PIB Backgrounder
azadi ka amrit mahotsav

ভারতের জীবমণ্ডল সংরক্ষণক্ষেত্র

আন্তর্জাতিক জীবমণ্ডল সংরক্ষণক্ষেত্র দিবস উদযাপন

প্রকাশিত: 02 NOV 2026 6:50PM by PIB Kolkata

২ নভেম্বর, ২০২৬

 

 

আন্তর্জাতিক জীবমণ্ডল সংরক্ষণক্ষেত্র দিবস জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং একই সঙ্গে মানুষের জীবিকা বজায় রাখার ক্ষেত্রে এই অঞ্চলগুলির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা উদযাপন করে। ভারতের বিজ্ঞপ্তিভুক্ত ১৮টি জীবমণ্ডল সংরক্ষণক্ষেত্রের মধ্যে ১৩টি ইউনেস্কোর স্বীকৃতিপ্রাপ্ত। পশ্চিমঘাট থেকে শুরু করে উচ্চ পার্বত্য মরুভূমি এবং সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র—বিভিন্ন ধরনের বাস্তুতন্ত্রের প্রতিনিধিত্ব করে এই সংরক্ষণক্ষেত্রগুলি। বৈজ্ঞানিক গবেষণা, জনসমন্বয় এবং সরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে এগুলির সংরক্ষণ প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়। এতে পরিবেশ সুরক্ষা এবং মানুষের কল্যাণ যে একই সঙ্গে বজায় রাখা সম্ভব, সেই ধারণাটি পরিস্ফুট হয়।

 

জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও সুস্থায়ী উন্নয়নের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা

 

জীববৈচিত্র্য বলতে স্থলজ, সামুদ্রিক এবং অন্যান্য জলজ বাস্তুতন্ত্রে জীবের বিভিন্নতাকে বোঝায়। জীববৈচিত্র্য সংক্রান্ত কনভেনশন (CBD) এই বৈচিত্র্যের তিনটি স্তরকে স্বীকৃতি দিয়েছে। জিনগত বৈচিত্র্য বলতে একটি প্রজাতির মধ্যে বিদ্যমান বিভিন্নতাকে বোঝায়, যেমন ধানের বিভিন্ন জাত। প্রজাতিগত বৈচিত্র্য একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির সমাহারকে বোঝায়, যেমন কোনও বনে বাঘ, হাতি এবং অর্কিড। বাস্তুতন্ত্রগত বৈচিত্র্যের আওতায় বন, তৃণভূমি, জলাভূমি এবং প্রবালপ্রাচীর-সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক আবাসস্থল অন্তর্ভুক্ত। এই স্তরগুলি সম্মিলিতভাবে পরিবেশগত প্রক্রিয়াগুলিকে সচল রাখে এবং পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব বজায় রাখতে সহায়তা করে।

 

জীবমণ্ডল সংরক্ষণক্ষেত্র হল এমন অঞ্চল, যা জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং সুস্থায়ী উন্নয়নের প্রসারে কোন দেশের জাতীয় সরকারগুলি চিহ্নিত করে। এই অঞ্চলগুলি প্রাকৃতিক আবাসস্থল রক্ষা করে, পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখে এবং জৈব সম্পদের সুস্থায়ী ব্যবহারকে উৎসাহিত করে। এগুলির সংরক্ষণ খাদ্য নিরাপত্তা, জলের প্রাপ্যতা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার সক্ষমতা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবিকায় অবদান রাখে। পাশাপাশি, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে প্রাকৃতিক সম্পদ সুরক্ষিত রাখে।

 

বিশ্বব্যাপী এই সংরক্ষণক্ষেত্রগুলির গুরুত্বকে স্বীকৃতি দিয়ে প্রতি বছর ৩ নভেম্বর আন্তর্জাতিক জীবমণ্ডল সংরক্ষণক্ষেত্র দিবস পালন করা হয়। ইউনেস্কো ঘোষিত এই দিবস জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং সুস্থায়ী উন্নয়নে এই সংরক্ষণক্ষেত্রগুলির অবদানকে তুলে ধরে। পাশাপাশি, পরিবেশ সুরক্ষা এবং মানুষের কল্যাণের মধ্যে সমন্বয় সাধনে এগুলির ভূমিকা নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করে।

