PIB Backgrounder
ভারতে পারমাণবিক শক্তি প্রযুক্তি
সুস্থায়ী ও স্বনির্ভর ভবিষ্যৎ
প্রকাশিত:
28 AUG 2026 10:36AM by PIB Kolkata
২৮ আগস্ট, ২০২৬
ভারতের পারমাণবিক কর্মসূচি প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরতার কৌশল দ্বারা পরিচালিত, যা অতীতে জ্বালানি সরবরাহের ওপর নিষেধাজ্ঞার মতো পরিস্থিতি মোকাবিলা করার পাশাপাশি দেশের বিপুল থোরিয়াম সম্পদকে কাজে লাগানোর জন্য তৈরি করা হয়েছে। এই কর্মসূচির মূল ভিত্তি হল দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি তিন-পর্যায়ের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কর্মসূচি, যার মাধ্যমে ধীরে ধীরে ইউরেনিয়াম-ভিত্তিক জ্বালানি চক্র থেকে থোরিয়াম-ভিত্তিক জ্বালানি চক্রের দিকে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। দেশীয় উদ্ভাবনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, পরিচ্ছন্ন ও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদী শক্তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে এই কর্মসূচি ভারতের সুস্থায়ী উন্নয়নের লক্ষ্য এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে ১০০ গিগাওয়াট পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে অবদান রাখছে।
ভারতের সুস্থায়ী শক্তি নিরাপত্তায় পারমাণবিক শক্তির ভূমিকা
বিকশিত ভারতের লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার জন্য ভারত একটি নিরাপদ, সুস্থায়ী এবং আত্মনির্ভর শক্তি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
পরিচ্ছন্ন, নির্ভরযোগ্য এবং স্থিতিশীল বেসলোড বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা বিবেচনা করে ভারত সরকার দীর্ঘমেয়াদি শক্তি কৌশলের কেন্দ্রে পারমাণবিক শক্তিকে রেখেছে। পারমাণবিক বিদ্যুৎ চব্বিশ ঘণ্টা কম-কার্বন নির্গমনযুক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করে, যা পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির পরিপূরক হিসাবে কাজ করার পাশাপাশি, বিদ্যুৎ গ্রিডের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। এটি আমদানি করা জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমায় এবং জলবায়ু সংক্রান্ত ভারতের অঙ্গীকার পূরণেও সহায়তা করে। আত্মনির্ভর ভারতের ভাবনায় অনুপ্রাণিত হয়ে ভারত সরকার পারমাণবিক জ্বালানি চক্রের সম্পূর্ণ পরিসরে- যার মধ্যে রয়েছে রিঅ্যাক্টর নকশা, জ্বালানি তৈরি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং উন্নত প্রযুক্তি- দেশীয় সক্ষমতা শক্তিশালী করে তুলছে।
বর্তমানে ভারতে মোট ৮.৭৮ গিগাওয়াট স্থাপিত ক্ষমতাসম্পন্ন ২৪টি পারমাণবিক বিদ্যুৎ রিঅ্যাক্টর চালু রয়েছে। মোট ৭.৫ গিগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৯টি রিঅ্যাক্টর ইউনিটের নির্মাণকাজ চলছে। এছাড়াও, সরকার ফ্লিট মোডে ১০টি দেশীয় প্রেসারাইজড হেভি ওয়াটার রিঅ্যাক্টর (PHWR) এবং ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টর (FBR)-এর প্রাক্-প্রকল্প কার্যক্রম অনুমোদন করেছে। পারমাণবিক শক্তি মিশন (২০২৫-২৬) এবং SHANTI Act, 2025-এর মতো সাম্প্রতিক নীতি উদ্যোগগুলি বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি, দেশীয় উৎপাদন শক্তিশালী করা, উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা এবং বেসরকারি ক্ষেত্রের আরও বেশি অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করছে। এই উদ্যোগগুলি একসঙ্গে একটি শক্তিশালী পারমাণবিক পরিকাঠামো গড়ে তুলছে, যা সুস্থায়ী উন্নয়নে সহায়তা করছে এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে ১০০ গিগাওয়াট পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা অর্জনের ভারতের লক্ষ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
