কৃষিমন্ত্রক
“২০ জুন পশ্চিমবঙ্গের অন্নদাতাদের প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি (PM-KISAN)-এর ২৩তম কিস্তির বড় উপহার দেবেন প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী”: শ্রী শিবরাজ সিং চৌহান
प्रविष्टि तिथि:
18 JUN 2026 4:40PM by PIB Kolkata
নতুন দিল্লী, ১৮ জুন,২০২৬
বিকশিত ভারত, বিকশিত পশ্চিমবঙ্গ’-এর লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের সংকল্পকে নতুন গতি দেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আগামী ২০ জুন পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলা থেকে কৃষি, গ্রামীণ উন্নয়ন, মৎস্যচাষ ও রেল-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন, জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ এবং ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি (PM-KISAN)-র ২৩তম কিস্তি প্রদানের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা, পুনর্গঠিত আবহাওয়া-ভিত্তিক ফসল বিমা প্রকল্প, ডিজিটাল কৃষি মিশনের আওতায় এগ্রিটেক উদ্যোগ, জাতীয় প্রাকৃতিক কৃষি মিশন এবং প্রধানমন্ত্রী ধন-ধান্য কৃষি যোজনার মতো গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগেরও সূচনা করবেন। এই উদ্যোগগুলি কৃষকদের আয়, গ্রামীণ পরিকাঠামো এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নকে আরও শক্তিশালী করবে এবং পশ্চিমবঙ্গের কৃষিক্ষেত্রের চিত্র বদলে দেবে।
কেন্দ্রীয় কৃষি ও কৃষক কল্যাণ এবং গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রী শ্রী শিবরাজ সিং চৌহান জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গে আয়োজিত এই জাতীয় স্তরের কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। তিনি বলেন, এই অনুষ্ঠান কৃষক, গ্রামীণ সম্প্রদায় এবং যুবসমাজের জন্য একটি ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে প্রমাণিত হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় সরকারের সংকল্প হল পূর্ব ভারতকে কৃষি, পরিকাঠামো এবং শিল্পোন্নয়নের একটি শক্তিশালী কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা। ২০ জুনের এই কর্মসূচি সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
*কৃষি ও কৃষক কল্যাণ ক্ষেত্রে বড় উপহার*
শ্রী চৌহান জানান, অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী হুগলি জেলার তারকেশ্বর থেকে ‘প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি (PM-KISAN)’-এর ২৩তম কিস্তি প্রকাশ করবেন। এর আওতায় দেশের ৯.৪৪ কোটিরও বেশি কৃষকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি সুবিধা হস্তান্তর (Direct Benefit Transfer)-এর মাধ্যমে প্রায় ১৮,৮৮০ কোটি টাকা হস্তান্তরিত হবে, যা ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের আয়ের সুরক্ষা আরও শক্তিশালী করবে। তিনি জানান, শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গেই ৪৫.৩৫ লক্ষেরও বেশি সুবিধাভোগী কৃষক প্রায় ৯০৭ কোটি টাকার কিস্তি পাবেন। এর ফলে রাজ্যে PM-KISAN প্রকল্পের আওতায় মোট বিতরণ করা অর্থের পরিমাণ ১৫,০৫৫ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।
অন্যদিকে, ২০১৯ সালে প্রকল্পটি চালুর পর থেকে সারা দেশে মোট বিতরণের পরিমাণ ৪.৪৬ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।
কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শ্রী শিবরাজ সিং চৌহান জানান, প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী পশ্চিমবঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা (PMFBY) এবং পুনর্গঠিত আবহাওয়া ভিত্তিক ফসল বিমা প্রকল্প (RWBCIS)-এরও সূচনা করবেন। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে এই প্রকল্পগুলির মাধ্যমে প্রায় ১.১০ কোটি কৃষককে ৩০ লক্ষ হেক্টর কৃষিজমির জন্য ফসল বিমার সুরক্ষা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আওতায় প্রায় ২৮,১৪০ কোটি টাকার ফসল বিমা সুরক্ষার আওতায় আসবে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শ্রী শিবরাজ সিং চৌহান জানান, ডিজিটাল কৃষি মিশনের অধীনে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী পশ্চিমবঙ্গে এগ্রিটেক প্ল্যাটফর্মের সূচনা করবেন। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সার বিতরণ, কিষাণ ক্রেডিট কার্ড, সরাসরি সুবিধা হস্তান্তর এবং ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (MSP)-এর ভিত্তিতে সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার মতো পরিষেবার জন্য একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি হবে। এর ফলে কৃষকরা সময়মতো তথ্য, স্বচ্ছ পরিষেবা এবং উন্নত বাজারের সুযোগ পাবেন।
শ্রী চৌহান জানান, প্রধানমন্ত্রী শ্রী মোদী জাতীয় প্রাকৃতিক কৃষি মিশনেরও সূচনা করবেন। অনুমোদিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে রাজ্যের ১৭,৩০০ হেক্টর জমিতে ৩৪৬টি প্রাকৃতিক কৃষি ক্লাস্টার তৈরি করা হবে। এই ক্লাস্টারগুলির মাধ্যমে ৪৩,২৫০ জন কৃষক জৈব-ভিত্তিক উপকরণ, প্রশিক্ষণ এবং উন্নত বাজার সংযোগের সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি জৈব সম্পদ কেন্দ্র ও কৃষি বন্ধুদের মাধ্যমে প্রাকৃতিক কৃষির দিকে আরো বড় ভাবে পরিবর্তনকে উৎসাহিত করা হবে।
এর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী ‘প্রধানমন্ত্রী ধন-ধান্য কৃষি যোজনা’-রও সূচনা করবেন, যা পুরুলিয়া, দার্জিলিং, আলিপুরদুয়ার এবং ঝাড়গ্রাম জেলায় বাস্তবায়িত হবে। এই প্রকল্পের লক্ষ্য হল কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা, ফসলের বৈচিত্র্যকরণে উৎসাহ দেওয়া, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণের মতো ফসল কাটার পরবর্তী পরিকাঠামো শক্তিশালী করা এবং বিভিন্ন গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্পের সমন্বিত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। এর ফলে কৃষক ও গ্রামীণ যুবকদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
*গ্রামীণ উন্নয়ন ও জীবিকা সংক্রান্ত কর্মসূচি*
গ্রামীণ উন্নয়নের সঙ্গে সম্পর্কিত উদ্যোগগুলির বিষয়ে তথ্য দিতে গিয়ে শ্রী শিবরাজ সিং চৌহান জানান যে, প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা (PMGSY-III)-এর অধীনে ২১৩ কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে নির্মিত ৪৯টি সড়ক প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। ৩১৫ কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ এই সড়কগুলি রাজ্যের বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকার সঙ্গে শহর ও নগরের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত করবে। এর ফলে কৃষকদের কৃষিজ পণ্য সময়মতো বাজারে পৌঁছানো সহজ হবে এবং গ্রামীণ এলাকার ছাত্রছাত্রী ও রোগীদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতেও সুবিধা হবে।
মৎস্য ক্ষেত্রে উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ফ্রেজারগঞ্জে আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারিত মৎস্য বন্দর এবং বীরভূম জেলায় নির্মিত আধুনিক মৎস্য বাজারের উদ্বোধন করবেন। এই প্রকল্পগুলি মাছ চাষের পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে, মৎস্যজীবীদের জন্য উন্নত সংরক্ষণ ও বিপণন সুবিধা প্রদান করবে এবং রপ্তানি ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি স্থানীয় স্তরে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।
পশুপালন ও দুগ্ধ ক্ষেত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের অধীনে প্রধানমন্ত্রী নদিয়া জেলার হরিণঘাটায় ৬ কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে প্রতিষ্ঠিত আঞ্চলিক সিমেন উৎপাদন পরীক্ষাগার এবং ছাগলের সিমেন ব্যাঙ্কের উদ্বোধন করবেন। এটি পূর্ব ভারতের প্রথম এই ধরনের সুবিধা, যা জাতীয় পশুসম্পদ মিশনের অধীনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই কেন্দ্র বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পশু প্রজনন, জিনগত উন্নয়ন এবং পশুসম্পদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। পাশাপাশি ছাগল পালনের সঙ্গে যুক্ত কৃষক ও পশুপালকদের আয় বৃদ্ধিতেও সহায়তা করবে।
