প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর
azadi ka amrit mahotsav

এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড সামিট ২০২৬-এ প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদির ভাষণ

প্রকাশিত: 22 OCT 2026 9:57PM by PIB Kolkata

নতুন দিল্লি, ২২ অক্টোবর, ২০২৬

 

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদি আজ নতুন দিল্লিতে এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড সামিট ২০২৬-এ ভাষণ দেন। দেশে উৎসবের আনন্দমুখর পরিবেশের মধ্যে আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনে উপস্থিত সকল অংশগ্রহণকারীকে স্বাগত জানান। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনার জন্য এই সমাবেশের তিনি ভূয়সী প্রশংসা করেন।
এনডিটিভি সম্মেলনে আলোচিত বিষয়গুলির সমকালীন প্রাসঙ্গিকতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বপরিস্থিতির পরিবর্তন আজ সরাসরি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে প্রভাবিত করায় নতুন বিশ্বব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে এখন সর্বত্রই আলোচনা হচ্ছে। বাস্তব জীবনে এই পরিবর্তনগুলির সুদূরপ্রসারী প্রভাবের ফলে আন্তর্জাতিক মঞ্চে এ ধরনের আলোচনার গুরুত্ব আরও বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “এই পরিস্থিতিতে এ ধরনের বিশ্ব সম্মেলনের গুরুত্ব আরও অনেক বেড়ে যায়।”
‘ব্যবস্থা পরিবর্তনের মধ্যবর্তী বিশ্ব’—এই মূল ভাবনাকে কেন্দ্র করে আলোচনার প্রসঙ্গ উত্থাপন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা কেন পরিবর্তিত হচ্ছে এবং পুরোনো ব্যবস্থাগুলি কেন সমকালীন সংকটের সমাধান করতে পারছে না, তা নিয়ে বিশ্বসমাজকে গভীরভাবে পর্যালোচনা করতে হবে। এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজতে গেলে স্বাভাবিকভাবেই বিশ্বমঞ্চে ভারতের নির্দিষ্ট দায়িত্ব ও ভূমিকার বিষয়টিও সামনে আসে। শ্রী মোদি বলেন, “ দ্বিতীয় প্রশ্নটি হল, পরিবর্তনশীল এই বিশ্বে ভারতের ভূমিকা কী?”
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের স্বাভাবিক বিবর্তনের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন, সংলাপ ও সহযোগিতাকে শক্তিপ্রয়োগের ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়ার উপলব্ধি থেকেই রাষ্ট্রসংঘের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। কিন্তু নতুন নতুন অর্থনীতি, প্রযুক্তি এবং প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরিসরের বাইরে থাকা বিভিন্ন দেশের উত্থান সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলি নিজেদের সময়োপযোগী করে তুলতে পারেনি। তিনি বলেন, একসময় বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও সমুদ্রপথের মতো বিষয়গুলি বিভিন্ন দেশকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করত; কিন্তু বর্তমানে সেগুলিই অস্ত্রসজ্জা, সংঘাত ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। এখন এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি, যা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলির সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং বর্তমান বাস্তবতার মধ্যেকার ব্যবধান দূর করতে পারবে। প্রধানমন্ত্রী মোদি জোর দিয়ে বলেন, “আর ঠিক এখান থেকেই ভারতের ভূমিকার প্রশ্নটি সামনে চলে আসে।”
