PIB Backgrounder
ভারতে পারমাণবিক শক্তি
প্রয়োগ, নিরাপত্তা ও প্রস্তুতি
প্রকাশিত:
28 AUG 2026 10:15AM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ২৮ আগস্ট, ২০২৬
ভারতের পারমাণবিক শক্তি কর্মসূচি ‘নিরাপত্তা সর্বাগ্রে’ নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত। কঠোর নিয়ন্ত্রক নজরদারি, একাধিক সুরক্ষা স্তর এবং পূর্ণাঙ্গ জরুরি প্রস্তুতির মাধ্যমে মানুষ ও পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়। একই সঙ্গে নির্ভরযোগ্য ও স্বল্প-কার্বন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি, পারমাণবিক শক্তি স্বাস্থ্য পরিষেবা, কৃষি, খাদ্য সংরক্ষণ, শিল্প, বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং পরিচ্ছন্ন হাইড্রোজেন উৎপাদনেও ব্যবহৃত হচ্ছে। SHANTI Act, 2025, Nuclear Energy Mission for Viksit Bharat এবং দেশীয় প্রযুক্তির মাধ্যমে ভারত নিরাপদ, সুস্থায়ী ও ভবিষ্যৎ-প্রস্তুত জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে পারমাণবিক শক্তিকে আরও প্রসারিত করছে।
ভারতের অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে পারমাণবিক শক্তি
১৯৬৯ সালে তারাপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই ভারতের উন্নয়নযাত্রায় পারমাণবিক শক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বর্তমানে এটি নির্ভরযোগ্য ও স্বল্প-কার্বন বিদ্যুতের মাধ্যমে বাড়ি, শিল্প এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে শক্তি জোগাচ্ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি, পারমাণবিক প্রযুক্তি স্বাস্থ্য পরিষেবা, কৃষি, খাদ্য সংরক্ষণ, শিল্প, জল লবণমুক্তকরণ এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণায় ব্যবহৃত হচ্ছে।
নিরাপত্তা ভারতের পারমাণবিক কর্মসূচির মূল ভিত্তি। প্রতিটি পারমাণবিক কেন্দ্র শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক কাঠামোর অধীনে পরিচালিত হয়। একাধিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি, জরুরি পরিস্থিতির প্রস্তুতি এবং কঠোর নিরাপত্তা বিধি এর অন্তর্ভুক্ত।
পারমাণবিক নিরাপত্তা, সুরক্ষা এবং নিরাপত্তা বিধি আরও শক্তিশালী করতে ভারত International Atomic Energy Agency (IAEA)-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে। বর্তমানে ভারতে সাতটি কেন্দ্রে ২৪টি পারমাণবিক বিদ্যুৎ চুল্লি রয়েছে। মোট স্থাপিত ক্ষমতা ৮.৭৮ গিগাওয়াট। আরও নয়টি চুল্লির নির্মাণ চলছে। অতিরিক্ত ১০টি ইউনিটের প্রস্তুতিও চলছে।
Nuclear Energy Mission for Viksit Bharat-এর লক্ষ্য ২০৪৭ সালের মধ্যে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ১০০ গিগাওয়াটে উন্নীত করা। কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৫-২৬-এ দেশীয় Small Modular Reactor তৈরির জন্য ₹২০,০০০ কোটি বরাদ্দ করা হয়েছে। SHANTI Act, 2025, ভারতের পারমাণবিক শক্তি কর্মসূচির নিরাপদ, সুরক্ষিত এবং ভবিষ্যৎ-প্রস্তুত সম্প্রসারণের কাঠামো আরও শক্তিশালী করেছে।
পারমাণবিক বিদ্যুৎ: কার্বনমুক্ত শক্তির উৎস
স্থাপিত ক্ষমতার প্রতি ইউনিটে কার্বন নিঃসরণের বিচারে পারমাণবিক বিদ্যুৎ ভারতের সবচেয়ে কার্বন-দক্ষ পরিচ্ছন্ন শক্তির উৎস। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে এক গিগাওয়াট পারমাণবিক ক্ষমতার মাধ্যমে প্রায় ৫৪ লাখ টন CO₂ সমতুল্য নির্গমন এড়ানো গেছে। জলবিদ্যুৎ ক্ষেত্রে এই পরিমাণ ছিল ২৭ লাখ টন, বায়ুশক্তিতে ১৬ লাখ টন এবং সৌরবিদ্যুতে ৯ লাখ টন।
