বিজ্ঞানওপ্রযুক্তিমন্ত্রক

ভবিষ্যতে নদীর জল উপচে পড়া, হিমবাহের গলন এবং নদীর মরশুমি জলপ্রবাহ বৃদ্ধি পাবে

Posted On: 23 JUN 2021 4:58PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লী, ২৩  জুন, ২০২১

        জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হিমালয় অঞ্চলের বরফ ও হিমবাহ দ্রুত গলে যাচ্ছে। এর ফলে হিমালয়- কারাকোরাম অঞ্চলের সিন্ধু, গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্রের মতো নদীর জলপ্রবাহে প্রভাব পরবার সম্ভাবনা আছে।

        হিমালয়- কারাকোরাম অঞ্চলকে এশিয়ার জলস্তম্ভ বলা হয়। পৃথিবীর সবথেকে বেশি হিমবাহে আবৃত পার্বত্য অঞ্চল হল এই হিমালয়-কারাকোরাম অঞ্চল। ১০০ কোটির মতো মানুষ এই অঞ্চলের যে সব নদীর উৎপত্তি তাদের জল সম্পদের ওপর আংশিকভাবে নির্ভরশীল। তাই এখানকার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে নদীগুলির জলপ্রবাহের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।    

        বিজ্ঞান ভিত্তিক ম্যাগাজিন ‘সায়েন্স’এ হিমালয় কারাকোরাম অঞ্চলের হিমবাহ এবং জল অনুসন্ধান বিজ্ঞান বিষয়ক একটি প্রবন্ধে বলা হয়েছে ২০৫০ সাল পর্যন্ত এই এলাকায় নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়া, হিমবাহ গলে যাওয়া এবং মরশুমি জলপ্রবাহ বৃদ্ধির ঘটনা ঘটবে। কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া এই অঞ্চলের জলপ্রবাহের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা দেখা দেবে। ইন্দোর আইআইটি-র সহকারী অধ্যাপক ডঃ মহম্মদ ফারূক আজম জলবায়ু পরিবর্তন, হিমবাহের সংকোচন এবং বৃষ্টিপাতের পরিমাণের পরিবর্তনের সঙ্গে কি যোগাযোগ রয়েছে সে সংক্রান্ত ২৫০টি গবেষণাপত্রের ওপর ভিত্তি করে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছেন। এই নিবন্ধে বলা হয়েছে হিমালয় কারাকোরাম অঞ্চলের নদীগুলির ক্ষেত্রে হিমবাহ এবং বরফ গলে যাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এর ফলে গঙ্গা এবং ব্রহ্মপুত্রের থেকে সিন্ধু অববাহিকার জলপ্রবাহ বেশি প্রভাবিত হবে।     

        কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দপ্তর এই নিবন্ধ রচনার কাজে সাহায্য করেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে হিমালয়ে অঞ্চলে জলসম্পদের কি যোগাযোগ রয়েছে এবং এরফলে উদ্ভুত সমস্যার সমাধানের জন্য কেন্দ্র এই গবেষণার কাজে উৎসাহ দিয়েছে। নদীগুলির বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যতে কি পরিবর্তন হতে পারে সে বিষয়ে ধারণা অর্জন করে কৃষি, জল বিদ্যুৎ, পানীয় জল, পয়ঃনিষ্কাশী ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য নীতি নির্ধারকদের উদ্যোগী হতে হবে। সায়েন্স পত্রিকায় প্রকাশিত ওই নিবন্ধে এই সমস্যাগুলির সমাধানের জন্য দুটি পর্যায়ে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। প্রথম পর্বে নির্দিষ্ট কয়েকটি হিমবাহের ওপর সব আবহাওয়ায় নজরদারি চালাতে হবে। যার সাহায্যে হিমবাহের এলাকা এবং আয়তনের মধ্যে কি কি পরিবর্তন হচ্ছে, ভূগর্ভসস্থ বরফ গলা এবং বরফ কিভাবে বাস্পায়িত হয়ে বেরিয়ে আসছে সে বিষয়ে ধারণা পাওয়া যাবে। এই পর্যবেক্ষণের ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তার হাত থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য হিমবাহগুলির জল সম্পদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

 

CG/CB /NS



(Release ID: 1729888) Visitor Counter : 229