কোভিড-১৯ মহামারির সময় বিশ্বজুড়ে গভীর বিভাজন, পারস্পরিক সন্দেহ এবং আস্থার অভাবের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বায়নের প্রবক্তারাও তখন সম্মিলিত স্বার্থের পরিবর্তে নিজেদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন। তিনি শ্রোতাদের স্মরণ করিয়ে দেন, ২০২০ সালে জি-২০ মঞ্চ থেকে তিনি মানবজাতির সামগ্রিক কল্যাণকে কেন্দ্র করে একটি নতুন বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছিলেন। একই বছর রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের মঞ্চ থেকেও তিনি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে সময়োপযোগী করে তোলার জরুরি প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছিলেন। শ্রী মোদি বলেন, “শতাব্দী বদলে যায়, অথচ আমরা যদি নিজেদের না বদলাই, তাহলে আমাদের পরিবর্তন আনার ক্ষমতাও দুর্বল হয়ে পড়ে।”
উদীয়মান বিশ্বব্যবস্থার সুনির্দিষ্ট কাঠামো কেমন হওয়া উচিত, সেই প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রী বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কার এবং গ্লোবাল সাউথ বা দক্ষিণী বিশ্বের দেশগুলির মতামত ও কণ্ঠস্বরকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা শুধু অনুকূল সময়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; তীব্র সংকটের সময়েও যাতে তা কার্যকর ও শক্তিশালী থাকে, সেই ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “এর জন্য সমস্ত অংশীদারের মধ্যে কার্যকর ঐকমত্য গড়ে তোলা অপরিহার্য।”
চাণক্যের অর্থশাস্ত্র থেকে ‘মৎস্যন্যায়’-এর ধারণা উদ্ধৃত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্বল ব্যবস্থায় বড় মাছ যেমন ছোট মাছকে গিলে ফেলে, তেমনই শক্তিশালী পক্ষের দুর্বল পক্ষকে গ্রাস করার প্রবণতা দেখা দেয়। এই ধরনের শোষণমূলক বিশ্বব্যবস্থার উদ্ভব প্রতিরোধ করাই ভারতের মূল লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন। এর বাস্তব প্রমাণ হিসেবে তিনি মহামারির সময় ভারতের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। যখন ধনী দেশগুলি নিজেদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, তখন ভারত এগিয়ে এসে ১০০টিরও বেশি দেশে টিকা ও ওষুধ সরবরাহ করেছিল। শ্রী মোদি বলেন, “বিশ্বের এমন একটি ব্যবস্থার প্রয়োজন, যা মৎস্যন্যায়ের পরিস্থিতির উদ্ভব প্রতিরোধ করতে পারে।”
‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’—অর্থাৎ সকলকে সঙ্গে নিয়ে সকলের উন্নয়নের মূলমন্ত্র অনুসরণ করে ভারত কীভাবে বিশ্ববন্ধু হিসেবে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেছে, প্রধানমন্ত্রী তা তুলে ধরেন। তিনি জানান, ভারতের আয়োজনে জি-২০ ও ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের সময় ঐকমত্য গড়ে তোলার সম্ভাবনা নিয়ে ব্যাপক সংশয় ছিল। তা সত্ত্বেও ভারত পরস্পরবিরোধী অবস্থানের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে উভয় সম্মেলনেই সর্বসম্মতিক্রমে দিল্লি ঘোষণাপত্র গ্রহণে সফল হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “বিশ্ববন্ধু হিসেবে ভারতের ভূমিকার ওপর এটাই বিশ্বের আস্থা।”
