PIB Backgrounder
বিশ্ব গজ দিবস
प्रविष्टि तिथि:
12 AUG 2026 11:27AM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ১২ অগাস্ট, ২০২৬
বিশ্ব গজ দিবস হাতির পরিবেশগত ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব চিহ্নিত করে। বিশ্বের বন্য এশীয় হাতির প্রায় ৬০ শতাংশের আবাসস্থল ভারত। ‘প্রজেক্ট এলিফ্যান্ট’, হাতি সংরক্ষণ ক্ষেত্র এবং সুরক্ষিত করিডর বা অলিন্দের মাধ্যমে দেশে হাতি সংরক্ষণ আরও শক্তিশালী হয়েছে। বৈজ্ঞানিক নজরদারি, প্রযুক্তিনির্ভর সংরক্ষণ এবং স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ মানুষ ও হাতির সহাবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করছে। হাতি, বাস্তুতন্ত্র ও ভারতের প্রাকৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় এই উদ্যোগগুলি সরকারের দীর্ঘমেয়াদী অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
ভারতের অরণ্যে শান্ত স্বভাবের অতিকায়
বিশ্বের বন্য এশীয় হাতির প্রায় ৬০ শতাংশ ভারতে রয়েছে। হাতি ভারতের প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বাস্তুতন্ত্রে হাতি এক গুরুত্বপূর্ণ প্রজাতি। এরা অরণ্যের গঠন, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
২০২১-২৫ সালের সিঙ্ক্রোনাস অল ইন্ডিয়া পপুলেশন এস্টিমেশন অফ এলিফ্যান্টস (SAIEE) অনুযায়ী, ভারতে বন্য হাতির সংখ্যা ২২,৪৪৬। বস্তুত, ৩৩টি হাতি সংরক্ষণ ক্ষেত্র এবং চিহ্নিত ১৫০টি করিডরের মাধ্যমে তাদের সুরক্ষা দেওয়া হচ্ছে।
এই সমৃদ্ধ হাতি ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি, বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার দায়িত্বও হাতে নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। প্রতি বছর ১২ আগস্ট বিশ্ব গজ দিবস পালিত হয়। এই দিনটি হাতি সংরক্ষণে ধারাবাহিক উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে। ভারতে আবাসস্থল নষ্ট হওয়া, আবাসস্থলের বিভাজন, চোরাশিকার, অবৈধ বন্যপ্রাণী বাণিজ্য এবং মানব-গজ সংঘাত মোকাবিলায় নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আইনগত সুরক্ষা, আবাসস্থল সংরক্ষণ, বৈজ্ঞানিক নজরদারি ও স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণের পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাও সংরক্ষণ কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করছে।
ভারতে হাতির দীর্ঘস্থায়ী গুরুত্ব
হাতি ভারতের প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাস্তুতন্ত্রের স্বাস্থ্য, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং স্থানীয় মানুষের জীবনধারায় হাতির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
পরিবেশগত গুরুত্ব
হাতি অরণ্যের গঠন ও বাস্তুতন্ত্রের কার্যকারিতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এরা পরিযায়ী প্রকৃতির প্রাণী। তাদের বিচরণক্ষেত্র ১০০ থেকে ৩,০০০ বর্গকিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। দীর্ঘ পথ চলার সময় এরা বিভিন্ন চলাচলের পথ ও জলাধার তৈরি করে। এর ফলে, অন্যান্য বন্যপ্রাণীও উপকৃত হয়।
হাতির খাদ্যাভ্যাস পুষ্টির পুনঃচক্রায়নে সহায়তা করে। বীজ ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে তারা অরণ্যের পুনর্জন্মে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর ফলে বিচ্ছিন্ন অরণ্যাঞ্চলের মধ্যে সংযোগ বাড়ে এবং জিনগত বৈচিত্র্য বজায় রাখার অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়। তাই হাতি সংরক্ষণ অরণ্যের স্বাস্থ্য, পরিবেশগত সংযোগ এবং বৃহত্তর জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সাংস্কৃতিক ও সামাজিক গুরুত্ব
শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ভারতের ধর্মীয় ঐতিহ্য, সাংস্কৃতিক রীতি এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের পরিচয়ের সঙ্গে হাতি জড়িয়ে রয়েছে। উত্তর ভারতের ঐতিহ্যে ভগবান গণেশ জ্ঞান ও বাধা দূর করার প্রতীক। প্রাচীনকালে রাজকীয় প্রতীক হিসাবে হাতি ক্ষমতা ও মর্যাদার প্রতীক ছিল। দক্ষিণ ভারতের ধর্মীয় আচার ও উৎসবেও মন্দিরের হাতির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন সম্প্রদায় ভগবান গণেশকে নিজেদের দেবতার প্রকাশ হিসাবে পূজা করে এবং হাতিকে গভীর শ্রদ্ধার চোখে দেখে। কিছু সম্প্রদায়ের কাছে হাতি প্রবীণ ও জ্ঞানের প্রতীক। এই ঐতিহ্য ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সামাজিক জীবনে হাতির দীর্ঘস্থায়ী গুরুত্ব তুলে ধরে।
সংখ্যায় ভারতের হাতি সংরক্ষণের চিত্র
সংরক্ষণ ক্ষেত্র থেকে হাতি করিডর বা হাতি অলিন্দ পুনরুদ্ধার পর্যন্ত বিভিন্ন পরিসংখ্যান ভারতে হাতি সংরক্ষণে দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের চিত্র তুলে ধরে।
প্রজেক্ট এলিফ্যান্ট : সমন্বিত সংরক্ষণ কাঠামো
প্রজেক্ট এলিফ্যান্ট হাতি সংরক্ষণে ভারত সরকারের প্রধান কর্মসূচি। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রকের অধীনে পরিচালিত এই কর্মসূচির মাধ্যমে হাতির আবাসস্থল সংরক্ষণ, বন্দী হাতির সুরক্ষা এবং মানুষ-হাতি সংঘাত কমাতে রাজ্যগুলিকে আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর নজরদারি, রেডিও কলার, জিনগত তথ্যভান্ডার এবং আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে বিজ্ঞানভিত্তিক সংরক্ষণেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
হাতির জন্য সাব্যস্ত করিডর বা অলিন্দের সুরক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ
ভারতে হাতি সংরক্ষণে হাতি করিডর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মানুষের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড-সহ বিভিন্ন কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া প্রাকৃতিক আবাসস্থলগুলিকে এই করিডর সংযুক্ত করে। নিরাপদ চলাচলের সুযোগ দিয়ে করিডরগুলি হাতির সুস্থ ও জিনগতভাবে বৈচিত্র্যময় জনসংখ্যা বজায় রাখতে এবং মানুষ-হাতি সংঘাত কমাতে সাহায্য করে। পরিবেশগত সংযোগ বজায় রেখে দীর্ঘমেয়াদে হাতির জনসংখ্যার স্থায়িত্বও নিশ্চিত করে। প্রজেক্ট এলিফ্যান্টের অধীনে ১৪টি হাতি-বিস্তৃত রাজ্যে হাতি করিডর চিহ্নিত ও যাচাই করা হয়েছে।
‘এলিফ্যান্ট করিডরস অফ ইন্ডিয়া, ২০২৩’ অনুযায়ী, ভারতের চারটি অঞ্চলে মোট ১৫০টি হাতি করিডর রয়েছে। এর মধ্যে পূর্ব-মধ্য অঞ্চলে ৫২টি, উত্তর-পূর্বে ৪৮টি, দক্ষিণে ৩২টি এবং উত্তরে ১৮টি করিডর রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে সর্বাধিক ২৬টি করিডর, যা দেশের মোট করিডরের ১৭ শতাংশেরও বেশি। এই নেটওয়ার্কে ১৯টি আন্তঃরাজ্য এবং ভারত ও নেপালের মধ্যে সংযোগকারী ছয়টি আন্তঃসীমান্ত করিডর রয়েছে।
নজরদারি অনুযায়ী, ৫৯টি করিডরে হাতির চলাচল বেড়েছে, ২৯টিতে স্থিতিশীল রয়েছে, ২৯টিতে কমেছে এবং ১৫টি করিডরের পরিস্থিতি বিঘ্নিত অবস্থায় রয়েছে। এই করিডরগুলি সুরক্ষিত রাখলে হাতির আবাসস্থলের মধ্যে সংযোগ বজায় থাকে, মানুষ-হাতি সংঘাত কমে এবং ভারতে হাতির দীর্ঘমেয়াদী সংরক্ষণ আরও শক্তিশালী হয়।
সংরক্ষণ ক্ষেত্রের পরিধি বাড়ছে
