PIB Backgrounder
azadi ka amrit mahotsav

গুরুত্বপূর্ণ খনিজ প্রক্রিয়াকরণে উৎসাহ দিতে ক্যাপেক্স সহায়তা প্রকল্প

দেশে লিথিয়াম ও নিকেল প্রক্রিয়াকরণে ২,৮১৪ কোটি টাকার সহায়তা

প্রকাশিত: 05 NOV 2026 1:56PM by PIB Kolkata

৫ নভেম্বর, ২০২৬

 

গুরুত্বপূর্ণ খনিজ প্রক্রিয়াকরণে উৎসাহ দিতে ক্যাপেক্স সহায়তা প্রকল্প (CAPEX Support Scheme to Promote Critical Mineral Processing) সম্প্রতি ২,৮১৪ কোটি টাকা ব্যয়বরাদ্দ-সহ অনুমোদিত হয়েছে। প্রকল্পটি ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষ থেকে ২০৩০-৩১ অর্থবর্ষ পর্যন্ত চালু থাকবে। এর আওতায় দুটি লিথিয়াম এবং দুটি নিকেল প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য ৩০% মূলধনী ভর্তুকি দেওয়া হবে। প্রতিযোগিতামূলক দ্বি-পর্যায়ের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সুবিধাভোগীদের নির্বাচন করা হবে এবং প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায়ের অগ্রগতির ভিত্তিতে সহায়তার অর্থ ছাড়া হবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ১০,০০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে, আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে, সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিস্থাপকতা মজবুত হবে এবং বৈদ্যুতিক যানবাহন, ব্যাটারি স্টোরেজ, বৈদ্যুতিন, প্রতিরক্ষা ও বিশেষ ধরনের ইস্পাত শিল্প উপকৃত হবে।

গুরুত্বপূর্ণ খনিজ প্রক্রিয়াকরণে ভারতের সক্ষমতা বৃদ্ধি

গুরুত্বপূর্ণ খনিজগুলি অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য। পরিচ্ছন্ন শক্তি প্রযুক্তি, উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর বৈদ্যুতিন পণ্য, পরিবহণ, টেলিযোগাযোগ এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে এগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কার্বন নিঃসরণ কম এমন অর্থনীতির দিকে বিশ্বব্যাপী উত্তরণের ক্ষেত্রেও এই খনিজগুলির প্রাপ্যতা অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে এই খনিজগুলির প্রক্রিয়াকরণ মূলত কয়েকটি দেশের মধ্যেই ভৌগোলিকভাবে কেন্দ্রীভূত। এর ফলে, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, দামের ওঠানামা এবং সম্ভাব্য সরবরাহে বিধিনিষেধের কারণে বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খল বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই বিভিন্ন দেশ নিজেদের জাতীয় অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ চিহ্নিত করে এবং সরবরাহ শৃঙ্খল সুরক্ষিত রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

ভারত লিথিয়াম, নিকেল, কোবাল্ট, গ্রাফাইট এবং বিরল মৃত্তিকা মৌল-সহ ২৪টি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ চিহ্নিত করেছে। ২০৭০ সালের মধ্যে নিট-জিরো নিঃসরণ অর্জনের লক্ষ্যে দেশের অঙ্গীকার এই খনিজগুলির গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তুলেছে। তবে, গুরুত্বপূর্ণ খনিজগুলির পরিশোধিত মধ্যবর্তী উপাদান এবং উচ্চ বিশুদ্ধতাসম্পন্ন উপকরণের চাহিদা ভারত মূলত আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে। দেশে এই খনিজগুলির প্রক্রিয়াকরণে সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বহির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ প্রক্রিয়াকরণে ক্যাপেক্স সহায়তা প্রকল্প (CAPEX Support Scheme to Promote Critical Mineral Processing) এ বছর ৪ নভেম্বর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা অনুমোদন করেছে।

