জাহাজচলাচলমন্ত্রক
বিশ্বস্ত ও নিয়ম-ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ভারতের যাত্রাপথ নির্ধারণের প্রেক্ষাপটে ‘সাগরমন্থন ২০২৬’-এর সূচনা
প্রকাশিত:
07 OCT 2026 9:06PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬
বন্দর, জাহাজ ও জলপথ মন্ত্রক এবং অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন - এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘সাগরমন্থন: দ্য গ্রেট ওশেনস ডায়ালগ’-এর তৃতীয় সংস্করণ শুরু হয়েছে। একটি অবাধ, উন্মুক্ত, নিরাপদ এবং নিয়ম-ভিত্তিক সামুদ্রিক ব্যবস্থার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বার্তার মধ্য দিয়ে এই আলোচনার সূচনা হয়। প্রধানমন্ত্রীর এই দৃষ্টিভঙ্গিকে ভিত্তি করে, কেন্দ্রীয় বন্দর, জাহাজ ও জলপথ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল বিশ্বাস, যৌথ সমৃদ্ধি ও অংশীদারিত্বের ওপর ভিত্তি করে একটি বিশ্বব্যাপী সামুদ্রিক ব্যবস্থার রূপরেখা তুলে ধরেন।
এই আলোচনার উদ্দেশ্যে দেওয়া বার্তায় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন যে, ভারতীয় ঐতিহ্যে সমুদ্র মন্থন নতুন সম্ভাবনার উন্মোচনের সঙ্গে যুক্ত। তিনি লোথাল থেকে চোল রাজবংশ এবং ছত্রপতি শিবাজী মহারাজের নৌ-বিষয়ক দূরদর্শী চিন্তাধারা পর্যন্ত ভারতের সামুদ্রিক ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরেন এবং অবাধ, উন্মুক্ত, নিরাপদ ও নিয়ম-ভিত্তিক সামুদ্রিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে ভারতের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, "মহাসাগর আমাদের বিচ্ছিন্ন করে না, বরং সংযুক্ত করে। বিশ্বের কোনো এক প্রান্তে ঘটা ঘটনার প্রভাব তার উপকূল ছাড়িয়ে অনেক দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে।" এর মাধ্যমেই তিনি বর্তমান সময়ে পারস্পরিক আলোচনা ও বিশ্বব্যাপী সহযোগিতার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
‘সাগরমন্থন’-এর প্রথম দিনে পাঁচটি মহাদেশের বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী, নৌ-বাহিনীর শীর্ষ আধিকারিক, বন্দর কর্তৃপক্ষ, জাহাজ নির্মাতা, অর্থলগ্নিকারী সংস্থা এবং বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা একত্রিত হন। অস্ট্রেলিয়া, বেলজিয়াম, ভুটান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ফ্রান্স, নরওয়ে, দক্ষিণ কোরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, নাইজেরিয়া, ইথিওপিয়া, ঘানা, মিশর, সেশেলস, ইকুয়েডর ও অন্যান্য দেশের প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞরা ওইসিডি, ইউএন ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক এবং আফ্রিকান ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মহাসাগরগুলির ভবিষ্যৎ নিয়ে এক যৌথ আলোচনায় অংশ নেন।
‘মেরিটাইম অমৃত কাল ২০৪৭: ভারতের সামুদ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি ও বিশ্বব্যাপী সামুদ্রিক সহযোগিতার নতুন যুগ’ শীর্ষক উচ্চ-পর্যায়ের আলোচনার মধ্য দিয়ে দিনের কাজ শেষ হয়। এ সময় মন্ত্রী সোনোয়াল ‘মেরিটাইম অমৃত কাল ভিশন ২০৪৭’, ‘পিএম গতি শক্তি’ এবং ‘সাগরমালা’ কর্মসূচির আওতায় ভারতের সামুদ্রিক ক্ষেত্রের রূপান্তরকে কেবল ভারতের জন্য নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান হিসেবে অভিহিত করেন। ওআরএফ - এর প্রেসিডেন্ট ড. সমীর সরণের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি সমুদ্র-বিষয়ক ক্ষেত্রে ভারতকে ‘বিশ্বগুরু’ হিসেবে তুলে ধরেন।
