PIB Backgrounder
ভূ-তাপ-কেন্দ্রিক শক্তি
ভারতের পরিচ্ছন্ন শক্তির যাত্রায় নতুন অধ্যায়
প্রকাশিত:
04 SEP 2026 2:43PM by PIB Kolkata
৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
পৃথিবীর অভ্যন্তরের তীব্র তাপ পরিষ্কার শক্তির একটি শক্তিশালী উৎস, যাকে ভূ-তাপীয় শক্তি বলা হয়। ভারতের সমৃদ্ধ ভূ-তাপ সম্পদের কারণে, এই শক্তি দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুতের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হওয়ার বিপুল সম্ভাবনা রাখে। জাতীয় ভূ-তাপ-কেন্দ্রিক শক্তি নীতির লক্ষ্য হল এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো। ভারত ২০৭০ সালের মধ্যে নেট জিরো লক্ষ্যে এগিয়ে চলার সময়, এই নীতির মাধ্যমে ভূ-তাপ-বিশিষ্ট শক্তিকে দেশের পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ করে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। লাদাখে সম্প্রতি প্রথম দুটি ভূ-তাপীয় কূপ চালু হওয়া এই যাত্রার সূচনা করেছে।
সুস্থায়ী ভারতের জন্য ভূ-তাপ-বিলিষ্ট শক্তির ব্যবহার
পৃথিবীর পৃষ্ঠের অনেক গভীরে, তার অভ্যন্তরের তীব্র তাপ থেকে নির্গত হয়ে রয়েছে একটি নিরবচ্ছিন্ন ও কম-কার্বন শক্তির উৎস, যাকে ভূ-তাপ শক্তি বলা হয়। উপযুক্ত ভূতাত্ত্বিক ও ভূ-গঠনগত বৈশিষ্ট্য থাকা এলাকায় এই শক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায় অথবা সরাসরি ব্যবহার করা যায়। সৌর ও বায়ুশক্তির মতো নয়, এই শক্তি দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা পাওয়া যায় এবং এটি একটি পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির উৎস। এই সম্ভাবনাকে স্বীকৃতি দিয়ে সরকার ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জাতীয় ভূ-তাপ শক্তি নীতি ঘোষণা করে। এই নীতিতে ভারতের ভূ-তাপীয় সম্পদের অনুসন্ধান ও উন্নয়নের জন্য একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। এর বাস্তবায়নের জন্য নবায়নযোগ্য শক্তি মন্ত্রক (MNRE)-কে নোডাল মন্ত্রক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এই কাঠামোর ভিত্তিতে, ২০২৬ সালের জুলাই মাসে ভারত একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জন করে। ONGC এনার্জি সেন্টার লাদাখের পুগা উপত্যকায় দেশের প্রথম দুটি ভূ-তাপীয় কূপ চালু করে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৪,০০০ ফুটেরও বেশি উচ্চতায় অবস্থিত পুগা উপত্যকা ভারতের অন্যতম সম্ভাবনাময় ভূ-তাপীয় এলাকা। এই এলাকা উষ্ণ প্রস্রবণ এবং ভূগর্ভস্থ তাপের মজুতের জন্য পরিচিত। ১,০০০ মিটার গভীর দুটি কূপ ভূ-তাপীয় জলাধারের মূল্যায়নে সহায়তা করবে। একইসঙ্গে, এগুলি ভারতের প্রথম ১ মেগাওয়াট ক্ষমতার পরীক্ষামূলক ভূ-তাপীয় বিদ্যুৎ প্রকল্পের পথও প্রশস্ত করবে। এর মাধ্যমে ভারত ভূ-তাপীয় বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে প্রবেশ করছে।
ভারত যখন পরিষ্কার শক্তিতে রূপান্তরের পথে এগিয়ে চলেছে, তখন ভূ-তাপ শক্তি দেশের পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির উৎসগুলিকে বৈচিত্র্যময় করার জন্য একটি নির্ভরযোগ্য ও দেশীয় উপায় হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ভূ-তাপকেন্দ্রিক শক্তি সম্পর্কে ধারণা: একটি সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
