প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর
azadi ka amrit mahotsav

ইন্দোনেশিয়ায় ভারতীয়দের এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

प्रविष्टि तिथि: 07 JUL 2026 11:47PM by PIB Kolkata

নতুনদিল্লি, ৭ জুলাই ২০২৬


মাননীয় রাষ্ট্রপতি প্রবোও, 
প্রিয় বন্ধুরা, 
ভাই ও বোনেরা,  
সেলামত মালাম! 
নমস্কার! 
ভনক্কম!
সৎ শ্রী অকাল! 

জয় ঝুলে লাল! 
কেম- ছো? (কেমন আছেন) 

এখন বিশ্বজুড়ে ফুটবলের উন্মাদনা।  ইন্দোনেশিয়াতেও ফুটবল নিয়ে প্রচুর উৎসাহ ।  আর আপনারা সবাই সেই শক্তি ও উদ্দীপনা এখানেও নিয়ে এসেছেন।

আর এটা এক অসাধারণ কাকতালীয় ঘটনার কথা উল্লেখ করব। আপনারাও হয়তো এটা খেয়াল  করেছেন। তাও আমি বলছি, যখনই আমি ইন্দোনেশিয়ায় এসেছি, তখনই ফিফা বিশ্বকাপ হচ্ছিল। প্রথমবার এলাম  ২০১৮ সালে জাকার্তায়। তারপর ২০২২ সালে বালিতে আমাদের দেখা হল। আর এখন, ২০২৬ সালে, আবার জাকার্তায় দেখা হল। তিনবারই ইন্দোনেশিয়া ফুটবল জ্বরে আক্রান্ত। 
কিন্তু বন্ধুরা, 

ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত এই তিনটি অনুষ্ঠানের ম্যান অফ দ্য ম্যাচ কিন্তু একই ব্যক্তি: ইন্দোনেশিয়ায় বসবাসরত আপনারা সবাই। আপনারাই হলেন ম্যান অফ দ্য ম্যাচ। 

আপনারা বিরাট এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন। আপনারা গৌরবোজ্জ্বল এক ভারতের প্রকৃত উদাহরণ হয়ে উঠেছেন। এত মানুষ এখনে একত্রিত হয়েছেন। আর বন্ধুরা, এবার আমি একা আসিনি। এবার আমার প্রিয় বন্ধু রাষ্ট্রপতি প্রবোও-ও আমার সঙ্গে এসেছেন।   

আজকের বক্তব্য শুরু করার আগে, আমি রাষ্ট্রপতি প্রবোও-এর সুন্দর মন্তব্যের জন্য আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চাই। 
সুধী, 
আপনি ভারতের একজন প্রকৃত বন্ধু। এখানে আসার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ!!!

বন্ধুগণ, 

ইন্দোনেশিয়ার আকাশে গতকাল প্রথম যখন ঢুকলাম তারপর থেকে দেশের জনগণের কাছ থেকে আমি যে উষ্ণতা ও ভালোবাসা পেয়েছি, তা প্রকাশ করার মতো ভাষা আমার নেই। রাষ্ট্রপতি প্রবোও তাঁর মন্ত্রিসভার সহকর্মীদের সঙ্গে বিমানবন্দরে আমাকে অভ্যর্থনা জানাতে আসার মুহূর্ত ছিল স্মরণীয় এক অভিজ্ঞতা। 

আজ রাষ্ট্রপতি ভবনে আমি ইন্দোনেশিয়ায় ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসার নিদর্শন দেখতে পেলাম। জনগণের উৎসাহ, শিশুদের হাসি, তরুণদের উদ্দীপনা—সবকিছুই অবর্ণনীয়, অসাধারণ। আমি যেখানেই গেছি, যার সঙ্গেই দেখা করেছি, সবার মুখেই ভারতের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা স্পষ্টভাবে দেখেছি।     
 
