PIB Backgrounder
azadi ka amrit mahotsav

খনি ও খনিজ (উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ) সংশোধনী বিল, ২০২৬

प्रविष्टि तिथि: 18 AUG 2026 8:29PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ১৮ আগস্ট, ২০২৬

 

খনিজনির্ভর উন্নয়নে আরও জোরালো পদক্ষেপ

খনিজ নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন দিক

বর্তমান বিশ্বে পুঁজি ও প্রযুক্তির পাশাপাশি, খনিজ সম্পদ অর্জনের প্রতিযোগিতাও বাড়ছে। ইস্পাত, সিমেন্ট, বিদ্যুৎ, ইলেকট্রনিক্স, পরিবহণ এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের ভিত্তি খনিজ সম্পদ। এই সম্পদের নিরবচ্ছিন্ন ও ন্যায্য বণ্টন জাতীয় নিরাপত্তা এবং সাধারণ মানুষের জীবিকা, দুই ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ।

ভারতে খনি ও খনিজ ক্ষেত্র খনি ও খনিজ (উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ) আইন, ১৯৫৭-এর অধীনে নিয়ন্ত্রিত হয়। খনি ও খনিজ (উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ) সংশোধনী বিল, ২০২৬-এর মাধ্যমে এই আইনে সংশোধন আনা হয়েছে। খনি ও খনিজ ক্ষেত্রের জন্য অভিন্ন ও ভারসাম্যপূর্ণ রাজস্ব কাঠামো গড়ে তোলাই এই বিলের লক্ষ্য। বিল অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকারের নির্ধারিত শর্ত ছাড়া রাজ্য সরকারগুলি খনিজ অধিকারের উপর বা খনিজসমৃদ্ধ জমির উপর নতুন কর আরোপ করতে পারবে না। সংসদের দুই কক্ষেই বিলটি গৃহীত হয়েছে।

সংস্কারের প্রয়োজন: গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সমাধানে পদক্ষেপ

ভারতের খনিজ সম্পদের বড় অংশ কয়েকটি রাজ্যে রয়েছে। এই সম্পদ দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকে সহায়তা করে। ফলে খনিজের উপর কর আরোপ জাতীয় গুরুত্বের বিষয়।

অনিয়ন্ত্রিত এবং রাজ্যভেদে ভিন্ন কর ও আরোপ খনির আর্থিক কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করছে। শিল্প এবং সাধারণ মানুষের ব্যয়ও বাড়ছে। খনি ও খনিজ (উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ) সংশোধনী বিল, ২০২৬ খনিজের উপর কর আরোপে পূর্বানুমানযোগ্যতা, অভিন্নতা এবং যুক্তিসঙ্গত ব্যবস্থা আনতে চায়।

জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য খনির আর্থিক কার্যকারিতা গুরুত্বপূর্ণ

বিশ্বব্যাপী অনিশ্চয়তা বাড়ার ফলে শক্তিশালী দেশীয় খনি ক্ষেত্রের গুরুত্ব বেড়েছে। বহিরাগত ধাক্কার প্রভাব কমাতে সরকার গুরুত্বপূর্ণ খনিজের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

আমদানি নির্ভরতা কমাতে কয়লা ক্ষেত্রকে আরও প্রতিযোগিতামূলক এবং প্রযুক্তিনির্ভর করে তোলা হচ্ছে। এই দুই ক্ষেত্রেই কার্যকর ও পূর্বানুমানযোগ্য কর ব্যবস্থা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

একই কার্যকলাপের উপর একাধিক কর ও আরোপ

বর্তমানে খনি কার্যক্রমের উপর রাজ্যগুলি প্রায় ১৪ ধরনের কর, মূল্য এবং ফি আরোপ করে। এর মধ্যে রয়্যালটি, নিলাম প্রিমিয়াম, ডেড রেন্ট, ডিএমএফে অর্থ প্রদান, জিএসটি এবং পরিবহণ ফি রয়েছে। কয়েকটি রাজ্য খনিজসমৃদ্ধ জমির উপরও অতিরিক্ত কর আরোপ শুরু করেছে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে এই হার ২০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে। বিলটি খনি ক্ষেত্রের উপর এই ক্রমবর্ধমান ও অনির্দিষ্ট আর্থিক বোঝার সমাধানে পদক্ষেপ নিয়েছে।