১৯৬৯ সাল থেকে ভারতের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কর্মসূচির ফলে মোট ৮৫১ মিলিয়ন টন CO₂ সমতুল্য নির্গমন এড়ানো সম্ভব হয়েছে। এই পরিমাণ এক বছরে ৩৮০০ কোটি পরিণত গাছের কার্বন শোষণের সমান।
বিদ্যুৎ উৎপাদনের বাইরেও পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার
পারমাণবিক প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে বহুমুখী ব্যবহার রয়েছে। জনকল্যাণ, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং টেকসই জাতীয় উন্নয়নে এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
স্বাস্থ্য পরিষেবা
প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয়, নির্ভুল ক্যানসার চিকিৎসা এবং উন্নত চিকিৎসা গবেষণায় পারমাণবিক প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। Department of Atomic Energy-এর অধীন Bhabha Atomic Research Centre (BARC), Indira Gandhi Centre for Atomic Research (IGCAR), Tata Memorial Centre (TMC), Tata Institute of Fundamental Research (TIFR) এবং Harish-Chandra Research Institute (HRI)-এর মতো গবেষণা প্রতিষ্ঠান দেশীয় রেডিওফার্মাসিউটিক্যাল, উন্নত ইমেজিং প্রযুক্তি এবং নতুন ক্যানসার চিকিৎসা পদ্ধতি তৈরি করছে।
সাশ্রয়ী ক্যানসার চিকিৎসার সুযোগও বাড়ানো হচ্ছে। ২০২৫ সালে মুজফ্ফরপুরে ১৫০ শয্যার Homi Bhabha Cancer Hospital and Research Centre উদ্বোধন করা হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে Tata Memorial Centre-এ ১.৩ লাখ রোগীর নাম নথিভুক্ত হয়েছে। প্রায় ৫ লাখ মহিলার মুখ, স্তন এবং জরায়ুমুখের ক্যানসারের পরীক্ষা করা হয়েছে। দেশীয় বিকিরণ প্রযুক্তির মাধ্যমে ১.৫৩ কোটি চিকিৎসা সরঞ্জাম জীবাণুমুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে রোগীর নিরাপত্তা বাড়ছে এবং স্বাস্থ্য পরিষেবা-সংক্রান্ত সংক্রমণ কমছে।
কৃষি
বিকিরণ-প্ররোচিত জিনগত পরিবর্তন এবং সংকরায়নের মাধ্যমে উন্নত ফসলের জাত তৈরিতে পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। এই জাতগুলিতে বেশি ফলন, বড় বীজ, উন্নত গুণমান, দ্রুত পরিপক্বতা এবং খরা, তাপ, লবণাক্ততা ও রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা রয়েছে।
Department of Atomic Energy খাদ্য ও কৃষিপণ্যের সংরক্ষণেও বিকিরণ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াচ্ছে। এর মাধ্যমে পণ্যের সংরক্ষণকাল বাড়ে, ফসল কাটার পর ক্ষতি কমে, রাসায়নিক ছাড়াই শস্য ও মশলা সংরক্ষণ করা যায় এবং রপ্তানির আন্তর্জাতিক উদ্ভিদ-স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিধি পূরণে সহায়তা হয়।
BARC ৭০টি ফসলের জাত তৈরি করেছে। এর মধ্যে TBM-9 কলা এবং RTS-43 জোয়ার ২০২৫ সালে ছাড়পত্র পেয়েছে। এই উচ্চ ফলনশীল এবং দ্রুত পরিপক্ব জাতগুলি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চাষ করা হচ্ছে। ফসলের উন্নয়ন দ্রুত করতে BARC, Indian Council of Agricultural Research (ICAR) এবং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলির সঙ্গে যৌথ ভাবে কাজ করছে।
খাদ্য সংরক্ষণ
কৃষিপণ্য, মাছ এবং মশলার সংরক্ষণকাল বাড়াতে এবং পচন কমাতে বিকিরণ প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে। আমের সংরক্ষণকাল বাড়ানোর ফলে সমুদ্রপথে কম খরচে রপ্তানি সম্ভব হয়েছে। পেঁয়াজ ও আলুর সংরক্ষণকাল বাড়ায় অপচয় কমছে এবং কৃষকরা অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হচ্ছেন। বিভিন্ন খাদ্যপণ্যে বিকিরণ প্রক্রিয়াকরণ Food Safety and Standards Authority of India অনুমোদন করেছে।