বন্ধুরা, 
 
যাইহোক, আমি দেখলাম ভারতীয় গান, "কুছ কুছ হোতা হ্যায়," এখানে খুব জনপ্রিয়। আজ আমি রাষ্ট্রপতি প্রবাওকে বলতে শুনলাম, যখন ভারত ও ইন্দোনেশিয়া একসঙ্গে কাজ করে, তখন তার প্রভাব অনেক বেশী অনুভূত হবে।    

বন্ধুগণ,

আজ সকালে আমি ইন্দোনেশিয়ার সর্বোচ্চ সম্মাননা গ্রহণ করার সৌভাগ্য লাভ করেছি। এই সম্মাননা ১৪০ কোটি ভারতীয়ের, এই সম্মাননা ভারতীয় সম্প্রদায়ের আপনাদের সকলের, এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, এই পুরস্কারটি ইন্দোনেশিয়া ও ভারতের মধ্যে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বের আরও একটি প্রতীক। এই মঞ্চ থেকে আমি রাষ্ট্রপতি প্রবোও, ইন্দোনেশিয়ার সরকার এবং জনগণের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।  

বন্ধুগণ,  

গত বছর ২৬শে জানুয়ারি, ভারত মহা ধুমধাম ও জাঁকজমকের সঙ্গে তার সাধারণতন্ত্র দিবস উদযাপন করে। ছাব্বিশ, ২ এবং ৬ = ... এবং আমার বন্ধুর জন্মদিনও ১৭, ১ + ...

রাষ্ট্রপতি প্রবোও ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সেই সফরের সময় আমাদের অনেক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার সুযোগ হয়। কিন্তু সেই সফরের একটি বিষয় আমি বিশেষভাবে মনে রেখেছি। এবং রাষ্ট্রপতিও এখানে অত্যন্ত গর্ব সহকারে সেটি উল্লেখ করেছেন।  

মাননীয় রাষ্ট্রপতি, আপনি সেদিন বলেছিলেন এবং আজ আবারও  বললেন, আপনার মধ্যে ভারতীয় ডিএনএ রয়েছে। আমি সেই মুহূর্তে দেখেছি সকলে হাত দিয়ে উঠেছিলেন।  আর ভারতে, আপনি লক্ষ লক্ষ ভারতীয়ের মন জয় করেছেন। ওই একটি বাক্যই ভারতবাসীদের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। 

আপনার কথার সূত্র ধরে আমি বলছি: আপনি যে ডিএনএ-র কথা বলেছেন, তা পারস্পরিক বিশ্বাসের উপর গড়ে উঠেছে। সেই ডিএনএ তৈরি হয়েছে যৌথ ঐতিহ্যের উপর, সেই ডিএনএ-র ভিত্তি  যৌথ স্মৃতির উপর। সেই ডিএনএ তৈরি  হয়েছে সেই সামুদ্রিক বাতাসের উপর, যা হাজার হাজার বছর ধরে আমাদের জাহাজগুলি  একে অপরের তীরে এসে পৌঁছেছে।    

বন্ধুরা,
ভারত-ইন্দোনেশিয়া সম্পর্কের ডিএনএ গড়ে উঠেছে সেইসব সাধু ও বৌদ্ধ ভিক্ষুদের হাত ধরে, যাঁরা জ্ঞানের মাধ্যমে সীমানা অতিক্রম করেছিলেন। এই সম্পর্ক গড়ে উঠেছে সেই উদ্যোক্তাদের হাত ধরে, যাঁরা শুধু মশলার ব্যবসাই করেননি, বরং বিভিন্ন সংস্কৃতির মধ্যে সেতুবন্ধও তৈরি করেছেন। এই ডিএনএ-কে রূপ দিয়েছেন সেইসব শিল্পীরা, যাঁরা নিজস্ব সত্তাকে অক্ষুণ্ণ রেখে নিজেদের ভাষায় রামায়ণ ও মহাভারতকে জীবন্ত করে তুলেছিলেন। 

