প্রকাশিত:
31 OCT 2026 9:46AM by PIB Kolkata
৩১ অক্টোবর, ২০২৬
ইপিএফও-র আওতার সম্প্রসারণ, ডিজিটাল সংস্কার এবং কল্যাণমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে ভারতের সামাজিক সুরক্ষা কাঠামোর পরিধি বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইপিএফও যোগ্য সদস্যদের প্রভিডেন্ট ফান্ডে সঞ্চয়, পেনশন এবং বিমার সুবিধা প্রদান করে। বাধ্যতামূলক আওতাভুক্তির ক্ষেত্রে মজুরির ঊর্ধ্বসীমা ১৫,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫,০০০ টাকা করায় আরও ৫১ লক্ষেরও বেশি কর্মী এর আওতায় আসবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ডিজিটাল উদ্যোগগুলির লক্ষ্য নিবন্ধন, অর্থ উত্তোলন এবং দাবি নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া সহজ করা। ইপিএফও-র পাশাপাশি, ই-শ্রমের মতো উদ্যোগ এবং পিএম-এসওয়াইএম ও প্রধানমন্ত্রী সামাজিক সহায়তা যোজনার মতো প্রকল্পগুলি অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিক এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সহায়তা প্রদান করে। এই পদক্ষেপগুলি কর্মসংস্থানের বিভিন্ন ক্ষেত্র এবং জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে সামাজিক সুরক্ষার সুযোগ আরও সুদৃঢ় করে।
শ্রমিকদের সুরক্ষার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে সামাজিক সুরক্ষা
অর্থনীতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কর্মসংস্থানের ধরন এবং জীবিকার উৎসও ক্রমাগত পরিবর্তিত হচ্ছে। অসংগঠিত ক্ষেত্রের কাজ, গিগ ও প্ল্যাটফর্ম-ভিত্তিক কাজের প্রসার এবং আয় ও কর্মসংস্থানের ধারাবাহিকতার ক্ষেত্রে বিভিন্ন পরিবর্তনের ফলে শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের জন্য সামাজিক সুরক্ষার গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে আয়ের ক্ষতি এবং অন্যান্য অনিশ্চিত পরিস্থিতির বিরুদ্ধে সামাজিক সুরক্ষা সহায়তা প্রদান করে। অবসর গ্রহণের সময় এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতেও এটি আর্থিক নিরাপত্তা সুদৃঢ় করে।
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারত সামাজিক সুরক্ষার আওতা উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত করেছে। সামাজিক সুরক্ষার আওতা ২০১৫ সালের ১৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালে ৬৮.৪ শতাংশে পৌঁছেছে। এই সম্প্রসারণের ফলে, ১০০ কোটিরও বেশি মানুষ সামাজিক সুরক্ষা কাঠামোর আওতায় এসেছেন।
ভারতীয় শ্রমিকদের ক্ষেত্রে কর্মজীবন শেষ হওয়ার পরেও সামাজিক সুরক্ষা আর্থিক নিরাপত্তা প্রদান করে। যোগ্য কর্মীদের জন্য প্রভিডেন্ট ফান্ড, পেনশন এবং বিমা প্রকল্প পরিচালনার মাধ্যমে এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন (EPFO) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রকের অধীন একটি আইনসম্মত সংস্থা এবং বিশ্বের বৃহত্তম সামাজিক সুরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির অন্যতম। এর প্রকল্পগুলি শ্রমিকদের অবসরকালীন সঞ্চয় গড়ে তুলতে, পেনশনের সুবিধা পেতে এবং তাঁদের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।
ইপিএফও পরিচালিত সামাজিক সুরক্ষার তিনটি স্তম্ভ:
ইপিএফও-র সামাজিক সুরক্ষা কাঠামোর মধ্যে রয়েছে প্রভিডেন্ট ফান্ডে সঞ্চয়, পেনশনের সুবিধা এবং বিমার সুরক্ষা।
এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ডস স্কিম, ২০২৬ (EPF)
