PIB Backgrounder
ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন
যোগ্যতা ও অন্তর্ভুক্তির এক শতাব্দী
প্রকাশিত:
30 SEP 2026 11:34AM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
এ বছর ১ অক্টোবর ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন ১০০ বছর পূর্ণ করবে। ১৯২৬ সালের ১ অক্টোবর ভারতের প্রথম পাবলিক সার্ভিস কমিশন গঠনের মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানের পথচলা শুরু হয়। এটি ছিল একটি পরামর্শদাতা সংস্থা। এর চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নিয়োগ করতেন লন্ডনে থাকা সেক্রেটারি অফ স্টেট। পরবর্তী এক শতাব্দীতে কমিশনের কাঠামো, মর্যাদা ও দায়িত্বে একাধিক পরিবর্তন এসেছে। আজ এটি একটি স্বাধীন সাংবিধানিক সংস্থা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত।
১৯২৬-এর আগে পথচলা
জনপ্রশাসনে নিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সুপারিশ বা আনুকূল্যের পরিবর্তে যোগ্যতাকে ভিত্তি করার নীতি ১৮৫৫ সালে আনুষ্ঠানিক রূপ পায়। ওই বছর লন্ডনে ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিস (ICS) পরীক্ষা চালু হয়। এর মাধ্যমে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মনোনয়নভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থার পরিবর্তে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার সুযোগ সৃষ্টি হয়। তবে, অধিকাংশ ভারতীয়ের কাছে এই পরীক্ষায় প্রবেশের সুযোগ প্রায় অসম্ভবই ছিল। পরীক্ষা শুধু লন্ডনে অনুষ্ঠিত হত এবং ইংরেজিতে নেওয়া হত। গ্রিক ও ল্যাটিনের মতো বিষয়ও পরীক্ষার অন্তর্ভুক্ত ছিল। বাংলার বা পাঞ্জাবের একটি জেলা পরিচালনার জন্য এই বিষয়গুলির প্রয়োজন ছিল না। ব্রিটিশ শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষিত প্রার্থীদের সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রেই এগুলির ভূমিকা ছিল।
১৮৬২ সালে ২১ বছর বয়সী সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দাদা, কলকাতা থেকে ইংল্যান্ডে পাড়ি দেন। যে পরীক্ষা নিজের দেশে দেওয়ার সুযোগ ছিল না, সেই পরীক্ষায় অংশ নিতেই তাঁকে বিদেশে যেতে হয়। ১৮৬৩ সালে তিনি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং ১৮৬৪ সালে কর্মক্ষেত্রে যোগ দেন। ব্রিটিশদের কথায় ‘heaven-born service’ হিসেবে পরিচিত এই পরিষেবায় তিনিই ছিলেন প্রথম ভারতীয়। বম্বে প্রেসিডেন্সিতে তিনি ৩০ বছরেরও বেশি সময় কাজ করেন।
তাঁর সাফল্যের ছয় বছর পর সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, বিহারী লাল গুপ্ত এবং রমেশচন্দ্র দত্ত এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তবে, পরীক্ষায় বসার সর্বোচ্চ বয়সসীমা ধীরে ধীরে ২৩ বছর থেকে কমিয়ে ১৯ বছর করা হয়। ফলে, ভারতীয় প্রার্থীদের প্রস্তুতির জন্য হাতে খুব কম সময় থাকত। ১৯১৯ সালের মধ্যে ১,২৫৫ জন ICS আধিকারিকের মধ্যে মাত্র ৭৮ জন ছিলেন ভারতীয়।
জাতীয়তাবাদী নেতাদের দীর্ঘদিনের দাবির কারণে ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসে। মন্টেগু - চেমস সংস্কারের পর প্রণীত Government of India Act, 1919-এ Public Service Commission গঠনের ব্যবস্থা করা হয়। ১৯২২ সালে প্রথমবার ভারতে ICS পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এলাহাবাদে এই পরীক্ষা লন্ডনের পাশাপাশি, নেওয়া হয়। ১৯২৮ সালে ভারতের পরীক্ষাকেন্দ্রটি দিল্লিতে স্থানান্তরিত হয়।