ভূ-তাপবিশিষ্ট শক্তি একটি স্থিতিশীল, কম-কার্বন এবং আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল নয় এমন শক্তির উৎস। ভারতের পরিষ্কার শক্তির ভবিষ্যৎকে শক্তিশালী করা এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর জন্য এর বিপুল সম্ভাবনাময় সম্পদ এখনও পুরোপুরি ব্যবহার করা হয়নি।
ভূ-তাপীয় শক্তির সৃষ্টি
পৃথিবীর অভ্যন্তর চারটি প্রধান স্তর নিয়ে গঠিত। এগুলি হল সবচেয়ে বাইরের কঠিন ভূত্বক, মাঝের আধা-কঠিন ম্যান্টল এবং কেন্দ্রের অংশ, যা ঘন তরল বহিঃকেন্দ্র ও কঠিন অন্তঃকেন্দ্রে বিভক্ত। পৃথিবীর গভীরে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অভ্যন্তরের তাপমাত্রা বাড়তে থাকে। কেন্দ্রের সঙ্গে ম্যান্টলের সীমানায় ম্যান্টলের তাপমাত্রা প্রায় ৩৭০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়, আর কেন্দ্রের তাপমাত্রা ৫০০০-৬০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত হতে পারে। ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম ও পটাশিয়ামের মতো মৌলের তেজস্ক্রিয় ক্ষয় এবং পৃথিবী সৃষ্টির সময় থেকে অবশিষ্ট তাপ এই তাপের প্রধান উৎস। এই তাপ ম্যান্টলের মধ্যে বিশাল পরিচলন স্রোত সৃষ্টি করে। এর ফলে গরম পদার্থ কেন্দ্রের সীমানা থেকে ম্যান্টল ও ভূত্বকের অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা উপরের অংশের দিকে উঠে আসে। এই পদার্থের মধ্যে হাইড্রক্সাইড হিসাবে আটকে থাকা জলও থাকে। এই পরিচলন স্রোত ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরি এবং পর্বত সৃষ্টিসহ বিভিন্ন ভূ-গঠনগত কার্যকলাপের সৃষ্টি করে। ভূতাত্ত্বিকভাবে সক্রিয় অঞ্চলে ফাটল ও চ্যুতির মাধ্যমে গরম পদার্থ পৃথিবীর পৃষ্ঠের আরও কাছাকাছি চলে আসে। এর ফলে ভেদ্য শিলার মধ্যে গরম জল ও বাষ্পের ভাণ্ডার তৈরি হয়। পৃথিবীর অভ্যন্তর থেকে পাওয়া এই তাপশক্তিকে ভূ-তাপ শক্তি বলা হয়।
ভূ-তাপ শক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন
ভূ-তাপ বিদ্যুৎ উৎপাদনে মাটির নিচে আটকে থাকা গরম জল ও বাষ্প ব্যবহার করে পৃথিবীর প্রাকৃতিক তাপকে বিদ্যুতে রূপান্তর করা হয়। গভীর কূপের মাধ্যমে এই সম্পদগুলিকে মাটির উপরে নিয়ে আসা হয়। এরপর বাষ্প একটি জেনারেটরের সঙ্গে যুক্ত টারবাইনকে ঘোরায়। এই প্রক্রিয়াটি প্রচলিত তাপবিদ্যুৎ উৎপাদনের মতোই। তবে এখানে জ্বালানি পোড়ানোর পরিবর্তে ভূগর্ভে স্বাভাবিকভাবে থাকা তাপ ব্যবহার করা হয়। বিদ্যুৎ উৎপাদনের পর ব্যবহৃত জলকে ঠান্ডা করে আবার জলাধারে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এর ফলে সম্পদের পুনঃসংস্থান হয় এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে শক্তি উৎপাদন করা সম্ভব হয়। জেলা-ভিত্তিক তাপ সরবরাহ, কৃষি, জলজ চাষ এবং ভবন গরম ও ঠান্ডা রাখার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রেও ভূ-তাপীয় শক্তি সরাসরি তাপের উৎস হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এর ফলে ভূ-তাপীয় তাপের কার্যকর ব্যবহার সম্ভব হয়।
পৃথিবীর অভ্যন্তরে
কেন্দ্র থেকে বাইরের দিকে পৃথিবী চারটি পৃথক স্তরে গঠিত। অন্তঃকেন্দ্র লোহা ও নিকেল দিয়ে তৈরি একটি কঠিন গোলাকার অংশ, যার ব্যাস প্রায় ২,৪০০ কিলোমিটার। একে ঘিরে থাকা বহিঃকেন্দ্র গলিত লোহা ও নিকেল দিয়ে তৈরি একটি তরল স্তর, যার পুরুত্ব প্রায় ২,৪০০ কিলোমিটার। প্রধানত উত্তপ্ত ও ঘন শিলা দিয়ে গঠিত ম্যান্টল প্রায় ২,৯০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত এবং এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় স্তর। সবশেষে, ভূত্বক হল পৃথিবীর পাতলা ও কঠিন বাইরের স্তর। মহাসাগরের নিচে এর পুরুত্ব প্রায় ৫ থেকে ৮ কিলোমিটার এবং মহাদেশের নিচে প্রায় ২৪ থেকে ৫৬ কিলোমিটার।