সামাজিক সুরক্ষা কোড, ২০২০ (কোড)-এর অধীনে প্রবর্তিত নতুন ইপিএফ ২০২৬ পূর্ববর্তী এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড স্কিম, ২০২৬-এর পরিবর্তে চালু হয়েছে। ইপিএফ ২০২৬ সদস্যদের জমা এবং তার ওপর অর্জিত সুদের মাধ্যমে অবসরকালীন সঞ্চয় গড়ে তুলতে সাহায্য করে। নির্ধারিত শর্তসাপেক্ষে বাড়ি তৈরি বা কেনা, উচ্চশিক্ষা, বিবাহ এবং চিকিৎসার মতো নির্দিষ্ট প্রয়োজনে আংশিক অর্থ উত্তোলনেরও অনুমতি দেয়।
এমপ্লয়িজ পেনশন স্কিম, ২০২৬ (EPS)
কোডের অধীনে প্রবর্তিত নতুন ইপিএস ২০২৬ পূর্ববর্তী এমপ্লয়িজ পেনশন স্কিম, ১৯৯৫-এর পরিবর্তে চালু হয়েছে। ইপিএস ২০২৬-এর আওতায় যোগ্য সদস্যরা অবসর গ্রহণ, চাকরি থেকে অবসর বা অক্ষমতার ক্ষেত্রে মাসিক পেনশনের সুবিধা পান। মৃত সদস্যদের যোগ্য নির্ভরশীলরাও, যাঁদের মধ্যে স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান এবং পরিবারের অন্যান্য যোগ্য সদস্য রয়েছেন, পেনশনের সুবিধা পান।
এমপ্লয়িজ ডিপোজিট লিঙ্কড ইনস্যুরেন্স স্কিম, ২০২৬ (EDLI)
কোডের অধীনে প্রবর্তিত নতুন ইডিএলআই ২০২৬ পূর্ববর্তী এমপ্লয়িজ ডিপোজিট লিঙ্কড ইনস্যুরেন্স স্কিম, ১৯৭৬-এর পরিবর্তে চালু হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় চাকুরিরত অবস্থায় কোনও যোগ্য ইপিএফ সদস্যের মৃত্যু হলে বিমার সুরক্ষা প্রদান করা হয়। সদস্যদের পৃথকভাবে কোনও বিমার প্রিমিয়াম দিতে হয় না এবং এই প্রকল্পে সর্বোচ্চ ৭ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিমার সুবিধা পাওয়া যায়।
কর্মীবাহিনীর মধ্যে ইপিএফও-র আওতা সম্প্রসারণ
বিগত বছরগুলিতে ভারতের ক্রমবর্ধমান আনুষ্ঠানিক কর্মীবাহিনীর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইপিএফও-র আওতাও সম্প্রসারিত হয়েছে। সদস্যসংখ্যা বৃদ্ধি, প্রাতিষ্ঠানিক আওতা এবং পেনশন সহায়তার মাধ্যমে এই অগ্রগতির প্রতিফলন ঘটেছে।
এই সময়কালে ইপিএফও-র চাঁদা প্রদায়ী সদস্যসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৪-১৫ অর্থবর্ষে চাঁদা প্রদায়ী সদস্যের সংখ্যা ছিল ৩.৪৯ কোটি, যা ২০২৬ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বেড়ে প্রায় ৭.৯৮ কোটিতে পৌঁছেছে। এই সময়কালে চাঁদা প্রদানকারী সদস্যের সংখ্যা প্রায় ৪.৪৯ কোটি বৃদ্ধি পেয়েছে।
এ বছর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৭.৬৮ লক্ষ প্রতিষ্ঠান ইপিএফও-তে চাঁদা জমা দিচ্ছে। এর ফলে, যোগ্য কর্মীদের কাছে সামাজিক সুরক্ষার আওতা সম্প্রসারণের জন্য একটি বিস্তৃত প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি তৈরি হয়েছে।
সদস্যসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি, পেনশন সহায়তার পরিধিও সম্প্রসারিত হয়েছে। ২০১৪-১৫ অর্থবর্ষে ইপিএফও ৫১.০৪ লক্ষ পেনশনভোগীকে পেনশন প্রদান করেছিল। এ বছর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৮২ লক্ষ পেনশনভোগী পেনশনের সুবিধা পাচ্ছেন। অর্থাৎ, পেনশনভোগীর সংখ্যা ৩১ লক্ষেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
সামাজিক সুরক্ষার সুবিধা প্রদানের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৪-১৫ অর্থবর্ষে ১.৩০ কোটি দাবি নিষ্পত্তি করা হয়েছিল। এবছর অক্টোবর পর্যন্ত সর্বশেষ এক বছরের সময়কালে ইপিএফও ৬.৪২ কোটি দাবি নিষ্পত্তি করেছে। ইপিএফও-র সদস্য এবং সুবিধাভোগীদের কাছে পরিষেবা প্রদানের ক্রমবর্ধমান পরিধি এর মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়েছে।
ডিজিটাল ও পরিষেবা সংস্কারের মাধ্যমে ইপিএফও-কে আরও শক্তিশালী করা
ইপিএফও আরও ব্যাপক আওতা, দাবি নিষ্পত্তির সরলীকরণ এবং ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে সামাজিক সুরক্ষা পরিষেবা প্রদানকে আরও শক্তিশালী করছে। এই সংস্কারগুলির লক্ষ্য নিয়ম মেনে চলার প্রক্রিয়া উন্নত করা, প্রশাসনিক পদ্ধতি হ্রাস করা এবং প্রভিডেন্ট ফান্ড ও পেনশন পরিষেবায় সহজে প্রবেশের সুযোগ করে দেওয়া।