গুরুত্বপূর্ণ খনিজ প্রক্রিয়াকরণে ক্যাপেক্স সহায়তা প্রকল্প

এই প্রকল্পের আওতায় দেশে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য নির্দিষ্ট মূলধনী ব্যয় (CAPEX) সহায়তা প্রদান করা হবে। এর প্রধান উদ্দেশ্যগুলি হল:

দেশীয় প্রক্রিয়াকরণ সক্ষমতা বৃদ্ধি: উচ্চ বিশুদ্ধতাসম্পন্ন লিথিয়াম ও নিকেল প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র স্থাপনে সহায়তা করা। লিথিয়াম প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রগুলিতে আকরিক ও ঘনীভূত খনিজ (লবণাক্ত জল বা ব্রাইন বাদে) প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে ব্যাটারি-গ্রেড পণ্য উৎপাদন করা হবে। অন্যদিকে, নিকেল প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রগুলিতে কোবাল্ট পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি ক্লাস-১ নিকেল অথবা ব্যাটারি-গ্রেড নিকেল সালফেট উৎপাদন করা হবে। ক্যাপেক্স সহায়তা প্রাথমিক পর্যায়ের উচ্চ ব্যয়ের বোঝা কমিয়ে প্রকল্পগুলির কার্যকারিতা ও বাস্তবায়নযোগ্যতা বৃদ্ধি করবে।

স্থিতিস্থাপক মূল্য শৃঙ্খল গড়ে তোলা: প্রক্রিয়াকরণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ঘাটতি পূরণের মাধ্যমে লিথিয়াম ও নিকেলের মূল্য শৃঙ্খলকে আরও শক্তিশালী করা হবে।

আর্থিক ব্যয়বরাদ্দ ও সহায়তা

এই প্রকল্পে মোট ২,৮১৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এটি ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষ থেকে ২০৩০-৩১ অর্থবর্ষ পর্যন্ত পাঁচ বছর ধরে চলবে। প্রকল্পের আওতায় চারটি প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য যোগ্য বিনিয়োগের ওপর ৩০ শতাংশ মূলধনী ভর্তুকি দেওয়া হবে। এর মধ্যে থাকবে অন্তত ৩০ কিলোটন ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি লিথিয়াম প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র এবং অন্তত ৫০ কিলোটন ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি নিকেল প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র।

প্রতি লিথিয়াম গ্রাহকের জন্য সর্বোচ্চ ৫০০ কোটি টাকা এবং প্রতি নিকেল গ্রাহকের জন্য সর্বোচ্চ ৯০০ কোটি টাকা সহায়তা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী, লিথিয়াম খাতের জন্য মোট ১,০০০ কোটি টাকা এবং নিকেল খাতের জন্য ১,৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যার সর্বমোট পরিমাণ ২,৮০০ কোটি টাকা। এছাড়াও, প্রশাসনিক ব্যয়ের জন্য আরও ১৪ কোটি টাকা, অর্থাৎ মোট বরাদ্দের ০.৫ শতাংশ রাখা হয়েছে। ভারত সরকারের বাজেট বরাদ্দের মাধ্যমেই প্রকল্পটির সম্পূর্ণ অর্থায়ন করা হবে।

সুবিধাভোগীদের নির্বাচন ও উৎসাহমূলক অর্থ প্রদান

এই প্রকল্পে প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সুবিধাভোগীদের নির্বাচন করা হবে। এরপর প্রকল্পের নির্দিষ্ট অগ্রগতির মাইলফলকের সঙ্গে সংযুক্ত বিভিন্ন পর্যায়ে সহায়তার অর্থ প্রদান করা হবে।

দুই পর্যায়ের নির্বাচন প্রক্রিয়া

  • প্রথম পর্যায় – কারিগরি যোগ্যতা যাচাই: সমস্ত আবেদন কারিগরি মানদণ্ডের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে। কেবল যোগ্য আবেদনকারীরাই পরবর্তী পর্যায়ে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।
  • দ্বিতীয় পর্যায় – আর্থিক দরপত্র: যোগ্য আবেদনকারীরা আর্থিক দরপত্র জমা দেবেন। সর্বনিম্ন ব্যয়ের মানদণ্ড অনুসারে নির্বাচন করা হবে, অর্থাৎ, যে আবেদনকারী সর্বনিম্ন ক্যাপেক্স সহায়তা চাইবেন, তাঁকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