১৯২৪ সালে Arthur Hamilton Lee-র নেতৃত্বাধীন Lee Commission অবিলম্বে একটি আইনসম্মত পাবলিক সার্ভিস কমিশন গঠনের সুপারিশ করে। কমিশন আরও প্রস্তাব দেয়, প্রতি ১০ জন নতুন নিয়োগপ্রাপ্তের মধ্যে চারজন ব্রিটিশ, চারজন ভারতীয় এবং প্রাদেশিক পরিষেবা থেকে পদোন্নতির মাধ্যমে দুজন ভারতীয় থাকবেন। কাগজে-কলমে এটি সমতার দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথ মনে হলেও বাস্তবে প্রতিটি নিয়োগে ব্রিটিশদের জন্য জন্মগত পরিচয়ের ভিত্তিতে ৪০ শতাংশ সুযোগ নিশ্চিত থাকত। প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে নয়, জন্মের ভিত্তিতে এই সুযোগ নির্ধারিত হত।
১৯১৯ সালের আইনের 96B ও 96C ধারার অধীনে প্রণীত Public Service Commission (Functions) Rules, 1926-এর ভিত্তিতে কমিশন গঠিত হয়।
যুক্তরাজ্যের Home Civil Service-এর সদস্য Sir Ross Barker ছিলেন কমিশনের প্রথম চেয়ারম্যান। তাঁকে চারজন সদস্য সহায়তা করতেন। কমিশনের দফতর ছিল দিল্লির মেটক্যাফে হাউসে।
কমিশনের সীমিত ক্ষমতা নিয়ে স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতারা ধারাবাহিকভাবে সমালোচনা করেন। তবে, ভারতে একটি স্থায়ী নিয়োগকারী সংস্থা গড়ে ওঠে। সংস্থাটির দফতর ও কর্মীও ছিল ভারতে। এই কারণেই কমিশন তার ইতিহাসের সূচনা ১৯২৬ সাল থেকে বিবেচনা করে।
সাংবিধানিক দায়িত্ব
১৯৪৯-এর ২২ আগস্ট Drafting Committee-র চেয়ারম্যান ড. বি. আর. আম্বেদকর গণপরিষদে Union ও State Public Service Commissions সম্পর্কিত খসড়া অনুচ্ছেদগুলি পেশ করেন। পরে এগুলি সংবিধানের Part XIV (Articles 315-323)-এর অন্তর্ভুক্ত হয়।
১৯৪৯-এর ২৬ নভেম্বর বিদায়ী ভাষণে ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ সরকারি নিয়োগে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে Public Service Commissions-এর স্বাধীনতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি সরকারি চাকরিতে অনিয়ম, স্বজনপোষণ ও পক্ষপাতিত্ব রোধের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।
কমিশনের কাজ
পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ: Civil Services, Indian Forest Service, Engineering Services, Combined Medical Services, National Defence Academy & Naval Academy, Combined Defence Services এবং Central Armed Police Forces (Assistant Commandants)-সহ বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ করা হয়।
নির্বাচনের মাধ্যমে নিয়োগ: বিভিন্ন মন্ত্রক ও দফতরের চাহিদা অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ পদে সাক্ষাৎকার ও নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া হয়।
সরকারকে পরামর্শ: নিয়োগবিধি, Departmental Promotion Committee-র মাধ্যমে পদোন্নতি, All India Services-এ অন্তর্ভুক্তি এবং শৃঙ্খলাজনিত বিষয়ে সরকারকে পরামর্শ দেয় কমিশন। ২০২৩-২৪ সালে পদোন্নতির জন্য ২৪,৫৮১ জন আধিকারিকের নথির প্রক্রিয়াকরণ করা হয়। একই সময়ে ৫৩২ জন আধিকারিককে All India Services-এ অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