মজুরির ঊর্ধ্বসীমা সংশোধন
সুরক্ষার আওতা সম্প্রসারণ: ইপিএফও-র আওতায় বাধ্যতামূলক অন্তর্ভুক্তির জন্য মজুরির ঊর্ধ্বসীমা সর্বশেষ ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে সংশোধন করে মাসিক ৬,৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫,০০০ টাকা করা হয়েছিল। এবছর সেপ্টেম্বরে এই ঊর্ধ্বসীমা আরও বাড়িয়ে মাসিক ২৫,০০০ টাকা করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই সংশোধনের ফলে, আরও ৫১ লক্ষেরও বেশি কর্মী বাধ্যতামূলক অন্তর্ভুক্তির আওতায় আসবেন বলে আশা করা হচ্ছে। মধ্যবর্তী সময়ে মজুরির স্তরে পরিবর্তন এবং আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের প্রসারকে এই সংশোধনে প্রতিফলিত করা হয়েছে। প্রযোজ্য আইনগত বিধান সাপেক্ষে, সংশোধিত ঊর্ধ্বসীমার ফলে, বাধ্যতামূলক অন্তর্ভুক্তির যোগ্য কর্মীদের পরিধি আরও বিস্তৃত হবে।
পিএফ-এর অর্থ উত্তোলন প্রক্রিয়া সরলীকরণ এবং দাবি নিষ্পত্তির গতি বৃদ্ধি
আংশিক অর্থ উত্তোলনের নিয়ম সরলীকরণ: ইপিএফও আংশিক অর্থ উত্তোলন সংক্রান্ত ১৩টি বিধানকে একত্রিত করে তিনটি শ্রেণীতে ভাগ করেছে: জরুরি প্রয়োজন, আবাসনের প্রয়োজন এবং বিশেষ পরিস্থিতি। জরুরি প্রয়োজনের মধ্যে অসুস্থতা, শিক্ষা ও বিবাহ সংক্রান্ত খরচ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই শ্রেণীবিন্যাসের ফলে, অর্থ উত্তোলনের কাঠামো সরল হয়েছে এবং যোগ্য সদস্যদের পক্ষে প্রভিডেন্ট ফান্ডের সঞ্চিত অর্থ ব্যবহার করা আরও সহজ হয়েছে।
অর্থ উত্তোলনের ঊর্ধ্বসীমায় শিথিলতা: কর্মীরা তাঁদের কর্মজীবনে নির্দিষ্ট আর্থিক প্রয়োজন মেটাতে পিএফ-এর সঞ্চিত অর্থ থেকে আংশিক অর্থ উত্তোলন করতে পারেন। এর ফলে, সম্পূর্ণ সঞ্চিত অর্থ তুলে না নিয়েও তাঁরা প্রয়োজন অনুযায়ী সঞ্চয়ের অর্থ ব্যবহার করতে পারেন।
ইপিএফও এই বিধানগুলি সরল করে শিক্ষার জন্য সর্বোচ্চ ১০ বার এবং বিবাহের জন্য সর্বোচ্চ ৫ বার অর্থ উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছে। আগে এই দুই উদ্দেশ্যে মিলিতভাবে সর্বোচ্চ তিনবার আংশিক অর্থ উত্তোলনের সুযোগ ছিল।
২০২৫ সালের অক্টোবরে চালু হওয়া সংশোধিত কাঠামো অনুযায়ী, যোগ্য সদস্যরা তাঁদের পিএফ-এর সঞ্চিত অর্থের সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত তুলতে পারবেন। এর মধ্যে কর্মী ও নিয়োগকর্তা উভয়ের অবদান অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং তা প্রযোজ্য শর্তসাপেক্ষ। ন্যূনতম চাকুরির মেয়াদ ১২ মাস নির্ধারণ করা হয়েছে।
স্বয়ংক্রিয়ভাবে দাবি নিষ্পত্তি: ইপিএফও যোগ্য অগ্রিম অর্থ উত্তোলনের দাবির ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় নিষ্পত্তির ঊর্ধ্বসীমা বাড়িয়ে ৫ লক্ষ টাকা করেছে। এর ফলে, ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপ ছাড়াই যোগ্য অর্থ উত্তোলনের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হচ্ছে।
ব্যাঙ্ক যাচাইকরণ প্রক্রিয়া সরলীকরণ: যোগ্য অনলাইন দাবির ক্ষেত্রে চেকের পাতার ছবি অথবা প্রত্যয়িত ব্যাঙ্ক পাসবুক আপলোড করার বাধ্যবাধকতা তুলে দিয়েছে ইপিএফও। এর ফলে, নথিপত্রের প্রয়োজনীয়তা কমেছে এবং দাবি নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া সরল হয়েছে।
নিয়ম মেনে চলার প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা এবং ব্যবসা করার সুবিধা বৃদ্ধি
