PIB Backgrounder
azadi ka amrit mahotsav

কাশ্মীরের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিশা : উন্নয়নের প্রয়োজনে পরিকাঠামো নির্মাণ

প্রকাশিত: 17 OCT 2026 11:21AM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬

 

 

নতুন করে যুক্ত হচ্ছে বিভিন্ন অঞ্চল

জম্মু ও কাশ্মীরের পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির কারণে দীর্ঘদিন ধরেই যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা একটি বড় প্রতিকূলতা। তবে, গত কয়েক বছরে এই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটছে। পরিকাঠামো ক্ষেত্রে ধারাবাহিক বিনিয়োগের ফলে দেশের অন্যান্য অংশের সঙ্গে এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত হচ্ছে। উধমপুর-শ্রীনগর-বারামুলা রেল সংযোগ (USBRL) প্রকল্প এই সম্প্রসারণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। স্বাধীনতার পর দেশে নির্মিত সবচেয়ে কঠিন রেলপথ প্রকল্পগুলির মধ্যে এটি অন্যতম। বর্তমানে এই প্রকল্প ভারতের প্রকৌশল দক্ষতার এক উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। এর মাধ্যমে রেলপথে কাশ্মীর উপত্যকা দেশের অন্যান্য অংশের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

USBRL প্রকল্পের পাশাপাশি, সড়ক, সুড়ঙ্গ ও বিমানবন্দরের পরিকাঠামোও সম্প্রসারিত হয়েছে। এই যোগাযোগ ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের মতো নতুন ট্রেন পরিষেবা, গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ ও সুড়ঙ্গ। শ্রীনগর বিমানবন্দরের যাত্রী পরিবহণের ক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। উড়ান প্রকল্পের আওতায় আঞ্চলিক বিমানবন্দর গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। এর ফলে যাত্রী পরিবহণ বাড়বে। পাশাপাশি, বহুমুখী পণ্য পরিবহণ কেন্দ্র এবং উন্নত মালবাহী পরিষেবার মাধ্যমে পণ্য পরিবহণ আরও সহজ হচ্ছে। এই উদ্যোগগুলির ফলে জম্মু ও কাশ্মীরে সারা বছর যাতায়াতের উপযোগী যোগাযোগ পরিকাঠামো ক্রমশ সম্প্রসারিত হয়েছে।

রেলপথ : কাশ্মীরকে জাতীয় স্তরের রেল সংযোগের সঙ্গে যুক্ত করা

উধমপুর-শ্রীনগর-বারামুলা রেল সংযোগ (USBRL) জাতীয় প্রকল্প

USBRL প্রকল্পের উদ্বোধন হয় ২০২৫ সালের জুন মাসে। এর ফলে হিমালয় অঞ্চলে রেল যোগাযোগ আরও উন্নত হয়েছে। ৪৩,৭৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্প জম্মু ও কাশ্মীরের উধমপুর, রিয়াসি, রামবান, শ্রীনগর, অনন্তনাগ, পুলওয়ামা, বাদগাম ও বারামুলা জেলার মধ্যে দিয়ে বিস্তৃত।

দুর্গম হিমালয় অঞ্চলের মধ্য দিয়ে ২৭২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথে রয়েছে ৩৬টি সুড়ঙ্গ, যার মোট দৈর্ঘ্য ১১৯ কিলোমিটার। এ ছাড়া রয়েছে ৯৪৩টি সেতু। পাহাড়ি এলাকার কঠিন ভূপ্রকৃতির কথা মাথায় রেখে এই প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে, প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলি জাতীয় রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। যাতায়াত, বাণিজ্য ও পর্যটনের ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এই প্রকল্পের অংশ হিসেবে ২১৫ কিলোমিটারেরও বেশি সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি সুড়ঙ্গ ও ৩২০টি সেতুও রয়েছে। এই সড়কগুলি স্থানীয় মানুষের যাতায়াতে সহায়ক হচ্ছে। প্রকল্পের সম্পূর্ণ রেলপথে বিদ্যুতায়ন করা হয়েছে। সুড়ঙ্গের ভিতরে এবং খোলা অংশেও বিদ্যুৎচালিত ট্রেন চলাচলের ব্যবস্থা রয়েছে।