 

ভারতের ক্ষেত্রে, এই দিবস পালন তার সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে। বিশ্বের ১৭টি অতিজীববৈচিত্র্যপূর্ণ দেশের অন্যতম ভারত। পৃথিবীর মোট স্থলভাগের মাত্র ২.৪ শতাংশ জুড়ে থাকলেও, বিশ্বে নথিভুক্ত প্রজাতির প্রায় ৭–৮ শতাংশ ভারতের অন্তর্ভুক্ত। জীবমণ্ডল সংরক্ষণক্ষেত্রগুলির নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ভারত পরিবেশগত স্থিতিস্থাপকতা জোরদার করতে এবং সুস্থায়ী জীবিকার প্রসারে সচেষ্ট। এই উদ্যোগগুলি সংরক্ষণের অগ্রাধিকারের সঙ্গে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উন্নয়নমূলক চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার প্রতি দেশের প্রতিশ্রুতিকেও প্রতিফলিত করে।

 

জীবমণ্ডল সংরক্ষণক্ষেত্র: ধারণাটি বোঝা

 

জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য এমন একটি পদ্ধতি প্রয়োজন, যেখানে প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্রের পাশাপাশি, তার ওপর নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর বিষয়টিও বিবেচনা করা হয়। এর জন্য বৈজ্ঞানিক গবেষণা, দায়িত্বশীল সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন অংশীদারের মধ্যে সহযোগিতাও প্রয়োজন। জীবমণ্ডল সংরক্ষণক্ষেত্র এই লক্ষ্যগুলিকে একত্রিত করার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি কাঠামো প্রদান করে।

 

১৯৭১ সালে চালু হওয়া ইউনেস্কোর ‘ম্যান অ্যান্ড দ্য বায়োস্ফিয়ার’ (MAB) কর্মসূচি মানুষ ও তার পরিবেশের মধ্যে সম্পর্কের উন্নয়নে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রসার ঘটায়। জীবমণ্ডল সংরক্ষণক্ষেত্রগুলি সুস্থায়ী উন্নয়নমূলক পদ্ধতি পরীক্ষা ও প্রদর্শনের জন্য জীবন্ত পরীক্ষাগার হিসেবে কাজ করে। প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রেখে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবিকা নির্বাহেও এগুলি সহায়তা করে।

 

অন্যান্য সংরক্ষিত অঞ্চল থেকে জীবমণ্ডল সংরক্ষণক্ষেত্র কিভাবে পৃথক?

 

জাতীয় উদ্যান এবং বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের মতো সংরক্ষিত অঞ্চলগুলি মূলত ভারতের বন্যপ্রাণী সুরক্ষা আইন অনুযায়ী বন্যপ্রাণী এবং তাদের আবাসস্থল রক্ষার ওপর গুরুত্ব দেয়। জীবমণ্ডল সংরক্ষণক্ষেত্রগুলি আরও বিস্তৃত দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করে। এগুলি সংরক্ষিত বাস্তুতন্ত্রের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী জনগোষ্ঠীর সংযোগ স্থাপন করে। এর ফলে, জীবমণ্ডল সংরক্ষণক্ষেত্রগুলি এমন একটি মডেল হিসেবে কাজ করে, যেটি প্রমাণ করে কিভাবে জীববৈচিত্র্য এবং মানুষের কল্যাণ একইসঙ্গে বজায় রাখা সম্ভব।

 

জীবমণ্ডল সংরক্ষণক্ষেত্রের কার্য্যাবলী

 

জীবমণ্ডল সংরক্ষণক্ষেত্রগুলি মূলত তিনটি প্রধান কাজ সম্পাদন করে:

 

সংরক্ষণ: জীববৈচিত্র্য, জিনগত সম্পদ, বাস্তুতন্ত্র এবং প্রাকৃতিক ভূদৃশ্য-সহ সংশ্লিষ্ট সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষা করা।

 

সুস্থায়ী অর্থনৈতিক উন্নয়ন: পরিবেশগত সীমাবদ্ধতা এবং স্থানীয় সাংস্কৃতিক মূল্যবোধকে সম্মান জানিয়ে অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে উৎসাহ জোগানো।

