PIB Backgrounder
azadi ka amrit mahotsav

হরিৎ হাইড্রোজেন

পোস্ট করার দিনক্ষণ: 28 OCT 2026 11:15AM by PIB Agartala

২৮ অক্টোবর, ২০২৬

 

হরিৎ হাইড্রোজেন ভারতের দূষণমুক্ত জ্বালানি রূপান্তরের একটি অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এটি পুনর্নবীকরণযোগ্য বিদ্যুৎ ব্যবহার করে উৎপাদিত হয়। এটি সার উৎপাদন, পেট্রোলিয়াম শোধনাগার, লৌহ ও ইস্পাত শিল্প এবং ভারী সড়ক পরিবহনের মতো কম নির্গমনের ক্ষেত্রগুলিতে সহায়ক হবে। জাতীয় হরিৎ হাইড্রোজেন মিশন (NGHM) দেশীয় উৎপাদন এবং চাহিদা বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে।

হাইড্রোজেন একটি শক্তির বাহক যা জ্বালানি কোষে অক্সিজেনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে এবং উপজাত হিসেবে কেবল জল ও তাপ নির্গমন করে। সৌর ও বায়ু শক্তি থেকে প্রাপ্ত পুনর্নবীকরণযোগ্য বিদ্যুৎ ব্যবহার করে জল বিভাজনের মাধ্যমে উৎপন্ন হাইড্রোজেনকে 'হরিৎ হাইড্রোজেন' বলা হয়। এটি জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ২০৭০ সালের মধ্যে কার্বন-শূন্যতা অর্জনের লক্ষ্যকে সমর্থন করে।

কি উপায়ে হাইড্রোজেন "হরিৎ" হয়

ব্যবহারের সময় হাইড্রোজেন কোনো কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন করে না। ২০২৩ সালের আগস্টে নব ও পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি মন্ত্রক (MNRE) ভারতের হরিৎ হাইড্রোজেন সংক্রান্ত মানদণ্ড নিয়ে আসে। এই মানদণ্ড অনুযায়ী, ১২ মাসের গড় হিসাবে প্রতি কেজি হাইড্রোজেন উৎপাদনে যদি ২ কেজি বা তার কম কার্বন-ডাই-অক্সাইড নির্গমন হয়, তবে তা হরিৎ হাইড্রোজেন হিসেবে যোগ্য বলে বিবেচিত হবে।

হরিৎ হাইড্রোজেন কিভাবে উৎপাদিত হয়

হরিৎ হাইড্রোজেন প্রধানত জলের (H₂O) তড়িৎ বিশ্লেষণ বা ইলেক্ট্রোলাইসিসের মাধ্যমে উৎপাদিত হয়। ইলেক্ট্রোলাইজারে দুটি ইলেক্ট্রোড এবং একটি ইলেক্ট্রোলাইট থাকে। যখন বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, তখন ক্যাথোডে হাইড্রোজেন এবং অ্যানোডে অক্সিজেন উৎপন্ন হয়। হাইড্রোজেন তৈরির এই প্রক্রিয়ায় বিশুদ্ধ জলের প্রয়োজন হয় এবং MNRE-এর মতে প্রতি কেজি হাইড্রোজেন উৎপাদনে প্রায় নয় লিটার ডিমিনারেলাইজড জলের প্রয়োজন হয়।

হরিৎ হাইড্রোজেনের প্রয়োগ

সার: হাইড্রোজেন ও নাইট্রোজেন থেকে তৈরি অ্যামোনিয়া ইউরিয়ার মতো নাইট্রোজেন সারের ভিত্তি। হরিৎ হাইড্রোজেন জীবাশ্মভিত্তিক সরবরাহকে প্রতিস্থাপন করতে পারে।

পেট্রোলিয়াম শোধনাগার: শোধনাগারগুলি পেট্রোল ও ডিজেল থেকে সালফার অপসারণ এবং ভারী তেলকে হালকা জ্বালানিতে রূপান্তর করতে হাইড্রোজেন ব্যবহার করে।