সর্বানন্দ সোনোয়াল বলেন, "সমুদ্রের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক সভ্যতার আদিকাল থেকে চলে আসছে। হাজার হাজার বছর ধরে ভারতীয় নাবিকরা সমুদ্রপথে পণ্য, ধারণা ও সংস্কৃতি আদান-প্রদান করেছেন অংশীদার হিসেবে—কখনও বিজয়ী বা দখলদার হিসেবে নয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দূরদর্শী নেতৃত্বে ভারত আবারও বিশ্বকে এমন এক সামুদ্রিক মডেল উপহার দিচ্ছে যা বিশ্বাস, সক্ষমতা ও পারস্পরিক সুবিধার ওপর প্রতিষ্ঠিত। ‘বিশ্বগুরু’ হিসেবে ভারতের মূল চেতনা এটাই: আমরা দৃষ্টান্ত স্থাপনের মাধ্যমে নেতৃত্ব দিই এবং অংশীদারদের সঙ্গে নিয়ে যৌথভাবে এগিয়ে যাই।"
সোনোয়াল আরও বলেন, "আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক ব্যবস্থা বর্তমানে ব্যাপক ওলটপালট, বিভাজন এবং প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই পরিবর্তনের জোয়ার থেকে ভারত বিশ্বের জন্য ‘অমৃত’ বা কল্যাণকর কিছু উপহার দিতে বদ্ধপরিকর—যেমন শক্তিশালী ও স্থিতিস্থাপক সরবরাহ ব্যবস্থা, পরিবেশবান্ধব শিপিং করিডোর, বিশ্বমানের জাহাজ নির্মাণ শিল্প-কাঠামো এবং দক্ষ নাবিক ও সামুদ্রিক কর্মী-বাহিনী, যাদের উপর যেকোনো দেশ আস্থা রাখতে পারে। ‘মেরিটাইম অমৃত কাল ভিশন ২০৪৭’ হলো ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার পথে আমাদের রূপরেখা এবং সব মহাসাগর জুড়ে থাকা অংশীদারদের জন্য একটি উন্মুক্ত আমন্ত্রণ।"
সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী পর্বে প্রেক্ষাপট-নির্ভর মন্ত্রী পর্যায়ের ভাষণে বন্দর, জাহাজ ও জলপথ বিষয়ক কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর, কীভাবে ভারতের বন্দর-কেন্দ্রিক উন্নয়ন এবং নতুন প্রজন্মের সামুদ্রিক আইন বৃহত্তর অঞ্চলের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে তা তুলে ধরেন। বন্দর, জাহাজ ও জলপথ মন্ত্রকের সচিব বিজয় কুমার উদ্বোধনী ভাষণ দেন এবং ওআরএফ-এর প্রেসিডেন্ট ড. সমীর সরণ স্বাগত বক্তব্য রাখেন।
শান্তনু ঠাকুর বলেন, "বর্তমানে বন্দরগুলি কেবল পণ্য পরিবহনের প্রবেশপথ নয়; এগুলি কৌশলগত সম্পদ যা বিভিন্ন দেশের মধ্যে প্রতিযোগিতা-সক্ষমতা, জ্বালানি নিরাপত্তা ও পারস্পরিক বিশ্বাস গড়ে তোলে। আমাদের প্রধান বন্দরগুলির সক্ষমতা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে এবং একটি আধুনিক আইনি কাঠামো কার্যকর করা হয়েছে। এর ফলে ভারত এখন কেবল নিজের উন্নয়নই নয়, বরং সমগ্র ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল ও তার বাইরের দেশগুলির বাণিজ্য পরিচালনায় সহায়তা করতেও প্রস্তুত।" ড. সমীর সরণের সঞ্চালনায় আয়োজিত উদ্বোধনী মন্ত্রী পর্যায়ের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনের শিরোনাম ছিল ‘Tides of Trust: Ports, Partnerships, and the Making of a New Maritime Century’ (বিশ্বাসের জোয়ার: বন্দর, অংশীদারিত্ব এবং এক নতুন সামুদ্রিক শতাব্দীর সূচনা)।- বন্দর ও নৌ-পরিবহন নেটওয়ার্কগুলিকে কীভাবে কৌশলগত সম্পদ হিসেবে নতুন করে বিবেচনা করা হচ্ছে, তা নিয়ে এই অধিবেশনে আলোচনা করা হয়। এই প্যানেলে অংশ নেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ‘এশিয়া সোসাইটি’-র গ্লোবাল প্রেসিডেন্ট ও সিইও কেভিন রাড; বেলজিয়ামের ফ্লিমিশ অঞ্চলের গতিশীলতা, বন্দর ও ক্রীড়াবিষয়ক মন্ত্রী অ্যানিক ডি রিডার, ভুটানের পরিকাঠামো ও পরিবহনমন্ত্রী চন্দ্র বাহাদুর গুরুং; ভারতের নৌ-বাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল কৃষ্ণ স্বামীনাথন এবং ডিপি ওয়ার্ল্ড-এর সিইও ও এমডি রিজওয়ান সুমার। এর আগে, ‘The Great Churning: Trade, Power and Opportunity’ শীর্ষক আলোচনায় সুমার ও ড. সরণ আলোচনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন; সেখানে সামুদ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থা কীভাবে অর্থনৈতিক ক্ষমতার সংজ্ঞা নতুন করে নির্ধারণ করছে, তা নিয়ে আলোকপাত করা হয়।
ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন গ্রিন শিপিং করিডোর: ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন গ্রিন শিপিং করিডোর উদ্যোগটি সবুজ জ্বালানি উৎপাদনে ভারতের সম্ভাবনা এবং ইউরোপের ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে একত্রিত করে। এটি গ্রিন অ্যামোনিয়া ও মিথানল বাণিজ্য এবং সামুদ্রিক খাতে কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের (ডিকার্বনাইজেশন) ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করছে। ২০২৫ সালে এই করিডোরের প্রাক-সম্ভাব্যতা যাচাই এবং ২০২৬ সালে একটি শিল্প জোট গঠনের পর, উদ্যোগটি এখন বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে চলেছে। আরএমআই - এর সঙ্গে যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত 'ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন গ্রিন শিপিং করিডোর: উদ্ভাবন, পদক্ষেপ ও সম্প্রসারণ' শীর্ষক অধিবেশনে এই জোটের আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়। এর লক্ষ্য হলো সম্ভাব্য অবস্থা যাচাই থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত একটি রূপরেখা তৈরি করা, বিনিয়োগ ও অংশীদারিত্ব জোরদার করা এবং বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক ও সম্প্রসারণযোগ্য একটি গ্রিন শিপিং করিডোর গড়ে তোলার জন্য সরকার ও শিল্পক্ষেত্রকে একত্রিত করা। এতে ইউরোপীয় কমিশনের টেকসই পরিবহন ও পর্যটন বিষয়ক কমিশনার অ্যাপোস্টোলোস জিৎজি-কোস্টাস এবং শান্তনু ঠাকুর বক্তব্য রাখেন; অনুষ্ঠানের প্রারম্ভিক ভাষণ দেন বিজয় কুমার।
ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারত ও কোরিয়া: 'ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারত ও কোরিয়া: সামুদ্রিক সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতা' শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকটি 'কোরিয়া ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিক পলিসি' - এর সহযোগিতায় আয়োজিত হয়েছিল। এতে ২০২৬ সালের এপ্রিলে অনুষ্ঠিত ভারত-দক্ষিণ কোরিয়া শীর্ষ সম্মেলনের পরবর্তী অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। বিশেষ করে জাহাজ নির্মাণ, শিপিং এবং সামুদ্রিক লজিস্টিকস বা পণ্য পরিবহন ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে ভারত-কোরিয়া অংশীদারিত্বের সামগ্রিক কাঠামো বাস্তবায়ন এবং 'বিশেষ কৌশলগত অংশীদারিত্ব'-এর সঙ্গে এর সামঞ্জস্য বিধানের বিষয়গুলির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। জাহাজ নির্মাণ পরিমণ্ডল, সামুদ্রিক লজিস্টিকস, বন্দর-কেন্দ্রিক উন্নয়ন এবং সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ শৃঙ্খলের সমন্বয়ের ক্ষেত্রে ভারত ও কোরিয়া কীভাবে সহযোগিতা এগিয়ে নিচ্ছে, তা এতে মূল্যায়ন করা হয়। একইসঙ্গে সরকারি অংশীজন এবং শিল্পক্ষেত্রের বিভিন্ন পক্ষের - যেমন শিপইয়ার্ড, শিপিং কোম্পানি, বন্দর পরিচালনাকারী সংস্থা এবং সামুদ্রিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মধ্যে সুসংগঠিত সহযোগিতার ওপর জোর দেওয়া হয়। সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন, ভূ-রাজনৈতিক বিভাজন এবং বাণিজ্য ও শিল্পের পরিবর্তনশীল ধারার প্রেক্ষাপটে গড়ে ওঠা ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সামুদ্রিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোর আলোকে এই বিষয়গুলি আলোচনা করা হয়। এছাড়া, ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারত-দক্ষিণ কোরিয়া সহযোগিতার ওপর ভিত্তি করে রচিত 'ওশেনস অফ অ্যালাইনমেন্ট: ইন্ডিয়া-সাউথ কোরিয়া কো-অপারেশন ইন দ্য ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় ' শীর্ষক সংকলনটিরও এই অধিবেশনে আনুষ্ঠানিক উন্মোচন করা হয়। করিডোর, পরিমাপ এবং আফ্রিকা: বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং আঞ্চলিক সংহতিকে নতুন রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক করিডোরগুলি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে উঠে আসছে। তবে এগুলির সাফল্য কেবল ফিজিক্যাল পরিকাঠামোর ওপর নির্ভর করে না। 