বিশ্বাস, ২০২৬ (VISHWAS, 2026): এই প্রকল্পের মাধ্যমে ইপিএফ অ্যান্ড মিসলেনিয়াস প্রভিশনস অ্যাক্ট, ১৯৫২ এবং কোড অন সোশ্যাল সিকিউরিটি, ২০২০-এর আওতায় ক্ষতিপূরণ বা জরিমানা সংক্রান্ত যোগ্য বিরোধগুলির এককালীন নিষ্পত্তির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার মাধ্যমে মামলাজট কমানো এবং স্বেচ্ছায় নিয়ম মেনে চলতে উৎসাহিত করা হয়। এই প্রকল্পের আওতায় রয়েছে ক্ষতিপূরণ বা জরিমানার আদেশকে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে এমন মামলা, বকেয়া বা আংশিক আদায়ের মামলা, চূড়ান্ত আদেশের অপেক্ষায় থাকা জারি করা নোটিশ সংক্রান্ত মামলা এবং যেসব ক্ষেত্রে এখনও নোটিশ জারি করা হয়নি।
- ১৪ জুন ২০২৪-এর আগের যোগ্য নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে বিলম্বের সময়কালের ভিত্তিতে মাসিক ক্ষতিপূরণের হার কমিয়ে ০.২৫%, ০.৫০% অথবা ১% করা হয়েছে।
- নিয়োগকর্তাদের প্রযোজ্য আইনগত সুদ পরিশোধ করতে হবে এবং নিষ্পত্তি হওয়া বিরোধের ক্ষেত্রে আর কোনও আপিল করবেন না বলে অঙ্গীকার করতে হবে।
- জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ, ইচ্ছাকৃতভাবে তথ্য বিকৃত করা এবং সম্পূর্ণরূপে আদায় করা ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত মামলা বাদে, বিভিন্ন পর্যায়ে থাকা মামলাগুলি এই প্রকল্পের আওতায় আসবে। ইপিএফও এমপ্লয়ার পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন জমা দিতে হবে।
অ্যামনেস্টি, ২০২৬ (AMNESTY, 2026): ইপিএফও-র চালু করা এটি একটি এককালীন প্রকল্প, যার উদ্দেশ্য হল প্রতিষ্ঠানগুলিকে তাদের প্রভিডেন্ট ফান্ড (পিএফ) ট্রাস্টগুলিকে নিয়মমাফিক স্বীকৃতির আওতায় আনতে সহায়তা করা। এই প্রকল্পের আওতায় রয়েছে আয়কর আইন, ১৯৬১-এর অধীনে স্বীকৃত, কিন্তু ইপিএফ অ্যান্ড এমপি অ্যাক্ট, ১৯৫২ অথবা কোড অন সোশ্যাল সিকিউরিটি, ২০২০-এর অধীনে আনুষ্ঠানিক অব্যাহতি না পাওয়া ট্রাস্টগুলি। প্রকল্পটি ২৮ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত চালু থাকবে।
- যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলি ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠার তারিখ থেকে নির্ধারিত শেষ তারিখ পর্যন্ত পূর্ববর্তী সময়ের জন্য অব্যাহতি পেতে পারে। এই প্রকল্পে নির্দিষ্ট ন্যূনতম কর্মীসংখ্যা এবং তহবিল সংক্রান্ত শর্তও শিথিল করা হয়েছে।
- যোগ্য ট্রাস্টগুলিকে আইন অনুযায়ী নির্ধারিত অবদান জমা দিতে হবে এবং সদস্যদের অ্যাকাউন্টে প্রযোজ্য ইপিএফ সুদের হারের সমান বা তার চেয়ে বেশি হারে সুদ জমা করতে হবে। এই শর্তগুলি পূরণ হলে, শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক অব্যাহতি না থাকার কারণে শুরু করা কার্যক্রম প্রত্যাহার করা হবে এবং এই কারণে নতুন করে কোনও কার্যক্রম শুরু করা হবে না।
ডিজিটাল পরিষেবার মাধ্যমে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সরলীকরণ
স্বয়ংক্রিয় নিবন্ধন: ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে যোগ্য সরকারি ও বেসরকারি লিমিটেড কোম্পানি এবং ওয়ান পার্সন কোম্পানিগুলি কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রকের পোর্টালের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় ইপিএফও নিবন্ধনের সুবিধা পেয়ে আসছে। SPICe+ এবং AGILE-PRO ফর্মের মাধ্যমে এই সুবিধা প্রদান করা হয়। এই ফর্মে প্যান/ট্যান/ডিরেক্টর আইডেন্টিফিকেশন নম্বর/জিএসটিএন-সহ বিভিন্ন পরিষেবা একত্রিত করা হয়েছে।
