প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর
azadi ka amrit mahotsav

'ইকোনমিক টাইমস ওয়ার্ল্ড লিডারস ফোরাম ২০২৬'-এ প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের বঙ্গানুবাদ

प्रविष्टि तिथि: 21 AUG 2026 9:51PM by PIB Kolkata

নয়া দিল্লি,২১ আগস্ট ২০২৬

 

'ওয়ার্ল্ড লিডারস ফোরাম'—এই মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চে উপস্থিত ব্যবসা ও শিল্প জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, নীতিনির্ধারক, অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ।

আপনাদের মাঝে আসতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। এ বছরের সম্মেলনের মূল বিষয়বস্তু হলো 'অংশীদারিত্বমূলক ভবিষ্যৎ' (শেয়ারড ফিউচার)। বিগত কয়েক বছরে বিশ্ব অনেক উত্থান-পতনের সাক্ষী হয়েছে। আর এই অভিজ্ঞতাগুলো একটি বিষয়কে অত্যন্ত স্পষ্ট করে তুলেছে: পছন্দ হোক বা না হোক, প্রতিটি দেশের ভবিষ্যৎ একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। বিচ্ছিন্নভাবে কোনো কিছুই অর্জন করা সম্ভব নয়। ঠিক এই কারণেই 'অংশীদারিত্বমূলক ভবিষ্যৎ'-এর এই বিষয়টি আজ আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। আর ভারত সর্বদা এই চেতনাকে ধারণ করে এসেছে। জি-২০ প্রেসিডেন্সির সময় ভারতের মূলমন্ত্র ছিল—'এক পৃথিবী, এক পরিবার, এক ভবিষ্যৎ' (ওয়ান আর্থ, ওয়ান ফ্যামিলি, ওয়ান ফিউচার)। অংশীদারিত্বমূলক ভবিষ্যতের এই চেতনা এবং এর সাথে জড়িত দায়িত্ববোধ একবিংশ শতাব্দীর বিশ্বের অনেক সমস্যার সমাধান জোগাতে সক্ষম।

 

বন্ধুগণ,

 

আজ বিশ্বজুড়ে প্রবৃদ্ধি বা অর্থনৈতিক বিকাশ নিয়ে নানা উদ্বেগ রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ব এক উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে। বিভিন্ন সম্পদকে এখন হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। অবিশ্বাসের পরিবেশ বিশ্বের সামনে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। কিন্তু এমন কঠিন সময়েও বিশ্ব ভারতকে প্রবৃদ্ধি ও আশার এক উজ্জ্বল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে দেখছে। গত ১০-১২ বছরে ভারত ২৫ কোটি মানুষকে দারিদ্র্যসীমার ঊর্ধ্বে নিয়ে এসেছে। শুধু তাই নয়, আগামী দিনের কথা যদি বলি, তবে আইএমএফ-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী ভারত বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতি হিসেবে তার অবস্থান ধরে রাখবে। আর ভারত ক্রমাগত এমন সব পদক্ষেপ গ্রহণ করছে যা তার উন্নয়নকে আরও ত্বরান্বিত করছে।

 

বন্ধুগণ,

 

ঠিক গত সপ্তাহে, ১৫ই আগস্ট, লাল কেল্লা থেকে আমি সাতটি শক্তির ধারার কথা বলেছিলাম। উৎপাদন (ম্যানুফ্যাকচারিং), প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, সবুজ ও নীল অর্থনীতি—এমন সাতটি ক্ষেত্রের কথা আমি বলেছিলাম যার ওপর ভারত আজ বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। আর ঠিক এই কারণেই আমাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে ভারত নীতিগত পর্যায়ে ‘নেক্সট জেনারেশন’ বা পরবর্তী প্রজন্মের সংস্কার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। শাসনব্যবস্থায় সংস্কার এবং জীবনযাত্রাকে সহজ করার লক্ষ্যে সংস্কার। এর আগে যখন আমি এই মঞ্চের মাধ্যমেই আপনাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলাম, তখনও বলেছিলাম—এই সংস্কারগুলো আমাদের ওপর কোনো বাধ্যবাধকতা নয়। এগুলো আমাদের অঙ্গীকার, এগুলো আমাদের দৃঢ় সংকল্প।

 

বন্ধুগণ,

 

