পরিবেশওঅরণ্যমন্ত্রক
azadi ka amrit mahotsav

ভারতের প্রাণীবিজ্ঞান সর্বেক্ষণ সৃস্থার ১১১তম প্রতিষ্ঠা দিবসে অ্যানিম্যাল ট্যাক্সোনমি সামিট ২০২৬-এর উদ্বোধন করলেন কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রী শ্রী ভূপেন্দ্র যাদব

ভারতে নতুন ৪৮৩টি প্রাণী প্রজাতির সন্ধান পাওয়া গেল

দেশের মোট নথিভুক্ত প্রাণী বৈচিত্র্যর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১,০৫,৯৫৩ প্রজাতি

प्रविष्टि तिथि: 30 JUN 2026 12:00PM by PIB Kolkata

কলকাতা, ৩০ জুন, ২০২৬

 

ভারতের প্রাণীবিজ্ঞান সর্বেক্ষণ (জুলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া বা ZSI) আজ তাদের ১১১তম প্রতিষ্ঠা দিবস উদযাপন করল। এই উপলক্ষে অ্যানিম্যাল ট্যাক্সোনমি সামিট (ATS) ২০২৬-এর উদ্বোধনের মাধ্যমে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং উন্নয়নের প্রতি ভারতের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হল পুনর্বার।

এ বছর ৩০ জুন থেকে ২ জুলাই পর্যন্ত আয়োজিত তিন দিনের এই সম্মেলনের আজ উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী শ্রী ভূপেন্দ্র যাদব। দক্ষিণ কলকাতার এক প্রেক্ষাগৃহে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের অর্থমন্ত্রী ড. স্বপন দাশগুপ্ত, রাজ্যের বন ও পরিবেশমন্ত্রী শ্রী মনোজ ওরাঁও, জুলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার অধিকর্তা ড. ধৃতি বন্দ্যোপাধ্যায়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত বিশিষ্ট বিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ, গবেষক এবং ছাত্রছাত্রীরা।

সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শ্রী ভূপেন্দ্র যাদব বলেন, কলকাতা দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের অন্যতম প্রধান বৈজ্ঞানিক গবেষণার কেন্দ্র। তিনি বলেন, এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে জুলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া প্রাণী শ্রেণীবিন্যাস (ট্যাক্সোনমি), প্রাণীজ বৈচিত্র্যের অনুসন্ধান এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে দেশের অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আর-ও বলেন, ভারতের প্রাণী বৈচিত্র্যের বৈজ্ঞানিক নথিভুক্তিকরণই সংরক্ষণের মূল ভিত্তি। কোনও প্রজাতিকে বৈজ্ঞানিকভাবে শনাক্ত ও নথিভুক্ত না করলে তার কার্যকর সংরক্ষণ সম্ভব নয়। এই ক্ষেত্রে তথ্যভিত্তিক সংরক্ষণ নীতি ও উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক ভিত্তি গড়ে তুলতে ZSI-এর অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, পৃথিবীর মোট স্থলভাগের মাত্র ২.৪ শতাংশ ভারতের দখলে থাকলেও বিশ্বের নথিভুক্ত মোট জৈবপ্রজাতির প্রায় ৭ থেকে ৮ শতাংশ এই দেশেই রয়েছে। এর ফলে ভারত বিশ্বের ১৭টি মেগাডাইভার্স (Megadiverse) বা অতি বৈচিত্র্যময় দেশের অন্যতম। তিনি বলেন, ভারতের সভ্যতা ও সংস্কৃতি বরাবরই প্রতিটি জীবের অন্তর্নিহিত মূল্যকে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং কার্যকর জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ছাড়া সুস্থায়ী উন্নয়ন সম্ভব নয়।

শ্রী যাদব বলেন, প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে পরিবেশ সংক্রান্ত শাসনব্যবস্থা শুধুমাত্র নিয়ন্ত্রণমূলক কাঠামোতে সীমাবদ্ধ নেই; বরং তা সংরক্ষণ এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে একত্রিত করে উন্নয়নমুখী মডেলে পরিণত হয়েছে। তিনি Mission LiFE, Green Credit Programme, International Solar Alliance, Coalition for Disaster Resilient Infrastructure (CDRI), International Big Cat Alliance (IBCA) এবং Global Biofuels Alliance-এর মতো উদ্যোগগুলিকে পরিবেশ সংরক্ষণে ভারতের আন্তর্জাতিক নেতৃত্বের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসাবে উল্লেখ করেন।