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের উপর আরোপ

গ্র্যাফাইটের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং ইউরেনিয়ামের মতো পারমাণবিক খনিজের উপরও কর আরোপ করা হয়। উচ্চ হারের কারণে এই ধরনের কৌশলগত খনিজ উত্তোলন আর্থিকভাবে অলাভজনক হয়ে উঠতে পারে। রাজ্যভেদে ভিন্ন হার ক্ষেত্রের মধ্যে বৈষম্যও তৈরি করে। কৌশলগত খনিজ প্রকল্পগুলিকে বাণিজ্যিক ভাবে কার্যকর রাখতে কর ব্যবস্থার যুক্তিসঙ্গত পরিবর্তন প্রয়োজন।

বৈদেশিক মুদ্রার উপর দ্বিমুখী চাপ

ভারতীয় খনিজের দাম আমদানি করা খনিজের তুলনায় বেশি হলে ইস্পাতের মতো ব্যবহারকারী শিল্পগুলি বিদেশ থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ করে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারত ১০,১২,৫২৯ কোটি টাকার খনিজ আমদানি করেছে। অন্য দিকে, বেশি দামের কারণে দেশীয় খনিজ রপ্তানি বাজারেও প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে শুধু লৌহ আকরিক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ১৫,১৩৬ কোটি টাকা। আত্মনির্ভর খনিজ ক্ষেত্র গড়ে তুলতে এই ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।

জাতীয় খনিজ বাজারে বিভাজনের সমস্যা

রাজ্যভেদে কর ও আরোপের বড় পার্থক্যের ফলে বিভিন্ন অঞ্চলে খনিজের দামে উল্লেখযোগ্য তারতম্য হয়। এর প্রভাব সরবরাহ শৃঙ্খলের উপর পড়ে। পরিবহণ এবং সরবরাহ ব্যয়ও বাড়ে। বিচ্ছিন্ন কর কাঠামোর মধ্যে অভিন্ন জাতীয় খনিজ বাজার কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব নয়। বিলটি আরও বেশি অভিন্নতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে।

অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা শেষ পর্যন্ত পরিবারের উপর

খনি পর্যায়ে আরোপ করা কর সরাসরি খনিজের দামের সঙ্গে যুক্ত হয়। পরে সেই ব্যয় ইস্পাত, সিমেন্ট, বিদ্যুৎ এবং নির্মাণের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত বাড়ি, বিদ্যুৎ এবং প্রয়োজনীয় পণ্যের জন্য সাধারণ মানুষকে বেশি দাম দিতে হয়। ফলে, খনি করের যুক্তিসঙ্গত ব্যবস্থা দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত।

কর্মসংস্থানের উপর আশঙ্কা, বিশেষত জনজাতি অধ্যুষিত এলাকায়

কয়লা ক্ষেত্র প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে ৫ লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান করে। অ-কয়লা ক্ষেত্রের উপর নির্ভরশীল কর্মীর সংখ্যা ১ কোটির বেশি। উচ্চ হারের আরোপের কারণে ইতিমধ্যেই কয়েকটি খনি বন্ধ হয়েছে। অন্য কিছু প্রকল্প এখনও কাজ শুরু করতে পারেনি। ক্ষুদ্র ও মাঝারি সংস্থাগুলি কম লাভের মধ্যে কাজ করে। আর্থিক চাপ বাড়লে তাদের কার্যক্রম আগে বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এর ফলে, স্থানীয় কর্মসংস্থানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগে প্রতিবন্ধকতা

স্থিতিশীল এবং পূর্বানুমানযোগ্য কর কাঠামো থাকলে বিনিয়োগকারীরা খনি ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী পুঁজি বিনিয়োগে উৎসাহ পান।

হঠাৎ পরিবর্তন বিনিয়োগের আগ্রহ কমাতে পারে। প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং খনি-সংক্রান্ত পরিকাঠামোর সম্প্রসারণও ধীর হতে পারে।

উৎপাদন, প্রতিরক্ষা, জাহাজ চলাচল, নির্মাণ এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি ক্ষেত্র খনিজ সম্পদের উপর নির্ভরশীল।

বিলের মাধ্যমে স্থিতিশীল ব্যবস্থা গড়ে তুলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিলের প্রধান বিধান

খনি ও খনিজ (উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ) সংশোধনী বিল, ২০২৬-এ ১৯৫৭ সালের আইনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন আনা হয়েছে।