২০১৪ সালে যখন আমাদের সরকার গঠিত হয়, তখন থেকেই বিভিন্ন সংস্কার দেশের গতিপথ ও পরিস্থিতি বদলে দিয়েছে। আমি আপনাদের এর একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় উদাহরণ দিতে চাই। সম্ভবত এখানে খুব কম মানুষই ‘পিএলপি’-র কথা জানেন। এমন কেউ কি আছেন যিনি পিএলপি সম্পর্কে জানেন? হাত তুলুন তো। এখানে গণমাধ্যমের অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব বসে আছেন—আপনারা কি পিএলপি-র কথা জানেন? আর শুনলে অবাক হবেন, পিএলপি-র অর্থ হলো ‘প্রোডাকশন লিংকড পানিশমেন্ট’ (উৎপাদন-ভিত্তিক শাস্তি)। এ বিষয়ে কেউ জানে না। আর অন্য একটি শব্দ আপনারা নিশ্চয়ই শুনেছেন—‘পিএলআই’। অধিকাংশ মানুষই এটি জানেন। পিএলআই-এর অর্থ হলো ‘প্রোডাকশন লিংকড ইনসেন্টিভ’ (উৎপাদন-ভিত্তিক উৎসাহভাতা)।

 

বন্ধুগণ,

 

এই দুটি শব্দ ভারতের দুটি ভিন্ন সময়কালকে তুলে ধরে। আজকাল তো ‘এক্সপ্লেনার’ বা বিষয়বস্তু সহজ করে বুঝিয়ে বলার যুগ, তাই আমিই আপনাদের বিষয়টি বুঝিয়ে বলছি।

 

বন্ধুগণ,

 

আজকের তরুণ প্রজন্ম শুনলে অবাক হবে যে, আমাদের দেশে এমন এক সময় ছিল যখন কোনো কোম্পানি নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি উৎপাদন করলে তাকে শাস্তি পেতে হতো। এটিই ছিল আগের ‘লাইসেন্স রাজ’-এর আমলের সরকারগুলোর ‘পিএলপি’ বা ‘প্রোডাকশন লিংকড পানিশমেন্ট’ মডেল। এমন উদাহরণও রয়েছে যে, কোনো কারখানা হয়তো বাড়তি চাহিদা দেখে বেশি উৎপাদন করেছে, আর তার জন্য তাদের নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এর ফলে বাধ্য হয়ে কোম্পানিগুলো বাজারে পণ্য বিক্রি করার পরিবর্তে নিজেদের উৎপাদিত পণ্যই ধ্বংস করে ফেলত।

 

বন্ধুগণ,

 

আজ যারা 'মেক ইন ইন্ডিয়া' এবং 'আত্মনির্ভর ভারত' অভিযানের উপহাস করেন, তাদের পূর্বপুরুষদের চিন্তাধারা ঠিক এমনই ছিল: পিএলপি বা 'উৎপাদন-ভিত্তিক শাস্তি' (প্রডাকশন লিংকড পানিশমেন্ট)। এই ধরনের কাজের পেছনে ছিল এক বিকৃত মানসিকতা। এই মানসিকতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা সর্বদা চাইত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঘাটতি বজায় থাকুক। নাগরিকদের বঞ্চনার মধ্যে রাখাটাই ছিল তাদের নীতি। তারা চাইত মানুষ তাদের সামনে হাত জোড় করে দাঁড়াক, ভিক্ষা চাক—আপনারা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন আমি কাদের কথা বলছি। মানুষকে হাত জোড় করতে বাধ্য করার পর তারা এমন আচরণ করত যেন তারা কোনো বড় উপকার করছে। সেই সরকারগুলোর কার্যপদ্ধতি ছিল এমনই, আর তাই তারা 'উৎপাদন-ভিত্তিক শাস্তি'র মডেল অনুসরণ করত। আপনারা কল্পনা করতে পারেন, এর মাধ্যমে তারা কর্মসংস্থান সৃষ্টির মূল নীতিকেই গলা টিপে হত্যা করেছিল। আর আশ্চর্যের বিষয় হলো—তাদের অনুচররা, আমি আবারও বলছি, তাদের অনুচররা এর বিরুদ্ধে কখনোই কোনো কথা বলেনি।

 

বন্ধুগণ,

 

যেকোনো সংস্কারই শুরু হয় চিন্তাধারা, মানসিক কাঠামো এবং কাজের পরিধি পরিবর্তনের মাধ্যমে। আগে যেখানে উৎপাদন বাড়ালে শাস্তি পেতে হতো, আজ আমাদের সরকার উৎপাদন বাড়ানোর জন্য উৎসাহ বা প্রণোদনা দেয়। আর আজ পিএলআই স্কিমের সাফল্য সারা বিশ্ব দেখছে। শুধুমাত্র এই একটি স্কিমের কারণেই—আমি সব স্কিমের কথা বলছি না, মাত্র একটির কথা বলছি—প্রায় ২.৫ লক্ষ কোটি টাকার প্রকৃত বিনিয়োগ হয়েছে। ২২ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি উৎপাদন ও বিক্রি হয়েছে। ১৫ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি রপ্তানি হয়েছে। এবং ১৪ লক্ষেরও বেশি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। আর আমি আপনাদের আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছি—এই পরিসংখ্যান কেবল একটি স্কিমের। একবার ভেবে দেখুন: আগের 'লাইসেন্স রাজ'-এর আমলের সেই 'শাস্তি-ভিত্তিক মডেল' বেকারত্ব বাড়িয়েছিল, আর আজ আমাদের 'প্রণোদনা-ভিত্তিক মডেল' লক্ষ লক্ষ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে।

