প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর
ইন্ডিয়া মোবাইল কংগ্রেসের দশম সংস্করণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের বঙ্গানুবাদ
প্রকাশিত:
08 OCT 2026 1:05PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬
কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় আমার সহকর্মী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া জি, কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রশেখর পেম্মাসানি জি, বিভিন্ন রাজ্য সরকারের মাননীয় মন্ত্রিগণ, জিএসএমএ বোর্ডের সকল সদস্য, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা টেলিকম অপারেটরদের প্রতিনিধিগণ, শিল্পজগতের নেতৃবৃন্দ, বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞগণ, দেশের বিভিন্ন কলেজ ও স্টার্ট-আপ থেকে আসা আমার তরুণ বন্ধুরা, ভদ্রমহোদয়া ও ভদ্রমহোদয়গণ—
বর্তমানে ৮ অক্টোবর। ভারতের জন্য এটি একটি বিশেষ দিন। বর্তমানে আমরা বায়ুসেনা দিবস পালন করছি। দেশের সকল বীর বায়ুসেনা সদস্যকে আমি সশ্রদ্ধ প্রণাম জানাই। বায়ুসেনা দিবসে দেশবাসীকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা।
সিন্ধিয়া জি কিছুক্ষণ আগে যেমন বলছিলেন, গতকালই দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের সেবা করতে করতে আমার ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে। আমার কাছে এই ২৫ বছরের যাত্রা ছিল দেশের সেবার এক স্বাভাবিক ও অবিচ্ছিন্ন পথচলা।এই উপলক্ষে যাঁরা আমাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেকের প্রতি আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। দেশের প্রতিটি নাগরিক এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসকারী ভারতের প্রতিটি বন্ধুকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ।
এটিও এক সুন্দর কাকতালীয় ঘটনা যে, একই সময়ে ‘ইন্ডিয়া মোবাইল কংগ্রেস’-এরও ১০ বছর পূর্ণ হয়েছে। এ বছর জিএসএমএ বোর্ডের বৈঠকের জন্য ভারতকে বেছে নেওয়া হয়েছে।বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা টেলিকম অপারেটরদের প্রতিনিধিগণ, শিল্পজগতের নেতৃবৃন্দ, বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাজগতের প্রতিনিধি এবং স্টার্ট-আপের সঙ্গে যুক্ত আপনাদের সকলকে ভারতে স্বাগত জানাই। আপনাদের সবাইকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন।
বন্ধুগণ,
আমরা বর্তমানে সকালেই একটি দুঃসংবাদ পেয়েছি। বিশিষ্ট অভিনেতা নানা পাটেকর আর আমাদের মধ্যে নেই। তিনি ছিলেন একজন অসাধারণ শিল্পী। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি অগণিত মানুষের হৃদয় জয় করেছিলেন।নানা পাটেকর-এর জীবন ছিল তিরঙ্গার মর্যাদা ও গৌরবের প্রতি নিবেদিত। তিনি কখনও কোনও সীমাবদ্ধতার মধ্যে নিজেকে আবদ্ধ রাখেননি। চলচ্চিত্রের জগতে তিনি পাখির মতোই মুক্ত ও স্বাধীনভাবে বিচরণ করেছেন।তাঁর চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি সমাজের বিভিন্ন অব্যবস্থা ও অসংগতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন। তিনি ছিলেন একজন যোদ্ধা। সমাজের নানা অনাচারের বিরুদ্ধে তিনি নিরন্তর কাজ করে গিয়েছেন।তাঁর কণ্ঠস্বর যেমন ছিল তীক্ষ্ণ, তেমনই তাঁর নীরবতাও ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দেশবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে সর্বদা কঠোর ও ধারাবাহিক ব্যবস্থা গ্রহণের পক্ষে তিনি ছিলেন। আমি নানা পাটেকর-এর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। তাঁর পরিবার এবং অগণিত গুণমুগ্ধের প্রতি জানাই আন্তরিক সমবেদনা।