ভারতের ভূ-তাপীয় সম্পদের ভিত্তি
ভারতের বৈচিত্র্যময় ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য ভূ-তাপ শক্তির উন্নয়নের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করেছে। ভারতীয় ভূতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণ (GSI) দেশের ৩৮১টি উষ্ণ প্রস্রবণ চিহ্নিত করেছে এবং ১০টি ভূ-তাপ অঞ্চল শনাক্ত করেছে। ভারতে ভূ-তাপীয় শক্তির তাত্ত্বিক সম্ভাবনা প্রায় ১০.৬ গিগাওয়াট। এর মধ্যে ৪২টি স্থানকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং সরাসরি তাপ ব্যবহারের জন্য সম্ভাবনাময় হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
মোট ১০টি ভূ-তাপ-বিশিষ্ট অঞ্চলের মধ্যে রয়েছে হিমালয়ের ভূ-তাপ অঞ্চল, নাগা-লুসাই, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, সোন-নর্মদা-তাপ্তি (SONATA), পশ্চিম উপকূল, ক্যাম্বে গ্র্যাবেন, আরাবল্লী, মহানদী, গোদাবরী এবং দক্ষিণ ভারতীয় ক্রাটনিক অঞ্চল।
অনুকূল ভূতাত্ত্বিক ও ভূ-গঠনগত বৈশিষ্ট্যের কারণে ভারতের ভূ-তাপের রিফ্ট অববাহিকাগুলিতে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। তবে যেখানে ভূ-তাপ সম্পদ রয়েছে, সেখানেই উপযুক্ত প্রকল্প গড়ে উঠতে পারে। এনহ্যান্সড জিওথার্মাল সিস্টেমস (EGS) এবং অ্যাডভান্সড জিওথার্মাল সিস্টেমস (AGS)-এর মতো উন্নত প্রযুক্তি ভবিষ্যতে ভূ-তাপীয় সম্পদের অনুসন্ধানের সুযোগ আরও বাড়াবে।
পরিত্যক্ত তেল ও গ্যাসের কূপের পুনর্ব্যবহার
পরিত্যক্ত তেল ও গ্যাসের কূপ থেকে ভূ-তাপীয় শক্তি আহরণ করা যেতে পারে। প্রযুক্তিগত ও পরিচালনাগতভাবে সম্ভব হলে নিষ্ক্রিয় বা উৎপাদনহীন কূপগুলিকে ভূ-তাপ প্রকল্পের জন্য পুনর্ব্যবহার করা যেতে পারে। এই পদ্ধতিতে তেল ও গ্যাস ক্ষেত্রের বিদ্যমান কূপ খননের দক্ষতা, কূপ সংক্রান্ত তথ্য এবং পরিকাঠামোকে কাজে লাগানো যায়।
ভারতে ভূ-তাপীয় শক্তির সম্প্রসারণ
ভারত দ্রুত গতিতে ভূ-তাপকেন্দ্রিক সম্পদের মূল্যায়ন থেকে বাস্তব ক্ষেত্রে পরীক্ষামূলক ব্যবহারের দিকে এগিয়ে চলেছে। এই অগ্রগতির প্রতিফলন দেখা যায় ২০২৫ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসের মধ্যে নবায়নযোগ্য শক্তি মন্ত্রকের পাঁচটি গবেষণা ও উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের মাধ্যমে। এই প্রকল্পগুলির মধ্যে রয়েছে সম্পদের মূল্যায়ন, দেশীয় প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং বাস্তব ক্ষেত্রে পরীক্ষামূলক ব্যবহার। প্রকল্পগুলিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং গরম ও ঠান্ডা রাখার বিভিন্ন ব্যবহারের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ভবিষ্যতে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত তথ্য ও বাস্তব অভিজ্ঞতা তৈরিতে এই উদ্যোগগুলি সহায়তা করছে।
|
প্রকল্প
|
সরকারের সহায়তায় পরিচালিত প্রকল্পগুলির বর্তমান অবস্থা (১২ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত)
|
|
আঙ্কলেশ্বর, গুজরাট
|
অকার্যকর তেল ও গ্যাসের কূপগুলিকে পুনর্ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা যাচাই করার জন্য একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প চলছে। মাঠপর্যায়ের সমীক্ষা এবং প্রাথমিক ভূতাত্ত্বিক ও উৎপাদন সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