 

বন্ধুগণ,

 

আজ ভারতে এই দ্রুত উন্নয়ন ও দ্রুত সংস্কার সম্ভব হচ্ছে কারণ ভারতে…—এবং সত্য যেমনটা একটু আগেই উল্লেখ করলেন—রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রয়েছে এবং আমাদের নীতিতে ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে। আগে যারা দেশে সংস্কারের কথা বলতেন, তাঁরা কেবল ঘোষণা দিতেন, কিন্তু পরে তা ভুলে যেতেন। কিন্তু আমরা সংস্কারের জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ বা কর্মপরিকল্পনা তৈরি করেছি। এই রোডম্যাপের মূল দিকটিই হলো—শাসনব্যবস্থার স্তরে সংস্কার! আর এ কারণেই, একবিংশ শতাব্দীর ভারতে আমরা কেবল নিয়মকানুনই পাল্টাচ্ছি না, বরং নিয়মকানুনের পুরো দর্শন বা দৃষ্টিভঙ্গিই বদলে ফেলছি। আগে নিয়মকানুনের ক্ষেত্রে দৃষ্টিভঙ্গি ছিল এমন: "অনুমতি না থাকলে নিষিদ্ধ" (প্রহিবিটেড আনলেস পারমিটেড)। অর্থাৎ, আগে সরকারের অনুমতি না পাওয়া পর্যন্ত কোনো কাজ করা যেত না। আমরা এখন এই দৃষ্টিভঙ্গি বদলে ‘নিষিদ্ধ না হলে অনুমোদিত’ (পারমিটেড আনলেস প্রহিবিটেড)-এর নীতি গ্রহণ করছি। এর অর্থ হলো, আইন অনুযায়ী যেসব কাজ স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ নয়, সেগুলোর জন্য প্রতিটি ধাপে অনুমতির প্রয়োজন হওয়া উচিত নয়। আর এই চিন্তাধারার পেছনে রয়েছে একটি অত্যন্ত সাধারণ বিষয়—সরকার ও নাগরিকের মধ্যকার সম্পর্কের ভিত্তি হওয়া উচিত বিশ্বাস, অবিশ্বাস নয়।

 

বন্ধুগণ,

 

‘জন বিশ্বাস বিল’-এর মধ্যেও এই চিন্তাধারার প্রতিফলন দেখা যায়। আমি মনে করি, প্রতিটি পদ্ধতিগত ভুলকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা ঠিক নয়। তাই অনেক অপরাধকে ফৌজদারি অপরাধের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে কারাদণ্ডের পরিবর্তে কেবল আর্থিক জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। সরকার ও শিল্প-উদ্যোগের মধ্যকার সম্পর্কের ক্ষেত্রেও আমরা সংস্কারের এই একই মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে চলেছি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ৪০,০০০-এরও বেশি নিয়মকানুন বা কমপ্লায়েন্সের বোঝা দূর করা হয়েছে—পুরো চল্লিশ হাজার। দেড় হাজারেরও বেশি পুরোনো ও অপ্রয়োজনীয় আইন বাতিল করা হয়েছে। আর যখন আপনি এই সমস্ত সংস্কারকে সামগ্রিকভাবে বিবেচনা করবেন, তখন বুঝতে পারবেন যে আমাদের শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর থেকে কতটা বোঝা লাঘব হয়েছে।

 

বন্ধুগণ,

 

আমরা শাসনব্যবস্থা সংস্কারের এই প্রক্রিয়ায় নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছি। সংসদের সাম্প্রতিক বর্ষাকালীন অধিবেশনে আমরা 'ব্যাঙ্কার্স বুক এভিডেন্স বিল' পাস করেছি। আর তা এমন এক সময়ে করা হয়েছে যখন বিরোধী দল সংসদে ক্রমাগত অচলাবস্থা সৃষ্টি করছিল। আমরা দেশসেবার কাজকে থমকে যেতে দিইনি। এই আইনটি এখন ঊনবিংশ শতাব্দীর সেই পুরনো ব্রিটিশ আইনের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে। এখন ব্যাংকের ডিজিটাল নথিপত্র বা রেকর্ডের গ্রহণযোগ্যতাকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে আইনি জটিলতা কমবে, ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আসবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা সহজতর হবে।