ইউনিভার্সাল অ্যাকাউন্ট নম্বর (ইউএএন) স্ব-উৎপাদন: ২০১৯ সালের নভেম্বর থেকে কর্মীরা নিজেরাই তাঁদের ইউএএন তৈরি করতে পারছেন। এই সুবিধা ইপিএফও-র সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলিতে অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়াকে সহায়তা করে। ২০২৫ সালের এপ্রিলে ইপিএফও আধার-ভিত্তিক ফেস অথেন্টিকেশন প্রযুক্তির মাধ্যমে ইউএএন তৈরি ও সক্রিয় করার ব্যবস্থা চালু করে। উমঙ্গ মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে উপলব্ধ এই সুবিধা নিরাপদ ও সংস্পর্শবিহীন ডিজিটাল পরিষেবা গ্রহণের সুযোগ করে দেয়। এবছর অক্টোবর পর্যন্ত ১.৭৪ কোটি স্ব-উৎপাদিত ইউএএন-এর তথ্য পাওয়া গেছে। পাশাপাশি, ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত উমঙ্গ অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে ইপিএফও-র লেনদেনের সংখ্যা প্রায় ৭০৯ কোটি, যা ইপিএফও-র পরিষেবায় ডিজিটাল ব্যবহারের ব্যাপকতা তুলে ধরে।
ইউএএন হল ইপিএফও-র প্রত্যেক সদস্যকে দেওয়া একটি স্বতন্ত্র ও স্থায়ী নম্বর, যা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অবস্থায় তাঁর প্রভিডেন্ট ফান্ড অ্যাকাউন্টগুলিকে একসূত্রে যুক্ত রাখে। নিয়োগকর্তার মাধ্যমে ইউএএন ডেটাবেসে সদস্যের বিবরণ যাচাই সাপেক্ষে, চাকরি পরিবর্তনের সময় প্রভিডেন্ট ফান্ডে সঞ্চিত অর্থের স্থানান্তরযোগ্যতা নিশ্চিত করতে এটি সহায়তা করে।
আধার সংযুক্তিকরণ প্রক্রিয়া সরলীকরণ: ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে ইপিএফও-র সদস্যরা ইউএএন মেম্বার পোর্টালের মাধ্যমে আধার সংযুক্ত করতে অথবা আধার সংক্রান্ত তথ্য সংশোধন করতে পারছেন। আধার ও ইউএএন প্রোফাইলে থাকা তথ্যের মধ্যে মিল থাকলে নিয়োগকর্তারা সরাসরি সেই অনুরোধ অনুমোদন করতে পারেন। তথ্যে অমিল থাকলে সংশোধনের জন্য অনলাইনে ইপিএফও দপ্তরে পাঠানো যায়। নিয়োগকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব না হলে সদস্যরা সংশ্লিষ্ট ইপিএফও দপ্তরের জনসংযোগ আধিকারিকের (PRO) সহায়তা নিতে পারেন।
ইপিএফও-র পরিষেবার ডিজিটাল রূপান্তর
কেন্দ্রীয় পেনশন প্রদান ব্যবস্থা (CPPS): সিপিপিএস-এর মাধ্যমে দেশের যেকোনও ব্যাঙ্ক শাখা থেকে পেনশন প্রদান করা সম্ভব। স্থান পরিবর্তন বা ব্যাঙ্কের শাখা বদলের ক্ষেত্রে পেনশনভোগীদের আর এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে পেনশন পেমেন্ট অর্ডার (পিপিও) স্থানান্তর করার প্রয়োজন হয় না। বিশেষত, অবসরের পর যাঁরা নিজেদের আদি বাসস্থানে ফিরে যান, তাঁরা এই ব্যবস্থার মাধ্যমে উপকৃত হন। এছাড়া, পেনশন চালু হওয়ার সময় যাচাইকরণের জন্য ব্যাঙ্কের শাখায় যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা কমিয়েও এই ব্যবস্থা পেনশনভোগীদের সহায়তা করে।
বাড়িতে ডিজিটাল লাইফ সার্টিফিকেট পরিষেবা: ইপিএফও, এমপ্লয়িজ পেনশন স্কিমের (ইপিএস) পেনশনভোগীদের বাড়িতে ডিজিটাল লাইফ সার্টিফিকেট পরিষেবা পৌঁছে দিতে ইন্ডিয়া পোস্ট পেমেন্টস ব্যাঙ্কের (আইপিপিবি) সঙ্গে অংশীদারিত্ব করেছে। প্রতিটি সার্টিফিকেটের জন্য ৫০ টাকা খরচ ইপিএফও বহন করে, ফলে পেনশনভোগীরা বিনামূল্যে এই পরিষেবা পান। গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রবীণ পেনশনভোগীরা বিশেষভাবে এই উদ্যোগের মাধ্যমে উপকৃত হন। এটি সময়মতো পেনশন চালু রাখা, দ্রুত পারিবারিক পেনশন চালু করা এবং সিপিপিএস-এর আওতায় নির্ভুলতা বাড়াতে সহায়তা করে।
নতুন রূপে ইপিএফও-র ওয়েবসাইট: ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর ইপিএফও তাদের নতুন রূপে সাজানো ওয়েবসাইট epfo.gov.in চালু করে। মোবাইল ব্যবহারের উপযোগী এই পোর্টালে কর্মী, নিয়োগকর্তা ও পেনশনভোগীদের জন্য একটি সমন্বিত ইন্টারফেস রয়েছে। এর মাধ্যমে পাসবুক, দাবি সংক্রান্ত ফর্ম, পেনশন পরিষেবা, প্রোফাইল আপডেট এবং বিভিন্ন প্রকল্পের তথ্য সহজে পাওয়া যায়। পৃথক লগ-ইন বিকল্প এবং “EPFO and You” বিভাগ ব্যবহারকারীদের দ্রুত প্রয়োজনীয় পরিষেবা খুঁজে পেতে সাহায্য করে। পিএফ-এর ব্যালেন্স দেখা, অগ্রিম অর্থের জন্য আবেদন, পেনশনের আবেদন জমা, ইলেকট্রনিক চালান-কাম-রিটার্নস (ECR) দাখিল, প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন এবং ইউএএন সক্রিয় করার মতো পরিষেবা সম্পর্কে ইউটিউব ভিডিওর মাধ্যমে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। সংক্ষিপ্ত ডোমেন নাম এবং উন্নত নেভিগেশন ব্যবস্থার ফলে বিভিন্ন ডিভাইস থেকে ওয়েবসাইটটি ব্যবহার করা আরও সহজ হয়েছে।