USBRL প্রকল্প জম্মু ও কাশ্মীরের আর্থসামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এর অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হল কর্মসংস্থান সৃষ্টি। এই প্রকল্পে ৫ কোটিরও বেশি শ্রমদিবসের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে।

বন্দে ভারত এক্সপ্রেস

জম্মু ও কাশ্মীরে বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের যাত্রা শুরু হয় ২০২৫ সালের জুন মাসে। প্রথমে কাটরা ও শ্রীনগরের মধ্যে এই ট্রেন চলাচল শুরু করে। রেল যোগাযোগ আরও উন্নত করতে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে শ্রীনগর-কাটরা বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের পরিষেবা জম্মু তাওয়ি রেল স্টেশন পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হয়।

এখন জম্মু থেকে শ্রীনগর যেতে পাঁচ ঘণ্টারও কম সময় লাগছে। ট্রেনগুলিতে কোচের সংখ্যা ৮ থেকে বাড়িয়ে ২০ করা হয়েছে। প্রচণ্ড ঠান্ডা-সহ প্রতিকূল আবহাওয়ায় চলাচলের উপযোগী করে এই ট্রেনগুলি তৈরি করা হয়েছে। উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে চলাচলের উপযোগী উন্নত পরিচালন ব্যবস্থা ও বৈদ্যুতিন সরঞ্জামও রয়েছে ট্রেনগুলিতে।

এই রেলপথে সারা বছর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে একটি বিশেষ তুষার সরানোর ট্রেন ব্যবহার করা হয়। এই ট্রেনটি মূল ট্রেনের আগে চলাচল করে রেললাইন থেকে বরফ সরিয়ে দেয়। এ ছাড়া, ভূমিকম্পের কম্পন সামলাতে বিশেষ সিসমিক ড্যাম্পার বসানো হয়েছে। এর ফলে দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এই অঞ্চলে ট্রেনযাত্রা আরও নিরাপদ ও আরামদায়ক হয়েছে।

USBRL প্রকল্পের উল্লেখযোগ্য প্রকৌশল কীর্তি

USBRL প্রকল্পে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকৌশল কীর্তি রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য চেনাব রেল সেতু, আঞ্জি খাদ সেতু এবং T50 সুড়ঙ্গ।

চেনাব রেল সেতু

USBRL প্রকল্পের অধীনে জম্মু ও কাশ্মীরের রিয়াসি জেলায় চেনাব নদীর উপর বিশ্বের সর্বোচ্চ রেল সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের জুন মাসে উদ্বোধন হওয়া এই সেতুটির দৈর্ঘ্য ১,৩১৫ মিটার। এর খিলানের বিস্তার ৪৬৭ মিটার এবং নদীর তলদেশ থেকে সেতুটির উচ্চতা ৩৫৯ মিটার। উচ্চতার নিরিখে এটি আইফেল টাওয়ারকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে।

প্রবল ভূমিকম্প ও ঝোড়ো হাওয়ার চাপ সহ্য করার উপযোগী করে সেতুটি তৈরি করা হয়েছে। এই সেতুর উপর দিয়ে বন্দে ভারত এক্সপ্রেস চলাচল শুরু হওয়ায় জম্মু ও কাশ্মীরের মধ্যে রেল যোগাযোগ আরও উন্নত হয়েছে।

আঞ্জি খাদ সেতু

চেনাব নদীর একটি উপনদী আঞ্জি নদীর গভীর খাতের উপর ভারতের প্রথম কেবল-স্টেইড রেল সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। আঞ্জি খাদ সেতুটি USBRL প্রকল্পের অংশ। ২০২৫ সালের জুন মাসে এর উদ্বোধন হয়।

জম্মু ও কাশ্মীরের রিয়াসি জেলায় অবস্থিত এই সেতুটি একটি ১৯৩ মিটার উঁচু স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। স্তম্ভটির আকৃতি উল্টানো ইংরেজি ‘Y’ অক্ষরের মতো। তারের সাহায্যে সেতুটিকে ধরে রাখা হয়েছে। সেতুটির মূল অংশের দৈর্ঘ্য ৪৭৩.২৫ মিটার। পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি ও ভূমিকম্পের ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে এটি নির্মাণ করা হয়েছে।

