PIB Backgrounder
দূর থেকে দেখা আলোকস্তম্ভ থেকে পর্যটনকেন্দ্র : ভারতের লাইটহাউসের পরিবর্তনের কাহিনী
প্রকাশিত:
10 OCT 2026 3:00PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ১০ অক্টোবর, ২০২৬
প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ভারতের লাইটহাউসগুলি দূর থেকে দেখা যেত। সমুদ্রের ধারে দাঁড়িয়ে থাকা এই লাইটহাউসগুলি উপকূলের বিপজ্জনক অংশগুলি চিহ্নিত করত এবং অন্ধকারে জাহাজকে নিরাপদ পথ দেখাত। এগুলির আলো ছিল নাবিকদের জন্য। আর উঁচু স্তম্ভগুলি ছিল উপকূলের পরিচিত দৃশ্যের অংশ।
ভারতের ১১,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ উপকূলরেখা জুড়ে রয়েছে ২০৫টি লাইটহাউস। এখন এই ঐতিহাসিক সামুদ্রিক পথপ্রদর্শকগুলিকে নতুনভাবে সাজিয়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে লাইটহাউসগুলি আর শুধু দূর থেকে দেখা কোনও চিহ্ন নয়। জাহাজকে ভারতের উপকূল বরাবর নিরাপদে চলাচলে সাহায্য করা এখনও লাইটহাউসের প্রধান কাজ। তবে, এই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার পাশাপাশি শুরু হয়েছে নতুন এক অধ্যায়।
লাইটহাউসগুলির পরিকাঠামোর উন্নয়ন করা হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের প্রবেশের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। জাদুঘরে তুলে ধরা হচ্ছে এগুলির সামুদ্রিক ইতিহাস। পাশাপাশি, লাইটহাউস চত্বরে তৈরি হচ্ছে হাঁটার পথ, বাগান, মুক্তমঞ্চ এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা। আলো যাতে নির্ভরযোগ্যভাবে কাজ করে, তার জন্য আধুনিক ব্যবস্থাও গড়ে তোলা হচ্ছে।
লাইটহাউসকেন্দ্রিক পর্যটনে দর্শনার্থীর সংখ্যা ২০১৪ সালে প্রায় ৪ লাখ থেকে বেড়ে ২০২৪-২৫ সালে ১৮.৬৩ লক্ষ হয়েছে। ঐতিহাসিক ও স্থাপত্যগত গুরুত্ব সংরক্ষণের পাশাপাশি, দেশের ৭৫টি লাইটহাউসকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গুজরাটের মান্ডভি ও দ্বারকা লাইটহাউস, কর্ণাটকের তাদরি লাইটহাউস, তামিলনাড়ুর পাম্বান লাইটহাউস এবং কেরলের ভিঝিঞ্জাম লাইটহাউস। লাইটহাউস ও আলোকবাহী জাহাজের মহানির্দেশকের দপ্তর (DGLL)-এর অধীনে একটি ডিজিটাল টিকিট ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দর্শনার্থীরা একটি অভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে টিকিট কাটতে পারবেন। লাইটহাউসকেন্দ্রিক পর্যটনের জনপ্রিয়তা বাড়ায় ভারতের সামুদ্রিক ঐতিহ্য তুলে ধরার নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি, আশপাশের হোটেল, রেস্তরাঁ, পর্যটন সংস্থা, পরিবহণ পরিষেবা, স্থানীয় দোকান এবং কারুশিল্পীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়ছে।
আলো এখনও পথ দেখায়
দূর থেকে লাইটহাউসগুলিকে আগের মতোই দেখায়। কিন্তু সেখানকার আলোর প্রযুক্তিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। একসময় আগুন ও তেলের সাহায্যে আলো জ্বালানো হত। এখন সৌরশক্তি ও আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে সেই আলো জ্বলছে। দেশের সকল লাইটহাউস সৌরশক্তিচালিত। ফলে, জাহাজকে পথ দেখানোর এই ব্যবস্থায় পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির ব্যবহার নিশ্চিত হয়েছে।
বিভিন্ন লাইটহাউসের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে এই অগ্রগতির ছবি স্পষ্ট হয়। গুজরাটের সামিয়ানি দ্বীপের লাইটহাউসে তেলের বাতির পরিবর্তে সৌরশক্তিচালিত ইলেকট্রনিক ফ্ল্যাশার ব্যবহার করা হয়। পরে, ২০১৬ সালে সেখানে LED লণ্ঠন বসানো হয়। জোড়িয়ার লাইটহাউসেও প্রথমে সৌরশক্তিচালিত ঝলকানি আলো বসানো হয়। ২০২১ সালে সেটির পরিবর্তে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন LED লণ্ঠন বসানো হয়।
