কৃষিমন্ত্রক
azadi ka amrit mahotsav

খরিফ ফসলের জন্য কেন্দ্রের প্রস্তুতি পুরোদমে চলছে, জানালেন কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শ্রী শিবরাজ সিং চৌহান

প্রকাশিত: 28 MAY 2026 7:24PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ২৮ মে, ২০২৬ 

 

কেন্দ্রীয় কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রী শ্রী শিবরাজ সিং চৌহান আজ নতুন দিল্লির পুসা কমপ্লেক্সে ‘খরিফ কনক্লেভ-২০২৬’ বিষয়ক এক সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন। কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী বলেন যে, দেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কৃষকদের জীবিকার মানোন্নয়ন এবং দেশবাসীকে পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহ করাই হল কেন্দ্রীয় সরকারের শীর্ষ অগ্রাধিকার।
তিনি বলেন যে, প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় সরকার কৃষিক্ষেত্রকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নিরন্তর কাজ করে চলেছে। ‘জাতীয় খরিফ অভিযান-২০২৬’ বিষয়ক কৃষি সম্মেলনটি ২৮ ও ২৯ মে, ২০২৬ তারিখে নয়াদিল্লির পুসায় অবস্থিত এনএএসসি কমপ্লেক্সে আয়োজিত হচ্ছে। সারা দেশের কৃষি মন্ত্রী, বিজ্ঞানী এবং ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করবেন। আইসিএআর, বিভিন্ন রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলসমূহের প্রতিনিধিরাও এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনাচক্রে অংশ নেবেন।  দুই দিন ধরে খরিফ মরসুমের প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হবে।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শ্রী শিবরাজ সিং চৌহান বলেন যে, আমাদের খরিফ সম্মেলন শুরু হয়েছে এবং আজ এখানে গোটা 'টিম এগ্রিকালচার' উপস্থিত রয়েছে। 'টিম এগ্রিকালচার' বলতে কেবল কেন্দ্রীয় সরকারকেই বোঝায় না, বরং এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে বিভিন্ন সরকার, আইসিএআর-এর বিজ্ঞানীরা, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের আধিকারিকবৃন্দ, এফপিও-র প্রতিনিধিরা এবং কৃষি বিষয়ক বিভিন্ন থিংক-ট্যাঙ্ক গোষ্ঠী। তিনি বলেন যে, কৃষি  রাজ্য-তালিকাভুক্ত বিষয়; তাই কৃষিক্ষেত্রে উন্নত ফলন মূলত রাজ্যগুলির মাধ্যমেই আসে, যেখানে কেন্দ্রীয় সরকার শুধুমাত্র সহায়কের ভূমিকা পালন করে থাকে। 


কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী আরও জানান যে, এই সম্মেলনের আগে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার উদ্দেশ্যে রাজ্যগুলির সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক হয়েছিল। সেই আলোচনার সূত্র ধরেই রাজ্যগুলি নিজেদের পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করছে। তিনি বলেন যে, রাজ্যগুলি কৃষিক্ষেত্রে যে সব সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে, সেগুলির বিষয়ে গুরুত্ব সহকারে আলোচনা করা এবং সেগুলির সমাধান করা অত্যন্ত জরুরি। 


সম্মেলনের প্রথম দিনে আধিকারিকরা বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে পৃথক পৃথক রাজ্যের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করবেন এবং দ্বিতীয় দিনে রাজ্যগুলির কৃষিমন্ত্রীরাও এই চিন্তন-বৈঠকে যোগ দেবেন।
কৃষিমন্ত্রী বলেন যে,  কৃষি ক্ষেত্রে সমস্যার সমাধান,  নীতির বিষয়ে আলোচনা করা এবং তা সমাধান করা অত্যন্ত জরুরি। প্রতিটি রাজ্যে কৃষিকাজের ধরন ভিন্ন, তাই আঞ্চলিক স্তরে আলোচনার প্রয়োজন। 


তিনি বলেন, রাজ্যগুলির সঙ্গে যখন ছোট ছোট দলে আলোচনা করা হয়, তখন প্রতিটি রাজ্যের সমস্যা ও প্রয়োজনগুলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা সম্ভব হয়। কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী জানান যে, ভবিষ্যতে কৃষি-জলবায়ু অঞ্চলের ভিত্তিতে আঞ্চলিক সম্মেলন আয়োজনের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, আইসিএআর-এর শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী, দেশকে  আটটি কৃষি-জলবায়ু অঞ্চলে ভাগ করা যেতে পারে।


