PIB Headquarters
প্রগতি: সহযোগিতামূলক ও ফলাফলভিত্তিক শাসনের এক দশক
प्रविष्टि तिथि:
13 JAN 2026 7:08PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬
মূল বিষয়সমূহ-
- প্রগতি বিভিন্ন প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে ₹৮৫ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের প্রকল্প এগিয়ে নিয়ে গিয়ে ভারতের উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য গতি সঞ্চার করেছে।
- প্রগতি প্ল্যাটফর্মের অধীনে ৩৮২-টি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্রকল্পের নিয়মিত পর্যালোচনা ও পর্যবেক্ষণ হয়।
- চিহ্নিত ৩,১৮৭-টি সমস্যার মধ্যে ইতিমধ্যেই ২,৯৫-টি সমস্যার সমাধান হয়েছে, ফলে বিলম্ব ও ব্যয় বৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
- প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি তত্ত্বাবধানে কেন্দ্র ও রাজ্যগুলির মধ্যে তাৎক্ষণিক সমন্বয় নিশ্চিত করে এই প্ল্যাটফর্ম জবাবদিহিতা আরও শক্তিশালী করেছে।
প্রগতি: তাৎক্ষণিক শাসনের উজ্জ্বল নিদর্শন-
প্রগতি (প্রো-অ্যাকটিভ গভর্ন্যান্স অ্যান্ড টাইমলি ইমপ্লিমেন্টেশন) বিভিন্ন প্রকল্প, কর্মসূচি এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য ভারত সরকারের প্রধান প্ল্যাটফর্ম। প্রধানমন্ত্রী সরাসরি পর্যালোচনার মাধ্যমে রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রকগুলির সঙ্গে এই প্ল্যাটফর্মের পরিচালনা করেন। নীতিগত উদ্দেশ্য থেকে বাস্তব ও দৃশ্যমান অগ্রগতিকে সম্ভব করা ডিজিটাল শাসনের একটি শক্তিশালী উদাহরণ প্রগতি।
২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে প্রগতি শুরু হওয়ার পর থেকে ভারতের বড় পরিকাঠামো প্রকল্প ও গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক কর্মসূচিগুলির অগ্রগতি মূল্যায়ন ও বাস্তবায়নের পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন এসেছে। এটি কেবল পর্যালোচনার মঞ্চ নয়, আমলাতান্ত্রিক স্থবিরতা ভাঙা, কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে দলবদ্ধ মানসিকতা জোরদার করা এবং সময়নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত, কার্যকর অনুসরণ ও পরিমাপযোগ্য ফলাফলের সংস্কৃতি গড়ে তোলার একটি প্রয়াস। পূর্ববর্তী সরকারগুলির সময় শুরু হওয়া বহু দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা প্রকল্পও প্রগতি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পুনরায় শুরু করা হয় এবং পরবর্তীকালে সেগুলি বাস্তবায়িত এবং সফলভাবে সম্পূর্ণ করা সম্ভব হয়েছে। এর মধ্যে বগিবিল রেল ও সড়ক সেতু, নবি মুম্বই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং ভিলাই ইস্পাত কারখানার আধুনিকীকরণ উল্লেখযোগ্য।
প্রগতি: কী, এবং কেন প্রয়োজন-
ভারতে সরকারি প্রকল্প ও কর্মসূচির ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরেই বিলম্ব ও ব্যয় বৃদ্ধি একটি বড় কাঠিন্য। এই সমস্যার সমাধানে প্রধানমন্ত্রী প্রগতিকে একটি সমন্বিত উদ্যোগ হিসাবে পরিকল্পনা করেন। প্রগতি একটি স্বতন্ত্র, সমন্বিত ও অংশগ্রহণমূলক প্ল্যাটফর্ম। এর মাধ্যমে নাগরিকদের অভিযোগ নিষ্পত্তির পাশাপাশি, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ও কর্মসূচির নজরদারি ও পর্যালোচনা করা হয়। এই প্ল্যাটফর্মে ডিজিটাল তথ্য ব্যবস্থাপনা, ভিডিও কনফারেন্সিং এবং জিও-স্পেসিয়াল প্রযুক্তি একত্রে ব্যবহার করা হয়। এর ফলে, প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় ও রাজ্য আধিকারিকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করতে পারেন এবং প্রকল্পস্থলের সর্বশেষ তথ্য ও দৃশ্যমান প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এটি ই-গভর্ন্যান্সের ক্ষেত্রে একটি উদ্ভাবনী পদক্ষেপ এবং সুশাসনের বাস্তব উদাহরণ।
প্রগতির উৎস ও বিবর্তন-
প্রগতির মূল অনুপ্রেরণা স্বাগত (স্টেট ওয়াইড অ্যাটেনশন অন গ্রিভান্সেস বাই অ্যাপ্লিকেশন অফ টেকনোলজি)। ২০০৩ সালের এপ্রিল মাসে গুজরাটের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্যোগে স্বাগত শুরু করা হয়। এটি ছিল অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য ভারতের প্রথমদিকের প্রযুক্তিনির্ভর প্ল্যাটফর্মগুলির অন্যতম। স্বাগত নাগরিকদের জন্য সরকারকে আরও সহজপ্রাপ্য ও জবাবদিহিমূলক করে তোলে। অনলাইনে অভিযোগ দাখিল, আবেদনের পরিস্থিতির উপর দৃষ্টি রাখা, সিদ্ধান্ত দেখা এবং ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ প্রদান করা হয়।