|
|
গান্ধীনগর, গুজরাট
|
সৌর ও ভূ-তাপ শক্তির সমন্বয়ে একটি প্রদর্শনমূলক প্রকল্পের আওতায় তিনটি ভূ-তাপ কূপ খনন করা হয়েছে। এই কূপগুলি ৭০ থেকে ৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার ভূ-তাপ তরল উৎপাদন করে এবং ৫০ থেকে ৯০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সফলভাবে প্রদর্শন করা হয়েছে।
|
|
তাওয়াং, অরুণাচল প্রদেশ
|
মাঠপর্যায়ের সমীক্ষা এবং ভূ-রাসায়নিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই অঞ্চলের ভূ-তাপীয় সম্পদের মূল্যায়নের জন্য পাঁচটি ভূ-তাপ বিশিষ্ট স্থানে সমীক্ষা চলছে।
|
|
হায়দরাবাদ, তেলেঙ্গানা
|
মডেলিং ও কার্যকারিতা বিশ্লেষণের মাধ্যমে এয়ার কন্ডিশনিং ব্যবহারের জন্য একটি ভূ-তাপের শীতলীকরণ ব্যবস্থা তৈরি করা হচ্ছে।
|
|
অগভীর ভূ-তাপ শক্তি
|
গরম ও ঠান্ডা রাখার কাজে বোরহোল হিট এক্সচেঞ্জার ব্যবহার করে অগভীর ভূ-তাপ ব্যবস্থা মূল্যায়নের জন্য একটি পরীক্ষামূলক সমীক্ষায় বিশ্লেষণমূলক মডেল তৈরি করা হচ্ছে।
|
উল্লেখযোগ্য ভূ-তাপ বিষয়ক সম্পদ, উন্নত প্রযুক্তি এবং প্রাথমিক পর্যায়ের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম ভারতে ভূ-তাপীয় শক্তির ভবিষ্যতের ভিত্তি তৈরি করছে। বাণিজ্যিক মাত্রায় বিদ্যুৎ উৎপাদন এখনও শুরু না হলেও, কূপের ক্ষেত্র সম্প্রসারণ, প্রদর্শনমূলক কার্যক্রম এবং গবেষণা ও উন্নয়নমূলক উদ্যোগগুলি বৃহত্তর পরিসরে ভূ-তাপ শক্তির ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো ও পরিবেশকে আরও শক্তিশালী করছে।
ভারতের ভূ-তাপ বিষয়ক শক্তির সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো: নীতি ও অংশীদারিত্ব
ভূ-তাপকেন্দ্রিক শক্তি বিশ্বজুড়ে একটি পরীক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত পুনর্নবীকরণযোগ্য প্রযুক্তি। ২০২৫ সালের শেষে বিশ্বব্যাপী ভূ-তাপীয় শক্তির স্থাপিত ক্ষমতা ১৫.৬৭ গিগাওয়াটে পৌঁছেছে। ইন্দোনেশিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফিলিপাইন্স, তুরস্ক এবং নিউজিল্যান্ড এই ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে। এই পাঁচটি দেশ মিলিতভাবে বিশ্বের মোট স্থাপিত ভূ-তাপীয় শক্তির প্রায় ৬৭ শতাংশ ধারণ করে। ভারত এখন ভূ-তাপ সম্পদের মূল্যায়ন থেকে বাস্তব ক্ষেত্রে ব্যবহারের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য একটি শক্তিশালী পরিবেশ তৈরি করছে। জাতীয় কর্মসূচি এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব এই উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এবং এই ক্ষেত্রে গবেষণা, প্রযুক্তির উন্নয়ন ও জ্ঞান বিনিময়ে সহায়তা করছে।
জাতীয় ভূ-তাপ শক্তি নীতি, ২০২৫
জাতীয় ভূ-তাপ শক্তি নীতির লক্ষ্য হল ভূ-তাপ শক্তিকে পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসাবে প্রতিষ্ঠা করা। এই নীতি ভারতের ভূ-তাপ-কেন্দ্রিক সম্পদের পরিকল্পিত অনুসন্ধান ও ব্যবহারকে উৎসাহিত করে। নীতিতে গবেষণা, কূপ খনন, জলাধার ব্যবস্থাপনা এবং সরাসরি ব্যবহারের ওপর অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। গরম ও ঠান্ডা রাখার জন্য গ্রাউন্ড সোর্স হিট পাম্প (GSHP)-এর ব্যবহারকেও এতে সমর্থন করা হয়েছে। একটি সুস্পষ্ট নিয়ন্ত্রক কাঠামোর মাধ্যমে সরকারি ও বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করা হয়েছে। পরিত্যক্ত তেল ও গ্যাসের কূপগুলিকে ভূ-তাপীয় শক্তি ব্যবহারের জন্য পুনর্ব্যবহারের সুযোগও এই নীতিতে রাখা হয়েছে। এছাড়াও, একটি জাতীয় ভূ-তাপীয় তথ্য ভাণ্ডার, পরীক্ষামূলক প্রকল্প এবং উৎকর্ষ কেন্দ্র গড়ে তোলার বিষয়েও নীতিতে সমর্থন দেওয়া হয়েছে।