প্রতিটি খনিজের জন্য দু'জন করে সুবিধাভোগী নির্বাচন করা হবে। অর্থাৎ, মোট চারজন সুবিধাভোগী নির্বাচিত হবেন।

প্রকল্পের অগ্রগতির মাইলফলক অনুযায়ী অর্থ প্রদান

প্রণোদনার অর্থ তিনটি কিস্তিতে প্রদান করা হবে। প্রতিটি কিস্তির অর্থ প্রদান নির্দিষ্ট বিনিয়োগ এবং ইক্যুইটি সংক্রান্ত মাইলফলক পূরণের সঙ্গে যুক্ত থাকবে।

 

কিস্তি

মাইলফলক

দরপত্রে উল্লিখিত পরিমাণের (Quoted Bid Amount) কত শতাংশ পর্যন্ত ক্রমপুঞ্জিত ভর্তুকি প্রদান করা হবে

১

প্রতিশ্রুত ক্যাপেক্সের ২৫% ব্যয় করা হলে এবং ন্যূনতম প্রয়োজনীয় ইক্যুইটির অন্তত ১৫% জমা দেওয়া হলে

২৫%

২

প্রতিশ্রুত ক্যাপেক্সের ৫০% ব্যয় করা হলে এবং ন্যূনতম প্রয়োজনীয় ইক্যুইটির অন্তত ৫০% জমা দেওয়া হলে

৫০%

৩

কারখানা চালু হলে এবং ন্যূনতম প্রয়োজনীয় ইক্যুইটির ১০০% জমা দেওয়া হলে

১০০%

 

কারখানা চালুর সময়সীমা

সুবিধাভোগীদের লেটার অফ অ্যাওয়ার্ড (LoA) পাওয়ার তিন বছরের মধ্যে কারখানা চালু করতে হবে। তবে যে কোনও পরিস্থিতিতেই LoA পাওয়ার পাঁচ বছরের মধ্যে কারখানা চালুর কাজ সম্পূর্ণ করতে হবে। তিন বছরের পরেও কারখানা চালু করতে দেরি হলে, পঞ্চম বছর পর্যন্ত অবশিষ্ট অনাদায়ী ক্যাপেক্স সহায়তার পরিমাণ ধাপে ধাপে হ্রাস করার ব্যবস্থা কার্যকর হবে।

পরিচালন কাঠামো

এই প্রকল্পের তদারকির জন্য একটি ত্রিস্তরীয় পরিচালন কাঠামো গঠন করা হবে। এর মাধ্যমে প্রকল্পের কার্যকর বাস্তবায়ন, নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশ নিশ্চিত করা হবে।

 

স্তর

সংস্থা

প্রধান ভূমিকা

শীর্ষস্তর (Apex)

গভর্নিং কাউন্সিল (GC), যার সভাপতিত্ব করবেন খনি মন্ত্রকের সচিব

কৌশলগত দিকনির্দেশ প্রদান এবং অগ্রগতি পর্যালোচনা। সুবিধাভোগীদের চূড়ান্ত নির্বাচন এবং ক্যাপেক্স সহায়তা অনুমোদন। খনি মন্ত্রকের কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর অনুমোদন সাপেক্ষে প্রকল্পের নির্দেশিকায় সংশোধন অনুমোদনের ক্ষমতাও এই কাউন্সিলের থাকবে।

মূল্যায়ন (Evaluation)

টেকনো-ফিনান্সিয়াল কমিটি (TFC)

কারিগরি ও আর্থিক দিক থেকে আবেদনগুলির মূল্যায়ন। গভর্নিং কাউন্সিলের কাছে সুবিধাভোগীদের নাম সুপারিশ। এই কমিটিতে গবেষণা ও উন্নয়ন (R&D) সংস্থা, কারিগরি প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার (PSU) কারিগরি ও আর্থিক বিশেষজ্ঞরা থাকবেন।