পুলিশ নেতৃত্বে ভূমিকা: ২২ সেপ্টেম্বর ২০০৬-এর Prakash Singh vs Union of India মামলায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর ২০১২-১৩ সাল থেকে রাজ্যগুলিতে Director General of Police/Head of Police Force পদে নিয়োগের জন্য প্রবীণ IPS আধিকারিকদের প্যানেলভুক্ত করে কমিশন।
কমিশনের কাজের পরিসর
বছরের পর বছর UPSC-র কাজের পরিমাণ ও জটিলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিভিন্ন পরীক্ষা ও নির্বাচনের মাধ্যমে নিয়োগের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর সংখ্যা ১৯৫০-৫১ সালে ৪২,৭২৭ থেকে বেড়ে ২০২২-২৩ সালে সর্বোচ্চ ৪৫,১০,০৪৪-এ পৌঁছায়। অর্থাৎ ১০০ গুণেরও বেশি বৃদ্ধি হয়েছে।
২০২২-২৩ সালে কমিশন ১৫টি পরীক্ষা পরিচালনা করে। এই পরীক্ষাগুলিতে আবেদন পড়ে ৩৩,৫১,৯১৬টি। একই সময়ে নির্বাচনের মাধ্যমে ৪,৪১১টি পদে নিয়োগের জন্য ২৩৩টি চাহিদাপত্র পাওয়া যায়। এই পদগুলির জন্য আবেদন পড়ে ১১,৫৮,১২৮টি।
সংখ্যায় অন্তর্ভুক্তি
মহিলা : ১৯৪৯ থেকে ১৯৫১ সালের মধ্যে Indian Foreign Service-এর জন্য মাত্র একজন মহিলা এবং IAS-এর জন্য দুজন মহিলা নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৫২ সালে সুপারিশ করা প্রার্থীদের মধ্যে মহিলাদের অংশ ছিল মাত্র ৩.৬ শতাংশ। ২০২৫ সালের Civil Services Examination-এ এই হার বেড়ে ৩১.২ শতাংশ হয়েছে। ওই বছর শীর্ষ ২৫টি র্যাঙ্কের মধ্যে ১১টি অর্জন করেন মহিলা প্রার্থীরা।
সাক্ষাৎকারে ভারতীয় ভাষার ব্যবহার : ১৯৭০-৭১ সালে কমিশন সরকারকে জানিয়েছিল, Personality Test শুধুমাত্র ইংরেজিতে নেওয়া সম্ভব। ১৯৮০-৮১ সালে এই অবস্থার পরিবর্তন হয়। বর্তমানে প্রার্থীরা ভারতীয় ভাষায় উত্তর দিতে পারেন। এর জন্য কমিশনের পক্ষ থেকে দোভাষীর ব্যবস্থা করা হয়। ২০১০-১১ সালে ৮০৩ জন এবং ২০২৩-২৪ সালে ৩০৭ জন প্রার্থী এই সুবিধা গ্রহণ করেন।
জানা-অজানা কিছু কথা
কমিশনের এক শতাব্দীর পথচলার কিছু উল্লেখযোগ্য ঘটনা।
যেখানে ‘Steel Frame’-এর কথা বলা হয়েছিল
১৮৩৫ সালে Sir Thomas Metcalfe নির্মিত Metcalfe House ইতিহাসের সঙ্গে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণে যুক্ত। ১৯৪৭ সালের ২১ এপ্রিল সেখানে সিভিল সার্ভিসের প্রথম ব্যাচের প্রশিক্ষণরত আধিকারিকদের উদ্দেশে ভাষণ দেন সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল। তিনি সিভিল সার্ভিসকে “ভারতের Steel Frame” হিসাবে উল্লেখ করেন। প্রতি বছর এই দিনটি এখন Civil Services Day হিসেবে পালিত হয়।
এক মহারাজার Transit House
Shahjahan Road-এর Dholpur House ১৯২০ সালে Dholpur-এর মহারাজা Rana Udaybhanu Singh তাঁর দিল্লি সফরের সময় থাকার জন্য তৈরি করেছিলেন। ভবনটি Art Deco শৈলীতে নির্মিত হয়েছিল।
১৯৪৯-এর ৭ এপ্রিল Dholpur State ভারতীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর ভবনটি সরকারি সম্পত্তিতে পরিণত হয়। তিন বছর পর, ১৯৫২ সালে, এটি কমিশনের স্থায়ী সদর দফতর হয়ে ওঠে।
আশি (৮০) জনের মধ্যে একজন