শ্রী শিবরাজ সিং চৌহান বলেন যে, আমাদের কৃষকদের কঠোর পরিশ্রম, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় সরকারের নীতিসমূহ, বিজ্ঞানীদের গবেষণা এবং বিভিন্ন রাজ্যের সহযোগিতার ফলে এই বছর ভারত খাদ্যশস্য উৎপাদনে সমস্ত পুরনো রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। 


 শ্রী চৌহান জানান যে, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে দেশের মোট খাদ্যশস্য উৎপাদন প্রায় ৩৭৬৫.৬৩ লক্ষ টনে পৌঁছেছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১৮৮ লক্ষ টন বেশি। ধান উৎপাদনে ভারত একটি নতুন রেকর্ড স্থাপন করেছে। তিনি বলেন, ধান উৎপাদন ১৫৪০.২৪ লক্ষ টনে পৌঁছেছে এবং বর্তমানে ভারত এই ক্ষেত্রে বিশ্বে প্রথম স্থানে রয়েছে। আমরা চিনকেও পিছনে ফেলে দিয়েছি। গম উৎপাদন ১২০৬.৫৭ লক্ষ টন এবং ভুট্টা উৎপাদন ৫৫০.৯২ লক্ষ টন রেকর্ড করা হয়েছে।

শ্রী শিবরাজ সিং চৌহান আরও বলেন যে, দেশ কেবল খাদ্যশস্য উৎপাদনেই নয়, বরং তৈলবীজ উৎপাদনেও ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে। 
চিনাবাদাম উৎপাদন ১৩০.৭৪ লক্ষ টনে এবং রেপসিড-সর্ষে উৎপাদন ১৩৭.৬৮ লক্ষ টনে পৌঁছেছে, যা একটি রেকর্ড।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান যে, ডালশস্য এবং তৈলবীজের জন্য পৃথক মিশন গঠন করা হয়েছে। রাজ্যগুলির সঙ্গে উন্নত মানের বীজ, বীজ প্রতিস্থাপনের হার বৃদ্ধি, প্রদর্শনী এবং প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

 

জলবায়ু পরিবর্তনকে কৃষিক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে অভিহিত করে কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী বলেন যে, আবহাওয়ার পরিবর্তন এবং অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের কারণে কৃষিকাজের পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। তাপমাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। কখনও কখনও হঠাৎ করেই অতিবৃষ্টি হচ্ছে, আবার কখনও দীর্ঘ সময় ধরে বৃষ্টিহীনতা দেখা দিচ্ছে। এমন পরিবেশে কৃষিকাজকে নিরাপদ ও সুস্থিতিশীল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলি নিয়েও আলোচনা করা হবে। তিনি জানান যে, এই সম্মেলনে প্রাকৃতিক কৃষি, মৃত্তিকা স্বাস্থ্য কার্ড এবং সারের সুষম ব্যবহারের মতো বিষয়গুলির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। 


কৃষিক্ষেত্রে ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে রাজ্যগুলির মধ্যে এখনও কিছুটা বৈষম্য রয়েছে। কোনো কোনো রাজ্যে কৃষিক্ষেত্রে ঋণের পরিমাণ অত্যন্ত কম, আবার কোথাও তা  অত্যন্ত বেশি। কৃষকদের কাছে যদি 'কিষাণ ক্রেডিট কার্ড' এবং বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় পুঁজি থাকে, তবে তাঁরা আরও ভালোভাবে কৃষিকাজ করতে সক্ষম হবেন। কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী জানান যে, 'কৃষি পরিকাঠামো তহবিল', 'পিএম-আশা যোজনা', ডিজিটাল কৃষি, 'কৃষক আইডি' এবং 'কৃষক উৎপাদনকারী সংস্থা' বা এফপিও-গুলিকে শক্তিশালী করার মতো বিষয়গুলি নিয়েও এই সম্মেলনে আলোচনা করা হবে। শ্রী শিবরাজ সিং চৌহান আরও বলেন যে, এই সম্মেলনে 'ক্ষেত বাঁচাও অভিযান' নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হবে এবং নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার যৌথ প্রয়াস চালাবে।

 

SC/MP/SB


(রিলিজ আইডি: 2266564) ভিজিটরের কাউন্টার : 8
এই রিলিজটি পড়তে পারেন: English , Urdu , हिन्दी