 

বৈজ্ঞানিক সহায়তা: সংরক্ষণ পদ্ধতির উন্নতির লক্ষ্যে বৈজ্ঞানিক গবেষণা, পরিবেশগত পর্যবেক্ষণ, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং জ্ঞান বিনিময়ে সহায়তা করা।

 

পরস্পর সংযুক্ত তিনটি অঞ্চল

 

জীবমণ্ডল সংরক্ষণক্ষেত্রগুলিতে এমন একটি অঞ্চলভিত্তিক কাঠামো অনুসরণ করা হয়, যেখানে বিভিন্ন স্তরের সংরক্ষণ এবং মানুষের কর্মকাণ্ডের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা হয়। প্রতিটি অঞ্চলের নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য রয়েছে এবং তা সংরক্ষণক্ষেত্রের সামগ্রিক লক্ষ্য পূরণে অবদান রাখে।

 

মূল অঞ্চল: এই অঞ্চলে বাস্তুতন্ত্র এবং জীববৈচিত্র্যের প্রয়োজনে সর্বোচ্চ স্তরের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়। প্রয়োজনীয় পরিবেশগত প্রক্রিয়াগুলি বজায় রাখার পাশাপাশি, এখানে আবাসস্থল, বিভিন্ন প্রজাতি এবং জিনগত বৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা হয়। মানুষের কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে সীমিত রাখা হয়। দীর্ঘমেয়াদী সংরক্ষণের স্বার্থে এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ গবেষণা এবং পর্যবেক্ষণের অনুমতি দেওয়া হয়।

 

বাফার অঞ্চল: এই অঞ্চলটি মূল অঞ্চলকে ঘিরে থাকে অথবা তার সংলগ্ন অবস্থানে থাকে। পরিবেশ শিক্ষা, বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং নিয়ন্ত্রিত পরিবেশবান্ধব পর্যটন-সহ সংরক্ষণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিভিন্ন কর্মকাণ্ড এখানে পরিচালিত হয়। এই কর্মকাণ্ডগুলি পরিবেশগত বিষয় সম্পর্কে উপলব্ধি বাড়ানোর পাশাপাশি কঠোরভাবে সংরক্ষিত অঞ্চলগুলির ওপর চাপ কমাতে সহায়তা করে।

 

পরিবর্তনশীল অঞ্চল: এই অঞ্চল বসতি, জীবিকা এবং সুস্থায়ী অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে সহায়তা করে। স্থানীয় জনগোষ্ঠী এখানে দায়িত্বশীল কৃষিকাজ, সুস্থায়ী বন ব্যবস্থাপনা, পরিবেশবান্ধব পর্যটন এবং স্থানীয় পরিস্থিতির উপযোগী অন্যান্য কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারে। প্রাকৃতিক সম্পদের সুস্থায়ী ব্যবহারে উৎসাহ জোগানোর পাশাপাশি, এই অঞ্চল জীবিকার প্রসারেও সহায়তা করে।

 

বিশ্বব্যাপী জীবমণ্ডল সংরক্ষণক্ষেত্রগুলির গড়ে ১৮ শতাংশ মূল অঞ্চল, ৩০ শতাংশ বাফার অঞ্চল এবং ৫২ শতাংশ পরিবর্তনশীল অঞ্চল নিয়ে গঠিত। এই বিন্যাস সংরক্ষণের ক্ষেত্রে তাদের সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রতিফলিত করে, যেখানে কঠোর সুরক্ষার পাশাপাশি, সুস্থায়ী উন্নয়নের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়।

 

আপনি কি জানেন?