বন্ধুগণ,
‘ইন্ডিয়া মোবাইল কংগ্রেস’-এর একাধিক অধিবেশনে আপনাদের সঙ্গে থাকার সুযোগ আমার হয়েছে। টেলিকম ক্ষেত্র এবং ডিজিটাল সংযোগের ক্ষেত্রে যে অভূতপূর্ব পরিবর্তন ঘটেছে, এই মঞ্চ তার প্রত্যক্ষ সাক্ষী।২০২২ সালে এই মঞ্চ থেকেই আমরা দেশে ৫জি পরিষেবার সূচনা করেছিলাম। ২০২৩ সালে আমি বলেছিলাম, ভারত কীভাবে ৫জি রোল-আউট থেকে ৫জি রিচ-আউটের দিকে এগিয়ে চলেছে।বর্তমানে আমরা দেখতে পাচ্ছি, দেশের প্রতিটি জেলায় ৫জি সংযোগ পৌঁছে গেছে। বর্তমানে ভারতে সাড়ে পাঁচ লক্ষেরও বেশি বেস স্টেশন রয়েছে, যেখান থেকে ৫জি নেটওয়ার্ক পরিচালিত হচ্ছে।২০২২ সালের তুলনায় মোবাইল ইন্টারনেটের গতি বেড়েছে প্রায় ১০ গুণ।‘ইন্ডিয়া মোবাইল কংগ্রেস’-এর এই মঞ্চেই ২০২৪ সালে আমরা আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন বা আইটিইউ-এর উপস্থিতি প্রত্যক্ষ করেছি। সেই সময় আমরা ডিজিটাল বিশ্বের জন্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেছিলাম।গত বছর আমাদের আলোচনার বিষয় ছিল—‘ইনভেস্ট, ইনোভেট অ্যান্ড মেক ইন ইন্ডিয়া’।বর্তমানে টেলিকম ক্ষেত্রে ভারত যে অবস্থানে পৌঁছেছে, সেখানে ‘ইন্ডিয়া মোবাইল কংগ্রেস’-এরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। গত কয়েক বছরে এই মঞ্চ ভারতের অগ্রগতি এবং ভারতের স্বপ্নকে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে উঠেছে।এই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য আপনাদের সকলকে আমি বিশেষভাবে অভিনন্দন জানাই।
বন্ধুগণ,
এ বছর এই সম্মেলনের আলোচনার বিষয় হিসেবে আপনারা বেছে নিয়েছেন—‘স্কেল উইদাউট বাউন্ডারিজ’। অর্থাৎ, সমস্ত সীমা অতিক্রম করে আরও বৃহত্তর পরিসরে এগিয়ে যাওয়া।ভারতের অভিজ্ঞতা থেকে আমি আপনাদের বলতে চাই, কীভাবে আমরা ‘স্কেল উইদাউট বাউন্ডারিজ’-এর এই ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেছি।
বন্ধুগণ,
টেলিকমের কথা উঠলেই আমরা সাধারণত নেটওয়ার্কের কথা বলি। স্পেকট্রাম নিয়ে আলোচনা করি। টাওয়ার, পরিষেবার পরিধি এবং গতির কথা বলি।কিন্তু ভারতের মানুষের কাছে টেলিকমের অর্থ এর চেয়েও অনেক বেশি।গত ১০-১২ বছরে মোবাইল ফোন শুধু যোগাযোগের একটি আধুনিক মাধ্যম হিসেবেই গড়ে ওঠেনি। এটি সুশাসনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।আর এটি আমাদের ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’-র ভাবনার অন্যতম প্রধান ভিত্তি।
বন্ধুগণ,
বর্তমানে আমরা শুনি, ভারতে ডেটার দাম কম। মোবাইল ফোনের দাম কম। মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যাও বিপুলভাবে বেড়েছে।এগুলি সবই সত্যি।কিন্তু এই পরিবর্তন কীভাবে সম্ভব হল? আর কেনই বা এই পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়েছিল?এই বিষয়গুলি বুঝতে পারলে ভারতের লক্ষ্য এবং অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রগুলি আমাদের সকলের কাছে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