লাইটহাউসগুলি এখন ভারতের বৃহত্তর সামুদ্রিক তথ্য ব্যবস্থারও অংশ। উপকূল বরাবর লাইটহাউসগুলিতে ৮৭টি স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা (Automatic Identification System বা AIS)-এর উপকূলীয় স্টেশন বসানো হয়েছে। এর ফলে, জাহাজকে পথ দেখানোর ব্যবস্থা আরও নির্ভরযোগ্য হয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্রুত তথ্য আদানপ্রদান করাও সম্ভব হচ্ছে।
AIS হল জাহাজ ও উপকূলভিত্তিক একটি তথ্য সম্প্রচার ব্যবস্থা। সমুদ্রে জীবনের নিরাপত্তা সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কনভেনশন (SOLAS)-এর নিয়ম অনুসারে এই ব্যবস্থা কাজ করে। জাহাজের অবস্থান ও আশপাশের পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে AIS গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর ফলে, নৌচলাচলের নিরাপত্তা বাড়ে এবং জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ আরও কার্যকর হয়।
লাইটহাউস জাদুঘর : সামুদ্রিক ইতিহাসকে আরও কাছে নিয়ে আসা
আধুনিক প্রযুক্তি লাইটহাউসের মূল কাজকে আরও শক্তিশালী করছে। পাশাপাশি, এই ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলির পুরনো গল্পও নতুনভাবে তুলে ধরা হচ্ছে। চেন্নাই, মহাবলীপুরম, আলাপ্পুঝা, কান্নুর, মুত্তম, দ্বারকা ও গোপনাথে লাইটহাউস জাদুঘর গড়ে তোলা হয়েছে।
মহাবলীপুরম, যা মামল্লপুরম নামেও পরিচিত, তার ইতিহাস বিশেষভাবে সমৃদ্ধ। তামিলনাড়ুর উপকূলে কয়েক শতাব্দী ধরে চলা সামুদ্রিক বাণিজ্যের সঙ্গে এই অঞ্চলের ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে। খ্রিস্টীয় সপ্তম শতকে পল্লব রাজারা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সামুদ্রিক বাণিজ্যের জন্য মহাবলীপুরমকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর হিসেবে গড়ে তোলেন। একসময় উপকূলের কাছে আসা জাহাজকে পথ দেখাতে কাঠের আগুন ব্যবহার করা হত। ১৮৮৭ সালে ওলক্কানীশ্বর মন্দিরের ছাদে প্রথম প্রচলিত লাইটহাউস স্থাপন করা হয়। সেখানে চতুর্থ-ক্রমের আলোক-লেন্স ও লণ্ঠনের ভিতরে সলতে-জ্বালানো বাতি বসানো হয়েছিল। ২০০৪ সালে প্রধান আলো ও জরুরি আলোর ব্যবস্থা বদলে তিনটি ১৫০ ওয়াট, ২৩০ ভোল্টের মেটাল হ্যালাইড বাতির সমন্বিত ব্যবস্থা করা হয়।
বর্তমান লাইটহাউসটি পাথরের গাঁথুনি দিয়ে তৈরি ২৬ মিটার উঁচু একটি গোলাকার স্তম্ভ। এই স্থাপনা তার ঐতিহাসিক পরিচয় ধরে রেখেই সময়ের সঙ্গে আধুনিক হয়েছে। ২০২০ সালে এর প্রধান আলোকে ২৩৬ ওয়াটের LED অ্যারে দিয়ে উন্নত করা হয়। এটি ছিল এই ধরনের প্রথম ব্যবস্থা।
এখানে ঐতিহ্য ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় দেখা যায়। লাইটহাউস জাদুঘরে আকর্ষণীয় প্রদর্শনী ও বিরল নিদর্শনের মাধ্যমে লাইটহাউসের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। জাতীয় ঐতিহ্য ও সামুদ্রিক জাদুঘর দর্শনার্থীদের কাছে এই স্থানের অতীতকে আরও জীবন্ত ও প্রাণবন্ত করে তোলে।
এই জাদুঘরকেন্দ্রিক উদ্যোগ আরও বড় প্রকল্পেও সম্প্রসারিত হচ্ছে।
গুজরাটের লোথালে গড়ে উঠছে জাতীয় সামুদ্রিক ঐতিহ্য কমপ্লেক্স (National Maritime Heritage Complex বা NMHC)। এই কমপ্লেক্সে ৭৭ মিটার উঁচু একটি লাইটহাউস জাদুঘর তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। আনুমানিক ২৬৬.১১ কোটি টাকা ব্যয়ে এটি বিশ্বের উচ্চতম লাইটহাউস জাদুঘর এবং বৃহত্তম সামুদ্রিক জাদুঘরগুলির অন্যতম হয়ে উঠবে বলে পরিকল্পনা করা হয়েছে।
