PIB Backgrounder
azadi ka amrit mahotsav

ভাইব্র্যান্ট ভিলেজেস প্রোগ্রাম

অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের মাধ্যমে ভারতের সীমান্তবর্তী অঞ্চলকে শক্তিশালী করা

প্রকাশিত: 06 SEP 2026 11:00AM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

 

ভাইব্র্যান্ট ভিলেজেস প্রোগ্রাম বা VVP ভারতের সীমান্তবর্তী গ্রামগুলির ভূমিকার নতুন সংজ্ঞা দিয়েছে। এই গ্রামগুলি আর শুধু প্রত্যন্ত সীমান্ত চৌকি নয়। এখন তারা জাতীয় নিরাপত্তা ও উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।

VVP-I এবং VVP-II, এই দুই পর্যায়ে কর্মসূচিটি রূপায়িত হচ্ছে। দুই পর্যায় মিলিয়ে বরাদ্দ হয়েছে ১১,৬৩৯ কোটি টাকা। ভারতের আন্তর্জাতিক স্থলসীমান্ত সংলগ্ন গ্রামগুলিতে সড়ক যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, টেলিযোগাযোগ, স্বাস্থ্য পরিষেবা, শিক্ষা এবং জীবিকার সুযোগ বাড়ানো হচ্ছে। VVP-এর লক্ষ্য সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিকে প্রাণবন্ত, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ জনপদে গড়ে তোলা। এই কর্মসূচি মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করছে এবং দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করছে। সীমান্তে জনবসতি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ার ফলে দেশের সীমান্ত নিরাপত্তাও আরও শক্তিশালী হচ্ছে।

সীমান্তবর্তী গ্রাম কেন গুরুত্বপূর্ণ

ভারতের সাতটি প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে ১৫,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি আন্তর্জাতিক স্থলসীমান্ত রয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সীমান্ত সবচেয়ে দীর্ঘ, ৪,০৯৬.৭ কিলোমিটার। এরপর রয়েছে চিনের সঙ্গে ৩,৪৮৮ কিলোমিটার এবং পাকিস্তানের সঙ্গে ৩,৩২৩ কিলোমিটার সীমান্ত। বাকি সীমান্ত রয়েছে নেপাল, মায়ানমার, ভুটান ও আফগানিস্তানের সঙ্গে।
দীর্ঘদিন ধরে দুর্গম ভূপ্রকৃতি, দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থা, সীমিত পরিকাঠামো এবং জীবিকার অভাবের কারণে বহু সীমান্তবর্তী গ্রাম বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিল। এই সমস্যার জেরে অনেক মানুষ গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র চলে যান। ফলে সীমান্তের বহু এলাকা জনশূন্য হয়ে পড়ে। এই দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানে ২০২৩ সালে শুরু হয় ভাইব্র্যান্ট ভিলেজেস প্রোগ্রাম। ভারতের সীমান্তবর্তী নির্বাচিত গ্রামগুলির সামগ্রিক উন্নয়ন দ্রুততর করাই এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য।

সীমান্তবর্তী এলাকার অধিবাসীদের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর চোখ ও কান হিসাবে বিবেচনা করে এই কর্মসূচিতে নিরাপদ, সমৃদ্ধ ও প্রাণবন্ত সীমান্ত জনপদ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে দৃষ্টিভঙ্গিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিকে দেশের শেষ গ্রাম হিসাবে নয়, ভারতের প্রথম গ্রাম হিসেবে দেখা হচ্ছে। উত্তরাংশের সীমান্তের গ্রামগুলি দিয়ে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি ধাপে ধাপে ভারতের সমগ্র আন্তর্জাতিক স্থলসীমান্তে সম্প্রসারিত হয়েছে। শক্তিশালী সীমান্ত জনপদই নিরাপদ ও শক্তিশালী বিকশিত ভারত@২০৪৭ গড়ার অন্যতম ভিত্তি।

দুই পর্যায়, এক লক্ষ্য

ভারতের সমগ্র আন্তর্জাতিক স্থলসীমান্তের গ্রামগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করতে সরকার দুই পর্যায়ে ভাইব্র্যান্ট ভিলেজেস প্রোগ্রাম রূপায়ণ করছে।
VVP-I-এর আওতায় উত্তর সীমান্তবর্তী গ্রামগুলি রয়েছে। VVP-II-এর মাধ্যমে অন্যান্য আন্তর্জাতিক স্থলসীমান্ত সংলগ্ন গ্রামগুলিকেও একই ধরনের উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। দুই পর্যায় মিলিয়ে ২,৬১৬টিরও বেশি গ্রামকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। মোট বরাদ্দ ১১,৬৩৯ কোটি টাকা।

