তির বিধান রয়েছে।
অসংগঠিত ক্ষেত্রে কর্মরত নারী বা গৃহকর্মীর ক্ষেত্রে স্থানীয় কমিটি প্রয়োজনবোধে সংশ্লিষ্ট ধারায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ২০২৩ অনুযায়ী পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করে।
নিয়োগকর্তার দায়িত্ব
নিয়োগকর্তার সক্রিয় ভূমিকা বাধ্যতামূলক। কেবল অভিযোগের প্রতিক্রিয়া জানালেই দায়িত্ব শেষ হয় না। যৌন হয়রানি প্রতিরোধে আগাম ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সম্মানজনক ও সুরক্ষিত কর্মসংস্কৃতি গড়ে তোলাই মূল লক্ষ্য।
আইনের বিধান সম্পর্কে সকল কর্মীকে অবহিত করতে হবে। মহিলা কর্মীদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। শূন্য সহনশীলতার নীতি কার্যকর করতে হবে। নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা কর্মসূচি আয়োজন করতে হবে।
পর্যবেক্ষণ ও প্রতিপালন
আইনের কার্যকর বাস্তবায়নের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রযোজ্য সরকার প্রতিপালন তদারকি করে। মামলার সংখ্যা ও নিষ্পত্তির সঠিক তথ্য সংরক্ষণ করা বাধ্যতামূলক।
অভ্যন্তরীণ ও স্থানীয় কমিটি নির্ধারিত ফরম্যাটে বার্ষিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তা বা জেলা আধিকারিকের কাছে তা জমা দেওয়া হয়। জেলা আধিকারিক রাজ্য সরকারের কাছে সংক্ষিপ্ত সমন্বিত প্রতিবেদন পাঠান।
প্রযোজ্য সরকার প্রয়োজনে নিয়োগকর্তা বা জেলা আধিকারিকের কাছ থেকে তথ্য চাইতে পারে। নথিপত্র ও কর্মস্থল পরিদর্শনের অনুমতিও দেওয়া যায়। এই ব্যবস্থা আইনের কার্যকারিতা নিশ্চিত করে।
আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে শাস্তি
আইন না মানলে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।
প্রথমবার লঙ্ঘন: ৫০ হাজার টাকা জরিমানা।
পুনরাবৃত্তি হলে: দ্বিগুণ জরিমানা। প্রয়োজনে লাইসেন্স বাতিল বা নবীকরণ স্থগিত হতে পারে।
মহিলা ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রকের ভূমিকা
মহিলা ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রক এই আইনের কেন্দ্রীয় মন্ত্রক। কার্যকর বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কেন্দ্র, রাজ্য, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং বেসরকারি সংস্থাগুলিকে নিয়মিত পরামর্শ জারি করে।
কোম্পানি আইন, ২০১৩ অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ কমিটি গঠন এখন বাধ্যতামূলক প্রকাশ্য তথ্য। কোম্পানি হিসাব বিধি, ২০১৪ সংশোধনের মাধ্যমে এই বিধান কার্যকর হয়েছে।
এসএইচ আইন সংক্রান্ত একটি হ্যান্ডবুক প্রণয়ন করা হয়েছে। এটি ওয়েবসাইট ও শি-বক্স পোর্টালে উপলব্ধ।
সচিবালয় প্রশিক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের সহযোগিতায় প্রশিক্ষণ মডিউল তৈরি হয়েছে। এটি পোর্টালে রয়েছে।
কর্মী ও প্রশিক্ষণ দপ্তর বার্ষিক প্রতিবেদন, সময়মতো তদন্ত, পুনরায় ভুক্তভোগী না করা এবং অভিযোগকারীর জন্য বিশেষ ছুটি সংক্রান্ত একাধিক পরামর্শ জারি করেছে।
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ: বর্তমান পরিস্থিতি
সুপ্রিম কোর্ট বিভিন্ন মামলার শুনানির সময় আইনের বাস্তবায়ন তদারকি করেছে। রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে সর্বভারতীয় স্তরে প্রতিপালন নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে। অভ্যন্তরীণ কমিটি দ্রুত গঠন এবং শি-বক্স পোর্টালে তথ্য আপলোডের উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