বন্ধুগণ,
এক দশক আগেও ভারতে ডিজিটাল বিভাজন ছিল একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধা ধীরে ধীরে কেবল সমাজের একটি সুবিধাপ্রাপ্ত অংশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছিল।অর্থাৎ, যাঁদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ছিল, মূলত তাঁরাই আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধা নিতে পারতেন। ভারতেও ধীরে ধীরে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছিল।‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’ অভিযানের মাধ্যমে আমরা এই পরিস্থিতি পরিবর্তনের সংকল্প নিয়েছিলাম। আর এই উদ্যোগের কেন্দ্রে আমরা মোবাইল ফোনকে নিয়ে এসেছিলাম।এটি ছিল প্রযুক্তিকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি বড় উদ্যোগ। সেই লক্ষ্যেই টেলিকম ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হয়েছে। পরিকাঠামোরও ব্যাপক সম্প্রসারণ করা হয়েছে।আমরা বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছি, মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য টেলিকম সরঞ্জাম যেন ভারতেই তৈরি হয়।
বন্ধুগণ,
এই সমস্ত উদ্যোগের ফলে ভারতের সাধারণ মানুষের কাছে মোবাইল ফোন এবং ডেটা আরও সহজলভ্য হয়েছে। এর ফলে মানুষের জীবনযাপনও অনেক সহজ হয়েছে।কোভিডের সময় আমরা এর গুরুত্ব আরও ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছি। তখন প্রায় সবকিছুই থমকে গিয়েছিল।কিন্তু ভারতে অফিসের কাজ চলেছে। ব্যাঙ্কিং পরিষেবা চালু থেকেছে। পড়াশোনাও চলেছে।এটি সম্ভব হয়েছে ভারতের শক্তিশালী ডিজিটাল ইকোসিস্টেমের কারণে।মোবাইল ও ইন্টারনেট সংযোগের ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পেমেন্ট এবং সরকারি পরিষেবা—প্রায় সবকিছুই নির্বিঘ্নে চালু রাখা সম্ভব হয়েছে।বর্তমানে দেশের দূর-দূরান্তের গ্রামের দরিদ্র পরিবারের শিশুরাও উন্নত মানের জ্ঞান ও শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে। ডিজিটাল শিক্ষা ধীরে ধীরে সবার নাগালের মধ্যে পৌঁছে যাচ্ছে।
বন্ধুগণ,
ডিজিটাল ইন্ডিয়ার প্রভাব আরও স্পষ্ট করে বোঝাতে আমি আপনাদের একটি পরিসংখ্যান দিতে চাই।অনলাইন শিক্ষার জন্য আমাদের ‘দীক্ষা’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। কোভিডের সময়, ২০২২ সালের জুলাই পর্যন্ত এই প্ল্যাটফর্মে ৫০০ কোটিরও বেশি লার্নিং সেশন এবং প্রায় ৬ হাজার কোটি লার্নিং মিনিট নথিভুক্ত হয়েছিল।এখন আমাদের লক্ষ্য হল, ডিজিটাল ও অনলাইন শিক্ষার বিভিন্ন মাধ্যমের সঙ্গে প্রায় ২৫ কোটি পড়ুয়াকে যুক্ত করা।
অর্থাৎবন্ধুগণ,
টেলিকম ক্ষেত্রে যে বিপ্লব এসেছে, তার সরাসরি সুফল পেয়েছেন ভারতের সাধারণ মানুষ।আপনারা জানেন, ভাষা এবং ভূগোল—দুই দিক থেকেই ভারত একটি অত্যন্ত বৈচিত্র্যময় দেশ। এই বৈচিত্র্যের কারণে মানুষের জীবনে নানা ধরনের অসুবিধাও তৈরি হয়।মোবাইল সংযোগ সেই বৈচিত্র্যকেও সুযোগ ও সুবিধার সঙ্গে যুক্ত করেছে।আগে অধিকাংশ ব্যাঙ্ক ছিল শহরকেন্দ্রিক। হাসপাতালও মূলত শহরেই ছিল। সরকারি দফতর ছিল ব্লক বা জেলা স্তরে।