NMHC দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ও সামুদ্রিক উদ্যোগ। পাঁচ হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে গড়ে ওঠা ভারতের সামুদ্রিক ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং মানুষের সামনে তুলে ধরাই এই প্রকল্পের লক্ষ্য। এখানে আরও থাকবে 5D ডোম থিয়েটার, উপকূলীয় রাজ্যগুলির প্যাভিলিয়ন, একটি মিউজিওটেল, ইকো রিসর্ট এবং ভারতীয় সামুদ্রিক বিশ্ববিদ্যালয়ের (IMU) সহযোগিতায় গড়ে ওঠা সামুদ্রিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান (MRI)।
লাইটহাউস জাদুঘর থেকে পুরো কমপ্লেক্সের বিস্তৃত দৃশ্য দেখা যাবে। এর নকশায় ভারতের প্রাচীনতম লাইটহাউসগুলির অন্যতম মহাবলীপুরম লাইটহাউসের স্থাপত্য থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়া হয়েছে। পাথরের ব্যাপক ব্যবহারের মাধ্যমে এর স্বতন্ত্র স্থাপত্যশৈলী বজায় রাখা হবে। ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি (VR)-এর সাহায্যে তৈরি বিশেষ অভিজ্ঞতার মাধ্যমে দর্শনার্থীরা ভারতের বিস্তীর্ণ উপকূলরেখা জুড়ে লাইটহাউসের ইতিহাস জানতে পারবেন। আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি আলো ও শব্দের প্রদর্শনীতে প্রোজেকশন ম্যাপিং-এর সাহায্যে লাইটহাউসটি আলোকিত করা হবে।
প্রাচীন সামুদ্রিক বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান হল লোথাল। এখানে লাইটহাউস জাদুঘর গড়ে উঠলে প্রাচীন নৌচলাচলের ঐতিহ্য থেকে আধুনিক নৌপথ নির্দেশক ব্যবস্থার বিবর্তনকে এক সূত্রে তুলে ধরা সম্ভব হবে।
ভারতের পূর্ব উপকূলেও এই উদ্যোগ সম্প্রসারিত হচ্ছে। বিশাখাপত্তনমের পুরনো লাইটহাউস এলাকায় একটি নতুন লাইটহাউস জাদুঘর তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এই প্রকল্পের জন্য ৩,১৫৬ বর্গমিটার জমি নির্ধারণ করা হয়েছে।
লাইটহাউস যখন উৎসবের কেন্দ্র
লাইটহাউসগুলির এই পরিবর্তনের ফলে, এমন একটি উদ্যোগের জন্ম হয়েছে, যা সাধারণ উন্নয়ন প্রকল্পের চেয়ে আলাদা। লাইটহাউসকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে উৎসবের আয়োজন।
২০২৩ সালে গোয়ার ফোর্ট আগুয়াডায় প্রথম ভারতীয় লাইটহাউস উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় উৎসবের আয়োজন করা হয় ২০২৪ সালে ওড়িশার পুরীতে। ২০২৬ সালে বিশাখাপত্তনমে অনুষ্ঠিত হয় তৃতীয় সংস্করণ।
এই উৎসবগুলির মাধ্যমে লাইটহাউসকে বৃহত্তর সাংস্কৃতিক পরিসরে তুলে ধরা হয়েছে। প্রথম ভারতীয় লাইটহাউস উৎসবে সামুদ্রিক ঐতিহ্যকে প্রাণবন্ত করে তুলতে সাংস্কৃতিক প্রদর্শনী, সামুদ্রিক ইতিহাস নিয়ে আলোচনা, শাস্ত্রীয় সংগীত ও নৃত্য, জনপ্রিয় শিল্পীদের সংগীতানুষ্ঠান এবং উপকূলীয় অঞ্চলের খাবারের আয়োজন করা হয়।
দ্বিতীয় উৎসবে স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। পুরীর অনুষ্ঠানে লাইটহাউসের ঐতিহ্যের সঙ্গে বালুশিল্প, নৌকা সাজানোর শিল্প, যোগাভ্যাস এবং লোকনৃত্য ও লোকসংগীতকে যুক্ত করা হয়। পাশাপাশি, পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা ওডিশার পাঁচটি লাইটহাউস, গোপালপুর, পুরী, চন্দ্রভাগা, পারাদ্বীপ ও ফলস পয়েন্টের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। লাইটহাউসগুলির সংরক্ষণ, সুরক্ষা ও প্রচারে উপকূলবর্তী এলাকার মানুষকে যুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানায় সরকার।
২০২৬ সালে বিশাখাপত্তনমে অনুষ্ঠিত ভারতীয় লাইটহাউস উৎসব ৩.০-তে লাইটহাউসকে কেন্দ্র করে উপকূলীয় পরিচয় ও সংস্কৃতির আরও বিস্তৃত উদযাপন দেখা যায়। স্থানীয় হস্তশিল্প, উপকূলীয় খাবার এবং রাতের আলোকসজ্জা অনুষ্ঠানে নতুন মাত্রা যোগ করে। পরিবার, যুবসমাজ, শিল্পী, উদ্যোগপতি, পড়ুয়া ও দর্শনার্থীদের অংশগ্রহণে উৎসব প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। তাঁদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানটিকে আরও প্রাণবন্ত, সকলের অংশগ্রহণের উপযোগী এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত করে তোলে।