ইন্দোনেশিয়ার প্রাণবন্ত নাগরিক এবং এখানে বসবাসকারী অসংখ্য পরিবার ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার সম্পর্ককে লালিত করেছেন, তাকে পরিপুষ্ট ও সমৃদ্ধ করেছে। 
  
বন্ধুগণ, 

বিশ্বে দুটি দেশের মধ্যে সম্পর্ক প্রায়শই চুক্তি ও সমঝোতাপত্র স্মারকের মাধ্যমে অগ্রসর হয়। অনেক দেশ রণনীতির মাধ্যমে যুক্ত হয়, আবার অনেকে বাণিজ্যের মাধ্যমে কাছাকাছি আসে। কিন্তু ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার সম্পর্কটি সভ্যতা ও সমুদ্রের হাত ধরে গড়ে উঠেছে। 

সাম্রাজ্যের উত্থান-পতন হয়েছে, সমুদ্রপথ বদলেছে, বিশ্ব রাজনীতিও পরিবর্তিত হয়েছে, কিন্তু ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে এই বন্ধন সর্বদা অটুট থেকেছে। আর এটিই আমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ শক্তি।  

বন্ধুগণ,
আজ বিশ্ব যোগাযোগ নিয়ে কথা বলে। কিন্তু আমাদের পূর্বপুরুষেরা এই যোগাযোগকে জীবনে ধারণ করার মাধ্যমেই দেখিয়েছিলেন। আজ আস্থার অভাবে বিশ্বের সরবরাহ শৃঙ্খলগুলো ভেঙে পড়ছে। তবে, ভারত ও ইন্দোনেশিয়া এমন এক সময়ে সরবরাহ শৃঙ্খলের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনে, যখন আন্তর্জাতিক  সরবরাহ শৃঙ্খল নিয়ে আলোচনাই হতো না।  
 
এবং আমি আনন্দিত যে আজ, আমাদের সেই একই আস্থায়, ভারত ও ইন্দোনেশিয়া যৌথভাবে এক নতুন ভবিষ্যৎ রচনা করছে। আর এই উজ্জ্বল ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় সুবিধাপ্রাপক হলেন আপনারা সবাই, ইন্দোনেশিয়ায় বসবাসকারী ভারতীয় সম্প্রদায়। 

বন্ধুগণ, 

এখন সামাজিক মাধ্যমের যুগ, এবং সামাজিক মাধ্যমের এই যুগে সহযোগিতা নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। কিন্তু ভারত ও ইন্দোনেশিয়া শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে পরস্পরকে সহযোগিতা করে আসছে।

এই সহযোগিতার কারণেই ইন্দোনেশিয়ার কুতাই-এ প্রাচীন সংস্কৃত শিলালিপি আবিষ্কৃত হয়েছিল। এই কারণেই ইন্দোনেশিয়া থেকে পণ্ডিতরা নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শনে এসেছিলেন।

কটকের বালি যাত্রা উৎসব, মহানদীতে কলাগাছের নৌকা ভাসানোর ঐতিহ্য, ওয়ায়াং কুলিতে মহাভারতের মঞ্চায়ন, বৈশাখী তীর্থযাত্রা, কিংবা দেবী শ্রীর আরাধনা —ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে এই সহযোগিতা প্রতিটি ঐতিহ্যেই সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।  

বন্ধুরা, 
ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে সহযোগিতার এই ইতিহাস যেমন প্রাচীন, তেমনই সমৃদ্ধ। প্রাচীনকালে সুমাত্রার মুয়ারো জাম্বি ছিল নালন্দার একটি শাখা প্রতিষ্ঠান। আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে আমরা অতীতের এই ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করছি। 

