পরিবেশওঅরণ্যমন্ত্রক
আন্তর্জাতিক বন দিবস ২০২৫
Posted On:
20 MAR 2025 6:35PM by PIB Kolkata
নতুন দিল্লি, ২০ মার্চ, ২০২৫
বন আমাদের বসুন্ধরার জীবন রেখা, যা লক্ষ লক্ষ মানুষের অক্সিজেন, খাদ্য, ওষুধ এবং জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। পরিবেশগত তাৎপর্যের বাইরেও বন বিশ্বব্যাপী খাদ্য সুরক্ষার স্তম্ভ। ফল, বীজ, শিকড় এবং বন্য মাংসের মতো প্রয়োজনীয় সম্পদ সরবরাহ করে আদিবাসী এবং গ্রামীণ সম্প্রদায়কে সাহায্য করে থাকে। প্রতি বছর ২১ মার্চ, বিশ্ব বন দিবস উদযাপন করা হয়। গাছ এবং বনের গুরুত্বকে স্বীকৃতি দিতে ও তাদের সুরক্ষার জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
২০১২ সালে রাষ্ট্রসঙ্ঘ ২১ মার্চ, দিনটিকে আন্তর্জাতিক বন দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে। বনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা উদযাপন এবং সচেতনতা বৃদ্ধির জন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। এবছরের বিষয় ভাবনা হল ‘বন এবং খাদ্য’। এর মাধ্যমে বন এবং বিশ্বব্যাপী খাদ্য সুরক্ষার মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
ভারতে সংস্কৃতি, অর্থনীতি এবং জীব বৈচিত্র্যের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে বন। তাই, তাদের সুরক্ষিত রাখা কেবল মাত্র একটি পরিবেশগত প্রয়োজনীয়তা নয়, একটি মৌলিক দায়িত্ব। এই লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রক এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকগুলি খাদ্য সুরক্ষা, পুষ্টি ও জীবিকার সঙ্গে সংযুক্ত বিভিন্ন প্রকল্প চালু করেছে।
কৃষি ভিত্তিক বনায়ন হল একটি ভূমি-ব্যবহার ব্যবস্থা যা কৃষি ক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, মাটির উর্বরতা বাড়ানো এবং কৃষকদের জন্য অতিরিক্ত আয়ের বিষয়ে উৎসাহ দান করে। এর ফলে, গাছ লাগানো এবং ফসল চাষের মধ্যে সমন্বয় করা সম্ভব হয়। ভারত সরকার কৃষি জমিতে বৃক্ষ রোপণের উৎসাহদানে ২০১৪ সালে জাতীয় কৃষি ভিত্তিক বনায়ন নীতি চালু করেছে।
এর লক্ষ্যই হল জলবায়ু পরিবর্তন রোধ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং আর্থিক লাভের জন্য কৃষকদের উৎসাহ যোগানো।
এই প্রকল্প নার্সারি ও টিস্যু কালচার ইউনিটের মাধ্যমে মান সম্পন্ন রোপণ উপকরণ (কিউএমপি) উৎপাদন এবং বিতরণের উপর জোর দিয়েছে। এক্ষেত্রে, আইসিএআর-সেন্ট্রাল অ্যাগ্রোফরেস্ট্রি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (সিএএফআরআই) হল নোডাল এজেন্সি, যারা প্রযুক্তিগত সহায়তা ও কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। আইসিএফআরই, সিএসআইআর, আইসিআরএএফ এবং রাজ্য ভিত্তিক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মতো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে সাহায্য করে থাকে।
কৃষি ভিত্তিক বনজ পণ্যের বিপণন এবং প্রক্রিয়াকরণে বেসরকারি ক্ষেত্রের অংশগ্রহণকেও উৎসাহ জুগিয়েছে এই প্রকল্প। নার্সারি প্রতিষ্ঠা এবং গবেষণা প্রকল্পের জন্য সরকার আর্থিক সাহায্য করে থাকে।
গ্রিন ইন্ডিয়া মিশন (জিআইএম) যা গ্রিন ইন্ডিয়ার জন্য জাতীয় মিশন নামেও পরিচিত। ভারতের জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত জাতীয় পরিকল্পনা (এনএপিসিসি)-এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই মিশনের লক্ষ্যই হল জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা করার সময়ে ভারতে বনভূমি রক্ষা, পুনরুদ্ধার এবং বৃদ্ধি করা। জীব বৈচিত্র্য, জলসম্পদ ও ম্যানগ্রোভ এবং জলাভূমির মতো বাস্তুতন্ত্রের উন্নতিসাধনে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, জিআইএম-এর অধীনে কর্মকাণ্ড ২০১৫-১৬ অর্থবর্ষে শুরু হয়।