গোয়ার আগুয়াডায় এই নতুন উদ্যোগ আধুনিক রূপ পেয়েছে। ঐতিহাসিক লাইটহাউসে আলো ও শব্দের প্রদর্শনীর জন্য প্রজেকশন ম্যাপিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে পুরনো স্থাপনাটিকেই নতুন গল্প বলার মাধ্যম হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।
লাইটহাউসের নতুন দিশা
এই উদ্যোগ এখন আর শুধু ভারতের উপকূলবর্তী লাইটহাউসগুলির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। নতুন নতুন এলাকায়ও তা ছড়িয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে, পুরনো লাইটহাউসগুলিকে জনজীবনের আরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা ৭৫টি লাইটহাউসের পাশাপাশি, আরও ২৫টি লাইটহাউসকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে উন্নত করার প্রস্তাব রয়েছে। ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে পাণ্ডু, বোগীবিল, শিলঘাট ও বিশ্বনাথ ঘাটে চারটি লাইটহাউস তৈরি করা হচ্ছে। দেশের অভ্যন্তরীণ জলপথে এই প্রথম লাইটহাউস পরিকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। প্রকল্পটির মোট বরাদ্দ প্রায় ৮৪ কোটি টাকা।
প্রতিটি লাইটহাউস হবে ২০ মিটার উঁচু। সৌরশক্তি এবং আবহাওয়া পর্যবেক্ষণের সেন্সর ব্যবহার করে নৌপথ নির্দেশক ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করা হবে।
তবে এই লাইটহাউসগুলি শুধু জাহাজকে পথ দেখানোর জন্য তৈরি হচ্ছে না। প্রতিটি স্থানে থাকবে জাদুঘর, মুক্তমঞ্চ, ক্যাফেটেরিয়া, শিশুদের খেলার জায়গা, স্মারক সামগ্রীর দোকান এবং সাজানো জনপরিসর।
ভাবনাটি সহজ, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ। লাইটহাউস শুধু দূর থেকে জাহাজের পথ চিহ্নিত করার স্থাপনা হয়ে থাকবে না। এটি এমন একটি স্থানে পরিণত হতে পারে, যেটি মানুষকে জল, সামুদ্রিক ইতিহাস এবং নতুন সম্ভাবনার আরও কাছে নিয়ে আসবে।
প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে উপকূলে দাঁড়িয়ে থাকা লাইটহাউস থেকে ব্রহ্মপুত্রের তীরে গড়ে ওঠা নতুন লাইটহাউস পর্যন্ত, ভারতের লাইটহাউসের কাহিনী এখন নতুন পথে এগোচ্ছে। লাইটহাউসের আলো তার চিরাচরিত কাজ করে চলেছে। একই সঙ্গে, লাইটহাউস নিজেই হয়ে উঠছে একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য।
****
তথ্যসূত্র
Ministry of Ports, Shipping and Waterways
https://dgll.nic.in/DGLL-light-house-location/about-chennai/mahabalipuram-lighthouse
https://dgll.nic.in/about-DGLL/Service-reminders/nais
https://www.dgll.nic.in/DGLL-light-house-location/about-vts-gandhi-dham/samiyani-island-lighthouse-station
https://nmhc.in/about-us/
https://www.dgll.nic.in/DGLL-light-house-location/about-vts-gandhi-dham/jodiya-lighthouse
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2066548®=48&lang=2
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2297603®=48&lang=2
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2213361&lang=1®=3
https://x.com/shipmin_india/status/2009198735956566313
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2063453&lang=2
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2200943&lang=1
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2235574®=3&lang=1
Ministry of Culture
https://culture.gov.in/photo-gallery/mamallapuram-lighthouse
Please See PDF
SSS/AS......
(রিলিজ আইডি: 2322007)
ভিজিটরের কাউন্টার : 3