আপনারা সকলেই জানেন, নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় এখন এক নতুন রূপে আবির্ভূত হয়েছে। এবং ইন্দোনেশিয়া থেকেও অনেক শিক্ষার্থী সেখানে ভর্তি হয়েছে। এর অর্থ হলো, একবিংশ শতাব্দীতে অতীত থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে আমাদের দুই দেশ এক নতুন ভবিষ্যতের পথ তৈরি করছে।
বন্ধুগণ,

ভারত ও ইন্দোনেশিয়া হৃদয় ও ভৌগোলিক নৈকট্য উভয় দিক থেকেই ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী। ভারতের গ্রেট নিকোবার দ্বীপ থেকে ইন্দোনেশিয়ার আচে পর্যন্ত দূরত্ব প্রায় ১৫০ কিলোমিটার। ভাবুন তো, একটি ভারতীয় দ্বীপ ভারতের যেকোনো রাজ্যের তুলনায় ইন্দোনেশিয়া থেকে বেশি কাছে। 

ইন্দোনেশিয়া ভ্রমণকারী প্রত্যেক ভারতীয় একাত্মতার অনুভূতি লাভ করেন। একারণেই, বছরের পর বছর ধরে আমাদের দুই দেশ ব্যবসা বাণিজ্য, ঐতিহ্য এবং পর্যটনের মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আমাদের সম্পর্কের উত্তরাধিকারকে লালিত করে চলেছে। 

আজ, ভারত যখন নতুন বন্দর, নতুন জাহাজ তৈরি করছে, নতুন সমুদ্রপথের সন্ধান করছে এবং নতুন অংশীদারিত্বের মাধ্যমে সামুদ্রিক বাণিজ্যের প্রসার ঘটাচ্ছে, তখন ইন্দোনেশিয়া এক প্রিয় বন্ধু হিসেবে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে।

বন্ধুরা,

ইন্দোনেশিয়া এবং ভারত উভয়ই উন্নয়নের জন্য আগ্রহী। আমাদের থামার কোন সময় নেই। কিছু ভারতীয় এইমাত্র আপনাদের ইন্দোনেশিয়ার অগ্রগতির কথা বলেছেন। ভারত থেকে আমিও আপনাদের জন্য ভারতের উন্নয়নের অনেক তথ্য নিয়ে এসেছি।   
বন্ধুরা,
এখন যখনই ভারতের কথা শোনা যায়, তখন প্রথমেই একটি বিষয় উঠে আসে। যার শিরোনাম ভারতের অর্থনীতি। কেউ বলবেন, "ভারতের অর্থনীতি লক্ষ কোটি ডলারের পর্যায়ে পৌঁছেছে," অন্যরা মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধির কথা বলবেন, আবার কেউ গত ১০-১২ বছরে অর্থনীতির অভাবনীয় উন্নতির কথা তুলে ধরবেন। আপনি ভারতের নানা সাফল্যের কথা শুনতে পাবেন।    

আজ বিশ্বের উন্নয়নে ভারতের অর্থনীতি প্রধান ভূমিকা পালন করছে। এমনকি যখন পৃথিবী করোনাভাইরাসের ভয়াবহ সংকটের মুখোমুখি হয়েছিল, তখনও ভারতের অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়েনি। যখন পশ্চিম এশিয়া উল্লেখযোগ্য সংকটের সম্মুখীন হল, তখনও ভারতের অর্থনীতি থেমে যায়নি। বস্তুত, গত বছরের শেষ ত্রৈমাসিকে, যেটি মার্চ মাসে শেষ হয়েছিল, সেই সময় আমাদের প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৭.৭ শতাংশ। 

এই গতি, এই উন্নয়ন, এমনি এমনি আসেনি। ভারত একের পর এক সংস্কার রূপায়িত করেছে এবং আমরা ধারাবাহিকভাবে ভালো ফল করেছি, যে কারণে আজ দেশে পরিবর্তন হচ্ছে। আমরা ‘সংস্কার, কর্মসম্পাদন, রূপান্তর’—এই মন্ত্র অনুসরণ করছি।   