 

ইউনেস্কোর জীবমণ্ডল সংরক্ষণক্ষেত্র নেটওয়ার্কে ১৪৫টি দেশের মোট ৭৯৭টি জীবমণ্ডল সংরক্ষণক্ষেত্র রয়েছে। এই অঞ্চলগুলিতে বসবাসকারী প্রায় ৩০ কোটি মানুষ সরাসরি এর মাধ্যমে উপকৃত হন। ভৌগোলিক বিস্তৃতির বাইরেও এই অঞ্চলগুলির পরিবেশগত গুরুত্ব অনেক বেশি। পৃথিবীর মোট স্থলভাগের প্রায় ৫ শতাংশ জুড়ে থাকলেও, জীবমণ্ডল সংরক্ষণক্ষেত্রগুলি বিশ্বের স্থলজ মেরুদণ্ডী প্রাণীদের প্রজাতিগত বৈচিত্র্যের ৬০ শতাংশেরও বেশি বজায় রাখতে সহায়তা করে। ‘ম্যাপ অফ দ্য ওয়ার্ল্ড নেটওয়ার্ক অফ বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভস ২০২৫-২৬’ অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ জীবমণ্ডল সংরক্ষণক্ষেত্র আরও চরম জলবায়ুজনিত ঘটনার সম্মুখীন হতে পারে এবং ৫০ শতাংশেরও বেশি জীবমণ্ডল সংরক্ষণক্ষেত্রের সঙ্গে অন্য কোনও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির আওতাভুক্ত অঞ্চলের ভৌগোলিক ওভারল্যাপ রয়েছে।

 

ভারতের জীবমণ্ডল সংরক্ষণক্ষেত্র

 

জীবমণ্ডল সংরক্ষণক্ষেত্রের প্রসার এবং পরিচালনার ক্ষেত্রে ভারত অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। এর মাধ্যমে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং সুস্থায়ী বাস্তুতন্ত্রভিত্তিক পদ্ধতির প্রসারের প্রতি দেশের অঙ্গীকার প্রতিফলিত হয়।

 

ভারতের জীবমণ্ডল সংরক্ষণক্ষেত্র সম্পর্কিত নেটওয়ার্ক

 

ভারতের জীবমণ্ডল সংরক্ষণক্ষেত্র বিষয়ক নেটওয়ার্ক দেশের বৈচিত্র্যময় বাস্তুতন্ত্র এবং সমৃদ্ধ পরিবেশগত ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্ব করে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রক (MoEFCC)-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে বিজ্ঞপ্তিভুক্ত জীবমণ্ডল সংরক্ষণক্ষেত্রের সংখ্যা ১৮টি। এর মধ্যে ১৩টি ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড নেটওয়ার্ক অফ বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভস-এর অন্তর্ভুক্ত। দক্ষিণ এশিয়ায় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত জীবমণ্ডল সংরক্ষণক্ষেত্রের নিরিখে এটিই সর্বোচ্চ সংখ্যা।

 

ক্রমিক সংখ্যা

জীবমণ্ডল সংরক্ষণক্ষেত্রের নাম

মনোনয়নের বছর

WNBR-এ অন্তর্ভুক্তির বছর

রাজ্য

আয়তন (বর্গ কিমি)