 

বন্ধুগণ,

 

শাসনব্যবস্থায় সংস্কারের একটি অর্থ হলো এমন সব ব্যবস্থা গড়ে তোলা যা প্রত্যেক মানুষের জীবন ও সময়ের প্রতি সংবেদনশীল। আমি রেলওয়ের উদাহরণ দিচ্ছি। আমাদের রেলওয়েতেও এই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করা হয়েছে। আজ ৬,৫০০-এরও বেশি রেলওয়ে স্টেশনে ইলেকট্রনিক ইন্টারলকিং ব্যবস্থা চালু রয়েছে। ১০,০০০-টিরও বেশি লেভেল ক্রসিং গেটকেও ইন্টারলকিং ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে মানুষের ভুলের কারণে দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা অনেক কমে গেছে।

 

বন্ধুগণ,

 

২০১৪ সালে যখন আমাদের সরকার ক্ষমতায় আসে, তখন প্রায় ৯,০০০টি অরক্ষিত রেলক্রসিং (যেখানে কোনো কর্মী বা গেট নেই) ছিল। এই অব্যবস্থা ঠিক করা কোনো কঠিন কাজ ছিল না। অরক্ষিত ক্রসিংয়ের কারণে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, কিন্তু আগের সরকারগুলো এ বিষয়ে খুব একটা গুরুত্ব দেয়নি। আমরা গত দশ বছরে 'মিশন মোড'-এ কাজ করে এই অরক্ষিত ক্রসিং-এর অব্যবস্থা পুরোপুরি দূর করেছি। এছাড়া আমরা রোড ওভারব্রিজ ও রোড আন্ডারব্রিজ নির্মাণের গতিও বহুগুণ বাড়িয়েছি। আর এর ফলস্বরূপ, ২০১৪ সালের আগের তুলনায় ট্রেন দুর্ঘটনার সংখ্যা ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। বারো বছর আগে বছরে প্রায় ১৫০টি রেল দুর্ঘটনা ঘটত। এখন সেই সংখ্যা কমে ১৫-২০-তে নেমে এসেছে। এবং আমরা এটি আরও কমানোর জন্য নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

 

বন্ধুগণ,

 

রেলওয়েতে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাও শাসনব্যবস্থা সংস্কারের একটি বড় উদাহরণ। এক সময় রেললাইনের ওপর আবর্জনা ও মানুষের মলমূত্র পড়ে থাকাটা একটা বড় সমস্যা ছিল। আজ পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে গেছে। ২০১৪ সালের আগে আমাদের ট্রেনগুলোতে প্রায় ১২,০০০ বায়ো-টয়লেট বসানো হয়েছিল। ২০১৪ সালের পর ট্রেনগুলোতে ৩,৬০,০০০-এরও বেশি বায়ো-টয়লেট বসানো হয়েছে। এর অর্থ হলো, গত ১২ বছরে ৯৭ শতাংশেরও বেশি বায়ো-টয়লেট স্থাপন করা হয়েছে। এই পরিবর্তনটি কেবল পরিচ্ছন্নতা বা সাফ-সাফাইয়ের বিষয় নয়; এটি যাত্রীদের মর্যাদা, পরিচ্ছন্নতা এবং একটি আধুনিক ভারত গড়ার লক্ষ্যে সুশাসনের এক নতুন মডেল। এটি কোটি কোটি যাত্রীকে আরও ভালো অভিজ্ঞতা প্রদানের একটি অভিযানও বটে।

 

বন্ধুগণ,

 