বন্ধুরা,

ভারত আজ যে প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, তা ১৪০ কোটি মানুষের স্বপ্নের প্রতিফলন, লক্ষ লক্ষ ভারতীয়ের আকাঙ্ক্ষার বিকাশ। আপনারাও সেই স্বপ্ন থেকে আলাদা নন। ইন্দোনেশিয়ায় বসবাসকারী প্রত্যেক ভারতীয় সেই স্বপ্নের অংশীদার।

বন্ধুগণ,

ভারতের উন্নয়নের গতি ও ব্যাপ্তি যদি এক কথায় বর্ণনা করতে হয়, তবে আমি বলব, এটি গতিশীল একশোচল্লিশ কোটি মানুষের আকাঙ্ক্ষা। আজ, গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত প্রত্যেক নাগরিকের উচ্চাকাঙ্ক্ষা রয়েছে। প্রত্যেকেই এই আত্মবিশ্বাস অর্জন করেছে যে, হ্যাঁ, আমরা এই সাফল্য অর্জন করতে পারি।   
বন্ধুরা,
 
আমি আপনাদের একটি উদাহরণ দিই। আপনারা জানেন, নিজের একটি বাড়ি থাকা প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য কত বড় একটি স্বপ্ন। আর ভারতের পরিসংখ্যান শুনুন: গত ১০-১২ বছরে, সরকার ভারতে চার কোটির বেশি দরিদ্র মানুষের জন্য স্থায়ী বাড়ি তৈরি করেছে। এই সংখ্যাটি অনেক দেশের মোট বাড়ির সংখ্যার চেয়েও বেশি।

বন্ধুরা,

যখন মানুষ নিজের বাড়ি, একটি সম্মানজনক জীবন পায়, তখন এই লক্ষ লক্ষ ভারতীয়দের আকাঙ্ক্ষা গতি পায়, তাদের স্বপ্নগুলো বাস্তবায়িত হতে শুরু করে।
বন্ধুগণ,

আমি ভারতে সামাজিক সুরক্ষার প্রভাব সম্পর্কে একটি আকর্ষণীয় পরিসংখ্যান আপনাদের কাছে তুলে ধরব। বারো বছর আগে, ভারতে ২৫ কোটি মানুষ বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষার আওতাভুক্ত ছিলেন। আজ, প্রায় ১০০ কোটি ভারতীয় নানা ধরণের সামাজিক সুরক্ষার আওতাভুক্ত। আর যে পরিসংখ্যানটি আমি এখন আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চলেছি, তা আপনাদের অবাক করবে। 

ভারতে প্রধানমন্ত্রী সুরক্ষা বীমা যোজনা নামে একটি প্রকল্প রয়েছে। এই প্রকল্পের অধীনে, বছরে মাত্র ২০ টাকা প্রিমিয়ামের বিনিময়ে ২ লক্ষ টাকার দুর্ঘটনা বীমা পাওয়া যায়। এই দাম এক কাপ কফির দামের চেয়েও কম। বিশ্বের অন্য কোথাও  এধরনের বীমা পাওয়া না গেলেও  ভারতে এটি পাওয়া যাবে। ভারতের প্রায় ৬০ কোটি মানুষ এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত ।
বন্ধুরা,

আরও একটি প্রকল্প আছে, পিএম জীবন জ্যোতি বীমা যোজনা। এই প্রকল্পে প্রতিদিন প্রায় দেড় টাকা প্রিমিয়ামের বিনিময়ে জীবন বীমা পাওয়া যায়। প্রতিদিন মাত্র দেড় টাকা, যেখানে এক কাপ কফির দামও দেড় টাকার বেশি। আর বর্তমানে ভারতে ২৮ কোটি মানুষ এই প্রকল্পে নথিভুক্ত আছেন।