খাদ্য বিকিরণ পরিকাঠামো সম্প্রসারণের জন্য সরকার ২০২৫ সালে ১৭টি সমঝোতাপত্র স্বাক্ষর করেছে। ছয়টি গামা বিকিরণ প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র শুরু হয়েছে। ফলে, দেশে কার্যকর কেন্দ্রের সংখ্যা বেড়ে ৪০ হয়েছে। এই কেন্দ্রগুলির মাধ্যমে ফল, সবজি, শস্য এবং অন্যান্য পচনশীল পণ্যের গুণমান সংরক্ষণ করা হচ্ছে।
খনিজ ও বিরল মৃত্তিকা-কেন্দ্রিক উপাদান
গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং বিরল মৃত্তিকা উপাদানের ক্ষেত্রে ভারতের সক্ষমতা বাড়াতে পারমাণবিক প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। উন্নত পারমাণবিক বিশ্লেষণ পদ্ধতির মাধ্যমে খনিজ সম্পদের অনুসন্ধান, চরিত্র নির্ণয় এবং প্রক্রিয়াকরণ করা হচ্ছে। এর ফলে, আকরিক মূল্যায়ন, নিষ্কাশন এবং গুণমান নিয়ন্ত্রণ আরও নির্ভুল হচ্ছে।
ভারত Rare Earth Elements-এর জন্য প্রথম Certified Reference Material, Ferrocarbonatite (FC) BARC B1401, তৈরি করেছে। ভারতে এটি প্রথম এবং বিশ্বে চতুর্থ ধরনের উপাদান। বিরল মৃত্তিকা আকরিকের অনুসন্ধান, দক্ষ নিষ্কাশন এবং প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে এটি নির্ভরযোগ্য মানদণ্ড হিসাবে কাজ করবে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ খনিজ নিরাপত্তাও এর মাধ্যমে শক্তিশালী হবে।
সেমিকন্ডাক্টর ও বৈদ্যুতিন ব্যবস্থা
দেশীয় গবেষণা এবং উন্নত উপাদান তৈরির মাধ্যমে ভারতের সেমিকন্ডাক্টর ক্ষেত্রের বিকাশে পারমাণবিক প্রযুক্তি সহায়তা করছে। পারমাণবিক প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎপাদিত উচ্চ বিশুদ্ধতার আইসোটোপ এবং বিশেষ উপাদান সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ। নির্ভুল উৎপাদন, উন্নত বৈদ্যুতিন এবং কৌশলগত প্রযুক্তিতেও এগুলির ব্যবহার রয়েছে।
সেমিকন্ডাক্টর ব্যবহারের জন্য তালচেরে ভারতের প্রথম Electronics-grade, ৯৯.৮ শতাংশ বিশুদ্ধতার Boron-11 Enrichment Facility স্থাপন করা হয়েছে। সমৃদ্ধ উপাদানকে সফলভাবে পরিশোধিত সমৃদ্ধ বোরিক অ্যাসিডে রূপান্তর করা হয়েছে। এর ফলে, India Semiconductor Mission শক্তিশালী হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিন উপাদানে আমদানিনির্ভরতা কমছে এবং প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরতা বাড়ছে।
হরিৎ হাইড্রোজেন
ভবিষ্যতের শক্তি ব্যবস্থায় হাইড্রোজেনকে গুরুত্বপূর্ণ শক্তিবাহক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পরিচ্ছন্ন ও সুস্থায়ী শক্তি ব্যবস্থায় এর ভূমিকা আরও বাড়বে। পারমাণবিক শক্তির মাধ্যমে কার্বনমুক্ত উপায়ে হাইড্রোজেন উৎপাদন সম্ভব। পারমাণবিক শক্তি নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ এবং উচ্চ তাপমাত্রার প্রক্রিয়াজাত তাপ সরবরাহ করতে পারে। এর ফলে জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরতা এবং প্রচলিত হাইড্রোজেন উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত গ্রীনহাউস গ্যাস নির্গমন কমে।
২০২৬ সালে কালপাক্কামে পারমাণবিক প্রক্রিয়াজাত তাপ ব্যবহার করে বিশ্বের প্রথম হাইড্রোজেন উৎপাদন কেন্দ্র উদ্বোধন করা হয়েছে। দেশীয় প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগ পরিচ্ছন্ন শক্তি, শক্তি নিরাপত্তা এবং ভারতের Net Zero ও National Green Hydrogen Mission-এর লক্ষ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