সুশাসনের মানের আরেকটি মাপকাঠি হলো সময়ানুবর্তিতা। কোনো প্রকল্প শুরু হলে তা যথাসময়ে সম্পন্ন হওয়া উচিত। আর মানুষ যে পরিষেবা পায়, তা-ও যেন সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। দিল্লি-মিরাট ‘নমো ভারত’ র‍্যাপিড রেল ব্যবস্থা এর একটি চমৎকার উদাহরণ। এই করিডোরে ট্রেনগুলো ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার গতিতে চলছে। আমাদের দেশে আগে এমনটা কল্পনাও করা যেত না। এখন পর্যন্ত ৪ কোটি (৪০ মিলিয়ন)-এরও বেশি যাত্রী এতে ভ্রমণ করেছেন। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে যা নিয়ে সাধারণত আলোচনা হয় না—দিল্লি-মিরাট ‘নমো ভারত’ র‍্যাপিড রেলের সময়ানুবর্তিতার হার ৯৯.৯ শতাংশ। অথচ আগে কোনো কাজে দেরি হলে আমরা বলতাম, “এটা তো ইন্ডিয়ান টাইম (ভারতীয় সময়)।” এখন সময় বদলেছে। আমি এই ছোটখাটো বিষয়গুলোর কথা উল্লেখ করছি যাতে আমরা বুঝতে পারি যে কাজটা কতটা ব্যাপক ও বিস্তৃত। একইভাবে দিল্লি মেট্রোর সময়ানুবর্তিতার কথাও বলা যায়। দিল্লি মেট্রোর সময়ানুবর্তিতার হারও ৯৯.৯ শতাংশ। আর এই সময়ানুবর্তিতা নিউ ইয়র্ক, হংকং ও প্যারিসের মতো শহরের মেট্রো পরিষেবার প্রায় সমপর্যায়ে পৌঁছেছে। এটি কেবল সময়মতো চলা কোনো মেট্রো বা র‍্যাপিড রেলের গল্প নয়; এটি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভারতের যে পরিবর্তন ঘটছে, তারই পরিচয়। আমি জানি—এবং আমি এমন কেউ নই যে এতেই সন্তুষ্ট হয়ে বসে থাকব—যে এই পথে আমাদের আরও অনেক কিছু করার আছে, অনেক কাজ এখনো বাকি। তবে আমরা নিরন্তর সেই কাজ করে চলেছি। একটি সূচনা হয়েছে এবং সেই সূচনা প্রশংসনীয়।

 

বন্ধুগণ,

 

আমাদের সংস্কার কর্মসূচির আরেকটি বড় দিক হলো নীতিগত স্তরে সংস্কার! আজ আমরা এমন সব নীতি প্রণয়ন করছি যা জনকল্যাণমুখী, প্রবৃদ্ধি-সহায়ক এবং উন্নয়ন-বান্ধব! নীতি হওয়া উচিত দেশের ও জনগণের প্রয়োজনের ভিত্তিতে; এমনটা নয় যে নীতি তৈরি করা হলো আর দেশকে বাধ্য করা হলো সেই নীতি অনুযায়ী চলতে! আমি আপনাদের আরেকটি আকর্ষণীয় উদাহরণ দিতে চাই। মাত্র কয়েক বছর আগেও দেশের মানচিত্র তৈরি করাটা ছিল বেআইনি। মানচিত্র তৈরি করলে তা বেআইনি বলে গণ্য হতো এবং এর জন্য জেলও হতে পারত। এমনকি অনুমতি ছাড়া দেশের ভেতরে মানচিত্র তৈরির কাজও করা যেত না। একবার ভেবে দেখুন—বিদেশি স্যাটেলাইট প্রযুক্তি ভারতের যেকোনো প্রান্তের মানচিত্র তৈরি করতে পারত, অথচ খোদ ভারতেই ভারতীয়দের জন্য ভারতের মানচিত্র তৈরি করা নিষিদ্ধ ছিল।

 

বন্ধুগণ,

 

প্রযুক্তির এই যুগে, কেবল এই একটি বিধিনিষেধই হয়তো অসংখ্য স্টার্টআপের সম্ভাবনাকে অঙ্কুরেই বিনাশ করে দিতে পারত! কত যে উদ্ভাবনী ধারণা বাস্তবায়নের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতো! আমরা এই ব্যবস্থাও পরিবর্তন করেছি। আমরা ভূ-স্থানিক (জিওস্প্যাশিয়াল) ডেটার ওপর থেকে কঠোর নিয়ন্ত্রণ তুলে নিয়েছি এবং আজ এই ডেটা অনেক স্টার্টআপের ভিত্তি হয়ে উঠেছে।

 

বন্ধুগণ,

 

আজ আপনারা প্রতিনিয়ত ড্রোনের ক্রমবর্ধমান উপযোগিতা দেখছেন। কৃষি, প্রতিরক্ষা, পণ্য সরবরাহ, শুটিং বা কন্টেন্ট তৈরির মতো ক্ষেত্রগুলোতে—এসব কিছুই সম্ভব হতো না যদি সরকার এ সংক্রান্ত নিয়মকানুন বা নীতিমালায় প্রয়োজনীয় সংস্কার না করত। আগে দেশে ড্রোন ওড়ানোর বিষয়টি নানা নিয়ম ও বিধিনিষেধের বেড়াজালে আবদ্ধ ছিল। আমরা সেগুলোকে সেই বিধিনিষেধের কবল থেকে মুক্ত করেছি এবং আজ ভারতের ড্রোন শিল্প অভূতপূর্ব গতিতে এগিয়ে চলেছে।

 

বন্ধুগণ,

 