বেসলোড বিদ্যুৎ
স্থিতিশীল বেসলোড বিদ্যুৎ হল একটি বিদ্যুৎ গ্রিডের সচল থাকার জন্য প্রয়োজনীয় সর্বনিম্ন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ। এটি আমাদের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার মেরুদণ্ড হিসাবে কাজ করে এবং হাসপাতাল, যোগাযোগ ব্যবস্থা, প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিল্প এবং অন্যান্য অত্যাবশ্যক পরিষেবায় নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ নিশ্চিত করে। অর্থনৈতিক বৃদ্ধি, জাতীয় নিরাপত্তা এবং দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতার জন্য নির্ভরযোগ্য বেসলোড বিদ্যুৎ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পারমাণবিক শক্তি সম্পর্কে ধারণা: একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিউক্লিয়ার ফিশন বা পারমাণবিক বিভাজন নামের একটি নিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন তাপকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ তৈরি করা হয়। এই তাপে জল বাষ্পে পরিণত হয় এবং সেই বাষ্প একটি জেনারেটরের সঙ্গে যুক্ত টারবাইন ঘোরায়। উৎপন্ন বিদ্যুৎ বাড়িঘর, শিল্প এবং অত্যাবশ্যক পরিষেবায় সরবরাহ করা হয়। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি একাধিক প্রকৌশলগত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং একটি শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক কাঠামোর অধীনে পরিচালিত হয়।
পারমাণবিক জ্বালানি
বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য পারমাণবিক রিঅ্যাক্টরের ভিতরে যে উপাদান ব্যবহার করা হয়, তাকে পারমাণবিক জ্বালানি বলা হয়। পারমাণবিক বিভাজনের মাধ্যমে এর পরমাণুগুলি বিভক্ত হয়ে বিপুল পরিমাণ তাপ উৎপন্ন করে। এই তাপে জল বাষ্পে পরিণত হয়। সেই বাষ্প টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে।
পারমাণবিক রিঅ্যাক্টরের জ্বালানি ফিসাইল (Fissile) হতে পারে, যা সরাসরি শৃঙ্খল বিক্রিয়া বজায় রাখে, অথবা ফার্টাইল (Fertile) হতে পারে, যা প্রথমে রিঅ্যাক্টরের ভিতরে ফিসাইল জ্বালানিতে রূপান্তরিত হয়। সাধারণ পারমাণবিক জ্বালানির মধ্যে রয়েছে প্রাকৃতিক ইউরেনিয়াম (Natural Uranium), ইউরেনিয়াম-২৩৫ (U-235), লো-এনরিচড ইউরেনিয়াম (LEU), প্লুটোনিয়াম-২৩৯ (Pu-239) এবং মিক্সড অক্সাইড (MOX) জ্বালানি।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, চিন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, কানাডা এবং রাশিয়ার মতো অধিকাংশ দেশ লাইট ওয়াটার রিঅ্যাক্টর (LWR)-এ লো-এনরিচড ইউরেনিয়াম (LEU) ব্যবহার করে। ভারত প্রধানত প্রেশারাইজড হেভি ওয়াটার রিঅ্যাক্টর (PHWR)-এ প্রাকৃতিক ইউরেনিয়াম ব্যবহার করে, যেখানে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের প্রয়োজন হয় না। ভারত তার প্রোটোটাইপ ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টর (PFBR)-এ MOX জ্বালানিও ব্যবহার করে।
ভারতের ইউরেনিয়ামের মজুত নিম্নমানের হওয়ায় তা আমদানির মাধ্যমে পূরণ করতে হয়। তবে, ভারতে থোরিয়াম (Th-232)-এর বিপুল মজুত রয়েছে। এটি ফিসাইল নয়, বরং একটি ফার্টাইল তেজস্ক্রিয় পদার্থ, যা মূলত কেরল, তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ এবং ঝাড়খণ্ডের উপকূলীয় বালিতে পাওয়া যায়। রিঅ্যাক্টরের ভিতরে Th-232 একটি নিউট্রন শোষণ করে ইউরেনিয়াম-২৩৩-এ রূপান্তরিত হয়, যা ফিসাইল। তিন-পর্যায়ের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের বিপুল থোরিয়াম মজুতকে কাজে লাগানোই ভারতের দীর্ঘমেয়াদী পারমাণবিক কৌশলের মূল লক্ষ্য।