নতুন ধারা ৯ডি: রাজ্যের আরোপের উপর সীমা

কোনও রাজ্য সরকার খনিজ অধিকার বা খনিজসমৃদ্ধ জমির উপর কর, সেস বা অন্য কোনও ধরনের আরোপ করতে পারবে না। খনিজের পরিমাণ, মূল্য, রয়্যালটি বা অন্য কোনও ভিত্তিতে আরোপের ক্ষেত্রেও এই বিধান প্রযোজ্য। কেন্দ্রীয় সরকারের নির্ধারিত শর্ত ও সীমাবদ্ধতা মেনেই এই ধরনের আরোপ করা যাবে।

অতীতের আরোপের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা

সংশোধনী কার্যকর হওয়ার আগে কোনও রাজ্য সরকার এমন কোনও আরোপ নির্ধারণ করলেও তা এখনও আদায় বা জমা না হলে সেটি অবৈধ বলে গণ্য হবে। তবে, সংশোধনী কার্যকর হওয়ার আগে ইতিমধ্যেই জমা বা আদায় করা অর্থ ফেরত দিতে হবে না।

ধারা ১৩ অনুযায়ী বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা

খনি ও খনিজ (উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ) আইন-এর ধারা ১৩ সংশোধন করে কেন্দ্রীয় সরকারকে বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

এই বিধিতে রাজ্য সরকারগুলির এ ধরনের আরোপের শর্ত ও সীমাবদ্ধতা নির্ধারিত হবে।

রাজ্যগুলির আয় ও স্বার্থ পুরোপুরি সুরক্ষিত

২০১৪ সালের পর স্বচ্ছ নিলামভিত্তিক ব্যবস্থার ফলে খনিজ থেকে রাজ্যগুলির আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। খনি ও খনিজ (উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ) সংশোধনী বিল, ২০২৬ এই ব্যবস্থায় কোনও পরিবর্তন আনছে না। খনি ক্ষেত্রের আয়ের বড় অংশ রাজ্যগুলি আগের মতোই পেতে থাকবে।

এক দশকে রাজস্ব বৃদ্ধি, বড় অংশ রাজ্যের হাতে

২০১৪ সালের আগে খনিজ ক্ষেত্রে খনি বরাদ্দ ও নবীকরণের ক্ষেত্রে বিবেচনাধিকার এবং অস্বচ্ছতার অভিযোগ ছিল। মামলাও ছিল বেশি। উৎপাদন কম ছিল। রাজ্যগুলির আয়ও সীমিত ছিল। এর পর থেকে খনিজ উৎপাদন থেকে রাজ্যগুলির আয় ৩৫৪ শতাংশ বেড়েছে। কয়লা-সহ খনিজ ক্ষেত্র থেকে রাজ্যগুলি ৭ লাখ কোটি টাকার বেশি আয় করেছে।

বর্তমানে খনি ক্ষেত্রের মোট আয়ের প্রায় ৯০ শতাংশ রাজ্যগুলির কাছে যায়।

কয়লা ও অ-কয়লা মিলিয়ে মোট খনিজ আয়ে রাজ্যগুলির অংশীদারিত্ব এক দশকে প্রায় ২৮ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে। ২০২৫-২৬ সালে এই অঙ্ক প্রায় ১,১৪,৫৪৯.২৮ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। কয়লা ক্ষেত্রেও এই পরিবর্তন স্পষ্ট। ২০১৪-১৫ সালে রাজ্যগুলি পেয়েছিল ১১,৯৪৭.৯৭ কোটি টাকা। মোট আয়ের ৫৫.৬ শতাংশ ছিল এই অংশ। ২০২৫-২৬ সালে রাজ্যগুলির প্রাপ্তি বেড়ে হয়েছে ৩২,১৮৩.০৯ কোটি টাকা। মোট আয়ের ৮৯.৫ শতাংশ রাজ্যগুলির কাছে গিয়েছে। একই সময়ে কেন্দ্রের অংশ ৯,৫৩৪.২৪ কোটি টাকা থেকে কমে হয়েছে ৩,৭৭১.৮২ কোটি টাকা। মোট আয়ে কেন্দ্রের অংশ ২২.৯৭ শতাংশ থেকে কমে ১০.৫ শতাংশ হয়েছে। প্রধান খনিজ উৎপাদনকারী রাজ্যগুলি ২০১৩-১৪ অর্থবর্ষে পেয়েছিল ১৩,৫৮৬.১৬ কোটি টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে এই আয় বেড়ে হয়েছে ৮২,৩৬৬.১৯ কোটি টাকা। বস্তুত, ১২ বছরে এই বৃদ্ধির চক্রবৃদ্ধি বার্ষিক হার ১৬.২০ শতাংশ। ২০১৫-১৬ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের মধ্যে এই রাজ্যগুলি ৫ লাখ কোটি টাকার বেশি পেয়েছে। একই সময়ে কেন্দ্রের প্রাপ্তি ছিল প্রায় ৮২,০০০ কোটি টাকা। বিলটি এই ব্যবস্থায় কোনও পরিবর্তন আনছে না।