ইপিএফও ৩.০ - কোর ব্যাঙ্কিং-ভিত্তিক রূপান্তর: ইপিএফও ৩.০ শিল্পক্ষেত্রে প্রচলিত কোর ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে পরিষেবাগুলিকে আধুনিক করে তুলছে।
- অ্যাকাউন্ট পরিচালনা, এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স প্ল্যানিং, নিয়ম মেনে চলা এবং গ্রাহক পরিষেবার জন্য এই ব্যবস্থায় একটি কোর ব্যাঙ্কিং সলিউশনের সঙ্গে ক্লাউড-নেটিভ, এপিআই-ফার্স্ট এবং মাইক্রোসার্ভিসেস-ভিত্তিক মডিউল যুক্ত করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এর বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যাতে নিরাপদ, সম্প্রসারণযোগ্য এবং নিরবচ্ছিন্ন পরিষেবা নিশ্চিত করা যায়।
- এই উদ্যোগের ফলে, কাগজপত্রের প্রয়োজনীয়তা কমবে, দাবি নিষ্পত্তি দ্রুত হবে এবং সদস্যদের পরিষেবার জন্য একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম তৈরি হবে।
- ঝুঁকি যাচাইয়ের মাধ্যমে অনুমোদিত দাবিগুলি ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপ ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষ্পত্তির পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর ফলে দাবি নিষ্পত্তির সময়সীমা সর্বোচ্চ ২০ দিন থেকে কমে তিন দিনেরও নিচে নেমে আসতে পারে।
- এই ব্যবস্থার পরিকল্পিত বৈশিষ্ট্যগুলির মধ্যে রয়েছে তাৎক্ষণিক অর্থ উত্তোলন, একাধিক ভাষায় স্ব-পরিষেবা এবং বেতন-সংযুক্ত অবদানের নিরবচ্ছিন্ন ব্যবস্থা। এই কাঠামোর মাধ্যমে ৩০ কোটিরও বেশি সদস্যকে ইপিএফও-র পরিষেবা প্রদানের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
ইপিএফও-র বাইরেও: ভারতের বিস্তৃত সামাজিক সুরক্ষা কাঠামো
ইপিএফও-র বাইরেও বিভিন্ন প্রকল্প ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার মাধ্যমে ভারতের সামাজিক সুরক্ষা কাঠামো বিস্তৃত হয়েছে, যা কর্মসংস্থানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্মরত শ্রমিক এবং সমাজের দুর্বল শ্রেণীর মানুষদের সহায়তা করে। সামাজিক সহায়তা, পেনশন সুবিধা, আইনগত সুরক্ষা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই উদ্যোগগুলি সামাজিক সুরক্ষার সুযোগ আরও প্রসারিত করছে।
প্রধানমন্ত্রী সামাজিক সহায়তা যোজনা
এই যোজনার মাধ্যমে যোগ্য প্রবীণ নাগরিক, বিধবা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং উপার্জনক্ষম ব্যক্তির মৃত্যুতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে সামাজিক সহায়তা প্রদান করা হয়। এবছর অক্টোবর মাসে বিদ্যমান ন্যাশনাল সোশ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম (NSAP)-এর সংশোধিত রূপ হিসেবে এই যোজনা চালু করা হয়েছে। ২০২৬–২৭ থেকে ২০৩০–৩১ সাল পর্যন্ত এই প্রকল্প চালু থাকবে।
NSAP-এর অধীন উপ-প্রকল্পগুলির মাধ্যমে নিম্নলিখিত সুবিধাগুলি প্রদান করা হয়:
- প্রতিবন্ধী পেনশন প্রকল্পের আওতায় ৮০ বছরের কম বয়সী উপভোক্তাদের মাসিক ৩৭৫ টাকা এবং ৮০ বছর বা তার বেশি বয়সীদের মাসিক ৬২৫ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। নির্ধারিত প্রতিবন্ধকতার মাত্রা ৮০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪০ শতাংশ করা হয়েছে এবং ন্যূনতম বয়সের শর্ত তুলে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে, জন্ম থেকেই এই সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা প্রসারিত হয়েছে।