১৯৭২ সালে প্রথম মহিলা কিরণ বেদী Indian Police Service-এর জন্য কমিশনের মাধ্যমে নির্বাচিত হন। এর আগে এই পরিষেবায় কোনও মহিলা আধিকারিক ছিলেন না। ওই বছর মোট ৮০টি শূন্যপদের মধ্যে একমাত্র মহিলা প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন তিনি।
সংবাদপত্রে আবেদনপত্র
১৯৮৯ সালে ডাক পরিষেবার ধীরগতির কারণে প্রত্যন্ত এলাকার প্রার্থীদের কাছে আবেদনপত্র পৌঁছতে সমস্যা হচ্ছিল। সেই সমস্যা দূর করতে কমিশন সরাসরি সংবাদপত্রে আবেদনপত্র ছাপানোর ব্যবস্থা করে।
১৯৮৪ সালে ভারী তুষারপাতের কারণে কাংড়া বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে, সেখানকার প্রার্থীদের জন্য আবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা আরও দুই সপ্তাহ বাড়িয়ে দেয় কমিশন।
ডাকটিকিটে সূর্য
১৯৭৭-এর ৮ নভেম্বর Posts and Telegraphs Department কমিশনের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ২৫ পয়সার একটি ডাকটিকিট প্রকাশ করে। ডাকটিকিটে জাতীয় তেরঙ্গার সঙ্গে সূর্যের ছবি ছিল। সূর্য নিরপেক্ষতা ও সকলের জন্য সমান সুযোগের প্রতীক হিসাবে তুলে ধরা হয়।
কমিশনের Platinum Jubilee উপলক্ষে ২০০১-এর ১৪ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। এই উপলক্ষে Department of Posts একটি First Day Cover প্রকাশ করে।
জানেন কি?
UPSC Museum ২০১৬-র ১১ নভেম্বর সালে সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হয়। কর্মদিবসে সকাল ৯টা ৩০ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বিনামূল্যে এটি দেখা যায়। ৩৬০ ডিগ্রি ভার্চুয়াল ট্যুরের সুবিধাও রয়েছে।
Civil Services Examination-এর বয়সসীমা ২০১৪ সালে সাধারণ প্রার্থীদের জন্য ৩২ বছর, OBC-র জন্য ৩৫ বছর এবং SC ও ST-র জন্য ৩৭ বছর নির্ধারণ করা হয়। Persons with Disabilities-এর ক্ষেত্রে আরও ১০ বছর ছাড় এবং অতিরিক্ত দু’বার পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেওয়া হয়।
CSE 2011-এর প্রার্থীদের ২০১৫ সালের CSE-তে আরও একবার পরীক্ষায় বসার বিশেষ সুযোগ দেওয়া হয়।
১৯৬০-৬১ সালে সংবিধানের ৩২০ অনুচ্ছেদের অধীনে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার জন্যও নিয়োগে সম্মতি দেয় UPSC।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নিয়োগ বন্ধ হয়ে যায়। ১৯৩৯ সালে লন্ডনে শেষ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৪৩ সালের পর British Civil Service Commission-এর মাধ্যমে নিয়োগও বন্ধ হয়ে যায়।
খসড়া সংবিধানে Public Service Commissions-এর বিধানগুলি প্রথমে Articles 284 ও 285 হিসাবে নম্বর দেওয়া হয়েছিল।
আপনি কি জানেন ?
UPSC Museum ২০১৬-র ১১ নভেম্বর সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হয়। কর্মদিবসে সকাল ৯টা ৩০ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বিনামূল্যে এটি দেখা যায়। প্রসঙ্গত, ৩৬০ ডিগ্রি ভার্চুয়াল ট্যুরের সুবিধাও রয়েছে। Civil Services Examination-এর বয়সসীমা ২০১৪ সালে সাধারণ প্রার্থীদের জন্য ৩২ বছর, OBC-র জন্য ৩৫ বছর এবং SC ও ST-র জন্য ৩৭ বছর নির্ধারণ করা হয়।
Persons with Disabilities-এর ক্ষেত্রে আরও ১০ বছর ছাড় এবং অতিরিক্ত দু’বার পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেওয়া হয়।