নিলাম প্রিমিয়াম থেকে অতিরিক্ত আয়

২০১৫ সালে নিলাম ব্যবস্থা শুরু হওয়ার পর রাজ্যগুলির জন্য নিলাম প্রিমিয়াম একটি নতুন আয়ের উৎস হিসেবে যুক্ত হয়েছে।

২০১৫ সাল থেকে ১,২০০টি কার্যকর খনি থেকে রাজ্যগুলি রয়্যালটি বাবদ ২.৩২ লাখ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে।

মাত্র ১০০টি নিলাম হওয়া খনি থেকে রাজ্যগুলির নিলাম প্রিমিয়াম বাবদ আয় হয়েছে ৯৬,০০০ কোটি টাকা।

ওড়িশা ৭৯টি নিলাম হওয়া ব্লকের মধ্যে ৩৫টি কার্যকর করেছে। ২০২০-২১ থেকে ২০২৫-২৬ পর্যন্ত নিলাম প্রিমিয়াম বাবদ রাজ্যটির আয় প্রায় ৮৭,০০০ কোটি টাকা।

একটি লৌহ আকরিক চালানের ক্ষেত্রে এই আয়ের বণ্টন স্পষ্ট।

প্রতি টন লৌহ আকরিকের গড় বিক্রয়মূল্য ৩,০০০ টাকা হলে খনি সংস্থাকে মোট ৩,১৫০ টাকা দিতে হয়। এর মধ্যে ৩,০১৬ টাকা রাজ্যের কাছে যায়। বিল কার্যকর হওয়ার পরেও এই ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

ক্ষুদ্র খনিজ সম্পূর্ণভাবে রাজ্যের নিয়ন্ত্রণে

প্রায় ৫০ ধরনের ক্ষুদ্র খনিজ সম্পূর্ণ ভাবে রাজ্য সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিলটির এই খনিজগুলির উপর কোনও প্রভাব নেই। বালি, নুড়ি, কাদামাটি, সিলিকা, গ্রানাইট, মার্বেল, জিপসাম এবং ল্যাটেরাইট এই তালিকায় রয়েছে। এই খনিজগুলির উপর রাজ্যের অধিকার আগের মতোই থাকবে।

২০১৪ সালের পর খনিজ ক্ষেত্রে সংস্কার: গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ

রাজ্যগুলির আয় বৃদ্ধির পিছনে এক দশকের নিয়ন্ত্রণমূলক, আর্থিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ভূমিকা রয়েছে। এই পদক্ষেপগুলি খনিজ ক্ষেত্রকে আরও স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক করেছে। ভবিষ্যতের চাহিদা মেটানোর প্রস্তুতিও শক্তিশালী হয়েছে। 

প্রতিযোগিতামূলক ই-নিলাম এবং খনি কার্যক্রমে নতুন রেকর্ড

২০১৫ সালের খনি ও খনিজ (উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ) আইন সংশোধনের মাধ্যমে বিবেচনাধিকারভিত্তিক খনি বরাদ্দের অবসান ঘটানো হয়। তার পর থেকে ১৭টি রাজ্যে ৭২৩টি প্রধান খনিজ ব্লক নিলাম করা হয়েছে। রাজস্থান ১৪০টি ব্লক নিয়ে শীর্ষে রয়েছে। মধ্যপ্রদেশে ১২৭টি এবং ওড়িশায় ৭৬টি ব্লক নিলাম হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে রেকর্ড ২১২টি ব্লক নিলাম করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৬টি কার্যকর হয়েছে। কয়লা ক্ষেত্রে ১৪১টি খনি নিলাম করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৩টি কার্যকর হয়েছে।

উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বিশ্বে ভারতের অবস্থান

২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে প্রধান খনিজের উৎপাদনমূল্য ২৬.৮ শতাংশ বেড়েছে।