২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণের পর, শ্রী মোদি স্বাগত-র অন্তর্নিহিত শৃঙ্খলাকে জাতীয় স্তরে প্রসারিত করার লক্ষ্য নিয়ে প্রগতি শুরু করেন। এখানে ব্যক্তিগত অভিযোগের পাশাপাশি বহু সংস্থার ওপর নির্ভরশীল বড় প্রকল্প ও কর্মসূচির বাস্তবায়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এইভাবে প্রগতি কেবল ডিজিটাল উন্নয়ন নয়, সময়নির্দিষ্ট, ফলাফলভিত্তিক ও সহযোগিতামূলক শাসনের নতুন প্রতিরূপ।
সংগঠিত পর্যালোচনা ও অনুসরণ প্রক্রিয়া-
প্রগতি একটি প্রযুক্তিনির্ভর প্ল্যাটফর্ম। এখানে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সমন্বিত প্রচেষ্টায় প্রকল্প পর্যবেক্ষণ, অভিযোগ নিষ্পত্তি ও কর্মসূচির অগ্রগতির পর্যালোচনা করা হয়। এতে পিএম গতি শক্তি, পরিবেশ এবং পিএম রেফ পোর্টালের মতো প্ল্যাটফর্ম সংযুক্ত রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী রাজ্যগুলির মুখ্য সচিব এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রক ও দপ্তরের সচিবদের সঙ্গে প্রগতি বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকের পর বহুতল অনুসরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে সিদ্ধান্তগুলির সময়মতো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হয়। প্রকল্পগুলিকে মন্ত্রিসভা সচিবালয় (ক্যাবিনেট সেক্রেটারিয়েট) এবং কর্মসূচি ও অভিযোগ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক স্তরে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের তত্ত্বাবধানে পর্যবেক্ষণ করা হয়।
কেন্দ্র-রাজ্যের সহযোগিতা ও শাসন ক্ষমতায়ন
প্রগতি বাস্তবে কেন্দ্র-রাজ্যের সহযোগিতাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে। রাজ্যগুলির মুখ্য সচিব এবং কেন্দ্রীয় সরকারের সচিবরা একসঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে জবাবদিহি করেন, ফলে, কেন্দ্র-রাজ্য ও আন্তঃরাজ্য সমস্যার দ্রুত সমাধান সম্ভব হয়। সরাসরি সমন্বয়, সময়নির্দিষ্ট অনুসরণ এবং যৌথ দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে এই ব্যবস্থা বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘদিনের জটিলতা দূর করেছে।
পরিকাঠামো, সমাজ ও নাগরিকবান্ধব শাসনে প্রগতির প্রভাব-
প্রগতি শুধু পরিকাঠামো প্রকল্পেই নয়। সামাজিক স্তরে নাগরিকদের অভিযোগ নিষ্পত্তিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দীর্ঘদিন স্থগিত থাকা বহু প্রকল্প প্রগতির নিয়মিত পর্যালোচনার মাধ্যমে সম্পূর্ণ বা গতিশীল হয়েছে।
প্রগতি: প্রকল্প বাস্তবায়নের আন্তর্জাতিক কেস স্টাডি-
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইড বিজনেস স্কুলের একটি সমীক্ষায় প্রগতিকে বিশ্বমানের একটি ডিজিটাল শাসন মঞ্চ হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এটি বাস্তব সময়ে প্রকল্প পর্যবেক্ষণ, জবাবদিহিতা এবং আন্তঃসরকারি সমন্বয় নিশ্চিত করে।
বহুমাত্রিক প্রভাব-
অর্থনৈতিকভাবে প্রগতি বিলম্ব কমিয়ে বিনিয়োগের সুফল দ্রুত নাগরিকদের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। সামাজিক ক্ষেত্রে দ্রুত সম্পন্ন প্রকল্পগুলি যোগাযোগ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়েছে। পরিবেশগত দিক থেকেও ডিজিটাল পর্যালোচনা ও পরিকল্পনার মাধ্যমে সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হয়েছে।
প্রগতি @ ৫০-
প্রগতি তার ৫০-তম বৈঠকের মাইলফলক অর্জনের মাধ্যমে প্রমাণ করেছে যে প্রযুক্তিনির্ভর নেতৃত্ব, কেন্দ্র-রাজ্যের সহযোগিতা এবং ধারাবাহিক নজরদারির মাধ্যমে জাতীয় স্তরে নীতিকে বাস্তব ফলাফলে রূপান্তরিত করা সম্ভব।
তথ্যসূত্র-
প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর
পিডিএফ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
Click here to see in pdf
***
SSS/RS
(रिलीज़ आईडी: 2214466)
आगंतुक पटल : 8