- বার্ধক্য পেনশন প্রকল্পের আওতায় ৬০ থেকে ৭৯ বছর বয়সি ব্যক্তিদের মাসিক ২০০ টাকা এবং ৮০ বছর বা তার বেশি বয়সিদের মাসিক ৫০০ টাকা পেনশন দেওয়া হয়।
- বিধবা পেনশন প্রকল্পের আওতায় ৪০ থেকে ৭৯ বছর বয়সি বিধবাদের মাসিক ৩০০ টাকা এবং ৮০ বছর বা তার বেশি বয়সিদের মাসিক ৫০০ টাকা পেনশন দেওয়া হয়।
- পারিবারিক সুবিধা প্রকল্পের আওতায় ১৮ থেকে ৫৯ বছর বয়সী পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তির মৃত্যু হলে যোগ্য পরিবারগুলিকে এককালীন ২০,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
সোশ্যাল সিকিউরিটি কোড, ২০২০
এই কোডের মাধ্যমে সামাজিক সুরক্ষা সংক্রান্ত বিদ্যমান নয়টি কেন্দ্রীয় শ্রম আইনকে একত্রিত করে একটি সমন্বিত আইনগত কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। এই কোডে প্রভিডেন্ট ফান্ড, পেনশন, বিমা, মাতৃত্বকালীন সুবিধা, গ্র্যাচুইটি এবং শ্রমিকদের সুরক্ষার অন্যান্য ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর বিধানগুলি সংগঠিত ও অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের পাশাপাশি, গিগ এবং প্ল্যাটফর্ম কর্মীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
এই কোডে প্রযোজ্য শর্ত সাপেক্ষে, এক বছর চাকরি সম্পূর্ণ করার পর যোগ্য নির্দিষ্ট মেয়াদী কর্মীদের আনুপাতিক হারে গ্র্যাচুইটি প্রদানের বিধান রয়েছে। এছাড়া, সামাজিক সুরক্ষা কাঠামোর আওতায় গিগ ও প্ল্যাটফর্ম কর্মীদের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে এবং তাঁদের কল্যাণে সামাজিক সুরক্ষা তহবিলের সহায়তায় বিভিন্ন প্রকল্প চালুর সংস্থান রাখা হয়েছে।
নারী-কেন্দ্রিক বিধানগুলির মধ্যে রয়েছে যোগ্য মহিলাদের জন্য সর্বোচ্চ ২৬ সপ্তাহের মাতৃত্বকালীন সুবিধা, কাজের ধরন অনুযায়ী বাড়ি থেকে কাজ করার সুযোগ এবং নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলিতে শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রের ব্যবস্থা। সামাজিক সুরক্ষা সুবিধা বাস্তবায়ন এবং তা গ্রহণের সুযোগ সহজ করতে এই কোডে ডিজিটাল ও সরলীকৃত নিয়ম মেনে চলার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
ই-শ্রম: অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের জন্য একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম
২০২১ সালের আগস্টে চালু হওয়া ই-শ্রম ভারতের প্রথম আধার-সংযুক্ত অসংগঠিত শ্রমিকদের জাতীয় ডেটাবেস তৈরি করেছে। নিবন্ধিত প্রত্যেক শ্রমিককে একটি ইউএএন দেওয়া হয়। এ বছর আগস্ট পর্যন্ত এই পোর্টালে ৩১.৮৯ কোটি নিবন্ধন হয়েছে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে চালু হওয়া ই-শ্রম ওয়ান-স্টপ সলিউশনের মাধ্যমে ১৫টি সামাজিক সুরক্ষা ও কল্যাণমূলক প্রকল্পকে একত্রিত করা হয়েছে। এছাড়া, কর্মসংস্থানের জন্য ন্যাশনাল কেরিয়ার সার্ভিস, দক্ষতা উন্নয়ন ও শিক্ষানবিশ প্রশিক্ষণের জন্য স্কিল ইন্ডিয়া ডিজিটাল হাব এবং যোগ্য সরকারি প্রকল্পগুলি চিহ্নিত করার জন্য মাইস্কিমের সঙ্গেও শ্রমিকদের সংযুক্ত করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শ্রম যোগী মানধন (PM-SYM)
