PIB Backgrounder
সমুদ্র মন্থন – জাতীয় সমুদ্রতীরাতিক্রান্ত অনুসন্ধান প্রকল্প
জ্বালানি সম্পদের সন্ধানে সমুদ্র মন্থন
प्रविष्टि तिथि:
03 AUG 2026 5:59PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ৩ আগস্ট ২০২৬
সমুদ্র মন্থন ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা ও আত্মনির্ভরতার পথে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ২০৩০–৩১ অর্থবর্ষ পর্যন্ত প্রথম পর্যায়ে ₹৮৪,০৮৪ কোটি ব্যয়ে এই প্রকল্পের মাধ্যমে ভারতের বিশাল অফশোর হাইড্রোকার্বন সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে অনুসন্ধান কার্যক্রমে গতি আনা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, যৌথ পরিকাঠামো গড়ে তোলা এবং দেশীয় উৎপাদন শিল্পকে শক্তিশালী করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। এর লক্ষ্য ৬০০ এমএমটিওই-রও বেশি হাইড্রোকার্বন মজুত বৃদ্ধি, দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো, আমদানি নির্ভরতা কমানো এবং আন্তর্জাতিক মানের অফশোর জ্বালানি পরিবেশ গড়ে তোলা।
অফশোর বা সমুদ্রতীরাতিক্রান্ত অনুসন্ধানের নতুন অধ্যায়
জ্বালানি আধুনিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রের চালিকাশক্তি। ঘরবাড়ি, কৃষি, শিল্প, পরিবহণ এবং সামগ্রিক অর্থনীতিকে সচল রাখতে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। দ্রুত বিকাশমান ভারতের জন্য নির্ভরযোগ্য, সাশ্রয়ী এবং নিরাপদ জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এখন জাতীয় অগ্রাধিকারের বিষয়।
ভারতের জ্বালানির চাহিদা ক্রমাগত বাড়লেও অপরিশোধিত তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের একটি বড় অংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করতে হয়। ফলে, জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার, আমদানি নির্ভরতা হ্রাস এবং মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের জন্য দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি।
দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সম্পদ হল হাইড্রোকার্বন, যা হাইড্রোজেন ও কার্বন দিয়ে গঠিত জৈব যৌগ। এগুলি স্থলভাগের গভীরে এবং সমুদ্রতলের নিচে পাওয়া যায়। অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসই সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হাইড্রোকার্বন। এগুলি থেকে পেট্রোল, ডিজেল, এলপিজি, পেট্রোরসায়নজাত পণ্য, সার এবং অসংখ্য শিল্পপণ্য উৎপাদিত হয়।
ভারতের সমুদ্রতীরাতিক্রান্ত অববাহিকাগুলিতে বিপুল পরিমাণে অনাবিষ্কৃত হাইড্রোকার্বনের সম্ভাবনা রয়েছে। অববাহিকা বলতে পৃথিবীর এমন একটি বৃহৎ প্রাকৃতিক নিম্নভূমিকে বোঝায়, যেখানে হাইড্রোকার্বন জমা হয়।
এই সম্পদ আহরণের জন্য আধুনিক অনুসন্ধান ব্যবস্থা, নির্ভরযোগ্য ভূতাত্ত্বিক তথ্য, উন্নত ড্রিলিং প্রযুক্তি এবং শক্তিশালী দেশীয় সরবরাহ ব্যবস্থা প্রয়োজন। এই লক্ষ্যেই ২০২৬ সালের ৩১ জুলাই সমুদ্র মন্থন – জাতীয় অফশোর বা সমুদ্রতীরাতিক্রান্ত অনুসন্ধান প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। ২০৩০–৩১ অর্থবর্ষ পর্যন্ত প্রথম পর্যায়ে ₹৮৪,০৮৪ কোটি ব্যয়ে এই প্রকল্প হাইড্রোকার্বন অনুসন্ধান ও উৎপাদন ক্ষেত্রে গতি আনবে।