T50 সুড়ঙ্গ

২০২৪ সালে উদ্বোধন হওয়া T50 সুড়ঙ্গটি জম্মু ও কাশ্মীরের খাড়ি ও সুম্বেরকে যুক্ত করেছে। মোট ১২.৭৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেল সুড়ঙ্গটি USBRL প্রকল্পের অধীনে নির্মিত হয়েছে। এটি ভারতের দীর্ঘতম পরিবহণ সুড়ঙ্গ। কাশ্মীর উপত্যকার সঙ্গে দেশের অন্যান্য অংশের রেল যোগাযোগে এই সুড়ঙ্গ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

হিমালয়ের কঠিন ভূতাত্ত্বিক পরিস্থিতির মধ্যে সুড়ঙ্গটি নির্মাণে নিউ অস্ট্রিয়ান টানেলিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। নির্মাণের সময় সুড়ঙ্গের ভিতরে অতিরিক্ত জল ঢুকে পড়া, ভূমিধস, শিলাস্তরের দুর্বল অংশ এবং আগ্নেয় শিলার ফাটলের মতো নানা সমস্যার মোকাবিলা করতে হয়েছে।

সুড়ঙ্গটিতে একটি মূল পথের পাশাপাশি সমান্তরাল একটি জরুরি নির্গমন পথ রয়েছে। প্রতি ৩৭৫ মিটার অন্তর এই দুটি পথের মধ্যে সংযোগ রাখা হয়েছে, যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে নিরাপদে বেরিয়ে আসা যায়। প্রতি ৫০ মিটার অন্তর সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে এই ক্যামেরাগুলির সাহায্যে নজরদারি করা হয়।

রেল যোগাযোগের সহায়ক পরিকাঠামো

রেল যোগাযোগ আরও উন্নত করতে জম্মু ও কাশ্মীরে সহায়ক পরিকাঠামো নির্মাণ এবং রেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে বিনিয়োগ বাড়ানো হচ্ছে। ২০০৯-১৪ সালে জম্মু ও কাশ্মীরের জন্য রেল বাজেটে বার্ষিক গড় বরাদ্দ ছিল ১,০৪৪ কোটি টাকা। ২০২৬-২৭ সালে তা বেড়ে হয়েছে ১,০৮৬ কোটি টাকা।

রেলপথের বিদ্যুতায়ন

ভারতীয় রেল মিশন মোডে রেলপথের বিদ্যুতায়নের কাজ চালিয়েছে। বর্তমানে ব্রডগেজ রেল নেটওয়ার্কের প্রায় ৯৯.৬ শতাংশ বিদ্যুতায়িত হয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীরে বর্তমানে থাকা সম্পূর্ণ ব্রডগেজ রেল নেটওয়ার্কে বিদ্যুতায়ন করা হয়েছে। নতুন রেলপথ নির্মাণ এবং একাধিক রেললাইন তৈরির সব প্রকল্পের অনুমোদন ও নির্মাণের সময়ই বিদ্যুতায়নের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।

রেল স্টেশনের পুনর্নির্মাণ

অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পের অধীনে ভারতীয় রেলের ১,৩৪০টি স্টেশনকে নতুন করে গড়ে তোলার জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে জম্মু ও কাশ্মীরের চারটি স্টেশন রয়েছে। সেগুলি হল বাদগাম, জম্মু তাওয়ি, শহিদ ক্যাপ্টেন তুষার মহাজন (উধমপুর) এবং শ্রী মাতা বৈষ্ণোদেবী কাটরা স্টেশন।

অঞ্চলে রেল যোগাযোগের অন্যান্য উদ্যোগ

জম্মু ও কাশ্মীরের সীমান্তবর্তী এবং কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় রেল যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করতে একাধিক প্রকল্পের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে :

- জলন্ধর ক্যান্টনমেন্ট থেকে জম্মু তাওয়াই পর্যন্ত তৃতীয় রেললাইন: দৈর্ঘ্য ২১৬ কিলোমিটার।
- জম্মু থেকে শ্রী মাতা বৈষ্ণোদেবী কাটরা পর্যন্ত অতিরিক্ত রেললাইন: দৈর্ঘ্য ৭৮ কিলোমিটার।
- জম্মু/রিয়াসি থেকে পুঞ্চ পর্যন্ত নতুন রেলপথ: দৈর্ঘ্য ১৯০ কিলোমিটার।

