কৃষিমন্ত্রক
ফসল বৈচিত্র্যকরণ ও ক্ষুদ্র সেচ
प्रविष्टि तिथि:
04 AUG 2026 4:18PM by PIB Kolkata
নতুন দিল্লি, ৪ আগষ্ট , ২০২৬
কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রকের অধীন ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ এগ্রিকালচারাল রিসার্চ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের শস্য বিন্যাস এবং জলসম্পদ সংক্রান্ত বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে সমীক্ষা করেছে। সেন্ট্রাল গ্রাউন্ড ওয়াটার বোর্ড -এর তথ্য এবং গ্রেস উপগ্রহের তথ্যের ভিত্তিতে আইসিএআর-এর সমীক্ষায় দেখা গেছে পাঞ্জাব, হরিয়ানা, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা, মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক এবং তামিলনাডুর মতো রাজ্যগুলিতে শস্য বিন্যাসের জন্য প্রয়োজনীয় জলের চাহিদা এবং প্রকৃত জল-প্রাপ্যতার মধ্যে অসামঞ্জস্য রয়েছে। এছাড়া, স্থানীয় কৃষি-জলবায়ু পরিস্থিতিতে প্রাপ্ত জলের ব্যবহার এবং বাজারের সুযোগ-সুবিধার কথা মাথায় রেখে ভারতের শস্য বিন্যাস বিষয়ক মানচিত্র প্রস্তুত করা হয়েছে। বিশেষ করে দানাশস্য-নির্ভর পদ্ধতির বিকল্প হিসেবে অন্য ধরণের শস্য চাষকে পদ্ধতিও চিহ্নিত করা হয়েছে।
পাশাপাশি, আইসিএআর ১৪টি প্রধান ফসলের—যেমন ধান, গম, ভুট্টা, বাজরা, জোয়ার, অড়হর, ছোলা, সয়াবিন, সর্ষে, চিনাবাদাম, কার্পাস তুলো, আখ, আলু এবং পেঁয়াজ—প্রভৃতি কৃষি পরিমণ্ডল ও জেলাভিত্তিক শস্য পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছে। এই পরিকল্পনা রূপায়নে রিলেটিভ স্প্রেড ইনডেক্স, রিলেটিভ ইল্ড ইনডেক্স, সাস্টেইনেবল ইল্ড ইনডেক্স এবং সয়েল-ক্লাইমেট সুইটেবিলিটি ইনডেক্স-এর মতো সূচকগুলিকে যুক্ত করা হয়েছে।
ধান, আখ, কার্পাস এবং পাট হলো ভারতে উৎপাদিত প্রধান জল-নির্ভর ফসল। এগুলি সম্মিলিতভাবে প্রায় ৬২.৭ মিলিয়ন হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়, যা দেশের মোট শস্য চাষের এলাকার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। স্থানীয় জল-প্রাপ্যতার সাথে শস্য বিন্যাসের সামঞ্জস্য বিধানের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে, আইসিএআর বৃষ্টিপাত ও জল-প্রাপ্যতার নিরিখে এই প্রধান জল-নির্ভর ফসলগুলির চাষের বিষয়টি পর্যালোচনা করেছে। এই পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে, বার্ষিক ৬৫০ মিলিমিটারের কম বৃষ্টিপাত হয় এমন ৬৮টি জেলায় প্রায় ২.৮৯ মিলিয়ন হেক্টর জমিতে ধান চাষ করা হয়, যা মোট ধান চাষের এলাকার প্রায় ৫.৬৭ শতাংশ। একইভাবে, বার্ষিক ৭০০ মিলিমিটারের কম বৃষ্টিপাত হয় এমন ৯১টি জেলায় প্রায় ০.৭২১ মিলিয়ন হেক্টর জমিতে আখ চাষ করা হয়, যা মোট আখ চাষের এলাকার প্রায় ১০.৭৬ শতাংশ। এই মূল্যায়নগুলি স্থান নির্দিষ্ট শস্য বৈচিত্র্যকরণকে উৎসাহিত করার জন্য বৈজ্ঞানিক ভিত্তি প্রদান করে। জল-সংকটপূর্ণ অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ জলস্তর নেমে যাচ্ছে, সেইসব জায়গায় জল-নিরাপত্তা, কৃষকদের জীবিকা এবং কৃষি-উৎপাদনশীলতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতেও এই প্রক্রিয়া সহায়তা করে। সরকার স্থানীয় জলের প্রাপ্যতা, মাটির বৈশিষ্ট্য, কৃষি-জলবায়ুগত উপযোগিতা এবং প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই ব্যবহারের বিষয়গুলো বিবেচনা করে অধিক জল নির্ভর ফসলের পরিবর্তে তুলনামূলকভাবে কম জল-প্রয়োজনীয় ফসল যেমন ডাল, তৈলবীজ, মিলেট এবং উদ্যানজাত ফসল—চাষের ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য আনয়নের উদ্যোগ নিচ্ছে।