১

নীলগিরি*

১৯৮৬

২০০০

তামিলনাড়ু, কেরল ও কর্ণাটক

৫,৫২০

২

নন্দাদেবী*

১৯৮৮

২০০৪

উত্তরাখণ্ড

৬,৪০৭.০৩

৩

নকরেক*

১৯৮৮

২০০৯

মেঘালয়

৮২০

৪

মান্নার উপসাগর*

১৯৮৯

২০০১

তামিলনাড়ু

১০,৫০০

৫

সুন্দরবন*

১৯৮৯

২০০১

পশ্চিমবঙ্গ

৯,৬৩০

৬

মানস

১৯৮৯

—

অসম

২,৮৩৭

৭

গ্রেট নিকোবর*

১৯৮৯

২০১৩

আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ

৮৮৫

৮

সিমলিপাল*

১৯৯৪

২০০৯

ওড়িশা

৫,৫৬৯

৯

ডিব্রু-সৈখোয়া

১৯৯৭

—

অসম

৭৬৫

১০

দিহাং-দিবাং

১৯৯৮

—

অরুণাচল প্রদেশ

৫,১১১.৫০

১১

পাচমাড়ি*

১৯৯৯

২০০৯

মধ্যপ্রদেশ

৪,৯৮১.৭২

১২

কাঞ্চনজঙ্ঘা*

২০০০

২০১৮

সিকিম

২,৯৩১.১২

১৩

অগস্ত্যমালাই*

২০০১

২০১৬

কেরল ও তামিলনাড়ু

৩,৫০০

১৪

আচানকমার-অমরকণ্টক*

২০০৫

২০১২

মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তিশগড়

৩,৮৩৫.৪৬

১৫

গ্রেট রান অফ কচ্ছ

২০০৮

—

গুজরাট

১২,৪৫৪

১৬

কোল্ড ডেজার্ট*

২০০৯

২০২৫

হিমাচল প্রদেশ

৭,৭৭০

১৭

শেষাচলম

২০১০

—

অন্ধ্রপ্রদেশ

৪,৭৫৫.৫৮

১৮

পান্না*

২০১১

২০২০

মধ্যপ্রদেশ

২,৯৯৮.৯৮

দ্রষ্টব্য: (*) চিহ্নিত জীবমণ্ডল সংরক্ষণক্ষেত্রগুলি ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড নেটওয়ার্ক অফ বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভস (WNBR)-এর অন্তর্ভুক্ত।

এই ক্রমবর্ধমান নেটওয়ার্কের পাশাপাশি, পরিবেশগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলগুলির পরিচালনা ও সংরক্ষণের জন্য ভারত একটি বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রকের জীবমণ্ডল সংরক্ষণক্ষেত্র বিভাগ ‘বায়োডাইভার্সিটি কনজারভেশন’ নামে একটি কেন্দ্রীয় পৃষ্ঠপোষকতাপ্রাপ্ত প্রকল্প পরিচালনা করে। এটি ‘কনজারভেশন অফ ন্যাচারাল রিসোর্সেস অ্যান্ড ইকোসিস্টেমস’ নামক সামগ্রিক প্রকল্পের অধীনস্থ একটি উপ-প্রকল্প।

 

এই প্রকল্পের আওতায়, ইউনেস্কোর ‘ম্যান অ্যান্ড দ্য বায়োস্ফিয়ার’ কর্মসূচির কাঠামোর অধীনে মনোনীত জীবমণ্ডল সংরক্ষণক্ষেত্রগুলিকে সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলিতে আর্থিক অনুদান প্রদানের মাধ্যমে সহায়তা করে এই বিভাগ। সংরক্ষণক্ষেত্রগুলির পরিচালন পরিকল্পনায় (Management Plan) নির্ধারিত সংরক্ষণ ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য এই অনুদান দেওয়া হয়। রাজ্য বন দপ্তরগুলি এই প্রকল্পের বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করে। সেই অনুযায়ী, মন্ত্রক ব্যয় ভাগাভাগির ভিত্তিতে রাজ্যগুলিকে আর্থিক অনুদান প্রদান করে। অন্যান্য রাজ্যের ক্ষেত্রে কেন্দ্র ও রাজ্যের অনুপাত ৬০:৪০ এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ও হিমালয় সংলগ্ন রাজ্যগুলির ক্ষেত্রে এই অনুপাত ৯০:১০।

 

২০২২–২৩ সাল থেকে মন্ত্রক চারটি জীবমণ্ডল সংরক্ষণক্ষেত্রের জন্য পাঁচ বছর মেয়াদি সমন্বিত পরিচালন পরিকল্পনা পরীক্ষামূলকভাবে চালু করেছে। এই চারটি সংরক্ষণক্ষেত্র হল—নন্দাদেবী (উত্তরাখণ্ড), পাচমাড়ি (মধ্যপ্রদেশ), দিহাং-দিবাং (অরুণাচল প্রদেশ) এবং অগস্ত্যমালাই (কেরল ও তামিলনাড়ু)। এই পরিকল্পনাগুলির মাধ্যমে সংরক্ষণক্ষেত্র কর্তৃপক্ষ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে একত্রিত করা হয়েছে। এর অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রগুলির মধ্যে রয়েছে আবাসস্থলের পুনরুদ্ধার, জীববৈচিত্র্য পর্যবেক্ষণ, বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং সুস্থায়ী জীবিকা।

 

ভারতের জীবমণ্ডল সংরক্ষণক্ষেত্রগুলির এক ঝলক

 