দেশের ক্রমবর্ধমান শক্তির সঙ্গে বিশ্বকল্যাণের সরাসরি সম্পর্ক ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতের অভ্যন্তরীণ নীতিগুলি ক্ষণস্থায়ী আবেগের পরিবর্তে চিরন্তন সভ্যতাগত মূল্যবোধের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তাই শক্তিশালী ভারত বিশ্বে স্থিতিশীলতা ও ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে পারে। সম্প্রতি তাঁর ‘পাওয়ার টু এমপাওয়ার’ বা ক্ষমতার মাধ্যমে ক্ষমতায়নের ভাবনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, আত্মনির্ভর, অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী এবং দক্ষতাসম্পন্ন বিকশিত ভারত স্বাভাবিকভাবেই বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরও শক্তিশালী করবে, উৎপাদনশীলতা বাড়াবে এবং বিশ্বজুড়ে সমৃদ্ধির পথ প্রশস্ত করবে। শ্রী মোদি বলেন, “অর্থাৎ, ভারত আজ নিজের সক্ষমতা বাড়াচ্ছে, যাতে সমগ্র বিশ্বের সক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়।”
বিশ্বের শীর্ষ তিনটি অর্থনীতির অন্যতম হয়ে ওঠার লক্ষ্যে ভারতের নিরলস প্রচেষ্টার কথা পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তীব্র প্রতিকূলতা সত্ত্বেও দ্রুততম বিকাশশীল প্রধান অর্থনীতি হিসেবে ভারতের উত্থান দেশের আত্মবিশ্বাসকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। তিনি দূষণমুক্ত শক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্টার্টআপ এবং ডিজিটাল অর্থনীতির মতো ক্ষেত্রে ভারতের উল্লেখযোগ্য আন্তর্জাতিক অবস্থানের কথা গর্বের সঙ্গে তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “রিয়েল-টাইম ডিজিটাল পেমেন্টের ক্ষেত্রে ভারত বিশ্বের এক নম্বরে রয়েছে।”
প্রযুক্তি ও পরিবেশের ক্ষেত্রে প্রথমবারের মতো অর্জিত একাধিক ঐতিহাসিক সাফল্যের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টরের ক্রিটিক্যালিটি অর্জন, দেশের জনগণনার সঙ্গে ডিজিটাল প্রযুক্তির সংযুক্তিকরণ এবং হাইড্রোজেনচালিত ট্রেনের প্রথম যাত্রা—সবই উল্লেখযোগ্য মাইলফলক। পরিচ্ছন্ন শক্তির দিকে ভারতের রূপান্তরের ক্ষেত্রেও এক বড় অগ্রগতির কথা তিনি উল্লেখ করেন। শ্রী মোদি বলেন, “প্রথমবারের মতো ভারতে জীবাশ্ম জ্বালানিবহির্ভূত বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৩০০ গিগাওয়াটের সীমা অতিক্রম করেছে।”
৮৫টি পদকজয়ী এশিয়ান গেমসের ভারতীয় দলটির সঙ্গে সাম্প্রতিক আলাপচারিতার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী ক্রীড়াক্ষেত্রে দেশের একাধিক নজিরবিহীন সাফল্যের প্রশংসা করেন। তিনি মহিলাদের রিকার্ভ তিরন্দাজি দলের প্রথমবার দলগত ও ব্যক্তিগত বিভাগে সোনা জয়ের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি, বক্সিংয়ে ভারতীয় মুষ্টিযোদ্ধারা একই আসরে প্রথমবারের মতো তিনটি স্বর্ণপদক জিতে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন বলেও তিনি জানান।
সেপাক টাকরো খেলার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শ্রোতাদের বলেন, এই খেলায় ফুটবল ও ভলিবলের বিভিন্ন উপাদানের সমন্বয় রয়েছে এবং সম্পূর্ণ খেলাটিই পা ব্যবহার করে খেলা হয়; এর মধ্যে একটি নেট থাকে। তিনি বলেন, এই খেলায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের খেলোয়াড়রা দীর্ঘদিন ধরে সাফল্য অর্জন করে আসছেন। তবে সাম্প্রতিক এশিয়ান গেমসে ভারতীয় ক্রীড়াবিদরাও এই ব্যতিক্রমী খেলায় নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। শ্রী মোদি বলেন, “সাম্প্রতিক এশিয়ান গেমসে এই খেলায় পুরুষদের কোয়াড্রান্ট ইভেন্টে—ভারত প্রথমবারের মতো পদক জিতেছে।”