এই নির্দেশ অনুসারে মহিলা ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রক নিয়মিত পরামর্শ জারি করে। প্রতিটি জেলায় স্থানীয় কমিটি এবং প্রয়োজনীয় স্থানে অভ্যন্তরীণ কমিটি গঠনের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সচেতনতা শিবির ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
শি-বক্স পোর্টাল
মহিলা ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রক ২৯ আগস্ট ২০২৪ সালে সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট ইলেকট্রনিক বক্স বা শি-বক্স চালু করে।
শি-বক্স একক ও কেন্দ্রীভূত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। এটি একটি কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার তৈরি করেছে। পূর্বে এই ধরনের ভান্ডার ছিল না। সমগ্র দেশজুড়ে অভিযোগ দায়ের ও নিষ্পত্তির তথ্য পর্যবেক্ষণে এটি সহায়তা করে। জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পায়। দ্রুত প্রতিকার নিশ্চিত হয়। দীর্ঘমেয়াদী সাংগঠনিক পরিবর্তনেও এটি সহায়ক।
সরকারি বা বেসরকারি, সংগঠিত বা অসংগঠিত ক্ষেত্র নির্বিশেষে কর্মরত যে কোনো নারী সহজ ও সুরক্ষিতভাবে অভিযোগ জানাতে পারেন। অভিযোগ জমা পড়লে সংশ্লিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য অভ্যন্তরীণ বা স্থানীয় কমিটির কাছে পাঠানো হয়।
পোর্টালের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য:
অভিযোগের অগ্রগতি তাৎক্ষণিকভাবে অনুসরণ করার সুযোগ।
বহু-ভাষিক সুবিধা।
কঠোর গোপনীয়তা রক্ষা ব্যবস্থা।
অধিকার, প্রশিক্ষণ সামগ্রী এবং ধাপে ধাপে নির্দেশিকা সম্বলিত তথ্যভান্ডার।
মনোনীত সংযোগ-রক্ষাকারী আধিকারিকেরা পোর্টাল তদারকি করেন। অভ্যন্তরীণ ও স্থানীয় কমিটির তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ করা হয়। অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির উপর নজর রাখা হয়।
কর্মস্থলগুলিকে নির্দিষ্ট তথ্য আপলোড করতে হয়:
অভ্যন্তরীণ কমিটির সদস্যদের বিবরণ।
স্থানীয় কমিটির বিবরণ।
বার্ষিক প্রতিবেদন।
সচেতনতা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচির নথি।
উপসংহার
কর্মক্ষেত্রে নারীর প্রতি যৌন হয়রানি প্রতিরোধ, নিষেধাজ্ঞা ও প্রতিকার আইন, ২০১৩ একটি ঐতিহাসিক আইন। এটি নারীর নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মপরিবেশের অধিকার রক্ষা করে। প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, সময়সীমাবদ্ধ প্রতিকার ব্যবস্থা এবং নিয়োগকর্তার দায়িত্ব আইনের মূল শক্তি।
মহিলা ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রক বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দিচ্ছে। নিয়মিত পরামর্শ, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সচেতনতা কর্মসূচি চালানো হচ্ছে। ২০২৪-এর আগস্ট মাসে চালু হওয়া নবায়িত শি-বক্স পোর্টাল এই প্রয়াসে বড় পদক্ষেপ। অভিযোগ দায়ের ও তার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এখন সহজ, সুরক্ষিত ও স্বচ্ছ।
সরকার এসএইচ আইনের কার্যকর প্রয়োগ এবং নারীদের হয়রানিমুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তথ্যসূত্র
Ministry of Women and Child Development:
https://shebox.wcd.gov.in/
Click here for pdf file.
SSS/AS.....
(রিলিজ আইডি: 2228255)
ভিজিটরের কাউন্টার : 2