ভারতের তিন-পর্যায়ের পারমাণবিক কর্মসূচি
ড. হোমি জে. ভাবা ১৯৫৪ সালে ভারতের নিজস্ব সম্পদের সর্বাধিক ব্যবহার এবং দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তিন-পর্যায়ের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কর্মসূচির প্রস্তাব দেন। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে ভারত একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জন করে, যখন কালপাক্কামে অবস্থিত প্রোটোটাইপ ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টর (PFBR)-এ প্রথমবারের মতো ক্রিটিক্যালিটি অর্জিত হয়।
ব্রিডার রিঅ্যাক্টর এমন একটি পারমাণবিক চুল্লি, যেটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি, অতিরিক্ত ফিসাইল পদার্থ বা জ্বালানি উৎপাদন করে। এর মাধ্যমে ভারতের তিন-পর্যায়ের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায়ের সূচনা হয়। এই মাইলফলক দীর্ঘমেয়াদী, পরিচ্ছন্ন ও স্বনির্ভর জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য ভারতের বিপুল থোরিয়াম সম্পদ ব্যবহারের লক্ষ্যকে আরও এগিয়ে নিয়ে গেছে।
প্রথম পর্যায়ে, প্রেসারাইজড হেভি ওয়াটার রিঅ্যাক্টর (PHWR) প্রাকৃতিক ইউরেনিয়াম ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। ব্যবহৃত জ্বালানি পুনঃপ্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে প্লুটোনিয়াম পুনরুদ্ধার করা হয়, যা দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রধান উপাদান হিসাবে ব্যবহৃত হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে, ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টর (FBR) এই প্লুটোনিয়াম ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি, অতিরিক্ত ফিসাইল পদার্থ তৈরি করে। এই পর্যায়ে থোরিয়াম থেকে ইউরেনিয়াম-২৩৩-ও উৎপাদিত হয়, যা তৃতীয় পর্যায়ের ভিত্তি তৈরি করে। তৃতীয় পর্যায়ে, থোরিয়াম-ভিত্তিক পারমাণবিক চুল্লিতে ইউরেনিয়াম-২৩৩ ব্যবহার করে ভারতের বিপুল থোরিয়াম সম্পদ কাজে লাগানো হয়। প্রতিটি পর্যায় পরবর্তী পর্যায়ের ভিত্তি তৈরি করে এবং এর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার পথ সুগম হয়।
ইন্দিরা গান্ধী সেন্টার ফর অ্যাটমিক রিসার্চ (IGCAR) ভারতের প্রোটোটাইপ ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টর (PFBR)-এর নকশা প্রণয়ন, উন্নয়ন, পরীক্ষা, নিরাপত্তা মূল্যায়ন, কমিশনিং এবং দেশীয়করণের কাজের নেতৃত্ব দিয়েছে। ভারতীয় শিল্প সংস্থাগুলির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার মাধ্যমে IGCAR রিঅ্যাক্টরের সরঞ্জাম ও ব্যবস্থার প্রায় ৯০ শতাংশ দেশীয় উৎপাদন নিশ্চিত করেছে। এর ফলে, উন্নত পারমাণবিক প্রযুক্তিতে ভারতের স্বনির্ভরতা আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং তিন-পর্যায়ের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায় বাস্তবায়নে সহায়তা করেছে।
পারমাণবিক বিক্রিয়া
পারমাণবিক বিক্রিয়ায় পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে শক্তি নির্গত হয়। এর দুটি প্রধান ধরন হল পারমাণবিক বিভাজন (নিউক্লিয়ার ফিশন) এবং পারমাণবিক সংযোজন (নিউক্লিয়ার ফিউশন)। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পারমাণবিক বিভাজন বা নিউক্লিয়ার ফিশন ব্যবহার করা হয়।