পারমাণবিক প্রযুক্তির বিস্তৃত ব্যবহার ভারতের বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার ক্রমবর্ধমান শক্তিকে তুলে ধরছে। গবেষণা, উদ্ভাবন এবং দেশীয় প্রযুক্তিতে ধারাবাহিক বিনিয়োগ কৌশলগত ক্ষেত্রগুলিতে নতুন সুযোগ তৈরি করবে। এর মাধ্যমে অর্থনৈতিক বৃদ্ধি, শক্তি নিরাপত্তা এবং জাতীয় উন্নয়ন আরও শক্তিশালী হবে।
ভারতের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলিতে নিরাপত্তা
পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ক্ষেত্রে প্রধান নিরাপত্তা উদ্বেগ হল তেজস্ক্রিয়তা এবং তেজস্ক্রিয় পদার্থের দুর্ঘটনাজনিতভাবে আশপাশের পরিবেশ ও বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়া। মানুষ ও পরিবেশের সুরক্ষায় ভারতের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলি একাধিক নিরাপত্তা স্তর দিয়ে পরিকল্পিত, নির্মিত এবং পরিচালিত হয়।
নকশাগত নিরাপত্তা
ভারতের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিতে আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত Defence in Depth নকশা পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। দুর্ঘটনার বিরুদ্ধে একাধিক সুরক্ষাস্তর এর ভিত্তি। উন্নত নকশা, নির্মাণের গুণমান, কঠোর গুণমান নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যর্থতা-নিরাপদ প্রকৌশল ব্যবস্থার মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।
নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি, নিয়মিত পরীক্ষা এবং একাধিক বিকল্প নিরাপত্তা ব্যবস্থা যন্ত্রপাতি বা মানুষের সম্ভাব্য ত্রুটি শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ করে। তেজস্ক্রিয় পদার্থ পরিবেশে ছড়িয়ে পড়া রোধে একাধিক ভৌত বাধা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সিরামিক জ্বালানি পেলেট, সিল করা জিরকোনিয়াম অ্যালয় জ্বালানি রড, শক্তিশালী চাপপাত্র বা চাপ নল এবং শক্তিশালী কংক্রিটের আবরণ।
স্বাধীন বিকল্প ব্যবস্থা জরুরি অবস্থায় চুল্লি বন্ধ করা, কোর ঠান্ডা রাখা এবং নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করে। প্রতিটি কেন্দ্র ভূমিকম্প, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, সুনামি এবং অন্যান্য বাহ্যিক বিপদের মোকাবিলায় পরিকল্পিত।
কাজ চলাকালীন তেজস্ক্রিয় সুরক্ষা
ভারতের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিতে বিকিরণের সংস্পর্শ যতটা যুক্তিসঙ্গত ভাবে সম্ভব কম রাখার জন্য As Low as Reasonably Achievable বা ALARA নীতি অনুসরণ করা হয়। কেন্দ্রের নকশা, বিকিরণরোধী ব্যবস্থা এবং রক্ষণাবেক্ষণ পদ্ধতিতে কর্মীদের বিকিরণজনিত ঝুঁকি সর্বনিম্ন রাখার ব্যবস্থা থাকে।
AERB পাঁচ বছরের গড় হিসেবে বছরে ২০ মিলিসিভার্ট (mSv) পেশাগত বিকিরণমাত্রার সীমা নির্ধারণ করেছে। পাঁচ বছরে মোট সীমা ১০০ mSv এবং কোনও একটি বছরে সর্বোচ্চ সীমা ৩০ mSv।
প্রতিটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে Health Physics Unit রয়েছে। এই ইউনিট নিয়মিত বিকিরণের মাত্রা, কর্মীদের সংস্পর্শ, কেন্দ্রের বিভিন্ন ব্যবস্থা এবং পরিবেশে নির্গমন পর্যবেক্ষণ করে। প্রকৌশলগত নিয়ন্ত্রণ, সুরক্ষা সরঞ্জাম, বায়ু চলাচল ব্যবস্থা এবং নিয়মিত প্রশিক্ষণ বিকিরণ নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করে।
তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা
নিরাপদ তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ভারতের পারমাণবিক কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ থেকে নিষ্পত্তি পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ কঠোর এবং বহুস্তরীয় নিয়ন্ত্রক কাঠামোর অধীনে পরিচালিত হয়।
Atomic Energy Regulatory Board (AERB) সমস্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের উপর নজর রাখে। Atomic Energy (Safe Disposal of Radioactive Wastes) Rules, 1987 এবং AERB Safety Code on Radioactive Waste Management অনুযায়ী সমস্ত কাজ পরিচালিত হয়। BARC-এর Environmental Survey Laboratories পরিবেশগত নিরাপত্তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রগুলিতেও ২৪ ঘণ্টা নজরদারি থাকে।
পারমাণবিক জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি
ভারত পারমাণবিক জরুরি পরিস্থিতির প্রস্তুতির জন্য বহুস্তরীয় প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি করেছে। জাতীয়, রাজ্য, জেলা এবং কেন্দ্রভিত্তিক ব্যবস্থা এই কাঠামোর অংশ। DAE-এর নেতৃত্ব এবং AERB-এর নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার অধীনে এই কাঠামো কাজ করে। কোনও বিরল পারমাণবিক বা তেজস্ক্রিয় জরুরি পরিস্থিতিতে সমন্বিত পরিকল্পনা, দ্রুত পদক্ষেপ এবং জনসুরক্ষা নিশ্চিত করাই এর লক্ষ্য।
পারমাণবিক শক্তি: ভ্রান্ত ধারণা ও বাস্তব তথ্য
পারমাণবিক শক্তি বিদ্যুৎ উৎপাদন, স্বাস্থ্য পরিষেবা, কৃষি এবং শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। তবুও জনমনে এর নিরাপত্তা নিয়ে কিছু ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। বৈজ্ঞানিক তথ্য এবং দীর্ঘদিনের নিরাপদ পরিচালনার অভিজ্ঞতা পারমাণবিক শক্তির নিরাপত্তা, নির্ভরযোগ্যতা এবং শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে।
ভুল ধারণা: পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাছে বসবাস স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
বাস্তব তথ্য: চালু পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে নির্গত বিকিরণ নির্ধারিত নিরাপত্তা সীমার মধ্যেই থাকে। আশপাশের মানুষের স্বাস্থ্যের উপর অতিরিক্ত ঝুঁকি তৈরি হয় না।
ভুল ধারণা: তেজস্ক্রিয় বর্জ্য নিরাপদভাবে পরিচালনা করা যায় না। এটি স্থায়ীভাবে পরিবেশ দূষিত করবে।
বাস্তব তথ্য: একাধিক সুরক্ষা ব্যবস্থা, নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি এবং কঠোর নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার মাধ্যমে তেজস্ক্রিয় বর্জ্য নিরাপদভাবে পরিচালনা করা হয়।
ভুল ধারণা: যে কোনও মাত্রার বিকিরণ ক্ষতিকর।
বাস্তব তথ্য: বিকিরণ প্রাকৃতিক পরিবেশেরই অংশ। সূর্য, মাটি, বায়ু এবং খাদ্য থেকে প্রতিদিন মানুষ অল্প মাত্রায় বিকিরণের সংস্পর্শে আসে। এই মাত্রা ক্ষতিকর নয়।
ভুল ধারণা: ভারতের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলি নিরাপদ নয়।
বাস্তব তথ্য: কয়েক দশক ধরে ভারত শক্তিশালী পারমাণবিক নিরাপত্তা রেকর্ড বজায় রেখেছে। একাধিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ভৌত সুরক্ষা স্তর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিরাপদ পরিচালনা নিশ্চিত করে।
ভুল ধারণা: সড়ক বা রেলপথে পারমাণবিক পদার্থ পরিবহণ সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
বাস্তব তথ্য: পারমাণবিক পদার্থ বিশেষভাবে তৈরি এবং পরীক্ষিত পাত্রে পরিবহণ করা হয়। এই পাত্রগুলি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মান মেনে তৈরি হয়।