ফলে কোনও কাজ করতে হলে বা সরকারি পরিষেবা নিতে হলে মানুষকে সময় এবং অর্থ—দুই-ই ব্যয় করতে হত।ডিজিটাল গভার্ন্যান্স এই পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটিয়েছে।বর্তমানে সরকারের শত শত পরিষেবা মোবাইল ফোনেই পাওয়া যাচ্ছে। সরকারি সাহায্যও এখন সরাসরি সুবিধাভোগীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাচ্ছে।ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার বা সরাসরি সুবিধা হস্তান্তরের মাধ্যমে প্রায় ৫০ লক্ষ কোটি টাকা সরাসরি সুবিধাভোগীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।এর ফলে প্রায় ৫ লক্ষ কোটি টাকা—এই পরিমাণ কিন্তু সামান্য নয়—ভুল হাতে যাওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছে।এখন আপনারাই বলুন, যাঁদের এই বেআইনি উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে, তাঁরা কি মোদীকে ভালোবাসবেন?আমি ঠিক করেছি কি না? এটা করা উচিত ছিল কি না? এই সমস্ত অনিয়ম বন্ধ করা উচিত কি না?তাঁরা যতই চিৎকার করুন, যতই প্রতিবাদ করুন, আমি এই কাজ বন্ধ করব না। আমি সংকল্প নিয়েছি, এই কাজ করেই ছাড়ব।
বন্ধুগণ,
পুরনো ব্যবস্থা যদি চলতে থাকত, তাহলে সরকারের ৫ লক্ষ কোটি টাকা নানা ধরনের লিকেজের মাধ্যমে বেরিয়ে যেত। সেই অর্থ কিছু মানুষের পকেট ভর্তি করতো। মোদী সেই পথ বন্ধ করেছে। এখন সেই অর্থ সঠিক সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছচ্ছে। আর যে অর্থ অপচয় হওয়া থেকে বেঁচে যাচ্ছে, তা দেশের উন্নয়ন ও জনকল্যাণের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।
বন্ধুগণ,
‘প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি’-র আওতায় আমরা ইতিমধ্যেই ৪ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি কৃষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা করেছি।এই অর্থ প্রতি চার মাস অন্তর দেওয়া হয়। কৃষক তাঁর মোবাইল ফোনেই এই অর্থ জমা হওয়ার বার্তা পেয়ে যান।এই অর্থ দেশের সেই কোটি কোটি ছোট ও প্রান্তিক কৃষকের কাছে পৌঁছেছে, যাঁদের কাছে একসময় সরকারি প্রকল্পের সুবিধাই পৌঁছত না।
অর্থাৎ বন্ধুগণ,
মোবাইল ফোন এখন আর শুধু চ্যাট করার মাধ্যম নয়।এটি মানুষের যাতায়াত কমিয়েছে। অপেক্ষার সময় কমিয়েছে। খরচ কমিয়েছে। পরিষেবা গ্রহণ আরও সহজ করেছে।আর এটাই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় ‘সিটিজেন ডিভিডেন্ড’—সাধারণ মানুষের জীবনে প্রযুক্তির সরাসরি সুফল।
বন্ধুগণ,
গত এক দশকে ভারতের টেলিকম পরিকাঠামোর ধারাবাহিক সম্প্রসারণ হয়েছে। দুর্গম এলাকাতেও টাওয়ার বসানো হয়েছে। অপটিক্যাল ফাইবারের অভূতপূর্ব সম্প্রসারণ হয়েছে। ডেটার দামও কমেছে।এর ফলে অর্থনীতির নতুন নতুন ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।প্রযুক্তি, বিনোদন এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে যেমন নতুন গ্রাহক তৈরি হয়েছে, তেমনই তৈরি হয়েছে নতুন প্রজন্মের কনটেন্ট ক্রিয়েটর।গেমিং ক্ষেত্রের কথাই ধরুন।একটি হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে ভারতে ৫০ কোটিরও বেশি মানুষ কোনও না কোনওভাবে গেমিং পরিমন্ডলের সঙ্গে যুক্ত। তাঁদের মধ্যে বিপুল সংখ্যকই ভারতের তরুণ।টিয়ার-২ এবং টিয়ার-৩ শহরের তরুণরাও এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।তাঁরা শুধু গেম খেলছেন না। ই-স্পোর্টসেও প্রতিযোগিতা করছেন। গেমিং কনটেন্ট তৈরি করছেন। নতুন নতুন গেমিং ব্যবসাও গড়ে তুলছেন।অর্থাৎ, ভারতে মোবাইল ফোন এখন শুধু গেম খেলার মাধ্যম নয়। এটি একদিকে যেমন গেমিং কনসোল, অন্যদিকে তেমনই কনটেন্ট তৈরির স্টুডিও।