পারমাণবিক চুল্লিতে একটি নিউট্রন ইউরেনিয়াম বা প্লুটোনিয়াম পরমাণুর নিউক্লিয়াসে আঘাত করলে সেটি দুটি ছোট পরমাণুতে বিভক্ত হয়। পারমাণবিক বিভাজন বা নিউক্লিয়ার ফিশন নামে পরিচিত এই প্রক্রিয়ায় বিপুল পরিমাণ তাপ এবং অতিরিক্ত নিউট্রন নির্গত হয়। এই নিউট্রনগুলি পরবর্তী বিভাজন বিক্রিয়া ঘটায় এবং একটি নিয়ন্ত্রিত শৃঙ্খল বিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। উৎপন্ন তাপ ব্যবহার করে জলকে উচ্চচাপের বাষ্পে পরিণত করা হয়। এই বাষ্প একটি টারবাইন ঘোরায়, যা একটি জেনারেটরের সঙ্গে যুক্ত থাকে। টারবাইন ঘোরার ফলে জেনারেটর বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে।
পারমাণবিক সংযোজন
পারমাণবিক সংযোজন প্রক্রিয়ায় দুটি হালকা পরমাণু একত্রিত হয়ে একটি ভারী পরমাণু তৈরি করে। সূর্য ও নক্ষত্রের শক্তির উৎস হল এই সংযোজন প্রক্রিয়া। পারমাণবিক বিভাজনের তুলনায় এই প্রক্রিয়া থেকে অনেক বেশি শক্তি উৎপন্ন হতে পারে। তবে, বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য পারমাণবিক সংযোজন প্রযুক্তি এখনও উন্নয়নের পর্যায়ে রয়েছে।
পারমাণবিক চুল্লি
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল অংশ হল পারমাণবিক চুল্লি। এখানে তাপ উৎপাদনের জন্য পারমাণবিক বিভাজন প্রক্রিয়াকে নিরাপদভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। চুল্লিতে ইউরেনিয়াম বা প্লুটোনিয়ামের মতো পারমাণবিক জ্বালানি, বিভাজন বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের জন্য কন্ট্রোল রড, উৎপন্ন তাপ স্থানান্তরের জন্য কুল্যান্ট এবং নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য পরিচালনা নিশ্চিত করার জন্য একাধিক সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকে।
ভারতে প্রধানত প্রেশারাইজড হেভি ওয়াটার রিঅ্যাক্টর (PHWR) ব্যবহার করা হয়, যা প্রাকৃতিক ইউরেনিয়ামের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। দেশে বয়লিং ওয়াটার রিঅ্যাক্টর (BWR) এবং প্রেশারাইজড ওয়াটার রিঅ্যাক্টর (PWR)-ও রয়েছে। প্লুটোনিয়াম ব্যবহার এবং থোরিয়াম-ভিত্তিক চুল্লির দিকে অগ্রসর হওয়ার লক্ষ্যে ভারত ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টর (FBR) প্রযুক্তির উন্নয়ন করছে। পাশাপাশি, পরবর্তী প্রজন্মের পারমাণবিক প্রযুক্তি হিসেবে ভারত স্মল মডুলার রিঅ্যাক্টর (SMR)-এরও উন্নয়ন করছে।
স্মল মডুলার রিঅ্যাক্টর
SMR সাধারণত পারমাণবিক বিভাজন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ৩০০ MWe পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে। এর ছোট ও মডুলার নকশার ফলে, কারখানায় যন্ত্রাংশ তৈরি, দ্রুত নির্মাণ, উন্নত মান নিয়ন্ত্রণ এবং ধাপে ধাপে স্থাপন করা সম্ভব হয়।
২০২৫–২৬ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে ঘোষিত পারমাণবিক শক্তি মিশনের আওতায় সরকার দেশীয় SMR-এর গবেষণা, নকশা, উন্নয়ন ও স্থাপনের জন্য ২০,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। ভারত BARC এবং NPCIL-এর যৌথভাবে নকশা করা ২২০ MWe ভারত স্মল মডুলার রিঅ্যাক্টর (BSMR-200), ৫৫ MWe SMR-55 এবং হাইড্রোজেন উৎপাদনের জন্য একটি উচ্চ-তাপমাত্রার গ্যাস-শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রিঅ্যাক্টর উন্নয়ন করছে। সরকারের লক্ষ্য ২০৩৩ সালের মধ্যে অন্তত পাঁচটি দেশীয় SMR চালু করা।
পারমাণবিক চুল্লির শ্রেণীবিভাগ