ইস্পাত: ইস্পাত তৈরিতে কয়লার পরিবর্তে হরিৎ হাইড্রোজেন ব্যবহার করা যেতে পারে।

গ্যাস নেটওয়ার্ক: এই ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক গ্যাসের সঙ্গে নির্দিষ্ট অনুপাতে হরিৎ হাইড্রোজেন মেশানো যেতে পারে।

সড়ক ও রেল পরিবহন: ফুড-সেল চালিত যানবাহন এবং জিন্দ-সোনিপত সেকশনে চালু হওয়া ভারতের প্রথম দেশীয় হাইড্রোজেন চালিত ট্রেন শুধুমাত্র জলীয় বাষ্প ও তাপ নির্গমন করে।

শিপিং এবং রপ্তানি: হরিৎ হাইড্রোজেনকে গ্রীন অ্যামোনিয়া এবং গ্রীন মিথানলে রূপান্তরিত করে জাহাজ চালনা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করা সম্ভব।

ভারতের হরিৎ হাইড্রোজেন নীতি পরিকাঠামো

সরকার হরিৎ হাইড্রোজেন বৃদ্ধির জন্য একটি সমন্বিত কৌশল গ্রহণ করেছে।

NGHM মিশন: ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে অনুমোদিত এই মিশনের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে বার্ষিক অন্তত ৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন (MMT) উৎপাদন ক্ষমতা অর্জন করা।

SIGHT প্রোগ্রাম: দেশীয় ইলেক্ট্রোলাইজার উৎপাদন এবং হরিৎ হাইড্রোজেন উৎপাদনের জন্য উৎসাহ প্রদান করে।

পাইলট প্রকল্প এবং হাব: ইস্পাত এবং শিপিং ক্ষেত্রে পাইলট প্রকল্পের জন্য তহবিল বরাদ্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি, কান্ডলা, তুতিকোরিন এবং পারাদ্বীপ বন্দরকে হাব হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

অনুকূল নীতি কাঠামো: ২০৩০ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে কমিশন করা হরিৎ হাইড্রোজেন এবং গ্রীন অ্যামোনিয়া প্ল্যান্টগুলিকে ২৫ বছরের জন্য আন্তঃরাজ্য ট্রানস্মিশন সিস্টেম (ISTS) চার্জ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

নিয়মকানুন ও মানদণ্ড: MNRE এপ্রিল ২০২৫ সালে ভারতের হরিৎ হাইড্রোজেন ব্যবহারের ক্ষেত্রে শংসাপত্র চালু করেছে এবং BEE এই সংক্রান্ত তদারকি ও শংসাপত্রের জন্য এজেন্সিগুলিকে স্বীকৃতি দেয়।

গবেষণা, পারদর্শিতা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা: গবেষণা ও উন্নয়নের জন্য তহবিল বরাদ্দ করা হয়েছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ৬ লাখেরও বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমঝোতাপত্র স্বাক্ষরিত হয়েছে। রাজ্য স্তরেও বিভিন্ন নীতি গৃহীত হয়েছে।

আগামীর পথ

জাতীয় হরিৎ হাইড্রোজেন মিশনের লক্ষ্য, ভারতকে এক দূষণমুক্ত ও আত্মনির্ভর শক্তিতে পরিণত করা। এই মিশনের মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকার জীবাশ্ম জ্বালানির আমদানি হ্রাস করা এবং ৮ লক্ষ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ ও ৬ লক্ষেরও বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এই প্রচেষ্টাগুলি 'বিকশিত ভারত ২০৪৭'-এর রূপকল্প এবং ২০৭০ সালের মধ্যে কার্বন-শূন্যতা অর্জনের অঙ্গীকারকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।

তথ্যবিবরণী:

Cabinet

Ministry of New and Renewable Energy (MNRE)

Ministry of Chemicals and Fertilisers

Ministry of Ports, Shipping and Waterways

Ministry of Railways

Ministry of Power

Ministry of Petroleum and Natural Gas (HPCL)

Ministry of Science and Technology (CSIR)

Parliament of India

Press Information Bureau (PIB)

Other sources

Click here to see pdf

*****

PS/AL


(প্রেস বিজ্ঞপ্তির আইডি: 2329643) ভিজিটরদের কাউন্টার : 2
এই বিজ্ঞপ্তিটি পড়ুন এভাবে: English , हिन्दी , Bengali , Gujarati , Tamil