এই সাফল্যগুলিকে রূপান্তরিত ভারতের বৈশিষ্ট্য হিসেবে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ একদিকে যেমন তার ঐতিহ্যগত শক্তিগুলিকে আরও সুদৃঢ় করছে, অন্যদিকে সম্পূর্ণ নতুন নতুন ক্ষেত্রেও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই সাফল্যগুলি বিচ্ছিন্ন বা আকস্মিক ঘটনা নয়; বরং একটি সুনির্দিষ্ট ও সুপরিকল্পিত প্রশাসনিক নীতির প্রত্যক্ষ ফল। প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “এই সমস্ত সাফল্যের মূলে রয়েছে সংস্কার, কর্মসম্পাদন ও রূপান্তরের নীতি—‘রিফর্ম, পারফর্ম, ট্রান্সফর্ম’।”
সম্মিলিত জাতীয় সংকল্পের রূপান্তরকারী শক্তির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ জাতি যখন এগিয়ে চলে, তখন তার মৌলিক পরিকাঠামো দুর্বলতা বা বিপন্নতার প্রতীক না হয়ে সহনশীলতা ও শক্তির প্রতীক হয়ে ওঠে। শ্রী মোদি বলেন, “বিদ্যুৎ গ্রিড দেশের অগ্রগতি ও আত্মবিশ্বাসকে আরও বাড়িয়ে তোলে।”
বিকশিত ভারত গড়ে তোলার কাজে যুবসমাজ, মহিলা, কৃষক, মৎস্যজীবী, দরিদ্র মানুষ এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণির উদ্দীপনা ও অবদানের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী কয়েকটি উল্লেখযোগ্য পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি জানান, সেপ্টেম্বরে পণ্য রপ্তানি ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং গত ১২ বছরে সামুদ্রিক খাদ্যপণ্যের রপ্তানি দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। গ্রামাঞ্চলে ৩ কোটি ৫০ লক্ষেরও বেশি ‘লাখপতি দিদি’ তৈরি হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য এই সংখ্যা বাড়িয়ে ৬ কোটিতে নিয়ে যাওয়া। পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী বিকশিত ভারত রোজগার যোজনার আওতায় ৭০ লক্ষ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মধ্যবিত্তের জন্য ১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়ের ওপর শূন্য আয়করের কথাও শ্রীমোদি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “দেশে জীবনযাপন ক্রমশ আরও সহজ হচ্ছে এবং কর্মসংস্থানের নতুন নতুন সুযোগও তৈরি হচ্ছে।”
একসময় কেবল ‘বিশ্বের ব্যাক অফিস’ এবং সাধারণ পরিষেবা প্রদানকারী হিসেবে পরিচিত ভারত কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে, তা ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ এখন বিশ্বের জন্য নিজস্ব প্রযুক্তি উদ্ভাবন, নকশা প্রণয়ন এবং নতুন প্রযুক্তি নির্মাণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। তিনি জানান, গবেষণাপত্র প্রকাশের সংখ্যার নিরিখে ভারত বিশ্বে তৃতীয় স্থানে রয়েছে এবং শুধু ২০২৫ সালেই দেশে প্রায় দেড় লক্ষ পেটেন্টের আবেদন জমা পড়েছে। শ্রী মোদি বলেন, “গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে ভারতে যে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে, এটি তারই একটি ঝলক।”
দেশের অভ্যন্তরীণ সেমিকন্ডাক্টর শিল্পব্যবস্থার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, বিশ্বের মোট চিপ-ডিজাইন কর্মীর প্রায় ২০ শতাংশ ভারতে রয়েছেন। ভারতীয় প্রকৌশলীরা বর্তমানে অত্যাধুনিক ২ থেকে ৩ ন্যানোমিটার প্রযুক্তির চিপের নকশা তৈরি করছেন। এই দক্ষ কর্মীবাহিনীকে আরও সম্প্রসারিত করার জন্য বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা গড়ে তোলা হচ্ছে বলেও তিনি জানান। প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “আমাদের শিক্ষার্থীরা এখনও পর্যন্ত ৩২৫টিরও বেশি চিপ ডিজাইন তৈরি করেছে।”