বাস্তবায়ন (Implementation)

প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি (PMA)

সচিবালয়-সংক্রান্ত, পরিচালন ও বাস্তবায়নের কাজে সহায়তা প্রদান। খনি মন্ত্রকের অর্পিত অন্যান্য দায়িত্ব পালন।

 

দেশের অভ্যন্তরে প্রক্রিয়াকরণ কেন গুরুত্বপূর্ণ

 

দেশের অভ্যন্তরে প্রক্রিয়াকরণ পরিকাঠামো গড়ে তোলা ভারতের গুরুত্বপূর্ণ খনিজের নিরাপত্তা ও স্বনির্ভরতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সক্ষমতা গড়ে তোলার প্রধান কারণগুলি নিচে উল্লেখ করা হল:

কৌশলগত গুরুত্ব: জ্বালানি রূপান্তর প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, মহাকাশ ও বিশেষ ধরনের ইস্পাত শিল্পের জন্য সুস্থায়ী অভ্যন্তরীণ মূল্য শৃঙ্খল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের অভ্যন্তরে প্রক্রিয়াকরণ পরিকাঠামো গড়ে উঠলে বহিরাগত সরবরাহের ঝুঁকি কমবে এবং স্বনির্ভরতা বাড়বে। একইসঙ্গে সাশ্রয়ী প্রযুক্তি, মধ্যবর্তী যৌগ এবং কারিগরি দক্ষতার ক্ষেত্রে ভারতের সীমিত প্রবেশাধিকারের সমস্যাও মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।

দেশের অভ্যন্তরে বিপুল চাহিদা: চাহিদার পূর্বাভাস থেকেই স্থানীয় স্তরে প্রক্রিয়াকরণ সক্ষমতা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট। মূল্য সংযোজন সর্বাধিক করা এবং আমদানির বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য দেশের অভ্যন্তরে এই সক্ষমতার বিকাশ অত্যন্ত জরুরি।

বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা: বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে দেশের অভ্যন্তরে প্রক্রিয়াকরণ প্রকল্পগুলি আর্থিকভাবে লাভজনক নয়। এই ধরনের প্রকল্পে উন্নত যন্ত্রপাতি, একাধিক পর্যায়ে রূপান্তরের ব্যবস্থা এবং কঠোর পরিবেশগত সুরক্ষাবিধি প্রয়োজন, যার ফলে, মূলধনী ব্যয় বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি, কাঁচামাল ও উপযুক্ত প্রযুক্তির প্রাপ্তিও সীমিত। নির্দিষ্ট সহায়তা ছাড়া শিল্প সংস্থাগুলির পক্ষে এই ধরনের কারখানা স্থাপন করা কঠিন।

প্রত্যাশিত ফলাফল

এই প্রকল্পের মাধ্যমে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত ক্ষেত্রে একাধিক সুফল পাওয়ার আশা করা হচ্ছে:

বিনিয়োগ ও প্রক্রিয়াকরণ সক্ষমতা: এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রক্রিয়াকরণ ক্ষেত্রে প্রায় ১০,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে সম্ভাব্য চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে ৬০ কিলোটন লিথিয়াম এবং ১০০ কিলোটন নিকেল প্রক্রিয়াকরণ সক্ষমতা গড়ে তুলতে সহায়তা করা হবে।

দেশের অভ্যন্তরে মূল্য সংযোজন: আকরিক, কনসেনট্রেট এবং মধ্যবর্তী উপাদানগুলি দেশের অভ্যন্তরেই উচ্চ বিশুদ্ধতাসম্পন্ন পণ্যে রূপান্তরিত করা হবে। এর ফলে দেশের অভ্যন্তরে মূল্য শৃঙ্খলের আরও বড় অংশের সুফল পাওয়া সম্ভব হবে।