লৌহ আকরিকের উৎপাদন রেকর্ড ৩১.৩ কোটি টনে পৌঁছেছে।

চুনাপাথরের উৎপাদন হয়েছে ৪৮.৪ কোটি টন।

গত দু'বছর ধরে প্রতি বছর কয়লা উৎপাদন ১০০ কোটি টন অতিক্রম করেছে।

২০১৪ সালের তুলনায় কয়লা বহির্ভূত খনিজ উৎপাদন প্রায় তিন গুণ হয়েছে।

চুনাপাথর উৎপাদনে ভারত বিশ্বে দ্বিতীয়। দস্তা উৎপাদনে তৃতীয়। আকরিক লৌহ উৎপাদনে চতুর্থ। বক্সাইট উৎপাদনে পঞ্চম।

জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ খনিজ মিশন এবং বিদেশে উৎস অনুসন্ধান

জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ খনিজ মিশন ২০২৫ সালের ২৯ জানুয়ারি অনুমোদিত হয়েছে।

২০৩০-৩১ অর্থবর্ষ পর্যন্ত এই মিশনের জন্য ১৬,৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে বাজেট সহায়তা ২,৬০০ কোটি টাকা।

ভারতীয় ভূতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণ সংস্থা এবং জাতীয় খনিজ অনুসন্ধান ও উন্নয়ন ট্রাস্ট ১,২০০টি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে।

জাতীয় খনিজ অনুসন্ধান ও উন্নয়ন ট্রাস্টের অনুমোদিত ৭৭৭টি প্রকল্পে মোট ব্যয় ৩,৮২৮.৫২ কোটি টাকা।

এর মধ্যে ২৫৫টি প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সঙ্গে যুক্ত।

২০২৫ সালের সংশোধনের ফলে জাতীয় খনিজ অনুসন্ধান ও উন্নয়ন ট্রাস্ট বিদেশেও অনুসন্ধান কাজে সহায়তা করতে পারবে।

খনিজ বিদেশ ইন্ডিয়া লিমিটেড আর্জেন্টিনায় লিথিয়াম অনুসন্ধানের একচেটিয়া অধিকার পেয়েছে।

প্রক্রিয়াকরণ, পুনর্ব্যবহার এবং গবেষণার সক্ষমতা

গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পুনর্ব্যবহারের জন্য ১,৫০০ কোটি টাকার উৎসাহমূলক প্রকল্প ২০২৫ সালের ২ অক্টোবর শুরু হয়েছে।

মোট ৫৮টি সংস্থা বছরে ৮.৫ লাখ টন সক্ষমতা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

এই প্রকল্পের লক্ষ্যমাত্রা বছরে ২.৭ লাখ টন।

অন্ধ্রপ্রদেশ, গুজরাট, ওড়িশা এবং মহারাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ প্রক্রিয়াকরণ পার্ক গড়ে তুলতে ৫০০ কোটি টাকা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

পরপর তিনটি বাজেটে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির বর্জ্য এবং প্রক্রিয়াকরণের জন্য প্রয়োজনীয় মূলধনী যন্ত্রপাতির উপর মৌলিক শুল্ক তুলে দেওয়া হয়েছে।

মহা মিশন-এর আওতায় ২১০ কোটি টাকা সহায়তায় নয়টি প্রতিষ্ঠানকে উৎকর্ষ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী খনিজ অনুসন্ধান ব্যবস্থা

২০১৪ সালের তুলনায় খনিজ অনুসন্ধানের কাজ প্রায় ২০০ গুণ বেড়েছে। বর্তমানে ৫১টি বেসরকারি সংস্থাকে এই কাজের জন্য স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। জাতীয় খনিজ অনুসন্ধান ও উন্নয়ন ট্রাস্টে অবদানের হার ৩ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। সরাসরি অনুসন্ধান ব্যয়ের অর্ধেক ফেরত দেওয়া হয়। অনুসন্ধান লাইসেন্সধারীদের জন্য সর্বোচ্চ সীমা ২০ কোটি টাকা। যৌথ লাইসেন্সধারীদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সীমা ৮ কোটি টাকা। ২০২৫-২৬ ফিল্ড সিজনে ভারতীয় ভূতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণ ৪৫৭টি প্রকল্প সম্পন্ন করেছে। এর মধ্যে ২৩০টি প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত খনিজের সঙ্গে যুক্ত। জাতীয় খনিজ অনুসন্ধান ও উন্নয়ন ট্রাস্ট ২০২৪-২৫ সালে এ ধরনের ৬২টি প্রকল্পে অর্থ সহায়তা করেছে। ২০২৫-২৬ সালে এই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৮৪।