২০২৪-এর জুলাই পর্যন্ত ১৭টি রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ১,৫৫,১৩০ হেক্টরেরও বেশি জমিতে বৃক্ষ রোপণ এবং পরিবেশ সুরক্ষায় ৯০৯.৮২ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
বনাঞ্চলে দাবানল প্রতিরোধ এবং ব্যবস্থাপনা হল কেন্দ্রীয় সাহায্যপ্রাপ্ত প্রকল্প, যা রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে বনে অগ্নি প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। বনাঞ্চলে অগ্নিকাণ্ডের ফলে উদ্ভূত সঙ্কট মোকাবিলার জন্য মন্ত্রকের সচিবের পৌরোহিত্যে একটি সঙ্কট মোকাবিলা ব্যবস্থাপনা গোষ্ঠী গঠন করা হয়েছে। বন সুরক্ষায় স্থানীয় সম্প্রদায়কে যুক্ত করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা প্রতিরোধে রিমোট সেন্সিং, জিপিএস এবং জিআইএস-এর মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তিকে কাজে লাগানো হচ্ছে। সংসদীয় কমিটির সুপারিশ এবং এনজিটি-র নির্দেশ অনুসারে মন্ত্রক বনাঞ্চলে অগ্নিকাণ্ডের উপর জাতীয় কর্মপরিকল্পনা তৈরি করেছে।
আদিবাসী বিষয়ক মন্ত্রক এবং TRIFED ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী বন ধন যোজনা (পিএমভিডিওয়াই) সূচনা করে। এই যোজনার মূল লক্ষ্যই হল বনজ সম্পদের মূল্য বৃদ্ধি করে আদিবাসী সম্প্রদায়ের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন। এই উদ্যোগের আওতায় আদিবাসী সম্প্রদায়গুলি ১৫টি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর ৩০০ জন সদস্য নিয়ে বন ধন বিকাশ কেন্দ্র গঠন করে। এই কেন্দ্রগুলি ক্ষুদ্র বনজ পণ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং বিপণন কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে। প্রতিটি কেন্দ্রের জন্য ১৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এর ফলে, বন সংরক্ষণে উৎসাহ যোগানোর পাশাপাশি আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষের জীবিকা নির্বাহের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি এবং তাঁদের আর্থিকভাবে শক্তিশালী করে তোলা সম্ভবপর হচ্ছে।
পরিশেষে বলাই যায়, জাতীয় কৃষি ভিত্তিক বনায়ন নীতি, গ্রিন ইন্ডিয়া মিশন, দাবানল প্রতিরোধ ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প, বন ধন যোজনার মতো বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে বন সংরক্ষণ এবং সুস্থায়ী উন্নয়নের ক্ষেত্রে ভারতের অঙ্গীকার সুস্পষ্ট হয়েছে। এই কর্মসূচিগুলি কেবল বনের বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং সুরক্ষায় সহায়তা করে না, একইসঙ্গে জীবিকা নির্বাহ, জলবায়ু পরিবর্তন রোধ এবং খাদ্য সুরক্ষাকেও জোরদার করেছে।
বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন এই লিঙ্কগুলিতে –
• https://www.unep.org/events/un-day/international-day-forests-2025#:~:text=Overview-,Overview,of%20all%20types%20of%20forests.
• https://agriwelfare.gov.in/Documents/Operational%20Guidelines%20of%20AGROFOREST%20Y%20under%20RKVY.pdf
• https://moef.gov.in/about-the-mission
• https://moef.gov.in/projects
• https://pib.gov.in/PressReleaseIframePage.aspx?PRID=2038296
• https://moef.gov.in/forest-protection-fpd
• https://moef.gov.in/achievements
• https://pib.gov.in/PressReleaseIframePage.aspx?PRID=2035043
• https://testshabri.mahaitgov.in/Site/1416/Pradhan-Mantri-Van-Dhan-Yojna
• https://www.india.gov.in/spotlight/pradhan-mantri-van-dhan-yojana
SC/SS/SKD/
(Release ID: 2113728)
Visitor Counter : 22