PM-SYM হল ১৮–৪০ বছর বয়সী এবং মাসিক ১৫,০০০ টাকা পর্যন্ত আয়কারী যোগ্য অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের জন্য একটি স্বেচ্ছামূলক ও অবদানভিত্তিক পেনশন প্রকল্প। নির্ধারিত শর্ত সাপেক্ষে, ৬০ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার পর এই প্রকল্পের আওতায় মাসিক ন্যূনতম ৩,০০০ টাকা নিশ্চিত পেনশন দেওয়া হয়। প্রকল্পে অন্তর্ভুক্তির বয়স অনুযায়ী মাসিক অবদানের পরিমাণ ৫৫ টাকা থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। কেন্দ্রীয় সরকারও সমপরিমাণ অর্থ অবদান হিসেবে প্রদান করে। ভারতের জিডিপিতে প্রায় ৫০ শতাংশ অবদান রাখা অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের বার্ধক্যে আয়ের সুরক্ষা প্রদানে এই প্রকল্প সহায়তা করে।
সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষার লক্ষ্যে
ইপিএফও-র আওতা সম্প্রসারণ, ডিজিটাল পরিষেবা প্রদান এবং শ্রমিক কল্যাণে সংস্কারের মাধ্যমে ভারতের সামাজিক সুরক্ষা কাঠামো ক্রমাগত বিস্তৃত হচ্ছে। প্রভিডেন্ট ফান্ড, পেনশন, বিমা এবং সামাজিক সহায়তা সংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্যোগ আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক—উভয় ক্ষেত্রের শ্রমিকদের সহায়তা করছে। নিয়ম মেনে চলার প্রক্রিয়া সরলীকরণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সুবিধা পাওয়ার সুযোগ আরও সুদৃঢ় হচ্ছে। এই পদক্ষেপগুলি সম্মিলিতভাবে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহজলভ্য সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়তা করছে।
তথ্যবিবরণী
Ministry of Labour and Employment
https://www.pib.gov.in/PressReleaseDetail.aspx?PRID=2311292®=48&lang=1
https://pmvbry-cdn.epfindia.gov.in/wp-content/uploads/2025/08/Annual-Report-2024-25.pdf
https://pmvbry-cdn.epfindia.gov.in/wp-content/uploads/2025/08/71.pdf
https://pmvbry-cdn.epfindia.gov.in/wp-content/uploads/2025/08/61.pdf
https://mis.epfindia.gov.in/ChartDashboard/
https://pmvbry-cdn.epfindia.gov.in/wp-content/uploads/2025/08/61.pdf
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2227132&lang=1®=6
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2136592&lang=2®=3
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2209767&lang=1®=6
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2118168&lang=2®=48
https://www.pib.gov.in/Pressreleaseshare.aspx?PRID=2109829®=48&lang=2
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2178522&lang=2®=48
https://www.linkedin.com/pulse/epfos-new-website-simpler-faster-mobile-friendly-epfoofficial-ahxsc
https://pmvbry-cdn.epfindia.gov.in/wp-content/uploads/2025/12/Draft_Minutes_of_114_EC.pdf
https://pmvbry-cdn.epfindia.gov.in/wp-content/uploads/2025/12/EC_meeting_Agenda_114.pdf
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2291296&lang=1®=1
https://shramsuvidha.gov.in/
https://www.pib.gov.in/PressReleaseIframePage.aspx?PRID=2108082®=48&lang=2
https://www.pib.gov.in/PressReleaseIframePage.aspx?PRID=2051703®=48&lang=2
https://web.umang.gov.in/landing/dashboard
https://dge.gov.in/sites/default/files/2026-09/1186_English.pdf
https://www.epfo.gov.in/about-us/
Cabinet
https://www.pib.gov.in/PressReleaseIframePage.aspx?PRID=2310811®=48&lang=2
https://www.labour.gov.in/static/uploads/2026/09/4f607a88c5342aeb980c6b999997caab.pdf
PIB Backgrounder
https://www.pib.gov.in/FactsheetDetails.aspx?Id=150473®=3&lang=2
https://www.pib.gov.in/PressReleaseDetail.aspx?PRID=2303053®=48&lang=1
https://static.pib.gov.in/WriteReadData/specificdocs/documents/2022/mar/doc202232127301.pdf
Click here to see PDF
*******
SSS/RP.......