স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক
azadi ka amrit mahotsav

রায়পুরে ছত্তিশগড় রাজ্যোৎসবের সমাপ্তি অনুষ্ঠানে ভাষণ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী শ্রী অমিত শাহের

প্রকাশিত: 03 NOV 2026 8:35PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬ 

 

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ও সমবায় মন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ আজ রায়পুরে ছত্তিশগড় রাজ্যোৎসবের সমাপ্তি অনুষ্ঠানে ভাষণ দেন। এই অনুষ্ঠানে ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী শ্রী বিষ্ণু দেও সাই, উপ-মুখ্যমন্ত্রী শ্রী বিজয় শর্মা এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ বলেন যে, তিনি ছত্তিশগড়ের সমস্ত মানুষের পক্ষ থেকে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী জির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন এবং শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন; কারণ অটল জি-ই ২০০০ সালে ছত্তিশগড় রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি বলেন, আমরা জানতাম যে রাজ্য গঠনের পরপরই বিরোধী দলের নেতারা মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন, তবুও আমরা তা নিয়ে চিন্তিত ছিলাম না। শ্রী শাহ বলেন, অতীতে ছত্তিশগড়ের প্রতি অবিচার করা হয়েছিল এবং এই অঞ্চলের উন্নয়ন থমকে গিয়েছিল। তিনি আরও বলেন, অটল জি ছত্তিশগড় সৃষ্টি করেছিলেন এবং প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী জি একে লালন-পালন করেছেন।


ছত্তিশগড়ের মানুষকে, বিশেষ করে আদিবাসী সম্প্রদায়কে শুভেচ্ছা জানিয়ে শ্রী অমিত শাহ বলেন যে, নকশালমুক্ত হওয়ার পর ছত্তিশগড় আজ উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছে। তিনি এই সাফল্যের জন্য কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী এবং ছত্তিশগড় পুলিশকেও অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, আজকের দিনটি গর্ব, সাফল্য এবং সংকল্পের দিন। আমরা অটল জির সেই উত্তরাধিকার নিয়ে গর্বিত, যিনি ছত্তিশগড়কে একটি পৃথক রাজ্যের পরিচিতি দিয়েছিলেন। বহু বছর ধরে যে সংকল্প নেওয়া হয়েছিল—অর্থাৎ নকশালমুক্ত ছত্তিশগড় এবং নকশালমুক্ত ভারত গড়ার সংকল্প, তা আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে। এর পাশাপাশি, মোদী জি এবং বিষ্ণু দেও জির নেতৃত্বে একটি উন্নত ছত্তিশগড় গড়ে তোলার সংকল্পও আমাদের রয়েছে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ জানান, আজ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছত্তিশগড়ের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা ব্যক্তিদের সম্মানিত করা হয়েছে। শ্রী শাহ আরও বলেন, ছত্তিশগড়ের লোকসংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে আমাদের সরকার 'ছত্তিশগড় পান্ডুম' এবং 'বস্তার অলিম্পিক'-এর মতো আয়োজন করে থাকে। বিষ্ণু দেও সাইয়ের সরকার পান্থি, পাণ্ডবানি, রাউত, নাচা, কর্মা ও শৈলা নৃত্যের মতো সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য; ঢোকরা শিল্প, বেল মেটাল (কাঁসা-পিতল শিল্প), কাঠের কারুকাজ ও কোসা শিল্পের মতো শিল্পকলা; এবং বস্তার দশেরার ৭৫ দিনব্যাপী অনন্য ঐতিহ্যকে এক নতুন পরিচিতি দিয়েছে। ‘বস্তার পান্ডুম’ ও ‘বস্তার অলিম্পিক’-এর মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ তরুণ-তরুণী আদিবাসী ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছেন এবং নিজেদের সংস্কৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করেছেন। ‘বস্তার পান্ডুম’ এই অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী পোশাক-পরিচ্ছদ, খাদ্যাভ্যাস, গান ও নৃত্যকে পুনরায় প্রাণবন্ত করে তুলেছে। একই সঙ্গে, আদিবাসী এলাকাগুলির উন্নয়নের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত লক্ষ্য পূরণের কাজও এখন এগিয়ে চলেছে।
শ্রী অমিত শাহ বলেন, ছত্তিশগড়ের মানুষ বিরোধী দলকে সরিয়ে আমাদের দলের পক্ষে রায় দিয়েছেন, আর তার মাত্র দুই মাসের মধ্যেই আমরা নকশালবাদ নির্মূল করার সংকল্প নিয়েছি। তিনি বলেন, যেখানে একটি ‘সাংস্কৃতিক করিডোর’ বা সাংস্কৃতিক বলয় থাকার কথা ছিল, সেখানে তৈরি করা হয়েছিল এক ‘রেড করিডোর’ বা লাল করিডোর। যে বনভূমিতে মহুয়া, তেন্দু পাতা আর লোকগানের সুর থাকার কথা ছিল, সেখানে পুঁতে রাখা হয়েছিল ল্যান্ডমাইন। যে শিশুর হাতে কলম থাকার কথা ছিল, তাকে স্কুল থেকে তুলে নিয়ে হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল বন্দুক। যেখানে স্কুলের ঘণ্টা বাজার কথা ছিল, সেখানে স্কুল ভবনকেই উড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল; আর যিনি উন্নয়নের জন্য রাস্তা তৈরির কাজে যুক্ত ছিলেন, তাঁকে তাঁর পরিবারের সামনেই জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়েছিল। তিনি মানবাধিকারের নামে যাঁরা নকশালবাদকে সমর্থন করেন, তাঁদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন রাখেন: মানবাধিকার কি কেবল তাঁদেরই প্রাপ্য, যারা হাতে বন্দুক তুলে নেয় এবং উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে? দরিদ্র আদিবাসীদের কি কোনো মানবাধিকার নেই? শ্রী শাহ বলেন, মোদী সরকার প্রমাণ করে দিয়েছে যে, দরিদ্র আদিবাসীদেরও মানবাধিকার রয়েছে। তিনি জানান, গত ৩০ বছরে যারা বোমা বিস্ফোরণে হাত-পা হারিয়েছেন, তাঁদের জীবন সহজ করার লক্ষ্যে কৃত্রিম অঙ্গ (কৃত্রিম হাত-পা) লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, যাঁরা অনেক দূরে বসে দীর্ঘ প্রবন্ধ লিখে নানা পরামর্শ দেন, তাঁদের এখানে এসে অন্তত একটি দিন কাটানোর সাহসটুকুও নেই। তিনি বলেন যে, ভয় পাওয়ার কিছু নেই, 
এখন আর কেউ তাঁদের হত্যা করবে না। এখানে আসুন এবং উন্নয়নের হাওয়া অনুভব করুন। যদি আপনার হৃদয়ে শ্রীরাম জাগ্রত হন, তবে তাঁর বেদনা নিয়ে কয়েকটি নিবন্ধ লিখুন।