CSE 2011-এর প্রার্থীদের ২০১৫ সালের CSE-তে আরও একবার পরীক্ষায় বসার বিশেষ সুযোগ দেওয়া হয়। ১৯৬০-৬১ সালে সংবিধানের ৩২০ অনুচ্ছেদের অধীনে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার জন্যও নিয়োগে সম্মতি দেয় UPSC। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নিয়োগ বন্ধ হয়ে যায়। ১৯৩৯ সালে লন্ডনে শেষ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৪৩ সালের পর British Civil Service Commission-এর মাধ্যমে নিয়োগও বন্ধ হয়ে যায়। খসড়া সংবিধানে Public Service Commissions-এর বিধানগুলি প্রথমে Articles 284 ও 285 হিসাবে নম্বর দেওয়া হয়েছিল।
কেস স্টাডি: কিভাবে কাজ করে এই ব্যবস্থা
মুম্বই-এ প্রতিদিন সকালে প্রায় ৫,০০০ ডাব্বাওয়ালা প্রায় ২ লক্ষ বাড়িতে তৈরি দুপুরের খাবার সংগ্রহ করেন। দুপুরের খাবারের সময়ের মধ্যে প্রতিটি খাবার সঠিক ব্যক্তির কাছে পৌঁছে যায়। ঢাকনায় থাকা রঙের সংকেতই তাঁদের এই কাজের মূল চাবিকাঠি।
প্রতি বছর UPSC-ও অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল একই ধরনের কাজ করে। সঠিক প্রশ্নপত্র সঠিক প্রার্থীর কাছে নির্দিষ্ট সময়ে পৌঁছতে হয়। এরপর প্রতিটি উত্তরপত্র শুধুমাত্র মেধার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করতে হয়। কিভাবে এই ব্যবস্থা কাজ করে, তা নিচের কেস স্টাডিগুলিতে তুলে ধরা হল।
কেস স্টাডি ১ : সঠিক প্রার্থীর কাছে সঠিক প্রশ্নপত্র
প্রার্থী শুধু পরীক্ষার শহর বেছে নেন। সেই শহরের মধ্যে পরীক্ষাকেন্দ্র ও কক্ষ নির্ধারণ করে ব্যবস্থা। ফলে, পরীক্ষার দিন প্রতিটি প্রার্থীর একটি নির্দিষ্ট ঠিকানা থাকে : শহর, কেন্দ্র, কক্ষ ও প্রার্থী। এই তথ্য আগে থেকে শুধু ব্যবস্থার মধ্যেই জানা থাকে।
একই কক্ষে থাকা প্রার্থীদের প্রশ্নপত্রও আলাদা হতে পারে। শুধু Civil Services Main Examination-এই ৪৮টি ঐচ্ছিক বিষয়ের মধ্যে থেকে প্রার্থীরা বেছে নিতে পারেন। তাই প্রতিটি সিল করা প্যাকেটে নির্দিষ্ট পরীক্ষাকেন্দ্রের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশ্নপত্র থাকে। সেগুলি কক্ষ অনুযায়ী সাজানো হয়।
কেস স্টাডি ২ : এমন প্রশ্নপত্র তৈরি, যা আগে কেউ দেখেননি
শিক্ষাবিদদের তৈরি Question Bank থেকে প্রশ্নপত্র তৈরি করা হয়। তাঁরা কঠোর গোপনীয়তার নিয়ম মেনে পরিচয় গোপন রেখে কাজ করেন।
কোনও একজন বিশেষজ্ঞ সম্পূর্ণ প্রশ্নপত্র তৈরি করেন না। কোন প্রশ্ন ব্যবহার করা হবে বা কখন তা ব্যবহার করা হবে, সেটিও কোনও বিশেষজ্ঞ জানেন না। প্রশ্নপত্র তৈরির সময় পুরো পাঠ্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করা, প্রশ্নের কঠিনতার ভারসাম্য রাখা এবং UPSC-র কোনও আগের পরীক্ষায় আসেনি এমন প্রশ্ন রাখা নিশ্চিত করা হয়।
পুরো ব্যবস্থার ভিত্তি হল ‘Need to Know’ নীতি। এমনকি চেয়ারম্যানও সম্পূর্ণ বিষয়টি একসঙ্গে জানেন না।
কেস স্টাডি ৩ : পরীক্ষাকেন্দ্রের নিরাপত্তা
National e-Governance Division-এর সহযোগিতায় UPSC পরীক্ষাকেন্দ্রে AI-ভিত্তিক মুখ শনাক্তকরণ ব্যবস্থা পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করে। ২০২৫-এর ১৪ সেপ্টেম্বর NDA & NA (II) এবং CDS (II) পরীক্ষায় Gurugram-এর কয়েকটি কেন্দ্রে এই ব্যবস্থা চালু করা হয়।