ভারতে বিশ্বের অর্ধেকেরও বেশি গ্লোবাল ক্যাপাবিলিটি সেন্টার বা জিসিসি অবস্থিত বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই কেন্দ্রগুলি এখন আর শুধু সাধারণ সহায়তামূলক পরিষেবার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এগুলি উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং, ইঞ্জিনিয়ারিং, ডেটা বিশ্লেষণ এবং পণ্য উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে কাজ করছে। তিনি বলেন, বিশ্ব যখন ভারতীয় জনশক্তির পাশাপাশি ভারতীয় মেধাশক্তির ওপরও আস্থা রাখতে শুরু করেছে, তখন ভারত ‘বৃহৎ পরিসরে প্রতিভা’ থেকে ‘বৃহৎ পরিসরে চিন্তন ও উদ্ভাবন’-এর পথে এগিয়ে চলেছে। শ্রী মোদি বলেন, “আমরা এখন বিশ্বের সঙ্গে শুধু একটি ব্যাক অফিস হিসেবে নয়, বরং একটি ব্রেন অফিস হিসেবেও কাজ করছি।”
দেশীয় সক্ষমতা গড়ে তোলা, বিদেশি নির্ভরতা কমানো এবং ভবিষ্যতের সংকট মোকাবিলার প্রস্তুতি নেওয়ার লক্ষ্যে সরকারি নীতি ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের কৌশলগত দূরদর্শিতা ব্যাখ্যা করেন প্রধানমন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে তিনি ওষুধশিল্পের অতীত ইতিহাসের কথা উল্লেখ করেন, যখন প্রয়োজনীয় কাঁচামালের জন্য ভারতকে আমদানির ওপর নির্ভর করতে হতো। তিনি জানান, উৎপাদনভিত্তিক উৎসাহদান বা পিএলআই প্রকল্পের আওতায় গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টিবায়োটিকের কাঁচামাল পেনিসিলিন জি-কে অন্তর্ভুক্ত করার ফলে কয়েক দশক ধরে বন্ধ থাকা এই পণ্যের দেশীয় উৎপাদন পুনরুজ্জীবিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “এখন অন্ধ্রপ্রদেশের কাকিনাড়ায় বহু বছর পর পেনিসিলিন জি-এর দেশীয় উৎপাদন আবার শুরু হয়েছে।”
পেনিসিলিন জি-এর বাইরেও ওষুধশিল্পে আত্মনির্ভরতার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পিএলআই প্রকল্পের মাধ্যমে সরকার সক্রিয় ওষুধ উপাদান বা এপিআই-এর জন্য একটি সম্পূর্ণ দেশীয় সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তুলছে। তিনি জানান, এই সুনির্দিষ্ট নীতিগত উদ্যোগের ফলে ইতিমধ্যেই প্রায় ৪০টি চালু প্রকল্পে ৫,০০০ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ এসেছে। শ্রী মোদি বলেন, “এই ধরনের নীতি ও সিদ্ধান্ত ভারতকে আত্মনির্ভরতার পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।”
১৪০ কোটি দেশবাসীর সীমাহীন আকাঙ্ক্ষা এবং ‘আমরা করবই’—এই দৃঢ় প্রত্যয়কে শক্তি করে বিকশিত ভারত গড়ে তোলার মহৎ লক্ষ্যকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণ শেষ করেন। ভারত নতুন নতুন উদ্ভাবনের পথে এগিয়ে যাবে, নতুন পথ তৈরি করবে, প্রতিটি চ্যালেঞ্জকে সুযোগে রূপান্তরিত করবে এবং দেশের সাফল্যকে বিশ্বসমৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত করবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সম্মেলনে উঠে আসা চিন্তাভাবনা ও মতামত দেশের জাতীয় সংকল্পকে আরও শক্তিশালী করবে বলে তিনি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেন এবং সকল অংশগ্রহণকারীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “আমরা বড় স্বপ্ন দেখব, প্রতিটি চ্যালেঞ্জকে সুযোগে রূপান্তরিত করব এবং আমাদের প্রতিটি সংকল্পকে বাস্তবে সফল করে তুলব।”

 

 

SC/ SD/SG


(রিলিজ আইডি: 2327305) ভিজিটরের কাউন্টার : 5
এই রিলিজটি পড়তে পারেন: English , Urdu , हिन्दी , Assamese , Punjabi , Gujarati , Tamil , Telugu , Kannada , Malayalam