শ্রী অমিত শাহ বলেন যে, বিরোধী দল সবসময় নকশালবাদকে সমর্থন করেছে। তিনি বলেন, ২০১০ সালে বিরোধী দলের কেন্দ্রীয় সরকারের একজন সিনিয়র মন্ত্রী বলেছিলেন যে, নকশালদের অস্ত্র সমর্পণ করার প্রয়োজন নেই; তাদের কেবল বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা বন্ধ করতে হবে। শ্রী শাহ বলেন, এভাবে সহিংসতা বন্ধ করা যাবে না। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, তিনি সংসদে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছিলেন যে, যারা আত্মসমর্পণ করতে ইচ্ছুক, তাদের অস্ত্র ত্যাগ করে আত্মসমর্পণ করা উচিত এবং সরকার তাদের মূলধারায় ফিরিয়ে আনবে। অন্যথায়, নিরাপত্তা কর্মীরা তাদের মোকাবিলা করবে। তিনি বলেন, সশস্ত্র নকশালদের আত্মসমর্পণের আবেদনে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে: মাত্র ১০ শতাংশ নকশাল নিহত হয়েছে, যেখানে ৯০ শতাংশ আত্মসমর্পণ করেছেন। আজ পুরো দেশ নকশালবাদমুক্ত হয়েছে। এটাই শ্রী নরেন্দ্র মোদী নেতৃত্বাধীন সরকারের নীতি। তিনি আরও বলেন, যাঁরা আইন মেনে চলবেন, তাঁদের সাধারণ নাগরিক হিসেবে গণ্য করা হবে। তবে, বস্তার, উত্তর-পূর্ব বা কাশ্মীরে, যে কেউ আইন লঙ্ঘন করলে নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য নিরাপত্তা বাহিনী তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।