আগে সীমান্ত এলাকা নিয়ে সরকারের চিন্তাভাবনা ছিল এমন যে, সীমান্তে রাস্তাঘাট ও পরিকাঠামো বাড়লে হয়তো শত্রুপক্ষও তার সুবিধা নিতে পারে। আমরা সেই চিন্তাধারা বদলে দিয়েছি। আমরা বলেছি, সীমান্ত পরিকাঠামো কোনো দুর্বলতা নয়, বরং তা জাতির শক্তি। আর সে কারণেই আজ সীমান্ত এলাকায় রাস্তা, সেতু ও টানেলের নেটওয়ার্ক দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। শুধুমাত্র ২০২৪ ও ২০২৫ সালেই বিআরও-এর ২৫০টি পরিকাঠামো প্রকল্প জাতির উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হয়েছে। চিন্তাধারা বদলানোর সাথে সাথেই সীমান্ত পরিকাঠামোর চিত্রও বদলে গেছে।

 

বন্ধুগণ,

 

পারমাণবিক খাতের সংস্কারের উদাহরণও রয়েছে। এমন এক সময়ে যখন উন্নয়ন পুরোপুরি জ্বালানি-নির্ভর ছিল, তখন নানা বিধিনিষেধ ও নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশ তার পারমাণবিক সক্ষমতাকে কাজে লাগাতে পারছিল না। 'শান্তি বিল'-এর মাধ্যমে আমরা এ ক্ষেত্রেও বড় ধরনের সংস্কার সাধন করেছি। আজ ভারতে পারমাণবিক শক্তি খাতে বেসরকারি ক্ষেত্রের জন্য পথ উন্মুক্ত হয়েছে। একইভাবে, আমরা প্রতিরক্ষা খাতেও বড় ধরনের নীতিগত সংস্কার করেছি। ২০০ বছর ধরে চলে আসা ব্যবস্থাকে বদলে আমরা ৪০টিরও বেশি অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি বা সমরাস্ত্র কারখানাকে একত্রিত করে ৭টি কারখানায় রূপান্তর করেছি। আর আমরা এর সুফলও দেখতে পাচ্ছি। আজ ভারত নিজের প্রতিরক্ষা চাহিদার ক্ষেত্রেও আত্মনির্ভর হয়ে উঠছে এবং ২০১৪ সালের তুলনায় আমাদের প্রতিরক্ষা রফতানি ৫৫ গুণ বেড়েছে। আর এ কারণেই, অনেক সময় সংস্কারগুলো আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে এমনভাবে মিশে যায় যে আমরা তা টেরও পাই না। একবার ভেবে দেখুন, আজকের দিনে আপনার সাধারণ সময়টা কীভাবে কাটে। সকালে ঘুম থেকে উঠে আপনি ফোনে ঘরের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের অর্ডার দেন, আর অফিসে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হতে হতে সেই সব জিনিস আপনার বাড়িতে পৌঁছে যায়। আপনার এলাকার রাস্তার ধারের বিক্রেতা থেকে শুরু করে গাড়ির শোরুম—সব ধরনের পেমেন্টই এখন কেবল একটি কিউআর কোড স্ক্যান করেই করা যায়। আপনার মেয়ে যদি অন্য কোনো শহরে পড়াশোনা করে, তবে আপনি ফোনের মাধ্যমেই তাকে টাকা পাঠাতে পারেন এবং সেই টাকা কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তার কাছে পৌঁছে যায়। অনেক সময় মেয়ে হয়তো একটি কিউআর কোড পাঠিয়ে বলে, “বাবা-মা, আমি এই জামাটা কিনেছি, দয়া করে পেমেন্টটা করে দাও”—আর আপনি ঘরে বসেই তার কেনাকাটার পেমেন্ট মিটিয়ে দেন। বিষয়গুলো সত্যিই অসাধারণ, কিন্তু ভারতের মানুষের কাছে এগুলো আর বিস্ময়কর কিছু নয়। বাইরের দেশ থেকে আসা মানুষজন যখন এগুলো দেখেন, তখন তারা অবাক হয়ে যান—ভাবেন, “ওমা! এমনটাও সম্ভব?” অথচ ভারতের মানুষের কাছে এটি এখন প্রাত্যহিক জীবনেরই একটি স্বাভাবিক অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারতের সাধারণ নাগরিক। একবার ভাবুন তো—২০১৪ সালের আগে এর মধ্যে কতগুলো বিষয় আদৌ সম্ভব ছিল?