সরবরাহের নিরাপত্তা: ভৌগোলিকভাবে নির্দিষ্ট কয়েকটি অঞ্চলে কেন্দ্রীভূত প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থার ওপর ভারতের নির্ভরতা এবং সম্ভাব্য রপ্তানি বিধিনিষেধের ঝুঁকি এই প্রকল্পের মাধ্যমে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আমদানি ব্যয় হ্রাস: দেশের অভ্যন্তরে উচ্চ বিশুদ্ধতাসম্পন্ন মধ্যবর্তী উপাদান উৎপাদনের ফলে আমদানির বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে আমদানি ব্যয় এবং বৈদেশিক মুদ্রার বহির্গমন কমবে।

পরবর্তী পর্যায়ের উৎপাদন শিল্পে সহায়তা: পরিশোধিত উৎপাদিত উপাদানগুলি ব্যাটারির উপকরণ, ব্যাটারি সেল এবং বিশেষ ধরনের ইস্পাত উৎপাদনে সহায়তা করবে। এর ফলে পরবর্তী পর্যায়ের উৎপাদন শিল্পের জন্য চালু প্রকল্পগুলিও আরও শক্তিশালী হবে।

কর্মসংস্থান সৃষ্টি: গুরুত্বপূর্ণ খনিজ প্রক্রিয়াকরণ ক্ষেত্রে এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। চূড়ান্ত ব্যবহারের উপযোগী পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে কর্মসংস্থানের আরও সুযোগ তৈরি হতে পারে।

ভারতের গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা

গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সমগ্র মূল্য শৃঙ্খল জুড়ে ইতিমধ্যেই চালু থাকা একাধিক উদ্যোগের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে এই প্রকল্প। এই উদ্যোগগুলির মাধ্যমে এখন খনিজের অনুসন্ধান, খনন, পুনর্ব্যবহার এবং প্রক্রিয়াকরণ—সমস্ত ক্ষেত্রই অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

ন্যাশনাল ক্রিটিক্যাল মিনারেল মিশন (NCMM): ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে চালু হওয়া এই মিশনের লক্ষ্য হল গুরুত্বপূর্ণ খনিজের দীর্ঘমেয়াদী সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং সমগ্র মূল্য শৃঙ্খলকে আরও শক্তিশালী করা। এই মিশনের অধীনে, ২০২৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা অনুমোদিত ১,৫০০ কোটি টাকার একটি পুনর্ব্যবহার প্রকল্পের মাধ্যমে গৌণ উৎস থেকে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পুনরুদ্ধারে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। এই গৌণ উৎসগুলির মধ্যে রয়েছে ই-বর্জ্য, ব্যবহৃত লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি এবং অন্যান্য বাতিল সামগ্রী।

অনুসন্ধান ও খনন: খনিজ ব্লকের নিলাম প্রক্রিয়া ধারাবাহিকভাবে গতি পেয়েছে। এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকার ৬৪টি গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত খনিজ ব্লক এবং ১১টি এক্সপ্লোরেশন লাইসেন্স ব্লকের নিলাম করেছে।

আগামীর পথ

গুরুত্বপূর্ণ খনিজ প্রক্রিয়াকরণে ক্যাপেক্স সহায়তা প্রকল্প ভারতের গুরুত্বপূর্ণ খনিজের মূল্য শৃঙ্খলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতি পূরণ করবে। লিথিয়াম ও নিকেল প্রক্রিয়াকরণে সহায়তা দানের মাধ্যমে এই প্রকল্প আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাবে এবং সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরও সুস্থায়ী করে তুলবে। ন্যাশনাল ক্রিটিক্যাল মিনারেল মিশনের পাশাপাশি, এই প্রকল্প আত্মনির্ভর ভারত-এর লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

তথ্যবিবরণী

 

Cabinet

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2332476&reg=48&lang=2

Ministry of Mines

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2277041&reg=3&lang=1

PIB Backgrounder

https://static.pib.gov.in/WriteReadData/specificdocs/documents/2025/sep/doc202596629501.pdf

Click here to see pdf

 

*******************

SSS/RP.......


(রিলিজ আইডি: 2333197) ভিজিটরের কাউন্টার : 13
এই রিলিজটি পড়তে পারেন: Urdu , English , हिन्दी , Gujarati , Tamil