তিনি বলেন যে, নকশালরা ছত্তিশগড়ে জনতানা সরকার নামে একটি সমান্তরাল সরকার প্রতিষ্ঠা করেছে। এর নিজস্ব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা রয়েছেন। শ্রী শাহ প্রশ্ন তোলেন, কোন সংবিধান জনতানা সরকারের মতো একটি সমান্তরাল সরকারের অনুমতি দিয়েছে এবং কে তাদের বিচার করার ক্ষমতা দিয়েছে। তিনি বলেন যে, নকশালরা বেশ কয়েকজন নিরীহ সাংবাদিক, সমাজকর্মী এবং ছাত্রকে গাছে ঝুলিয়ে দিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, বিরোধী নেতারা সংসদে এই ধরনের কার্যকলাপকে সমর্থন করে চলেছেন। তিনি বলেন যে, আগে বিরোধী দল ভুয়া জনতানা সরকার এবং অন্যান্য অসাংবিধানিক সরকারকে সমর্থন করেছিল, এবং এখন তারা একটি প্রহসনমূলক সংসদ তৈরি করে এবং সংসদকেই উপহাসের পাত্র বানিয়ে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেছে।  স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বিরোধী নেতাকে বলেন যে,  মোদী সরকার প্রতিটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত। তিনি বলেন যে, সরকার এসআইআর নিয়ে আলোচনার জন্য সংসদের একটি বিশেষ অধিবেশন ডাকতে ইচ্ছুক এবং দেশের মানুষের সামনে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক করে সাহস দেখানোর জন্য বিরোধী দলকে চ্যালেঞ্জ জানান। তিনি আরও বলেন যে, হাতে সংবিধানের একটি অনুলিপি বহন করাই তাকে সম্মান করার সমান নয়; একজনের আচরণে সাংবিধানিক মূল্যবোধের প্রতিফলন থাকতে হবে। তিনি বিরোধী দলের বিরুদ্ধে বারবার সংসদে বাধা সৃষ্টি করা এবং এর কার্যক্রম থামিয়ে দেওয়ার অভিযোগ করেন। তিনি সংসদকে কাজ করতে দেওয়া এবং সরাসরি বিতর্কে অংশ নেওয়ার জন্য তিনি বিরোধী দলের কাছে আবেদন জানান। তিনি বলেন যে, তাহলে দেশের মানুষ বিচার করতে পারবে, কে সত্য বলছে এবং কে মিথ্যা ছড়াচ্ছে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন যে, ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী এবং উভয় উপ-মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে গঠিত নেতৃত্বাধীন ত্রয়ী খুব অল্প সময়ের মধ্যে মোদী সরকারের দেওয়া ৭০ শতাংশেরও বেশি প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছে। তিনি বলেন যে, ছত্তিশগড় এখন নকশাল-মুক্ত এবং তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন যে, আগামী বছরগুলিতে রাজ্যটি পর্যটন ক্ষেত্রে শীর্ষ তিনটি রাজ্যের মধ্যে জায়গা করে নেবে। তিনি চিত্রকোট জলপ্রপাত, তীর্থগড় জলপ্রপাত, কাঙ্গের ভ্যালি ন্যাশনাল পার্ক, মা বামলেশ্বরী মন্দির, দান্তেওয়াড়ার মা দন্তেশ্বরী মন্দির এবং বস্তার দশেরা উৎসবের কথা উল্লেখ করে ছত্তিশগড়ের পর্যটন সম্ভাবনার ওপর আলোকপাত করেন। 


শ্রী অমিত শাহ বলেন, অতীতে প্রায়শই বলা হ’ত যে ভূমি উর্বর, কিন্তু এর মানুষ দরিদ্র। তবে, আগামী ১০ বছরের মধ্যে ভূমি এবং এর মানুষ উভয়ই সমৃদ্ধ হবে। এটি মোদীজীর গ্যারান্টি। তিনি বলেন যে একটি সমৃদ্ধ ও বিকাশশীল ভূমির পাশাপাশি একটি সমৃদ্ধ ও সুখী সমাজ গড়ে তোলাই লক্ষ্য। তিনি বলেন যে, রাজ্যের বার্ষিক বাজেট ৩০ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, অপরদিকে মাথা পিছু আয় ১৭ গুণ বেড়েছে। ছত্তিশগড়ের মতো একটি রাজ্যের মোট রাজ্য অভ্যন্তরীণ উৎপাদন (জিএসডিপি) ২৫ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি আরও বলেন যে, শিক্ষাগত পরিকাঠামোর সম্প্রসারণের ফলে আইটিআই প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দ্বিগুণ, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সংখ্যা তিনগুণ, পলিটেকনিক কলেজের সংখ্যা ছয়গুণ এবং কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যাও ছয়গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন যে, সরকার রাজ্যের সাক্ষরতার হার ৬৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭৯ শতাংশ করেছে। সরকার একটি সমৃদ্ধ ও সুখী ছত্তিশগড় গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

 

SC/MP/SB


(রিলিজ আইডি: 2332513) ভিজিটরের কাউন্টার : 5
এই রিলিজটি পড়তে পারেন: English , Urdu , हिन्दी , Assamese , Gujarati , Odia