২০১৪ সালের পর থেকে হাতি সংরক্ষণ ক্ষেত্রের পরিধি ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। বর্তমানে ১৪টি প্রধান হাতি-বিস্তৃত রাজ্যে মোট ৮০,৭৭৭ বর্গকিলোমিটার এলাকা হাতি সংরক্ষণ ক্ষেত্রের আওতায় রয়েছে। এর ফলে, অতিরিক্ত ৮,৬১০ বর্গকিলোমিটার গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল সুরক্ষার আওতায় এসেছে। পরিবেশগত সংযোগ আরও শক্তিশালী হয়েছে। বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনাও উন্নত হয়েছে। ভারতের বন্য হাতির দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষার ভিত্তি আরও মজবুত হয়েছে।
প্রজেক্ট এলিফ্যান্ট, বৈজ্ঞানিক জনসংখ্যা নিরূপণ, সংরক্ষিত এলাকা এবং সংযুক্ত করিডর মিলিয়ে হাতি সংরক্ষণ এখন সমন্বিত ভূদৃশ্যভিত্তিক কর্মসূচিতে পরিণত হয়েছে। ঐতিহ্যগত সংরক্ষণমূল্যবোধের সঙ্গে আধুনিক বিজ্ঞানকে যুক্ত করে এশীয় হাতির ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংখ্যার বাইরে : প্রতিটি হাতির সুরক্ষা
হাতির সংখ্যা নিরূপণ সংরক্ষণের একটি অংশমাত্র। দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যের জন্য নিরাপদ আবাসস্থল, শক্তিশালী আইনি সুরক্ষা এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান জরুরি। সরকার বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, পরিকাঠামো ও জনকল্যাণকে একত্র করে সমন্বিত সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। এর মাধ্যমে অরণ্যের ভিতরে এবং অরণ্যের বাইরের যৌথ ভূদৃশ্যেও হাতির সুরক্ষা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
হাতি সংরক্ষণ ক্ষেত্রের ব্যবস্থাপনায় নতুন পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে। ২০২৩ সালে এলিফ্যান্ট রিজার্ভের ম্যানেজমেন্ট এফেক্টিভনেস ইভ্যালুয়েশন কাঠামো চালু হয়। শিবালিক, কাজিরাঙা-কার্বি আংলং, ময়ূরভঞ্জ এবং নীলগিরি সংরক্ষণ ক্ষেত্রে এর পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা হয়। এই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে CAMPA তহবিলের সহায়তায় দেশের অন্যান্য হাতি সংরক্ষণ ক্ষেত্রেও এই কাঠামো প্রয়োগ করা হচ্ছে। পরিমাপযোগ্য সংরক্ষণ ফলাফলের ভিত্তিতে স্বচ্ছ মূল্যায়ন ও পরিবর্তনশীল ব্যবস্থাপনার ব্যবস্থা গড়ে উঠছে।
সম্প্রতি দেশের হাতি-বিস্তৃত সব অঞ্চলের জন্য আঞ্চলিক কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। হাতির বিচরণ রাজ্যসীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাই আবাসস্থলের সংযোগ, মানুষ-হাতি সংঘাত এবং ভূদৃশ্য ব্যবস্থাপনার মতো সমস্যার সমাধানে বিভিন্ন রাজ্যের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এই কর্মপরিকল্পনা সেই সমন্বয়ের জন্য অভিন্ন কাঠামো তৈরি করছে।
রেলপথে হাতির সুরক্ষা
রেলপথ দিয়ে যাতায়াতের ফলে হাতির মৃত্যু কমাতে সরকার একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। মোট ৩,৪৫২.৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ১২৭টি সংবেদনশীল রেলপথে যৌথ সমীক্ষা চালানো হয়েছে। মোট ১৪টি রাজ্যের ১,৯৬৫.২ কিলোমিটার জুড়ে ৭৭টি অংশে হাতি সুরক্ষায় পরিকাঠামোগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭০৫টি আন্ডারপাস, ওভারপাস, র্যাম্প, লেভেল ক্রসিং এবং সেতু সংস্কারের মতো ব্যবস্থা রয়েছে।
অপটিক্যাল ফাইবারনির্ভর অনুপ্রবেশ শনাক্তকরণ ব্যবস্থা, ভূকম্পন সেন্সর এবং থার্মাল ক্যামেরার মতো প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হচ্ছে। AI-নির্ভর ডিস্ট্রিবিউটেড অ্যাকোস্টিক সেন্সিং ব্যবস্থা লোকো পাইলট, স্টেশন মাস্টার ও নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রে তাৎক্ষণিক সতর্কবার্তা পাঠায়।