২০২৬-এর ২৪ মে Civil Services (Preliminary) Examination-এ এটি বড় পরিসরে ব্যবহার করা হয়। প্রায় ৫.৫০ লক্ষ প্রার্থীর মুখের ছবি তাঁদের আবেদনপত্রের ছবির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়। পরীক্ষাকেন্দ্রের পরিদর্শকদের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে এই যাচাই করা হয়। প্রতি প্রার্থীর ক্ষেত্রে সময় লাগে প্রায় ৬ থেকে ৮ সেকেন্ড।
Civil Services (Preliminary) Examination 2026-এর আগে ১৫ বছরের প্রার্থীদের তথ্য বিশ্লেষণ করে এমন ৫৬৯ জন আবেদনকারীকে শনাক্ত করা হয়, যাঁরা অতিরিক্তবার পরীক্ষায় বসার সুযোগ পাওয়ার জন্য ভুল তথ্য দিয়েছিলেন। তাঁদের আবেদন বাতিল করা হয়।
কেস স্টাডি ৪ : প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত নিয়োগ
দেশের প্রয়োজনের সময় UPSC একাধিকবার নিয়োগের পরিসর বাড়িয়েছে। তবে, নিয়োগের মানের সঙ্গে আপস করা হয়নি।
১৯৪৮ সালের জুলাই-এ Special Recruitment Board নথি ও সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে ২৭ থেকে ৪৫ বছর বয়সি অভিজ্ঞ কর্মীদের IAS ও IPS-এ নিয়োগ করে।
১৯৫৬-৫৭ সালে বিশেষ নিয়োগ অভিযানে ২২,০০০-এরও বেশি প্রার্থীর যোগ্যতা যাচাই করা হয়। ১৯৫৮ সালে Special Recruitment Board দেশব্যাপী Pool-এর জন্য ১৯৭ জন বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদকে নির্বাচিত করে। বিদেশের প্রার্থীরাও এতে অংশ নেন। ১৯৬২ সালের মধ্যে এই Pool-এর সদস্য সংখ্যা বেড়ে ৫০০ হয়।
১৯৬২ সালের জরুরি পরিস্থিতিতে Emergency Commission মাত্র দুই মাসে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত ১,৩৫৩টি পদে নিয়োগ সম্পন্ন করে।
COVID-19 অতিমারীর সময় ট্রেন পরিষেবা ব্যাহত হওয়ায় কমিশন সাক্ষাৎকারে ডাকা প্রার্থীদের এককালীন ব্যবস্থা হিসেবে বিমানভাড়ার টাকা ফেরত দেয়। ই-সমন লেটার থাকা প্রার্থীদের নিষেধাজ্ঞা থাকা এলাকায় যাতায়াতের অনুমতি দেওয়ার জন্য রাজ্যগুলিকে অনুরোধ করা হয়। থাকার ও যাতায়াতের ব্যবস্থাতেও সহায়তা করা হয়। প্রতিটি প্রার্থীকে মাস্ক, ফেস শিল্ড, স্যানিটাইজার ও গ্লাভস-সহ একটি সিল করা কিট দেওয়া হয়।
কেস স্টাডি ৫ : পরিকল্পনার মধ্যেই অন্তর্ভুক্তি
প্রথম গুরুত্ব দেওয়া হয় সুযোগ পাওয়ার বিষয়টিকে। ১৯৯৪ সালে দৃষ্টিহীন প্রার্থীদের জন্য Scribe-এর ব্যবস্থা চালু করে কমিশন।
বর্তমানে Persons with Benchmark Disabilities-এর ক্ষেত্রে Scribe ও অতিরিক্ত সময় পাওয়া অধিকার হিসাবে স্বীকৃত। তাঁরা পছন্দের পরীক্ষাকেন্দ্র বেছে নিতে পারেন, সঙ্গে Escort নিয়ে আসতে পারেন এবং সাক্ষাৎকারে Facilitator-এর সহায়তা পান। মহিলা প্রার্থীদের পরীক্ষার ফি মকুব করা হয়।
নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা পরিস্থিতির কারণে যাঁদের প্রস্তুতি ব্যাহত হয়েছে, তাঁদের জন্য বয়সের ছাড়ও দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গোয়া মুক্তি আন্দোলন (১৯৬১-৬২)-এর স্বাধীনতা সংগ্রামী, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং উগান্ডা-জাঞ্জিবার সংকটের (১৯৭১-৭২) কারণে, বাস্তুচ্যুত ভারতীয় এবং উপসাগরীয় যুদ্ধের (১৯৯১) কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ভারতীয়রা।