বন্ধুরা,
এই দুটি সরকারি প্রকল্পের অধীনে, এ পর্যন্ত জনগণের মধ্যে মোট প্রায় ২২,০০০ কোটি টাকার ক্লেম বিতরণ করা হয়েছে। ২২,০০০ কোটি টাকা। যখনই মানুষের জীবন সংকটে পড়েছে, সরকার তাদের সহযোগী হিসেবে পাশে দাঁড়িয়েছে। 

বন্ধুরা,

আজ ভারতে আরও একটি অভূতপূর্ব এবং উল্লেখযোগ্য ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এটি হলো প্রত্যক্ষ সুবিধা হস্তান্তর । এটি এক ত্রুটিহীন ব্যবস্থা যেখানে  সমস্ত তহবিল কোনো রকম অপচয় ছাড়াই সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছায়। 
এক ভদ্রলোক এসে আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, "বাংলার জন্য আমার স্বপ্ন কী?" এই স্বপ্নটি হলো... সরাসরি সুবিধা হস্তান্তর। কোনো অপচয় নয়।

আর এই টাকাও সরাসরি তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। আপনারা কল্পনা করতে পারেন যে, গত ১২ বছরে প্রায় ৫০ লক্ষ কোটি টাকা, অর্থাৎ পঞ্চাশ ট্রিলিয়ন টাকা সাহায্য হিসেবে সরাসরি মানুষের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে।

বন্ধুরা,
যখন এ ধরণের ব্যবস্থা গড়ে হয়, তখন মানুষের আস্থা বাড়ে, আত্মবিশ্বাস বাড়ে, এভাবেই ২৫ কোটি ভারতীয় দারিদ্র্যর নাগপাশ থেকে মুক্ত হয়ে শান্তিপূর্ণ জীবনযাপন শুরু করে। 

বন্ধুরা,

আপনাদের আরও একটি পরিসংখ্যান দিই। আপনারা হয়তো জানেন, বিশ্বের প্রায় ৫০% রিয়েল-টাইম ডিজিটাল পেমেন্ট শুধুমাত্র ভারতেই হয়। বিশ্বের মোট লেনদেনের ৫০%। 
বর্তমানে ভারতে প্রতিদিন ৭৫ কোটিরও বেশি ডিজিটাল লেনদেন সম্পন্ন হয়। ৭৫ কোটিরও বেশি। এর মানে হলো, দৈনন্দিন জীবনে নগদ টাকা নিয়ে চলাচল করার আর কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। আর অবস্থা এমন হয়েছে, অনেকে তাদের ডেবিট কার্ডের পাসওয়ার্ড এবং ব্যাঙ্ক এটিএম-এর পাসওয়ার্ড ভুলে যাচ্ছে; তারা এখন কাজ সারার জন্য শুধু ইউপিআই এবং মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে।  

বন্ধুরা,
স্বপ্ন বড় হলে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের গতিও বেড়ে যায়। আজ ভারতে গেলে দেখবেন সর্বত্র হাইওয়ে ও এক্সপ্রেসওয়ে তৈরি হচ্ছে।   

১২ বছরে হাইওয়ে তৈরির গতি তিনগুণ বেড়েছে। বিশ্বের দ্রুততম হারে বৃধি পাচ্ছে। এই সময়ে ভারতে এক্সপ্রেসওয়ের দৈর্ঘ্য ১০০ কিলোমিটার থেকে বেড়ে ৩ হাজার কিলোমিটার হয়েছে।

আর ভারতের এই বড় বড় স্বপ্নকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে দেশের যুবসমাজ। ১২ বছরে বিশ্বজুড়ে কিউএস র‍্যাঙ্কিংয়ে ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ১১ থেকে বেড়ে ৫০-এরও বেশি হয়েছে। 
আজ ভারতের তরুণরা বিপুল সংখ্যায় পেটেন্ট-এর জন্য আবেদন করে উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করছে। একারণেই ভারত আজ  দুই লক্ষেরও বেশি নিবন্ধিত স্টার্টআপের একটি দেশ। প্রায় এক লক্ষ পঁচিশ হাজার ইউনিকর্ন রয়েছে এই দেশে।