নবায়নযোগ্য শক্তি গবেষণা ও প্রযুক্তি উন্নয়ন কর্মসূচি (RE-RTD)
MNRE গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং শিল্পক্ষেত্রের অংশীদারদের মাধ্যমে RE-RTD প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হল ভূ-তাপীয় শক্তিসহ বিভিন্ন পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির জন্য সারা দেশে দেশীয় এবং সাশ্রয়ী প্রযুক্তি তৈরি করা।
আন্তর্জাতিক সহযোগিতা
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অংশীদারের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে ভারত ভূ-তাপ শক্তির ক্ষেত্রে তার উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। অস্ট্রেলিয়া এবং আইসল্যান্ডের সঙ্গে সহযোগিতার কাঠামোর আওতায় ভূ-তাপীয় শক্তিকে সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। একইভাবে, সৌদি আরব রাজ্যের সঙ্গে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারকে ভূ-তাপীয় শক্তিকে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই উদ্যোগগুলি ভারতের ভূ-তাপ-কেন্দ্রিক সম্পদকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৃহত্তর পরিসরে ব্যবহারযোগ্য সমাধানে রূপান্তর করার জন্য একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম তৈরি করছে।
ভারতের পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির মিশ্রণে নতুন মাত্রা
ভারতের ভূ-তাপ-কেন্দ্রিক শক্তির যাত্রা শক্তি নিরাপত্তা এবং সুস্থায়ী উন্নয়নের প্রতি সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে। জাতীয় ভূ-তাপ শক্তি নীতি ঘোষণা থেকে শুরু করে লাদাখের পুগা উপত্যকায় দেশের প্রথম দুটি ভূ-তাপবিশিষ্ট কূপ চালু করা পর্যন্ত ভারত পরিকল্পনা থেকে বাস্তবায়নের দিকে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে চলেছে। দেশে ভূ-তাপীয় সম্পদের তাত্ত্বিক সম্ভাবনা প্রায় ১০,৬০০ মেগাওয়াট। পরীক্ষামূলক প্রকল্পের প্রসার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হওয়ার ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে শুরু করে তাপ সরবরাহ, ভূ-পর্যটন এবং কৃষি পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে এর ব্যবহার বাড়ছে। ফলে, ভূ-তাপ শক্তি ভারতের পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির তালিকায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসাবে উঠে আসছে। ভারত ২০৭০ সালের নেট জিরো লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, ভূ-তাপ বিষয়ক শক্তি দেশের শক্তি রূপান্তর ও অগ্রগতির ক্ষেত্রে একটি স্থিতিশীল ও দেশীয় স্তম্ভ হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
তথ্যবিবরণী
Ministry of New and Renewable Energy
Administration of Union Territory of Ladakh
Ministry of Information and Broadcasting
Telangana Renewable Energy Development Corporation Ltd
International Renewable Energy Agency
U.S. Department of Energy
U.S. Energy Information Administration
Click here to see pdf
SSS/RP........
(রিলিজ আইডি: 2306786)
ভিজিটরের কাউন্টার : 3