বিভিন্ন ধরনের ব্যবহারের জন্য পারমাণবিক চুল্লির নকশা করা হয়। বড় প্রচলিত পারমাণবিক চুল্লি (৭০০–১,৬০০ MW) জাতীয় গ্রিড, শহর ও শিল্পক্ষেত্রে নিরবচ্ছিন্ন বেসলোড বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। স্মল মডুলার রিঅ্যাক্টর (৩০০ MW পর্যন্ত) এবং মাইক্রো রিঅ্যাক্টর (২০ MW পর্যন্ত) প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ, পুরনো হয়ে অবসরের পথে থাকা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার, শিল্পক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াগত তাপ সরবরাহ এবং হাইড্রোজেন উৎপাদনে সহায়তা করে।
পারমাণবিক বর্জ্য
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার সময় উৎপন্ন তেজস্ক্রিয় পদার্থকে পারমাণবিক বর্জ্য বলা হয়।
এর মধ্যে ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি এবং সুরক্ষামূলক পোশাক, ফিল্টার, সরঞ্জাম ও অন্যান্য যন্ত্রপাতির মতো এমন উপকরণও রয়েছে, যেগুলি বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহারের পর তেজস্ক্রিয় হয়ে যায়। এগুলি থেকে বিকিরণ হয় বলে মানুষ ও পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কঠোর নিরাপত্তা বিধি মেনে এগুলির ব্যবস্থাপনা করা হয়।
ভারত ক্লোজড নিউক্লিয়ার ফুয়েল সাইকল অনুসরণ করে। এর আওতায় ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি পুনঃপ্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে মূল্যবান উপাদান পুনরুদ্ধার করা হয়, যা ভবিষ্যতের পারমাণবিক চুল্লিতে পুনরায় ব্যবহার করা যায়। অবশিষ্ট উচ্চমাত্রার তেজস্ক্রিয় বর্জ্যকে স্থিতিশীল অবস্থায় রেখে নিরাপদে সংরক্ষণ করা হয়। এর ফলে বর্জ্যের পরিমাণ কমে এবং ভারতের তিন-পর্যায়ের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহায়তা করে।
ভিট্রিফিকেশন প্রযুক্তি
উচ্চমাত্রার তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ভিট্রিফিকেশন প্রযুক্তি থাকা বিশ্বের অল্প কয়েকটি দেশের মধ্যে ভারত অন্যতম। এই প্রক্রিয়ায় উচ্চমাত্রার তেজস্ক্রিয় বর্জ্যকে স্থিতিশীল কাঁচের মতো কঠিন রূপে পরিণত করা হয়। এর ফলে, দীর্ঘমেয়াদী সংরক্ষণ, পরিবহণ এবং পরবর্তী সময়ে নিরাপদ নিষ্পত্তি আরও সুরক্ষিতভাবে করা সম্ভব হয়।
ভারতের পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ভবিষ্যৎকে শক্তিশালী করা
ভারতের পারমাণবিক শক্তি কর্মসূচি উদ্ভাবন, সুস্থায়ী উন্নয়ন এবং স্বনির্ভরতার প্রতি দেশের অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে। উন্নত প্রযুক্তির সঙ্গে কঠোর নিরাপত্তা মানদণ্ড এবং দেশীয় সক্ষমতার সমন্বয়ের মাধ্যমে পারমাণবিক শক্তি একটি নিরাপদ ও স্থিতিস্থাপক জ্বালানি ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সহায়তা করছে। দেশ বিকশিত ভারত-এর লক্ষ্যে এগিয়ে চলার সঙ্গে সঙ্গে পারমাণবিক শক্তি অন্যান্য পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উৎসের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে যাবে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি,ঠ পরিবেশগত সুস্থায়িত্ব ও দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তাকে শক্তিশালী করবে।
তথ্যবিবরণী
Department of Atomic Energy
NITI Aayog
Bhabha Atomic Research Centre (BARC)
Nuclear Fuel Complex
Nuclear Power Corporation of India Limited (NPCIL)
Indira Gandhi Centre for Atomic Research
Press Information Bureau
International Atomic Energy Agency (IAEA)
Nuclear Energy Institute
US Department of Energy
- https://www.energy.gov/ne/articles/fission-and-fusion-what-difference
Click here to see PDF
SSS/RP........
(রিলিজ আইডি: 2304308)
ভিজিটরের কাউন্টার : 5