বন্ধুগণ,
ভারতের টেলিকম বিপ্লব কনটেন্টের জগতেও বড় পরিবর্তন এনেছে।উন্নত ও দ্রুতগতির সংযোগ এবং সস্তা ডেটার ফলে বহু ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম, সোশ্যাল মিডিয়া এবং আঞ্চলিক ওটিটি প্ল্যাটফর্ম এখন গ্রাম ও ছোট শহরগুলিতেও পৌঁছে গেছে।এর ফলে ভাষার কারণে যে সমস্যাগুলি বা সীমাবদ্ধতা ছিল, সেগুলিও অনেকটাই দূর হয়েছে।বর্তমানে ভারতে কনটেন্ট তৈরির সঙ্গে যুক্ত শিল্পেরই মূল্য হাজার হাজার কোটি টাকা। এর মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মানুষ আয় করছেন।অর্থাৎ, মোবাইল ফোন ভারতে কনটেন্ট তৈরির ক্ষেত্রেও সুযোগকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। কনটেন্ট ক্রিয়েশনের ক্ষেত্রেও এটি গণতন্ত্রীকরণ ঘটিয়েছে।
বন্ধুগণ,
বর্তমানে যখন টেলিকম এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির গুরুত্ব এতটাই বেড়েছে, তখন এর সঙ্গে যুক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেও আরও শক্তিশালী করা অত্যন্ত জরুরি।ফোনের নিরাপত্তা এবং নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা—দুটিই আমাদের অগ্রাধিকার।একজন সাধারণ নাগরিক প্রোটোকল বা আর্কিটেকচারের ভাষায় ভাবেন না। তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল বিশ্বাস।ফোনে কোনও কল এলে তিনি যেন জানতে পারেন, কে ফোন করছেন। কোনও বার্তা এলে তিনি যেন বুঝতে পারেন, সেটি আসল না ভুয়ো।কোনও পেমেন্ট করার সময় তাঁর বিশ্বাস থাকা প্রয়োজন যে তাঁর টাকা নিরাপদ। কোনও ফর্মে নিজের তথ্য দেওয়ার সময়ও তাঁর আস্থা থাকা প্রয়োজন যে তাঁর তথ্য সুরক্ষিত থাকবে।
বন্ধুগণ,
প্রযুক্তি তখনই বড় পরিসরে মানুষের কাছে পৌঁছতে পারে, যখন তা মানুষের আস্থা অর্জন করে।আপনারা সকলেই জানেন, সাইবার জালিয়াতি এবং সাইবার অপরাধ কোনও সীমান্ত মানে না। তারা ইতিমধ্যেই দেশের সীমানা পেরিয়ে গেছে।একটি দেশে বসে থাকা কোনও ব্যক্তি অন্য একটি দেশের সাহায্য নিয়ে তৃতীয় কোনও দেশে অপরাধ ঘটাতে পারে।ডিপফেক যে কত বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে, তাও আমরা দেখতে পাচ্ছি।তাই এর মোকাবিলায় আমাদের একটি আন্তর্জাতিক কাঠামো তৈরি করতে হবে। সরকার, প্রযুক্তি সংস্থা, টেলিকম অপারেটর এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান—সকলকেই এই কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হতে হবে।আমি জিএসএমএ এবং বিশ্বের সমস্ত টেলিকম অপারেটরদের কাছেও আহ্বান জানাই—আসুন, আমরা এমন একটি আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলি, যা মানুষের কাছে পৌঁছনোর আগেই এই ধরনের জালিয়াতি প্রতিরোধ করতে পারে।এই ক্ষেত্রে ভারত নিজের অভিজ্ঞতা থেকে অনেক কিছু শিখেছে। ভারত তার অভিজ্ঞতা বিশ্বের সঙ্গে ভাগ করে নিতে সবসময় প্রস্তুত।
বন্ধুগণ,