কেন সমুদ্র ভারতের জ্বালানি ভবিষ্যতের চাবিকাঠি
ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল ব্যবহারকারী দেশ। প্রতি বছর তেল আমদানিতে প্রায় ১৪৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ₹১৩ লক্ষ কোটি ব্যয় হয়।
সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি দেখিয়েছে, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তাই দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতির জন্য দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি অপরিহার্য।
অফশোর সম্ভাবনা
ভারতের ভবিষ্যতের তেল ও গ্যাসের বড় সম্ভাবনা সমুদ্রের গভীরে লুকিয়ে রয়েছে।
ডিপওয়াটার ও আল্ট্রা-ডিপওয়াটার অঞ্চল বলতে গভীর সমুদ্রের সেই অংশকে বোঝায় যেখানে জলের গভীরতা অত্যন্ত বেশি। ভারতের পূর্ব ও পশ্চিম উপকূলীয় সমুদ্রতীরাতিক্রান্ত অববাহিকাগুলি ৩,০০০ মিটার পর্যন্ত গভীরতায় বিস্তৃত।
এই অঞ্চলে ৫,৬০০ এমএমটিওই (মিলিয়ন মেট্রিক টন অয়েল ইকুইভ্যালেন্ট)-এরও বেশি হাইড্রোকার্বন সম্ভাবনা রয়েছে বলে অনুমান করা হয়। কাবেরী, মহানদী এবং আন্দামান অববাহিকায় সাম্প্রতিক আবিষ্কার এই সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করেছে।
গভীর সমুদ্রে অনুসন্ধানের চ্যালেঞ্জ
অনুসন্ধান ব্যয়বহুল এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া। একটি অনুসন্ধান ব্লক বরাদ্দ থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হতে সাধারণত পাঁচ থেকে ১০ বছর সময় লাগে।
একটি ডিপওয়াটার বা গভীর জলে অনুসন্ধানমূলক কূপ খননে প্রায় ১২৫ থেকে ১৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় হয়। এত বিপুল ব্যয়ের কারণে অনেক সময় বিনিয়োগকারীরা এগিয়ে আসতে অনীহা প্রকাশ করেন।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, বর্তমানে উৎপাদনশীল ক্ষেত্রগুলিতে প্রতি বছর স্বাভাবিকভাবে প্রায় ৬ থেকে ৭ শতাংশ উৎপাদন হ্রাস পায়। ফলে বর্তমান উৎপাদন বজায় রাখার জন্যও নতুন আবিষ্কার অপরিহার্য।
এই কারণেই ধারাবাহিক অনুসন্ধান দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার অন্যতম পথ।
সমুদ্র মন্থন প্রকল্পের মূল লক্ষ্য
সমুদ্র মন্থন নীতিগত সংস্কার থেকে বাস্তবভিত্তিক কর্মসূচির দিকে অগ্রগতির প্রতীক।
সীমান্তবর্তী সমুদ্রাঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে এই প্রকল্পে ঝুঁকি ভাগাভাগির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে সমুদ্রতীরাতিক্রান্ত অনুসন্ধানের ঝুঁকি কমানো, বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করা এবং সমগ্র মূল্যশৃঙ্খলে স্থায়ী জাতীয় সক্ষমতা গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
গত এক দশকের সংস্কারকে বাস্তব কর্মসূচিতে রূপ দেওয়াই এর উদ্দেশ্য।
সমুদ্র মন্থনের প্রধান উপাদান
সমুদ্রতীরাতিক্রান্ত অনুসন্ধানের জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য, উন্নত প্রযুক্তি, আধুনিক পরিকাঠামো এবং শক্তিশালী সরবরাহ ব্যবস্থা অপরিহার্য। সমুদ্র মন্থন এই চারটি বিষয়কে একত্রিত করেছে।