সড়ক যোগাযোগের উন্নয়ন: জম্মু ও কাশ্মীরে পরিকাঠামো সম্প্রসারণ

রেলপথের পাশাপাশি, সড়ক যোগাযোগের উন্নতি

জম্মু ও কাশ্মীরে রেলপথের পাশাপাশি, সড়ক পরিকাঠামোরও সম্প্রসারণ হচ্ছে। রেল সংযোগের বাইরে থাকা এলাকাগুলিতে পৌঁছতে সড়ক যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বছর  আগস্ট মাসে প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা (PMGSY)-IV-এর আওতায় ১১০টি সড়ক প্রকল্পের শিলান্যাস করা হয়। এই প্রকল্পগুলির মোট দৈর্ঘ্য ৫৯৮.৪৫৫ কিলোমিটার। ১,৫০০ কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে নির্মিত হতে চলা এই সড়কগুলি উধমপুর, কাঠুয়া, ডোডা ও কিশতওয়ার অঞ্চলের ৪৬,৯৭২ জন মানুষের উপকারে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রকল্পের কয়েকটি সড়ক নির্মাণে বর্জ্য প্লাস্টিকও ব্যবহার করা হবে। এর ফলে পরিবেশের কথা মাথায় রেখে সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ আরও জোরদার হবে।

হিমালয় অঞ্চলে সারা বছর যাতায়াতের সুবিধা নিশ্চিত করা, সড়ক নিরাপত্তা বাড়ানো এবং কৌশলগত কারণে দ্রুত যাতায়াতের ব্যবস্থা করতে সুড়ঙ্গ নির্মাণও উন্নয়ন পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

সোনমার্গ (জেড-মোর) সুড়ঙ্গ

জেড-মোর নামে পরিচিত সোনমার্গ সুড়ঙ্গ প্রকল্পের উদ্বোধন হয় ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে। এই প্রকল্পে রয়েছে ৬.৪ কিলোমিটার দীর্ঘ দ্বিমুখী সুড়ঙ্গ, সমান দৈর্ঘ্যের একটি সমান্তরাল জরুরি নির্গমন সুড়ঙ্গ এবং ৫.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সংযোগকারী সড়ক।

উল্লেখ্য, ২,৭০০ কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে নির্মিত এই সুড়ঙ্গটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,৬৩৪ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। এর ফলে, শ্রীনগর থেকে সোনমার্গ হয়ে লেহ পর্যন্ত সারা বছর সড়ক যোগাযোগ বজায় রাখা সম্ভব হবে। তুষারধস ও ভূমিধসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের কয়েকটি অংশ এড়িয়ে যাতায়াত করা যাবে।

এই সুড়ঙ্গের ফলে, সোনমার্গে সারা বছর পর্যটনের সুযোগ বাড়বে। শীতকালীন পর্যটন, অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস এবং স্থানীয় মানুষের জীবিকার নতুন সুযোগ তৈরি হবে। জোজিলা সুড়ঙ্গের সঙ্গে মিলিতভাবে এই প্রকল্পের ফলে, জাতীয় সড়ক-১-এর সংশ্লিষ্ট অংশের দৈর্ঘ্য ১৩ কিলোমিটার থেকে কমে ১১.৯৮ কিলোমিটার হবে।

জোজিলা সুড়ঙ্গ

জাতীয় সড়ক-১-এর উপর বালতাল ও মিনামার্গের মধ্যে ১৩.১৫৩ কিলোমিটার দীর্ঘ দ্বিমুখী জোজিলা সুড়ঙ্গ নির্মাণ করছে ন্যাশনাল হাইওয়েজ অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেড (NHIDCL)। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,৯০০ থেকে ৩,৩১০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এই প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬,৮০৮ কোটি টাকা। সুড়ঙ্গটি চালু হলে জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখের মধ্যে সারা বছর সড়ক যোগাযোগ বজায় রাখা সম্ভব হবে।

২০২০ সালের অক্টোবর মাসে এই প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হয়। এবছর জুন মাসে মূল সুড়ঙ্গের দুই প্রান্তের মধ্যে খননকাজ সম্পূর্ণ হয়।