এই দশক শেষ হতে এখন আর মাত্র চার বছর বাকি। ‘ইন্ডিয়া মোবাইল কংগ্রেস’-এর এবারের অধিবেশনে আপনারা যে আলোচনা করবেন, তা আগামী দশকের রোডম্যাপকে আরও শক্তিশালী করবে।এই রোডম্যাপ শুধু ভারত নয়, গোটা বিশ্বের মোবাইল বাজারকেও নতুন দিশা দেখাবে।গত কয়েক বছরে ভারত ‘কনজিউমার’ থেকে ‘ক্রিয়েটর’ হয়ে ওঠার যাত্রা সম্পূর্ণ করেছে।এখন ভারত এমন এক লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে চলেছে, যেখানে পণ্য তৈরি হবে ভারতে। তার নকশাও হবে ভারতে। তার প্রযুক্তি এবং মেধাস্বত্বও হবে ভারতের।এই লক্ষ্য পূরণে প্রয়োজনীয় সব ধরনের উৎসাহমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনীয় সমস্ত সংস্কারও করা হচ্ছে।অর্থাৎ, টেলিকম ক্ষেত্রেও সংস্কারের গতি দ্রুত এগিয়ে চলেছে।কয়েক দশক পুরনো আইনগুলিকে আমরা আধুনিক করে তুলছি। ‘টেলিকমিউনিকেশনস অ্যাক্ট’-এর মাধ্যমে আমরা একটি আধুনিক নিয়ন্ত্রক কাঠামো তৈরি করেছি।এ.জি.আর. এবং ব্যাঙ্ক গ্যারান্টির মতো কাঠামোগত বোঝাগুলিকেও আমরা যৌক্তিক করে তুলছি। এই বোঝাগুলিকে সুযোগে পরিণত করার কাজও চলছে।‘গতিশক্তি সঞ্চার’ পোর্টালের মাধ্যমে ‘রাইট অব ওয়ে’ অনুমোদনের প্রক্রিয়াও ডিজিটাল করা হয়েছে। এর ফলে অনুমোদন দেওয়ার কাজ আরও দ্রুত হচ্ছে।
বন্ধুগণ,
ভারতে সেমিকন্ডাক্টর এবং সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন ব্যবস্থা দ্রুত এগিয়ে চলেছে। ইতিমধ্যেই পাঁচটি স্থানে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়েছে।‘ইন্ডিয়া সেমিকন্ডাক্টর মিশন’-এর পরবর্তী পর্যায়ে আমাদের লক্ষ্য গোটা সরবরাহ-শৃঙ্খলকে আরও শক্তিশালী করা।অর্থাৎ, টেলিকম ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি ক্ষেত্রেই ভারত বড় পদক্ষেপ করছে।
বন্ধুগণ,
গত কয়েক বছরে ‘ইন্ডিয়া মোবাইল কংগ্রেস’-এর মাধ্যমে আমরা অনেক কিছু অর্জন করেছি। তবে উন্নয়নের এই যাত্রা থেমে থাকার নয়। প্রতিনিয়ত আমাদের নতুন নতুন মাইলফলকএ অতিক্রম করতে হবে।আমাদের সামনে রয়েছে ‘বিকশিত ভারত’-এর এক বিরাট সংকল্প। এই লক্ষ্য পূরণে আমাদের প্রচেষ্টার পরিধি আরও বাড়াতে হবে। আমাদের কাজকে আরও বিস্তৃত করতে হবে।এখানে যে প্রযুক্তিগুলি প্রদর্শিত হয়েছে, সেগুলির নিজস্ব গুরুত্ব রয়েছে। কিন্তু ‘ইন্ডিয়া মোবাইল কংগ্রেস’ শুধু প্রযুক্তি প্রদর্শনের জন্যই স্মরণীয় হয়ে থাকুক—আমি তা চাই না।আমি চাই, এখানে গড়ে ওঠা অংশীদারিত্বের জন্যও ‘ইন্ডিয়া মোবাইল কংগ্রেস’ স্মরণীয় হয়ে থাকুক।যে গবেষণা প্রকল্পগুলি এখানে শুরু হয়েছে, তার জন্য এটি স্মরণীয় হয়ে থাকুক। যে পণ্যগুলি এখান থেকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছেছে, তার জন্যও এটি পরিচিত হোক।আর যে উদ্ভাবনগুলি ভারত থেকে বেরিয়ে মানবতার সেবায় নিয়োজিত হয়েছে, তার জন্যও ‘ইন্ডিয়া মোবাইল কংগ্রেস’ স্মরণীয় হয়ে থাকুক।আমাদের ‘ইন্ডিয়া মোবাইল কংগ্রেস’-কে এমন একটি মঞ্চে পরিণত করতে হবে, যেখানে প্রযুক্তি, গবেষণা, শিল্প, বিনিয়োগ এবং নতুন ভাবনা—সবকিছু একসঙ্গে মিলিত হবে।আমার বিশ্বাস, আপনারা সকলে এই লক্ষ্যেই নিরলসভাবে কাজ করে যাবেন।এই প্রত্যাশা নিয়ে আরও একবার আপনাদের সকলকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা।
অনেক অনেক ধন্যবাদ।
SC/PM/SB
(রিলিজ আইডি: 2320740)
ভিজিটরের কাউন্টার : 2