পাহাড়ি বন থেকে শুরু করে ম্যানগ্রোভ বদ্বীপ, প্রবালপ্রাচীর এবং উচ্চ পার্বত্য মরুভূমি—ভারতের জীবমণ্ডল সংরক্ষণক্ষেত্রগুলি অসাধারণ জীববৈচিত্র্যের আধার।

 

নীলগিরি: পশ্চিমঘাটের অন্তর্গত নীলগিরি জীবমণ্ডল সংরক্ষণক্ষেত্র বিশ্বব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ একটি জীববৈচিত্র্যপূর্ণ অঞ্চল। তামিলনাড়ু, কেরল এবং কর্ণাটক জুড়ে প্রায় ৫,৫২,০০০ হেক্টর এলাকা বিস্তৃত এই সংরক্ষণক্ষেত্রের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বন, পার্বত্য শোলা বন এবং তৃণভূমি। এই বৈচিত্র্যময় প্রাকৃতিক পরিবেশে স্থানীয় ও বিপন্ন প্রজাতি-সহ সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য দেখা যায়। এই সংরক্ষণক্ষেত্রে বিপন্ন সিংহলেজী বানর এবং নীলগিরি তাহরের পাশাপাশি, হাতি, বাঘ, গৌর, সম্বর এবং চিতল হরিণেরও আবাসস্থল রয়েছে। এখানে ১০০টিরও বেশি স্তন্যপায়ী প্রজাতি এবং ৫৫০টি পাখির প্রজাতি রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে অসংখ্য সরীসৃপ ও উভচর প্রজাতি। শুধুমাত্র নীলগিরি জেলাতেই ৬,০০০-এরও বেশি উদ্ভিদ প্রজাতির সন্ধান পাওয়া যায়, যা এই অঞ্চলের অসাধারণ উদ্ভিদসম্পদের পরিচয় তুলে ধরে।

 

শীতল মরুভূমি: হিমাচল প্রদেশের কোল্ড ডেজার্ট জীবমণ্ডল সংরক্ষণক্ষেত্র ৩,৩০০ থেকে ৬,৬০০ মিটার উচ্চতায় ৭,৭৭০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। এই প্রতিকূল উচ্চ পার্বত্য পরিবেশে ৩০টি স্থানীয় প্রজাতি-সহ ৭৩২টি ভাস্কুলার উদ্ভিদ প্রজাতির পাশাপাশি তুষারচিতাবাঘ, হিমালয়ান আইবেক্স এবং ব্লু শিপের দেখা মেলে। এই অঞ্চলে প্রায় ১২,০০০ মানুষের বসবাস। পশুপালন, ইয়াক ও ছাগল পালন, বার্লি ও মটরশুঁটির চাষ এবং তিব্বতি ভেষজ চিকিৎসার মাধ্যমে তাঁরা তাঁদের ঐতিহ্যবাহী জীবিকা বজায় রাখেন।

 

মান্নার উপসাগর: তামিলনাড়ুর দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলের অদূরে অবস্থিত মান্নার উপসাগর জীবমণ্ডল সংরক্ষণক্ষেত্র ভারতের অন্যতম সমৃদ্ধ সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যপূর্ণ অঞ্চল। প্রায় ১০.৫ লক্ষ হেক্টর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই সংরক্ষণক্ষেত্রের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে প্রবালপ্রাচীর, সামুদ্রিক ঘাসের তৃণভূমি এবং ম্যানগ্রোভ বন। এই পরস্পর সংযুক্ত বাস্তুতন্ত্রগুলিতে ৪,২২৩টি উদ্ভিদ ও প্রাণী প্রজাতির অস্তিত্ব রয়েছে। প্রায় ৪৭টি উপকূলীয় গ্রাম নিয়ে গঠিত এই অঞ্চলে প্রায় ২৫ লক্ষ মানুষের জীবিকা এই সংরক্ষণক্ষেত্রের ওপর নির্ভরশীল।

 

সাফল্যের কাহিনি: সংরক্ষণের কেন্দ্রে স্থানীয় জনগোষ্ঠী

 