এ কারণেই আমি বলি, ভারতের অর্থনীতি শুধু দ্রুততম বর্ধনশীলই নয়, এ দেশে কোটি কোটি স্বপ্ন বাস্তবায়িত হচ্ছে। 
 
বন্ধুরা,
আমরা ভারতীয়রা তাজা খাবার খেতে ভালোবাসি। গরম গরম খাবার খাওয়ার এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা। তাই, ভারতের সম্ভাবনার একটি সাম্প্রতিক উদাহরণ দিই।  

ইন্দোনেশিয়ায় আমার পৌঁছানোর দুদিন আগে, ৪ঠা জুলাই, আমি একদিনে দেশে এক লক্ষ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের প্রকল্প হস্তান্তর করার সুযোগ পেয়েছি। একদিনে এক লক্ষ কোটি টাকার পরিকাঠামো প্রকল্প। ভারত এই হারেই কাজ করছে।   

বন্ধুরা,  
ভারত ৪ঠা জুলাই বিরাট একটি শোধনাগারের উদ্বোধন করেছে। আর এই শোধনাগারে ব্যবহৃত উপকরণগুলিও কম বিস্ময়কর নয়। এখানে যে পরিমাণ ইস্পাত ব্যবহার করা হয়েছে, তা দিয়ে ৪০টি নতুন আইফেল টাওয়ার তৈরি করা যেত এবং এই ইস্পাত দিয়ে পাঁচটি বুর্জ খলিফাও বানানো সম্ভব।

এই শোধনাগারটি নির্মাণে এমন দীর্ঘ তার ব্যবহার করা হয়েছে যা দিয়ে পুরো পৃথিবীকে দুবার প্রদক্ষিণ করা যাবে। এই ধরনের উদ্যোগের ফলেই শোধনাগারের ক্ষমতার নিরিখে ভারত এখন বিশ্বে প্রথম চারটি দেশের তালিকায় পৌঁছেছে। 
বন্ধুরা,  
 
৪ঠা জুলাই, এই শোধনাগারের পাশাপাশি যোধপুরে একটি সুন্দর বিমানবন্দর চালু হয়। ছোট শহরগুলিতে বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করার জন্য ২৮,০০০ কোটি টাকার উড়ান প্রকল্প চালু করা হয়েছিল। এই একই দিনে জয়পুরের মেট্রো নেটওয়ার্ক প্রসারিত হয়। আবার ভারতের তৃতীয় সেমিকন্ডাক্টর প্ল্যান্টও চালু হয়।

তার মানে, বিদ্যুত , যোগাযোগ এবং চিপ উৎপাদন — সব ক্ষেত্রে ভারত অপ্রতিরোধ্য! 
বন্ধুগণ, 
আজ ভারত শুধু নিজের স্বপ্নই পূরণ করছে না, বরং প্রতিটি বন্ধু দেশের স্বপ্নকেও আপন করে নিচ্ছে। ভারত ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ মন্ত্র অনুসরণ করে। তাই, এই মানসিকতায় ভারত তার অংশীদারদের সঙ্গে নতুন নতুন সুযোগ তৈরি করে এবং তাদেরকে সেই সুযোগগুলির সঙ্গে যুক্ত করে।  
আত্মনির্ভর ভারত ইন্দোনেশিয়া এবং সমগ্র আসিয়ান অঞ্চলের জন্য লাভজনক। স্বাস্থ্য ক্ষেত্রের কথাই ধরুন। আজ বিশ্বের প্রতি পাঁচটি জেনেরিক ওষুধের মধ্যে একটি ভারতে উৎপাদিত হয়। ইউনিসেফের প্রায় ৬০ শতাংশ টিকা ভারত থেকে আসে। ফলস্বরূপ সমগ্র বিশ্ব উপকৃত হয়। আমরা আমাদের বন্ধুদের জন্য যা করতে পারছি, তার জন্য অত্যন্ত গর্বিত।  
বন্ধুরা,

