PIB Backgrounder
azadi ka amrit mahotsav

জাতীয় সম্মানের অবমাননা প্রতিরোধ (সংশোধনী) বিল, ২০২৬

प्रविष्टि तिथि: 30 JUL 2026 4:35PM by PIB Kolkata

৩০ জুলাই, ২০২৬

 

 

জাতীয় সম্মানের অবমাননা প্রতিরোধ (সংশোধনী) বিল, ২০২৬-এর মাধ্যমে ‘জাতীয় সম্মানের অবমাননা প্রতিরোধ আইন, ১৯৭১’-এর ধারা ৩-এ সংশোধন আনা হয়েছে। এই সংশোধনের ফলে জাতীয় সংগীত ‘জন গণ মন’-র মতোই জাতীয় সঙ্গীত ‘বন্দে মাতরম’-কেও একই ধরনের আইনগত সুরক্ষা প্রদান করা হয়েছে। সংশোধিত আইনে ইচ্ছাকৃতভাবে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ায় বাধা দেওয়া বা তা গাইছে এমন কোনো সমাবেশে বিঘ্ন সৃষ্টি করাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসাবে গণ্য করা হয়েছে।

 

কেন এই সংশোধনীটি প্রস্তাব করা হয়েছিল?

 

বিলের ‘উদ্দেশ্য ও কারণ’ (Statement of Objects and Reasons)-এ বলা হয়েছে যে, ১৯৭১ সালের আইন অনুযায়ী জাতীয় সংগীত গাওয়ায় ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা দেওয়া বা জাতীয় সংগীত গাইছে এমন কোনো সমাবেশে বিঘ্ন সৃষ্টি করাকে ফৌজদারি অপরাধ হিসাবে গণ্য করা হয় এবং এর মাধ্যমে জাতীয় সংগীতের মর্যাদা আইনগতভাবে সুরক্ষিত থাকে।

এতে ১৯৫০ সালের ২৪ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত গণপরিষদের (Constituent Assembly) বৈঠকের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সেই বৈঠকে তৎকালীন সভাপতি ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে ‘বন্দে মাতরম’-এর ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘বন্দে মাতরম’-কে ‘জন গণ মন’-এর সমান মর্যাদা ও সম্মান প্রদান করা উচিত।

তবে, জাতীয় সঙ্গীত ‘বন্দে মাতরম’-কে একই ধরনের আইনগত সুরক্ষা দেওয়ার জন্য কোনো নির্দিষ্ট বিধান ছিল না। এই বিল সেই শূন্যতা দূর করার উদ্দেশ্যে আনা হয়। এর মাধ্যমে ১৯৭১ সালের আইনের ধারা ৩-এর আওতায় ‘বন্দে মাতরম’-কে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

২০২৬ সালের বিলের প্রধান বিধানসমূহ

 

  • ধারা ৩-এ সংশোধন: বিলের দফা ২ অনুযায়ী বিদ্যমান ধারা ৩-এর পরিবর্তে এমন একটি নতুন বিধান সংযোজন করা হয়েছে, যা জাতীয় সংগীত ‘জন গণ মন’ এবং জাতীয় সঙ্গীত ‘বন্দে মাতরম’- উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করেছে।
  • প্রযোজ্য কার্যকলাপ: সংশোধিত ধারা ৩ সেইসব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে, যেখানে কোনো ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে-

               (ক) জাতীয় সংগীত ‘জন গণ মন’ অথবা জাতীয় সঙ্গীত ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ায় বাধা দেন; অথবা

               (খ) এই সংগীত গাওয়া হচ্ছে এমন কোনো সমাবেশে বিঘ্ন সৃষ্টি করেন।

  • সংক্ষিপ্ত শিরোনাম: বিলের ধারা ১ অনুযায়ী, এই আইনের নাম হবে ‘জাতীয় সম্মানের অবমাননা প্রতিরোধ (সংশোধনী) আইন, ২০২৬’।

এক নজরে সংশোধনী

বৈশিষ্ট্য / বিধান

জাতীয় সম্মানের অবমাননা প্রতিরোধ আইন, ১৯৭১ (মূল আইন)

জাতীয় সম্মানের অবমাননা প্রতিরোধ (সংশোধনী) বিল, ২০২৬

ধারা ৩-এর অধীনে সুরক্ষার পরিধি

শুধুমাত্র ভারতের জাতীয় সংগীত ‘জন গণ মন’-কে নির্দিষ্ট আইনগত সুরক্ষা প্রদান করা হয়েছে।

ধারা ৩-এর পরিধি সম্প্রসারণ করে জাতীয় সংগীত ‘জন গণ মন’ এবং জাতীয় সঙ্গীত ‘বন্দে মাতরম’—উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নিষিদ্ধ কার্যকলাপ

ইচ্ছাকৃতভাবে জাতীয় সংগীত গাওয়ায় বাধা দেওয়া বা জাতীয় সংগীত গাওয়া হচ্ছে এমন কোনো সমাবেশে বিঘ্ন সৃষ্টি করাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসাবে গণ্য করা হয়েছে।