ভুল ধারণা: কয়লা বা তেলের মতো পারমাণবিক শক্তিও পরিবেশের ক্ষতি করে।
বাস্তব তথ্য: জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো ছাড়াই পারমাণবিক শক্তি পরিচ্ছন্ন ও স্বল্প-কার্বন বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। কয়লার পরিবর্তে এর ব্যবহার কার্বন ডাইঅক্সাইড নির্গমন কমাতে সাহায্য করে।
ভুল ধারণা: প্লুটোনিয়াম বা পারমাণবিক পদার্থ স্পর্শ করলেই মৃত্যু হতে পারে।
বাস্তব তথ্য: কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে পারমাণবিক পদার্থ পরিচালনা করা হয়। বিশেষ পদ্ধতি এবং সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহারের মাধ্যমে সংস্পর্শ রোধ করা হয় এবং নিরাপদ পরিচালনা নিশ্চিত হয়।
ভুল ধারণা: পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির পরিবর্তে পারমাণবিক শক্তি বেছে নেওয়া উচিত।
বাস্তব তথ্য: পারমাণবিক এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি একে অপরের পরিপূরক। পারমাণবিক শক্তি ২৪ ঘণ্টা নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। সৌরশক্তির তুলনায় এর জন্য অনেক কম জমির প্রয়োজন হয়।
ভারতের পারমাণবিক কর্মসূচি বৈজ্ঞানিক উৎকর্ষ, কঠোর নিরাপত্তা মান এবং শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক নজরদারির উপর প্রতিষ্ঠিত। পারমাণবিক শক্তির নিরাপদ, সুরক্ষিত এবং শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়লে জাতীয় উন্নয়নে এর ভূমিকা নিয়ে আস্থাও আরও শক্তিশালী হবে।
উপসংহার
ভারতের পারমাণবিক কর্মসূচি শক্তি নিরাপত্তা, প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরতা, জন-কল্যাণ এবং সর্বোচ্চ নিরাপত্তা মানের প্রতি সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে। পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি পারমাণবিক প্রযুক্তি দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনছে।
Nuclear Energy Mission for Viksit Bharat এবং SHANTI Act-এর মতো উদ্যোগের মাধ্যমে ভারত একটি শক্তিশালী, উদ্ভাবননির্ভর এবং ভবিষ্যৎ-প্রস্তুত পারমাণবিক পরিকাঠামো গড়ে তুলছে। শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক নজরদারি, উন্নত চুল্লি নকশা এবং পূর্ণাঙ্গ জরুরি প্রস্তুতি পারমাণবিক কেন্দ্রগুলির নিরাপদ পরিচালনা নিশ্চিত করছে।
২০১১ সালের ফুকুশিমা দুর্ঘটনার পর ভারতের প্রতিটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা পর্যালোচনা করা হয়েছিল। এই পর্যালোচনা ভারতের চুল্লি নকশার শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও নিশ্চিত করেছে। সুপারিশ করা স্বল্পমেয়াদী ও মধ্যমেয়াদী নিরাপত্তা উন্নয়নের সমস্ত কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। বিদ্যমান ও ভবিষ্যৎ চুল্লিগুলিতে দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের কাজ চলছে।
Viksit Bharat 2047 এবং ২০৭০ সালের Net Zero লক্ষ্যের দিকে ভারত এগিয়ে চলার সঙ্গে সঙ্গে সুস্থায়ী উন্নয়ন, শক্তি নিরাপত্তা এবং জাতীয় অগ্রগতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হয়ে থাকবে পারমাণবিক শক্তি।
তথ্যসূত্র
Department of Atomic Energy
Atomic Energy Regulatory Board (AERB)
Bhabha Atomic Research Centre (BARC)
Nuclear Power Corporation of India Limited (NPCIL)
Press Information Bureau
Click here to see PDF
*****
SSS/SS....
(রিলিজ আইডি: 2304125)
ভিজিটরের কাউন্টার : 2