ভূকম্পন তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা
অপর্যাপ্ত সমুদ্রতীরাতিক্রান্ত ভূকম্পন তথ্য আহরণের কারণে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের উপযুক্ত স্থান চিহ্নিত করা কঠিন ছিল।
এই প্রকল্পে ₹২৮,৫৩৪ কোটি ব্যয়ে বৃহৎ পরিসরে ২ডি ও ৩ডি ভূকম্পন সমীক্ষা পরিচালিত হবে।
তথ্য বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যায় আধুনিক প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা হবে।
জাতীয় তথ্য ভান্ডারে সংরক্ষিত পুরানো তথ্যও আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে পুনর্বিশ্লেষণ করা হবে।
অফশোর অনুসন্ধানে গতি সঞ্চার
উচ্চ ব্যয় এবং দীর্ঘ সময়ের কারণে গভীর সমুদ্রে ড্রিলিং অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এই ঝুঁকি ভাগ করে নিতে ₹৪৩,২০০ কোটি ব্যয়ে ৬০টি ডিপওয়াটার ও আল্ট্রা-ডিপওয়াটার কূপ খননের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
যোগ্য ব্যয়ের ৫০ শতাংশ, অথবা প্রতি কূপে সর্বোচ্চ ₹৬৭৫ কোটি, যেটি কম হবে, সেই পরিমাণ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
সরকারি ও বেসরকারি উভয় এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন (E&P) সংস্থা এই সুবিধা পাবে।
এর ফলে, তেল ও গ্যাসের মজুত বৃদ্ধি পাবে এবং ভারতের গভীর সমুদ্রের সম্ভাবনা কাজে লাগানো সম্ভব হবে।
যৌথ অফশোর পরিকাঠামো
বিশেষ করে মহানদী এবং কচ্ছ অববাহিকায় বহু তেল ও গ্যাস আবিষ্কার হলেও ব্যয়বহুল পরিকাঠামোর অভাবে সেগুলির উৎপাদন শুরু করা যায়নি।
এই প্রকল্পে ₹১০,০০০ কোটি ব্যয়ে নির্বাচিত অববাহিকায় যৌথ উৎপাদন ও পরিবহণ পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে।
এর ফলে, প্রকল্প ব্যয় কমবে এবং অব্যবহৃত সম্পদ উৎপাদনের আওতায় আসবে।
তেল ও গ্যাস উৎপাদন ও পরিষেবা ক্ষেত্র
দেশীয় উৎপাদন সীমিত হওয়ায় অনুসন্ধানের ব্যয়, আমদানি নির্ভরতা এবং বৈদেশিক মুদ্রার বহিঃপ্রবাহ বৃদ্ধি পায়।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ₹২,০০০ কোটি ব্যয়ে একটি সমন্বিত তেল ও গ্যাস উৎপাদন ও পরিষেবা ক্ষেত্র গড়ে তোলা হবে।
এখানে উৎপাদন, মেরামতি, গুদামজাতকরণ, প্রকৌশল পরিষেবা এবং অন্যান্য পরিষেবা গড়ে তোলা হবে।
এর মাধ্যমে মেক ইন ইন্ডিয়া উদ্যোগ আরও শক্তিশালী হবে।
এছাড়া, ₹৩৫০ কোটি বরাদ্দ করা হয়েছে পর্যবেক্ষণ, ডিজিটাল ব্যবস্থা, মূল্যায়ন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, জন-সচেতনতা, প্রচার, অনুষ্ঠান এবং গণমাধ্যম কার্যক্রমের জন্য।
সমন্বিত সহায়ক ব্যবস্থা
শুধু আর্থিক সহায়তাই নয়, সমগ্র মূল্যশৃঙ্খলের জন্য সহায়ক পরিবেশও তৈরি করবে এই প্রকল্প।
এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:
ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রকল্প পরিচালনা, যাতে বাস্তবায়ন আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর হয়।
এই ক্ষেত্রে কর্মরত পেশাদারদের দক্ষতা বৃদ্ধি।
অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার।