আমি আপনাদের ভারত সম্পর্কে অনেক কিছু জানালাম। এখন আপনাদের জন্য আমার আরও একটি কাজ আছে। আপনাদের ইন্দোনেশিয়ান বন্ধুদের ভারত সম্পর্কে বলতে হবে এবং তাদের এখানে আসার জন্য উৎসাহিত করতে হবে। 
 
এখন জাকার্তা থেকে মুম্বাই, বালি থেকে দিল্লি এবং বেঙ্গালুরু পর্যন্ত অনেক সরাসরি বিমান আছে। এর ফলে ভারতে ভ্রমণ করা খুব সহজ হয়ে গেছে। 
বন্ধুরা,

আপনাদেরও ভারতীয় সম্প্রদায়ের তরুণ প্রজন্মকে ভারত সম্পর্কে জানানো প্রয়োজন। ইন্দোনেশিয়ায় ভারতীয় সম্প্রদায়ের শিশুদের জন্য একটি 'নো ইন্ডিয়া' কুইজ চালু করা হয়েছে। এখানকার অনেক শিশু তাতে অংশ নিচ্ছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেই আমি আপনাদের উৎসাহ দেখেছি।  
ষষ্ঠ সংস্করণে, আমরা পরীক্ষার পদ্ধতি বাদ দিয়ে পুরো প্রতিযোগিতাটিকে খেলার আঙ্গিকে সাজিয়েছি। আমি প্রত্যেক তরুণ বন্ধুদের অংশগ্রহণের জন্য এবং সামাজিক মাধ্যমে সেই অভিজ্ঞতা আমার সঙ্গে ভাগ করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।
 
বন্ধুরা, 
ইতিহাসের মত ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার ভবিষ্যৎও অভিন্ন। আমরা নানা সুযোগ ভাগ করে নিই। আমরা প্রতিকূলতাকেও ভাগ করে নিই। যখন যোগ দিবস আসে, আমরা একসঙ্গে যোগচর্চা করি, আবার যখন সুনামির মতো কোনো সংকট আসে, তখনও আমরা একসঙ্গে তার মোকাবিলা করি।   

আমাদের দুই দেশের মধ্যে আস্থা এক বিরাট শক্তি। এবং আমাদের অবশ্যই একযোগে একে আরও শক্তিশালী করতে হবে। 
 
ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের লক্ষ্যে আপনারা সবাই অভিন্ন এক সূত্র। আমাদের এই ভূমিকা  কর্মসূচী আরও প্রসারিত করতে হবে।   
এই ভাবনা নিয়ে আমি আবারও আমার প্রিয় বন্ধু রাষ্ট্রপতি প্রবোও এবং ইন্দোনেশিয়ার জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আপনাদের সকলের মঙ্গল কামনা করি। 
 
ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার, বন্ধুরা, সেলামায়ানায়া
অনেক ধন্যবাদ।  
আর আগামীকাল আমি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে একটি পবিত্র মন্দির পরিদর্শনে যাচ্ছি। আর আগামীকাল তারিখটা কী? আমাদের সম্পর্ক খুবই দৃঢ়। আর আমি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে অনেক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছি, এবং আমি কথা দিচ্ছি যে এগুলির কোনো কপিরাইট নেই। কোনো রয়্যালটির দাবিও করা হবে না। সবকা সাথ সবকা বিকাশই  আমাদের মূলমন্ত্র।  
 
আপনাদের অনেক অনেক ধন্যবাদ। 

 

 

SC/CB/DM...


(रिलीज़ आईडी: 2282404) आगंतुक पटल : 3
इस विज्ञप्ति को इन भाषाओं में पढ़ें: English , Urdu , हिन्दी , Gujarati