 

বন্ধুগণ,

 

গত ১০-১২ বছরে জীবনযাত্রার মান সহজ ও উন্নত করার লক্ষ্যে ভারত যেসব সংস্কার সাধন করেছে, তা মানুষের জীবন—বিশেষ করে আমাদের মধ্যবিত্ত শ্রেণির জীবন—এমনভাবে বদলে দিয়েছে যা বিশ্বের অনেক উন্নত দেশেও এখনও কেবল স্বপ্নের মতো।

 

বন্ধুগণ,

 

আজ বিশ্বে সবচেয়ে সস্তা ডেটা পাওয়া যায় ভারতেই। আমরা সাশ্রয়ী মূল্যে উন্নত মানের স্মার্টফোন তৈরি করছি; সত্য (নাদেলা) একটু আগেই তাঁর বক্তব্যে বিষয়টি তুলে ধরেছেন। বিশ্বের যেসব দেশে দ্রুততম গতিতে ৫জি পরিষেবা চালু হচ্ছে, ভারত তাদের মধ্যে অন্যতম। আমরা আধারকে ব্যাংকিং, মোবাইল সংযোগ এবং বিভিন্ন পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত করেছি, যার ফলে ই-কেওয়াইসি এবং ডিজিটাল প্রমাণীকরণের মতো বিষয়গুলো সম্ভব হয়েছে। আজ আপনি যদি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে চান, তবে আপনাকে ব্যাংকে যাওয়ারও প্রয়োজন নেই; সরকারই ব্যাংককে আপনার দোরগোড়ায় নিয়ে এসেছে। বিল পরিশোধ করা হোক বা টিকিট বুক করা—কোনো সরকারি অফিসে যাওয়ার প্রয়োজন নেই; এসব কাজ এখন অনলাইনেই সম্পন্ন হয়। আয়কর রিটার্ন দাখিল করাও অনেক সহজ হয়ে গেছে। এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে যেখানে ফর্মের অধিকাংশ তথ্য আগে থেকেই পূরণ করা থাকে। আপনি কেবল তথ্যগুলো যাচাই করেন, প্রয়োজনীয় সংযোজন করেন এবং জমা দেন—ব্যাস, আপনার কাজ শেষ। আগে রিফান্ড বা টাকা ফেরত পেতে মাসের পর মাস সময় লাগত, আর এখন তা মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই পাওয়া যায়।

 

বন্ধুগণ,

 

আজ 'ই-সঞ্জীবনী'র সহায়তায়—যদিও বিষয়টি নিয়ে হয়তো খুব বেশি আলোচনা হয় না—দূর-দূরান্তের গ্রামের মানুষ যেকোনো জায়গা থেকে সরাসরি চিকিৎসকদের পরামর্শ নিতে পারছেন এবং চিকিৎসার পথ বেছে নিতে পারছেন। আগে যাদের হাসপাতালে পৌঁছানোর জন্য বহু কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হতো, আজ তারা ঘরে বসেই, নিজেদের স্ক্রিনেই ডাক্তারকে পাচ্ছেন। আর এই সংখ্যাটি নিশ্চিতভাবেই আপনাকে অবাক করবে—যা দেখায় যে ভারত কীভাবে প্রযুক্তিকে আপন করে নিয়েছে এবং সাধারণ মানুষের জীবনকে কতটা সহজ করে তুলেছে। এখন পর্যন্ত 'ই-সঞ্জীবনী'র মাধ্যমে প্রায় ৫০ কোটি (৫০০ মিলিয়ন) টেলি-কনসালটেশন বা দূর-চিকিৎসা পরামর্শ সম্পন্ন হয়েছে।

 

বন্ধুগণ,

 

আজ ভারতে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা বদলে যাচ্ছে; ভারতীয় নাগরিকদের যাত্রার ধরন সম্পূর্ণ পরিবর্তিত হয়েছে। এই হলে এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে, যিনি বিমানবন্দরে 'ডিজি-যাত্রা' ব্যবহার করেননি। একইভাবে, আজকাল অনেক কাজই অত্যন্ত সহজে ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হচ্ছে। হাইওয়েতে এখন ফাস্ট-ট্যাগ চালু রয়েছে, যার ফলে গাড়ি না থামিয়েই টোল দেওয়া এবং এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে। এটাই হলো ‘জীবনযাত্রার সহজীকরণ’ বা ‘ইজ অফ লিভিং’-এর প্রকৃত অর্থ। এতে সময় বাঁচছে, জীবন সহজ হচ্ছে এবং কোটি কোটি মানুষ নিজেদের অগ্রগতির দিকে মনোযোগ দিতে পারছেন।

 

বন্ধুগণ,

 

রাজনীতিতে প্রায়শই সেই সিদ্ধান্তগুলোই শিরোনামে উঠে আসে যার প্রভাব তাৎক্ষণিক—অর্থাৎ যার আয়ুষ্কাল মাত্র ২৪ ঘণ্টা। আগের সরকারগুলো নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে নানা ঘোষণা দেওয়ার নীতি অনুসরণ করত। কিন্তু সেই ধরনের ঘোষণা দেশের কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি। প্রকৃত পরিবর্তন তাঁরাই আনে— যাদের সকল সিদ্ধান্তের প্রভাব বাস্তবে দৃশ্যমান হয় এবং যা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ—উভয়কেই বিবেচনায় রেখে নেওয়া হয়।