অংশীদারদের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয়।
আন্তর্জাতিক অংশীদার আকর্ষণে বিশেষ উদ্যোগ।
সমুদ্র মন্থনের প্রত্যাশিত ফলাফল
অনুসন্ধান সফল হলে এই প্রকল্প দেশের অর্থনীতি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বহুমুখী সুফল বয়ে আনবে।
হাইড্রোকার্বনের মজুত ৬০০ এমএমটিওই-রও বেশি বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে, মোট সম্পদ ১.৬ বিলিয়ন থেকে ২.২ বিলিয়ন টন অয়েল ইকুইভ্যালেন্ট (TOE)-এ উন্নীত হবে।
বার্ষিক দেশীয় উৎপাদন প্রায় ৬২ এমএমটিওই থেকে বেড়ে ৮০ এমএমটিওই হবে।
অতিরিক্ত ১০ থেকে ১৫ এমএমটিওই উৎপাদনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে এবং সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ২০ এমএমটিওই।
উৎপাদন বাড়লে প্রতিবছর প্রায় ₹১ লক্ষ কোটি মূল্যের অপরিশোধিত তেল আমদানি কমানো সম্ভব হবে, ফলে, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।
মূল্যশৃঙ্খলের বিভিন্ন স্তরে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে।
অনুসন্ধান, উৎপাদন এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
মেক ইন ইন্ডিয়া এবং আত্মনির্ভর ভারত-এর মতো উদ্যোগের মাধ্যমে দেশীয় উৎপাদন শিল্প আরও শক্তিশালী হবে এবং আন্তর্জাতিক মানের অফশোর প্রযুক্তি-কেন্দ্রিক পরিবেশ গড়ে উঠবে।
এই সব পদক্ষেপ দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করবে এবং প্রযুক্তি, শিল্প ও উদ্ভাবনের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে।
ধারাবাহিক সংস্কার
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারত ধাপে ধাপে হাইড্রোকার্বন অনুসন্ধান ও উৎপাদন ক্ষেত্রকে আরও উন্মুক্ত, স্বচ্ছ এবং বিনিয়োগবান্ধব করে তুলেছে।
আগে নিষিদ্ধ ছিল এমন ৯৯ শতাংশেরও বেশি "নো-গো" এলাকা অনুসন্ধানের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।
ভারতের এক মিলিয়ন বর্গকিলোমিটারেরও বেশি এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন (EEZ) এখন অনুসন্ধানের জন্য উপলব্ধ।
২০১৬ সালে হাইড্রোকার্বন এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড লাইসেন্সিং পলিসি (HELP) চালু হয়। এর আওতায় ওপেন অ্যাক্রেজ লাইসেন্সিং প্রোগ্রাম (OALP) শুরু হয়, যা আগের মনোনয়নভিত্তিক ব্যবস্থা প্রতিস্থাপন করে।
HELP-এর মাধ্যমে কম শুল্ক, একক লাইসেন্স, রাজস্ব ভাগাভাগি এবং দ্রুত উৎপাদনের জন্য উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।
২০১৬ সালে প্রোডাকশন শেয়ারিং কনট্রাক্ট (PSC)-এর পরিবর্তে রেভিনিউ শেয়ারিং কনট্রাক্ট (RSC) চালু হয়।
PSC-তে ব্যয় উদ্ধারের পর লাভ ভাগাভাগি করা হত। RSC-তে অনুসন্ধান ও উৎপাদনের সমস্ত ঝুঁকি এবং ব্যয় ঠিকাদার বহন করে এবং নির্ধারিত অংশের রাজস্ব পায়।
এর ফলে, প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ হ্রাস পেয়েছে এবং সার্বিক ব্যবস্থা আরও স্বচ্ছ হয়েছে।
তৈলক্ষেত্র (নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন) সংশোধনী আইন, ২০২৫ চুক্তিগত স্থায়িত্ব ও উন্নত বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে।
পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস বিধি, ২০২৫ এই পরিবর্তনগুলিকে কার্যকর করেছে এবং ব্যবসা সহজ করার পাশাপাশি, পেট্রোলিয়ামের লিজ পরিচালনা সহজ করেছে।
সব ধরনের চুক্তির ক্ষেত্রে সচিবদের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কমিটির গঠন ও দায়িত্ব একরকম করা হয়েছে। ফলে, সব সংস্থাই সমান সুযোগ পাচ্ছে।
ওএনজিসি এবং অয়েল ইন্ডিয়া-র কর্মক্ষমতার মূল্যায়নে অনুসন্ধানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
সফল অনুসন্ধানের জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সমুদ্রতলের নিচের শিলাস্তর চিহ্নিত করতে ভূকম্পন সমীক্ষার মাধ্যমে শব্দতরঙ্গ ব্যবহার করা হয়।
এই ক্ষেত্রে মিশন অনুসন্ধান, জাতীয় ভূকম্পন সম্পর্কিত কর্মসূচি, এক্সটেন্ডেড কন্টিনেন্টাল শেলফ সমীক্ষা, ন্যাশনাল ডেটা রিপোজিটরি এবং হাইড্রোকার্বন রিসোর্স অ্যাসেসমেন্ট স্টাডি-সহ একাধিক জাতীয় উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ভূ-বৈজ্ঞানিক তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা হয়েছে।
এই সংস্কারের ফলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বেড়েছে।
বর্তমানে সক্রিয় অনুসন্ধান এলাকার প্রায় ৮১ শতাংশ ২০১৪ সালের পর বরাদ্দ হয়েছে।
OALP-এর আওতায় প্রায় ৩.৮ লক্ষ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে ১৭২টি ব্লক বরাদ্দ হয়েছে।
এই ব্লকগুলিতে ৪.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
২০২৫–২৬ অর্থবর্ষে ৬৭৪টি কূপ খনন করা হয়েছে। পাঁচটি নতুন আবিষ্কার হয়েছে এবং সাতটি আবিষ্কারে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়েছে।
নিরাপদ জ্বালানির ভবিষ্যৎ
ভারত এক নতুন জ্বালানি যুগের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে।
দেশের জ্বালানি ভবিষ্যৎ কোনও একক আবিষ্কারের উপর নির্ভরশীল নয়। ধারাবাহিক সংস্কার, বিজ্ঞান এবং অগনিত ভূতত্ত্ববিদ, প্রকৌশলী ও অফশোর বিশেষজ্ঞের নিষ্ঠার উপর এর ভিত্তি গড়ে উঠছে।
সমুদ্র মন্থন তথ্যভিত্তিক অনুসন্ধান, ঝুঁকি ভাগাভাগি, যৌথ পরিকাঠামো এবং দেশীয় সক্ষমতাকে একসূত্রে বেঁধেছে।
সমুদ্র মন্থনের এই যাত্রা একটি উদীয়মান জাতির স্বপ্নকে এগিয়ে নিয়ে চলেছে। সমুদ্রের গভীরে প্রতিটি নতুন পদক্ষেপ ভারতকে আরও নিরাপদ, আত্মনির্ভর এবং শক্তিশালী জ্বালানির ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
তথ্যসূত্র
Ministry of Petroleum and Natural Gas:
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2292841®=48&lang=1
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2292841®=48&lang=1
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2289301®=48&lang=1
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2202520®=3&lang=1
https://x.com/PetroleumMin/status/2083261752230154401
https://x.com/HardeepSPuri/status/2083145561335570846
https://x.com/HardeepSPuri/status/2080925544833855843
Click here to see pdf
****
SSS/SS
(रिलीज़ आईडी: 2294228)
आगंतुक पटल : 4