ভারতের সংরক্ষণমূলক সাফল্যের কথা তুলে ধরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, সারিস্কা টাইগার রিজার্ভে বাঘ পুনঃপ্রবর্তন কর্মসূচির ফলে ২০০৮ সালে যেখানে একটি বাঘও ছিল না, বর্তমানে সেখানে ৫৬টি বাঘ রয়েছে। তিনি আরও জানান, পশ্চিমবঙ্গের উপযুক্ত বনাঞ্চলেও বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনার ভিত্তিতে বাঘ পুনঃপ্রবর্তনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ২০১৪ সালের পর থেকে দেশে টাইগার রিজার্ভের সংখ্যা ৪৭ থেকে বেড়ে ৫৮, এশীয় সিংহের সংখ্যা ৫২৩ থেকে ৮৯১, রামসর সাইটের সংখ্যা ২৪ থেকে ১০০ এবং ইকো-সেনসিটিভ জোনের বিস্তার প্রায় ১,৮৬৫ বর্গকিলোমিটার থেকে ৬৮,৫০০ বর্গকিলোমিটারেরও বেশি হয়েছে। তাঁর মতে, এই সাফল্যগুলি বিকশিত ভারত @২০৪৭-এর লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি, দেশের পরিবেশগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন।

তিনি আরও জানান, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণকে আরও শক্তিশালী করতে কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্য সরকার, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক সংস্থার সঙ্গে যৌথ গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে নিবিড়ভাবে কাজ করে চলেছে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী ড. স্বপন দাশগুপ্ত ভারতের প্রাণীবিজ্ঞান সর্বেক্ষণের সমৃদ্ধ বৈজ্ঞানিক ঐতিহ্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ZSI-র বিজ্ঞানীরা ভারতের অসাধারণ প্রাণী বৈচিত্র্য নথিভুক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। তিনি আরও বলেন, দেশের অন্যতম প্রধান বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠান হিসাবে ZSI-র সদর দপ্তর কলকাতায় রেখে দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার প্রশংসার দাবি রাখে।

পশ্চিমবঙ্গের বন ও পরিবেশমন্ত্রী শ্রী মনোজ ওরাঁও রাজ্যের সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্যের কথা তুলে ধরে এর সংরক্ষণে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জীববৈচিত্র্য সংক্রান্ত বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে ছাত্রছাত্রী ও তরুণ গবেষকদের উৎসাহী অংশগ্রহণেরও প্রশংসা করেন।

ভারতের প্রাণীবিজ্ঞান সর্বেক্ষণের অধিকর্তা ড. ধৃতি বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতিষ্ঠানের ১১১ বছরের গৌরবময় যাত্রার কথা তুলে ধরে বলেন, বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবন, সহযোগিতা এবং গবেষণার মাধ্যমে ট্যাক্সোনমি বা শ্রেণীবিন্যাস, জীববৈচিত্র্যের নথিভুক্তিকরণ ও সংরক্ষণকে আরও শক্তিশালী করতে ZSI প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রী শ্রী ভূপেন্দ্র যাদব ভারতের প্রাণীবিজ্ঞান সর্বেক্ষণ (ZSI) এবং ভারতের উদ্ভিদ সর্বেক্ষণ সংস্থা (BSI)-র যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত দুটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন—

Animal Discoveries–2025

Plant Discoveries–2025

Animal Discoveries–2025-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ভারতে—

বিজ্ঞানের জগতে সম্পূর্ণ নতুন ৪৮৩টি প্রাণী প্রজাতি আবিষ্কৃত হয়েছে।

২২৬টি প্রাণী প্রজাতি প্রথমবারের মতো ভারতে নথিভুক্ত হয়েছে।

দেশের জাতীয় জীববৈচিত্র্য তথ্যভাণ্ডারে ৭০৯টি নতুন প্রাণীজ নথি সংযোজিত হয়েছে।

এর ফলে, ভারতের নথিভুক্ত প্রাণী বৈচিত্র্যের সংখ্যা বেড়ে ১,০৫,৯৫৩টি প্রজাতি ও উপপ্রজাতিতে পৌঁছেছে, যা সমগ্র বিশ্বে অন্যতম সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্যের দেশ হিসাবে ভারতের অবস্থানকে সুদৃঢ় করেছে।

রাজ্যভিত্তিক নতুন প্রজাতি আবিষ্কারের ক্ষেত্রে কেরল সর্বোচ্চ ৯৮টি নতুন প্রজাতি নিয়ে প্রথম স্থানে রয়েছে। এরপর রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ (৭৬), কর্নাটক (৬৭) এবং অরুণাচল প্রদেশ (৬৫)।

এদিন আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক প্রকাশনারও উদ্বোধন করা হয়। সেগুলির মধ্যে রয়েছে—

Abstract Book: Animal Taxonomy Summit 2026 (ইংরেজি ও হিন্দি)

Records of the Zoological Survey of India (Animal Taxonomy Summit 2026 বিশেষ সংখ্যা)

Fauna of West Bengal

Jeev Darpan

Faunal Diversity of Dry Deciduous Forests of West Bengal

Faunal Diversity of Protected Areas of West Bengal, যেখানে বেথুয়াডহরি, রামনাবাগান, বল্লভপুর এবং রায়গঞ্জ বন্যপ্রাণ অভয়ারণ্যের প্রাণী বৈচিত্র্যের বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে।

অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল Fauna of India Checklist Version 3.0-এর প্রকাশ। ড. ধৃতি বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ১৮৫ জনেরও বেশি শ্রেষীবিন্যাস সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞের যৌথ প্রচেষ্টায় প্রস্তুত এই হালনাগাদ তালিকায় ১,০৫,৯৫৩টি প্রজাতি ও উপপ্রজাতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে ১২১টি ট্যাক্সনভিত্তিক তালিকা রয়েছে, যা প্রোটিস্ট থেকে স্তন্যপায়ী প্রাণী পর্যন্ত বিস্তৃত। অমেরুদণ্ডী প্রাণীদের মধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির কীটপতঙ্গ, বিশেষত, বিটল, মথ ও মৌমাছির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, আর মেরুদণ্ডীদের মধ্যে মাছের বৈচিত্র্য সর্বাধিক। এই তালিকা প্রতি বছর নিয়মিতভাবে হালনাগাদ করা হবে।

এছাড়াও, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী PaleoIndia Portal-এর উদ্বোধন করেন। ভারতের প্রাণীবিজ্ঞান সর্বেক্ষণ (ZSI) সংস্থা এবং ন্যাশনাল সেন্টার ফর সাসটেইনেবল কোস্টাল ম্যানেজমেন্ট (NCSCM), চেন্নাই-এর যৌথ উদ্যোগে এবং Geological Survey of India (GSI)-এর ভূতাত্ত্বিক তথ্যের ভিত্তিতে এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মটি তৈরি হয়েছে।

এই পোর্টালে দেশের ২৮টি রাজ্য এবং আটটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পাওয়া জীবাশ্ম প্রাণীর তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে। বর্তমানে এতে ৫,০০০টিরও বেশি জীবাশ্ম নমুনার তথ্য রয়েছে, যার মধ্যে স্তন্যপায়ী, সরীসৃপ, পাখি, মাছ, উভচর, মোলাস্কা, অর্থ্রোপোড, ফোরামিনিফেরা, ইকাইনোডার্ম এবং ইকনোফসিল অন্তর্ভুক্ত। রিয়েল-টাইম ডেটা আপলোডের সুবিধাসম্পন্ন এই পোর্টাল গবেষক ও সাধারণ নাগরিক—উভয়ের অংশগ্রহণে জীবাশ্ম সংরক্ষণ ও নথিভুক্তিকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

প্রতিষ্ঠা দিবস উদযাপনের অংশ হিসেবে ZSI “জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ঐতিহ্যগত জ্ঞান” বিষয়ের ওপর দেশব্যাপী একটি ১১১ ঘণ্টার হ্যাকাথন-এর আয়োজন করে। এই উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ছাত্রছাত্রী, গবেষক এবং উদ্ভাবকেরা অংশগ্রহণ করেন। ঐতিহ্যগত পরিবেশ-জ্ঞান এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ের মাধ্যমে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের নতুন সমাধান খুঁজে বের করাই ছিল এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

এই প্রতিযোগিতায় মোট ৩৬০টি দল নাম নথিভুক্ত করে। এর মধ্যে ১৯২টি দল ZSI-র ১৬টি আঞ্চলিক কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত আঞ্চলিক পর্যায়ের প্রতিযোগিতার জন্য নির্বাচিত হয়। প্রতিটি আঞ্চলিক কেন্দ্র থেকে বিজয়ী দলগুলি উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে অবস্থিত ZSI-র নর্দান রিজিওনাল সেন্টারে অনুষ্ঠিত জাতীয় সেমিফাইনালে অংশগ্রহণ করে। সেখান থেকে নির্বাচিত শীর্ষ পাঁচটি দল ২০২৬ সালের ২৯ জুন কলকাতার ধনধান্য অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত গ্র্যান্ড ফিনালেতে অংশ নেয়।

১৯১৬ সালে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রকের অধীনে প্রতিষ্ঠিত ভারতের প্রাণীবিজ্ঞান সর্বেক্ষণ (ZSI) দেশের প্রাণীজ বৈচিত্র্য অনুসন্ধান, শ্রেণীবিন্যাস এবং জীববৈচিত্র্য গবেষণার সর্বোচ্চ জাতীয় প্রতিষ্ঠান হিসাবে কাজ করে চলেছে। ভারতের সমৃদ্ধ প্রাণীজ ঐতিহ্যের বৈজ্ঞানিক নথিভুক্তিকরণ, গবেষণা এবং সংরক্ষণে ZSI আজও অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে এবং দেশের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।
 

 

****

SSS/PK/Kol/30.6.26...


(रिलीज़ आईडी: 2279375) आगंतुक पटल : 5
इस विज्ञप्ति को इन भाषाओं में पढ़ें: English