শ্রী শিবরাজ সিং চৌহান বলেন, মৎস্য, পশুপালন এবং গ্রামীণ পরিকাঠামো সংক্রান্ত এই সমস্ত প্রকল্প একত্রে পশ্চিমবঙ্গে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সুস্থায়ী গ্রামীণ উন্নয়নের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করবে। এর মাধ্যমে আত্মনির্ভর গ্রামীণ অর্থনীতি, উন্নত জীবিকার সুযোগ এবং ‘ভোকাল ফর লোকাল’-এর ভাবনা আরও শক্তিশালী হবে।
*রেলওয়ে ও অন্যান্য মন্ত্রকের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প*
প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৫৯১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ রেল প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করবেন। এই প্রকল্পগুলি রেল পরিকাঠামো শক্তিশালী করা, যাত্রীদের উন্নত পরিষেবা দান, নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং রাজ্য ও পূর্ব ভারতের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও মজবুত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
প্রধানমন্ত্রী হাওড়ায় ৯৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হতে চলা নতুন ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট ডিভিশনাল রেলওয়ে হাসপাতালের শিলান্যাস করবেন। এই হাসপাতালে আধুনিক স্বাস্থ্য পরিকাঠামো, উন্নত রোগ নির্ণয় ব্যবস্থা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা পরিষেবা এবং জরুরি চিকিৎসার সুবিধা থাকবে। এই হাসপাতাল শুধু রেলকর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নয়, আশপাশের সাধারণ নাগরিকদেরও উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদান করবে।
একইভাবে, পূর্ব মেদিনীপুর জেলার হাওড়া ও রাধামোহনপুরের মধ্যে ৭১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হতে চলা একটি রোড ওভার ব্রিজের শিলান্যাস করা হবে। এই সেতু নিরবচ্ছিন্ন যান চলাচল নিশ্চিত করার পাশাপাশি রেল ও সড়ক ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা বৃদ্ধি করবে।
এছাড়াও, হাওড়া জেলায় ৪২১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সাঁকরাইল-সাঁতরাগাছি তৃতীয় লাইন প্রকল্পটি জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করা হবে। এই প্রকল্প দেশের অন্যতম ব্যস্ত রেলপথগুলির মধ্যে একটি অংশে রেকের চাপ কমাবে, পরিচালন ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে এবং যাত্রী ও পণ্যবাহী ট্রেনের চলাচল আরও মসৃণ করবে।
এই সমস্ত রেল প্রকল্প পণ্য ও যাত্রী পরিবহণকে আরও দ্রুত ও নিরাপদ করার পাশাপাশি শিল্প বিনিয়োগ, পর্যটন এবং লজিস্টিক্স ক্ষেত্রের উন্নয়নে নতুন গতি আনবে। এর ফলে পূর্ব ভারত, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে ‘গতি-শক্তি’ উদ্যোগ আরও শক্তিশালী হবে এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে।
*অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ‘বিকশিত পশ্চিমবঙ্গ’-এর পথে এক বড় পদক্ষেপ*
কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শ্রী শিবরাজ সিং চৌহান বলেছেন যে, ২০ জুন প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী যে সমস্ত প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন, তা পশ্চিমবঙ্গের মৌলিক পরিকাঠামো, কৃষি, মৎস্য, পশুপালন, স্বাস্থ্য ও পরিবহণের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিতে সার্বিক পরিবর্তনের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই উদ্যোগগুলি কৃষক ও পশুপালকদের ক্ষমতায়নে, যুবকদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে এবং রাজ্যের সামাজিক-অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এই পদক্ষেপগুলি ‘বিকশিত পশ্চিমবঙ্গ’ এবং ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্য অর্জনের পথে একটি মাইলফলক হিসেবে প্রমাণিত হবে।
SC..
(रिलीज़ आईडी: 2274874)
आगंतुक पटल : 11