 

বন্ধুগণ,

 

‘পিএম কুসুম’ যোজনা এবং ‘পিএম সূর্যঘর ফ্রি ইলেকট্রিসিটি’ যোজনা এর অনন্য উদাহরণ। কুসুম যোজনার মাধ্যমে কৃষকরা বিদ্যুৎ সংক্রান্ত দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পেয়েছেন। আর সূর্যঘর যোজনার ফলে মধ্যবিত্ত শ্রেণি ব্যাপকভাবে উপকৃত হয়েছে।

 

বন্ধুগণ,

 

আমি জানি, যদি আমি ঘোষণা করতাম যে আজ থেকে লক্ষ লক্ষ পরিবারের জন্য বিদ্যুৎ বিনামূল্যে দেওয়া হবে, তবে সমস্ত সংবাদমাধ্যম, টিভি চ্যানেল এবং খবরের কাগজে বড় বড় শিরোনাম হতো—"মোদীজি আজ বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দেওয়ার ঘোষণা করলেন।" কিন্তু আমরা সম্পূর্ণ ভিন্ন এক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ শুরু করেছিলাম। আমরা প্রতিটি বাড়ির ছাদে ‘সূর্য’ (সৌরশক্তি) নিয়ে আসার সংকল্প করেছিলাম। আর আজ দেশের ৫০ লক্ষেরও বেশি পরিবার ‘পিএম সূর্যঘর ফ্রি ইলেকট্রিসিটি’ যোজনার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বাড়ির ছাদে সোলার প্ল্যান্ট বসাতে সরকার এই পরিবারগুলোকে ২২ হাজার কোটি টাকারও বেশি সহায়তা দিয়েছে। এখন এই পরিবারগুলো অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করছে। তাদের নিজেদের বিদ্যুৎ বিল শূন্য হয়ে গেছে এবং তারা আয়ও করতে শুরু করেছে। এই যোজনা মানুষের স্বপ্নকেও প্রসারিত করছে। বিদ্যুৎ বিল কমে যাওয়ায় মানুষ এখন রেফ্রিজারেটর, কুলার, ওয়াশিং মেশিন ও টিভির মতো জিনিস কিনছে। এখন আর বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে দুধ নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয় বা দুশ্চিন্তা নেই। এখন স্কুলগামী শিশুরা রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারে। আমি আবারও বলছি—নির্বাচন হোক বা না হোক, এই ‘সূর্যঘর’ এবং এর আলো চিরকাল থাকবে। এই প্ল্যান্টের সুফল বছরের পর বছর ধরে দেশের পরিবারগুলোর কাছে পৌঁছাতে থাকবে।

 

বন্ধুগণ,

 

আগামী দিনগুলোতে ‘জীবনযাত্রার সহজীকরণ’ এবং ‘ব্যবসা-বাণিজ্যের সহজীকরণ’ — উভয় ক্ষেত্রেই আরও প্রসার ঘটবে। দেশের যুবসমাজ, নারীশক্তি, কৃষক, দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর জন্য আমাদের সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাবে। আমাদের সংস্কার-প্রক্রিয়া আরও দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলবে। একটি উন্নত ভারত গড়ার লক্ষ্য পূরণে আমরা পূর্ণ নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাব। আর আমার বিশ্বাস—ভারতের ভবিষ্যৎ যদি সুরক্ষিত হয়, তবে এই মাটি থেকেই বিশ্বের ভবিষ্যৎকে স্থিতিশীল করার এক মহান কাজ সম্পন্ন হবে। এই আস্থার জায়গা থেকেই বলছি — ভারত যত বেশি স্থিতিশীল ও সুরক্ষিত হবে, বিশ্বকে নিরাপত্তা ও নিশ্চয়তার অনুভূতি জোগানোর শক্তিও ততটাই এখান থেকে উঠে আসবে। এই সক্ষমতা ও সংকল্প নিয়ে আমি আবারও আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি আজকের অনুষ্ঠানে আমাকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য ‘ইকোনমিক টাইমস’-এর দলকে ধন্যবাদ। বন্দে মাতরম!

 

প্রধানমন্ত্রী মূল ভাষণটি হিন্দিতে দিয়েছিলেন 

 

SC/SB/DM


(रिलीज़ आईडी: 2302365) आगंतुक पटल : 2
इस विज्ञप्ति को इन भाषाओं में पढ़ें: English , Urdu , हिन्दी , Gujarati , Telugu