দুই পর্যায়ের রূপায়ণ পদ্ধতিতে কিছু পার্থক্য থাকলেও উদ্দেশ্য এক। VVP-I রাজ্যগুলির সহযোগিতায় কেন্দ্রীয় সহায়তাপ্রাপ্ত প্রকল্প হিসাবে রূপায়িত হচ্ছে। অন্যদিকে, VVP-II সম্পূর্ণ কেন্দ্রীয় অর্থায়নে পরিচালিত কেন্দ্রীয় ক্ষেত্রের প্রকল্প। দুই পর্যায়েই জীবনযাত্রার মান উন্নত করা, স্থানীয় জীবিকার সুযোগ তৈরি করা এবং সীমান্তবাসীদের ক্ষমতায়ন করা হচ্ছে। উন্নয়নের কেন্দ্র হিসেবে দেশের ‘প্রথম গ্রামগুলি’কে গড়ে তুলে সীমান্ত নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।

VVP-I : উত্তরাংশের সীমান্তবর্তী জনপদকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ

২০২২-২৩ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে উত্তর সীমান্তবর্তী গ্রামগুলির জন্য VVP-এর প্রথম পর্যায়ের ঘোষণা করা হয়। ২০২৩ সালের ১০ এপ্রিল অরুণাচল প্রদেশের আনজাও জেলার কিবিথুতে এই কর্মসূচির সূচনা হয়।
চারটি রাজ্য এবং একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের উত্তরাংশের সীমান্ত সংলগ্ন ৪৬টি ব্লকের গ্রামগুলিকে চিহ্নিত করা হয়। ১৯টি জেলার মধ্যে ৬৬২টি কৌশলগত গ্রামকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য বেছে নেওয়া হয়। এই গ্রামগুলির মোট জনসংখ্যা প্রায় ১.৪২ লক্ষ। এই অঞ্চলগুলির মধ্যে রয়েছে অরুণাচল প্রদেশ, হিমাচল প্রদেশ, সিকিম, উত্তরাখণ্ড এবং লাদাখ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল। ২০২২-২৩ থেকে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষ পর্যন্ত এই প্রকল্পের জন্য ৪,৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে সড়ক যোগাযোগের জন্য রাখা হয়েছে ২,৫০০ কোটি টাকা। প্রত্যন্ত সীমান্তবর্তী গ্রামগুলির উন্নয়নের ব্যবধান দূর করাই এই কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো উন্নত মানের পরিকাঠামো ও প্রয়োজনীয় পরিষেবা এই গ্রামগুলিতেও পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

VVP-I-এর প্রধান উদ্যোগ

এই কর্মসূচির আওতায় সব মরশুমে চলাচলের উপযোগী সড়ক, পানীয় জল, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য ও শিক্ষা পরিকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। জীবিকার সুযোগ ও জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে পর্যটন পরিকাঠামো এবং বহুমুখী কমিউনিটি সেন্টারও গড়ে তোলা হচ্ছে।

হাব ও স্পোক মডেলের মাধ্যমে জীবিকার সুযোগ বাড়ানো হচ্ছে। সামাজিক উদ্যোগ, যুব ও মহিলাদের ক্ষমতায়ন, পর্যটন ও স্থানীয় সংস্কৃতির প্রসার এবং এক ব্লক এক পণ্যভিত্তিক উদ্যোগকে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সমন্বয়ের মাধ্যমে VVP-I এমন একটি পরিষেবা প্রদানের কাঠামো তৈরি করেছে, যা দ্বিতীয় পর্যায়ে দেশের অন্যান্য স্থলসীমান্তেও সম্প্রসারিত হচ্ছে।

VVP-II : ভারতের সমস্ত স্থলসীমান্তে কর্মসূচির সম্প্রসারণ

২০২৫ সালের ২ এপ্রিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা VVP-II অনুমোদন করে।

প্রথম পর্যায়ের থেকে ভিন্নভাবে VVP-II সম্পূর্ণভাবে কেন্দ্রীয় অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এই কর্মসূচি রূপায়ণ করছে। এ বছর সালের ২০ ফেব্রুয়ারি অসমের কাছাড় জেলার নাথানপুর গ্রামে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। ২০২৮-২৯ অর্থবর্ষ পর্যন্ত এই প্রকল্পের জন্য ৬,৮৩৯ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য আন্তর্জাতিক স্থলসীমান্ত সংলগ্ন ৩৩৪টি ব্লকের ১,৯৫৪টি গ্রামকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই ব্লকগুলি ১৫টি রাজ্য এবং দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে অবস্থিত।

রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি হল অরুণাচল প্রদেশ, অসম, বিহার, গুজরাট, মণিপুর, মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, পাঞ্জাব, রাজস্থান, সিকিম, ত্রিপুরা, উত্তরাখণ্ড, উত্তরপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ। উত্তরাংশের সীমান্তের যে ব্লকগুলি ইতিমধ্যেই VVP-I-এর আওতায় রয়েছে, সেগুলিকে একই কাজের পুনরাবৃত্তি এড়াতে VVP-II থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

VVP-II-এর আওতায় উদ্যোগ

সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিকে শক্তিশালী করতে VVP-II-এর আওতায় ভারত সরকার একটি সামগ্রিক উন্নয়ন প্যাকেজ অনুমোদন করেছে। এই প্রকল্পে পরিকাঠামো উন্নয়ন, সমবায় ও স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে মূল্য শৃঙ্খল গড়ে তোলা, স্মার্ট ক্লাসরুম, পর্যটন সার্কিট এবং দীর্ঘস্থায়ী জীবিকার সুযোগ তৈরির ব্যবস্থা রয়েছে। এ ছাড়াও, সড়ক যোগাযোগ, স্বাস্থ্য পরিষেবা, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং টেলিকম পরিষেবার উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
জীবনযাত্রার মান উন্নত করা, জীবিকার সুযোগ তৈরি করা এবং মানুষকে সীমান্তবর্তী গ্রামেই বসবাসে উৎসাহিত করাই এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য।
একীভূত উন্নয়ন কাঠামোর মাধ্যমে ভাইব্র্যান্ট ভিলেজেস প্রোগ্রামকে ভারতের সমগ্র স্থলসীমান্তে সম্প্রসারিত করা হয়েছে।


বিভিন্ন প্রকল্পের সমন্বয়ে উন্নয়ন

ভিলেজ অ্যাকশন প্ল্যানের ভিত্তিতে VVP রূপায়িত হচ্ছে। স্থানীয় প্রয়োজন অনুযায়ী সীমান্তভিত্তিক, রাজ্যভিত্তিক এবং গ্রামভিত্তিক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সমন্বয়ের মাধ্যমে কর্মসূচিটি পরিচালিত হচ্ছে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সরকারি প্রকল্পগুলির সুবিধা প্রতিটি যোগ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রকের প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা বা PMGSY-IV-এর আওতায় সব মরশুমে চলাচলের উপযোগী সড়ক তৈরি করা হচ্ছে। সীমান্তবর্তী গ্রামগুলির বিশেষ সমস্যার কথা মাথায় রেখে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বাধীন উচ্চ পর্যায়ের কমিটি প্রয়োজনে প্রকল্পের নির্দেশিকায় শিথিলতার সুপারিশ করতে পারে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এই কর্মসূচির নোডাল মন্ত্রক। রাজ্য সরকার, জেলা প্রশাসন এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে পরিকল্পনা ও রূপায়ণের কাজ চলছে।

মাঠপর্যায়ে প্রভাব

শুরু হওয়ার পর থেকেই ভাইব্র্যান্ট ভিলেজেস প্রোগ্রাম-I উত্তর সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়নের ভিত্তি তৈরি করেছে। এবছর জুলাই পর্যন্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ৩,০২০.৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে ১,২৪৮টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে। বিভিন্ন কেন্দ্রীয় মন্ত্রক ও দপ্তর অন্যান্য সরকারি প্রকল্পের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে আরও ১,৬৫৫টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে। রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে ৯৫৩.৪৭ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২৮৩টি প্রকল্প সম্পূর্ণ হওয়ার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি।

যোগাযোগ ব্যবস্থা : সড়ক ও দীর্ঘ স্প্যানের সেতু

মোট ২,৪৮১.৯৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ১১১টি সড়ক প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। এই সড়কগুলি আগে যোগাযোগবিহীন ১৩৪টি গ্রামকে সংযুক্ত করবে। এই প্রকল্পগুলির আওতায় ৩৫টি দীর্ঘ স্প্যানের সেতুও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
উন্নত সড়ক যোগাযোগ মানুষের যাতায়াত সহজ করবে, স্থানীয় বাজারের প্রসার ঘটাবে এবং পর্যটনের সুযোগ বাড়াবে।

পর্যটন : আয়ের নতুন সুযোগ

পর্যটন কর্মসূচিটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। VVP-I-এর আওতায় ১৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩২৭টি পর্যটন প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভিউ পয়েন্ট, অ্যাডভেঞ্চার পর্যটন, পরিবেশবান্ধব পর্যটন, ইকো-রিসর্ট, ট্রেকিং রুট এবং পর্যটন কেন্দ্র।