সুড়ঙ্গটিতে আধুনিক বায়ু চলাচল ব্যবস্থা, স্বয়ংক্রিয় অগ্নিকাণ্ড শনাক্তকরণ ও আগুন নেভানোর ব্যবস্থা, সিসিটিভি নজরদারি, পরিবর্তনশীল বার্তা প্রদর্শন ব্যবস্থা (VMS), সুপারভাইজরি কন্ট্রোল অ্যান্ড ডেটা অ্যাকুইজিশন (SCADA) ব্যবস্থা-সহ আধুনিক নিরাপত্তা ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের প্রযুক্তি থাকবে।

এই প্রকল্পের মধ্যে আরও রয়েছে মোট ৪.৮ কিলোমিটার দীর্ঘ দুটি যমজ একমুখী নীলগারি সুড়ঙ্গ, মোট ২.৩৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ আটটি কাট-অ্যান্ড-কভার অংশ, ৮১০ মিটার দীর্ঘ চারটি সেতু, ৪০টি কালভার্ট, তুষারধস থেকে সুরক্ষার জন্য বিশেষ গ্যালারি, জল ও তুষার আটকানোর বাঁধ, বায়ুর চাপ সামলানোর দেওয়াল এবং অন্যান্য সুরক্ষামূলক পরিকাঠামো। এই সব ব্যবস্থা ১৬.৯৬৪ কিলোমিটার দীর্ঘ সংযোগকারী সড়কের বিভিন্ন অংশে তৈরি করা হচ্ছে।

সুড়ঙ্গটির নির্মাণকাজ শেষ হলে সোনমার্গ থেকে মিনামার্গ যেতে প্রায় দুই ঘণ্টার পরিবর্তে মাত্র ৩০ মিনিট লাগবে বলে আশা করা হচ্ছে। শীতকালে ভারী তুষারপাত ও তুষারধসের কারণে বিপজ্জনক হয়ে ওঠা জোজিলা গিরিপথে দুর্ঘটনা এবং যাতায়াত ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকিও কমবে।

এই সুড়ঙ্গ পর্যটন ও বাণিজ্যের প্রসারে সাহায্য করবে। প্রত্যন্ত এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় পৌঁছনোও সহজ হবে। সারা বছর যোগাযোগ বজায় থাকলে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে রসদ সরবরাহ এবং কৌশলগত প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি, কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এবং স্থানীয় মানুষের জীবিকা ও জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।

ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় সুড়ঙ্গ

(আগে পরিচিত ছিল চেনানি-নাশরি সুড়ঙ্গ নামে)

২০১৭ সালে যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সুড়ঙ্গটি ভারতের বর্তমানে চালু দীর্ঘতম সড়ক সুড়ঙ্গ এবং এশিয়ার দীর্ঘতম দ্বিমুখী সুড়ঙ্গ। এটি জম্মু ও কাশ্মীরের উধমপুর ও রামবানকে যুক্ত করেছে।

মোট ২,৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সুড়ঙ্গের ফলে যাতায়াতের দূরত্ব ৩১ কিলোমিটার কমেছে। যাত্রার সময়ও প্রায় দুই ঘণ্টা কমেছে। এর ফলে, জ্বালানির খরচও সাশ্রয় হচ্ছে।

জাতীয় সড়ক নেটওয়ার্কের সম্প্রসারণ

দিল্লি-অমৃতসর-কাটরা এক্সপ্রেসওয়ে

প্রসঙ্গত, ৬৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নতুন এক্সপ্রেসওয়ে দিল্লির সঙ্গে অমৃতসর ও কাটরাকে যুক্ত করবে। দ্রুত যাতায়াতের সুবিধা দেওয়া, জাতীয় সড়ক-৪৪-এর যানজট কমানো এবং শ্রী মাতা বৈষ্ণোদেবী মন্দিরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পৌঁছানো সহজ করাই এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য।

২০২৬ সালের জুলাই মাসে এক্সপ্রেসওয়ের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশের উদ্বোধন করা হয়। দিল্লি থেকে কাটরা যেতে বর্তমানে প্রায় ১৪ ঘণ্টার পরিবর্তে প্রায় ছয় ঘণ্টা লাগবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই সড়কপথে তীর্থযাত্রীদের যাতায়াত সহজ হবে। পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট এলাকায় শিল্প ও পণ্য পরিবহণের কাজেও গতি আসবে।

রফিয়াবাদ-কুপওয়ারা সড়ক (NH-701)

সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে NH-701-এর রফিয়াবাদ-কুপওয়ারা অংশের প্রশস্ততা বাড়ানো ও সড়ক মজবুত করার প্রকল্পের শিলান্যাস হয় ২০২৫ সালের জুন মাসে। এই প্রকল্পটি প্রজেক্ট বিকন-এর অধীনে রফিয়াবাদ-কুপওয়ারা-চৌকিবল-তাংধর-চামকোট সড়কপথের-ই অংশ।

শোপিয়ান বাইপাস (NH-444)

২০২৪ সালের মার্চ মাসে ২২৪.৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮.৯২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ শোপিয়ান বাইপাস প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের জুন মাসে এই প্রকল্পের শিলান্যাস হয়।

বাইপাসটি শোপিয়ান, পুলওয়ামা ও কুলগামের মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ করবে। পাশাপাশি, কৃষিজ পণ্য দ্রুত পরিবহণের সুযোগ বাড়বে।


বিমানবন্দর: আকাশপথে যোগাযোগের সম্প্রসারণ

শ্রীনগর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ

শ্রীনগর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সিভিল এনক্লেভ সম্প্রসারণের জন্য ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ১,৬৭৭ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। ভারতীয় বায়ুসেনার (IAF) বাদগাম বিমানঘাঁটির মধ্যে অবস্থিত এই সিভিল এনক্লেভ পরিচালনা করে ভারতীয় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। এই প্রকল্প কাশ্মীর উপত্যকায় আকাশপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত করতে সাহায্য করবে।

৭৩.১৮ একর জমিতে এই প্রকল্পের আওতায় ৭১,৫০০ বর্গমিটার এলাকা জুড়ে একটি নতুন টার্মিনাল ভবন তৈরি করা হবে। ব্যস্ত সময়ে এই টার্মিনাল ব্যবহার করে ঘণ্টায় সর্বাধিক ২,৯০০ জন যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন। বছরে ১ কোটি যাত্রী সামলানোর ক্ষমতা থাকবে এর। বিমান রাখার জন্য ১৫টি পার্কিং বে তৈরি করা হবে। এর মধ্যে একটি বড় আকারের বিমানের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা থাকবে। বিমানবন্দরের বর্তমান ৩,৬৫৮ মিটার দীর্ঘ রানওয়ে ভারতীয় বায়ুসেনার পরিচালনায় থাকবে। এ ছাড়া, ১,০০০টি গাড়ি রাখার উপযোগী বহুতল পার্কিং ব্যবস্থা তৈরি করা হবে। নিরাপত্তারক্ষীদের থাকার জন্য-ও ব্যারাক নির্মাণ করা হবে।

নতুন টার্মিনালে আধুনিক বিমানবন্দর পরিষেবার সঙ্গে কাশ্মীরের ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যশৈলীর সমন্বয় ঘটানো হবে। স্থানীয় কাঠের কাজ ও কারুশিল্পের নিদর্শনও এতে থাকবে। পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পে বৃষ্টির জল সংরক্ষণ, প্রাকৃতিক আলোর অধিক ব্যবহার এবং স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের ব্যবস্থা থাকবে। সুস্থায়ী নির্মাণের জন্য প্রকল্পটিকে গ্রিহা (GRIHA) মূল্যায়নে পাঁচ তারার পরিবেশবান্ধব স্বীকৃতি দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

আঞ্চলিক আকাশপথে যোগাযোগের সম্প্রসারণ

জম্মু ও কাশ্মীরের বাসিন্দাদের জন্য আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নততর করা এবং সাশ্রয়ী ও নিরাপদ যাতায়াতের সুযোগ বৃদ্ধির উপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

উধমপুর ও কিশ্তওয়ার বিমানবন্দর প্রকল্পের মাধ্যমে এই অঞ্চলের প্রধান শহরগুলির বাইরের এলাকাতেও আকাশপথে যোগাযোগের সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। উড়ান (UDAN) প্রকল্পের আওতায় এই দুই বিমানবন্দর গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। বিমানবন্দরের পরিষেবা ও যাত্রী পরিবহণের ক্ষমতা বাড়লে পর্যটনের প্রসার ঘটবে, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, বিনিয়োগ বাড়বে এবং অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে শ্রীনগরের গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