হাতির সঙ্গে ট্রেনের প্রতিটি সংঘর্ষ সংশ্লিষ্ট রাজ্যের বন দফতরের সঙ্গে যৌথভাবে তদন্ত করা হয়। এই ধারাবাহিক উদ্যোগের ফলে ট্রেনের ধাক্কায় হাতির মৃত্যু ২০১৩ সালের ২৬টি থেকে ২০২৪ সালে ১২টিতে নেমেছে। মৃত্যু কমেছে ৫০ শতাংশেরও বেশি।
জিনগত তথ্যের সাহায্যে বন্দী হাতির সুরক্ষা
বিজ্ঞানভিত্তিক নজরদারির মাধ্যমে বন্দী হাতির অবৈধ বাণিজ্য ও স্থানান্তর রোধে সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। বন্যপ্রাণী (সুরক্ষা) আইন, ১৯৭২ অনুযায়ী হাতি বিক্রি, পরিবহণ ও সংগ্রহ সংক্রান্ত বিষয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য রাজ্যের প্রধান বন্যপ্রাণী সংরক্ষকদের কাছে পাঠানো হয়।
‘গজ সূচনা’ মোবাইল অ্যাপ-এর মাধ্যমে নিবন্ধিত প্রতিটি বন্দি হাতির DNA প্রোফাইল, শারীরিক বৈশিষ্ট্য এবং মালিকানা সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে জাতীয় জিনগত তথ্যভান্ডার তৈরি হয়েছে। হাতি স্থানান্তরের আগে তার পরিচয় যাচাই করা হয়। আইনি প্রক্রিয়ায় নির্ভরযোগ্য ফরেনসিক প্রমাণ হিসাবেও এই তথ্যভান্ডার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে স্থানীয় মানুষের পাশে
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকার ‘প্রজেক্ট টাইগার ও এলিফ্যান্ট’ এবং ‘ডেভেলপমেন্ট অব ওয়াইল্ডলাইফ হ্যাবিট্যাটস’-এর অধীনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে আর্থিক সহায়তা দেয়।
মৃত্যু বা স্থায়ীভাবে অক্ষমতার ক্ষেত্রে ১০ লক্ষ টাকা।
গুরুতর আঘাতের ক্ষেত্রে ২ লক্ষ টাকা।
সামান্য আঘাতের চিকিৎসায় ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।
রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের নিয়ম অনুযায়ী ফসল ও সম্পত্তির ক্ষতিতেও ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়।
মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাত মোকাবিলায় হিউম্যান-ওয়াইল্ডলাইফ কনফ্লিক্ট অ্যাডভাইজরি-র মাধ্যমে হটস্পট চিহ্নিতকরণ, দ্রুত প্রতিক্রিয়া দল, রাজ্য ও জেলা পর্যায়ের পর্যালোচনা কমিটি এবং দ্রুত ক্ষতিপূরণের সুপারিশ করা হয়েছে। ২০২৩ সালে জারি হওয়া হাতি সংক্রান্ত সংঘাত মোকাবিলার নির্দেশিকাও বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়িয়েছে। এর ফলে, হাতি ও মানুষের নিরাপদ সহাবস্থান আরও মজবুত হচ্ছে।
শ্রদ্ধা থেকে দায়িত্ব
ভারতের সঙ্গে হাতির সম্পর্ক সভ্যতার ঐতিহ্য ও আধুনিক সংরক্ষণ ভাবনার এক অনন্য সমন্বয়। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে শ্রদ্ধার সঙ্গে দেখা হাতি আজও প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভারতের অঙ্গীকারের প্রতীক। বৈজ্ঞানিক গবেষণা, প্রযুক্তি, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ এই সংরক্ষণ প্রয়াসকে আরও শক্তিশালী করছে।
হাতির আবাসস্থল সুরক্ষা, সংরক্ষণ ক্ষেত্রের পরিধি বৃদ্ধি, করিডর রক্ষা, রেলপথে হাতির নিরাপত্তা এবং বন্দী হাতির চলাচল নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে একটি সমন্বিত সংরক্ষণ কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। মানুষ-হাতি সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ব্যবস্থাও সহাবস্থানকে আরও শক্তিশালী করছে।
বিশ্ব গজ দিবস ২০২৬-এ ভারতের হাতি সংরক্ষণের অঙ্গীকার আরও দৃঢ় হয়েছে। সুরক্ষিত আবাসস্থল, পুনরুদ্ধার করা করিডর এবং স্থানীয় মানুষের অংশীদারিত্ব এশীয় হাতির ভবিষ্যৎ আরও নিরাপদ করছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ভারতের প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
তথ্যসূত্র
MINISTRY OF ENVIRONMENT, FOREST AND CLIMATE CHANGE
Others
World Elephant Day
*****
SSS/AS.....
(रिलीज़ आईडी: 2298265)
आगंतुक पटल : 8