সহজতর কার্যক্রম এবং ডিজিটাল নজরদারি

খনি লিজের ক্ষেত্রে একবারে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত এলাকা সম্প্রসারণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

যৌথ লাইসেন্সের ক্ষেত্রে এই সীমা সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ।

নিজস্ব ব্যবহারের খনি থেকে খনিজ বিক্রির সর্বোচ্চ সীমাও তুলে দেওয়া হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ, কৌশলগত অথবা গভীরস্থ খনিজ কোনও লিজে যুক্ত করার জন্য অতিরিক্ত অর্থ প্রদানের বিধানও তুলে দেওয়া হয়েছে।

রাজ্যগুলির সহযোগিতায় তৈরি ইউনিফায়েড মাইনিং পোর্টাল নিলাম থেকে কার্যকর হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি ব্লকের সম্পূর্ণ পর্যায় পর্যবেক্ষণ করে।

কয়লা ও খনিজ বিনিময় ব্যবস্থাও ন্যায্য মূল্য নির্ধারণে সহায়তা করছে।

খনি-প্রভাবিত মানুষের জন্য সরাসরি সুবিধা

প্রধানমন্ত্রী খনিজ ক্ষেত্র কল্যাণ যোজনা এবং ৬৫৬টি জেলা খনিজ ফাউন্ডেশন স্থানীয় মানুষের কল্যাণে কাজ করছে।

এর মধ্যে ১০৬টি উচ্চাকাঙ্ক্ষী জেলা রয়েছে।

ডিএমএফের সম্পূর্ণ অর্থ স্থানীয় প্রকল্পে ব্যয় করা হয়।

জেলা প্রশাসন স্থানীয় প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যয়ের সিদ্ধান্ত নেয়।

রাস্তা, হাসপাতাল, স্কুল, পানীয় জল এবং উন্নত জীবনযাত্রার জন্য এই অর্থ ব্যবহার করা হয়।

নতুন বিল কার্যকর হওয়ার পরেও এই অর্থ সংগ্রহ ও ব্যয়ের ব্যবস্থায় কোনও পরিবর্তন হবে না।

বিলের প্রধান সুবিধা

খনি ও খনিজ (উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ) সংশোধনী বিল, ২০২৬ খনি ক্ষেত্রকে আরও শক্তিশালী করবে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় উন্নয়নে সহায়তা করবে।

সাধারণ মানুষের সুবিধা

প্রতিযোগিতামূলক দামে কয়লা পাওয়া গেলে বিদ্যুতের ব্যয় কমাতে সহায়তা মিলবে। কম খনিজ ব্যয় শিল্প, পরিকাঠামো, অর্থনৈতিক বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানকে শক্তিশালী করবে। উৎপাদন, পরিকাঠামো ও অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে। 

বিকশিত ভারতের পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ

বিলটি আরও প্রতিযোগিতামূলক, স্বচ্ছ, পূর্বানুমানযোগ্য এবং বিনিয়োগবান্ধব খনি ক্ষেত্র গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।

এর ফলে, বিনিয়োগ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান, জ্বালানি নিরাপত্তা, জাতীয় নিরাপত্তা এবং আত্মনির্ভরতা শক্তিশালী হবে।

আগামী পথ

খনি ও খনিজ (উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ) সংশোধনী বিল, ২০২৬ ভারতের খনিজ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে আধুনিক করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। স্থিতিশীল ও অভিন্ন আর্থিক কাঠামোর মাধ্যমে খনিজ অনুসন্ধান, গুরুত্বপূর্ণ খনিজের নিরাপত্তা এবং সুস্থায়ী সম্পদ উন্নয়নকে শক্তিশালী করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য। এই পদক্ষেপগুলি বিকশিত ভারতের পথে দেশের অগ্রযাত্রাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।

Parliament of India:

https://sansad.in/ls/legislation/bills

Office of Union Minister for Coal and Mines:

https://x.com/KishanReddyOfc/status/2086816534840905747/photo/1

 

Click to see pdf

 

*******
SSS/SS.........


(रिलीज़ आईडी: 2301054) आगंतुक पटल : 6
इस विज्ञप्ति को इन भाषाओं में पढ़ें: English , Urdu , Tamil