এরপর আসে নিরপেক্ষতার বিষয়টি। লিখিত পরীক্ষা থেকে সাক্ষাৎকার বোর্ড পর্যন্ত পুরো মূল্যায়ন ব্যবস্থায় প্রার্থীর পরিচয় গোপন রেখে মূল্যায়নের ব্যবস্থা রয়েছে।
সংরক্ষণ নীতি UPSC তৈরি করেনি। তবে, এই নীতি কার্যকর করার জন্য জাতীয় স্তরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে কমিশন। এর মধ্যে CSE 2019 থেকে Economically Weaker Sections (EWS) এবং ২০২০ সাল থেকে Online Recruitment Application ফর্মে পৃথক transgender বিভাগ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
কেস স্টাডি ৬ : মেধাতালিকার বাইরেও সুযোগ : Pratibha Setu
যাঁরা পরীক্ষার প্রতিটি ধাপ সফলভাবে পেরিয়েও অল্পের জন্য চূড়ান্ত মেধাতালিকায় স্থান পান না, তাঁদের সরকারি পরিষেবায় যোগদানের সুযোগ এখানেই শেষ হয় না।
Public Disclosure Scheme ২০১৮-র ২০ আগস্ট থেকে কার্যকর হয়। প্রথমবার Combined Medical Services Examination, 2017-এর ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়। এই প্রকল্পের আওতায় আগ্রহী প্রার্থীদের তথ্য নিয়োগকর্তাদের কাছে দেওয়া হয়।
২০২৫-এর ৯ জুন এই ব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজিয়ে Pratibha Setu নাম দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে এই প্রার্থীদের Ministries, PSUs, autonomous bodies এবং বেসরকারি সংস্থা-সহ যাচাই করা নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যুক্ত করা হয়।
আজকের কমিশন
কমিশনের বর্তমান চেয়ারম্যান ড. অজয় কুমার, যিনি ২০২৫-এর ১৫ মে থেকে এই দায়িত্বে রয়েছেন। কমিশনের আটজন সদস্য হলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাজ শুক্লা (অবসরপ্রাপ্ত), শ্রীমতী সুমন শর্মা, শ্রী বিদ্যুৎ বিহারী স্বাইন, ড. দীনেশ দাসা, শ্রী শীল বর্ধন সিং, শ্রী সঞ্জয় বর্মা, শ্রীমতী সুজাতা চতুর্বেদী এবং শ্রীমতী অনুরাধা প্রসাদ। আটজন সদস্যের মধ্যে তিনজন মহিলা। একশো বছরে প্রতিষ্ঠানটির পথচলায় অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে যে পরিবর্তন এসেছে, এই গঠন তারই প্রতিফলন।
“একটি প্রতিষ্ঠান ১০০ বছর ধরে টিকে থাকে পরিবর্তনের বিরোধিতা করার কারণে নয়। বরং সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন করেও কোন বিষয়গুলি কখনও বদলানো উচিত নয়, তা জানার কারণেই একটি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন টিকে থাকে।” - ড. অজয় কুমার, চেয়ারম্যান, UPSC
একশো বছর ধরে কমিশন দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছে। যোগ্যতার স্বীকৃতি দেওয়া, নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং সুযোগ যাতে সামাজিক সুবিধা, ভৌগোলিক অবস্থান, ভাষা বা পরিস্থিতির সীমাবদ্ধতায় আটকে না থাকে, তা নিশ্চিত করাই এই দায়িত্বের মূল কথা।
এক শতাব্দী আগে লড়াই ছিল ভারতীয়দের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। আজকের দায়িত্ব হল, দেশের সেবা করতে আগ্রহী প্রতিটি যোগ্য ভারতীয়ের কাছে সেই সুযোগ সত্যিই পৌঁছে দেওয়া।
তথ্যসূত্র
- Department of Personnel and Training (DoPT)
Please See PDF
****
SSS/AS.....
(রিলিজ আইডি: 2317126)
ভিজিটরের কাউন্টার : 7