স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক
azadi ka amrit mahotsav

ডিজিটাল সেন্সাস (আদমশুমারি) ২০২৭-এর জন্য পশ্চিমবঙ্গ প্রস্তুত

মুখ্যমন্ত্রী জনগণনাকে একটি সাংবিধানিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেছেন; ১ আগস্ট থেকে স্ব-গণনা (Self-Enumeration) শুরু হতে চলেছে

প্রকাশিত: 29 MAY 2026 4:33PM by PIB Kolkata

কলকাতা, ২৯ মে, ২০২৬

 

পশ্চিমবঙ্গ সরকার 'সেন্সাস ২০২৭' (জনগণনা ২০২৭)-এর জন্য প্রস্তুতি শুরু করেছে, যা ডিজিটাল প্রযুক্তি, নাগরিকদের অংশগ্রহণ এবং তথ্যের নির্ভুলতার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে পরিচালিত হবে। কলকাতায় একটি সাংবাদিক সম্মেলনে ভাষণ দেওয়ার সময় মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, আদমশুমারি একটি সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা এবং একটি বাধ্যতামূলক জাতীয় কার্যক্রম, যা তথ্য-ভিত্তিক নীতি নির্ধারণ ও পরিকল্পনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মুখ্যমন্ত্রী জানান যে, ১১ মে, ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত ক্যাবিনেট বৈঠকে রাজ্য সরকার আদমশুমারির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার অনুমোদন দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের ৬০০ কিলোমিটারেরও বেশি আন্তর্জাতিক সীমানা থাকার কারণে এই কার্যক্রমটি রাজ্যের জন্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করে, যা কার্যকর শাসন ব্যবস্থা এবং তদারকির জন্য সঠিক জনসংখ্যাগত তথ্যকে অপরিহার্য করে তোলে।

সেন্সাস ২০২৭-এর জন্য রেফারেন্স সময়সীমা (তথ্যগত সময়বিন্দু) ১ মার্চ, ২০২৭ নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে ফিল্ড অপারেশন (মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম) এবং স্ব-গণনা প্রক্রিয়া আগস্ট ২০২৬ থেকে শুরু হবে।

ভারতের আদমশুমারির ইতিহাসে এই প্রথমবার নাগরিকদের ডিজিটাল স্ব-গণনা (digital self-enumeration)-এর সুযোগ দেওয়া হবে, যার ফলে, তাঁরা গণনাকারীদের বাড়ি বাড়ি পরিদর্শনের জন্য অপেক্ষা না করেই অনলাইনে নিজেদের তথ্য জমা দিতে পারবেন।

পশ্চিমবঙ্গে প্রথম স্ব-গণনা কার্যক্রমটি মুখ্যমন্ত্রী নিজেই সম্পন্ন করবেন বলে আজ নবান্ন সভাঘরে প্রিন্সিপাল সেন্সাস অফিসারদের সম্মেলনে পশ্চিমবঙ্গের ডিরেক্টরেট অফ সেন্সাস অপারেশনস-এর অধিকর্তা শ্রীমতী রশ্মি কামাল জানান, যেটি প্রতীকীভাবে এই জনগণনাতে নাগরিকদের অংশগ্রহণের সূচনা করবে।

স্ব-গণনা প্রক্রিয়াটি দুটি পর্বে পরিচালিত হবে:

 * *প্রথম পর্ব (স্ব-গণনা):* ১ আগস্ট থেকে ১৪ আগস্ট, ২০২৬
 * *দ্বিতীয় পর্ব (হাউস লিস্টিং অপারেশনস/গৃহ নথিবদ্ধকরণ):* ১৬ আগস্ট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জনগণনার কাজকর্ম এর পরেও অব্যাহত থাকবে, যেটি ২০২৭-এর ১ মার্চ রেফারেন্স তারিখে গিয়ে সমাপ্ত হবে।

আদমশুমারির সুচারু বাস্তবায়ন সহজতর করতে বেশ কয়েকটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করা হয়েছে।

এগুলির মধ্যে রয়েছে:
 * স্ব-গণনা পোর্টাল (Self-Enumeration Portal): se.census.gov.in
 * সেন্সাস ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড মনিটরিং সিস্টেম (CMMS) পোর্টাল
 * এইচএলও (HLO) মোবাইল অ্যাপ
 * এইচএলবিসি (HLBC) মোবাইল অ্যাপ

নাগরিকরা রাজ্যের জন্য নির্দিষ্ট  জনগণনার সংক্রান্ত তথ্য পোর্টালের মাধ্যমে দেখতে পাবেন: westbengal.census.gov.in

আদমশুমারি প্রক্রিয়া সম্পর্কিত জিজ্ঞাসায় নাগরিকদের সহায়তা করার জন্য একটি টোল-ফ্রি হেল্পলাইন নম্বর- ১৮৫৫, চালু করা হয়েছে।

শ্রীমতী কামাল জানিয়েছেন,  ডিজিটাল জনগণনা কাঠামো থেকে একাধিক সুবিধা পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে:

 * তথ্যের নির্ভুলতা এবং নির্ভরযোগ্যতা
 * জনগণের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি
 * নাগরিকদের জন্য আরও বেশি সুবিধা
 * তথ্য দ্রুত প্রক্রিয়াকরণ এবং সংকলন
 * গণনা এবং তথ্য ব্যবস্থাপনার জন্য প্রয়োজনীয় সময় হ্রাস

উন্নয়ন ও অগ্রগতির প্রতীক হিসাবে সেন্সাস ২০২৭-এর ম্যাসকট, “বিকাশ” এবং “প্রগতি”-কেও উন্মোচন করা হয়েছে।

জনগণনা দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে যে, ভারত সরকার ২০২৫-এর ১৬ জুন আদমশুমারি কার্যক্রমের জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল, অন্যদিকে রাজ্য সরকার ১১ মে, ২০২৬ তারিখে এর অনুরূপ সরকারি  বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে।

জনগণনা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রশাসনিক ও গণনামূলক কার্যক্রম হিসেবে পরিগণিত এবং এটি পরিকল্পনা, সম্পদ বরাদ্দ ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শ্রী অধিকারী এবং শ্রীমতী কামাল উভয়েই রাজ্য ও দেশের জন্য ব্যাপক এবং সঠিক জনসংখ্যাগত তথ্য নিশ্চিত করতে এই প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করার জন্য নাগরিকদের আহ্বান জানিয়েছেন।


*****

 

SSS/PK/Kol/29.5.26...


(রিলিজ আইডি: 2266643) ভিজিটরের কাউন্টার : 8
এই রিলিজটি পড়তে পারেন: English