জনসংযোগ ও পরিষেবা প্রদান

এ বছর ৩১ জুলাই পর্যন্ত ৮,৮০০টিরও বেশি কর্মসূচি আয়োজিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সচেতনতা অভিযান, সরকারি পরিষেবা শিবির, স্বাস্থ্য ও পশুচিকিৎসা শিবির এবং দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ। অরুণাচল প্রদেশে ২,৯৯০টি, লাদাখে ২,২২১টি, উত্তরাখণ্ডে ২,০৩৮টি, হিমাচল প্রদেশে ১,০৩৭টি এবং সিকিমে ৫৩০টি কর্মসূচি আয়োজিত হয়েছে।

VVP : পরিকাঠামোর বাইরেও প্রভাব

ভাইব্র্যান্ট ভিলেজেস প্রোগ্রামের প্রভাব শুধু পরিকাঠামো উন্নয়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সীমান্ত নিরাপত্তা, জীবিকা, প্রশাসনিক পরিষেবা এবং মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও এই কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

নিরাপত্তা

জনবহুল ও আত্মবিশ্বাসী সীমান্ত অঞ্চল সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কাজকে আরও শক্তিশালী করে। দুই পর্যায়েই সীমান্তবর্তী মানুষের শক্তিশালী উপস্থিতিকে দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সম্পদ হিসাবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

জনসংখ্যা ও গ্রামে ফিরে আসা

জীবিকার সুযোগ এবং উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা পরিবারগুলিকে সীমান্তবর্তী গ্রামে থেকে যাওয়ার উৎসাহ দিচ্ছে।
অরুণাচল প্রদেশের কুরুং কুমে, দিবাং ভ্যালি এবং শি-ইয়োমি জেলার সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতে মানুষ আবার ফিরে আসছেন। এটি কর্মসূচিটির ইতিবাচক প্রভাবের পরিচয় দিচ্ছে।

অর্থনীতি

সীমান্ত পর্যটন, সমবায়, স্বনির্ভর গোষ্ঠী এবং কৃষক উৎপাদক সংগঠনের মাধ্যমে এমন এলাকায় স্থানীয় আয়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে, যেখানে আগে অর্থনৈতিক সুযোগ সীমিত ছিল। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর স্থানীয়ভাবে পণ্য সংগ্রহ গ্রামবাসীদের জন্য নিশ্চিত বাজারও তৈরি করছে।

প্রশাসন

সমন্বিত উন্নয়ন পদ্ধতির মাধ্যমে এই গ্রামগুলির প্রতিটি যোগ্য পরিবারকে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ভিলেজ অ্যাকশন প্ল্যানের মাধ্যমে জেলা প্রশাসন বিভিন্ন দপ্তরের কাজ পরিকল্পিতভাবে পরিচালনা করতে পারছে।
এই চারটি ক্ষেত্র একটি বিষয়ই স্পষ্ট করে। সীমান্তে উন্নয়ন ও নিরাপত্তা পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়। বরং একটি অন্যটিকে শক্তিশালী করে।

সংযুক্ত ও আত্মনির্ভর সীমান্তের পথে

ভাইব্র্যান্ট ভিলেজেস প্রোগ্রাম ভারতের সীমান্তবর্তী মানুষের জাতীয় অগ্রগতিতে সমান অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করার অঙ্গীকার।

উন্নত পরিকাঠামো, দীর্ঘস্থায়ী জীবিকার সুযোগ এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সমন্বয় মানুষের জন্য নিজেদের এলাকাতেই নতুন সুযোগ তৈরি করছে। একই সঙ্গে সীমান্ত পর্যটন এবং স্থানীয় উদ্যোগ এই অঞ্চলের সম্ভাবনাকে সামনে আনছে। এই গ্রামগুলি যত বেশি প্রাণবন্ত, সমৃদ্ধ ও আত্মনির্ভর হয়ে উঠবে, ততই ভারতের সীমান্ত আরও শক্তিশালী হবে। সেই সঙ্গে নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বিকশিত ভারত ২০৪৭-এর লক্ষ্য পূরণের পথও আরও মজবুত হবে।


তথ্যসূত্র

Prime Minister’s Office

Cabinet

Ministry of Home Affairs

Ministry of Youth Affairs and Sports

Press Information Bureau (Research Unit)

Sansad TV

Click here to see pdf


****
SSS/AS.......


(রিলিজ আইডি: 2307537) ভিজিটরের কাউন্টার : 8
এই রিলিজটি পড়তে পারেন: English , Urdu , हिन्दी , Bengali-TR , Gujarati , Tamil , Malayalam