যোগাযোগ থেকে অর্থনৈতিক সংহতি

বহুমাধ্যমভিত্তিক পণ্য পরিবহণ

২০২১ সালের অক্টোবর মাসে শুরু হওয়া প্রধানমন্ত্রী গতিশক্তি জাতীয় মাস্টার প্ল্যানের আওতায় রেলপথ, সড়কপথ, বন্দর, জলপথ, বিমানবন্দর এবং পণ্য পরিবহণের পরিকাঠামোকে একটি ভৌগোলিক তথ্য ব্যবস্থা (GIS) ভিত্তিক পরিকল্পনা মঞ্চের আওতায় আনা হয়েছে। এই পরিকল্পনায় ৪৪টি কেন্দ্রীয় মন্ত্রক এবং ৩৬টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এই কাঠামোর ভিত্তিতে ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে শুরু হয় গতিশক্তি মাল্টি-মোডাল কার্গো টার্মিনাল (GCT) নীতি। এই নীতির মাধ্যমে বেসরকারি বিনিয়োগে আধুনিক রেল-সংযুক্ত পণ্য পরিবহণ টার্মিনাল গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এখন পর্যন্ত দেশে ১৪২টি গতিশক্তি কার্গো টার্মিনাল চালু হয়েছে। ২০২৪ সালে জম্মু ও কাশ্মীরের সাম্বায় একটি গতিশক্তি মাল্টি-মোডাল কার্গো টার্মিনাল চালু হয়। বর্তমানে সেটি সম্পূর্ণভাবে কাজ করছে। এ ছাড়া, আরও ৩১০টি স্থানে কার্গো টার্মিনাল গড়ে তোলার জন্য নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে জম্মু ও কাশ্মীরের কাঠুয়া, অনন্তনাগ ও জম্মু জেলায় তিনটি টার্মিনাল গড়ে তোলার প্রস্তাব রয়েছে।

এই নীতির ফলে, সিমেন্ট, ইস্পাত, বিদ্যুৎ, খনি, কৃষি, পণ্য পরিবহণ এবং উৎপাদন ক্ষেত্র উপকৃত হয়েছে। এর আওতায় গুদাম, শস্য সংরক্ষণের সাইলো, হিমঘর এবং পণ্য পরিবহণের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য আধুনিক পরিষেবাসম্পন্ন টার্মিনাল গড়ে উঠেছে। এতে, স্থানীয় শিল্প ও কৃষকদের প্রতিযোগিতার ক্ষমতা বেড়েছে। পাশাপাশি, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়েছে।

যোগাযোগের উন্নয়ন থেকে নতুন সুযোগ

এক সময় ঋতুভিত্তিক বিচ্ছিন্নতার জন্য পরিচিত এই অঞ্চল এখন ভারতের অর্থনৈতিক পরিসরের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত হচ্ছে। রেল, সড়ক ও আকাশপথের প্রকল্পগুলি এখন আর বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ নয়। এগুলি একযোগে একটি সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থার অংশ হয়ে উঠেছে।

এই পরিবর্তনের প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষ, কৃষক, ব্যবসায়ী এবং পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের দৈনন্দিন জীবনে। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার ফলে কৃষক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এই অঞ্চলের বাইরের বাজারে সহজে পৌঁছতে পারছেন। কাশ্মীরের আপেল, শুকনো ফল, পশমিনা শাল এবং হস্তশিল্পের মতো বিশেষ পণ্য এখন আরও বড় বাজারে পৌঁছচ্ছে। এর ফলে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বৈচিত্র্য বাড়ছে।

একই সঙ্গে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এই অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্ব আরও বাড়াতে সাহায্য করছে। সীমান্তের নিরাপত্তা শক্তিশালী করা এবং প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময় দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণের ব্যবস্থা করতেও এই যোগাযোগ ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

তথ্যসূত্র

Ministry of Railways

Ministry of Road Transport & Highways

Ministry of Civil Aviation

Ministry of Science and Technology

Ministry of Home Affairs

Cabinet Committee on Economic Affairs

Ministry of Personnel, Public Grievances & Pensions

Press Information Bureau (PIB)

Ministry of Information and Broadcasting

Click here to see pdf 


*****
SSS/AS.....


(রিলিজ আইডি: 2325543) ভিজিটরের কাউন্টার : 13
এই রিলিজটি পড়তে পারেন: English , Urdu , हिन्दी , Bengali-TR , Gujarati