'আগামী দিনের করিডোর পরিচালনা: আইএমইসি - এর জন্য শিক্ষা' শীর্ষক উদ্বোধনী অধিবেশনে আইএমইসি-কে একটি কৌশলগত রূপকল্প থেকে কার্যকর অর্থনৈতিক করিডোরে রূপান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় শাসনকাঠামো নিয়ে আলোচনা করা হয়। এতে খতিয়ে দেখা হয় কীভাবে ভারত, ইউরোপ এবং সহযোগী দেশগুলি বিনিয়োগ, আন্তঃকার্যক্ষমতা ও দীর্ঘমেয়াদী গতিশীলতা বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামো, অংশীদারিত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারে—এবং একই সঙ্গে পরিবর্তনশীল ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে আইএমইসি-কে মানিয়ে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারে।
দেশগুলি যখন টেকসই ব্লু ইকোনমি বা নীল অর্থনীতি গড়ে তোলার প্রচেষ্টা জোরদার করছে, তখন অগ্রগতি পরিমাপ, ঘাটতি শনাক্তকরণ এবং দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যের সঙ্গে নীতিমালার সামঞ্জস্য বিধানের সক্ষমতা ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ওইসিডি-র 'ব্লু ইকোনমি স্কোরবোর্ড' তথ্য-প্রমাণ-ভিত্তিক নীতি প্রণয়নে সহায়তা করার জন্য একটি সামগ্রিক কাঠামো প্রদান করে; এটি দেশগুলিকে অগ্রগতির মানদণ্ড নির্ধারণ, অগ্রাধিকার চিহ্নিতকরণ এবং বিভিন্ন খাতের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করতে সক্ষম করে তোলে। ওইসিডি-র সঙ্গে যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত 'টেকসই ব্লু ইকোনমিতে রূপান্তর পর্যবেক্ষণ' শীর্ষক অধিবেশনে নীতিনির্ধারক, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং বিশেষজ্ঞরা একত্রিত হন। তাঁরা আলোচনা করেন কীভাবে উন্নত পরিমাপ কাঠামো ব্লু ইকোনমির আরও কার্যকর কৌশল প্রণয়নে সহায়তা করতে পারে, বিনিয়োগ সিদ্ধান্তকে দিকনির্দেশনা দিতে পারে এবং টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমুদ্র উন্নয়নের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে পারে।
ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, গুরুত্বপূর্ণ নৌ-চলাচল পথের ঝুঁকি এবং পরিবর্তনশীল সরবরাহ শৃঙ্খল যখন পণ্য ও সম্পদের চলাচলকে নতুন রূপ দিচ্ছে, তখন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্থিতিস্থাপকতার ক্ষেত্রে আফ্রিকার সামুদ্রিক করিডোরগুলি ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। লোবিটোর করিডোর - এর মতো উদ্যোগ এবং আঞ্চলিক সংযোগ ব্যবস্থায় ক্রমবর্ধমান বিনিয়োগ আফ্রিকার বাণিজ্য পথ বৈচিত্র্যময় করার, সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিস্থাপকতা জোরদার করার এবং ব্লু ইকোনমির সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর সক্ষমতাকে তুলে ধরে। 'আফ্রিকার ব্লু গেটওয়ে: করিডোর থেকে সংযোগের চালিকাশক্তি' শীর্ষক অধিবেশনে আলোচনা করা হয় কীভাবে আফ্রিকা তার সামুদ্রিক করিডোরগুলিকে কেবল ট্রানজিট বা চলাচলের পথ থেকে সংযোগ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্থিতিস্থাপকতার চালিকাশক্তিতে রূপান্তর করতে পারে।
'সাগরমন্থন ২০২৬'-এর বিভিন্ন অধিবেশনে একটি মূল বার্তা উঠে এসেছে: বাণিজ্য পথ, প্রযুক্তি এবং জোটগুলির যখন নতুন রূপায়ন ঘটছে, তখন ভারত আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি বিশ্বস্ত নির্মাতা, অংশীদার এবং পথপ্রদর্শক হিসেবে এগিয়ে আসছে। মন্ত্রী ও বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে আরও কয়েকটি অধিবেশনের মধ্য দিয়ে 'সাগরমন্থন ২০২৬'-এর কাজ অব্যাহত রয়েছে।
SC/PM/SB
(রিলিজ আইডি: 2320639)
ভিজিটরের কাউন্টার : 4