ইচ্ছাকৃতভাবে জাতীয় সংগীত বা জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ায় বাধা দেওয়া অথবা সেই সংগীত গাওয়া হচ্ছে এমন কোনো সমাবেশে বিঘ্ন সৃষ্টি করাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসাবে গণ্য করা হয়েছে।

শাস্তি

সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, অথবা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ড।

শাস্তির বিধানে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।

পুনরাবৃত্ত অপরাধ

ধারা ৩এ (২০০৩ সালে সংযোজিত) অনুযায়ী, ধারা ২ বা ৩-এর অধীনে দ্বিতীয়বার বা পরবর্তীবার দোষী সাব্যস্ত হলে ন্যূনতম এক বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

ন্যূনতম এক বছরের কারাদণ্ডের এই বর্ধিত শাস্তি বহাল রাখা হয়েছে। ফলে, ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ায় ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা দিয়ে পুনরায় অপরাধ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেও বাধ্যতামূলকভাবে ন্যূনতম এক বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

 

‘বন্দে মাতরম’: যে সুর হয়ে উঠেছিল এক আন্দোলন

  • ‘বন্দে মাতরম’, যার অর্থ ‘মা, তোমায় প্রণাম’, রচনা করেছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
  • এটি প্রথম ১৮৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সাহিত্যপত্রিকা বঙ্গদর্শন-এ প্রকাশিত হয়। পরে ১৮৮২ সালে প্রকাশিত আনন্দমঠ উপন্যাসে এটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
  • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এতে সুরারোপ করেন এবং ১৮৯৬ সালে কলকাতায় অনুষ্ঠিত ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের অধিবেশনে প্রথম এটি পরিবেশন করেন।
  • স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় এই গানটি প্রতিরোধের এক শক্তিশালী প্রতীকে পরিণত হয়। ১৯০৫ সালের ৭ আগস্ট স্বদেশি আন্দোলনের সময় এটি প্রথম রাজনৈতিক স্লোগান হিসাবে ব্যবহৃত হয়।
  • ১৯৫০ সালের ২৪ জানুয়ারি গণপরিষদের সভাপতি ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ ঘোষণা করেন যে, ‘বন্দে মাতরম’-কে ‘জন গণ মন’-এর সমান মর্যাদা ও সম্মান প্রদান করা উচিত।

জাতীয় সম্মানের অবমাননা প্রতিরোধ আইন, ১৯৭১

২০২৬ সালের সংশোধনীটি সঠিকভাবে অনুধাবন করতে হলে ‘জাতীয় সম্মানের অবমাননা প্রতিরোধ আইন, ১৯৭১’-এর ভিত্তি সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। ১৯৭১ সালের ২৩ ডিসেম্বর প্রণীত এই আইন সমগ্র ভারতে প্রযোজ্য এবং ভারতের জাতীয় পতাকা, ভারতের সংবিধান ও জাতীয় সংগীত ‘জন গণ মন’-কে আইনগত সুরক্ষা প্রদান করে।

বর্তমান আইনের প্রধান বিধানসমূহ

  • ধারা ২ – জাতীয় পতাকা ও সংবিধান: এই ধারায় ভারতের জাতীয় পতাকা এবং ভারতের সংবিধানের অবমাননা সংক্রান্ত বিধান রয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি জনসমক্ষে জাতীয় পতাকা বা সংবিধানকে পুড়িয়ে ফেলেন, বিকৃত করেন, নষ্ট করেন, অপবিত্র করেন, ধ্বংস করেন, পদদলিত করেন অথবা অন্য কোনোভাবে অসম্মান প্রদর্শন করেন, তবে তাঁর সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, অথবা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।
  • আইনসম্মত সমালোচনার সুরক্ষা: সংবিধান, জাতীয় পতাকা বা সরকারের কোনো পদক্ষেপের আইনসম্মত সংশোধন বা পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে করা সমালোচনা ধারা ২-এর অধীনে অপরাধ হিসাবে গণ্য হবে না।
  • ধারা ৩ – জাতীয় সংগীত: এই ধারা বিশেষভাবে জাতীয় সংগীত সম্পর্কিত। এতে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ভারতের জাতীয় সংগীত গাওয়ায় বাধা দেন বা জাতীয় সংগীত গাওয়া হচ্ছে এমন কোনো সমাবেশে বিঘ্ন সৃষ্টি করেন, তবে তাঁর সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, অথবা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।
  • ধারা ৩এ – পুনরাবৃত্ত অপরাধ: ২০০৩ সালের সংশোধনের মাধ্যমে সংযোজিত এই ধারায় বলা হয়েছে, ধারা ২ বা ধারা ৩-এর অধীনে দ্বিতীয়বার বা পরবর্তীবার দোষী সাব্যস্ত হলে ন্যূনতম এক বছরের কারাদণ্ড বাধ্যতামূলক হবে।

 

তথ্যবিবরণী

Click here to see pdf 

 

SSS/RP........


(रिलीज़ आईडी: 2292258) आगंतुक पटल : 4
इस विज्ञप्ति को इन भाषाओं में पढ़ें: English , हिन्दी , Gujarati , Malayalam