নীলগিরি জীবমণ্ডল সংরক্ষণক্ষেত্রের আদিবাসী জনগোষ্ঠী উপড়ে ফেলা ল্যান্টানা লতা ব্যবহার করে হাতির ভাস্কর্য, আসবাবপত্র এবং বিভিন্ন হস্তশিল্প তৈরি করেন।

 

আবাসস্থলের অবক্ষয় সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি, এই উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের জীবিকাকে সহায়তা করে। ২০২১ সালে বন্যপ্রাণীর সঙ্গে সহাবস্থানের বার্তা ছড়িয়ে দিতে ল্যান্টানা দিয়ে তৈরি ১২৫টি বাস্তব আকারের হাতির ভাস্কর্য লন্ডনে প্রদর্শিত হয়েছিল। বেঙ্গালুরু বিমানবন্দর, বেঙ্গালুরুর বিভিন্ন স্থান এবং রাষ্ট্রপতি ভবনেও এই ধরনের ভাস্কর্য প্রদর্শিত হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে অপসারিত ল্যান্টানাকে অর্থনৈতিকভাবে ব্যবহারযোগ্য করে তোলা হয়েছে, আদিবাসী শিল্পীদের জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে এবং আগ্রাসী প্রজাতি সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

আপনি কি জানেন?

 

ল্যান্টানা ক্যামারা একটি আগ্রাসী গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ, যা ভারতের প্রায় ৩ লক্ষ বর্গকিলোমিটার বনাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। এটি ঘন ঝোপ তৈরি করে, যা স্থানীয় উদ্ভিদের বৃদ্ধি ব্যাহত করে, জীববৈচিত্র্য হ্রাস করে এবং প্রাকৃতিক অগ্নিকাণ্ডের ধরনে পরিবর্তন ঘটায়। এর রাসায়নিক নিঃসরণ প্রতিযোগী উদ্ভিদের বৃদ্ধি রোধ করে। অন্যদিকে, দ্রুত পুনরায় বেড়ে ওঠার প্রবণতার কারণে এই উদ্ভিদ অপসারণ করাও কঠিন। ১৯১৬ সাল থেকে এটি নির্মূলের প্রচেষ্টা চালানো হলেও, ল্যান্টানার বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা এখনও ব্যয়বহুল ও কঠিন।

 

আগামীর পথ

 

ভারতের জীবমণ্ডল সংরক্ষণক্ষেত্রগুলি এমন এক ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় মডেল তুলে ধরে, যেখানে প্রকৃতি ও মানুষ একসঙ্গে সমৃদ্ধ হতে পারে। বৈজ্ঞানিক গবেষণা, আবাসস্থলের পুনরুদ্ধার এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর নেতৃত্বে পরিচালিত সংরক্ষণ কার্যক্রমে ধারাবাহিক বিনিয়োগ এই অঞ্চলগুলির পরিবেশগত সমৃদ্ধি বজায় রাখতে পারে। প্রথাগত জ্ঞানের সঙ্গে আধুনিক পর্যবেক্ষণ পদ্ধতির সমন্বয়ের মাধ্যমে ভারত স্থিতিস্থাপক বাস্তুতন্ত্র এবং সুস্থায়ী জীবিকাকে সহায়তা করতে পারে। সরকার, গবেষক, স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির মধ্যে দৃঢ় অংশীদারিত্ব এই অঞ্চলগুলির বিকাশে সহায়ক হবে। পরিশেষে, জীবমণ্ডল সংরক্ষণক্ষেত্রগুলি দেখাতে পারে যে প্রকৃতিকে সুরক্ষিত রাখার মাধ্যমে কিভাবে মানুষের জীবন আরও সমৃদ্ধ হয়, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সুরক্ষিত থাকে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও সুস্থায়ী ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা যায়।

 

তথ্যবিবরণী

 

Ministry of Environment, Forest and Climate Change

United Nations Educational, Scientific and Cultural Organization

United Nations Organisations

PIB Backgrounders

Others:

 

Click to see pdf

 

 

*******************

SSS/RP.......


(রিলিজ আইডি: 2332437) ভিজিটরের কাউন্টার : 4
এই রিলিজটি পড়তে পারেন: English , Urdu , हिन्दी , Nepali , Gujarati , Malayalam