এছাড়াও, আইসিএআর মাটি পরীক্ষার ভিত্তিতে সুষম ও সমন্বিত পুষ্টি ব্যবস্থাপনায় সয়েল টেস্ট ক্রপ রেসপন্স-র ওপর ভিত্তি করে সারের ব্যবহার এবং স্থান-নির্দিষ্ট পুষ্টির তথা অণু-পুষ্টি উপাদান বা মাইক্রো-নিউট্রিয়েন্টের মানচিত্র তৈরির মাধ্যমে মাটির স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনাকে উৎসাহিত করে। মাটির উর্বরতা সময়মতো যাচাই এবং স্থান-নির্দিষ্ট পুষ্টি ব্যবস্থাপনার সুবিধার্থে কাউন্সিল দ্রুত ও কার্যকর মাটি পরীক্ষার কিট এবং ডিজিটাল সিদ্ধান্ত-সহায়ক সরঞ্জাম তৈরি করেছে। সুষম সার প্রয়োগ, পুষ্টির ব্যবহারের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং মাটির স্বাস্থ্য বজায় রাখার লক্ষ্যে কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র, প্রথম সারির প্রদর্শনী এবং কৃষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধির কর্মসূচির মাধ্যমে এই প্রযুক্তিগুলো ছড়িয়ে দিচ্ছে।
সরকারের পক্ষ থেকে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ এগ্রিকালচারাল রিসার্চ -এর নেতৃত্বে গবেষণা, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং ক্ষেত্র পর্যায়ের প্রদর্শনীর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী জল নিরাপত্তা ও জলবায়ু-সহনশীল কৃষিকে উৎসাহিত করছে। এই উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে বৃষ্টির জল সংরক্ষণ, খামারের পুকুর ও অন্যান্য উপরিভাগের জল সংরক্ষণের কাঠামো তৈরি, ভূগর্ভস্থ জল ঘাটতি পূরণ, উপরিভাগের ও ভূগর্ভস্থ জলের যৌথ ব্যবহার, সংরক্ষিত জলের বহুমুখী ব্যবহার, মাটির আর্দ্রতা রক্ষা, অণু-সেচ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেন্সর ও আবহাওয়ার ওপর ভিত্তি করে সেচের সময়সূচি নির্ধারণ ও পরামর্শ ব্যবস্থা, জল ব্যবহারের দক্ষতা ও জলবায়ু-সহনশীলতা বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়া অধিক জল-নির্ভর ফসলের পরিবর্তে ডাল, তৈলবীজ, ভুট্টা ও কৃষি-বনজ চাষের মতো শস্য বৈচিত্র্যকরণকেও উৎসাহিত করা হচ্ছে।
ন্যাশনাল ইনোভেশনস ইন ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট এগ্রিকালচার-এর অধীনে খরা, বন্যা, লবণাক্ততা প্রভৃতি ক্ষেত্রে ১৫১টি ঝুঁকিপূর্ণ জেলায় জলবায়ু-সহনশীল গ্রাম গড়ে তোলায় উৎসাহ দিয়েছে। এছাড়া ৬৫১টি জেলার জন্য কৃষি সংক্রান্ত জরুরি পরিকল্পনা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং কেভিকে-র মাধ্যমে আবহাওয়া-ভিত্তিক কৃষি-পরামর্শ ও কৃষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধির কার্যক্রমও পরিচালিত হচ্ছে। এই উদ্যোগগুলিকে ন্যাশনাল মিশন ফর সাসটেইনেবল এগ্রিকালচার, প্রধানমন্ত্রী কৃষি সিঞ্চাই যোজনা-র আওতায় পার ড্রপ মোর ক্রপ ও ওয়াটারশেড ডেভেলপমেন্ট কম্পোনেন্টএবং প্রধানমন্ত্রী ধান-ধান্য কৃষি যোজনার মতো সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে সহায়তা প্রদান করা হয়। এই প্রকল্পগুলি জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত পরিস্থিতির মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং পরিবেশ-বান্ধব ও টেকসই কৃষি পদ্ধতিকে সহায়তা করে।
আজ লোকসভায় এক লিখিত উত্তরে এতথ্য জানিয়েছেন কৃষি ও কৃষক কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী শ্রী ভগীরথ চৌধুরী।
SC/AB/SG
(रिलीज़ आईडी: 2294415)
आगंतुक पटल : 7